খুঁজুন
                               
, ,
           

আকাশে রঙিন আভা ছড়িয়ে নতুন অফিসারদের অভিবাদন, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পূর্ণাঙ্গ হচ্ছে বিমান বাহিনীর কক্সবাজার ঘাঁটি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৪, ১১:২৩ অপরাহ্ণ
আকাশে রঙিন আভা ছড়িয়ে নতুন অফিসারদের অভিবাদন, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পূর্ণাঙ্গ হচ্ছে বিমান বাহিনীর কক্সবাজার ঘাঁটি

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

শীতের সকালে কুয়াশা ভেদ করে যশোরে বিমান বাহিনী একাডেমি প্যারেড গ্রাউন্ডের আকাশে নানা বিমানের ওড়াউড়ি। লাল-সবুজের রঙিন আভা ছড়িয়ে চলেছে বৈমানিকদের প্রদর্শনী। মুক্ত আকাশ থেকে অভিবাদন জানানো হচ্ছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর নতুন অফিসারদের। দীর্ঘ তিন বছরের কঠোর প্রশিক্ষণের পর বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ৮৫তম বাফা কোর্স এবং শীতকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজের মাধ্যমে ১২ জন মহিলা অফিসার ক্যাডেটসহ মোট ৭৪ জন অফিসার যুক্ত হয়েছেন বাহিনীটিতে। বিমান বাহিনী একাডেমির বিভিন্ন ধরনের বিমানের সমন্বয়ে মনোজ্ঞ ফ্লাইপাস্ট, আকর্ষণীয় এ্যারোবেটিক ডিসপ্লে কিংবা বিমান বাহিনীর চৌকস প্যারাট্রুপারদের হেলিকপ্টার থেকে দৃষ্টিনন্দন প্যারা জাম্পিং-কী ছিল না সেখানে? দৃষ্টি জুড়িয়ে যায় এসব কিছুই অবলোকনে।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রথমে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। তিনি গ্র্যাজুয়েটিং অফিসারদের মাঝে পদক এবং ফ্লাইং ব্যাজও বিতরণ করেন। শুরুতে বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করেন নতুন ক্যাডেট কমিশনপ্রাপ্তরা। এ সময় জাতীয় কবি নজরুলের বিদ্রোহী কবিতায় তাদেরকে আগামী দিনের জন্য প্রস্তুত হওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়। যেখানে দেশের প্রয়োজনে জল, স্থল ও আকাশ পথে যেকোন প্রয়োজনে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রতিজ্ঞা করেন তাঁরা। বিমান বাহিনী প্রধান মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই বিপ্লবে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নবীনদের আকাশসীমা রক্ষায় সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালনের তাগিদ দেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় মাত্র তিনটি বিমান নিয়ে যাত্রা শুরু করা বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বহরে এখন রয়েছে চতুর্থ প্রজন্মের আকাশ যান। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে এখনও প্রয়োজন আরও একাধিক উন্নতমানের যুদ্ধ বিমান ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম। এদিন প্রধান অতিথির বক্তব্যে এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সুসংবাদ দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন বিমান বাহিনীতে মাল্টিরোল কম্ব্যাট এয়ারক্রাফট ও অ্যাটাক হেলিকপ্টারসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি দ্রুত অন্তর্ভূক্তির জন্য নিজেদের জোরদার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকার কথা। বলেছেন, ‘বাংলাদেশ বাহিনী ঘাঁটি কক্সবাজারকে একটি পূর্ণাঙ্গ ঘাঁটিতে উন্নীত করার কাজ চলমান রয়েছে এবং অচিরেই সফলভাবে সম্পন্ন হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, অফিসার ক্যাডেট জান্নাতুল ফেরদৌস মোহনা ৮৫তম বাফা কোর্সের প্রশিক্ষণে সার্বিক কৃতিত্বের জন্য ‘সোর্ড অব অনার’, অফিসার ক্যাডেট মোঃ রহমত উল্লাহ শিশির উড্ডয়ন প্রশিক্ষণে সেরা কৃতিত্বের জন্য ‘বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ট্রফি’ ও অফিসার ক্যাডেট মোঃ ফাহিম মোর্শেদ রাতুল জেনারেল সার্ভিস প্রশিক্ষণে কৃতিত্বের জন্য ‘কমান্ড্যান্টস্ ট্রফি’ লাভ করেন। এছাড়াও ৮৫তম বাফা কোর্সে (গ্রাউন্ড ব্রাঞ্চ) সেরা কৃতিত্বের জন্য অফিসার ক্যাডেট মোঃ ফাহিম মোর্শেদ রাতুল ‘বিমান বাহিনী প্রধানের ট্রফি’ প্রাপ্তির গৌরব অর্জন করেন। এই শীতকালীন সেমিস্টারে বীর উত্তম বদরুল আলম স্কোয়াড্রন চ্যাম্পিয়ন বিবেচিত হয়ে একাডেমি পতাকা লাভ করেছেন। বর্ণিল এই কুচকাওয়াজ এর মাধ্যমে ১২ জন মহিলা অফিসার ক্যাডেটসহ মোট ৭৪ জন অফিসার ক্যাডেট কমিশন লাভ করেন। অফিসার ক্যাডেট একাডেমি সিনিয়র আন্ডার অফিসার আসিফ মাহমুদ আনুষ্ঠানিক কুচকাওয়াজের নেতৃত্ব প্রদান করেন।

  • বিনম্র চিত্তে জাতির সূর্য সন্তান শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ
  • কিলো ফ্লাইটের দু:সাহসিক সদস্যদের অটল মনোবল স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথকে করেছিল সুগম
  • বিমান বাহিনীতে সংযোজিত হয়েছে চতুর্থ প্রজন্মের আধুনিক যুদ্ধ বিমান

বিনম্র চিত্তে জাতির সূর্য সন্তান শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ৮৫তম বাফা কোর্স এবং শীতকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যের শুরুতেই বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন বলেন, ‘বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমির ঐতিহ্যবাহী ও গৌরবময় শীতকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে আপনাদের মাঝে উপস্থিত হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আজ এই একাডেমি থেকে যেসব অফিসার ক্যাডেট কমিশন লাভ করতে যাচ্ছে তাদের সকলের প্রতি আমার আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভ কামনা।’

তিনি বক্তব্যের শুরুতেই বিনম্র চিত্তে স্মরণ করেন জাতির সূর্য সন্তান শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের, যারা দেশমাতৃকার জন্য অকাতরে প্রাণ উৎসর্গ করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের দিয়ে গেছেন একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ ও লাল-সবুজের পতাকা। আমি আরও স্মরণ করছি কিলো ফ্লাইটের অকুতোভয় সদস্যদের, যাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী। আমি বিশেষভাবে স্মরণ করছি, গত জুলাই-আগস্ট মাসে বৈষম্য দূরীকরণ ও সর্বস্তরে সাম্য ফিরিয়ে আনতে প্রাণ হারানো সকল শহীদ ছাত্র ও অন্যান্য সাধারণ ব্যক্তিবর্গকে। আমি আন্দোলনে নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং একই সঙ্গে আহত সকলের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।’

কিলো ফ্লাইটের দু:সাহসিক সদস্যদের অটল মনোবল স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথকে করেছিল সুগম
বিমান বাহিনী প্রধান ফিরে যান প্রায় ৫৩ বছর আগের ইতিহাসে। ইতিহাস-ঐতিহ্যের গৌরবগাঁথা নিজের কণ্ঠে তুলে এনে বলেন, ‘১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ২৮ সেপ্টেম্বর মাত্র তিনটি পুরনো বিমান নিয়ে কিলো ফ্লাইট নামে গঠিত হয়েছিল বাংলাদেশ বিমান বাহিনী। কিলো ফ্লাইটের দু:সাহসিক সদস্যদের অটল মনোবল, দৃপ্ত প্রত্যয় ও সফল বিমান অভিযান স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথকে করেছিল সুগম ও প্রশস্ত। নবগঠিত বিমান বাহিনী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত হানাদার বাহিনীর ওপর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে ৫০টি সফল আক্রমণ পরিচালনা করতে সক্ষম হয়, যা আমাদের চূড়ান্ত বিজয়কে করেছিল ত্বরান্বিত। শুধুমাত্র দেশমাতৃকার টানে এবং অকৃত্রিম দেশপ্রেমে বলীয়ান হয়ে তৎকালীন বিমান বাহিনীর সদস্যরা তিনটি বেসামরিক বিমানকে বিভিন্ন ধরনের সংযোজন ও পরিবর্তন সাধনের মাধ্যমে যুদ্ধ বিমানে রূপান্তর করতে সক্ষম হয়েছিল। আকাশ যুদ্ধ পরিচালনার পাশাপাশি বিমান বাহিনীর সদস্যরা মুক্তিযুদ্ধে সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্বপালনসহ স্থলযুদ্ধেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।’

বিমান বাহিনীতে সংযোজিত হয়েছে চতুর্থ প্রজন্মের আধুনিক যুদ্ধ বিমান
মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে ক্ষুদ্র পরিসরে গড়ে ওঠা বাংলাদেশ বিমান বাহিনী আজ একটি সুসংগঠিত ও পেশাদার বাহিনীরূপে আত্মপ্রকাশ করেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যেই বিমান বাহিনীতে সংযোজিত হয়েছে চতুর্থ প্রজন্মের আধুনিক যুদ্ধ বিমান, সুপরিসর পরিবহন বিমান, আধুনিক হেলিকপ্টার, আনম্যান্ড এয়ার ভেহিকেল, বিভিন্ন ধরনের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা র‌্যাডার, ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ও অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম। বৈমানিকদের প্রশিক্ষণে উৎকর্ষ আনয়নের লক্ষ্যে সংযোজন করা হয়েছে আধুনিক কমব্যাট ট্রেইনার, জেট ট্রেইনার, হেলিকপ্টার ট্রেইনার, বেসিক ট্রেইনার, হেলিকপ্টার ট্রেইনারসহ বিভিন্ন ধরনের সিমুলেটর। বিমান বাহিনীকে একটি স্বনির্ভরশীল ও উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন বাহিনীতে রূপান্তরিত করতে আমরা রক্ষণাবেক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকে আমরা গুরুত্বারোপ করছি। বিভিন্ন বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ ও যন্ত্রাংশ তৈরির অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে নতুন নতুন রক্ষণাবেক্ষণ ও ওভারহোলিং ইউনিট।

  • কক্সবাজারকে একটি পূর্ণাঙ্গ ঘাঁটিতে উন্নীত করার কাজ চলমান
  • দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমির নাম আন্তর্জাতিক মহলে পরিচিতি
  • দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাই হবে জীবনের প্রধান ব্রত

ইতোমধ্যেই বিমান বাহিনীর নিজস্ব জনবল, কারিগরি দক্ষতা ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে বেসিক ট্রেইনার বিমান তৈরি করতেও সক্ষম হয়েছে। বর্তমান বিশ্বে এবং একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিমান বাহিনী তথা এয়ার পাওয়ার অপরিহার্য। তাই ‘বাংলার আকাশ রাখিবো মুক্ত’ এই মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী দেশের আকাশসীমার ওপর আগত যেকোন হুমকি বা আক্রমণ মোকাবিলা করতে পরিপূর্ণ সক্ষমতা নিয়ে সর্বদা প্রস্তুত আছে। আমরা চেষ্টা করছি আমাদের অপারেশনাল সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করে মানব সম্পদ উন্নয়ন ও সর্বক্ষেত্রে স্বনির্ভরশীলতা অর্জনের মাধ্যমে বিমান বাহিনীকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে। এরই ধারাবাহিকতায় বিমান বাহিনীতে মাল্টিরোল কম্ব্যাট এয়ারক্রাফট ও অ্যাটাক হেলিকপ্টারসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি দ্রুত অন্তর্ভূক্তির জন্য আমাদের জোরদার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

কক্সবাজারকে একটি পূর্ণাঙ্গ ঘাঁটিতে উন্নীত করার কাজ চলমান
সুখবর জানিয়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশ বাহিনী ঘাঁটি কক্সবাজারকে একটি পূর্ণাঙ্গ ঘাঁটিতে উন্নীত করার কাজ চলমান রয়েছে এবং অচিরেই সফলভাবে সম্পন্ন হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এয়ার রেজিমেন্ট এবং ট্রেনিং এন্ড ডকট্রিন কমান্ডের প্রতিষ্ঠা কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে চলছে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী আকাশসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি দেশ গঠন ও আর্তমানবতার সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। আপনারা অবশ্যই লক্ষ্য করেছেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, অগ্নিনির্বাপণ, উদ্ধার অভিযান, ত্রাণ বিতরণসহ বিভিন্ন ধরনের মানবিক সহায়তামূলক কার্যক্রম পরিচালনায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদস্যরা অসাধারণ পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। গত আগস্টে দেশের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বন্যায় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী। দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিমান বাহিনীর সদস্যরা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরসমূহে নির্বিঘ্নে ফ্লাইট উঠা-নামাসহ নিরাপত্তার পরিবেশ ও সেবা কার্যক্রমের দৃশ্যপট পাল্টে দিয়েছে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদস্যরা ভবিষ্যতে দেশের যেকোন ক্রান্তিলগ্নে আরও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে সক্ষম বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। দেশের আকাশসীমা ছাড়িয়ে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদস্যরা অসাধারণ পেশাদারিত্ব ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। ফলশ্রুতিতে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের সুনাম ও ভাবমূর্তি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমির নাম আন্তর্জাতিক মহলে পরিচিতি
বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন বলেন, ‘দেশপ্রেমে উজ্জীবিত, যোগ্য ও দক্ষ কর্মকর্তা একটি পেশাদার বাহিনীর প্রাণস্বরূপ। বিমান বাহিনীর একজন কর্মকর্তা বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমি থেকে মৌলিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সূচনা করে তাঁর সামরিক জীবন। এখান থেকে তৈরি হয় বিমান বাহিনীর একেকজন দক্ষ কর্মকর্তা। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমির নাম আন্তর্জাতিক মহলে পরিচিতি লাভ করেছে। বন্ধুপ্রতীম বিভিন্ন দেশের অফিসার ক্যাডেটগণ এই একাডেমিতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে। ভবিষ্যতে এই একাডেমির নাম বিশ্ব দরবারে আরও ব্যপ্তি লাভ করবে বলে আমি মনে করি।’

দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাই হবে জীবনের প্রধান ব্রত
প্রিয় নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আজকের দিনটি তোমাদের জীবনে অত্যন্ত আনন্দের ও গৌরবের। আজ থেকে তোমাদের ওপর অর্পিত হচ্ছে দেশমাতৃকার মহান স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব। সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে হলেও দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাই হবে তোমাদের জীবনের প্রধান ব্রত। বিমান বাহিনীর একাডেমি থেকে তোমরা যে প্রশিক্ষণ তোমরা গ্রহণ করেছো তার যথাযথ অনুশীলন ও প্রয়োগের মাধ্যমে পেশাগত দক্ষতা অর্জনে তোমাদেরকে সদা সচেষ্ট হতে হবে। মনে রাখবে, সততা, একাগ্রতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে আকাশ প্রতিরক্ষার ভবিষ্যত কর্ণধার হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলাই হবে তোমাদের জীবনের সর্বোচ্চ সফলতা।

প্রযুক্তিনির্ভর আকাশ যুদ্ধ এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেদেরকে সর্বদা প্রস্তুত রাখতে হবে। এজন্য তোমাদেরকে বুদ্ধিবৃত্তিক, মানসিক ও শারীরিকভাবে যোগ্য হতে হবে এবং অবশ্যই উন্নত চরিত্রের অধিকারী হতে হবে। আত্মপ্রত্যয়, দৃঢ় মনোবল ও উন্নত পেশাদারিত্বের মাধ্যমে প্রতিটি কাজে উদ্যমী মনোভাব ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটাতে হবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি দেশ ও বিমান বাহিনীর উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং একটি সমৃদ্ধ বিমান বাহিনী বিনির্মাণে তোমাদের কর্ম ও পথচলা হবে সাহসী ও বলিষ্ঠ। উদীয়মান, সৎ ও তেজোদীপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে প্রিয় বিমান বাহিনীকে তোমরাই নিয়ে যাবে সফলতার স্বর্ণশিখরে। আজকের দিনে তোমাদের কাছে এটিই আমার প্রত্যাশা। এই আনন্দঘন মুহুর্তে আমি তোমাদের সকলের ভবিষ্যত কর্মজীবনের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ও অব্যাহত সাফল্য কামনা করছি।’

কালের আলো/এমএএএমকে

পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি-রাস্তা-ফসলি জমি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ
পদ্মার ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি-রাস্তা-ফসলি জমি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তঘেঁষা পদ্মা নদীর তীরবর্তী কয়েকটি এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রবল স্রোতে বসতবাড়ি, ফসলি জমি, চলাচলের রাস্তা ও বৈদ্যুতিক খুঁটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা।

উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের উদয়নগর, আতারপাড়া ও ডিগ্রীরচর এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে গত কয়েক দিন ধরে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়দের দাবি, গত দুই-তিন দিনে নদীর স্রোত অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ভাঙনের মাত্রাও দ্রুত বেড়েছে।

বাসিন্দারা জানান, প্রায় ১০ থেকে ১৫ দিন আগে পদ্মায় নতুন করে পানি প্রবেশের পর ভাঙন শুরু হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে স্রোতের চাপ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে বেশ কিছু বসতভিটা, কৃষিজমি, রাস্তা ও বৈদ্যুতিক খুঁটি নদীতে চলে গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আলাইপুর এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণের ফলে পদ্মার স্রোতের চাপ তাদের এলাকায় বেশি পড়ছে। এতে ভাঙনের তীব্রতা আরও বেড়েছে বলে দাবি তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল সরকার বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ভাঙন চলছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এর তীব্রতা অনেক বেড়েছে। নদীর স্রোত একের পর এক বসতভিটা, রাস্তা ও ফসলি জমি ভেঙে নিয়ে যাচ্ছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে কয়েক দিনের মধ্যেই আতারপাড়া, উদয়নগর ও ডিগ্রীরচর গ্রাম অস্তিত্ব হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।

চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, পদ্মায় নতুন করে পানি প্রবেশ করায় প্রবল স্রোতের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ওই তিন এলাকার বাড়িঘর, ফসলি জমি ও বৈদ্যুতিক খুঁটি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ জানান, ভাঙনকবলিত এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড, ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে। দুর্গম সীমান্তবর্তী চরাঞ্চল হওয়ায় সেখানে দ্রুত কাজ করা কিছুটা কঠিন।

তিনি বলেন, ভাঙনকবলিত মানুষের জন্য শুকনা খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পদ্মার ভাঙনে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে চলে যেতে পারে। এতে বহু পরিবার বসতভিটা ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন হারানোর আশঙ্কায় রয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫২ পূর্বাহ্ণ
খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন শুরু

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অধিবেশনের প্রথম প্লেনারি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের সমাপনী পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরে ৮১তম অধিবেশনের নবনির্বাচিত সভাপতি হিসেবে ড. খলিলুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন। আগামী এক বছর তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

শপথ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সংস্থাটির প্রতি আস্থার ঘাটতি রয়েছে। ভবিষ্যতের জন্য জাতিসংঘকে আরও কার্যকর ও উপযোগী করে তুলতে গভীর সংস্কার প্রয়োজন।

মঙ্গলবার প্রথম প্লেনারি সভা শুরু হলেও আগামী ২২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের ভাষণের মধ্য দিয়ে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক শুরু হবে। এতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

জ্বালানি বিলেই নাজেহাল মার্কিনিরা, ইরান যুদ্ধে বাড়তি খরচ ১০০ বিলিয়ন ডলার

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৭ পূর্বাহ্ণ
জ্বালানি বিলেই নাজেহাল মার্কিনিরা, ইরান যুদ্ধে বাড়তি খরচ ১০০ বিলিয়ন ডলার

ইরান যুদ্ধের ছয় মাসেই জ্বালানি কিনতে গিয়ে মার্কিন ভোক্তাদের পকেট থেকে বেরিয়ে গেছে অতিরিক্ত প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বেড়ে সাধারণ পরিবারের বাজেটে তৈরি হয়েছে বড় চাপ। দেশটির প্রায় ১৩ কোটি ১০ লাখ পরিবারের হিসাবে গড়ে প্রতিটি পরিবারের বাড়তি জ্বালানি ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৬৩ ডলার।

ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ওয়াটসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের তথ্যের বরাতে এই হিসাব সামনে এসেছে। এতে স্পষ্ট, ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক অভিঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্য বা আন্তর্জাতিক তেলবাজারে সীমাবদ্ধ নেই; সরাসরি মার্কিন পরিবারের দৈনন্দিন খরচেও এর প্রভাব পড়ছে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা পেট্রোলের দামে
মার্কিনিদের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে পেট্রোলের দামে। ছয় মাসের ব্যবধানে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম ২ দশমিক ৯৮ ডলার থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ১৫ ডলারে উঠেছে। অর্থাৎ দাম বেড়েছে প্রায় ৩৯ শতাংশ। ডিজেলের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও কঠিন। প্রতি গ্যালনের দাম ৩ দশমিক ৬৭ ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৫ দশমিক ৯০ ডলার—বৃদ্ধি ৬০ শতাংশেরও বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের প্রবণতা বেশি হওয়ায় পেট্রোলের এই মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি পরিবারের ব্যয়ে প্রভাব ফেলছে। অন্যদিকে ডিজেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে পরিবহন ও পণ্য সরবরাহের খরচে। ফলে একদিকে গাড়ি চালানোর খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে দোকানে পৌঁছানোর আগেই পণ্যের দাম বাড়ছে।

যুদ্ধ চলছে ছয় মাস
ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাত শুরুর সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধটি চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে শেষ হওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছিলেন। বাস্তবে সেই সময়সীমা অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে। সংঘাত এখন ষষ্ঠ মাসে প্রবেশ করেছে এবং দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও স্পষ্ট নয়। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক তেলবাজারে বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছে।

ট্রাম্পের সঙ্গে মার্কিনিদের দ্বিমত
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এখন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কেরও অংশ। যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন না থাকায় অনেক মার্কিনি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনকে দায়ী করছেন।তবে ট্রাম্প এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি তেলের দাম বাড়ার বিষয়টিকে খুব বেশি গুরুত্ব না দিয়ে বরং তেল কোম্পানিগুলোর ওপর দায় চাপিয়েছেন। ফলে যুদ্ধের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের খরচ শেষ পর্যন্ত কে বহন করছে—সরকার, তেল কোম্পানি নাকি সাধারণ মানুষ—এই প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে।

খাদ্যনিরাপত্তাতেও চাপ
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এর প্রভাব শুধু গাড়ির জ্বালানিতে আটকে থাকে না। কৃষিতে ট্রাক্টর চালানো, খাদ্য পরিবহন, পণ্য সংরক্ষণ, শীতলীকরণ থেকে শুরু করে প্লাস্টিকের প্যাকেজিং—প্রায় প্রতিটি ধাপেই তেল ও গ্যাসের ব্যবহার রয়েছে।ফলে জ্বালানির দাম বাড়লে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়ও বাড়ে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়ে ভোক্তার বাজারে। মার্কিন পরিবার একদিকে গাড়ির ট্যাংক ভরতে বেশি টাকা দিচ্ছে, অন্যদিকে একই জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির কারণে খাবার ও অন্যান্য পণ্য কিনতেও বাড়তি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। বিশ্বের নিম্ন আয়ের দেশগুলোর জন্য ঝুঁকি আরও বড়। তেল ও সার আমদানির ব্যয় বেড়ে গেলে কৃষি উৎপাদনের খরচ বাড়তে পারে। দীর্ঘস্থায়ী হলে খাদ্য সরবরাহ ও খাদ্যনিরাপত্তাতেও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সামনে আরও চাপের শঙ্কা
জ্বালানি বাজারের এই চাপের মধ্যেই ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন ‘নিয়ন্ত্রিত জোন’ তৈরির ঘোষণা দিয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, এ এলাকার জন্য নতুন মানচিত্র দেওয়া হবে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে সেটি অনুসরণ করতে হবে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, মার্কিন অবরোধ ও হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার নিশ্চয়তা দেবে না ইরান। নতুন নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ প্রবেশ করলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে দেশটি। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে মার্কিনিদের জন্য জ্বালানি বিলের চাপ আরও বাড়তে পারে। আর হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়লে তার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববাজারেও পড়বে। ফলে ইরান যুদ্ধ এখন শুধু ভূরাজনৈতিক সংঘাত নয়—সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দেওয়া এক বড় অর্থনৈতিক সংকটেও রূপ নিচ্ছে।

কালের আলো/এম/এএইচ