খুঁজুন
                               
বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

যুদ্ধ জয়ের সক্ষমতা দেখালো বাংলার অকুতোভয় সেনারা, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুত থাকার বার্তা প্রধান উপদেষ্টার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৫, ৯:৩৫ অপরাহ্ণ
যুদ্ধ জয়ের সক্ষমতা দেখালো বাংলার অকুতোভয় সেনারা, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুত থাকার বার্তা প্রধান উপদেষ্টার

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":[],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":false,"containsFTESticker":false}

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর:

মুহুর্মুহু গুলির শব্দে প্রকম্পিত চারপাশ। শত্রুকে পরাস্ত করতে ব্যবহার করা হচ্ছে অত্যাধুনিক ট্যাংক, এপিসি ও গোলন্দাজ বাহিনীর কামান। বহি:শত্রুর বিরুদ্ধে চলছে তীব্র লড়াই। শত্রুকে প্রতিহত করতে প্রাণপণে লড়ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ঠিক যেন যুদ্ধের দামামা! বাংলাদেশের চৌকস সেনা সদস্যদের বজ্র আঘাতে একে একে ধ্বংস হচ্ছে শত্রুর ঘাঁটি। মহড়ায় অংশ নেয় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীও। তাদের আধুনিক জঙ্গি বিমান, আর্মি এভিয়েশনের যুদ্ধ বিমান, হেলিকপ্টার ও প্যারা কমান্ডোর আক্রমণে পিছু হটতে বাধ্য হয় শত্রু বাহিনী। অকুতোভয় দামাল সেনাদের সামনে কোন অবস্থাতেই তাঁরা টিকতে পারেনি। কুপোকাত হতে হয়েছে ক্ষিপ্রতা, দক্ষতা আর কৌশলের কাছে।

হিমালয়সম সাহস, দৃঢ় মনোবল আর দক্ষতায় বিজয়ের কাক্সিক্ষত হাসি বাংলার বীর সেনাদের মুখে। উচ্ছ্বাসমাখা সুবর্ণ জয়ের জয়োধ্বনি তখন কণ্ঠে কণ্ঠে। যার মাধ্যমে তাঁরা দেখিয়ে দিলো নিজেদের শক্তিমত্তা ও যুদ্ধ জয়ের সক্ষমতা। নতুন বছরের শুরুতেই তাঁরা বারতা দিলো দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যেকোন পরিস্থিতিতেই প্রস্তুত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। গল্পের এমন বাস্তবিক দৃশ্যপটেই রাজবাড়ীর সাদারচরে সামরিক প্রশিক্ষণ এলাকায় ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের আয়োজনে সশস্ত্র বাহিনীর দক্ষতা বৃদ্ধিতে শত্রুর বিরুদ্ধে হয়ে গেলো এমন এক ছায়া যুদ্ধ। রোববার (০৫ জানুয়ারি) সেনাবাহিনীর শীতকালীন প্রশিক্ষণের চূড়ান্ত মহড়ার শেষ দিনে ফুটিয়ে তোলা হয় এমন অভিনব দৃশ্যপট।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই রণকৌশল দেখতে এদিন ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে অনুশীলনস্থলে গিয়ে ঘণ্টাব্যাপী মহড়া পর্যবেক্ষণ করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড.মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন তাঁর সঙ্গে ছিলেন। প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। এর মাধ্যমে আরও আভিযানিক দক্ষতা অর্জন করবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এমন প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব:) আব্দুল হাফিজ, সেনাবাহিনীর ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও যশোরের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল জে এম ইমদাদুল ইসলামসহ উচ্চ পদস্থ সেনা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • এবারের মহড়ায় ব্যবহার করা হয় নতুন সংযোজিত তুর্কি ড্রোন
  • ছিল তিন ধরনের আর্টিলারি গান; অংশ নেয় একটি পূর্ণ পদাতিক ব্রিগেড গ্রুপ
  • সেনাবাহিনীর মূল লক্ষ্যই বিজয়ী হওয়া ও দেশকে রক্ষা করা
  • যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সর্বদা নিজেদেরকে প্রস্তুত রাখবে সশস্ত্র বাহিনী

আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ দক্ষতায় জোর সেনাপ্রধানের
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকেই আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জনে জোর দিয়েছেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন- কার্যকর প্রশিক্ষণই সৈনিকের সর্বোত্তম কল্যাণ ও যুদ্ধক্ষেত্রে সাফল্যের চাবিকাঠি। ফলত সেনাপ্রধান সৈনিকদের মানসক্ষেত্রের নির্ভুল রূপায়নে সংবেদী সত্তার অভীস্পায় উদ্দীপ্ত করার প্রাণান্তকর প্রয়াসের মাধ্যমে উন্নত মনোবল অর্জনকে প্রোজ্জ্বলিত করেছেন চেতনার স্পন্দনে, অমিত শক্তি আর প্রগাঢ় আত্মবিশ্বাসে।

‘সবুজের বুকে লাল, সে তো উড়বেই চিরকাল’
বিদায়ী বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ম্যানুভার অনুশীলন শুরু হয়। প্রধান উপদেষ্টার অবলোকনের মধ্যে দিয়ে রোববার (০৫ জানুয়ারি) এটি শেষ হয়। এবারের মহড়ায় ব্যবহার করা হয় নতুন সংযোজিত তুর্কি ড্রোন। এছাড়াও ছিল তিন ধরনের আর্টিলারি গান। শীতকালীন এই অনুশীলনে অংশ নেয় একটি পূর্ণ পদাতিক ব্রিগেড গ্রুপ। মুক্তিযুদ্ধের সময় এই রাজবাড়ি জেলায় ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধ কেন্দ্র। এজন্য এখানকার সামরিক কেন্দ্র থেকে এবার শীতকালীন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জানান দেওয়া হলো বাংলাদেশ চৌকস সেনাবাহিনীর যুদ্ধের সক্ষমতা। যার নাম দেওয়া হয় ‘বজ্রাঘাত’। যার মাধ্যমে বার্তা ছিল-সবুজের বুকে লাল, সে তো উড়বেই চিরকাল।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যুদ্ধ প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণে ‘মুগ্ধ’ প্রধান উপদেষ্টা
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যুদ্ধ প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করে নিজের মুগ্ধতার কথা প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টা ড.মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের যে মহড়া দেখলাম অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে এবং সুন্দরভাবে এটি আয়োজন ও বাস্তবায়ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। একটি চমৎকার অভিজ্ঞতা নিয়ে গেলাম। কত সুন্দরভাবে একটি যুদ্ধ পরিচালনা করা যায়, কত সাহসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়া যায়, যদিও এটি বাস্তব নয়, এটি মহড়া মাত্র। এই মহড়া থেকেই বাস্তবের সৃষ্টি এবং প্রস্তুতি। যাতে করে প্রকৃত যুদ্ধে আমরা সফলভাবে বিজয়ী হয়ে আসতে পারি।’

তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীর মূল লক্ষ্যই বিজয়ী হওয়া, দেশকে রক্ষা করা। সকল পরিস্থিতিতে। বলা যাবে না, এটি বর্ষার দিন এখন পারবো না, এখন বেশি গরম, পারা যাবে না। এটি বলার উপায় নেই। যেকোন পরিস্থিতিতে পূর্ণ সাহস ও প্রস্তুতি নিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে হয়। সেটির প্রস্তুতি হিসেবেই একটি মহড়া হলো। বাস্তব যুদ্ধে আমাদের যা করতে হবে সেটির ওপর প্রস্তুতি। আমরা সিনেমার পর্দায় যুদ্ধ দেখি সব সময়। ইতিহাসের বহু বড় বড় যুদ্ধ সিনেমার পর্দায় দেখি। প্রথম ও দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের প্রকৃত ছবিগুলো দেখি। কীভাবে ব্যাটেলগুলো পুরো যুদ্ধে শত্রুর সম্মুখীন হয়েছে সেই দৃশ্য দেখি। করুণ ও সাহসের দৃশ্য দেখি। অনেকগুলো আমাদের স্মৃতিতে অমর হয়ে থাকে তাদের বীরত্ব ও সাহসের জন্য। বহু ব্যাটল পৃথিবীতে বিখ্যাত হয়ে আছে। শত্রুর কাছ থেকে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। সবকিছু এভাবেই হয়। আজ যেটি দেখে ভালো লাগলো, যাতে ক্রমাগতভাবে আমরা প্রস্তুত থাকতে পারি। সৈনিকদের অভিনন্দন জানাচ্ছি। ক্রমাগতভাবে এটি আরও সুন্দরভাবে গড়ে ওঠবে এই আশা করছি। এই প্রস্তুতির মধ্যে বারবার আসবে পারফেকশন। এটি শুধু যুদ্ধই নয় সবক্ষেত্রেই থাকে। খেলাধূলায় যে যতো বেশি খাটে, পরিশ্রম করে প্রস্তুতি নেয়, খেলায় তাঁর জেতার সম্ভাবনাই বেশি। এই পারফেকশনের জন্যই আমাদের সার্বক্ষণিক প্রচেষ্টা চলতে থাকবে।’

ভবিষ্যতে সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতার আরও আধুনিকায়নের অঙ্গীকার
প্রথমেই মহান আল্লাহর কাছে সবার সুস্থতা ও নিরাপত্তার জন্য শুকরিয়া আদায় করেন প্রধান উপদেষ্টা। নিজের বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই মহড়ায় আপনাদের কাছে আসতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। একজন শান্তিকামী মানুষ হিসেবে আমি বরাবরই যুদ্ধের চেয়ে শান্তির মহড়া দেখতে বেশি আনন্দবোধ করি। তবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে প্রস্তুতির লক্ষ্যে সামরিক বাহিনীর এই প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের এই মহড়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের দক্ষতা অত্যন্ত প্রশংসিত। এই মহড়ায় আমি সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনীর সক্ষমতা সম্পর্কে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়েছে। ভবিষ্যতে আমরা সশস্ত্র বাহিনীর এই সক্ষমতা আরও আধুনিকায়নের জন্য আমরা কাজ করে যাবো।’

‘প্রশিক্ষণই সর্বোত্তম কল্যাণ’-এই মন্ত্রে উদ্ধুদ্ধ হয়ে আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আভিযানিক দক্ষতা অর্জন করে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা সর্বদা প্রস্তুত থাকবে বলেও মনে করেন তিনি। প্রধান উপদেষ্টা ড.মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘সে লক্ষ্যে সেনা সদস্যদের প্রশিক্ষণ হতে হবে বাস্তবসম্মত। আমি নিশ্চিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রশিক্ষণের এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এগিয়ে চলেছে। এইরকম একটি মহড়ার আয়োজন করতে হলে অনেক পরিশ্রম, পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের প্রয়োজন। এই মহড়া দেখে আমি বুঝতে পেরেছি এটি আয়োজনে ৫৫ পদাতিক ডিভিশন সকল সদস্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে। তাই আমি কনিষ্ঠতম সদস্য থেকে জিওসি পর্যন্ত সকলকে ধন্যবাদ দিতে চাই। এছাড়াও আমাকে এই মহড়ার আমন্ত্রণ জানানোর জন্য আমি সেনাবাহিনী প্রধানকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই। বরাবরের মতোই বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী দেশের সম্মান ও গৌরব অটুট রাখতে জনগণের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছে। যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সর্বদা নিজেদেরকে প্রস্তুত রাখবে এই প্রত্যাশা আমার।’

কালের আলো/এমএএএমকে

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরু আজ, মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:২১ পূর্বাহ্ণ
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরু আজ, মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

প্রায় দেড় যুগ বিরতির পর শুরু হচ্ছে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে শুরু হচ্ছে এই পরীক্ষা। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে পরীক্ষার রুটিন ও পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রকাশ করেছে। এতে পরীক্ষার্থীদের জন্য ১০টি বিশেষ নির্দেশনা এবং পরীক্ষা চলাকালীন আচরণবিধি কী হবে তা জানানো হয়েছে।

সবশেষ ২০০৮ সালে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পরে ২০০৯ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা চালু করা হলে তার ফলাফলের ভিত্তিতেই বৃত্তি প্রদান করা হতো।

এবারের প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী ১৫ এপ্রিল বাংলা, ১৬ এপ্রিল ইংরেজি, ১৭ এপ্রিল প্রাথমিক গণিত এবং ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ও প্রাথমিক বিজ্ঞান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়া হবে।

তবে তিন পার্বত্য জেলা- রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে পরীক্ষার সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন রাখা হয়েছে। এসব জেলায় ১৭ এপ্রিল প্রাথমিক গণিত, ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ও প্রাথমিক বিজ্ঞান, ১৯ এপ্রিল বাংলা এবং ২০ এপ্রিল ইংরেজি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার সময় অপরিবর্তিত থাকবে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ-এই দুই ক্যাটাগরিতে বৃত্তি দেওয়া হবে। মেধা তালিকায় ছাত্র ও ছাত্রীদের সমানুপাতিক হারে, অর্থাৎ ৫০ শতাংশ করে নির্বাচন করা হবে। এছাড়া মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং বাকি ২০ শতাংশ বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রবেশপত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং মোবাইল ফোন বা কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে আনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। উত্তরপত্র যথাযথভাবে পূরণ, ইনভিজিলেটরের স্বাক্ষর নিশ্চিত করা এবং নির্ধারিত সময়ের আগে হল ত্যাগ না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া পরীক্ষা কক্ষে কোনো ধরনের কথাবার্তা, প্রশ্নপত্র বিনিময় বা অননুমোদিত উপায়ে সহায়তা নেওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পরীক্ষা শেষে ইনভিজিলেটরের কাছে উত্তরপত্র জমা দিয়েই পরীক্ষার্থীদের হল ত্যাগ করতে হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

কালের আলো/এসাআর/ এএএন 

৩০০ কোটি ডলার ঋণের খোঁজে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:০৭ পূর্বাহ্ণ
৩০০ কোটি ডলার ঋণের খোঁজে সরকার

নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, ভর্তুকি ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের পরিকল্পনাকে সামনে রেখে আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য বড় আকারের বাজেট প্রস্তুত করছে সরকার।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নতুন বাজেটের আকার ৯ লাখ কোটি টাকার বেশি হতে পারে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় বাজেট বৃদ্ধির একটি হতে যাচ্ছে।

এদিকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় এসব পণ্য আমদানিতে চার মাসে প্রয়োজন ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার। আবার ভর্তুকি দিতে লাগবে সাড়ে ৩৮ হাজার কোটি টাকা।

বিশাল অঙ্কের এই চাপ সামাল দিতে ৩০০ কোটি ডলার ঋণের খোঁজ করছে সরকার। যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা। গত মার্চ থেকে আগামী জুন সময়ের জন্য বাজেট সহায়তা হিসেবে উন্নয়ন–সহযোগীদের কাছ থেকে এই ঋণ নিতে চায় সরকার। ঋণ পাওয়া যায় কি না, তা আলোচনা করে দেখতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে (ইআরডি) চিঠি দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সামষ্টিক অর্থনীতি শাখা।

চিঠির সঙ্গে মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো হয়েছে একটি অবস্থানপত্র। সেখানে জরুরি ঋণসহায়তার জন্য যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর তৈরি হওয়া চাপ তথ্য-উপাত্ত দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে।

প্রথমত, এই ঋণ বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত ধরে রাখা এবং জ্বালানি, সার ও খাদ্য আমদানি নিশ্চিতে সহায়তা করবে।

দ্বিতীয়ত, নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সহায়তা দিতে ভূমিকা রাখবে। তৃতীয়ত, দেশে জ্বালানি তেল, গ্যাস, সার ইত্যাদির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে তা ব্যয় করা যাবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় অবস্থানপত্রে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য চাপের মুখে পড়েছে। এই ঋণসহায়তা জরুরি প্রয়োজন মেটানো ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে দরকার।

বিষয়টি নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় ও ইআরডির শীর্ষস্থানীয় কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কারণ, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের ১৪ কর্মকর্তা ১৩ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে শুরু হওয়া বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বসন্তকালীন সভায় যোগ দিতে গেছেন। এই সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আইএমএফের কাছে বাড়তি ঋণ চাওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহ বিঘ্নিত হলে এবং বিশ্ববাজারে মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। এ সময় বিশ্ববাজারে জ্বালানিসহ নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে গিয়েছিল।

বাড়তি দরে আমদানি করতে গিয়ে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত দ্রুত কমতে থাকে। একটি পর্যায়ে তা ৪ হাজার ৮০০ কোটি (৪৮ বিলিয়ন) ডলার থেকে নেমে আসে ২ হাজার কোটি (২০ বিলিয়ন) ডলারের নিচে।

অন্যদিকে ৮৬ টাকার ডলারের দাম ১২০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। ফলে দেশে মূল্যস্ফীতি লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে। এর জন্য দায়ী করা হয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের অব্যবস্থাপনাকে।

এ দায় থেকে বাঁচতে তখনকার সরকার জ্বালানি তেল ও সারের দাম বেড়ে যাওয়ার চাপ সাধারণ মানুষের ওপর দিয়ে দেয়। দফায় দফায় বাড়ানো হয় বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি তেল ও সারের দাম। কিন্তু মজুরি মূল্যস্ফীতি অনুযায়ী বাড়েনি।

অর্থনীতির এই পরিস্থিতি বিপুলসংখ্যক মানুষকে দারিদ্র্যসীমার নিচে নামিয়ে দেয়। বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) গত বছরের আগস্টে প্রকাশিত গবেষণায় জানায়, তিন বছরে দেশে দারিদ্র্যের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮ শতাংশে, যা ২০২২ সালে ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ।

কালের আলো/ এসাআর/ এএএন 

১০ টাকা নিয়ে বিরোধে চাচিকে হত্যায় ভাতিজা গ্রেফতার

মময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:২১ পূর্বাহ্ণ
১০ টাকা নিয়ে বিরোধে চাচিকে হত্যায় ভাতিজা গ্রেফতার

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় তুচ্ছ ঘটনায় মাত্র ১০ টাকা পাওনা নিয়ে বিরোধের জেরে চাচিকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ভাতিজাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার ৭নং বাকতা ইউনিয়নের কৈয়ারচালা গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত আয়েশা (৪৮) একই গ্রামের বাসিন্দা ও তারা মিয়ার স্ত্রী। অভিযুক্ত তৌহিদ (১৯) নিহতের আপন ভাতিজা।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পাওনা ১০ টাকা নিয়ে চাচি-ভাতিজার মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা উত্তেজনায় রূপ নেয়। এ সময় তৌহিদ তার হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আয়েশার বুকে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে ফুলবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পালানোর সময় ফুলবাড়িয়া বাজার এলাকা থেকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেন।

পুলিশ জানায়, আসামির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বর্তমানে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কালের আলো/এম/এএইচ