খুঁজুন
                               
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৪ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

দেশের জলসীমার সুরক্ষায় নতুন মাত্রা যোগ করলো ‘বানৌজা বিশখালী’, সক্ষমতার ‘মাইলফলক’ হিসেবেই দেখছেন নৌবাহিনী প্রধান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৪, ১০:০১ অপরাহ্ণ
দেশের জলসীমার সুরক্ষায় নতুন মাত্রা যোগ করলো ‘বানৌজা বিশখালী’, সক্ষমতার ‘মাইলফলক’ হিসেবেই দেখছেন নৌবাহিনী প্রধান

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

লম্বা এক সাইরেন। বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে নিজের আগমনী বার্তার জানান দিলো ‘বানৌজা বিশখালী’ নামে নতুন একটি যুদ্ধজাহাজ। আনুষ্ঠানিকভাবে বাজলো ঘণ্টা, উড়লো বেলুন। নৌবাহিনীর নৌবহরে যুক্ত এই জাহাজটি তৈরি হয়েছে দেশীয় প্রযুক্তিতে। শনিবার (৩০ নভেম্বর) সকালে খুলনার নৌবাহিনীর তিতুমীর ঘাঁটির নেভাল বার্থে আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশনিং করা হয় এই যুদ্ধজাহাজের। বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান নামফলক উন্মোচনের পর জাহাজটির অধিনায়কের কাছে কমিশনিং ফরমান তুলে দেন। এর মধ্যে দিয়ে দেশের জলসীমা সুরক্ষায় যুক্ত হলো নতুন মাত্রা। দেশের সমুদ্রসীমার নিরাপত্তার স্বার্থে বানানো যুদ্ধজাহাজটির মাধ্যমে আধুনিক, শক্তিশালী ও সক্ষম নৌবাহিনী এগিয়ে গেলো আরও এক ধাপ। নৌবাহিনীর অগ্রযাত্রায় সূচিত হলো নতুন এক অধ্যায়ের। দেশের জন্য গৌরবময় এই কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পেরে গর্বিত সংশ্লিষ্ট শ্রমিক-কর্মচারীরাও।

খুলনা শিপইয়ার্ডে দেশীয় প্রযুক্তিতে জাহাজ নির্মাণের মাধ্যমে এই খাতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হয়েছে। নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্মিত জাহাজ ‘বানৌজা বিশখালী’কে নৌবাহিনীর সক্ষমতার আরও একটি ‘মাইলফলক’ হিসেবেই দেখছেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। তিনি মনে করেন, নৌবহরে সক্ষমতা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী আজ এক সুদক্ষ বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।

আধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন ‘বানৌজা বিশখালী’তে রয়েছে একটি ৪০ মিলিমিটার বাফার গান, দুইটি ১২ দশমিক ৭ মিলিমিটার হেভি মেশিন গান, মাইন লেইং রেল, অত্যাধুনিক সারভাইলেন্স র‌্যাডার, জিপিএস, ইকো-সাউন্ডার সিস্টেমসহ বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধ সরঞ্জাম। বিশখালী নদীর নামে নির্মিত জাহাজটি ১৯৭৮ সালে নৌবাহিনীতে কমিশনিং করা হয়। এরপর থেকে সকল অপারেশনাল কর্মকাণ্ডে সফলতার সঙ্গে অংশগ্রহণ করেছে। দীর্ঘ ৩৬ বছর দেশের জলসীমার সুরক্ষায় নিয়োজিত থাকার পর জাহাজটি ২০১৪ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনী থেকে ডি-কমিশন করা হয়। পরবর্তীতে খুলনা শিপইয়ার্ডে ২০১৯ সালের ২ ডিসেম্বর নতুন করে জাহাজটি নির্মাণের লক্ষ্যে কিল লেয়িং করা হয়।

৪১তম পেট্রোল ক্রাফট স্কোয়াড্রন এর পঞ্চম জাহাজ ‘বানৌজা বিশখালী’ নির্মাণ শেষে ২০২৩ সালের ২২ নভেম্বর নৌবাহিনীর নিকট হস্তান্তর করা হয়। বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে নব সংযোজিত জাহাজটির দৈর্ঘ্য ৫১ দশমিক ৬ মিটার এবং প্রস্থ ৭ দশমিক ৫ মিটার। জাহাজটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২১ নটিক্যাল মাইল বেগে চলতে সক্ষম বলে জানিয়েছে আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। এর আগে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান খুলনার নৌবাহিনীর তিতুমীর ঘাঁটির নেভাল বার্থে এসে পৌঁছলে খুলনা নৌ অঞ্চলের কমান্ডার রিয়ার এডমিরাল গোলাম সাদেক তাঁকে স্বাগত জানান। এ সময় নৌবাহিনীর একটি চৌকস দল নৌবাহিনী প্রধানকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন।

  • নৌবাহিনীর অগ্রযাত্রায় সূচিত নতুন এক অধ্যায়ের
  • আধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন ‘বানৌজা বিশখালী’তে রয়েছে একটি ৪০ মিলিমিটার বাফার গান, দুইটি ১২ দশমিক ৭ মিলিমিটার হেভি মেশিন গানসহ বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধ সরঞ্জাম
  • জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় নৌবাহিনী সর্বদা নিয়োজিত

জানা যায়, ২০১৭ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নৌবহরে প্রথমবারের মতো যুক্ত হয় দেশের তৈরি দুটি সর্ববৃহৎ যুদ্ধজাহাজ। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো নৌবহরে যুক্ত হয়েছে দুটি সাবমেরিন টাগ (সাবমেরিনকে সহায়তাকারী জাহাজ)। ‘দুর্গম’ ও ‘নিশান’ নামের জাহাজ দুটি এবং ‘হালদা’ ও ‘পশুর’ নামের টাগ দুটি তৈরি করে খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড। প্রায় ৬৭ বছর আগে যাত্রা শুরু করা এই শিপইয়ার্ড আশির দশকের দিকে লোকসানের মুখে পড়ে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। এরপর ১৯৯৯ সালে সরকার বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে মৃতপ্রায় ওই প্রতিষ্ঠানটি হস্তান্তর করেন। এরপর থেকেই ধারাবাহিকভাবে ইয়ার্ডটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। তাঁরাই প্রথম নৌবাহিনীর জন্য প্রথম যুদ্ধ জাহাজ তৈরির সফলতা দেখিয়েছে, বিশ্বকে জানান দেয় ‘আমরা পারি’।

জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় নৌবাহিনী সর্বদা নিয়োজিত
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, ‘লক্ষ শহীদের প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের প্রাণপ্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সর্বোপরি ভূরাজনৈতিক প্রয়োজনে একটি শক্তিশালী নৌবাহিনীর ভূমিকা অপরিসীম। সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে দেশে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। জাতির এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমাদের সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে হবে। অসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় চলমান অপারেশনে এবং সাম্প্রতিক বন্যায় এবং বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় আপনারা যেভাবে দেশের জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন তা অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও গৌরবের। এছাড়া দেশের বিস্তৃত সমুদ্র এলাকায় সার্বভৌমত্ব ও সমুদ্র সম্পদের সুরক্ষা ও জাতীয় মাছ ইলিশসহ মৎস্য সম্পদের সুরক্ষা, বাণিজ্যিক জাহাজ, সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের নিরাপত্তা বিধানসহ জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় নৌবাহিনী সর্বদা নিয়োজিত রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রতিটি সদস্য তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে সততা, নিষ্ঠা, বিশ্বস্ততা ও উদ্ভাবনী মনোভাব নিয়ে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে নৌবাহিনীকে আরও অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। দেশের প্রয়োজনে এবং জনগণের স্বার্থে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর গর্বিত সদস্য হিসেবে নৌবাহিনীর সদস্যগণ সেনা ও বিমানবাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বর্তমানে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও যতদিন প্রয়োজন এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

নৌ সদস্যদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও আত্মত্যাগে আধুনিক নৌবাহিনী
দীর্ঘ ৫৩ বছরে নৌ সদস্যদের অক্লান্ত পরিশ্রম, আত্মত্যাগ ও ভালোবাসার বিনিময়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনী একটি আধুনিক নৌবাহিনীতে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন নৌবাহিনী প্রধান। তিনি বলেন, ‘নৌবাহিনীতে সংযোজিত হয়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ফ্রিগেট, কর্ভেট, লার্জ পেট্রোল ক্রাফট, মিডিয়াম পেট্রোল ক্রাফট এবং অন্যান্য যুদ্ধ জাহাজ। এছাড়া নৌবহরে হেলিকপ্টার, টহল বিমান ও সাবমেরিন সংযোজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ত্রিমাত্রিক সক্ষমতা অর্জন করেছে। এর পাশাপাশি গড়ে তোলা হয়েছে স্পেশাল ফোর্স সোয়াডস। সমুদ্রে নজরদারি বৃদ্ধি ও টহল জোরদারকরণের লক্ষ্যে হেলিকপ্টার এবং ড্রোনসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জামাদি ক্রয় ও নির্মাণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে সাবমেরিন অপারেশন ও প্রশিক্ষণের জন্য আধুনিক সুবিধা সম্বলিত সাবমেরিন ঘাঁটি স্থাপিত হয়েছে। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনী আন্তর্জাতিক পরিসীমায় দেশের সুনাম সমুজ্জ্বল করে চলেছে। বিশেষ করে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ কুয়েত এবং কাতারে বিভিন্ন দায়িত্বে থাকা নৌবাহিনীর সদস্যগণ পেশাগত দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততার মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে সুখ্যাতি অর্জন করে চলেছে। আমাদের যুদ্ধ জাহাজ ভূমধ্যসাগরে মাল্টি ন্যাশনাল মেরিটাইম টাস্কফোর্স এর অধীনে নিয়োজিত থেকে সারা বিশে^ বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। নৌবাহিনীতে যুক্ত হতে যাচ্ছে খুলনা শিপইয়ার্ডে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি আরও একটি যুদ্ধজাহাজ ‘বানৌজা বিশখালী’। আমার দৃঢ় বিশ্বাস ‘বানৌজা বিশখালী’ নৌবাহিনীর অন্যান্য যুদ্ধ জাহাজের ন্যায় এদেশের নদী ও সমুদ্রসীমায় চোরাচালান প্রতিরোধ, উপকূলীয় এলাকায় টহল প্রদান, অবৈধ মৎস্য আহরণ প্রতিরোধ, বাণিজ্যিক জাহাজকে জলদস্যুর কবল থেকে নিরাপত্তা প্রদানসহ সকল অপারেশনাল কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত থেকে দেশ সেবায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।’

  • নৌ সদস্যদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও আত্মত্যাগে আধুনিক নৌবাহিনী
  • সুনীল অর্থনীতির বিশাল কর্মযজ্ঞে নিরাপত্তা প্রদান ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখবে নৌবাহিনী  

সুনীল অর্থনীতির বিশাল কর্মযজ্ঞে নিরাপত্তা প্রদান ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখবে নৌবাহিনী
প্রায় এক যুগ আগে খুলনা শিপইয়ার্ডে যুদ্ধ জাহাজ নির্মাণ কাজ শুরু হয়। আমি নিশ্চিত আমাদের নিজস্ব শিপইয়ার্ডে যুদ্ধ জাহাজ নির্মাণে একদিকে যেমন অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা ও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়সহ বাংলাদেশ নৌবাহিনী বায়ার নেভি থেকে বিল্ডার্স নেভিতে ধীরে ধীরে রূপান্তরিত হচ্ছে’- বলেন নৌবাহিনী প্রধান। এডমিরাল এম নাজমুল হাসান আরও বলেন, ‘বছরজুড়ে সারা দেশে নদীপথে ও সমুদ্রে সংঘটিত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় জানমালের সুরক্ষায় নৌবাহিনীর ডাইভিং ও স্যালভেজ টিমের সদস্যগণ তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। সমুদ্র ও নদীপথে অগ্নিনির্বাপণেও নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের সদস্যরা সদা তৎপর এবং অগ্রণী ভূমিকা পালন করে চলেছেন।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা সকলেই জানেন আমাদের বিশাল সমুদ্র ও উপকূলবর্তী এলাকায় ব্লু ইকোনমির কর্মকাণ্ড বর্তমানে চলমান রয়েছে। এই ব্লু ইকোনমি আমাদের দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে চলেছে। ব্লু ইকোনমি বিষয়ক সকল কর্মকাণ্ডের নিরাপত্তা প্রদানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনী আমাদের সমুদ্রসীমায় সার্বক্ষণিক টহল জারি রেখেছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম, মংলা ও পায়রা বন্দর এবং নবনির্মিত মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ নৌবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, যা এই বাহিনী সফলতার সঙ্গে পালন করে চলেছে। সুনীল অর্থনীতির এসব বিশাল কর্মযজ্ঞে নিরাপত্তা প্রদানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী তাঁর চলমান কার্যক্রম এবং ভূমিকা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখবে।’

কালের আলো/এমএএএমকে

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎ শুরু শুক্রবার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:১০ অপরাহ্ণ
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎ শুরু শুক্রবার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার আগামীকাল শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ তথ্য জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রিজভী বলেন, শুক্রবার পাঁচটি বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। পরদিন শনিবারও দলীয় ফরম গ্রহণকারীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, শুক্রবার রংপুর, রাজশাহী, বরিশাল, ফরিদপুর ও খুলনা বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। শনিবার চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার বিকেল তিনটায় অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি আরও জানান, সাক্ষাৎকার কার্যক্রমে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সভাপতিত্ব করবেন। মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় অতীতে নির্যাতনের শিকার, মিথ্যা মামলার আসামি এবং রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় নারী নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষাগত যোগ্যতা ও যোগাযোগ দক্ষতাও বিবেচনায় রাখা হবে।

দলীয় সূত্র জানায়, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মোট ১ হাজার ২৫টি ফরম বিক্রি হয়েছে। প্রতিটি ফরমের মূল্য ছিল ২ হাজার টাকা। ফরম জমা দেওয়ার সময় প্রত্যেক প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা জামানত দিতে হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল। যাচাই-বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। আপিল গ্রহণ করা হবে ২৬ এপ্রিল এবং নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল এবং ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে।

জাতীয় সংসদের ৩৫০টি আসনের মধ্যে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন রয়েছে ৫০টি। দলীয় বণ্টন অনুযায়ী বিএনপি জোটের জন্য ৩৬টি, জামায়াতে ইসলামীসহ তাদের জোটের জন্য ১৩টি এবং স্বতন্ত্রদের জন্য একটি আসন নির্ধারিত রয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন সেনাপ্রধান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ণ
আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন সেনাপ্রধান

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। গতকাল বুধবার (১৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় নির্মিতব্য এই স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এমপি-এর ‘সবার জন্য ক্রীড়া’ এই অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুদূরপ্রসারী বিশেষ পরিকল্পনাকে সামনে রেখে দেশের ক্রীড়া উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখার লক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় একটি আধুনিক ও সমন্বিত ক্রীড়া অবকাঠামো হিসেবে আর্মি স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

এই কমপ্লেক্সে আন্তর্জাতিক মানের দুটি ইনডোর স্টেডিয়াম, একটি স্পোর্টস একাডেমি এবং জিমনেসিয়ামসহ উন্নত স্পোর্টস সায়েন্স সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এতে ফিজিওলজি, বায়োমেকানিক্স, নিউট্রিশন ও স্পোর্টস মেডিসিন সংক্রান্ত বিশেষায়িত সেকশন স্থাপন করা হবে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের খেলোয়াড়গণ আধুনিক প্রশিক্ষণ ও গবেষণাভিত্তিক সুবিধা গ্রহণের সুযোগ পাবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে নির্মিতব্য এ ধরনের আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।

ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন জাতীয় দলের খেলোয়াড়বৃন্দ এবং অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এম/এএইচ

সরকারের সমালোচনা করে ঢাবি ছাত্রদল নেতার পদত্যাগ

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ণ
সরকারের সমালোচনা করে ঢাবি ছাত্রদল নেতার পদত্যাগ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সরকারের সমালোচনা করে পদত্যাগ করেছেন ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ শোভন।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) এক ফেসবুক পোস্টে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি।

সেখানে তিনি লিখেন, রাষ্ট্র আজ এক গভীর সংকটের ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে। সাম্যবাদী বিপ্লবের মহান আদর্শকে ধারণ করে ছাত্র–জনতা–সিপাহীর ঐক্যবদ্ধ শক্তিতে ২১ দিনের পাল্টাপাল্টি প্রতিরোধ যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত ৫ আগস্ট, তার চেতনা আজ উপেক্ষিত, তার অঙ্গীকার পদদলিত। ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থের অন্ধ প্রতিযোগিতা এবং বিশ্বাসঘাতকতার কালো ছায়ায় সহস্র শহীদের আত্মত্যাগ আজও ন্যায্য মর্যাদা পায়নি, এ জাতির জন্য এক গভীর লজ্জা ও বেদনার ইতিহাস।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, সেই দুর্দিনে আমরা মাথা নত করিনি। মহান আল্লাহর ওপর অটল ভরসা ও অদম্য সাহসে আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম বলেই জাতি রক্ষা পেয়েছিল ধ্বংসের দ্বারপ্রান্ত থেকে। নতুবা প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ পরিণত হতো এক রক্তাক্ত বিপর্যয়ের প্রান্তরে। অথচ আজও একটি আধুনিক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের স্বপ্ন অপূর্ণ রয়ে গেছে, এ এক নির্মম বাস্তবতা।

তিনি আরও লিখেন, চলমান জাতীয় দুর্যোগের প্রেক্ষাপট মোকাবিলায় সম্পূর্ণভাবে কপটতার আশ্রয় নেওয়া দুর্বল সরকার ও দলের (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছি। আমার এক দশকের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ কোনো প্রাপ্তির প্রত্যাশায় ছিল না; বরং তা ছিল আল্লাহর সন্তষ্টি অর্জন ও গণমানুষের আত্মমর্যাদা রক্ষার লড়াই অতপর; নিপীড়িত দেশমাতা মরহুমা বেগম জিয়ার প্রতি নৈতিক দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু বর্তমানে দলটির নীতি ও কার্যক্রমের সঙ্গে একজন আদর্শনিষ্ঠ মানুষ হিসেবে আমার পথচলা আর সম্ভব নয়।

ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, স্মরণ রাখা আবশ্যক—রাষ্ট্রই সর্বোচ্চ, দল তার একটি উপাদান মাত্র। রাষ্ট্রের স্বার্থ, ন্যায় ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস চলতে পারে না, হবেও না। অতএব, জাতির স্বাধীনতা, মর্যাদা ও ন্যায়ের প্রশ্নে যদি পুনরায় সংগ্রাম অনিবার্য হয়, তবে দেশমাতৃকার সম্মান রক্ষায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে আমরা প্রস্তুত থাকবো। অন্যায়ের সামনে নতজানু নয়, প্রয়োজনে শাহাদাতই হবে আমাদের চূড়ান্ত অঙ্গীকার। বাংলাদেশ চিরজীবী হউক।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