খুঁজুন
                               
বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

আশা জাগানিয়া সীমান্ত সম্মেলনে শান্তির সুবাতাস সীমান্তে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২২, ৯:৫০ অপরাহ্ণ
আশা জাগানিয়া সীমান্ত সম্মেলনে শান্তির সুবাতাস সীমান্তে

এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো:

মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাত সীমানা পেরিয়ে আতঙ্ক ছড়াতে শুরু করে বাংলাদেশের ভেতর। ঘটে যায় প্রাণহানিও। মাস কয়েক মর্টার শেল-গোলাবারুদ এসে পড়ার পাশাপাশি সীমান্তঘেঁষে উড়তে দেখা যায় মিয়ানমারের যুদ্ধবিমানও। এসব ঘটনায় কড়া ভাষায় কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানায় ঢাকা। সীমান্তরক্ষী পর্যায়ে কঠোর বার্তা জানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।দু:খ প্রকাশ করে মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি)। কিন্তু সীমান্ত আর জিরো লাইনের মানুষের আতঙ্ক কাটেনি তখনও।

বাংলাদেশও কোন উসকানি বা ফাঁদে পা না দিয়ে আলাপ-আলোচনাতেই গুরুত্ব দেয়। অনেকটাই ‘পয়েন্ট অব নো রিটার্ন’ পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যায় মিয়ানমারের রাজধানী ‘নেপিতো’তে অনুষ্ঠিত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) ৫ দিনব্যাপী অষ্টম সীমান্ত সম্মেলনে। সম্মেলনের আগেভাগেই শান্তি ফিরে আসে আগের মতোন। পুরোদমেই স্বস্তি ফিরতে শুরু করে সীমান্তবাসীর মনে।

দু’দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নীতি নির্ধারক পর্যায়ে ৫ দিনের টানা বৈঠক নিজেদের মধ্যকার নিরঙ্কুশ আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীতিতে সীমান্তে শান্তি রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগে একীভূত হয়ে কাজ করতে উচ্চারিত হয়েছে দৃঢ় অঙ্গীকার। উপলব্ধির জাগৃতিতে বিজিবি-বিজিপির বন্ধুতার সুসম্পর্কের ঐকান্তিক নিষ্ঠা ও আকাঙ্ক্ষায় তথ্য ও যোগাযোগ বাড়িয়ে সীমান্তে শান্তির সুবাতাস ছড়িয়ে দিতে প্রভাবকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় দুই বছর দশ মাস পর অনুষ্ঠিত এবারের সীমান্ত সম্মেলন।

পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সুচিন্তিত মতামত ভাগাভাগি, সীমান্ত সুরক্ষায় দৃঢ়চিত্ত মনোভাবের বহি:প্রকাশ ও লক্ষ্যপূরণে সমর্পিতচিত্তে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকার নীতিতে অটল থেকে সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে মসৃণ ও নিরাপদ করতে সমস্যার উৎসে গিয়ে সমাধানে ব্রতী বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদ’র নেতৃত্বাধীন ১০ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল সত্য-সুন্দর ধ্বনিতে উচ্চকিত করেন দেশপ্রেমের অগ্রণী অবস্থান ও বন্ধুত্বের স্বর্ণালী সংযোগ সূত্র।

বিজিবি মহাপরিচালক আলোচনার টেবিলে দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গেই মিয়ানমারের নিয়ম ভেঙে আকাশসীমা অতিক্রমের বিষয়টি উপস্থাপন করেছেন। এমন ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় স্থানীয়ভাবে শঙ্কা বা সংশয় তৈরি হয়। আর সেটি সীমান্তে শান্তির জন্য বাধা হিসেবেই মোটা দাগে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। গভীর চিন্তা ও বোধের বিন্যাসে ইতিবাচকতার অভিমুখে সুস্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘যদি ড্রোন, হেলিকপ্টার উড্ডয়নের প্রয়োজন হয়, যেন আমাদের তা অবগত করা হয়। আমরা যেন লক্ষ্য রাখতে পারি সীমান্ত অতিক্রমের বিষয় ঘটে কি না। তারা (বিজিপি) আশ্বস্ত করেছেন তথ্য শেয়ার করবেন এবং এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে ঘটবে না।’

