খুঁজুন
                               
, ,
           

দেশের জলসীমার সুরক্ষায় নতুন মাত্রা যোগ করলো ‘বানৌজা বিশখালী’, সক্ষমতার ‘মাইলফলক’ হিসেবেই দেখছেন নৌবাহিনী প্রধান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৪, ১০:০১ অপরাহ্ণ
দেশের জলসীমার সুরক্ষায় নতুন মাত্রা যোগ করলো ‘বানৌজা বিশখালী’, সক্ষমতার ‘মাইলফলক’ হিসেবেই দেখছেন নৌবাহিনী প্রধান

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

লম্বা এক সাইরেন। বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে নিজের আগমনী বার্তার জানান দিলো ‘বানৌজা বিশখালী’ নামে নতুন একটি যুদ্ধজাহাজ। আনুষ্ঠানিকভাবে বাজলো ঘণ্টা, উড়লো বেলুন। নৌবাহিনীর নৌবহরে যুক্ত এই জাহাজটি তৈরি হয়েছে দেশীয় প্রযুক্তিতে। শনিবার (৩০ নভেম্বর) সকালে খুলনার নৌবাহিনীর তিতুমীর ঘাঁটির নেভাল বার্থে আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশনিং করা হয় এই যুদ্ধজাহাজের। বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান নামফলক উন্মোচনের পর জাহাজটির অধিনায়কের কাছে কমিশনিং ফরমান তুলে দেন। এর মধ্যে দিয়ে দেশের জলসীমা সুরক্ষায় যুক্ত হলো নতুন মাত্রা। দেশের সমুদ্রসীমার নিরাপত্তার স্বার্থে বানানো যুদ্ধজাহাজটির মাধ্যমে আধুনিক, শক্তিশালী ও সক্ষম নৌবাহিনী এগিয়ে গেলো আরও এক ধাপ। নৌবাহিনীর অগ্রযাত্রায় সূচিত হলো নতুন এক অধ্যায়ের। দেশের জন্য গৌরবময় এই কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পেরে গর্বিত সংশ্লিষ্ট শ্রমিক-কর্মচারীরাও।

খুলনা শিপইয়ার্ডে দেশীয় প্রযুক্তিতে জাহাজ নির্মাণের মাধ্যমে এই খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হয়েছে। নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্মিত জাহাজ ‘বানৌজা বিশখালী’কে নৌবাহিনীর সক্ষমতার আরও একটি ‘মাইলফলক’ হিসেবেই দেখছেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। তিনি মনে করেন, নৌবহরে সক্ষমতা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী আজ এক সুদক্ষ বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।

আধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন ‘বানৌজা বিশখালী’তে রয়েছে একটি ৪০ মিলিমিটার বাফার গান, দুইটি ১২ দশমিক ৭ মিলিমিটার হেভি মেশিন গান, মাইন লেইং রেল, অত্যাধুনিক সারভাইলেন্স র‌্যাডার, জিপিএস, ইকো-সাউন্ডার সিস্টেমসহ বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধ সরঞ্জাম। বিশখালী নদীর নামে নির্মিত জাহাজটি ১৯৭৮ সালে নৌবাহিনীতে কমিশনিং করা হয়। এরপর থেকে সকল অপারেশনাল কর্মকাণ্ডে সফলতার সঙ্গে অংশগ্রহণ করেছে। দীর্ঘ ৩৬ বছর দেশের জলসীমার সুরক্ষায় নিয়োজিত থাকার পর জাহাজটি ২০১৪ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনী থেকে ডি-কমিশন করা হয়। পরবর্তীতে খুলনা শিপইয়ার্ডে ২০১৯ সালের ২ ডিসেম্বর নতুন করে জাহাজটি নির্মাণের লক্ষ্যে কিল লেয়িং করা হয়।

