খুঁজুন
                               
বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

ত্যাগের সমুদ্রে সৈনিক জীবনের তরী; সেনাপ্রধানের স্মরণের আলোয় চিরঞ্জীব সেনা বীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ মার্চ, ২০২৩, ৯:৫১ অপরাহ্ণ
ত্যাগের সমুদ্রে সৈনিক জীবনের তরী; সেনাপ্রধানের স্মরণের আলোয় চিরঞ্জীব সেনা বীর

এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটরকালের আলো:

দায়িত্ব পালন করতে প্রতিমুহূর্ত মৃত্যু ঝুঁকি। সুশৃঙ্খল, গৌরবময় ও কর্মময় জীবনে নির্ভীক ও আপসহীন একেকজন সেনারা। মৃত্যুকে হাতের মুঠোয় ধ্রুব সত্য জেনেও চোখজোড়া স্বপ্ন আর বুকে প্রত্যয়। একই সঙ্গে তাঁরা যোদ্ধা এবং শান্তির প্রবক্তা। বিশ্বময় অধরা নীলাকাশজুড়ে একেকজন সেনা সদস্য ছড়িয়ে দেন নিজের কর্মের দ্যুতি। ত্যাগের সমুদ্রে ভাসান সৈনিক জীবনের তরী।

অনেক ঝড়ঝঞ্ঝায় ভরা কঠিন এক লড়াইয়ের জীবনে ফলত সেনাবাহিনীর চাকরিকে চাকরি নয়, ‘জীবন যাত্রা’ বলেই মনে করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। সৈনিকের অনিত্য জীবনের দৈনন্দিনতায় আলোকরেখার সঞ্চার করেই বললেন, ‘সেনাবাহিনীতে আমরা যখন যোগদান করি আমরা জীবন উৎসর্গ করার ব্রত নিয়েই যোগদান করি।’ সেনাপ্রধানের চোখে দেশে ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে জীবন উৎসর্গকারী প্রতিটি সেনা সদস্য একেকজন বীর। চিরঞ্জীব বীরদের প্রকারান্তরে এই গুণীদের কদরের মাধ্যমেই স্মরণের আলোয় উপস্থাপন করেছেন জেনারেল শফিউদ্দিন।

সেনাবাহিনীতে চাকরিরত অবস্থায় দেশে ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে জীবন উৎসর্গকারী সেনাদের পরিবারের পাশে বরাবরই গভীর মমত্ববোধ আর ভালোবাসার নির্যাসে অভিভাবকত্বের ছায়ায় পাশে দাঁড়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ব্যতিক্রম ছিল না বৃহস্পতিবারও (২ মার্চ)। এদিন দুপুরে সাভারে আশুলিয়ার পাথালিয়া ইউনিয়নের খেজুরটেক সেনাপল্লীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অর্থায়নে নির্মিত ‘আস্থানীড়’ প্রকল্পের আওতায় জীবন দেওয়া পরিবারসমূহের মাঝে ২০ টি ফ্ল্যাট হস্তান্তর অনুষ্ঠানে নিজ বাহিনীর দায়িত্বশীল সদস্যদের সৎনিষ্ঠ চেতনাবোধকেই পুনরায় প্রজ্বলিত করেন সেনাপ্রধান।

এ সময় তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরিরত অবস্থায় দেশে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন ও পার্বত্য চট্টগ্রামে আভিযানিক ও সক্রিয় দায়িত্ব পালনকালে জীবন উৎসর্গকারী সেনাসদস্যদের পরিবারের উত্তরাধিকারীদের মাঝে ফ্ল্যাট হস্তান্তর সেনাসদস্যদের কল্যাণার্থে নি:সন্দেহে যুগোপযোগী, কল্যাণকর ও মানুষের অন্যতম মৌলিক চাহিদা তথা বাসস্থান সমস্যা নিরসনে একটি বৃহৎ এবং কল্যাণমুখী উদ্যোগ। সেনাসদস্যদের পরিবার যাতে সুখী, সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন যাপন করতে পারেন, সেই লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ফ্ল্যাট প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।’

বেদনার বিষাদকাব্যেও প্রবল সাহস, সততা ও আত্নপ্রত্যয়ের মধ্যদিয়ে লড়াকু সেনাজীবনে ভুবন জয় করা এক চিরসত্যকেও মোটাদাগে উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। বলে চলেন মানবতার জয়গান। সেনাপ্রধান দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, যখন মানুষ ভালো কাজের প্রতিদান পাবে তখন অবশ্যই তারা ভালো কাজে উৎসাহিত হবে।

তিনি বলেন, ‘গুণীদের গুণগান না গাইলে গুণী তৈরি হয় না। যে বীররা আমাদের জন্য জীবন উৎসর্গ করে গেছেন তাদেরকে আমাদের মনে রাখতে হবে। দেশের জন্য ও আমাদের অর্গানাইজেশনের জন্য যারা প্রাণ উৎসর্গ করবে তাদের জন্য অবশ্যই আমাদের কিছু করতে হবে। আমরা সবসময় চেষ্টা করি যেভাবে পারি আমাদের সীমাবদ্ধতার ভেতর থেকেও কর্তব্যরত অবস্থায় যারা শহীদ হয়েছেন তাদের পরিবারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার। সেখানে আজ একটা নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। আমরা আজ ২০ টি পরিবারকে সারাজীবনের জন্য একটা করে ফ্ল্যাট হস্তান্তর করতে পারলাম।’

শফিউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, ‘যিনি শহীদ হয়েছেন তিনি আর আসবেন না। আমরা চাই তার পরিবার যেন সুন্দর জীবনযাপন করতে পারে, তার সন্তানরা যেন পড়ালেখা করে মানুষ হতে পারে। একইসঙ্গে তাদের সন্তানরা যেন ভবিষ্যতে তার পিতার অর্জনকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। এমন একটা কাজ করতে পেরে আমরা সত্যিই আনন্দিত। আশা করছি আমরা ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজ করতে পারব।’

ফায়ারিং প্রতিযোগিতা অনুপ্রেরণার উৎস
একই দিনে ৯ পদাতিক ডিভিশন সদর দপ্তরের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সাভার সেনানিবাসের ক্ষুদ্রাস্ত্র ফায়ারিং রেঞ্জে চলতি বছরের বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ফায়ারিং প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

প্রশিক্ষণের উপর গুরুত্বারোপ করে এ সময় তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীর পেশাগত উৎকর্ষতা অর্জনের জন্য ফায়ারিং এ দক্ষতা অত্যন্ত জরুরী। ফায়ারিং অনুশীলন সেনাবাহিনীর মৌলিক প্রশিক্ষণের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণের মান উন্নয়নে এই ফায়ারিং প্রতিযোগিতা অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করবে’।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সদর দপ্তর ৯ পদাতিক ডিভিশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত এই ফায়ারিং প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সকল ফরমেশনসহ লজিষ্টিকস্ এরিয়া ও ৫টি স্বতন্ত্র ব্রিগেড এবং প্যারা কমান্ডো ব্রিগেডসহ সর্বমোট ১৭টি দল এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ফায়ারিং প্রতিযোগিতায় সেনাবাহিনীর ৩৩ পদাতিক ডিভিশন চ্যাম্পিয়ন ও ৫৫ পদাতিক ডিভিশন রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। এই প্রতিযোগিতায় ১০ পদাতিক ডিভিশনের কর্পোরাল মো. হযরত আলী শ্রেষ্ঠ ফায়ারার এবং ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সৈনিক আশিক হোসেন দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ ফায়ারার হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

পরে সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ সাভারের বাইপাইল এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) এর ট্রেনিং একাডেমিতে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ক্যাম্পিং’র সমাপনী কুচকাওয়াজের অভিবাদন গ্রহণ করেন ও বিএনসিসি ক্যাডেটদের মনোমুগ্ধকর ডিসপ্লে প্রদর্শনী অবলোকন করেন। তিনি শ্রেষ্ঠ ক্যাডেট ও রেজিমেন্টকে পুরস্কার প্রদান করেন। গত ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া প্রশিক্ষণে সেনা, নৌ ও বিমান শাখার মোট ৬০০ ক্যাডেট অংশগ্রহণ করেন। তাদের ড্রিল, অস্ত্র প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সামরিক ও অসামরিক বিষয়াবলীর ওপরে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেনাপ্রধান বলেন, ‘প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিএনসিসির ক্যাডেটরা নিজেদের আরো সমৃদ্ধ করবে, যা তাদের দেশসেবার কাজে লাগবে।’ এ সময় করোনাকালীন সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি দেশের জনগণের জন্য খাদ্য, চিকিৎসাসহ নানাবিধ সহযোগিতার জন্য বিএনসিসির সদস্যদের কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানান।

প্রতিটি অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসান, সেনা সদর দপ্তরের অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল (এজি) মেজর জেনারেল মো. নজরুল ইসলাম, নবম পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও সাভারের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৫:৩৯ অপরাহ্ণ
গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু

দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬০ জনে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৫৬ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।

বুধবার (২৭ মে) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৪৭২ জন শিশু এবং নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ৮৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া পাঁচ শিশুর মধ্যে দুইজন ঢাকা বিভাগে, দুইজন ময়মনসিংহ বিভাগে এবং একজন রাজশাহী বিভাগের বাসিন্দা বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

একই সময়ে নতুন করে ৯৩৩ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৮৫ জন ঢাকা বিভাগের। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬৬ জন, বরিশাল বিভাগে ১৪০ জন এবং খুলনা বিভাগে ৯৮ জন শিশু ভর্তি হয়েছে।

তবে আশার খবর হলো, গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ হাজার ১০৩ জন শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ দেশে প্রথম হাম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর গত ৭৩ দিনে মোট ৬৭ হাজার ৭৯ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫৩ হাজার ৪৬৩ জন। নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ৮৩৪ জনের শরীরে। একই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৪৯ হাজার ৯০৩ জন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

২৭ রুটের ২৬টিতেই বাড়তি ভাড়া, অতিরিক্ত আদায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৪:৫৬ অপরাহ্ণ
২৭ রুটের ২৬টিতেই বাড়তি ভাড়া, অতিরিক্ত আদায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা

ঈদযাত্রাকে ঘিরে দেশের ২৭টি দূরপাল্লার রুটের মধ্যে ২৬টিতেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

সংগঠনটি বলছে, এসব রুটে বাস ও মিনিবাসের প্রায় দুই লাখ ৩৪ হাজার যাত্রীর কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হয়েছে। যার পরিমাণ ৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

বুধবার (২৭ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় এসব তথ্য জানানো হয়।

বার্তায় যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় না করার ঘোষণা দিলেও বাস্তবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সিটিসার্ভিস ও দূরপাল্লার বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। একই ধরনের নৈরাজ্য নৌপথের বেশিরভাগ রুটেও দেখা যাচ্ছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতি জানায়, সংগঠনটির পর্যবেক্ষকদের কাছে বিভিন্ন বাসের চালক ও হেলপাররা অভিযোগ করেছেন, ‘পরিবহন শ্রমিকদের বেতন ও ঈদ বোনাস কার্যকর না থাকায় তারা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে বাধ্য হচ্ছেন।’

সমিতি বলছে, ঈদযাত্রা মনিটরিং কমিটিতে বাস মালিক সমিতি ও সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের প্রভাব থাকায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ সত্ত্বেও যাত্রীদের স্বস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

সমিতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিভিন্ন রুটে নির্ধারিত ভাড়ার তুলনায় অনেক বেশি অর্থ আদায় করা হচ্ছে। ঢাকা-খুলনা রুটে ৫৪১ টাকার ভাড়া ১,০০০ টাকা, ঢাকা-বরিশাল রুটে ৫৯২ টাকার ভাড়া ৮৫০ টাকা এবং একই রুটে বিআরটিসির দোতলা বাসে ৭০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। ঢাকা-পটুয়াখালী রুটে ৫৭০ টাকার ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ১,০০০ টাকা এবং ঢাকা-শরীয়তপুর রুটে ২৩৩ টাকার ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ৫০০ টাকা।

এছাড়া চট্টগ্রাম-বরগুনা রুটে ১,১৯৭ টাকার ভাড়া ১,৮০০ টাকা, ঢাকা-মাদারীপুর রুটে ২৫০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা, ঢাকা-ফরিদপুর রুটে ৩০০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা এবং ঢাকা-দিনাজপুর রুটে ৬০০ টাকার ভাড়া ৯০০ টাকা নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম-বগুড়া রুটে ১,০০০ টাকার ভাড়া ১,৮০০ টাকা এবং চট্টগ্রাম-গাইবান্ধা রুটে ১,১০০ টাকার ভাড়া ২,২০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।

পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ফেনী, ঢাকা-কুমিল্লা, ঢাকা-যশোর, ঢাকা-ঝিনাইদহ, ঢাকা-মাগুরা, ঢাকা-কুষ্টিয়া, ঢাকা-ভাঙ্গা, ঢাকা-পিরোজপুর, ঢাকা-টেকেরহাটসহ বিভিন্ন রুটেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পর্যবেক্ষণে আরও বলছে, ৫২ আসনের বাসে জালিয়াতির মাধ্যমে ৪০ আসনের ভাড়ার তালিকা টানানো হয়েছে। আবার স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের কাছ থেকেও শেষ গন্তব্য পর্যন্ত পূর্ণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

তবে সরকারের কঠোর অবস্থান এবং বাস মালিক সমিতির কিছু তৎপরতার কারণে গত ঈদুল ফিতরের তুলনায় এবারের পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

সংগঠনটি আরও বলছে, নিম্ন আয়ের মানুষ কম ভাড়ায় যাতায়াতের জন্য বাস ও ট্রেনের ছাদে, পণ্যবাহী ট্রাক কিংবা খোলা ট্রাকে ভ্রমণে বাধ্য হচ্ছেন। এতে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বাড়ছে।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে গণপরিবহনে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভাড়া আদায় চালু, নগদ লেনদেন কমানো, চালকদের বেতন ও ঈদ বোনাস নিশ্চিত, সড়ক-মহাসড়কে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে ই-প্রসিকিউশন চালু এবং আইনের সুশাসন নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে যাত্রীকল্যাণ সমিতি।

এছাড়া ঈদযাত্রা মনিটরিং কমিটি থেকে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনকে বাদ দিয়ে পুরো নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সরকারের হাতে রাখার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

কালের আলো/এসআর/এএএন 

ঈদ ঘিরে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা, থাকবে ১৫ হাজার পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৩:৪১ অপরাহ্ণ
ঈদ ঘিরে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা, থাকবে ১৫ হাজার পুলিশ

ঈদুল আজহাকে ঘিরে রাজধানীতে চার থেকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ঈদের জামাত ও ছুটিতে নগরী ফাঁকা হয়ে পড়ার সময় সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় সমন্বিত, প্রযুক্তিনির্ভর ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন। একইসঙ্গে ঈদ জামাতে বিপুল পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সাইবার ইউনিট সক্রিয়ভাবে কাজ করবে বলে জানান তিনি।

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদ উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে চার থেকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ঈদের জামায়াতে ১৫০০ পুলিশ সদস্য এবং ডিএমপিতে ১৫ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে।

মোসলেহ উদ্দিন বলেন, সাইবার প্রচারণা সম্পর্কে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে এবং সাইবার পেট্রল টিম নজরদারি করছে। ঈদের জামাতকেন্দ্রিক নিরাপত্তায় ১৫০০ পুলিশ সদস্য এবং মহানগরীতে ১৫ হাজার সদস্য নিয়োজিত থাকবে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া পুলিশ সদস্যদের ছুটি সীমিত রাখা হয়েছে। সারা মহানগরীতে আমাদের ঈদের দিন ১৫ হাজার সদস্য নিয়োজিত থাকবে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। জাতীয় ঈদগাহ ময়দান, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদসহ মহানগরীর বিভিন্ন ঈদ জামাতে লাখো মুসল্লির সমাগম হবে। একইসঙ্গে ঈদের ছুটিতে বিপুল মানুষ ঢাকা ত্যাগ করায় নগরীর অনেক এলাকা আংশিক ফাঁকা হয়ে পড়বে। এসব বিষয়, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি, অতীত অভিজ্ঞতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে ডিএমপি এই নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

তিনি আরো বলেন, সামাজিক মাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি প্রতিরোধে ডিএমপির সাইবার ইউনিট সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে। যেকোনো ধরনের উস্কানিমূলক প্রচারণা কিংবা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির অপচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।

এ সময় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম, ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