শুধু তাই নয় বিজিবির অব্যাহত প্রয়াসেই সীমান্ত শান্ত রয়েছে- অর্জনের আলোকমালায় যুক্ত হয়েছে মিয়ানমারের ইতিবাচক সাড়া ও কার্যকর পদক্ষেপের এই বিষয়টিও। ফলত মঙ্গলবারের (২৯ নভেম্বর) সংবাদ সম্মেলনে বিজিবি সদর দপ্তরে বিজিবি মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদের তাৎপর্যপূর্ণ উচ্চারণ- ‘আমার যেটা মনে হয় এই বিষয়ে তারা যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এ কারণেই পরবর্তীতে কিন্তু আমরা এ ধরনের ঘটনা পাইনি বা গোলা পতনের কোন ঘটনা ঘটেনি। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছে ভবিষ্যতেও তাদের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে সীমান্তে পরিস্থিতি কোন ধরণের অবনতি যেন না হয়, এই বিষয়ে তারা খেয়াল রাখবেন।’

সামনে এগিয়ে চলার পেশাগত উচ্চাশার তুঙ্গ-তরঙ্গে চেতনা ও বিবেকের পাটাতনে দায়বদ্ধ থেকেই বিজিবিপ্রধান বলেছেন, ‘আমি আশা করি, এই সম্মেলনে গৃহীত ১২ টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কার্যকরী বাস্তবায়ন বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি আরও সুসংহত হওয়ার পাশাপাশি সীমান্ত অপরাধ কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখবে। এর পাশাপাশি দুই বাহিনীর মধ্যে বিভিন্নস্তরে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও এই সম্মেলন একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলেও আমি মনে করি।’

৫ দিনের সীমান্ত সম্মেলনে মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে ইতিবাচক আশ্বাস মিলেছে বলে পরশুর সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন বিজিবি ডিজি মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদ। জানিয়েছেন, আগের তুলনায় রাখাইনের পরিস্থিতি ভালো। এটা রোহিঙ্গাদের ফেরতের জন্য ইতিবাচক।’

সীমান্তে অপরাধের লাগাম টেনে ধরতেও ঐক্যমতে পৌঁছেছে বিজিবি-বিজিপি। সম্মেলনে আন্তঃসীমান্ত অপরাধী চক্রের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধের বিষয়টিও দায়িত্বশীলতার দীপ্ত শপথে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ, ইয়াবা ও ক্রিস্টাল মেথ আইসসহ অন্যান্য মাদক ও মানব পাচার রোধের বিষয়ে আলোচনা হয়। সীমান্তের সার্বিক নিরাপত্তা বিধানে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো, সীমান্ত সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য আদান-প্রদান, যৌথ টহল পরিচালনা, রিজিয়ন ও ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে নিয়মিত সমন্বয় সভা, পতাকা বৈঠক আয়োজনের বিষয়েও ঠাঁই পেয়েছে। এছাড়াও সীমান্তে আটক, সাজাভোগকারী উভয় দেশের নাগরিকদের স্বদেশে প্রত্যাবর্তন বিষয়েও ফলপ্রসু
আলোচনা হয়েছে।

যৌথ টহল আর আশ্বাস-প্রতিশ্রুতির বৃত্তে আটকে নেই। এবারের সীমান্ত সম্মেলনে এই বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে দৃঢ়তার সঙ্গেই বিজিবি ডিজি বলেছেন, ‘সীমান্তে যৌথ টহলের বিষয়ে আশ্বাস নয়, সিদ্ধান্ত হয়েছে। যা শিগগিরই শুরু হবে। আমি চাই এটাকে চলমান রাখা গেলে গ্রাউন্ড লেভেলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আমি বিশ্বাস করি যোগাযোগ বাড়ানো গেলে এটি সম্ভব হবে, জোর দিয়ে বলছি আমি বাড়াবো।’

কালের আলো/এমএএএমকে

গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৫:৩৯ অপরাহ্ণ
গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু

দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬০ জনে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৫৬ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।

বুধবার (২৭ মে) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৪৭২ জন শিশু এবং নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ৮৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া পাঁচ শিশুর মধ্যে দুইজন ঢাকা বিভাগে, দুইজন ময়মনসিংহ বিভাগে এবং একজন রাজশাহী বিভাগের বাসিন্দা বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

একই সময়ে নতুন করে ৯৩৩ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৮৫ জন ঢাকা বিভাগের। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬৬ জন, বরিশাল বিভাগে ১৪০ জন এবং খুলনা বিভাগে ৯৮ জন শিশু ভর্তি হয়েছে।

তবে আশার খবর হলো, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ হাজার ১০৩ জন শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ দেশে প্রথম হাম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর গত ৭৩ দিনে মোট ৬৭ হাজার ৭৯ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫৩ হাজার ৪৬৩ জন। নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ৮৩৪ জনের শরীরে। একই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৪৯ হাজার ৯০৩ জন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

২৭ রুটের ২৬টিতেই বাড়তি ভাড়া, অতিরিক্ত আদায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৪:৫৬ অপরাহ্ণ
২৭ রুটের ২৬টিতেই বাড়তি ভাড়া, অতিরিক্ত আদায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা

ঈদযাত্রাকে ঘিরে দেশের ২৭টি দূরপাল্লার রুটের মধ্যে ২৬টিতেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

সংগঠনটি বলছে, এসব রুটে বাস ও মিনিবাসের প্রায় দুই লাখ ৩৪ হাজার যাত্রীর কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হয়েছে। যার পরিমাণ ৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

বুধবার (২৭ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় এসব তথ্য জানানো হয়।

বার্তায় যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করার ঘোষণা দিলেও বাস্তবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সিটিসার্ভিস ও দূরপাল্লার বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। একই ধরনের নৈরাজ্য নৌপথের বেশিরভাগ রুটেও দেখা যাচ্ছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতি জানায়, সংগঠনটির পর্যবেক্ষকদের কাছে বিভিন্ন বাসের চালক ও হেলপাররা অভিযোগ করেছেন, ‘পরিবহন শ্রমিকদের বেতন ও ঈদ বোনাস কার্যকর না থাকায় তারা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে বাধ্য হচ্ছেন।’

সমিতি বলছে, ঈদযাত্রা মনিটরিং কমিটিতে বাস মালিক সমিতি ও সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের প্রভাব থাকায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ সত্ত্বেও যাত্রীদের স্বস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

সমিতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিভিন্ন রুটে নির্ধারিত ভাড়ার তুলনায় অনেক বেশি অর্থ আদায় করা হচ্ছে। ঢাকা-খুলনা রুটে ৫৪১ টাকার ভাড়া ১,০০০ টাকা, ঢাকা-বরিশাল রুটে ৫৯২ টাকার ভাড়া ৮৫০ টাকা এবং একই রুটে বিআরটিসির দোতলা বাসে ৭০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। ঢাকা-পটুয়াখালী রুটে ৫৭০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ১,০০০ টাকা এবং ঢাকা-শরীয়তপুর রুটে ২৩৩ টাকার ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ৫০০ টাকা।

এছাড়া চট্টগ্রাম-বরগুনা রুটে ১,১৯৭ টাকার ভাড়া ১,৮০০ টাকা, ঢাকা-মাদারীপুর রুটে ২৫০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা, ঢাকা-ফরিদপুর রুটে ৩০০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা এবং ঢাকা-দিনাজপুর রুটে ৬০০ টাকার ভাড়া ৯০০ টাকা নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম-বগুড়া রুটে ১,০০০ টাকার ভাড়া ১,৮০০ টাকা এবং চট্টগ্রাম-গাইবান্ধা রুটে ১,১০০ টাকার ভাড়া ২,২০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।

পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ফেনী, ঢাকা-কুমিল্লা, ঢাকা-যশোর, ঢাকা-ঝিনাইদহ, ঢাকা-মাগুরা, ঢাকা-কুষ্টিয়া, ঢাকা-ভাঙ্গা, ঢাকা-পিরোজপুর, ঢাকা-টেকেরহাটসহ বিভিন্ন রুটেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পর্যবেক্ষণে আরও বলছে, ৫২ আসনের বাসে জালিয়াতির মাধ্যমে ৪০ আসনের ভাড়ার তালিকা টানানো হয়েছে। আবার স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের কাছ থেকেও শেষ গন্তব্য পর্যন্ত পূর্ণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

তবে সরকারের কঠোর অবস্থান এবং বাস মালিক সমিতির কিছু তৎপরতার কারণে গত ঈদুল ফিতরের তুলনায় এবারের পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

সংগঠনটি আরও বলছে, নিম্ন আয়ের মানুষ কম ভাড়ায় যাতায়াতের জন্য বাস ও ট্রেনের ছাদে, পণ্যবাহী ট্রাক কিংবা খোলা ট্রাকে ভ্রমণে বাধ্য হচ্ছেন। এতে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বাড়ছে।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে গণপরিবহনে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভাড়া আদায় চালু, নগদ লেনদেন কমানো, চালকদের বেতন ও ঈদ বোনাস নিশ্চিত, সড়ক-মহাসড়কে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে ই-প্রসিকিউশন চালু এবং আইনের সুশাসন নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে যাত্রীকল্যাণ সমিতি।

এছাড়া ঈদযাত্রা মনিটরিং কমিটি থেকে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনকে বাদ দিয়ে পুরো নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সরকারের হাতে রাখার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

কালের আলো/এসআর/এএএন 

ঈদ ঘিরে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা, থাকবে ১৫ হাজার পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৩:৪১ অপরাহ্ণ
ঈদ ঘিরে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা, থাকবে ১৫ হাজার পুলিশ

ঈদুল আজহাকে ঘিরে রাজধানীতে চার থেকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ঈদের জামাত ও ছুটিতে নগরী ফাঁকা হয়ে পড়ার সময় সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় সমন্বিত, প্রযুক্তিনির্ভর ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন। একইসঙ্গে ঈদ জামাতে বিপুল পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সাইবার ইউনিট সক্রিয়ভাবে কাজ করবে বলে জানান তিনি।

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদ উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে চার থেকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ঈদের জামায়াতে ১৫০০ পুলিশ সদস্য এবং ডিএমপিতে ১৫ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে।

মোসলেহ উদ্দিন বলেন, সাইবার প্রচারণা সম্পর্কে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে এবং সাইবার পেট্রল টিম নজরদারি করছে। ঈদের জামাতকেন্দ্রিক নিরাপত্তায় ১৫০০ পুলিশ সদস্য এবং মহানগরীতে ১৫ হাজার সদস্য নিয়োজিত থাকবে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া পুলিশ সদস্যদের ছুটি সীমিত রাখা হয়েছে। সারা মহানগরীতে আমাদের ঈদের দিন ১৫ হাজার সদস্য নিয়োজিত থাকবে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। জাতীয় ঈদগাহ ময়দান, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ মহানগরীর বিভিন্ন ঈদ জামাতে লাখো মুসল্লির সমাগম হবে। একইসঙ্গে ঈদের ছুটিতে বিপুল মানুষ ঢাকা ত্যাগ করায় নগরীর অনেক এলাকা আংশিক ফাঁকা হয়ে পড়বে। এসব বিষয়, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি, অতীত অভিজ্ঞতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে ডিএমপি এই নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

তিনি আরো বলেন, সামাজিক মাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি প্রতিরোধে ডিএমপির সাইবার ইউনিট সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে। যেকোনো ধরনের উস্কানিমূলক প্রচারণা কিংবা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির অপচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।

এ সময় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম, ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