খুঁজুন
                               
, ,
           

দুর্যোগে সহানুভূতি, সাহসিকতা ও সক্ষমতার দৃষ্টান্ত সশস্ত্র বাহিনী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ১০:০৬ অপরাহ্ণ
দুর্যোগে সহানুভূতি, সাহসিকতা ও সক্ষমতার দৃষ্টান্ত সশস্ত্র বাহিনী

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":[],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":false,"containsFTESticker":false}

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর:

ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে হঠাৎ দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ১১টি জেলার বাসিন্দাদের ওপর নেমে আসে বন্যা নামের দুর্বিষহ এক যন্ত্রণা। বানের পানিতে ডুবে যায় বাড়িঘর, পাড়া, গ্রাম ও ইউনিয়ন। পড়তে হয় ভয়ানক এক পরিস্থিতিতে। পানির তোড় ভাসিয়ে নিয়ে যায় সব স্বপ্ন-সাধ। স্বজন হারানোর কান্না আর আহাজারি; শুধুই বাঁচার আকুতি। জীবন বাঁচাতে হাজার হাজার মানুষ বাড়ির ছাদে, টিনের চালে আশ্রয় নেন। খাদ্য, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, ওষুধ, বিশ্রাম, কাপড়ের অভাবে সেখানকার জনজীবনে নেমে আসে মানবিক বিপর্যয়। এমন বিপর্যয়ে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধারে, জীবন রক্ষায় কোমর বেঁধে নেমে পড়ে দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনী। ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনকে উদ্ধার, ত্রাণ তৎপরতা ও পুনর্বাসনে সামনের কাতারে এসে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

      দুর্যোগে জনগণের আস্থা, বিশ্বাস ও ভরসার নাম সশস্ত্র বাহিনী
  • সৌহার্দ্য, চিন্তাশীলতা আর ন্যায়বোধকে দেদীপ্যমান করেন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা
  • মানবিক প্রাণের মোহনায় ঝরঝরে ছন্দের উদার মনোভাব হয়ে ওঠে উজ্জীবিত জীবনের সঞ্জীবনী
  • দুর্যোগ অতিক্রম করে কার্যকর অবদান রেখেছেন জীবনের বুনিয়াদ অব্যাহত রাখতে
  • প্রমাণ করেছেন শান্তিতে-সমরে সবখানেই তাঁরা অনন্য

কারও চোখে ছিল না ঘুম। সবার মাঝে এক চিন্তা-কীভাবে বানভাসি মানুষকে বন্যার কবল থেকে রক্ষা করা যায়। জেগে উঠে বাংলাদেশ। মানবিকতার অনন্য নজির, অভূতপূর্ব ঐক্য ছড়িয়ে পড়ে দিকে দিকে। দেশপ্রেম আর সর্বজনীন কল্যাণবোধের মানবিক গুণে উদ্ভাসিত হয়ে সৌহার্দ্য, সহানুভূতি, চিন্তাশীলতা আর ন্যায়বোধকে দেদীপ্যমান করেন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। কেবলমাত্র বস্তুগত সহায়তা নয়, এক অনন্য আন্তরিক-মানবিক সংযোগও তৈরি করেন তাঁরা। দায়িত্ব-কর্তব্যের দৃঢ় বন্ধনে শুধু মানুষের প্রয়োজনে একজন মানুষ হিসেবে বাড়িয়ে দেয় গভীর সহানুভূতির হাত। দুর্দশাগ্রস্ত মানুষকে নিরাপদে উদ্ধারের পাশাপাশি অভুক্ত মানুষের আহারের বন্দোবস্ত কিংবা বেঁচে থাকা মানুষকে সান্ত্বনা সবই ছিল তাদের প্রাত্যহিক দিনলিপিতে। সহমর্মিতা, মানবিক প্রাণের মোহনায় ঝরঝরে ছন্দের উদার মনোভাব হয়ে ওঠে উজ্জীবিত জীবনের সঞ্জীবনী। হাতে হাত মিলিয়ে তাদের প্রগাঢ় আন্তরিকতা-সহযোগিতায় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে রক্ষা পেয়েছে অনেক প্রাণ। মানব মানসে জুগিয়েছেন অনি:শেষ প্রেরণা।

