খুঁজুন
                               
রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ২৯ চৈত্র, ১৪৩২
           

ত্যাগের সমুদ্রে সৈনিক জীবনের তরী; সেনাপ্রধানের স্মরণের আলোয় চিরঞ্জীব সেনা বীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ মার্চ, ২০২৩, ৯:৫১ অপরাহ্ণ
ত্যাগের সমুদ্রে সৈনিক জীবনের তরী; সেনাপ্রধানের স্মরণের আলোয় চিরঞ্জীব সেনা বীর

এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটরকালের আলো:

দায়িত্ব পালন করতে প্রতিমুহূর্ত মৃত্যু ঝুঁকি। সুশৃঙ্খল, গৌরবময় ও কর্মময় জীবনে নির্ভীক ও আপসহীন একেকজন সেনারা। মৃত্যুকে হাতের মুঠোয় ধ্রুব সত্য জেনেও চোখজোড়া স্বপ্ন আর বুকে প্রত্যয়। একই সঙ্গে তাঁরা যোদ্ধা এবং শান্তির প্রবক্তা। বিশ্বময় অধরা নীলাকাশজুড়ে একেকজন সেনা সদস্য ছড়িয়ে দেন নিজের কর্মের দ্যুতি। ত্যাগের সমুদ্রে ভাসান সৈনিক জীবনের তরী।

অনেক ঝড়ঝঞ্ঝায় ভরা কঠিন এক লড়াইয়ের জীবনে ফলত সেনাবাহিনীর চাকরিকে চাকরি নয়, ‘জীবন যাত্রা’ বলেই মনে করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। সৈনিকের অনিত্য জীবনের দৈনন্দিনতায় আলোকরেখার সঞ্চার করেই বললেন, ‘সেনাবাহিনীতে আমরা যখন যোগদান করি আমরা জীবন উৎসর্গ করার ব্রত নিয়েই যোগদান করি।’ সেনাপ্রধানের চোখে দেশে ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে জীবন উৎসর্গকারী প্রতিটি সেনা সদস্য একেকজন বীর। চিরঞ্জীব বীরদের প্রকারান্তরে এই গুণীদের কদরের মাধ্যমেই স্মরণের আলোয় উপস্থাপন করেছেন জেনারেল শফিউদ্দিন।

সেনাবাহিনীতে চাকরিরত অবস্থায় দেশে ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে জীবন উৎসর্গকারী সেনাদের পরিবারের পাশে বরাবরই গভীর মমত্ববোধ আর ভালোবাসার নির্যাসে অভিভাবকত্বের ছায়ায় পাশে দাঁড়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ব্যতিক্রম ছিল না বৃহস্পতিবারও (২ মার্চ)। এদিন দুপুরে সাভারে আশুলিয়ার পাথালিয়া ইউনিয়নের খেজুরটেক সেনাপল্লীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অর্থায়নে নির্মিত ‘আস্থানীড়’ প্রকল্পের আওতায় জীবন দেওয়া পরিবারসমূহের মাঝে ২০ টি ফ্ল্যাট হস্তান্তর অনুষ্ঠানে নিজ বাহিনীর দায়িত্বশীল সদস্যদের সৎনিষ্ঠ চেতনাবোধকেই পুনরায় প্রজ্বলিত করেন সেনাপ্রধান।

এ সময় তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরিরত অবস্থায় দেশে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন ও পার্বত্য চট্টগ্রামে আভিযানিক ও সক্রিয় দায়িত্ব পালনকালে জীবন উৎসর্গকারী সেনাসদস্যদের পরিবারের উত্তরাধিকারীদের মাঝে ফ্ল্যাট হস্তান্তর সেনাসদস্যদের কল্যাণার্থে নি:সন্দেহে যুগোপযোগী, কল্যাণকর ও মানুষের অন্যতম মৌলিক চাহিদা তথা বাসস্থান সমস্যা নিরসনে একটি বৃহৎ এবং কল্যাণমুখী উদ্যোগ। সেনাসদস্যদের পরিবার যাতে সুখী, সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন যাপন করতে পারেন, সেই লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ফ্ল্যাট প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।’

