খুঁজুন
                               
বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

পুনর্মিলনীতে স্মৃতি রোমন্থনে জুড়ায় প্রাণ, উন্নয়ন-অগ্রগতির ধারাপাত সেনাপ্রধানের কন্ঠে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ৯:২১ অপরাহ্ণ
পুনর্মিলনীতে স্মৃতি রোমন্থনে জুড়ায় প্রাণ, উন্নয়ন-অগ্রগতির ধারাপাত সেনাপ্রধানের কন্ঠে

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

বর্ণিল এক সাজ। সাবেক শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর সবুজ চত্বর। বয়সকে হার মানিয়ে কৈশোরের মধুমাখা দিনগুলোতে কয়েক মুহুর্তের জন্য হারিয়ে যাওয়া। তারুণ্যের দুরন্তপনার সঙ্গীদের সঙ্গে নির্ভার আড্ডা, আনন্দধারায় মেতে ওঠা। গল্প আর স্মৃতি রোমন্থনে যেন ফিরে আসে অতীত। পুরোনো বন্ধু, সতীর্থ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় পর পেয়ে দু:খ-সুখের আলাপে জুড়িয়েছে প্রাণ। হালের ট্র্যান্ড সেলফি তোলায় নিমগ্ন প্রত্যেকে, বন্দি একে অপর।

আবেগ-স্মৃতিচারণায় ছুঁয়ে যায় পাবনা ক্যাডেট কলেজ চত্বর। পাবনা ক্যাডেট কলেজের অষ্টম পুনর্মিলনী উৎসব তাই যেন পুনর্মিলন নয় এক মহামিলনের সূত্রপাত করেছে। যেখানে আবেগ-বাস্তবতার সিক্যুয়েন্সে ২৮ বছর আগের স্মৃতিকাতরতায় আচ্ছন্ন হয়েছেন স্বয়ং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদও। গানের সেই কলির মতো প্রাণ জুড়িয়েছে তাঁরও।

অস্ফুটে হয়তো তাঁর মনও ফিরে গেছে রংধনু আঁকা সেইক্ষণে। বঙ্গবন্ধুকন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের উন্নয়নের গতিময় অভিযাত্রায় তিনি অনুভব করেছেন পাবনা ক্যাডেট কলেজের ঠিক ২৮ বছর আগের-পরের চিত্রপট। নিজের জবানীতে তুলে এনেছেন সেই কথা। বলেছেন, ‘আমি এই ক্যাডেট কলেজে ১৯৯৫ সালে একবার এসেছিলাম। আজ লক্ষ্য করেছি অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন। এই পরিবর্তন অবশ্যই অভূতপূর্ব উন্নয়ন-অগ্রগতির পরিবর্তন।’

স্বাধীনতার রূপকার বঙ্গবন্ধুর মহিমান্বিত স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা
সাপ্তাহিক ছুটির দিনে শুক্রবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পাবনা ক্যাডেট কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অষ্টম পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বাঙালির অনন্ত প্রেরণার উৎস, মহান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ও মহিমান্বিত স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, ‘আমরা এখানে আসতাম না যদি না বাংলাদেশ স্বাধীন হতো।

আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করতে চাই আমাদের স্বাধীনতার মূল নায়ক হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। আমি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করতে চাই ৩০ লাখ শহীদকে যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা এই দেশ পেয়েছি। বিশেষভাবে শ্রদ্ধা জানাতে চাই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও সশস্ত্রবাহিনীর সেসব সদস্যদের যারা স্বাধীনতা যুদ্ধ ও দেশে-বিদেশে আমাদের জন্য প্রাণ দিয়েছে।’

মাতৃভাষার জন্য প্রাণ দেওয়া অনন্য এক উদাহরণ
ভাষা আন্দোলনের পথ বেয়েই মুক্তিযুদ্ধ অত:পর স্বাধীনতা। মায়ের ভাষার অধিকার আদায়ে একমাত্র প্রাণ দিয়েছে বাঙালি জাতিই। একুশের প্রেরণা আজও পথ দেখায় বাঙালিকে। একুশের চেতনা বুকে লালন করে মাতৃভাষায় আবেগ উচ্ছ্বসিত প্রাণে গৌরব ও আত্মত্যাগের ভাষার মাসে সেনাপ্রধান শ্রদ্ধাবনতচিত্তে স্মরণ করেন ভাষা শহীদদের।

তিনি বলেন, ‘আজ আমরা মাতৃভাষায় বাংলায় কথা বলছি। পৃথিবীতে অনন্য উদাহরণ ভাষার জন্য আন্দোলন করে মানুষ প্রাণ দিয়েছে এবং মাতৃভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করে গেছে। এমন গৌরবের মাসে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে চাই।’ তাঁর বক্তব্যেও স্পষ্ট বুকের রক্ত দেওয়ার গৌরবময় শোকের ঐতিহ্য রূপান্তরিত হয়েছে বিশ্বজনীন আনন্দে। অর্জিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদা।

ক্যাডেটদের সঙ্গে সম্পর্কিত আগামীর বাংলাদেশ
ক্যাডেটদের সঙ্গে আগামীর বাংলাদেশ সম্পর্কিত বলেও মন্তব্য করেন সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘সরকার ক্যাডেটদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ক্যাডেট কলেজগুলোতে ব্যাপক উন্নয়ন করা হয়েছে। পাবনা ক্যাডেট কলেজেও ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে।’

ক্যাডেটদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘ক্যাডেট কলেজ ক্যাডেটদের জন্য বড় একটা সুযোগ। কারণ এখানে সবাই সুযোগ পায় না। সরকার ক্যাডেটদের জন্য প্রচুর অর্থ খরচ করে। এটাকে কাজে লাগাতে হবে। কেননা এটা জীবনের মূল এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, সকালে সেনাবাহিনী প্রধান ক্যাডেট কলেজ প্রাঙ্গনে পৌঁছালে প্রাক্তন এবং বর্তমান ক্যাডেটের নিয়ে গঠিত একটি দল মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজের মাধ্যমে তাঁকে অভিবাদন জানান। তিনি ক্যাডেটদের জন্য নবনির্মিত তিনটি হাউসের শুভ উদ্বোধন করেন। পুনর্মিলনীতে আগত প্রাক্তন ছাত্রদের সাথে মতবিনিময় ছাড়াও পুনর্মিলনী উপলক্ষে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজ, বৃক্ষরোপণ এবং দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালাতে অংশগ্রহণ করেন জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

পুনর্মিলনী প্যারেডে মুগ্ধতা
ক্যাডেট কলেজের পুনর্মিলনীকে ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান বলেও উল্লেখ করেন সেনাপ্রধান। পাবনা ক্যাডেট কলেজের পুনর্মিলনী প্যারেডে নিজের মুগ্ধতার কথা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আজকের প্যারেড দেখে আমি মুগ্ধ। এখানে নানান বয়সের নানান পেশার এক্স ক্যাডেটরা একত্রিত হয়েছেন, যেভাবে সুশৃঙ্খলভাবে দাঁড়িয়েছেন আমি সত্যিই বিমোহিত। বিভিন্ন এক্স ক্যাডেটদের আগমন নিজেদের বন্ধনকে দৃঢ় করে। এই বন্ধন ভবিষ্যতে ব্যক্তিগত ও সামগ্রিকভাবে দেশের কাজেও অবদান রাখবে। বর্তমান ও প্রাক্তন ক্যাডেটদের মিলনমেলায় নতুনরা বড় ভাইদের কাছে শিখতে পারবে ডিসিপ্লিন জীবনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত কতো গুরুত্বপূর্ণ।’

অনুষ্ঠানে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল টি এম জোবায়ের, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল (এজি) মেজর জেনারেল মো. নজরুল ইসলাম, ১০ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও কক্সবাজারের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. ফখরুল আহসান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাস্টার জেনারেল অব অর্ডন্যান্স মেজর জেনারেল মো. জহিরুল ইসলাম, ১১ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও বগুড়ার এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. খালেদ-আল-মামুন, ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. ফয়জুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৫:৩৯ অপরাহ্ণ
গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু

দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬০ জনে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৫৬ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।

বুধবার (২৭ মে) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৪৭২ জন শিশু এবং নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ৮৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া পাঁচ শিশুর মধ্যে দুইজন ঢাকা বিভাগে, দুইজন ময়মনসিংহ বিভাগে এবং একজন রাজশাহী বিভাগের বাসিন্দা বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

একই সময়ে নতুন করে ৯৩৩ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৮৫ জন ঢাকা বিভাগের। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬৬ জন, বরিশাল বিভাগে ১৪০ জন এবং খুলনা বিভাগে ৯৮ জন শিশু ভর্তি হয়েছে।

তবে আশার খবর হলো, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ হাজার ১০৩ জন শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ দেশে প্রথম হাম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর গত ৭৩ দিনে মোট ৬৭ হাজার ৭৯ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫৩ হাজার ৪৬৩ জন। নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ৮৩৪ জনের শরীরে। একই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৪৯ হাজার ৯০৩ জন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

২৭ রুটের ২৬টিতেই বাড়তি ভাড়া, অতিরিক্ত আদায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৪:৫৬ অপরাহ্ণ
২৭ রুটের ২৬টিতেই বাড়তি ভাড়া, অতিরিক্ত আদায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা

ঈদযাত্রাকে ঘিরে দেশের ২৭টি দূরপাল্লার রুটের মধ্যে ২৬টিতেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

সংগঠনটি বলছে, এসব রুটে বাস ও মিনিবাসের প্রায় দুই লাখ ৩৪ হাজার যাত্রীর কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হয়েছে। যার পরিমাণ ৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

বুধবার (২৭ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় এসব তথ্য জানানো হয়।

বার্তায় যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করার ঘোষণা দিলেও বাস্তবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সিটিসার্ভিস ও দূরপাল্লার বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। একই ধরনের নৈরাজ্য নৌপথের বেশিরভাগ রুটেও দেখা যাচ্ছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতি জানায়, সংগঠনটির পর্যবেক্ষকদের কাছে বিভিন্ন বাসের চালক ও হেলপাররা অভিযোগ করেছেন, ‘পরিবহন শ্রমিকদের বেতন ও ঈদ বোনাস কার্যকর না থাকায় তারা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে বাধ্য হচ্ছেন।’

সমিতি বলছে, ঈদযাত্রা মনিটরিং কমিটিতে বাস মালিক সমিতি ও সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের প্রভাব থাকায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ সত্ত্বেও যাত্রীদের স্বস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

সমিতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিভিন্ন রুটে নির্ধারিত ভাড়ার তুলনায় অনেক বেশি অর্থ আদায় করা হচ্ছে। ঢাকা-খুলনা রুটে ৫৪১ টাকার ভাড়া ১,০০০ টাকা, ঢাকা-বরিশাল রুটে ৫৯২ টাকার ভাড়া ৮৫০ টাকা এবং একই রুটে বিআরটিসির দোতলা বাসে ৭০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। ঢাকা-পটুয়াখালী রুটে ৫৭০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ১,০০০ টাকা এবং ঢাকা-শরীয়তপুর রুটে ২৩৩ টাকার ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ৫০০ টাকা।

এছাড়া চট্টগ্রাম-বরগুনা রুটে ১,১৯৭ টাকার ভাড়া ১,৮০০ টাকা, ঢাকা-মাদারীপুর রুটে ২৫০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা, ঢাকা-ফরিদপুর রুটে ৩০০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা এবং ঢাকা-দিনাজপুর রুটে ৬০০ টাকার ভাড়া ৯০০ টাকা নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম-বগুড়া রুটে ১,০০০ টাকার ভাড়া ১,৮০০ টাকা এবং চট্টগ্রাম-গাইবান্ধা রুটে ১,১০০ টাকার ভাড়া ২,২০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।

পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ফেনী, ঢাকা-কুমিল্লা, ঢাকা-যশোর, ঢাকা-ঝিনাইদহ, ঢাকা-মাগুরা, ঢাকা-কুষ্টিয়া, ঢাকা-ভাঙ্গা, ঢাকা-পিরোজপুর, ঢাকা-টেকেরহাটসহ বিভিন্ন রুটেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পর্যবেক্ষণে আরও বলছে, ৫২ আসনের বাসে জালিয়াতির মাধ্যমে ৪০ আসনের ভাড়ার তালিকা টানানো হয়েছে। আবার স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের কাছ থেকেও শেষ গন্তব্য পর্যন্ত পূর্ণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

তবে সরকারের কঠোর অবস্থান এবং বাস মালিক সমিতির কিছু তৎপরতার কারণে গত ঈদুল ফিতরের তুলনায় এবারের পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

সংগঠনটি আরও বলছে, নিম্ন আয়ের মানুষ কম ভাড়ায় যাতায়াতের জন্য বাস ও ট্রেনের ছাদে, পণ্যবাহী ট্রাক কিংবা খোলা ট্রাকে ভ্রমণে বাধ্য হচ্ছেন। এতে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বাড়ছে।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে গণপরিবহনে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভাড়া আদায় চালু, নগদ লেনদেন কমানো, চালকদের বেতন ও ঈদ বোনাস নিশ্চিত, সড়ক-মহাসড়কে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে ই-প্রসিকিউশন চালু এবং আইনের সুশাসন নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে যাত্রীকল্যাণ সমিতি।

এছাড়া ঈদযাত্রা মনিটরিং কমিটি থেকে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনকে বাদ দিয়ে পুরো নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সরকারের হাতে রাখার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

কালের আলো/এসআর/এএএন 

ঈদ ঘিরে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা, থাকবে ১৫ হাজার পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৩:৪১ অপরাহ্ণ
ঈদ ঘিরে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা, থাকবে ১৫ হাজার পুলিশ

ঈদুল আজহাকে ঘিরে রাজধানীতে চার থেকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ঈদের জামাত ও ছুটিতে নগরী ফাঁকা হয়ে পড়ার সময় সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় সমন্বিত, প্রযুক্তিনির্ভর ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন। একইসঙ্গে ঈদ জামাতে বিপুল পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সাইবার ইউনিট সক্রিয়ভাবে কাজ করবে বলে জানান তিনি।

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদ উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে চার থেকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ঈদের জামায়াতে ১৫০০ পুলিশ সদস্য এবং ডিএমপিতে ১৫ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে।

মোসলেহ উদ্দিন বলেন, সাইবার প্রচারণা সম্পর্কে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে এবং সাইবার পেট্রল টিম নজরদারি করছে। ঈদের জামাতকেন্দ্রিক নিরাপত্তায় ১৫০০ পুলিশ সদস্য এবং মহানগরীতে ১৫ হাজার সদস্য নিয়োজিত থাকবে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া পুলিশ সদস্যদের ছুটি সীমিত রাখা হয়েছে। সারা মহানগরীতে আমাদের ঈদের দিন ১৫ হাজার সদস্য নিয়োজিত থাকবে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। জাতীয় ঈদগাহ ময়দান, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ মহানগরীর বিভিন্ন ঈদ জামাতে লাখো মুসল্লির সমাগম হবে। একইসঙ্গে ঈদের ছুটিতে বিপুল মানুষ ঢাকা ত্যাগ করায় নগরীর অনেক এলাকা আংশিক ফাঁকা হয়ে পড়বে। এসব বিষয়, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি, অতীত অভিজ্ঞতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে ডিএমপি এই নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

তিনি আরো বলেন, সামাজিক মাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি প্রতিরোধে ডিএমপির সাইবার ইউনিট সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে। যেকোনো ধরনের উস্কানিমূলক প্রচারণা কিংবা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির অপচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।

এ সময় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম, ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