ঐক্যই দুর্যোগ-দুর্বিপাক থেকে বিপদগ্রস্ত মানুষকে উদ্ধারের প্রধান শক্তি। দুর্যোগ–দুঃসময়ে ঐক্যবদ্ধভাবে বিপন্ন মানবতার পাশে দাঁড়ানোর মহৎ গুণটি দেশপ্রমী বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী রপ্ত করেছেন নিজেদের পথচলার শুরুতেই। দুর্যোগে জীবনবাজি রেখে ঝাঁপিয়ে পড়া, সহানুভূতি ও সাহসিকতার নিদর্শন অতীতেও দেখেছেন সবাই। দেশ বহুবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েছে। প্রতিবারই বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে। সিডর, আইলা থেকে শুরু করে করোনা, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, অগ্নিকাণ্ড কিংবা ভবনধস এমনকি মহামারির সময় সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সাধ্যানুযায়ী মানবিক কাজে সক্রিয় থেকেছেন। জনগণের পাশে থেকে সবাই মিলে দুর্যোগ অতিক্রম করে কার্যকর অবদান রেখেছেন জীবনের বুনিয়াদ অব্যাহত রাখতে। হয়ে ওঠেছেন দুর্যোগে জনগণের আস্থা, বিশ্বাস ও ভরসার নাম।

বন্যার দগদগে ক্ষত নিজের দৃষ্টিতে অবলোকন করতে মানবিকতার চিরায়ত দর্শন আর মূল্যবোধের অনুশীলনে জনসাধারণের সঙ্গে নিজ বাহিনীর সদস্যদের ঐক্যের ঐকতান রচনা করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। বন্যার্ত এলাকায় তাঁর সুদীপ্ত পদচারণা, আবেগ-অনুভূতির দ্যোতক বানভাসীদের হৃদয়ের উন্মুক্ত আঙিনাকে স্পর্শ করে গভীরভাবে। একাধিকবার তিনি দুর্গত এলাকায় ছুটে গিয়ে সরাসরি তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি উদ্ধার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেছেন। নেতৃত্বের সৌকর্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন নিজ বাহিনীর সদস্যদের। পরিচালনা করেছেন ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প।

একইভাবে বানভাসীদের পাশে দাঁড়িয়ে দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধের অনবদ্য মেলবন্ধনে হৃদয় দিয়ে হৃদয় ছোঁয়ার চেষ্টা করেছেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। মানবিক মূল্যবোধের জ্যোতির্ময়তায় তাঁরা নিজ নিজ বাহিনীর উদ্যোগে বিতরণ করেছেন খাবার, কাপড় ও শিশু খাদ্য। একাধিকবার বন্যার্তদের দুয়ারে ছুটে গিয়ে তাদের খোঁজ খবর নিয়েছেন। হাতে তুলে দিয়েছেন ত্রাণ। বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে করেছেন মেডিকেল ক্যাম্প। আশ্বাস দিয়েছেন পুনর্বাসনেরও।

গত শনিবার (৩১ আগস্ট) আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী উদ্ধার, ত্রাণ কার্যক্রম ও চিকিৎসা সেবা ত্বরান্বিত করতে ক্যাম্পের সংখ্যা বাড়িয়ে বর্তমানে বন্যা কবলিত এলাকায় সেনাবাহিনীর ৩০টি, নৌবাহিনীর ২টি, বিমান বাহিনী ১টি এবং কোস্ট গার্ডের ২টিসহ সর্বমোট ৩৫টি ক্যাম্প মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর বর্তমানে ২ হাজার ৭৭৮ জন সদস্য, ৯৮টি বোট ও ৯টি হেলিকপ্টার এর মাধ্যমে উদ্ধার, ত্রাণ কার্যক্রম ও চিকিৎসা সেবা প্রদান করছে। পরদিন রবিবার (০১ সেপ্টেম্বর) আইএসপিআর জানায়, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ৩টি ফিল্ড হাসপাতাল ও ১৯টি মেডিকেল টিম, ১টি সেনা ক্লিনিক বন্যা দুর্গতদের নিরলসভাবে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে যাচ্ছে। গত ২৪ ঘন্টায় (০১ সেপ্টেম্বর) সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে মেডিকেল টিম, ফিল্ড হাসপাতাল ও সেনা ক্লিনিক এর মাধ্যমে ৯ হাজার ৮৫৭ জনকে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। ওইদিন ৪৮ জন বন্যাদুর্গত ব্যক্তিকে উদ্ধার, ৫২ হাজার ৫১৫ প্যাকেট খাদ্য সামগ্রী এবং ৪৫০ জনকে রান্না করা খাবার বন্যার্তদের মাঝে বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ২০ হাজার পিস পোশাক ও ৮ কার্টুন ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে। এসময় সশস্ত্র বাহিনী ১০টি হেলিকপ্টার সর্টির মাধ্যমে বন্যা কবলিত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। আইএসপিআর বলছে, ওইদিন পর্যন্ত সশস্ত্র বাহিনীর মেডিকেল টিমগুলো বন্যাদুর্গত এলাকায় ৪২ হাজার ১১৩ জনকে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করেছে। অন্যদিকে, বিজিবি সদর দপ্তর জানায়, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এখন পর্যন্ত বন্যাদুর্গত এলাকার ২ হাজার ৯১৪ জনকে উদ্ধার; ৬৩ হাজার ৭১৪টি পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছে। বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ প্রদান করা হয়েছে ২৩ হাজার ৩১১ জন রোগীকে।