বেদনার বিষাদকাব্যেও প্রবল সাহস, সততা ও আত্নপ্রত্যয়ের মধ্যদিয়ে লড়াকু সেনাজীবনে ভুবন জয় করা এক চিরসত্যকেও মোটাদাগে উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। বলে চলেন মানবতার জয়গান। সেনাপ্রধান দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, যখন মানুষ ভালো কাজের প্রতিদান পাবে তখন অবশ্যই তারা ভালো কাজে উৎসাহিত হবে।

তিনি বলেন, ‘গুণীদের গুণগান না গাইলে গুণী তৈরি হয় না। যে বীররা আমাদের জন্য জীবন উৎসর্গ করে গেছেন তাদেরকে আমাদের মনে রাখতে হবে। দেশের জন্য ও আমাদের অর্গানাইজেশনের জন্য যারা প্রাণ উৎসর্গ করবে তাদের জন্য অবশ্যই আমাদের কিছু করতে হবে। আমরা সবসময় চেষ্টা করি যেভাবে পারি আমাদের সীমাবদ্ধতার ভেতর থেকেও কর্তব্যরত অবস্থায় যারা শহীদ হয়েছেন তাদের পরিবারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার। সেখানে আজ একটা নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। আমরা আজ ২০ টি পরিবারকে সারাজীবনের জন্য একটা করে ফ্ল্যাট হস্তান্তর করতে পারলাম।’

শফিউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, ‘যিনি শহীদ হয়েছেন তিনি আর আসবেন না। আমরা চাই তার পরিবার যেন সুন্দর জীবনযাপন করতে পারে, তার সন্তানরা যেন পড়ালেখা করে মানুষ হতে পারে। একইসঙ্গে তাদের সন্তানরা যেন ভবিষ্যতে তার পিতার অর্জনকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। এমন একটা কাজ করতে পেরে আমরা সত্যিই আনন্দিত। আশা করছি আমরা ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজ করতে পারব।’

ফায়ারিং প্রতিযোগিতা অনুপ্রেরণার উৎস
একই দিনে ৯ পদাতিক ডিভিশন সদর দপ্তরের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সাভার সেনানিবাসের ক্ষুদ্রাস্ত্র ফায়ারিং রেঞ্জে চলতি বছরের বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ফায়ারিং প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

প্রশিক্ষণের উপর গুরুত্বারোপ করে এ সময় তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীর পেশাগত উৎকর্ষতা অর্জনের জন্য ফায়ারিং এ দক্ষতা অত্যন্ত জরুরী। ফায়ারিং অনুশীলন সেনাবাহিনীর মৌলিক প্রশিক্ষণের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণের মান উন্নয়নে এই ফায়ারিং প্রতিযোগিতা অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করবে’।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সদর দপ্তর ৯ পদাতিক ডিভিশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত এই ফায়ারিং প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সকল ফরমেশনসহ লজিষ্টিকস্ এরিয়া ও ৫টি স্বতন্ত্র ব্রিগেড এবং প্যারা কমান্ডো ব্রিগেডসহ সর্বমোট ১৭টি দল এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ফায়ারিং প্রতিযোগিতায় সেনাবাহিনীর ৩৩ পদাতিক ডিভিশন চ্যাম্পিয়ন ও ৫৫ পদাতিক ডিভিশন রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। এই প্রতিযোগিতায় ১০ পদাতিক ডিভিশনের কর্পোরাল মো. হযরত আলী শ্রেষ্ঠ ফায়ারার এবং ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সৈনিক আশিক হোসেন দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ ফায়ারার হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।

পরে সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ সাভারের বাইপাইল এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) এর ট্রেনিং একাডেমিতে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ক্যাম্পিং’র সমাপনী কুচকাওয়াজের অভিবাদন গ্রহণ করেন ও বিএনসিসি ক্যাডেটদের মনোমুগ্ধকর ডিসপ্লে প্রদর্শনী অবলোকন করেন। তিনি শ্রেষ্ঠ ক্যাডেট ও রেজিমেন্টকে পুরস্কার প্রদান করেন। গত ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া প্রশিক্ষণে সেনা, নৌ ও বিমান শাখার মোট ৬০০ ক্যাডেট অংশগ্রহণ করেন। তাদের ড্রিল, অস্ত্র প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সামরিক ও অসামরিক বিষয়াবলীর ওপরে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেনাপ্রধান বলেন, ‘প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিএনসিসির ক্যাডেটরা নিজেদের আরো সমৃদ্ধ করবে, যা তাদের দেশসেবার কাজে লাগবে।’ এ সময় করোনাকালীন সশস্ত্র বাহিনীর পাশাপাশি দেশের জনগণের জন্য খাদ্য, চিকিৎসাসহ নানাবিধ সহযোগিতার জন্য বিএনসিসির সদস্যদের কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানান।

প্রতিটি অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসান, সেনা সদর দপ্তরের অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল (এজি) মেজর জেনারেল মো. নজরুল ইসলাম, নবম পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও সাভারের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

ফেনীর শহীদ হারুনের পরিবারকে নতুন বাড়ি দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৭ অপরাহ্ণ
ফেনীর শহীদ হারুনের পরিবারকে নতুন বাড়ি দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

ফেনীর ট্রাঙ্ক রোডে হরতালের পক্ষে শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত ফেনীর যুবদল নেতা হারুনুর রশিদের পরিবারকে নতুন বাড়ি উপহার দিচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (১২ এপ্রিল) ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর একটি প্রতিনিধি দল নতুন বাড়ি নির্মাণকাজের উদ্বোধন করবেন। আমরা বিএনপি পরিবার সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়।

ফেনী সদর উপজেলার ১৩ নম্বর ফরহাদনগর ইউনিয়নের ভোরবাজারের যুবদল নেতা হারুনুর রশিদ ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর হরতালের পক্ষে মিছিল করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান। তারেক রহমানের নির্দেশে হারুনুর রশিদকে নতুন বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

‘আমরা বিএনপি পরিবার’ এই বাড়ি নির্মাণের কাজটা তদারকি করবে। এই সংগঠন সারাদেশে বিএনপির বিপদগ্রস্ত অসহায় মানুষদের সহায়তা দিয়ে আসছে। সংগঠনটির আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন ও সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন দায়িত্ব পালন করছেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

এই মুহূর্তেই আমাদের মেয়েটির ডেডবডি আনতে পারব না, সচেষ্ট আছি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ফরিদপুর প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৫৪ অপরাহ্ণ
এই মুহূর্তেই আমাদের মেয়েটির ডেডবডি আনতে পারব না, সচেষ্ট আছি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, আপনারা জানেন যে লেবাননে এখন একটি যুদ্ধ অবস্থা বিরাজ করছে। আমাদের ফ্লাইট এখন সুবিধাজনক নয় যে আমরা এই মুহূর্তেই আমাদের এই মেয়েটির ডেডবডি আনতে পারব। আমরা সচেষ্ট আছি, খুব শিগগিরই আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং লেবাননে আমাদের যে মিশন আছে, তারা কাজ করছে—কীভাবে নিরাপদভাবে মেয়েটিকে (মরদেহ) আমরা শিগগিরই দেশে ফিরিয়ে আনতে পারি।

শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের লস্করদিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, গত দুই দিন আগে লেবাননে যে হামলাটা হয়েছে, সেই হামলায় ৩০০ জনের মতো ক্যাজুয়ালটি (যুদ্ধে হতাহত) হয়েছে। তার মধ্যে আমাদের একজন বাংলাদেশি মেয়ে, সে লেবাননে কাজ করতো, সে নিহত হয়েছে একটি পরিবারের সাথে। সেই পরিবারটিও নিহত হয়েছে। তার বাড়ি ফরিদপুর জেলার চরভদ্রাসন উপজেলায়। ইতিমধ্যে তার পরিবারের সাথে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে। কথা বলা হয়েছে। এখানে তার যে বোন থাকে, সেই বোনের সাথেও আমরা যোগাযোগ করেছি। আমাদের জেলার পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসক ইতিমধ্যে তাদের সাথে যোগাযোগ করেছেন, ফ্যামিলির সাথে যোগাযোগ করেছেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন,আমি শুধু আমার জেলার মেয়ে হিসেবে বলতে পারি যে, আমি তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। আল্লাহ তায়ালা তার পরিবারকে সেই শোক সহ্য করার শক্তি দিন এবং আল্লাহ যেন তাকে বেহেশত নসিব করেন।

শামা ওবায়েদ আরও বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার সচেষ্ট আছে, যাতে আমাদের বাংলাদেশিরা যারা এসব দেশে আছে তারা যেন নিরাপদে থাকে। যতটুকু সম্ভব আমরা চেষ্টা করছি তাদেরকে একটি নিরাপদ জায়গায় স্থানান্তর করতে। মিশনগুলো কাজ করছে। যেমন- লেবাননে আমাদের যে বাংলাদেশিরা আছে, তাদেরকে আমরা একটি নিরাপদ জায়গায় স্থানান্তর করার ব্যবস্থা করেছি এবং তারা যেন নিরাপদে থাকে, সে চেষ্টা করছি। ওই দেশগুলোতে যারা বাংলাদেশি দেশে আসতে চায়, নিরাপত্তার অভাবে—তারা যেন নিরাপদে দেশে ফিরে আসতে পারে, সে ব্যবস্থাও আমরা করছি।

তিনি বলেন, আমরা ইতিমধ্যে কিছু বাংলাদেশিকে বিমানের একটি চার্টার ফ্লাইটের মাধ্যমে দেশে ফেরত এনেছি এবং যারা আসতে চায় তাদেরও আসার ব্যবস্থা করছি। এখন পর্যন্ত আমাদের আটজন বাংলাদেশি এই যুদ্ধে নিহত হয়েছে বিভিন্ন দেশে এবং এই প্রথম একজন নারী নিহত হয়েছে। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আমরা চেষ্টা করছি এবং সরকার সচেষ্ট আছে।

শামা ওবায়েদ বলেন, আমাদের যেসব রেমিট্যান্স যোদ্ধারা বিদেশে চাকরি হারিয়ে দেশে ফিরছে, তারা যেন আবার কোনো কর্মসংস্থানে যুক্ত হতে পারে—সেটার জন্য বাংলাদেশ সরকার অবশ্যই দেখবে এবং আমরা সচেষ্ট আছি। এটা আমাদের ম্যানিফেস্টোর একটি অংশ এবং আমরা অবশ্যই দেখব, যাতে আমাদের ভাইয়েরা যারা এতদিন রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসেবে বিদেশে ছিলেন, দেশের রেমিট্যান্স ও অর্থনীতিতে সহযোগিতা করেছেন, তারা যেন আবার একটি কর্মে যুক্ত হতে পারেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

কুকুর-কুমির ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তির নির্দেশ প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৫০ অপরাহ্ণ
কুকুর-কুমির ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তির নির্দেশ প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর
বাগেরহাটে হজরত খানজাহান (রহ.)-এর মাজারসংলগ্ন দিঘিতে কুমিরের মুখে একটি কুকুরের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকেই ভিডিও ধারণে ব্যস্ত থাকলেও অসহায় প্রাণীটিকে রক্ষায় কেউ এগিয়ে না আসায় মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপির। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন।

শনিবার (১১ এপ্রিল) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয় ৷

প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বাগেরহাটের ঘটনাটি তাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। শুধু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন মানুষ হিসেবেও তিনি মর্মাহত।

বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই দেশে মানুষ এবং সব প্রাণের বসবাসের অভয়ারণ্য হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।

সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, এই অমানবিক ঘটনার সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, সেজন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন।

এদিকে প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনার পর বাগেরহাট জেলা প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিয়া খাতুনকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম শরীফ খান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. পলাশ কুমার দাস এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদ-উল-হাসান।

কালের আলো/এসআর/এএএন