খুঁজুন
                               
শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২৮ চৈত্র, ১৪৩২
           

পুলিশের মনোবল ও কর্মস্পৃহা ফেরানোর চ্যালেঞ্জে নতুন আইজিপি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৪, ১০:২৪ অপরাহ্ণ
পুলিশের মনোবল ও কর্মস্পৃহা ফেরানোর চ্যালেঞ্জে নতুন আইজিপি

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে নির্মমতা ও নিষ্ঠুরতা দেখিয়ে জনরোষের মুখে পড়ে বাংলাদেশ পুলিশ। এ সময়টিতে আত্মগোপনে চলে যান বাহিনীটির শীর্ষ কর্মকর্তারা। দেশের শত শত থানায় ভাঙচুর ও আগুন জ্বালিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। এরপর সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় দেশের থানাগুলোতে কার্যক্রম শুরু হয়। কাজে ফিরতে শুরু করেন পুলিশ সদস্যরা। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্বভার গ্রহণের পর দ্বিতীয় দফায় পুলিশপ্রধান বদল হয়। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে এসেছে নতুন মুখ। অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার বেশিরভাগ কর্মকর্তাকেই অবসর দেওয়া হয়। পুলিশের হারানো মনোবল ফিরিয়ে আনার বড় এক চ্যালেঞ্জ নিয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) পদে দায়িত্ব নিয়েছেন বাহারুল আলম। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র এক মাসের মধ্যেই নিজ বাহিনীর সদস্যদের মনোবল চাঙ্গা ও কর্মস্পৃহা ফিরিয়ে আনতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তিনি সবার সহযোগিতায় পুলিশ হবে জনতার এই প্রত্যয়ে বাহিনীটিকে পূর্ণোদ্যমে ঘুরে দাঁড় করানোর সংকল্প নিয়েছেন।

‘কোন নিরীহ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়’- গত শনিবার (২৩ নভেম্বর) পুলিশ সদর দপ্তরে দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় মাঠ পর্যায়ের উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রথমেই এমন গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেন বাংলাদেশ পুলিশের এই ৩৩তম আইজিপি। তিনি ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দায়ের করা মামলাসমূহ যথাযথভাবে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়ে সেদিন বলেন, ‘নিরীহ কারও নামে মামলা হলেও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’ ওই মতবিনিময় সভায় তিনি পুলিশ সদস্যদের মনোবল বাড়াতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার থেকে শুরু করে রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার পুলিশ সুপারদের ফোর্সের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় করতে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। যেকোন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ধৈর্য্যের সঙ্গে মোকাবিলা করার পরামর্শ দেন।

জানা যায়, ২০২০ সালে পুলিশের চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার আগে বাহারুল আলম এসবি প্রধান ছিলেন। পুলিশের হারানো ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড.মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর ওপর আস্থা রাখেন। তাকে চলতি বছরের ২০ নভেম্বর পুলিশ মহাপরিদর্শক আইজিপি পদে দু’বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। পুলিশপ্রধান হিসেবে অভিষিক্ত হওয়ার পরপরই নিজ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বার্তা দিয়েছেন বাহারুল আলম। তিনি সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বর্তমান পুলিশ প্রশাসন নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে। কেউ অসৎ পথ বেছে নিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনি সেবা প্রত্যাশী জনগণের সঙ্গে বিনয়ী আচরণ করতে ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় তিনি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে বলেছেন।

অপরাধ দমনে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। তিনি পুলিশের লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের পুলিশের কার্যক্রম জোরদার করার প্রয়াস নিয়েছেন। অনুরোধ জানিয়েছেন পুলিশের ওপর আস্থা রাখার। যেকোনভাবেই হোক আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই তিনি পুলিশকে ঢেলে সাজাতে চান। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে না পারে, সেদিকে বিশেষ নজর রাখছেন। জনগণের সঙ্গে একাত্ম হতে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের জনসংযোগ বাড়ানোর ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

মানবিক ঔদার্যের বিরল দৃষ্টান্ত, সবিনয়ে সবার আন্তরিক সহযোগিতা প্রত্যাশা
গত বৃহস্পতিবার (০৫ ডিসেম্বর) নিজের প্রথম সংবাদ সম্মেলনেও মানবিক ঔদার্যের এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন আইজিপি বাহারুল আলম। তিনি ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শহীদ হওয়া প্রত্যেকের পরিবারের কাছে পুলিশের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চান। বাংলাদেশ পুলিশের ইতিহাসে তিনিই সর্বপ্রথম আইজিপি যিনি নিজেদের ভুলের জন্য সরাসরি ও প্রকাশ্যে এমন ক্ষমা চেয়েছেন। ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশ পুলিশ এক বিরাট চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেছিলেন, ‘দেশবাসীর প্রত্যাশা ও সহযোগিতায় এবং সরকারের সহযোগিতায় ধীরে ধীরে বাংলাদেশ পুলিশের অপারেশনাল কার্যক্রমে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করছি। দেশের জনগণের সমর্থন ও সহায়তা ছাড়া বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ দুরূহ।’ এ বিষয়ে তিনি সবিনয়ে সবার আন্তরিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। অন্তর্বর্তী সরকারের পুলিশ সংস্কারে উদ্যোগ গ্রহণকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পুলিশ সংস্কারের সুপারিশ বাস্তবায়ন করলে এই বাহিনী প্রকৃত অর্থেই জনবান্ধব হয়ে উঠবে বলে বিশ্বাস করি।’

পুলিশ ফোর্সকে জাগিয়ে তোলা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ
আইজিপি’র গুরুদায়িত্বে অধিষ্ঠিত হওয়ার এক মাসের মাথায় মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে স্বশরীরে মিলিত হয়েছেন বাহারুল আলম। শনিবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে সিলেট মেট্রোপলিটন হেডকোয়ার্টার্সের কনফারেন্স হলে সিলেট বিভাগের সকল ইউনিটের কর্মরত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন। পরে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে তিনি পুলিশ বাহিনীকে জাগিয়ে তোলার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের কথা জানিয়েছেন। পুলিশ মহাপরিদর্শক বলেছেন, ‘বর্তমানে পুলিশ মনভাঙা অবস্থায় আছে; ভয়ে আতঙ্কে তাদের মন ভেঙে গেছে। গণঅভ্যুত্থানে সিনিয়র পুলিশ সদ্যরা জুনিয়রদের হুকুম দিয়ে তাদেরকে অনিরাপদ রেখে পালিয়ে গেছে। পুলিশ ফোর্সকে জাগিয়ে তোলা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’

তিনি বলেছেন, ‘বিগত সময়ে পুলিশ দলীয় স্বার্থ উদ্ধারে বড় ধরনের অপরাধ করেছে, এ জন্য আমরা লজ্জিত। বিপ্লব পরবর্তী সময়ে পুলিশের কর্মস্পৃহা ফিরিয়ে আনাও আরেকটি চ্যালেঞ্জ।’ জুলাই বিপ্লবে পরিবর্তিত পরিবেশে মামলার ক্ষেত্রে অসাধু ব্যক্তিরা সুবিধা নিয়েছে বলেও মনে করেন আইজিপি। তিনি বলেন, ‘নিরীহ যাদের আসামী করা হয়েছে তাদের গ্রেফতার করা হবে না। হয়রানি এড়াতে খোঁজ নিয়ে তাদের পুলিশের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হবে।’

গত ১৯ জুলাই পুলিশের গুলিতে সাংবাদিক তুরাব নিহতের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বাহারুল আলম বলেন, ‘তুরাব হত্যা মামলায় পুলিশ কমিশনার গুরুত্ব সহকারে কাজ করে যাবেন। তিনি পেশাগত দায়িত্ব পালনে আমাদেরই গুলিতে মারা গেছেন। তাকে তো আর ফিরিয়ে আনা যাবে না। আমাদের ক্ষমা চাওয়া ছাড়া আর কোনো সুযোগ নেই।’ এ সময় তুরাব হত্যাকান্ডের বিচার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারকে অনুরোধ করেন আইজিপি।

গত ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, হুমকি ও চাঁদাবাজির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ পুলিশের এই সর্বোচ্চ কর্মকর্তা বলেন, ‘আপনাদের কাছে কেউ চাঁদা চাইতে এলে কাউকে চাঁদা দিবেন না, ভয়ও পাবেন না। আমরা সকল সময়ই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আছি। ব্যবসায়ীরা যাতে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে পারে সেই পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশ সর্বদা কাজ করে যাচ্ছে।’

সাম্প্রতিককালে মব জাস্টিসের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক বলেন, ‘এখন আসামিকে আদালতে তোলা হলেই উৎসুক জনতার ভিড়ে কিছু স্বার্থান্বেষী লোক তাদের উপর হামলা করছেন। এসময় আসামীকে বাঁচাতে গিয়ে পুলিশও আহত হচ্ছেন। এই বিষয়ে আমাদের সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। যে অপরাধ করবে বিজ্ঞ আদালত তার বিচারের ব্যবস্থা করবেন।’

পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা কমিশনে সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয় সুপারিশ করেছি। বিশেষ করে বেশিরভাগ পুলিশ সদস্যকে ওভারটাইম কাজ করতে হচ্ছে। এটার জন্য তারা কোনো ভাতা পান না। এই বিষয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। পাশাপাশি তাদের কর্মস্পৃহা ফিরিয়ে আনতে আমরা তাদের সমস্যা সমাধাণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

এর আগে গত ১ ডিসেম্বর বর্তমান পুলিশপ্রধান বাহারুল আলম একই সঙ্গে তিনি গণঅভ্যুত্থানে আহতদের দেখতে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) যান। তিনি আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বীরোচিত ভূমিকার কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, তাদের অবদানের জন্যই জনগণ মুক্ত বাতাসে নি:শ্বাস নিচ্ছেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

‘সিল্কের ঐতিহ্য রক্ষায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে কাজ করা হবে’

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৩৪ অপরাহ্ণ
‘সিল্কের ঐতিহ্য রক্ষায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে কাজ করা হবে’

রাজশাহী সিল্ক শুধু রাজশাহীর নয়, এটি সারা বাংলাদেশের সম্পদ এবং আমাদের ঐতিহ্য। ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে আধুনিকায়ন এবং এর হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারে সরকার মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় রেশম শিল্পের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং একে আরও উন্নত করার রূপরেখা তৈরি করতে রাজশাহী রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট সরেজমিন পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী রেশম শিল্পের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ১৯৭৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাজশাহী রেশম বোর্ড স্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও এই বোর্ডের উন্নয়নে নানা কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নির্দেশনায় এই শিল্পকে আধুনিকীকরণ এবং গবেষণার মাধ্যমে আরও উন্নত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

দেশে বর্তমানে রেশমের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও উৎপাদন তলানিতে। এ প্রসঙ্গে শরীফুল আলম জানান, দেশে বর্তমানে ৪০০ থেকে ৪৫০ মেট্রিক টন রেশমের চাহিদা রয়েছে; তবে এর প্রায় ৯০ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। স্থানীয় কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়া বা পিছিয়ে পড়ার কারণেই মূলত এই পরনির্ভরশীলতা তৈরি হয়েছে।

এই সংকট কাটাতে পলু চাষ, তুঁত গাছের উন্নয়ন এবং রেশম সুতার মান বৃদ্ধিতে গবেষণার ওপর সরকার বিশেষ জোর দিচ্ছে বলে জানান তিনি।

রেশম শিল্পের প্রাণ হিসেবে পরিচিত ঐতিহ্যবাহী কারিগর বা ‘বোসনি’দের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।

