খুঁজুন
                               
বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

নৌবাহিনীর ঘরে ওদের যেন স্বর্গ সুখের আনন্দ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ১১:২৭ অপরাহ্ণ
নৌবাহিনীর ঘরে ওদের যেন স্বর্গ সুখের আনন্দ

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

ইতিহাসের ভয়াবহ বন্যায় তছনছ হয়ে যায় ফেনী সদর ও ফুলগাজী উপজেলা। বুক সমান পানি জমে ঘর-বসতিতে। ঘর-বাড়ি হারিয়ে নি:স্ব হয় অনেকেই। বিপদগ্রস্ত এসব মানুষের তাৎক্ষণিক সহায়তায় এগিয়ে আসে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। ত্রাণসামগ্রী, বিশুদ্ধ খাবার পানি, আশ্রয় কেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থানে পানিবন্দি মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার, বস্ত্র সামগ্রী ও প্রয়োজনীয় উপকরণ বিতরণের মাধ্যমে তাঁরা তাদের পাশে দাঁড়ায়। দীর্ঘমেয়াদে এসব কূলহারা মানুষের পুনর্বাসনেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছে নৌবাহিনী। ঘরদোর হারিয়ে আত্মীয় স্বজনের ঘরে কিংবা খোলা আকাশের নিচে বাস করতে হয়েছে অনেককেই। অবশেষে তাদের সেই দু:খগাঁথা দূর করে প্রশান্তির হাসি ফুটিয়েছে তাঁরাই।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এসব অসহায় ও ভাগ্যবিড়ম্বিত মানুষের নতুন পথের দিশা দিয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। তাঁরাই দিয়েছে মাথাগোঁজার শান্তি। নিজেদের উদ্যোগে নতুনভাবে নির্মিত ৮৫টি বাড়ি হস্তান্তর করা হয়েছে তাদের কাছে। নতুন ঘরের বারান্দায় যেন এখন স্বর্গ সুখের আনন্দ ওদের। জলেভাসা পদ্মের মতো সেই জীবন আজ খুঁজে পেয়েছে প্রকৃত জীবনের মানে। এমন হাসিমাখা, আনন্দমুখর মুখ স্বভাবতই তৃপ্ত করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিবার কল্যাণ সংঘের প্রেসিডেন্ট নাদিয়া সুলতানা ও নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসানকে। নাদিয়া সুলতানার উদ্যোগ ও এডমিরাল এম নাজমুল হাসান এর প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায় নির্মিত এসব বাড়ি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সীমাহীন দু:খের সময় পেরিয়ে জীবনে দিয়েছে নিশ্চয়তা, স্বস্তি ও পরম আনন্দ। এর আগেই বাংলাদেশ নৌবাহিনী ফেনী জেলার সদর ও ফুলগাজী উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, এতিমখানা ও মন্দিরসহ ৩৯টি প্রতিষ্ঠানে ব্যবহার্য বিভিন্ন উপকরণ সামগ্রী বিতরণ করেছে।

শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের কমান্ডার রিয়ার এডমিরাল মীর এরশাদ আলী নবনির্মিত ৮৫টি বাড়ি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন। মানুষের করুণা ও দয়ার পাত্র হয়ে বেঁচে থাকার জীবনের অবসান ঘটায় নতুন ঘর পাওয়া এসব লোকজন শুধুমাত্র নৌবাহিনী পরিবার কল্যাণ সংঘের প্রেসিডেন্ট নাদিয়া সুলতানা ও নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশই নয়, তাদের জন্য প্রাণ খুলে দু’হাত তুলে প্রার্থনাও করেছেন।

ঘরসহ সব কিছু পাওয়ার আনন্দে ওদের প্রত্যেকের চোখে মুখে আনন্দের হাসি। ঘর পেয়ে কেমন লাগছে জিজ্ঞেস করায় একজন বলেন, ‘আমাদের নিজেদের ঘর ছিল। ভয়াবহ বন্যা কেড়ে নিয়েছে সব। স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারিনি যে, আমরা একখানা নতুন ঘর পাবো। এই বয়সে এত সুন্দর ঘরে থাকতে পারবো। আমি ভীষণ খুশি হয়েছি। এর মাধ্যমে আমাদের সামাজিক মর্যাদাও বৃদ্ধি পেয়েছে। দোয়া করবো যতদিন বেঁচে থাকবো নৌবাহিনীসহ সবার জন্য।’

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, গত বছরের ২১ আগস্ট প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানি প্রবেশের কারণে দেশের পূর্বাঞ্চলের বৃহত্তর ফেনীসহ কয়েকটি জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। স্মরণকালের ভয়াবহ ও আকস্মিক এই প্লাবনে বাড়ি-ঘর, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দিরসহ সম্পূর্ণ এলাকা তলিয়ে যায়। এতে বিপুল সংখ্যক মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে। বন্যা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিবার কল্যাণ সংঘের উদ্যোগে এবং নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় ফেনী জেলার সদর ও ফুলগাজী উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে বাড়ি নির্মাণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংস্থা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরও এই কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হয়। বন্যায় বাড়ি-ঘর হারিয়ে আশ্রয়হীন ও অসহায় মানুষদের নিরাপদ আবাসন ব্যবস্থা করে দিতে গত বছরের ৯ অক্টোবর এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়। নবনির্মিত বাড়িগুলো বাংলাদেশের মুন্সিগঞ্জের মতো বন্যা প্রবণ এলাকায় খুবই উপযোগী হিসেবে দীর্ঘদিন যাবত ব্যবহৃত হয়ে আসছে। দেড় তলা বিশিষ্ট এই বাড়িগুলোতে বন্যাকালে পানিবন্দি মানুষদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিজ বাড়িতেই নিরাপদে অবস্থান করার সুবিধা রয়েছে।

শুধু তাই নয়, বন্যার মহাদুর্যোগকালীন সময়ে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের আওতায় নৌবাহিনী উদ্ধারকারী দল পানিবন্দি মানুষদের উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছানোর পাশাপাশি ত্রাণসামগ্রী, বিশুদ্ধ খাবার পানি, আশ্রয় কেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থানে পানিবন্দি মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার, বস্ত্র সামগ্রী ও প্রয়োজনীয় উপকরণ বিতরণ করে। বন্যা দুর্গত এলাকায় ৩৫ শয্যা বিশিষ্ট ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন করে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিক্যাল টিম বন্যার্তদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করে।

কালের আলো/এমএএএমকে

১৭ বছর পর ভাত খেলেন সেই ইনু মিয়া!

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৩৪ পূর্বাহ্ণ
১৭ বছর পর ভাত খেলেন সেই ইনু মিয়া!

ভোটকেন্দ্রে লাঞ্ছিত হওয়ার প্রতিবাদে এবং নিজের প্রিয় দল ও নেতার বিজয়ের প্রতীক্ষায় দীর্ঘ ১৭ বছর ভাত না খাওয়ার কঠিন প্রতিজ্ঞা অবশেষে ভাঙলেন কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের বৃদ্ধ মো. ইনু মিয়া (৮০)।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমের উপস্থিতিতে শত নেতাকর্মীর মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে ভাত খেয়ে তিনি তার দীর্ঘ শপথের অবসান ঘটান।

ইনু মিয়া কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার রামদি ইউনিয়নের পশ্চিম জগৎচর গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় দিনমজুর এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার একনিষ্ঠ ভক্ত এই বৃদ্ধ পড়ালেখা না জানলেও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সচেতন।

ঘটনার সূত্রপাত ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে। স্থানীয় জগৎচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে গেলে ইনু মিয়াকে বাধা দেন স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা। ধানের শীষে ভোট দেওয়ায় তাকে লাইন থেকে টেনে বের করে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে অপদস্থ করা হয়। সেই অপমান সইতে না পেরে ইনু মিয়া প্রতিজ্ঞা করেন- যতদিন না বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফিরবে এবং শরীফুল আলম এমপি নির্বাচিত হবেন, ততদিন তিনি আর অন্ন স্পর্শ করবেন না।

সেই থেকে টানা ১৭ বছর তিনি ভাত ছাড়াই দিনাতিপাত করেছেন। পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী এমনকি জুলাই বিপ্লবের পর শরীফুল আলম নিজে তার বাড়িতে গিয়ে অনুরোধ করলেও তিনি নিজের অবস্থানে অটল ছিলেন। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি কেবল রুটি, কলা, মুড়ি ও চিড়া খেয়ে বেঁচে ছিলেন।

ইনু মিয়ার স্ত্রী জোস্না বেগম জানান, তাকে ছাড়া ভাত খেতে পরিবারের সবার কষ্ট হলেও ইনু মিয়াকে কোনোভাবেই রাজি করানো যায়নি। অবশেষে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে বিএনপি ক্ষমতায় আসায় এবং প্রিয় নেতা শরীফুল আলম এমপি নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ায় ইনু মিয়ার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। মঙ্গলবার প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলমের হাতে ভাত খাওয়ার মাধ্যমে তার দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটে।

এ সময় আবেগাপ্লুত প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেন, ইনু মিয়ার মতো নিবেদিতপ্রাণ ও ত্যাগী কর্মীরাই বিএনপির আসল প্রাণশক্তি। তাদের কারণেই নানা ষড়যন্ত্র ও নির্যাতনের পরও দল বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তিনি ইনু মিয়াকে সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদানেরও ঘোষণা দেন।

কালের আলো/ এসাআর/ এএএন 

ইরানের তেলে আর কোনো ছাড় হবে না: ট্রাম্প 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:২৭ পূর্বাহ্ণ
ইরানের তেলে আর কোনো ছাড় হবে না: ট্রাম্প 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

সমুদ্রে আটকা পড়ে থাকা ইরানি তেল বিক্রির যে স্বল্পমেয়াদী অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তার মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠকের আগে ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবে এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

একাধিক জাহাজে প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুত করে রেখেছিল ইরান। ছিল পেট্রোকেমিক্যালস পণ্যও। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই হরমুজ় প্রণালী কার্যত বন্ধ। তেলের বাজারে শুরু হয় হাহাকার। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে দাম। এই পরিস্থিতিতে সাপ্লাই চেন বজায় রাখতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ফলে মজুত তেলের পুরোটাই বিক্রি করতে পারে ইরান।

এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি দফতর জানায়, ‘সমুদ্রে থাকা জাহাজে মজুত তেলের উপরে যে ছাড় দেওয়া হয়েছিল, তা নির্ধারিত সময়েই শেষ হবে। তার পরে আর ছাড়ের মেয়াদ বাড়ানো হবে না।’ ইরানের বিরুদ্ধে ‘ইকোনমিক ফিউরি’ নামে নতুন নীতি গ্রহণ করেছে দেশটি।

এই নিষেধাজ্ঞা তারই অংশ। শুধু তেল নয় ইরানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করলে সেই দেশ বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গত শনিবার ইসলামাবাদে শান্তি বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পরেই হরমুজ় প্রণালীতে অবরোধ শুরু করে মার্কিন সেনারা।  কোনো দেশের জাহাজই ঢুকতে বা বেরতে পারছে না। এই আবহেই আগামী দুদিনের মধ্যে ফের আলোচনায় বসতে চলেছে দুই দেশ। তার আগে ছাড় তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে ইরানের উপরে চাপ বাড়ানোর কৌশল হিসেবেই দেখছেন অনেকে।

‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর প্রতিবেদন থেকে জানা যায, যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান ২০ বছরের জন্য তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ রাখুক। কিন্তু ইরান ৫ বছরের বেশি রাজি না হওয়ায় প্রথম দফার বৈঠক সফলতার মুখ দেখেনি। তবে গত কয়েক দিনের আলোচনা ও বার্তা আদান-প্রদানের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় দফা শান্তি বৈঠকের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এতে করে তুলে নেওয়া হতে পারে অবরোধ। খুলে যেতে পারে হরমুজ প্রণালিও।

কালের আলো/ এসাআর/এএএন 

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরু আজ, মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:২১ পূর্বাহ্ণ
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরু আজ, মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

প্রায় দেড় যুগ বিরতির পর শুরু হচ্ছে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে শুরু হচ্ছে এই পরীক্ষা। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে পরীক্ষার রুটিন ও পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রকাশ করেছে। এতে পরীক্ষার্থীদের জন্য ১০টি বিশেষ নির্দেশনা এবং পরীক্ষা চলাকালীন আচরণবিধি কী হবে তা জানানো হয়েছে।

সবশেষ ২০০৮ সালে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পরে ২০০৯ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা চালু করা হলে তার ফলাফলের ভিত্তিতেই বৃত্তি প্রদান করা হতো।

এবারের প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী ১৫ এপ্রিল বাংলা, ১৬ এপ্রিল ইংরেজি, ১৭ এপ্রিল প্রাথমিক গণিত এবং ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ও প্রাথমিক বিজ্ঞান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়া হবে।

তবে তিন পার্বত্য জেলা- রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে পরীক্ষার সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন রাখা হয়েছে। এসব জেলায় ১৭ এপ্রিল প্রাথমিক গণিত, ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ও প্রাথমিক বিজ্ঞান, ১৯ এপ্রিল বাংলা এবং ২০ এপ্রিল ইংরেজি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার সময় অপরিবর্তিত থাকবে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ-এই দুই ক্যাটাগরিতে বৃত্তি দেওয়া হবে। মেধা তালিকায় ছাত্র ও ছাত্রীদের সমানুপাতিক হারে, অর্থাৎ ৫০ শতাংশ করে নির্বাচন করা হবে। এছাড়া মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং বাকি ২০ শতাংশ বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রবেশপত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং মোবাইল ফোন বা কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে আনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। উত্তরপত্র যথাযথভাবে পূরণ, ইনভিজিলেটরের স্বাক্ষর নিশ্চিত করা এবং নির্ধারিত সময়ের আগে হল ত্যাগ না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া পরীক্ষা কক্ষে কোনো ধরনের কথাবার্তা, প্রশ্নপত্র বিনিময় বা অননুমোদিত উপায়ে সহায়তা নেওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পরীক্ষা শেষে ইনভিজিলেটরের কাছে উত্তরপত্র জমা দিয়েই পরীক্ষার্থীদের হল ত্যাগ করতে হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

কালের আলো/এসাআর/ এএএন