খুঁজুন
                               
বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

মেরিটাইম সেক্টরকে অস্থিতিশীল করতে স্বার্থান্বেষী মহলের অপতৎপরতা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৪, ৭:৪৫ অপরাহ্ণ
মেরিটাইম সেক্টরকে অস্থিতিশীল করতে স্বার্থান্বেষী মহলের অপতৎপরতা

রাইসুল ইসলাম খান, কালের আলো:

সম্ভাবনার এক বিরাট ক্ষেত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে মেরিটাইম বা সামুদ্রিক সেক্টর। মেরিন ক্যাডেটরা দেশি বিদেশি জাহাজে চাকরি করে বিপুলসংখ্যাক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মেরিটাইম সেক্টরকে অস্থিতিশীল করে তুলতে নানামুখী ষড়যন্ত্র চলছে প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে। ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত গণঅভ্যুত্থানে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে কথিত বৈষম্যের খোড়া যুক্তিতে নৌ পরিবহন অধিদপ্তর, নৌ বাণিজ্য দপ্তর, চট্টগ্রাম বন্দর, মেরিন একাডেমিসমূহের গুরুত্বপূর্ণ পদে দেশপ্রেমিক নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের হটাতে কূটকৌশল গ্রহণ করেছে স্বার্থান্বেষী একটি চক্র। গত সরকারের সুবিধাভোগী চক্রটি এখন ভোল পাল্টে মেরিনারদের আবেগকে পুঁজি করে পর্দার আড়াল থেকে ব্যাপক অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ এই অশুভ চক্রান্তের সঙ্গে বেশিরভাগ মেরিনারের কোন সম্পৃক্ততা নেই। এ ঘটনায় সাধারণ মেরিনারদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সরেজমিনে অনুসন্ধানে মেরিন প্রশাসনকে ধ্বংসের অপচেষ্টার সুলুক সন্ধান করা হয়েছে।

  • দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে মেরিটাইম শিক্ষা ও সুনীল অর্থনীতির নিবিড় সম্পর্ক
  • স্বাধীনতার আগে থেকেই সরকারের এসব প্রতিষ্ঠানে বিশেষ করে চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমির কমান্ড্যান্টসহ বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসিতে নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের পদায়ন স্বীকৃত বিষয়
  • গণতান্ত্রিক বিভিন্ন সরকার ৯০ এর দশকের পর থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাভজনক করতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের পদায়ন করে
  • নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের শৃঙ্খলাবোধ ও দক্ষ নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানগুলো লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়
  • পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে হীন অপপ্রয়াস
  • এসব পদ থেকে নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়া হলে এটি হবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত
  • বিনষ্ট হবে মেরিটাইম সেক্টরের উজ্জ্বল সম্ভাবনা

জানা যায়, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের ক্ষেত্রে মেরিটাইম শিক্ষা ও সুনীল অর্থনীতির নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি চট্টগ্রাম, পাবনা, বরিশাল, রংপুর, সিলেটসহ বিভিন্ন মেরিন ও ফিশারিজ একাডেমি থেকে দক্ষ ও যোগ্য মেরিন ক্যাডেট তৈরি হচ্ছে। দেশের দক্ষ নাবিকের সুযোগ আছে; হাতছানি দিচ্ছে। বিশ্বের উন্নয়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্র পরিবহন ব্যবস্থার বিকাশ ও উন্নয়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সমুদ্রে বাংলাদেশের অধিকার, আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা, সমুদ্র আইন, সমুদ্রের গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে ধারণা লাভের জন্য ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠছে মেরিটাইম শিক্ষা।

বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির বাইরেও ৭ থেকে ৮ হাজার মেরিনার বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি মেরিন একাডেমি থেকে পাস করছে। অনেক মেরিন ফিশারিজ একাডেমিও মেরিনার তৈরি করছে। দেশের মোট মেরিন অফিসারদের প্রায় শতকরা ২৫ শতাংশ চট্টগ্রামের জলদিয়াস্থ বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি থেকে পাস করা। তাঁরা জাতীয় পতাকাবাহী জাহাজ, বন্দর, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনসহ বিভিন্ন সংস্থায় চাকরি করে। বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ জাহাজ নির্মাণ, পরিচালনা, নৌ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন জায়গায় তাদের একচ্ছত্র আধিপত্য থাকায় অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করা মেরিনাররা সুযোগ লাভে বঞ্চিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তাদের কৌশলের করতলে অন্যসব প্রতিষ্ঠানের মেরিনাররা চাকরির সুযোগ পান না।

সাধারণত দেশে ও বিদেশে জাহাজ পরিচালনার উদ্দেশ্যে মেরিনারদের ভর্তুকির মাধ্যমে প্রশিক্ষিত করা হয়। চাকরিতে নির্ধারিত বয়সসীমা না থাকা সত্ত্বেও এসব মেরিনাররা অল্প কিছুদিন জাহাজে চাকরি করে। পরবর্তীতে দেশে ফিরে এসে বিভিন্ন সরকারি চাকরিতে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। কিন্তু মেরিনারদের অন্য একটি অংশ দেশে ফিরে বেসরকারি সেক্টরে বেশি বেতনের চাকরি খোঁজে। তাদের মাঝে মোটা দাগে সরকারি প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পারপাস সার্ভের প্রবণতা দেখা যায়। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, সাধারণত কোন মেরিনার সরকারি চাকরিতে নবম গ্রেডে না ঢুকে বেশ বয়সকালে ষষ্ঠ থেকে চতুর্থ গ্রেডে সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করে।

এদিকে, সম্প্রতি ঢাকা ও চট্টগ্রামে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএমওএ)। সেখানে তাঁরা নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের বর্তমান মহাপরিচালককে প্রত্যাহার করে সেই পদে প্রাক্তন মাস্টার মেরিনার ক্যাপ্টেন শফিকুল্লাহকে নিয়োগের দাবি জানান। যদিও এই পদে ইতিপূর্বে তাঁরা নৌ বাণিজ্য দপ্তরের মুখ্য কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন সাব্বিরকেও মহাপরিচালক পদে পদায়নের জন্য বিভিন্ন মহলে পত্র পাঠায়। এছাড়াও বিভিন্ন বন্দরের চেয়ারম্যান, বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে মেরিনার নিয়োগের দাবি জানিয়েছে।

সূত্র বলছে, বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএমওএ) এর এসব দাবি একেবারে অযৌক্তিক ও দেশের মেরিটাইম সেক্টরকে ধ্বংস করার পাঁয়তারা। কারণ, স্বাধীনতার আগে থেকেই সরকারের এসব প্রতিষ্ঠানে বিশেষ করে চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমির কমান্ড্যান্টসহ বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসিতে নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের পদায়ন স্বীকৃত বিষয়। পার্শ্ববর্তী দেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই পদ্ধতি চালু রয়েছে। বাংলাদেশেও ৬০ ও ৭০’র দশকে এই ধারাবাহিকতা বজায় ছিল। এর ব্যত্যয় ঘটিয়ে অতীতে যখনই কোন চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে মাস্টার মেরিনার বা মেরিনারদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তখনই এসব প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের প্রান্তসীমায় গিয়ে পৌঁছেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মেরিনারদের থেকে এক সময় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন, বিভিন্ন বন্দর, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনে পদায়নের পর প্রতিষ্ঠানসমূহ রুগ্ন হয়ে পড়ে। এই খাতে আয় ব্যাপক হারে কমে যায়। এতে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ে প্রতিষ্ঠানগুলো। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ২০ এর অধিক জাহাজ থাকলেও এক সময় নেমে আসে শুন্যের কোঠায়। কিছু কিছু মেরিনার দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। যাদের মধ্যে নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের ৩ জন মেরিনারের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা এখনও বিচারাধীন রয়েছে।

সঙ্কটময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে গণতান্ত্রিক বিভিন্ন সরকার ৯০ এর দশকের পর থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাভজনক করতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের পদায়ন করে। নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের শৃঙ্খলাবোধ ও দক্ষ নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানগুলো লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়। শুধু তাই নয়, জাহাজ নির্মাণ ও মেরামতে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ বছর আগে যাত্রা করা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান-নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড, খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড ও চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেড এক সময় লোকসানের মুখে পড়ে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। এরপর সরকার মৃতপ্রায় এসব প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেন। নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের দক্ষ ব্যবস্থাপনায় এর পর থেকেই ধারাবাহিকভাবে ডকইয়ার্ডগুলো লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। তাঁরা দেশীয় প্রযুক্তিতে যুদ্ধজাহাজ তৈরির মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতার বিষয়টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরেছে। এতে করে সেবাপ্রত্যাশী ছাড়াও এসব সংস্থায় কর্মরত বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সন্তুষ্ট। কিন্তু পুনরায় এসব প্রতিষ্ঠানসমূহে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় মেরিনারদের একাংশ আন্দোলনে নেমেছেন। তারা এসব প্রতিষ্ঠান থেকে নৌবাহিনীর অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সরিয়ে নিজেরা বগলদাবা করতে ওঠেপড়ে লেগেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সূত্র জানায়, দেশের মেরিটাইম সেক্টরসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তর বা সংস্থার প্রধান পদটি প্রশাসনিক পদ। এটি টেকনিক্যাল বা কারিগরি পদ নয়। এসব প্রশাসনিক পদের জন্য ক্রয়, আর্থিক বিভিন্ন প্রশাসনিক বিধি বিধান জানা প্রয়োজন। বুনিয়াদি প্রশিক্ষণসহ নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা বিভিন্ন লেভেলের প্রশিক্ষণে এসব নিয়ম-কানুন আয়ত্ত করে থাকেন। সমুদ্র সীমার সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সমুদ্র নিরাপত্তা ও সমুদ্র সম্পদের সুরক্ষায় নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা কোস্ট গার্ড ও মেরিন সংস্থাসমূহের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে জাহাজ পরিচালনাসহ যুদ্ধ বিদ্যা ও মেরিটাইম সেক্টরের অনেক বিষয়াদি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব বিষয়াদি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হওয়ায় তারা মেরিটাইম সংস্থাসমূহের প্রধান হলে স্বভাবতই সংশ্লিষ্ট সংস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নৌবাহিনীর কর্মকর্তাগণ দক্ষ প্রশাসক হিসেবে ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সফলতার নজির স্থাপন করেছেন।

একই সূত্র জানায়, সমুদ্রগামী জাহাজের মেরিনারদের দেশের অর্থনীতিতে অবদান থাকলেও সরকারি প্রশাসনিক পদে পদায়নের বিষয়টি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তারা পেশাগতভাবে প্রশাসক হিসেবে নৌবাহিনীর অফিসারদের মতো দক্ষ ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হতে পারেন না। নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা মেরিন সংস্থাসমূহের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে আইএমও এর আওতাধীন বিভিন্ন বিষয়ে অধ্যয়ন ও কনভেনশনে অংশগ্রহণ করেন। তাঁরা মিরপুরস্থ সামরিক বাহিনী কমান্ড এন্ড স্টাফ কলেজ ও ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি) থেকে প্রশিক্ষণ ও ডিগ্রি অর্জন করেন। যেটি তাঁদের কর্মজীবনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, শান্তিতে নোবেল জয়ী অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্বভার গ্রহণের পর দাবি-দাওয়া আদায়ের হিড়িক পড়ে যায়। নার্স, পোশাক শ্রমিকসহ বিভিন্ন সংগঠন একের পর এক দাবি তুলে কর্মবিরতি পালন করে। সরকার ও দেশকে অস্থিতিশীল করার মাধ্যমে এবার দেশের মেরিটাইম সেক্টরের উদীয়মান সক্ষমতাকে ধ্বংস করতে বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন’র ব্যানারে মেরিন ক্যাডেটদের একাংশ বিভিন্ন সংস্থা থেকে দেশপ্রেমিক নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের সরাতে আন্দোলন শুরু করেছে। পতিত সরকারের সময়ে এসব সংগঠন কোন দাবি না জানিয়ে মুখে কুলুপ এঁটে বসেছিলেন। তাঁরা ওই সময় বিভিন্ন সংগঠনের পদ-পদবিতে থেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন। তখন তাঁরা টু শব্দটি করেননি। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তাঁরা সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে হীন অপপ্রয়াস নিয়েছে। তাদের কথামতো এসব পদ থেকে নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়া হলে এটি হবে আত্মঘাতী একটি সিদ্ধান্ত। এতে মেরিটাইম সেক্টরের উজ্জ্বল সম্ভাবনা বিনষ্ট হবে।

মেরিটাইম সেক্টরে দেশপ্রেমিক নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের নেতৃত্বের সুফলের একটি দিক তুলে ধরে সূত্রটি বলছে, সম্প্রতি বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন ‘এমটি বাংলার জ্যোতি’ ও ‘এমটি বাংলার সৌরভ’ নামের দুই জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের পর বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সুদক্ষ নেতৃত্বে কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন ও নৌপরিবহন অধিদপ্তরের দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম সফল হওয়ায় বহু প্রাণক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা মিলেছে। ৪৮ নাবিকের মধ্যে ৪৭ জনকেই জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বড় রকমের প্রাণহানি ও বিপর্যয় প্রতিরোধে নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের দক্ষ নেতৃত্ব ও সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে এটি সম্ভব হয়েছে। দেশের অর্থনীতির ‘লাইফ লাইন’ চট্টগ্রাম বন্দরকে সম্ভাব্য অচলাবস্থার হুমকির বৃত্ত থেকে বের করে এনে পুরোমাত্রায় সচল রেখে এই প্রাজ্ঞ কর্মকর্তারা পুনরায় জানান দিয়েছেন, বাংলাদেশ নৌবাহিনী দেশের যেকোনো বিপর্যয় মোকাবেলায় আস্থা ও সফলতার সঙ্গে সব সময় তাঁর দায়িত্ব পালনে বদ্ধপরিকর। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এ ধরনের কার্যক্রম চলমান থাকবে।

কালের আলো/আরআই/এমএএএমকে

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরু আজ, মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:২১ পূর্বাহ্ণ
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরু আজ, মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

প্রায় দেড় যুগ বিরতির পর শুরু হচ্ছে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে শুরু হচ্ছে এই পরীক্ষা। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে পরীক্ষার রুটিন ও পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রকাশ করেছে। এতে পরীক্ষার্থীদের জন্য ১০টি বিশেষ নির্দেশনা এবং পরীক্ষা চলাকালীন আচরণবিধি কী হবে তা জানানো হয়েছে।

সবশেষ ২০০৮ সালে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পরে ২০০৯ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা চালু করা হলে তার ফলাফলের ভিত্তিতেই বৃত্তি প্রদান করা হতো।

এবারের প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী ১৫ এপ্রিল বাংলা, ১৬ এপ্রিল ইংরেজি, ১৭ এপ্রিল প্রাথমিক গণিত এবং ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ও প্রাথমিক বিজ্ঞান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়া হবে।

তবে তিন পার্বত্য জেলা- রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে পরীক্ষার সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন রাখা হয়েছে। এসব জেলায় ১৭ এপ্রিল প্রাথমিক গণিত, ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ও প্রাথমিক বিজ্ঞান, ১৯ এপ্রিল বাংলা এবং ২০ এপ্রিল ইংরেজি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার সময় অপরিবর্তিত থাকবে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ-এই দুই ক্যাটাগরিতে বৃত্তি দেওয়া হবে। মেধা তালিকায় ছাত্র ও ছাত্রীদের সমানুপাতিক হারে, অর্থাৎ ৫০ শতাংশ করে নির্বাচন করা হবে। এছাড়া মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং বাকি ২০ শতাংশ বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রবেশপত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং মোবাইল ফোন বা কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে আনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। উত্তরপত্র যথাযথভাবে পূরণ, ইনভিজিলেটরের স্বাক্ষর নিশ্চিত করা এবং নির্ধারিত সময়ের আগে হল ত্যাগ না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া পরীক্ষা কক্ষে কোনো ধরনের কথাবার্তা, প্রশ্নপত্র বিনিময় বা অননুমোদিত উপায়ে সহায়তা নেওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পরীক্ষা শেষে ইনভিজিলেটরের কাছে উত্তরপত্র জমা দিয়েই পরীক্ষার্থীদের হল ত্যাগ করতে হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

কালের আলো/এসাআর/ এএএন 

৩০০ কোটি ডলার ঋণের খোঁজে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:০৭ পূর্বাহ্ণ
৩০০ কোটি ডলার ঋণের খোঁজে সরকার

নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, ভর্তুকি ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের পরিকল্পনাকে সামনে রেখে আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য বড় আকারের বাজেট প্রস্তুত করছে সরকার।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নতুন বাজেটের আকার ৯ লাখ কোটি টাকার বেশি হতে পারে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় বাজেট বৃদ্ধির একটি হতে যাচ্ছে।

এদিকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় এসব পণ্য আমদানিতে চার মাসে প্রয়োজন ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার। আবার ভর্তুকি দিতে লাগবে সাড়ে ৩৮ হাজার কোটি টাকা।

বিশাল অঙ্কের এই চাপ সামাল দিতে ৩০০ কোটি ডলার ঋণের খোঁজ করছে সরকার। যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা। গত মার্চ থেকে আগামী জুন সময়ের জন্য বাজেট সহায়তা হিসেবে উন্নয়ন–সহযোগীদের কাছ থেকে এই ঋণ নিতে চায় সরকার। ঋণ পাওয়া যায় কি না, তা আলোচনা করে দেখতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে (ইআরডি) চিঠি দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সামষ্টিক অর্থনীতি শাখা।

চিঠির সঙ্গে মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো হয়েছে একটি অবস্থানপত্র। সেখানে জরুরি ঋণসহায়তার জন্য যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর তৈরি হওয়া চাপ তথ্য-উপাত্ত দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে।

প্রথমত, এই ঋণ বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত ধরে রাখা এবং জ্বালানি, সার ও খাদ্য আমদানি নিশ্চিতে সহায়তা করবে।

দ্বিতীয়ত, নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সহায়তা দিতে ভূমিকা রাখবে। তৃতীয়ত, দেশে জ্বালানি তেল, গ্যাস, সার ইত্যাদির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে তা ব্যয় করা যাবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় অবস্থানপত্রে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য চাপের মুখে পড়েছে। এই ঋণসহায়তা জরুরি প্রয়োজন মেটানো ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে দরকার।

বিষয়টি নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় ও ইআরডির শীর্ষস্থানীয় কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কারণ, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের ১৪ কর্মকর্তা ১৩ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে শুরু হওয়া বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বসন্তকালীন সভায় যোগ দিতে গেছেন। এই সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আইএমএফের কাছে বাড়তি ঋণ চাওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহ বিঘ্নিত হলে এবং বিশ্ববাজারে মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। এ সময় বিশ্ববাজারে জ্বালানিসহ নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে গিয়েছিল।

বাড়তি দরে আমদানি করতে গিয়ে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত দ্রুত কমতে থাকে। একটি পর্যায়ে তা ৪ হাজার ৮০০ কোটি (৪৮ বিলিয়ন) ডলার থেকে নেমে আসে ২ হাজার কোটি (২০ বিলিয়ন) ডলারের নিচে।

অন্যদিকে ৮৬ টাকার ডলারের দাম ১২০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। ফলে দেশে মূল্যস্ফীতি লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে। এর জন্য দায়ী করা হয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের অব্যবস্থাপনাকে।

এ দায় থেকে বাঁচতে তখনকার সরকার জ্বালানি তেল ও সারের দাম বেড়ে যাওয়ার চাপ সাধারণ মানুষের ওপর দিয়ে দেয়। দফায় দফায় বাড়ানো হয় বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি তেল ও সারের দাম। কিন্তু মজুরি মূল্যস্ফীতি অনুযায়ী বাড়েনি।

অর্থনীতির এই পরিস্থিতি বিপুলসংখ্যক মানুষকে দারিদ্র্যসীমার নিচে নামিয়ে দেয়। বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) গত বছরের আগস্টে প্রকাশিত গবেষণায় জানায়, তিন বছরে দেশে দারিদ্র্যের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮ শতাংশে, যা ২০২২ সালে ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ।

কালের আলো/ এসাআর/ এএএন 

১০ টাকা নিয়ে বিরোধে চাচিকে হত্যায় ভাতিজা গ্রেফতার

মময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:২১ পূর্বাহ্ণ
১০ টাকা নিয়ে বিরোধে চাচিকে হত্যায় ভাতিজা গ্রেফতার

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় তুচ্ছ ঘটনায় মাত্র ১০ টাকা পাওনা নিয়ে বিরোধের জেরে চাচিকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ভাতিজাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার ৭নং বাকতা ইউনিয়নের কৈয়ারচালা গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত আয়েশা (৪৮) একই গ্রামের বাসিন্দা ও তারা মিয়ার স্ত্রী। অভিযুক্ত তৌহিদ (১৯) নিহতের আপন ভাতিজা।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পাওনা ১০ টাকা নিয়ে চাচি-ভাতিজার মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা উত্তেজনায় রূপ নেয়। এ সময় তৌহিদ তার হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আয়েশার বুকে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে ফুলবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পালানোর সময় ফুলবাড়িয়া বাজার এলাকা থেকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেন।

পুলিশ জানায়, আসামির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বর্তমানে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কালের আলো/এম/এএইচ