এই দক্ষ কারিগরদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ১১ হাজার ৫০০ জন বোসনি রয়েছেন। বয়সের কারণে তাদের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। বোসনিদের পরবর্তী প্রজন্মকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তৈরি করা না গেলে এই শিল্পের ঐতিহ্য চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে এবং সিল্কের প্রসার ঘটাতে নিজস্ব অর্থায়নের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। চীন ও জাপানের মতো বড় দেশগুলোতে দেশীয় সিল্ক পণ্যের বাজার তৈরি এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে। শিল্পটিকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং সার্বিক উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে খুব শিগগিরই সমন্বিত ও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে পরিদর্শনে আসা প্রতিনিধিরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এর আগে, পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. তৌফিক আল মাহমুদ একটি প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মন্ত্রী ও সচিবের কাছে বোর্ডের সার্বিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. এরশাদ আলী ঈশাসহ রেশম বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

কালের আলো/ইএম

জিয়া সরণি খালকে বুড়িগঙ্গার সঙ্গে যুক্ত করতে বরাদ্দ ৩০০ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৩১ অপরাহ্ণ
জিয়া সরণি খালকে বুড়িগঙ্গার সঙ্গে যুক্ত করতে বরাদ্দ ৩০০ কোটি টাকা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বুড়িগঙ্গা নদীর সঙ্গে রাজধানীর জিয়া সরণি খালকে যুক্ত করতে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর জিয়া সরণি খাল, কোনাপাড়া খাল ও কুতুবখালী খাল পরিদর্শন শেষে এ কথা জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জিয়া সরণি নাম হওয়ায় মানুষের কল্যাণে এই খাল নিয়ে কিছুই করেনি অবৈধ সরকার। আপাতত সিটি করপোরেশনের অর্থে খালটিতে অবৈধ স্থাপনাসহ সব কাজ চলছে।

সব খাল দখলমুক্ত করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনানুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

মীর শাহে আলম বলেন, গণমানুষের ভোটে নির্বাচিত হয় বিএনপি সরকার। যেহেতু বিনাভোটে নির্বাচিত হইনি সেক্ষেত্রে সবার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কাজ করা হবে।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি শুরু করেছে বিএনপি সরকার। গত ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুরের সাহাপাড়ায় খাল খননের মাধ্যমে একযোগে দেশের ৫৪টি খালের খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কৃষি সেচ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাসহ সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন করা হবে। প্রথম পর্যায়ে ৫৪টি জেলায় চলবে এই কর্মসূচি।

কালের আলো/এসএকে

সিরাজগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় ১৭ শিশুর দেহে হাম প্রাদুর্ভাব

সিরাজগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২:২৩ অপরাহ্ণ
সিরাজগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় ১৭ শিশুর দেহে হাম প্রাদুর্ভাব

সারাদেশের মতো সিরাজগঞ্জে বেড়েছে সংক্রামক ব্যাধি হামের প্রাদুর্ভাব। গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জে ১৭ শিশুর দেহে হাম শনাক্ত হয়েছে।

হামের টিকা দেওয়ার আগেই এ রোগে অধিকাংশ শিশুরা আক্রান্ত হওয়ায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অভিভাবক ও স্বজনেরা। পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে হাম ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিশুদের সময়মতো টিকা দেওয়ার আহ্বান স্বাস্থ্য বিভাগের।

সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির জানান, চলতি মাসের ২৯ মার্চ থেকে হাম রোগী কাউন্ট শুরু হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০০ জনে। এসব রোগী শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এর মধ্যে ৭০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।

বর্তমানে মনসুর আলী মেডিকেলে ১৫ জন, সদর জেনারেল হাসপাতালে ২ জন, উল্লাপাড়ায় ২ জন ও রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন ভর্তি রয়েছে। এদিকে, সারাদেশে হাম রোগীর সংখ্যা বাড়ার প্রেক্ষাপটে শহীদ এম মনসুর আলী হাসপাতালেও খোলা হয়েছে বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ড।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে হাম সিরাজগঞ্জে আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/ইএম