৪১তম পেট্রোল ক্রাফট স্কোয়াড্রন এর পঞ্চম জাহাজ ‘বানৌজা বিশখালী’ নির্মাণ শেষে ২০২৩ সালের ২২ নভেম্বর নৌবাহিনীর নিকট হস্তান্তর করা হয়। বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে নব সংযোজিত জাহাজটির দৈর্ঘ্য ৫১ দশমিক ৬ মিটার এবং প্রস্থ ৭ দশমিক ৫ মিটার। জাহাজটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২১ নটিক্যাল মাইল বেগে চলতে সক্ষম বলে জানিয়েছে আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। এর আগে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান খুলনার নৌবাহিনীর তিতুমীর ঘাঁটির নেভাল বার্থে এসে পৌঁছলে খুলনা নৌ অঞ্চলের কমান্ডার রিয়ার এডমিরাল গোলাম সাদেক তাঁকে স্বাগত জানান। এ সময় নৌবাহিনীর একটি চৌকস দল নৌবাহিনী প্রধানকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন।

  • নৌবাহিনীর অগ্রযাত্রায় সূচিত নতুন এক অধ্যায়ের
  • আধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন ‘বানৌজা বিশখালী’তে রয়েছে একটি ৪০ মিলিমিটার বাফার গান, দুইটি ১২ দশমিক ৭ মিলিমিটার হেভি মেশিন গানসহ বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধ সরঞ্জাম
  • জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় নৌবাহিনী সর্বদা নিয়োজিত

জানা যায়, ২০১৭ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নৌবহরে প্রথমবারের মতো যুক্ত হয় দেশের তৈরি দুটি সর্ববৃহৎ যুদ্ধজাহাজ। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো নৌবহরে যুক্ত হয়েছে দুটি সাবমেরিন টাগ (সাবমেরিনকে সহায়তাকারী জাহাজ)। ‘দুর্গম’ ও ‘নিশান’ নামের জাহাজ দুটি এবং ‘হালদা’ ও ‘পশুর’ নামের টাগ দুটি তৈরি করে খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড। প্রায় ৬৭ বছর আগে যাত্রা শুরু করা এই শিপইয়ার্ড আশির দশকের দিকে লোকসানের মুখে পড়ে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। এরপর ১৯৯৯ সালে সরকার বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে মৃতপ্রায় ওই প্রতিষ্ঠানটি হস্তান্তর করেন। এরপর থেকেই ধারাবাহিকভাবে ইয়ার্ডটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। তাঁরাই প্রথম নৌবাহিনীর জন্য প্রথম যুদ্ধ জাহাজ তৈরির সফলতা দেখিয়েছে, বিশ্বকে জানান দেয় ‘আমরা পারি’।

জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় নৌবাহিনী সর্বদা নিয়োজিত
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, ‘লক্ষ শহীদের প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের প্রাণপ্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সর্বোপরি ভূরাজনৈতিক প্রয়োজনে একটি শক্তিশালী নৌবাহিনীর ভূমিকা অপরিসীম। সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে দেশে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। জাতির এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমাদের সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে হবে। অসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় চলমান অপারেশনে এবং সাম্প্রতিক বন্যায় এবং বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় আপনারা যেভাবে দেশের জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন তা অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও গৌরবের। এছাড়া দেশের বিস্তৃত সমুদ্র এলাকায় সার্বভৌমত্ব ও সমুদ্র সম্পদের সুরক্ষা ও জাতীয় মাছ ইলিশসহ মৎস্য সম্পদের সুরক্ষা, বাণিজ্যিক জাহাজ, সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের নিরাপত্তা বিধানসহ জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় নৌবাহিনী সর্বদা নিয়োজিত রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রতিটি সদস্য তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে সততা, নিষ্ঠা, বিশ্বস্ততা ও উদ্ভাবনী মনোভাব নিয়ে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে নৌবাহিনীকে আরও অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। দেশের প্রয়োজনে এবং জনগণের স্বার্থে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর গর্বিত সদস্য হিসেবে নৌবাহিনীর সদস্যগণ সেনা ও বিমানবাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বর্তমানে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও যতদিন প্রয়োজন এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

নৌ সদস্যদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও আত্মত্যাগে আধুনিক নৌবাহিনী
দীর্ঘ ৫৩ বছরে নৌ সদস্যদের অক্লান্ত পরিশ্রম, আত্মত্যাগ ও ভালোবাসার বিনিময়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনী একটি আধুনিক নৌবাহিনীতে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন নৌবাহিনী প্রধান। তিনি বলেন, ‘নৌবাহিনীতে সংযোজিত হয়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ফ্রিগেট, কর্ভেট, লার্জ পেট্রোল ক্রাফট, মিডিয়াম পেট্রোল ক্রাফট এবং অন্যান্য যুদ্ধ জাহাজ। এছাড়া নৌবহরে হেলিকপ্টার, টহল বিমান ও সাবমেরিন সংযোজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ত্রিমাত্রিক সক্ষমতা অর্জন করেছে। এর পাশাপাশি গড়ে তোলা হয়েছে স্পেশাল ফোর্স সোয়াডস। সমুদ্রে নজরদারি বৃদ্ধি ও টহল জোরদারকরণের লক্ষ্যে হেলিকপ্টার এবং ড্রোনসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জামাদি ক্রয় ও নির্মাণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে সাবমেরিন অপারেশন ও প্রশিক্ষণের জন্য আধুনিক সুবিধা সম্বলিত সাবমেরিন ঘাঁটি স্থাপিত হয়েছে। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনী আন্তর্জাতিক পরিসীমায় দেশের সুনাম সমুজ্জ্বল করে চলেছে। বিশেষ করে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ কুয়েত এবং কাতারে বিভিন্ন দায়িত্বে থাকা নৌবাহিনীর সদস্যগণ পেশাগত দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততার মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে সুখ্যাতি অর্জন করে চলেছে। আমাদের যুদ্ধ জাহাজ ভূমধ্যসাগরে মাল্টি ন্যাশনাল মেরিটাইম টাস্কফোর্স এর অধীনে নিয়োজিত থেকে সারা বিশে^ বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। নৌবাহিনীতে যুক্ত হতে যাচ্ছে খুলনা শিপইয়ার্ডে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি আরও একটি যুদ্ধজাহাজ ‘বানৌজা বিশখালী’। আমার দৃঢ় বিশ্বাস ‘বানৌজা বিশখালী’ নৌবাহিনীর অন্যান্য যুদ্ধ জাহাজের ন্যায় এদেশের নদী ও সমুদ্রসীমায় চোরাচালান প্রতিরোধ, উপকূলীয় এলাকায় টহল প্রদান, অবৈধ মৎস্য আহরণ প্রতিরোধ, বাণিজ্যিক জাহাজকে জলদস্যুর কবল থেকে নিরাপত্তা প্রদানসহ সকল অপারেশনাল কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত থেকে দেশ সেবায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।’

  • নৌ সদস্যদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও আত্মত্যাগে আধুনিক নৌবাহিনী
  • সুনীল অর্থনীতির বিশাল কর্মযজ্ঞে নিরাপত্তা প্রদান ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখবে নৌবাহিনী  

সুনীল অর্থনীতির বিশাল কর্মযজ্ঞে নিরাপত্তা প্রদান ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখবে নৌবাহিনী
প্রায় এক যুগ আগে খুলনা শিপইয়ার্ডে যুদ্ধ জাহাজ নির্মাণ কাজ শুরু হয়। আমি নিশ্চিত আমাদের নিজস্ব শিপইয়ার্ডে যুদ্ধ জাহাজ নির্মাণে একদিকে যেমন অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা ও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়সহ বাংলাদেশ নৌবাহিনী বায়ার নেভি থেকে বিল্ডার্স নেভিতে ধীরে ধীরে রূপান্তরিত হচ্ছে’- বলেন নৌবাহিনী প্রধান। এডমিরাল এম নাজমুল হাসান আরও বলেন, ‘বছরজুড়ে সারা দেশে নদীপথে ও সমুদ্রে সংঘটিত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় জানমালের সুরক্ষায় নৌবাহিনীর ডাইভিং ও স্যালভেজ টিমের সদস্যগণ তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। সমুদ্র ও নদীপথে অগ্নিনির্বাপণেও নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের সদস্যরা সদা তৎপর এবং অগ্রণী ভূমিকা পালন করে চলেছেন।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা সকলেই জানেন আমাদের বিশাল সমুদ্র ও উপকূলবর্তী এলাকায় ব্লু ইকোনমির কর্মকাণ্ড বর্তমানে চলমান রয়েছে। এই ব্লু ইকোনমি আমাদের দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে চলেছে। ব্লু ইকোনমি বিষয়ক সকল কর্মকাণ্ডের নিরাপত্তা প্রদানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনী আমাদের সমুদ্রসীমায় সার্বক্ষণিক টহল জারি রেখেছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম, মংলা ও পায়রা বন্দর এবং নবনির্মিত মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ নৌবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, যা এই বাহিনী সফলতার সঙ্গে পালন করে চলেছে। সুনীল অর্থনীতির এসব বিশাল কর্মযজ্ঞে নিরাপত্তা প্রদানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী তাঁর চলমান কার্যক্রম এবং ভূমিকা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখবে।’

কালের আলো/এমএএএমকে

পাবনা-টেকনাফ-কলমাকান্দায় পানিতে ডুবে ৬ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৪ অপরাহ্ণ
পাবনা-টেকনাফ-কলমাকান্দায় পানিতে ডুবে ৬ শিশুর মৃত্যু

দেশের তিন জেলায় পানিতে ডুবে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) পাবনা, কক্সবাজার ও নেত্রকোনায় পৃথক এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে পাবনায় তিন শিশু, কক্সবাজারের টেকনাফে দুই শিশু এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

পাবনায় তিন শিশু

পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের নবীন বাজার এলাকার দাশপাড়া গ্রামে বাড়ির পাশের মাঠে জমে থাকা বর্ষার পানিতে গোসল করতে গিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো—দাশপাড়া গ্রামের শিমুল মল্লিকের মেয়ে সুমি খাতুন (৭) এবং একই গ্রামের আশরাফুল ইসলামের ছেলে খালিদ হোসেন (৮) ও মেয়ে আফিয়া খাতুন (৬)। তারা স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থী ছিল।

স্থানীয়রা জানান, দুপুরে শিশুরা মাঠের জমে থাকা পানিতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে একজন পানিতে তলিয়ে গেলে তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে বাকি দুজনও পানিতে ডুবে যায়। পরে স্থানীয়রা তিন শিশুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে পথেই তাদের মৃত্যু হয়।

টেকনাফে নাফ নদীতে দুই শিশু

কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপে নাফ নদীতে গোসল করতে নেমে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেটিঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো—শাহপরীরদ্বীপ উত্তরপাড়া এলাকার মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে মোহাম্মদ নিশান (১২) ও কেফায়েত উল্লাহর ছেলে আরজিন (১০)।

তারা গোসল করতে নেমে পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ হয়। স্থানীয় বাসিন্দা, জেলে ও পরে কোস্টগার্ড সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। প্রায় চার ঘণ্টা পর দুপুর ২টার দিকে তাদের উদ্ধার করা হয়। আরজিনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। নিশানকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কলমাকান্দায় শিশুর মৃত্যু

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় পুকুরের পানিতে ডুবে আব্দুল্লাহ নামে সাড়ে চার বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার উপজেলার চিনাহালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল্লাহ ওই এলাকার কাজল মিয়ার ছেলে। পরিবারের লোকজনের অজান্তে খেলতে গিয়ে সে পুকুরে পড়ে যায়। পরে স্বজনরা উদ্ধার করে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পৃথক এসব দুর্ঘটনায় তিন এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ব্যাংক খাতে বাড়ছে ‘নীরব’ ঝুঁকি

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৫ অপরাহ্ণ
ব্যাংক খাতে বাড়ছে ‘নীরব’ ঝুঁকি

দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ও শ্রেণিকৃত ঋণের চাপ এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো সমস্যা নয়; এটি ক্রমেই পুরো আর্থিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠছে। একদিকে বাড়ছে সমস্যাগ্রস্ত ঋণ, অন্যদিকে এসব ঋণের বিপরীতে প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণ করতে পারছে না অনেক ব্যাংক। ফলে কাগজে-কলমে ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতার যে চিত্র দেখা যাচ্ছে, তার আড়ালে প্রকৃত ঝুঁকি আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জুন ২০২৬ শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে প্রয়োজনীয় প্রভিশন ও বাস্তবে সংরক্ষিত প্রভিশনের মধ্যে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৩৫৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা। একই সময়ে ব্যাংকগুলোর মোট শ্রেণিকৃত ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা।

শ্রেণিকৃত ঋণ বেড়েছে প্রায় ১৮ হাজার কোটি
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, মার্চ ২০২৬ শেষে ব্যাংকগুলোর শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। জুনে তা বেড়েছে প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা। মোট বিতরণ করা ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ এখন শ্রেণিকৃত। ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই কোনো না কোনোভাবে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ব্যাংকিং ব্যবস্থায় এত বড় অংশের ঋণ সমস্যাগ্রস্ত হয়ে পড়া শুধু ব্যাংকের মুনাফাকে চাপের মুখে ফেলছে না, বরং নতুন ঋণ বিতরণ, বিনিয়োগ ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।

প্রভিশনের অর্ধেকও সংরক্ষণ হয়নি
খেলাপি বা শ্রেণিকৃত ঋণ থেকে সম্ভাব্য ক্ষতি সামাল দিতে ব্যাংককে আগেই অর্থ সংরক্ষণ করতে হয়। এর উদ্দেশ্য হলো—ঋণ শেষ পর্যন্ত আদায় না হলে যেন একবারে বড় ধাক্কা না আসে। কিন্তু এখানেই বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, শ্রেণিকৃত ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোর প্রয়োজনীয় প্রভিশনের পরিমাণ প্রায় ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা। বিপরীতে বাস্তবে সংরক্ষণ করা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ কোটি টাকা। ফলে প্রয়োজনীয় ও প্রকৃত প্রভিশনের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৩৫৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা। সম্ভাব্য ঋণক্ষতির যে পরিমাণ অর্থ ব্যাংকগুলোর আলাদা করে রাখার কথা, তার অর্ধেকের কিছু বেশি সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে। এই ঘাটতি পূরণ করতে হলে ব্যাংকগুলোর মুনাফার বড় অংশ ভবিষ্যৎ লোকসানের বিপরীতে আটকে রাখতে হবে। দুর্বল আয়, কম মূলধন ও বেশি খেলাপি ঋণের ব্যাংকগুলোর জন্য তা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

বড় ঘাটতিতে বেসরকারি ব্যাংক
প্রভিশন ঘাটতির সবচেয়ে বড় অংশ কেন্দ্রীভূত রয়েছে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে। এ খাতের ব্যাংকগুলোর প্রয়োজনীয় প্রভিশনের পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ ৬৫ হাজার ২০৪ কোটি টাকা। বিপরীতে প্রকৃত প্রভিশন সংরক্ষণ হয়েছে প্রায় ২ লাখ ১৬ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকা। ফলে বেসরকারি ব্যাংক খাতে প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার ৩৪৯ কোটি টাকা। মার্চে এই ঘাটতি ছিল ১ লাখ ৩১ হাজার ৩১০ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসে ঘাটতি বেড়েছে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা। এটি মোট প্রভিশন ঘাটতির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। ফলে বেসরকারি ব্যাংক খাতেই বর্তমানে সবচেয়ে বড় আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যেসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেশি এবং আয় কম, তাদের জন্য এই ঘাটতি পূরণ করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকেও বড় চাপ
রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অবস্থাও স্বস্তিদায়ক নয়। ছয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মোট শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৫২ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকা। এর বিপরীতে প্রভিশন ঘাটতি প্রায় ৭৪ হাজার ৬৩৪ কোটি টাকা। মার্চ ২০২৬ শেষে এ ঘাটতি ছিল ৭৪ হাজার ৪৭১ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে খুব বেশি না বাড়লেও ঘাটতির পরিমাণ ইতোমধ্যে বিপুল।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ক্ষেত্রে সমস্যাটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এসব ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণে শেষ পর্যন্ত সরকারি সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ব্যাংক খাতের দুর্বলতার বোঝা সরাসরি রাষ্ট্রীয় অর্থব্যবস্থা ও জনগণের অর্থের ওপর পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

প্রকৃত ঝুঁকি আড়াল
একটি ব্যাংক যখন ঋণ দেয়, তখন সেটি ধরে নেয় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ওই অর্থ ফেরত আসবে। কিন্তু কোনো ঋণ আদায় হওয়ার সম্ভাবনা কমে গেলে ব্যাংককে সম্ভাব্য ক্ষতির বিপরীতে প্রভিশন রাখতে হয়। ধরা যাক, কোনো ব্যাংকের ১০০ কোটি টাকার ঋণের বড় অংশ আদায় হওয়ার সম্ভাবনা কমে গেছে। ভবিষ্যতে ওই অর্থ ফেরত না এলে ব্যাংক যেন হঠাৎ বড় লোকসানে না পড়ে, সে জন্য আগেই অর্থ সংরক্ষণ করতে হয়।

প্রয়োজনীয় প্রভিশন না থাকলে ব্যাংকের হিসাবের খাতায় মুনাফা তুলনামূলক বেশি দেখা যেতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য লোকসানও জমতে থাকে। ফলে প্রভিশন ঘাটতি মূলত ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতার ওপর একটি ‘স্থগিত চাপ’ তৈরি করে।

ছাড়ের নীতি সমস্যা আরও বাড়াচ্ছে
বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন মনে করেন, মূলধন ঘাটতির বড় কারণ খেলাপি ঋণ। তবে প্রকাশিত ঘাটতিও প্রকৃত চিত্রের পুরোটা তুলে ধরে না বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, অনেক ব্যাংক দেন-দরবারের মাধ্যমে মূলধন ঘাটতি শিথিল করে। একইভাবে খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের নানা নীতিগত ছাড় দেওয়া হচ্ছে।ব্যাংকগুলোও ঋণগ্রহীতার তথ্য যথাযথভাবে যাচাই, তদারকি ও ঝুঁকি মূল্যায়নে প্রয়োজনীয় কঠোরতা দেখাচ্ছে না।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, এক দশকের বেশি সময় ধরে এ ধরনের শিথিলতার পথ অনুসরণ করা হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। বরং একসময় যে খেলাপি ঋণকে এক অঙ্কে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ছিল, তা এখন স্বীকৃত হিসাবেই মোট ঋণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশে পৌঁছেছে। স্বীকৃত নয় এমন সমস্যাগ্রস্ত ঋণ বিবেচনায় নিলে প্রকৃত পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

আমদানি-রপ্তানিতেও প্রভাব
ব্যাংক খাতের দুর্বলতা শেষ পর্যন্ত দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থা কমে গেলে আমদানি-রপ্তানি লেনদেনে ঝুঁকি ও ব্যয় দুটিই বাড়তে পারে। ড. জাহিদ হোসেনের মতে, এমন পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্যে অনাস্থা তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশের রিস্ক প্রিমিয়াম এমনিতেই বিশ্বের মধ্যে উচ্চ—ব্যাংক খাতের দুর্বলতা আরও প্রকট হলে সেই ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংস্কার না হলে ছড়িয়ে পড়বে ঝুঁকি
ব্যাংক খাতের বর্তমান চিত্রের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো—সমস্যাটি শুধু খেলাপি ঋণের পরিমাণে সীমাবদ্ধ নেই। ৬ লাখ কোটি টাকার বেশি শ্রেণিকৃত ঋণের বিপরীতে ২ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকার বেশি প্রভিশন ঘাটতি বলছে, সম্ভাব্য ক্ষতির একটি বড় অংশ এখনো ব্যাংকের হিসাবের বাইরে চাপ হিসেবে জমে আছে। এই ঘাটতি পূরণে ব্যাংকগুলোর মুনাফা কমে যেতে পারে, মূলধন আরও দুর্বল হতে পারে এবং নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা সংকুচিত হতে পারে। তার প্রভাব পড়তে পারে বেসরকারি বিনিয়োগ, শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে।

কালের আলো/এম/এএইচ

দেশের ভবিষ্যতের জন্য যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
দেশের ভবিষ্যতের জন্য যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে টেকসই করতে ভালো ও সৎ মানুষের রাজনীতিতে আসা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান।

তিনি বলেন, ভালো রাজনীতিবিদ তৈরি করতে না পারলে দেশের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে যত স্বপ্নই দেখা হোক, তা টেকসই হবে না। মানসম্মত উন্নয়নের জন্য যোগ্য ও সৎ নেতৃত্ব প্রয়োজন।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সংসদ ভবনের এলডি হলে বরিশাল ডিভিশনাল জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিডিজেএ) আয়োজিত ‘আগামীর বরিশাল বিভাগ: সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।

আন্দালিভ রহমান বলেন, ‘কোয়ালিটি ডেভেলপমেন্ট’ নিশ্চিত করতে হলে ভালো মানুষকে নেতৃত্বে আনতে হবে। গত ১৭ বছরে দেশে নেতৃত্বের বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। ভালো ও মেধাবী তরুণরা রাজনীতি থেকে দূরে সরে গেছে এবং রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষের মধ্যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে। এমনকি অনেক রাজনীতিবিদের সন্তানও রাজনীতিতে আসতে আগ্রহী নয়।

তিনি বলেন, ভালো উপাদান থাকলেও দক্ষ বাবুর্চি ছাড়া যেমন ভালো খাবার তৈরি করা যায় না, তেমনি ভালো মানুষ নেতৃত্বে না এলে উন্নয়ন ও অগ্রগতির সুফল টেকসই করা সম্ভব নয়।

বরিশালের ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ফুটবল, রাজনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বরিশাল ও এ অঞ্চলের মানুষ দেশের নেতৃত্ব দিয়েছে। পাকিস্তান আমল থেকে স্বাধীনতার পর পর্যন্ত এ অঞ্চল থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা উঠে এসেছেন।

তিনি বলেন, বরিশালকে সত্যিকার অর্থে স্বপ্নের নগরী ও স্বপ্নের শহরে পরিণত করতে হলে আগামী দিনে ভালো রাজনীতিবিদ তৈরি করতে হবে। এজন্য বরিশালসহ আশপাশের নির্বাচনি এলাকা ও জেলাগুলো থেকে মেধাবী তরুণ-তরুণীদের রাজনীতিতে আসতে উৎসাহিত করতে হবে এবং অনুকূল রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, অবকাঠামো উন্নয়ন, গ্যাস সরবরাহ ও শিল্পায়ন উন্নয়নের অংশ হলেও দেশের এখন প্রয়োজন মানসম্মত ও টেকসই উন্নয়ন। আর এ জন্য যোগ্য ও সৎ নেতৃত্ব অপরিহার্য।

তিনি বলেন, যারা বর্তমানে রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছেন, তাদের দায়িত্ব হলো পরবর্তী প্রজন্মের যোগ্য ও মেধাবীদের রাজনীতিতে আসার পথ তৈরি করা। তরুণদের রাজনীতিতে উৎসাহিত করার পাশাপাশি তাদের জন্য পরিবেশ সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ করতে হবে।

আন্দালিভ রহমান বলেন, আমরা হয়তো অনেক কিছু তৈরি করে যেতে পারব, কিন্তু ভালো নেতৃত্ব তৈরি করতে না পারলে সেগুলো ধরে রাখা সম্ভব হবে না। তাই ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

বরিশাল থেকে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকসহ অনেক বড় নেতা উঠে এসেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও এ অঞ্চল থেকে যোগ্য ও ভালো নেতৃত্ব সামনে আসতে হবে। দেশের মেধাবী ও শিক্ষিত তরুণদের কেউ চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী বা সফটওয়্যার প্রকৌশলী হওয়ার পাশাপাশি রাজনীতিতে এসে দেশ পরিবর্তনের প্রত্যয় ব্যক্ত করলে সেটিই হবে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি