খুঁজুন
                               
, ,
           

আশা জাগানিয়া সীমান্ত সম্মেলনে শান্তির সুবাতাস সীমান্তে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২২, ৯:৫০ অপরাহ্ণ
আশা জাগানিয়া সীমান্ত সম্মেলনে শান্তির সুবাতাস সীমান্তে

এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো:

মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাত সীমানা পেরিয়ে আতঙ্ক ছড়াতে শুরু করে বাংলাদেশের ভেতর। ঘটে যায় প্রাণহানিও। মাস কয়েক মর্টার শেল-গোলাবারুদ এসে পড়ার পাশাপাশি সীমান্তঘেঁষে উড়তে দেখা যায় মিয়ানমারের যুদ্ধবিমানও। এসব ঘটনায় কড়া ভাষায় কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানায় ঢাকা। সীমান্তরক্ষী পর্যায়ে কঠোর বার্তা জানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।দু:খ প্রকাশ করে মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি)। কিন্তু সীমান্ত আর জিরো লাইনের মানুষের আতঙ্ক কাটেনি তখনও।

বাংলাদেশও কোন উসকানি বা ফাঁদে পা না দিয়ে আলাপ-আলোচনাতেই গুরুত্ব দেয়। অনেকটাই ‘পয়েন্ট অব নো রিটার্ন’ পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যায় মিয়ানমারের রাজধানী ‘নেপিতো’তে অনুষ্ঠিত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) ৫ দিনব্যাপী অষ্টম সীমান্ত সম্মেলনে। সম্মেলনের আগেভাগেই শান্তি ফিরে আসে আগের মতোন। পুরোদমেই স্বস্তি ফিরতে শুরু করে সীমান্তবাসীর মনে।

দু’দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নীতি নির্ধারক পর্যায়ে ৫ দিনের টানা বৈঠক নিজেদের মধ্যকার নিরঙ্কুশ আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীতিতে সীমান্তে শান্তি রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগে একীভূত হয়ে কাজ করতে উচ্চারিত হয়েছে দৃঢ় অঙ্গীকার। উপলব্ধির জাগৃতিতে বিজিবি-বিজিপির বন্ধুতার সুসম্পর্কের ঐকান্তিক নিষ্ঠা ও আকাঙ্ক্ষায় তথ্য ও যোগাযোগ বাড়িয়ে সীমান্তে শান্তির সুবাতাস ছড়িয়ে দিতে প্রভাবকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় দুই বছর দশ মাস পর অনুষ্ঠিত এবারের সীমান্ত সম্মেলন।

পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সুচিন্তিত মতামত ভাগাভাগি, সীমান্ত সুরক্ষায় দৃঢ়চিত্ত মনোভাবের বহি:প্রকাশ ও লক্ষ্যপূরণে সমর্পিতচিত্তে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকার নীতিতে অটল থেকে সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে মসৃণ ও নিরাপদ করতে সমস্যার উৎসে গিয়ে সমাধানে ব্রতী বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদ’র নেতৃত্বাধীন ১০ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল সত্য-সুন্দর ধ্বনিতে উচ্চকিত করেন দেশপ্রেমের অগ্রণী অবস্থান ও বন্ধুত্বের স্বর্ণালী সংযোগ সূত্র।

বিজিবি মহাপরিচালক আলোচনার টেবিলে দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গেই মিয়ানমারের নিয়ম ভেঙে আকাশসীমা অতিক্রমের বিষয়টি উপস্থাপন করেছেন। এমন ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় স্থানীয়ভাবে শঙ্কা বা সংশয় তৈরি হয়। আর সেটি সীমান্তে শান্তির জন্য বাধা হিসেবেই মোটা দাগে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। গভীর চিন্তা ও বোধের বিন্যাসে ইতিবাচকতার অভিমুখে সুস্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘যদি ড্রোন, হেলিকপ্টার উড্ডয়নের প্রয়োজন হয়, যেন আমাদের তা অবগত করা হয়। আমরা যেন লক্ষ্য রাখতে পারি সীমান্ত অতিক্রমের বিষয় ঘটে কি না। তারা (বিজিপি) আশ্বস্ত করেছেন তথ্য শেয়ার করবেন এবং এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে ঘটবে না।’

শুধু তাই নয় বিজিবির অব্যাহত প্রয়াসেই সীমান্ত শান্ত রয়েছে- অর্জনের আলোকমালায় যুক্ত হয়েছে মিয়ানমারের ইতিবাচক সাড়া ও কার্যকর পদক্ষেপের এই বিষয়টিও। ফলত মঙ্গলবারের (২৯ নভেম্বর) সংবাদ সম্মেলনে বিজিবি সদর দপ্তরে বিজিবি মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদের তাৎপর্যপূর্ণ উচ্চারণ- ‘আমার যেটা মনে হয় এই বিষয়ে তারা যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এ কারণেই পরবর্তীতে কিন্তু আমরা এ ধরনের ঘটনা পাইনি বা গোলা পতনের কোন ঘটনা ঘটেনি। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছে ভবিষ্যতেও তাদের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে সীমান্তে পরিস্থিতি কোন ধরণের অবনতি যেন না হয়, এই বিষয়ে তারা খেয়াল রাখবেন।’

সামনে এগিয়ে চলার পেশাগত উচ্চাশার তুঙ্গ-তরঙ্গে চেতনা ও বিবেকের পাটাতনে দায়বদ্ধ থেকেই বিজিবিপ্রধান বলেছেন, ‘আমি আশা করি, এই সম্মেলনে গৃহীত ১২ টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কার্যকরী বাস্তবায়ন বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি আরও সুসংহত হওয়ার পাশাপাশি সীমান্ত অপরাধ কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখবে। এর পাশাপাশি দুই বাহিনীর মধ্যে বিভিন্নস্তরে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও এই সম্মেলন একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলেও আমি মনে করি।’

৫ দিনের সীমান্ত সম্মেলনে মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে ইতিবাচক আশ্বাস মিলেছে বলে পরশুর সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন বিজিবি ডিজি মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদ। জানিয়েছেন, আগের তুলনায় রাখাইনের পরিস্থিতি ভালো। এটা রোহিঙ্গাদের ফেরতের জন্য ইতিবাচক।’

সীমান্তে অপরাধের লাগাম টেনে ধরতেও ঐক্যমতে পৌঁছেছে বিজিবি-বিজিপি। সম্মেলনে আন্তঃসীমান্ত অপরাধী চক্রের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধের বিষয়টিও দায়িত্বশীলতার দীপ্ত শপথে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ, ইয়াবা ও ক্রিস্টাল মেথ আইসসহ অন্যান্য মাদক ও মানব পাচার রোধের বিষয়ে আলোচনা হয়। সীমান্তের সার্বিক নিরাপত্তা বিধানে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো, সীমান্ত সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য আদান-প্রদান, যৌথ টহল পরিচালনা, রিজিয়ন ও ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে নিয়মিত সমন্বয় সভা, পতাকা বৈঠক আয়োজনের বিষয়েও ঠাঁই পেয়েছে। এছাড়াও সীমান্তে আটক, সাজাভোগকারী উভয় দেশের নাগরিকদের স্বদেশে প্রত্যাবর্তন বিষয়েও ফলপ্রসু
আলোচনা হয়েছে।

যৌথ টহল আর আশ্বাস-প্রতিশ্রুতির বৃত্তে আটকে নেই। এবারের সীমান্ত সম্মেলনে এই বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে দৃঢ়তার সঙ্গেই বিজিবি ডিজি বলেছেন, ‘সীমান্তে যৌথ টহলের বিষয়ে আশ্বাস নয়, সিদ্ধান্ত হয়েছে। যা শিগগিরই শুরু হবে। আমি চাই এটাকে চলমান রাখা গেলে গ্রাউন্ড লেভেলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আমি বিশ্বাস করি যোগাযোগ বাড়ানো গেলে এটি সম্ভব হবে, জোর দিয়ে বলছি আমি বাড়াবো।’

কালের আলো/এমএএএমকে

খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫২ পূর্বাহ্ণ
খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন শুরু

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অধিবেশনের প্রথম প্লেনারি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের সমাপনী পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরে ৮১তম অধিবেশনের নবনির্বাচিত সভাপতি হিসেবে ড. খলিলুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন। আগামী এক বছর তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

শপথ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সংস্থাটির প্রতি আস্থার ঘাটতি রয়েছে। ভবিষ্যতের জন্য জাতিসংঘকে আরও কার্যকর ও উপযোগী করে তুলতে গভীর সংস্কার প্রয়োজন।

মঙ্গলবার প্রথম প্লেনারি সভা শুরু হলেও আগামী ২২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের ভাষণের মধ্য দিয়ে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক শুরু হবে। এতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

জ্বালানি বিলেই নাজেহাল মার্কিনিরা, ইরান যুদ্ধে বাড়তি খরচ ১০০ বিলিয়ন ডলার

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৭ পূর্বাহ্ণ
জ্বালানি বিলেই নাজেহাল মার্কিনিরা, ইরান যুদ্ধে বাড়তি খরচ ১০০ বিলিয়ন ডলার

ইরান যুদ্ধের ছয় মাসেই জ্বালানি কিনতে গিয়ে মার্কিন ভোক্তাদের পকেট থেকে বেরিয়ে গেছে অতিরিক্ত প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বেড়ে সাধারণ পরিবারের বাজেটে তৈরি হয়েছে বড় চাপ। দেশটির প্রায় ১৩ কোটি ১০ লাখ পরিবারের হিসাবে গড়ে প্রতিটি পরিবারের বাড়তি জ্বালানি ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৬৩ ডলার।

ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ওয়াটসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের তথ্যের বরাতে এই হিসাব সামনে এসেছে। এতে স্পষ্ট, ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক অভিঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্য বা আন্তর্জাতিক তেলবাজারে সীমাবদ্ধ নেই; সরাসরি মার্কিন পরিবারের দৈনন্দিন খরচেও এর প্রভাব পড়ছে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা পেট্রোলের দামে
মার্কিনিদের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে পেট্রোলের দামে। ছয় মাসের ব্যবধানে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম ২ দশমিক ৯৮ ডলার থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ১৫ ডলারে উঠেছে। অর্থাৎ দাম বেড়েছে প্রায় ৩৯ শতাংশ। ডিজেলের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও কঠিন। প্রতি গ্যালনের দাম ৩ দশমিক ৬৭ ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৫ দশমিক ৯০ ডলার—বৃদ্ধি ৬০ শতাংশেরও বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের প্রবণতা বেশি হওয়ায় পেট্রোলের এই মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি পরিবারের ব্যয়ে প্রভাব ফেলছে। অন্যদিকে ডিজেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে পরিবহন ও পণ্য সরবরাহের খরচে। ফলে একদিকে গাড়ি চালানোর খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে দোকানে পৌঁছানোর আগেই পণ্যের দাম বাড়ছে।

যুদ্ধ চলছে ছয় মাস
ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাত শুরুর সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধটি চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে শেষ হওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছিলেন। বাস্তবে সেই সময়সীমা অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে। সংঘাত এখন ষষ্ঠ মাসে প্রবেশ করেছে এবং দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও স্পষ্ট নয়। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক তেলবাজারে বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছে।

ট্রাম্পের সঙ্গে মার্কিনিদের দ্বিমত
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এখন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কেরও অংশ। যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন না থাকায় অনেক মার্কিনি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনকে দায়ী করছেন।তবে ট্রাম্প এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি তেলের দাম বাড়ার বিষয়টিকে খুব বেশি গুরুত্ব না দিয়ে বরং তেল কোম্পানিগুলোর ওপর দায় চাপিয়েছেন। ফলে যুদ্ধের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের খরচ শেষ পর্যন্ত কে বহন করছে—সরকার, তেল কোম্পানি নাকি সাধারণ মানুষ—এই প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে।