সশস্ত্র বাহিনী দেশের গর্ব ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর গৌরব শুধুমাত্র স্বাধীনতা যুদ্ধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় দেশেও সমানভাবে অবদান রেখে চলেছেন। আন্তর্জাতিক বিশ্বে তাদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা বাংলাদেশকেই সম্মানিত করেছে। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে কাজ করে শুধু সেসব দেশে শান্তি ফিরিয়েই আনেনি, আর্থসামাজিক ক্ষেত্রসহ পুনর্বাসন ক্ষেত্রে এনেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য কঠোর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সদা প্রস্তুত রেখেছেন নিজেদের। পরিবর্তিত বিশ্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে শৃঙ্খলা ও পেশাগত দক্ষতা, উৎকর্ষ সাধনের দিকে নিবিড়ভাবে মনোনিবেশ করেছেন। প্রমাণ করেছেন শান্তিতে-সমরে সবখানেই তাঁরা অনন্য।

কালের আলো/এমএএএমকে

সবজির দামে আগুন, স্বস্তি মাছ-মুরগির বাজারে

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৬ অপরাহ্ণ
সবজির দামে আগুন, স্বস্তি মাছ-মুরগির বাজারে

রাজধানীর কাঁচাবাজারে আবারও চড়েছে সবজির দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে গ্রীষ্মকালীন প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে সবজির সরবরাহ মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও দামে তার প্রভাব পড়েনি। ফলে বাড়তি দামে সবজি কিনতে গিয়ে ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠছে। তবে তুলনামূলক স্বস্তি রয়েছে মাছ ও মুরগির বাজারে। অধিকাংশ মাছ ও মুরগি আগের সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে কেজিতে ১০ টাকা কমেছে ব্রয়লার মুরগির দাম। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তালতলা ও আগারগাঁও এলাকার কাঁচাবাজার ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

বাজারে বর্তমানে বেগুনের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৪০ টাকায়, যা সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় ২০ টাকা বেশি। টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা এবং করলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটল, ঢ্যাঁড়স, কাঁকরোল ও ঝিঙা মানভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি।

এ ছাড়া পেঁপে ও আলু ৩০ টাকা, পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কচুর লতি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কচুরমুখি ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং শসা ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি। বটবটি ৮০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে এক হালি লেবু কিনতে গুনতে হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। দেশি ধনেপাতা কেজি ৩০০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ২৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা কলা হালি ৪০ টাকা, চাল কুমড়া প্রতি পিস ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং ক্যাপসিকাম কেজি ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

শাকের বাজারেও খুব একটা স্বস্তি নেই। লাল শাকের আঁটি ১৫ টাকা, লাউ শাক ৫০ টাকা, কলমি শাক দুই আঁটি ২০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা এবং ডাটা শাক দুই আঁটি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে মুরগির বাজারে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। সোনালি কক মুরগি কেজি ৩২০ টাকা, সোনালি হাইব্রিড ২৯০ টাকা, লাল লেয়ার ৩৫০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে ব্রয়লার মুরগির দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ টাকা কমে ১৮০ টাকায় নেমেছে।

