খুঁজুন
                               
বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

বিজয় নিশান ঘরে ঘরে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৯:২৮ পূর্বাহ্ণ
বিজয় নিশান ঘরে ঘরে

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো:

মহান মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহ দিনগুলোর সময় জন্ম হয়নি আমার। দেখা হয়নি ভয়ার্ত দিনগুলোতে হানাদারদের বীভৎসতা। তবে বই-পুস্তক, নাটক আর চলচ্চিত্রের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনেছি কিংবদন্তিদের মুখে। বাঙালি জাতির সূর্য সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মুখ থেকেই আমি অনেকবার শুনেছি অগ্নিঝরা দিনের স্মৃতি। একাত্তরের রণাঙ্গনের বীর সেনানীরা বলতেন আর এক অদৃশ্য সেলুলয়েডে আমি মনে আঁকতাম মুক্তিযুদ্ধের চিত্রকল্প।

আমাদের সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ ঘটনা একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ৯ মাসের সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির কয়েক হাজার বছরের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বপ্নসাধ পূরণ হয় ১৬ ডিসেম্বর। স্বাধীন জাতি হিসেবে বীরের জাতি বাঙালি সমগ্র বিশ্বে আত্মপরিচয় লাভ করে। অর্জন করে নিজস্ব ভূখণ্ড আর সবুজের বুকে লাল সূর্য-খচিত নিজস্ব জাতীয় পতাকা। ভাষার ভিত্তিতে যে জাতীয়তাবাদ গড়ে উঠেছিল, এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বিজয়ের মাধ্যমে ঘোষিত স্বাধীনতা পূর্ণতা পায় এই দিনে। বাঙালির হাজার বছরের স্বপ্নপূরণ হওয়ার পাশাপাশি বহু তরতাজা প্রাণ বিসর্জন আর মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে এই অর্জন হওয়ায়-বেদনাবিধুর এক শোকগাঁথার মাসও এই ডিসেম্বর।

আমি সেই শৈশবেই নিজের পরিবার থেকে জেনেছি পাকিস্তানি সামরিক জান্তার শোষণ, বঞ্চনা, নির্যাতন ও বর্বরতার দীর্ঘ অধ্যায়ের বাস্তব চিত্র। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণার পর ২৭ মার্চ আমার নিজ জেলা ময়মনসিংহ শহরের খাগডহরে রাতভর যুদ্ধ হয়। সেই যুদ্ধের খবর ছড়িয়ে পড়লে এখানকার প্রতিটি উপজেলার গ্রামের পর গ্রামে মুক্তিযুদ্ধে যাবার জন্য যুবকদের মাঝে সাড়া পড়ে যায়। ওই সময় গ্রামের ধনাঢ্যদদের থ্রি-ব্র্যান্ড রেডিও ছিল। রেডিওতে স্বাধীন বাংলা বেতার শোনা তখন যুদ্ধ অবরুদ্ধ মানুষের কাজ ছিল। সন্ধ্যার পরপরই স্থানীয় গ্রামের মানুষজন জড়ো হতেন সেখানে। মুক্তিযুদ্ধে যাওয়া না হলেও অনেকেই ও তার সমবয়সীরা খেলতেন ‘যুদ্ধ।’ বড়রা যখন দেশের খবর বলতো তখন তারা গভীর মনোযোগ দিয়ে শুনতেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনার মাস মার্চ। বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামের আহবানও এসেছিল এই মাসেই। জেগে উঠে বাঙালি জাতি। হায়েনাদের বিপক্ষে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে শুরু হয় প্রস্তুতি। ২৫ মার্চের কালো রাতে পাকিরা নৃশংসতম, পৈশাচিক ও বর্বর কায়দায় হাজার হাজার নিরস্ত্র বাঙালিকে হত্যা করলো। ত্রিশ লাখ প্রাণের আত্মদান এবং ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে নয় মাসের রক্তয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর বিজয়ের প্রভাতী সূর্যের আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছিল শিশির স্নাত মাটি। পাকিদের হটিয়ে মুক্তির স্বাদ নিয়েছিল বীর বাঙালি। অর্জিত হয়েছিল চির আকাক্সিক্ষত স্বাধীনতা। বিশ্ব মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটলো স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশের।

এবারের মহান বিজয় দিবসকে নতুন মাত্রা দিয়েছে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান। রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের পর বাংলাদেশে গত ৫ আগস্ট ঘটে গেছে এক অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থান। শত শত প্রাণের বিনিময়ে পতন ঘটেছে ফ্যাসিবাদের। জাগিয়ে তুলেছিল বাংলাদেশের হৃদয়। এই অভ্যুত্থান দেশলাইয়ের কাঠির মতো জ্বলে উঠে ছাত্র-জনতা, যাদের মধ্যে আগে থেকেই ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়, দুর্নীতি ও ভিন্নমতের ওপর সহিংস দমন-পীড়নের কারণে চরম ক্ষোভ-অসন্তোষ ছিল। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের চেয়েও প্রবল ও রক্তাক্ত ছিল ছাত্র-নাগরিকের এই গণঅভ্যুত্থান। বেশিরভাগ মানুষের কাছে মুক্তির বার্তা নিয়ে আসে বলেই কীনা তাই অনেকেই বলতে থাকেন, ‘আমরা আরেকবার স্বাধীন হয়েছি!’ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড.মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে পথচলা শুরু হয়েছে নতুন এক বাংলাদেশের।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ক্ষমতার পালাবদলে সংগ্রামী ছাত্র-জনতা গতানুগতিক রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে সুষ্ঠু সুন্দর গণতান্ত্রিক রাজনীতির সংস্কৃতির প্রবর্তন করেছে। শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে দেশের সূর্যসন্তানদের হাতে অর্পণ করেছে নতুন বাংলাদেশ গড়ার গুরুদায়িত্ব। এই সরকারের শরীরে লেগে রয়েছে মানুষের রক্ত-মিশ্রিত অঙ্গীকার পালনের দায়বদ্ধতা। যার মধ্যে রয়েছে বৈষম্য রোধ করা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ করার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এছাড়া রাষ্ট্র কাঠামোর যেখানে যে সংস্কার দরকার সেই সংস্কারের সঙ্গে ছাত্র-নাগরিকরা নিজেদের করেছে একাত্ম। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম যথার্থই বলেছেন, ‘এই আন্দোলনের গাঁথুনির যে শক্তি ছিল তাতে গুরুত্বপূর্ণ ছিল ভাবাদর্শিক বোঝাপড়া। এটাই সামনের দিনের রাজনীতি ঠিক করবে। অভ্যুত্থানের সময় যে নতুন মুহূর্ত সৃষ্টি হয়েছে, সেটির পুনর্মঞ্চায়ন করে যেতে হবে।’

মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হচ্ছে দেশপ্রেমের চেতনা। ৩০ লাখ শহীদের আত্মদান ও মর্যাদা আমাদেরই সমুন্নত রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, কোন দেনদরবার নয়। কারও দয়ার দানে নয়, সাগর-সমান রক্তের দামে বাংলাদেশ অর্জন করেছে স্বাধীনতা, রক্ত-সাগর পেরিয়ে বাঙালি জাতি পৌঁছেছে তার বিজয়ের সোনালি তোরণে। নতুন প্রেক্ষাপটে এই সময়ে যখন বাঙালি জাতি বিজয় দিবস উদযাপন করবে তখন আমরা চাই জনযুদ্ধের বাস্তবতা থেকে মুক্তিযুদ্ধকে এবং একই ধারাবাহিকতায় ২৪’র গণঅভ্যুত্থানকে দেখতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের মতোই এবারও ছাত্র-নাগরিকরা কোন অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেনি।

আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের সবচেয়ে গৌরবের দিনটিতে আমি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ২৪’র গণঅভ্যুত্থানে সকল শহীদের আত্মদানকে। কেবল দিবস উদযাপন নয়, এর অন্তর্নিহিত তাৎপর্যও আমাদের হৃদয় ও মননে ধারণ করতে হবে। স্বাধীনতার স্বপ্ন পূরণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমও ইতোমধ্যেই বলেছেন, ‘৭১’-এর হানাদার বাহিনীর জুলুমের পুনরাবৃত্তি হয়েছে ২৪-এর জুলাইয়ে।’ তাই এবারের বিজয় দিবস আলাদা তাৎপর্য বহন করছে। আমরা চাই ড.মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে বৈষম্যহীন, মানবিক এবং গণতান্ত্রিক দেশ বিনির্মাণ করুক। বিজয় নিশান উড়ছে ঐ/বাংলার ঘরে ঘরে…। আমরা চাই এই নিশান কখনো অবনত হবে না। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আর বিকৃত না হোক। নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জেনে দেশ গঠনে একসঙ্গে কাজ করুক- এই হোক বিজয়ের ৫৩ বছরে আমাদের দৃপ্ত অঙ্গীকার।

কালের আলো/এমএএএমকে

ইরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৫৭ অপরাহ্ণ
ইরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পুনরায় আলোচনা শুরু করার বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে অংশ নিতে তেহরানে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির। পাকিস্তানের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বুধবার তিনি তেহরানে পৌঁছেছেন।

ইরানের একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের নেতৃত্বে পাকিস্তানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ইরানে পৌঁছেছেন।

তেহরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং দ্বিতীয় দফার আলোচনার সমন্বয় করার লক্ষ্যে পাকিস্তানের এই প্রতিনিধিদল ইরান সফরে গেছে।

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা আইআরআইবি বলেছে, আগামী কয়েক দিনের মাঝে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে কোনও ফলাফল ছাড়াই শেষ হওয়া আলোচনার পর পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বার্তার আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে বলে ইরানের পক্ষ থেকে জানানোর কয়েক ঘণ্টা পরই পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ইরান সফরে গেছেন।

বুধবার সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি বলেন, গত রোববার ইরানি প্রতিনিধিদল তেহরানে ফিরে আসার পর থেকে পাকিস্তানের মাধ্যমে বেশ কিছু বার্তা বিনিময় করা হয়েছে। তিনি বলেন, ইসলামাবাদে চলমান আলোচনার ধারাবাহিকতায় আজ আমাদের পাকিস্তানি এক প্রতিনিধিদলকে গ্রহণ করার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

সংবাদ সম্মলনে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ তেহরানের ‘অনস্বীকার্য’ অধিকার। তবে সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ‘আলোচনাযোগ্য’। ইরানি এই কর্মকর্তা বলেন, পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের অধিকার চাপ প্রয়োগ কিংবা যুদ্ধের মাধ্যমে ছিনিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ও ধরনের বিষয়ে আমরা সব সময় বলেছি, এই বিষয়টি আলোচনাযোগ্য। আমরা জোর দিয়ে বলেছি, ইরানের নিজস্ব প্রয়োজন অনুযায়ী সমৃদ্ধকরণ অব্যাহত রাখার সক্ষমতা থাকা উচিত।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিয়ে বাঘায়ি বলেন, আলোচনার সময় যুক্তরাষ্ট্রের কিছু দাবি ছিল ‘অযৌক্তিক ও অবাস্তব’। তিনি পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের বিষয়ে ইরানের অধিকারের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‌‌‌‘‘এই অধিকার চাপ প্রয়োগ বা যুদ্ধের মাধ্যমে কেড়ে নেওয়া যাবে না।’’

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আগামী দুই দিনের মধ্যে আবারও আলোচনা শুরু হতে পারে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন। ইরানিরা পাকিস্তানের দিকে ‘বেশি ঝুঁকে আছেন’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, আপনাদের আসলেই সেখানে অবস্থান করা উচিত। কারণ আগামী দুই দিনের মধ্যে কিছু একটা ঘটতে পারে এবং আমরা সেখানে যাওয়ার পক্ষেই বেশি আগ্রহী। তিনি নিউ ইয়র্ক পোস্টকে বলেন, এর সম্ভাবনা বেশি, জানেন কেন? কারণ ফিল্ড মার্শাল দারুণ কাজ করছেন। তিনি অসাধারণ এবং এ কারণেই আমাদের সেখানে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আমরা কেন এমন কোনও দেশে যাব যাদের এই বিষয়ের সঙ্গে কোন সম্পর্কই নেই?

বুধবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ‘প্রায় শেষের পথে’।

সুত্র: আল জাজিরা, ডন, ফক্স নিউজ।

কালের আলো/জেএন

দেড় মাস পর ডলার কিনল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৫২ অপরাহ্ণ
দেড় মাস পর ডলার কিনল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

প্রায় দেড় মাস পর আবারও বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে মার্কিন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বুধবার (১৫ এপ্রিল) একটি ব্যাংকের কাছ থেকে ৭০ মিলিয়ন বা ৭ কোটি ডলার কেনা হয়।

মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এ ক্রয়ে ডলারের এক্সচেঞ্জ রেট ও কাট-অফ রেট দুটিই ছিল ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা।

এর আগে সর্বশেষ গত ২ মার্চ দুটি ব্যাংকের কাছ থেকে ২৫ মিলিয়ন ডলার কিনেছিল। ওই সময় কাট-অফ রেট ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।

চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে মোট ৫৫৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলার (৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার) কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এদিকে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়তে থাকায় বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। চলতি বছরের মার্চে দেশে এসেছে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী এর পরিমাণ ৪৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের ১ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত এসেছে ১৬০ কোটি ৭০ লাখ ডলার। আর চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৮১ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ, প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের উন্নয়ন প্রবাসী আয় বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও।

সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, ১৫ এপ্রিল দিন শেষে দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ৩০ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার।

কালের আলো/জেএন

পুলিশে বড় রদবদল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৪৬ অপরাহ্ণ
পুলিশে বড় রদবদল

‎পুলিশ বাহিনীতে বড় ধরনের রদবদল আনা হয়েছে। পুলিশ সুপার (এসপি) থেকে ‘সুপারনিউমারারি পদোন্নতি’ পাওয়া এক ডিআইজিসহ ১৬ জন অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তাসহ মোট ১৭ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।

‎‎বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (পুলিশ-১ শাখা) তৌছিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

‎‎প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, শিল্পাঞ্চল পুলিশের (বর্তমানে সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনকে পিবিআইয়ের অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে। এছাড়া বিশেষ পুলিশ সুপার (বর্তমানে সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) কামরুল হাসান মাহমুদকে এসবিতে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে, আরপিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (বর্তমানে সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) তোফায়েল আহমেদকে পদস্থ বিভাগেই অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হিসেবে এবং ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (বর্তমানে সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) সুফিয়ান আহমেদকে ডিএমপিতেই যুগ্ম কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

‎‎আরও জানান হয়, সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (বর্তমানে সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) মুহাম্মদ বাছির উদ্দিনকে সিআইডিতেই অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে, এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার (বর্তমানে সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানকে এসবিতে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে এবং সিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভুইয়াকে সিএমপিতেই অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

‎পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (বর্তমানে সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) মাহবুবুল করিমকে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে পুলিশ সদর দপ্তরেই রাখা হয়েছে। আরএমপির উপপুলিশ কমিশনার (বর্তমানে সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) আল মামুনকে আরএমপিতেই অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার করা হয়েছে।

‎শিল্পাঞ্চল পুলিশ-৪ (নারায়ণগঞ্জ) এর পুলিশ সুপার (বর্তমানে সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহা. আসাদুজ্জামানকে পুলিশ সদর দপ্তরে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে, এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার (বর্তমানে সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ আনিছুর রহমানকে এসবিতেই অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

‎রংপুর রেঞ্জের পুলিশ সুপার (বর্তমানে সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) ড. আ ক ম আকতারুজ্জামান বসুনিয়াকে পুলিশ সদর দপ্তরে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে, এআইজি (বর্তমানে সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) মো. জাহাঙ্গীর আলমকে একই দপ্তরে, এসবির বিশেষ পুলিশ সুপার (বর্তমানে সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ হায়াতুন নবীকে সিআইডিতে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে এবং এআইজি (বর্তমানে সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পুলিশ সদর দপ্তরেই অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

‎‎এছাড়া আরও জানান হয়, পুলিশ স্টাফ কলেজের পুলিশ সুপার (বর্তমানে সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) আফরোজা পারভীনকে একই কর্মস্থলে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে এবং রেলওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার (বর্তমানে সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) তোফায়েল আহমেদ মিয়াকে নিজ বিভাগেই অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

‎জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কালের আলো/জেএন