খাদ্যনিরাপত্তাতেও চাপ
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এর প্রভাব শুধু গাড়ির জ্বালানিতে আটকে থাকে না। কৃষিতে ট্রাক্টর চালানো, খাদ্য পরিবহন, পণ্য সংরক্ষণ, শীতলীকরণ থেকে শুরু করে প্লাস্টিকের প্যাকেজিং—প্রায় প্রতিটি ধাপেই তেল ও গ্যাসের ব্যবহার রয়েছে।ফলে জ্বালানির দাম বাড়লে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়ও বাড়ে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়ে ভোক্তার বাজারে। মার্কিন পরিবার একদিকে গাড়ির ট্যাংক ভরতে বেশি টাকা দিচ্ছে, অন্যদিকে একই জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির কারণে খাবার ও অন্যান্য পণ্য কিনতেও বাড়তি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। বিশ্বের নিম্ন আয়ের দেশগুলোর জন্য ঝুঁকি আরও বড়। তেল ও সার আমদানির ব্যয় বেড়ে গেলে কৃষি উৎপাদনের খরচ বাড়তে পারে। দীর্ঘস্থায়ী হলে খাদ্য সরবরাহ ও খাদ্যনিরাপত্তাতেও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সামনে আরও চাপের শঙ্কা
জ্বালানি বাজারের এই চাপের মধ্যেই ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন ‘নিয়ন্ত্রিত জোন’ তৈরির ঘোষণা দিয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, এ এলাকার জন্য নতুন মানচিত্র দেওয়া হবে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে সেটি অনুসরণ করতে হবে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, মার্কিন অবরোধ ও হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার নিশ্চয়তা দেবে না ইরান। নতুন নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ প্রবেশ করলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে দেশটি। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে মার্কিনিদের জন্য জ্বালানি বিলের চাপ আরও বাড়তে পারে। আর হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়লে তার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববাজারেও পড়বে। ফলে ইরান যুদ্ধ এখন শুধু ভূরাজনৈতিক সংঘাত নয়—সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দেওয়া এক বড় অর্থনৈতিক সংকটেও রূপ নিচ্ছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

জাতিসংঘ সংস্কারে গভীর পরিবর্তনের প্রয়োজন: খলিলুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৬ পূর্বাহ্ণ
জাতিসংঘ সংস্কারে গভীর পরিবর্তনের প্রয়োজন: খলিলুর রহমান

জাতিসংঘের সংস্কারকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় জাতিসংঘকে কার্যকর ও আস্থাশীল রাখতে গভীর ও অর্থবহ সংস্কার প্রয়োজন।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

খলিলুর রহমান বলেন, বর্তমানে জাতিসংঘের প্রতি আস্থার ঘাটতি রয়েছে। শুধু বর্তমান সময়ের জন্য নয়, ভবিষ্যতের উপযোগী করে তুলতে হলে সংস্থাটিতে গভীর সংস্কার করতে হবে। সংস্কার যেন কেবল নামমাত্র না হয়, বরং সাধারণ মানুষের কাছে জাতিসংঘের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখে—সেদিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘এটি ১৯৪৫ সাল নয়। আমরা এখন একবিংশ শতাব্দীতে আছি। বিশ্ব এগিয়ে গেছে, তাই জাতিসংঘকেও এগিয়ে যেতে হবে।’

জাতিসংঘ মহাসচিবের সংস্কার প্রক্রিয়াকে সমর্থন করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, একজন প্রতিনিধি ও কর্মী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি এই সংস্থাকে কাছ থেকে দেখেছেন। তাই সংস্কারগুলো অবশ্যই অর্থবহ হওয়া প্রয়োজন।

রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গ তুলে খলিলুর রহমান বলেন, নিজ বাড়িঘর থেকে বিতাড়িত বিশাল জনগোষ্ঠীর আকুতি তিনি কাছ থেকে দেখেছেন। ভবিষ্যতেও জাতিসংঘের সামনে রোহিঙ্গাদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার কাজ অব্যাহত রাখবেন তিনি।

সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনে কোনো দেশ তাকে ভোট দিয়েছে কি না, সেটি তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। তিনি সব দেশের জন্য একজন সভাপতি হিসেবে কাজ করতে চান।

এ সময় বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতি ও প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে খলিলুর রহমান জানান, তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাই তাকে এই পদমর্যাদা ও দায়িত্বের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রশ্ন করার আহ্বান জানান তিনি।

শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তার দরজা সবসময় খোলা থাকবে এবং সবার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে চান।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি