খুঁজুন
                               
বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

পুনর্মিলনীতে স্মৃতি রোমন্থনে জুড়ায় প্রাণ, উন্নয়ন-অগ্রগতির ধারাপাত সেনাপ্রধানের কন্ঠে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ৯:২১ অপরাহ্ণ
পুনর্মিলনীতে স্মৃতি রোমন্থনে জুড়ায় প্রাণ, উন্নয়ন-অগ্রগতির ধারাপাত সেনাপ্রধানের কন্ঠে

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

বর্ণিল এক সাজ। সাবেক শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর সবুজ চত্বর। বয়সকে হার মানিয়ে কৈশোরের মধুমাখা দিনগুলোতে কয়েক মুহুর্তের জন্য হারিয়ে যাওয়া। তারুণ্যের দুরন্তপনার সঙ্গীদের সঙ্গে নির্ভার আড্ডা, আনন্দধারায় মেতে ওঠা। গল্প আর স্মৃতি রোমন্থনে যেন ফিরে আসে অতীত। পুরোনো বন্ধু, সতীর্থ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় পর পেয়ে দু:খ-সুখের আলাপে জুড়িয়েছে প্রাণ। হালের ট্র্যান্ড সেলফি তোলায় নিমগ্ন প্রত্যেকে, বন্দি একে অপর।

আবেগ-স্মৃতিচারণায় ছুঁয়ে যায় পাবনা ক্যাডেট কলেজ চত্বর। পাবনা ক্যাডেট কলেজের অষ্টম পুনর্মিলনী উৎসব তাই যেন পুনর্মিলন নয় এক মহামিলনের সূত্রপাত করেছে। যেখানে আবেগ-বাস্তবতার সিক্যুয়েন্সে ২৮ বছর আগের স্মৃতিকাতরতায় আচ্ছন্ন হয়েছেন স্বয়ং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদও। গানের সেই কলির মতো প্রাণ জুড়িয়েছে তাঁরও।

অস্ফুটে হয়তো তাঁর মনও ফিরে গেছে রংধনু আঁকা সেইক্ষণে। বঙ্গবন্ধুকন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের উন্নয়নের গতিময় অভিযাত্রায় তিনি অনুভব করেছেন পাবনা ক্যাডেট কলেজের ঠিক ২৮ বছর আগের-পরের চিত্রপট। নিজের জবানীতে তুলে এনেছেন সেই কথা। বলেছেন, ‘আমি এই ক্যাডেট কলেজে ১৯৯৫ সালে একবার এসেছিলাম। আজ লক্ষ্য করেছি অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন। এই পরিবর্তন অবশ্যই অভূতপূর্ব উন্নয়ন-অগ্রগতির পরিবর্তন।’

স্বাধীনতার রূপকার বঙ্গবন্ধুর মহিমান্বিত স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা
সাপ্তাহিক ছুটির দিনে শুক্রবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পাবনা ক্যাডেট কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অষ্টম পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বাঙালির অনন্ত প্রেরণার উৎস, মহান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ও মহিমান্বিত স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, ‘আমরা এখানে আসতাম না যদি না বাংলাদেশ স্বাধীন হতো।

আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করতে চাই আমাদের স্বাধীনতার মূল নায়ক হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। আমি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করতে চাই ৩০ লাখ শহীদকে যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা এই দেশ পেয়েছি। বিশেষভাবে শ্রদ্ধা জানাতে চাই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও সশস্ত্রবাহিনীর সেসব সদস্যদের যারা স্বাধীনতা যুদ্ধ ও দেশে-বিদেশে আমাদের জন্য প্রাণ দিয়েছে।’

মাতৃভাষার জন্য প্রাণ দেওয়া অনন্য এক উদাহরণ
ভাষা আন্দোলনের পথ বেয়েই মুক্তিযুদ্ধ অত:পর স্বাধীনতা। মায়ের ভাষার অধিকার আদায়ে একমাত্র প্রাণ দিয়েছে বাঙালি জাতিই। একুশের প্রেরণা আজও পথ দেখায় বাঙালিকে। একুশের চেতনা বুকে লালন করে মাতৃভাষায় আবেগ উচ্ছ্বসিত প্রাণে গৌরব ও আত্মত্যাগের ভাষার মাসে সেনাপ্রধান শ্রদ্ধাবনতচিত্তে স্মরণ করেন ভাষা শহীদদের।