মাছের বাজারেও বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজি ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা, ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশ ১৮৯০ থেকে ২০০০ টাকা এবং ১ কেজি ওজনের ইলিশ ২৭০০ থেকে ২৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্য মাছের মধ্যে চাষের শিং আকারভেদে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা, দেশি শিং ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা, রুই ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, দেশি মাগুর ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা এবং মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাষের পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি।

এ ছাড়া পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৪০ টাকা, কৈ ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, মলা ৫০০ টাকা এবং বাতাসি টেংরা ১৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। টেংরা ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি ৫০০ টাকা এবং পাঁচমিশালি মাছ ২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাংসের বাজারেও তেমন পরিবর্তন নেই। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ডিমের বাজারে এক ডজন লাল ডিম ১৫০ টাকা, হাঁসের ডিম ২০০ টাকা এবং দেশি মুরগির ডিমের হালি ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সোনালি কক মুরগির ডিমের হালি ৭০ টাকা।

সব মিলিয়ে রাজধানীর বাজারে মাছ, মাংস ও মুরগির দামে বড় ধরনের অস্থিরতা না থাকলেও সবজির বাড়তি দামে চাপে পড়েছেন ক্রেতারা। বিশেষ করে মৌসুমি সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও দাম বাড়ায় বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ ক্রেতারা। তাদের অভিযোগ, এক সপ্তাহের ব্যবধানে কয়েকটি সবজির দাম ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় পরিবারের দৈনন্দিন বাজার খরচও বেড়ে গেছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৪ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকায় সারাদেশে তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হচ্ছে। আগামীকাল শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হওয়া ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার সকাল ৯টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশব্যাপী এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় জনস্বার্থে বিশেষ এই অভিযান নেওয়া হয়েছে। আগামী তিন মাস দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

অভিযানের আওতায় ডেঙ্গুর প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং দেশের সব বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারের জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানিয়েছে তথ্য অধিদপ্তর।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

পাবনা-টেকনাফ-কলমাকান্দায় পানিতে ডুবে ৬ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৪ অপরাহ্ণ
পাবনা-টেকনাফ-কলমাকান্দায় পানিতে ডুবে ৬ শিশুর মৃত্যু

দেশের তিন জেলায় পানিতে ডুবে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) পাবনা, কক্সবাজার ও নেত্রকোনায় পৃথক এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে পাবনায় তিন শিশু, কক্সবাজারের টেকনাফে দুই শিশু এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

পাবনায় তিন শিশু

পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের নবীন বাজার এলাকার দাশপাড়া গ্রামে বাড়ির পাশের মাঠে জমে থাকা বর্ষার পানিতে গোসল করতে গিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো—দাশপাড়া গ্রামের শিমুল মল্লিকের মেয়ে সুমি খাতুন (৭) এবং একই গ্রামের আশরাফুল ইসলামের ছেলে খালিদ হোসেন (৮) ও মেয়ে আফিয়া খাতুন (৬)। তারা স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থী ছিল।

স্থানীয়রা জানান, দুপুরে শিশুরা মাঠের জমে থাকা পানিতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে একজন পানিতে তলিয়ে গেলে তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে বাকি দুজনও পানিতে ডুবে যায়। পরে স্থানীয়রা তিন শিশুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে পথেই তাদের মৃত্যু হয়।

টেকনাফে নাফ নদীতে দুই শিশু

কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপে নাফ নদীতে গোসল করতে নেমে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেটিঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো—শাহপরীরদ্বীপ উত্তরপাড়া এলাকার মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে মোহাম্মদ নিশান (১২) ও কেফায়েত উল্লাহর ছেলে আরজিন (১০)।

তারা গোসল করতে নেমে পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ হয়। স্থানীয় বাসিন্দা, জেলে ও পরে কোস্টগার্ড সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। প্রায় চার ঘণ্টা পর দুপুর ২টার দিকে তাদের উদ্ধার করা হয়। আরজিনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। নিশানকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কলমাকান্দায় শিশুর মৃত্যু

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় পুকুরের পানিতে ডুবে আব্দুল্লাহ নামে সাড়ে চার বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার উপজেলার চিনাহালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল্লাহ ওই এলাকার কাজল মিয়ার ছেলে। পরিবারের লোকজনের অজান্তে খেলতে গিয়ে সে পুকুরে পড়ে যায়। পরে স্বজনরা উদ্ধার করে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পৃথক এসব দুর্ঘটনায় তিন এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি