খুঁজুন
                               
শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৫ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

দাবি আদায়ের নগরী ঢাকা, বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ রাজধানীবাসী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৫, ১০:১৬ পূর্বাহ্ণ
দাবি আদায়ের নগরী ঢাকা, বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ রাজধানীবাসী

 কালের আলো রিপোর্ট:

দাবি আদায়ে রাজধানীতে সড়ক অবরোধ এখন নৈমিত্তিক বিষয়। প্রতিনিয়ত স্থবির হয়ে পড়ছে ঢাকা। দিন যাচ্ছে আর বাড়ছে দাবি আদায়ের আন্দোলন। কখনও কখনও ঘটছে ভাঙচুর-সহিংসতা। এগুলো কী শুধুমাত্রই কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা? না কী পূর্ব পরিকল্পিত? সবকিছুর মধ্যেই যেন ঢাকাকে অচল করে দেওয়ার চক্রান্ত। দাবি আদায়ে রাজপথকেই বেছে নেওয়াকে যারা সমাধান দেখছেন তাঁরা ভেবেও দেখছেন না কী অসহনীয় ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে জনজীবনকে। আলোচনার দুয়ার সরকার খুলে রাখলেও দাবি আদায়ের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে রাজধানীকে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারির) কথাই ধরা যাক। স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করাসহ সাত দফা দাবিতে সরকারি তিতুমীর কলেজের প্রধান ফটকের সামনে শিক্ষার্থীদের অবস্থান নেওয়ার কারণে সকাল ১১টা থেকে কলেজের সামনের সড়কের দুই পাশে (আমতলী থেকে গুলশান ১ এবং গুলশান ১ থেকে আমতলী) যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রভাবে কিছুক্ষণের মধ্যে আমতলীসহ আশপাশের সড়কগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় পথচলতি মানুষদের। এদেরই একজন শফিউল আলম। থাকেন রাজধানীর মিরপুরে। জরুরি প্রয়োজনে এসেছিলেন গুলশানে। ভাঙা হাত নিয়ে চলাচলেও ভীষণ কষ্ট। কিন্তু সড়ক অবরোধের মুখে পায়ে হেঁটেই গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা। গজর গজর ভঙ্গিতে তিনি বলছিলেন, ‘অসুস্থ শরীর নিয়ে আমাকে হেঁটে যেতে হচ্ছে। হাজার হাজার মানুষ পথে আটকা পড়েছেন।’ এই ব্যক্তি প্রশ্ন রাখেন দু’টি। পাবলিকের দোষ কোথায়? আর দাবি দাওয়ার কারণে কেন মূল্য দিতে হবে সাধারণ মানুষকে? কিন্তু কে উত্তর দিবে তাঁর প্রশ্নের।

জানা যায়, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে রাজপথে আন্দোলন হয়ে উঠেছে নিত্যদিনের চিত্র। সাড়ে ৫ মাসের অধিক সময়ে সড়ক অবরোধ, সংঘর্ষ বা হতাহতের ঘটনাও কম ঘটেনি। মাঝখানে কিছুটা বিরতি থাকলেও সম্প্রতি পুনরায় ঘন ঘন অবরোধের ঘটনা ঘটছে। নেতিবাচক এই প্রভাবে বিপর্যস্ত, বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ রাজধানীবাসী। সরকার শুরু থেকেই যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলনের অধিকারকে সমর্থন করলেও সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে আন্দোলন না করতে বারবার আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু কে শোনে কার কথা! ইতোমধ্যেই সবার মধ্যে একটি বিষয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে রাজপথ অবরোধ করলেই সমস্যার সমাধান হবে। আদায় করা সম্ভব হবে দাবি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও অতীতের মতো চড়াও না হয়ে যথেষ্ট ধৈর্য্যরে পরীক্ষা দিচ্ছে। তাঁরা বেশিরভাগ সময়েই কোন রকম বল প্রয়োগ করেনি। তবে প্রতিটি আন্দোলনে তৃতীয় কোন পক্ষের উস্কানি বা ইন্ধন রয়েছে কীনা এই বিষয়টিও খতিয়ে দেখার জোর দাবি ওঠেছে।

জানা যায়, চলতি মাসে ইবতেদায়ি মাদরাসা জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলনে নামেন ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষকেরা। তারা প্রথমদিকে প্রেসক্লাবের সামনে এবং পরে শাহবাগে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করতে থাকেন। রাস্তা অবরোধ করে আন্দোলন করায় ওই রাস্তায় জনদুর্ভোগে পড়ে নগরবাসী। দাবি আদায় না হওয়ায় তারা প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাতে বাঁধা দেয় এবং লাঠিচার্জ করে। পরে বিষয়টি নিয়ে নানা সমালোচনা হয়। তার পরেই ইবতেদায়ি শিক্ষকদের দাবি মেনে নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। তারপর তারা রাস্তা ছেড়ে দেন।

মূল বেতনের সঙ্গে রানিং অ্যালাউন্স যোগ করে পেনশন এবং আনুতোষিক সুবিধা দেওয়ার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন করে আসছিলেন রেলের রানিং স্টাফরা। এই রানিং স্টাফরা হলেন গার্ড, ট্রেনচালক (লোকোমাস্টার), সহকারী চালক ও টিকিট পরিদর্শক (টিটিই)। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করেও তারা সফল হননি। তবে হঠাৎ তারা ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দিয়ে কঠোর অবস্থানে যান। এতে বিপাকে পড়েন যাত্রীরা। সারাদেশে একযোগে ট্রেন চলাচল বন্ধ হওয়ায় নানা সমালোচনা তৈরি হয়। তাই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিষয়টি সমাধান করার জন্য কয়েক দফায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। পুরো একদিন রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকার পর তাদের দাবি মেনে নেয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

এই দুই আন্দোলনের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যের এক বক্তব্য ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা ঢাবি অধিভুক্ত থেকে বেরিয়ে আসতে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন করছেন। এই সংঘর্ষের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সাত কলেজের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধান দিয়েছেন। এ ছাড়াও কিছুদিন আগে পোস্টগ্র্যাজুয়েট প্রাইভেট ট্রেইনি চিকিৎসকরা ভাতা বাড়ানোর দাবিতে রাজপথে নামেন। তারাও রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ শাহবাগ মোড় অবরোধ করে সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যান। সেই আন্দোলনের এক পর্যায়ে তাদের দাবিও মেনে নেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা। এর মাঝে নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এদিকে, বিগত সরকারের আমলে অবৈধভাবে চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্যদের পুনর্বহালের দাবিতে তারা আবারও আন্দোলনে নেমেছেন। আজ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তারা একটি পদযাত্রা বের করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে তাদের পদযাত্রাটি সচিবালয়ে গিয়ে অবস্থান নিয়েছে।

এভাবে প্রতিদিনই নতুন নতুন আন্দোলনে রাজধানীতে রাস্তা অবরোধ হচ্ছে। রাস্তা অবরোধ না করে বিকল্প স্থানে আন্দোলনের করার জন্য জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি শাহবাগে না দাঁড়িয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আন্দোলন করার জন্য অনুরোধ করেন। তবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার এই বক্তব্যে তেমন সাড়া দেননি আন্দোলনকারীরা।

রাজধানীতে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলনের বিষয়টি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এতদিন একপক্ষের লোকেরা সুবিধা নিয়েছে, তাই বঞ্চিতরা দাবি আদায়ে রাজপথে নামছেন। এই সময়টা কাজে লাগাতে পারলে হয়তো দাবি পূরণ সম্ভব তাই তারা রাজপথে নামছেন। তবে আন্দোলন করতে গিয়ে যাতে মানুষের জনদুর্ভোগ না হয় সেই দিকে সবার দৃষ্টি থাকা প্রয়োজন।

কালের আলো/এমএএএমকে

রোহিঙ্গা সংকট একটি সমাধানযোগ্য সমস্যা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৩৬ অপরাহ্ণ
রোহিঙ্গা সংকট একটি সমাধানযোগ্য সমস্যা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও কার্যকর সমাধান রাখাইন রাজ্যেই নিহিত এবং এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে শুধু মানবিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, সম্মানজনক ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আরও সক্রিয় ও ফলপ্রসূ ভূমিকা নিতে হবে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে তুরস্কে চলমান আন্তালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরামে প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য প্রদানকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক দাতা সহায়তা কমে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি এই প্রেক্ষাপটে অর্থায়ন বৃদ্ধি, রাখাইনে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
তিনি জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মিয়ানমার সরকার এবং আরাকান আর্মি—উভয় পক্ষই তাঁকে স্বাগত জানিয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট একটি সমাধানযোগ্য সমস্যা—তবে এর জন্য প্রয়োজন সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ ও ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা।
কালের আলো/এসআর/ এএএন 

ফের হরমুজ বন্ধ করল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৩১ অপরাহ্ণ
ফের হরমুজ বন্ধ করল ইরান

পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি ফের বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকায় আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে এই ঘোষণা দিয়েছে দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

আইআরজিসির যৌথ সামরিক কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে যাওয়ায় হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ‘আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেছে’।

আইআরজিসির বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ‘অবরোধের নামে জলদস্যুতা ও সামুদ্রিক চুরি চালিয়ে যাচ্ছে’।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এই কারণে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ আবার আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে এবং এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ এখন সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর তত্ত্বাবধানে রয়েছে।’

এতে বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্র যতদিন না ইরান থেকে জাহাজগুলো স্বাভাবিকভাবে তাদের গন্তব্যে যাতায়াতের পূর্ণ স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিচ্ছে, ততদিন হরমুজ প্রণালির অবস্থা কঠোর নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং আগের মতোই থাকবে।’

এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখলে হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ করে দেওয়া হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, ‘অবরোধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি খোলা থাকবে না। এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল ইরানের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে।’

বিশ্বব্যাপী নৌপরিবহণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি পরিবহন করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসনের প্রেক্ষিতে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বন্ধ করে দিয়েছিল ইরান।

এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দেয়। যার প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে। কিন্তু শত চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। তেহরান নৌপথটি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পুরো অঞ্চলজুড়ে অত্যাবশ্যকীয় অবকাঠামোতে আঘাত হানার সক্ষমতা ও ইচ্ছা উভয়ই প্রদর্শন করেছে, যা উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাসভিত্তিক অর্থনীতিকে বিপন্ন করেছে।

লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে দীর্ঘ প্রায় ছয় সপ্তাহ পর শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়েছিল ইরান। ওই দিন বিকেলে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক ঘোষণায় জানান, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকাকালে প্রণালি দিয়ে সব বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল উন্মুক্ত থাকবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকায় মাত্র এক দিনের মাথায় ফের বন্ধ করে দিলো তেহরান।

কালের আলো/এসআর/ এএএন

 

গভীর রাতে হজক্যাম্পে ধর্মমন্ত্রী, খোঁজ নিলেন সেবার মান ও ব্যবস্থাপনার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:২৩ অপরাহ্ণ
গভীর রাতে হজক্যাম্পে ধর্মমন্ত্রী, খোঁজ নিলেন সেবার মান ও ব্যবস্থাপনার

রাজধানীর আশকোনা হজক্যাম্পে হজযাত্রীদের সেবা ও কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করতে গভীর রাতে পরিদর্শনে গিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টায় ধর্মমন্ত্রী হজক্যাম্পে প্রবেশ করেন। তিনি হজযাত্রীদের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলোর ডেস্কে যান এবং তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজ নেন। মন্ত্রী ইমিগ্রেশন এরিয়ায় গিয়ে হজযাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং হজক্যাম্পের সেবা কার্যক্রম সম্পর্কে তাদের কাছ থেকে জানতে চান।

হজযাত্রীদের শারীরিক অবস্থার বিষয়েও খোঁজখবর নেন তিনি। শেষে মন্ত্রী ডরমিটরিতে যান এবং সেখানে অবস্থানকারী হজযাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। ডরমিটরির সামগ্রিক অবস্থা সম্পর্কেও জানতে চান মন্ত্রী।

হজক্যাম্পের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তারা ধর্মমন্ত্রীর এরূপ নিবিড় মনিটরিং কার্যক্রমে বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং তার জন্য দোয়া করেন।

সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে ধর্মমন্ত্রী বলেন, হজযাত্রীরা আল্লাহর মেহমান। এটি মাথায় রাখতে হবে এবং তাদের সঙ্গে সেভাবে আচরণ করতে হবে। হজযাত্রীরা যেন কোনো কষ্ট না পান সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী রাত সোয়া একটার দিকে হজক্যাম্প ত্যাগ করেন।

কালের আলো/এসএকে