তিনি বলেন, ‘আজ আমরা মাতৃভাষায় বাংলায় কথা বলছি। পৃথিবীতে অনন্য উদাহরণ ভাষার জন্য আন্দোলন করে মানুষ প্রাণ দিয়েছে এবং মাতৃভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করে গেছে। এমন গৌরবের মাসে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে চাই।’ তাঁর বক্তব্যেও স্পষ্ট বুকের রক্ত দেওয়ার গৌরবময় শোকের ঐতিহ্য রূপান্তরিত হয়েছে বিশ্বজনীন আনন্দে। অর্জিত হয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদা।

ক্যাডেটদের সঙ্গে সম্পর্কিত আগামীর বাংলাদেশ
ক্যাডেটদের সঙ্গে আগামীর বাংলাদেশ সম্পর্কিত বলেও মন্তব্য করেন সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘সরকার ক্যাডেটদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ক্যাডেট কলেজগুলোতে ব্যাপক উন্নয়ন করা হয়েছে। পাবনা ক্যাডেট কলেজেও ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে।’

ক্যাডেটদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘ক্যাডেট কলেজ ক্যাডেটদের জন্য বড় একটা সুযোগ। কারণ এখানে সবাই সুযোগ পায় না। সরকার ক্যাডেটদের জন্য প্রচুর অর্থ খরচ করে। এটাকে কাজে লাগাতে হবে। কেননা এটা জীবনের মূল এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, সকালে সেনাবাহিনী প্রধান ক্যাডেট কলেজ প্রাঙ্গনে পৌঁছালে প্রাক্তন এবং বর্তমান ক্যাডেটের নিয়ে গঠিত একটি দল মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজের মাধ্যমে তাঁকে অভিবাদন জানান। তিনি ক্যাডেটদের জন্য নবনির্মিত তিনটি হাউসের শুভ উদ্বোধন করেন। পুনর্মিলনীতে আগত প্রাক্তন ছাত্রদের সাথে মতবিনিময় ছাড়াও পুনর্মিলনী উপলক্ষে আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজ, বৃক্ষরোপণ এবং দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালাতে অংশগ্রহণ করেন জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

পুনর্মিলনী প্যারেডে মুগ্ধতা
ক্যাডেট কলেজের পুনর্মিলনীকে ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান বলেও উল্লেখ করেন সেনাপ্রধান। পাবনা ক্যাডেট কলেজের পুনর্মিলনী প্যারেডে নিজের মুগ্ধতার কথা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আজকের প্যারেড দেখে আমি মুগ্ধ। এখানে নানান বয়সের নানান পেশার এক্স ক্যাডেটরা একত্রিত হয়েছেন, যেভাবে সুশৃঙ্খলভাবে দাঁড়িয়েছেন আমি সত্যিই বিমোহিত। বিভিন্ন এক্স ক্যাডেটদের আগমন নিজেদের বন্ধনকে দৃঢ় করে। এই বন্ধন ভবিষ্যতে ব্যক্তিগত ও সামগ্রিকভাবে দেশের কাজেও অবদান রাখবে। বর্তমান ও প্রাক্তন ক্যাডেটদের মিলনমেলায় নতুনরা বড় ভাইদের কাছে শিখতে পারবে ডিসিপ্লিন জীবনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত কতো গুরুত্বপূর্ণ।’

অনুষ্ঠানে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল টি এম জোবায়ের, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল (এজি) মেজর জেনারেল মো. নজরুল ইসলাম, ১০ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও কক্সবাজারের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. ফখরুল আহসান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাস্টার জেনারেল অব অর্ডন্যান্স মেজর জেনারেল মো. জহিরুল ইসলাম, ১১ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও বগুড়ার এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. খালেদ-আল-মামুন, ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. ফয়জুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

বাজারে চলছে অস্থিরতা

বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:০০ পূর্বাহ্ণ
বাজারে চলছে অস্থিরতা

বাজারে নিতপণ্যের দাম এখন ঊর্ধ্বমুখী। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলে সরকার রেশনিং আরোপ করেছে। এছাড়া সিন্ডিকেটের কারণে চাহিদা অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে গ্রামে বাড়তি দামে তেল বিক্রি হচ্ছে। এতে ট্রাক ভাড়া আগের তুলনায় ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য পরিবহণ খাতেও খরচ বেড়েছে।

রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকা। যা এক মাস আগেও ১৮০ টাকা ছিল। প্রতি কেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৪৩০-৪৪০ টাকা। যা এক মাস আগে ৩২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা কেজি। আগে ছিল ৭৫০ টাকা। এদিকে ভোজ্যতেলের বাজারেও চলছে অস্থিরতা। আরেক দফা মূল্য বাড়াতে বাজার থেকে উধাও হয়েছে বোতলজাত সয়াবিন তেল। পাশাপাশি সংকট দেখিয়ে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ২১০-২২০ টাকা। যা এক মাস আগে ১৮৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বেড়েছে চিনির দামও। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০৫ টাকা। যা ঈদের আগে ১০০ টাকা ছিল।

বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, যুদ্ধের কারণে ভোজ্যতেল আমদানিতে সমস্যা হচ্ছে। পাশাপাশি বিশ্ববাজারে দাম বেড়েছে। এতে আমদানিকারকদের ব্যয় বেড়েছে। তাই দেশের বাজারেও দাম বাড়াতে হবে।

খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৬-৫৮ টাকায়। বিআর-২৮ জাতের মাঝারি দানার চাল ৬৮ টাকা, সরু চালের মধ্যে মিনিকেট চাল ৮৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। নতুন করে দাম না বাড়লেও প্রতি কেজি সরু মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা, মাঝারি দানার মসুর ডাল ১২০-১৩০ টাকা, মোটা দানার মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়।

নয়াবাজারের ব্যবসায়ী মো. আকবর বলেন, পরিবহণ ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় সবজি থেকে শুরু করে সব পণ্যের দাম বেড়েছে। পাশাপাশি কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিছু পণ্যের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। জ্বালানি পরিস্থিতির জন্য পণ্যের দাম যেটুকু বাড়ার কথা তার তুলনায় বেশি দাম নেওয়ায় সাধারণ মানুষ বিড়ম্বনায় পড়েছেন।

কেজিপ্রতি ৮০ টাকার নিচে মিলছে না কোনো সবজি। মাসের ব্যবধানে কেজিতে ২০-৩০ টাকা বেড়েছে। গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি। এক মাস আগে ছিল ৮০-৯০ টাকা। পটোল বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি। যা আগে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। করলা বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা, বরবটি ৮০-৯০, ঢ্যাঁড়শ ৮০, চিচিঙ্গা ৮০-৯০, ধুন্দল ৬০-৮০, শিম ৮০-৯০, লাউ ৮০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব সবজির দাম ৩ দিন আগেও কেজিপ্রতি ২০-৩০ টাকা কম ছিল। মূলত ট্রাক ভাড়া বাড়ার কারণে সবজির দাম বেড়েছে।

ঢাকার কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. মাসুম বলেন, আমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করে মাসে ৪০ হাজার টাকা বেতন পাই। মা-বাবা, স্ত্রী ও এক ছেলে নিয়ে আমার সংসার। সেখান আমিসহ তাদের খাবার জোগাড় করতে মাসে ৫০ কেজির এক বস্তা চাল ৪ হাজার, ৫ লিটার তেল ৮৫০, বাসা ভাড়া ১২ হাজার, সবজি, মাছ, ব্রয়লার মুরগিসহ তরকারি রান্নার উপকরণ কিনতে ৮ হাজার, গ্যাস সিলিন্ডার ২০০০, সাবান-ডিটারজেন্ট ও শ্যাম্পু ৫০০, মুদি বাজার আরও ২ হাজার, বিদ্যুৎ বিল ১০০০ ও মোবাইল টকটাইমে খরচ হয় ৫০০ টাকা।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহণ ব্যয় বাড়ার প্রভাব সরাসরি পণ্যের দামে পড়ছে। পাশাপাশি বাজার সিন্ডিকেটের কারণে ভোজ্যতেলসহ একাধিক পণ্যের দাম বেড়েছে। তাই বাজারে কঠোরভাবে তদারকি দরকার।

কালের আলো/এম/এএইচ

বার্সাকে বিদায় করে ৯ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিতে আতলেতিকো

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৫২ পূর্বাহ্ণ
বার্সাকে বিদায় করে ৯ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিতে আতলেতিকো

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালের ফিরতি লেগে ২-১ গোলে জিতেও শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হয়েছে বার্সেলোনাকে। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে সেমি-ফাইনালে উঠেছে আতলেতিকো মাদ্রিদ।

মঙ্গলবার রাতে মেত্রোপলিতানো স্টেডিয়ামে শুরুতেই আধিপত্য দেখায় বার্সেলোনা। চতুর্থ মিনিটে লামিনে ইয়ামাল এবং ২৪তম মিনিটে ফেররান তোরেসের গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় তারা, ফলে দুই লেগ মিলিয়ে সমতা ফেরে। তবে ৩১তম মিনিটে আদেমোলা লুকমান গোল করে আতলেতিকোকে আবারও ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে নেন, যা শেষ পর্যন্ত নির্ণায়ক হয়ে ওঠে।

পুরো ম্যাচে প্রায় ৭১ শতাংশ বল দখলে রেখে বার্সেলোনা আক্রমণ চালালেও দুই দলই নেয় ১৫টি করে শট; লক্ষ্যে ছিল বার্সেলোনার ৮টি ও আতলেতিকোর ৫টি। বারবার সুযোগ তৈরি করেও গোল বাড়াতে পারেনি কাতালানরা, বিপরীতে গোলরক্ষক হুয়ান মুসোর দৃঢ়তায় টিকে থাকে স্বাগতিকরা।

ম্যাচের শেষ দিকে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে বার্সেলোনার জন্য। ৭৭তম মিনিটে এরিক গার্সি‌য়া লাল কার্ড দেখলে যোগ করা সময়সহ শেষ ১৯ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় তাদের। প্রথম লেগেও তারা খেলেছিল ১০ জনে।

শেষদিকে রবার্ট লেভানদোভস্কি ও রোনাল্ড আরাওহো সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেননি। ফলে ২-১ ব্যবধানে জিতেও হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা।

অন্যদিকে প্রায় ৯ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি-ফাইনালে উঠেই উল্লাসে মাতে আতলেতিকো মাদ্রিদ।

কালের আলো/এসএকে

৫ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বৈধতা দিচ্ছে স্পেন, বাংলাদেশিদের উচ্ছ্বাস

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ
৫ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বৈধতা দিচ্ছে স্পেন, বাংলাদেশিদের উচ্ছ্বাস

বার্সেলোনায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের উচ্ছ্বাস

ইউরোপে যখন অভিবাসননীতি নিয়ে কড়াকড়ি চলছে তখন ব্যতিক্রমী এক সিদ্ধান্ত নিলো স্পেন। প্রায় ৫ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বৈধতা দিতে যাচ্ছে দেশটি। অর্থনীতি, জনসংখ্যা আর বাস্তবতার যুক্তি তুলে ধরে এই উদ্যোগকে ন্যায়ের পদক্ষেপ বলছে স্পেন সরকার।

এদিকে স্পেনের এমন সিদ্ধান্তের পর বার্সেলোনায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে উদযাপনের দৃশ্য দেখা গেছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, এ ঘোষণার পর উল্লাসে ফেটে পড়েছেন তারা। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে স্পেন সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

এই সুবিধা পেতে আবেদনকারীদের অন্তত পাঁচ মাস স্পেনে বসবাসের প্রমাণ এবং পরিচ্ছন্ন অপরাধমুক্ত রেকর্ড দেখাতে হবে। আগামী ১৬ এপ্রিল থেকে জুন মাসের শেষ পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে। অনুমোদন পেলে তারা কাজের সুযোগ, সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আসবেন।

সরকার বলছে, এই অভিবাসীরাই স্পেনের অর্থনীতি ও জনসেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছেন। জনসংখ্যার বার্ধক্য মোকাবিলা এবং শ্রমঘাটতি পূরণে তাদের বৈধতা দেওয়া জরুরি। অতীতে স্পেনের নাগরিকদের বিদেশে কাজের জন্য পাড়ি জমানোর ইতিহাসও এই সিদ্ধান্তের নৈতিক ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।

তবে দেশটির বিরোধী দল পিপলস পার্টি এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করে বলছে, সরকারের এমন উদ্যোগ অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করবে এবং নতুন করে আরও মানুষের আগমন বাড়াতে পারে।

যদিও ক্যাথলিক চার্চসহ কিছু মহল এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে। ইউরোপজুড়ে কড়াকড়ির প্রবণতার বিপরীতে স্পেনের এই পদক্ষেপ নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

কালের আলো/এসাআর/এএএন