খুঁজুন
                               
বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

সেনাপ্রধানের ‘ম্যাসেজিং স্পিচ’ লাউড অ্যান্ড ক্লিয়ার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ১১:০৬ অপরাহ্ণ
সেনাপ্রধানের ‘ম্যাসেজিং স্পিচ’ লাউড অ্যান্ড ক্লিয়ার

কালের আলো রিপোর্ট:

গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। অন্তর্বর্তী সরকার বেশ কিছু ক্ষেত্রে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। সংস্কার বাস্তবায়নে অনিবার্য হয়ে ওঠেছে জাতীয় ঐকমত্য। স্বভাবতই গণতন্ত্রের শক্তি সামষ্টিকতায় আর সৌন্দর্য ভিন্নমতে। সামষ্টিকতা ও ভিন্নমতের ভারসাম্যের মাধ্যমেই গণতন্ত্র জয়ী হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সংস্কার ও নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র মতানৈক্য তৈরি হয়েছে। ছাত্র সংগঠনগুলো বিশৃঙ্খলা, সংঘাত ও সংঘর্ষে জড়িয়েছে। অনেকটাই ভেঙে পড়েছে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। দেশকে অস্থির করে তোলার জন্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বিভিন্ন সুযোগ সন্ধানী গোষ্ঠী। পরিকল্পিতভাবেই তাঁরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর মাধ্যমে দুরভিসন্ধি ও অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কারও কারও বিশেষ উদ্দেশ্য বা এজেন্ডা রয়েছে। অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের ইচ্ছা বা অভিপ্রায়ের সরকার হিসেবে নিজেদের ভাবমূর্তি গড়ার প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালালেও বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ও অশুভ শক্তি নিজের স্বার্থ হাসিলে অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। সবমিলিয়ে জনমনে হতাশা ও উৎকণ্ঠা কাজ করছে।

দেশের এমন পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ‘ম্যাসেজিং স্পিচ’ দিয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর রাওয়া কনভেনশন হলে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবসের’ অনুষ্ঠানে ঐক্য, সংহতি, গণতন্ত্র, সংস্কার এবং নির্বাচনের পক্ষে নিজের অবস্থান খোলাসা করেছেন আরও একবার। আসছে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। মারামারি-কাটাকাটি আর কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করতে সব পক্ষের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়েছেন। স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন এমনটি না হলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে। পিলখানার বর্বরতা বিডিআর সদস্যরাই সংঘটিত করেছে জানিয়ে তিনি বলেছেন- ‘ফুল স্টপ। এখানে কোনো ইফ বা  বাট নাই।’ কোনো বাহিনীকে অবমূল্যায়ন না করার আহ্বান জানিয়েছেন। হৃদয়ের অতলান্তিক গভীরতায় বলেছেন, ‘সেনাবাহিনীকে আক্রমণ করবেন না। উপদেশ দেন। তা আমরা গ্রহণ করবো।’ দেশের মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের শেষ ভরসা সেনাবাহিনী প্রধানের এমন তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্যে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে চলছে তুমুল আলোচনা ও চূলচেরা বিশ্লেষণ।

রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশে বিরাজমান কঠিন পরিস্থিতিতে নিজের এই বক্তব্যের মাধ্যমে সেনাপ্রধান সবাইকে যেমন উপদেশ দিয়েছেন, তেমনি যারা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন, তাদের সমালোচনা করে সতর্কও করেছেন। চলমান সঙ্কট দূর করতে এর মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট একাধিক বার্তা দিয়েছেন। বিশেষ করে গত বছরের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে দেশের মানুষের পাশে এসে দাঁড়ায় সেনাবাহিনী। অভ্যুত্থান সফলে পালন করে নিয়ামকের ভূমিকা। সেনাপ্রধানের একটি ঘোষণায় পাল্টে যায় দৃশ্যপট। তিনি সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন- জনগণের বুকে গুলি নয়। তিনি অক্ষরে অক্ষরে নিজের কথা রেখেছেন। লাশের সারি দীর্ঘ না করে দেশকে একটি শাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি থেকে তিনি মুক্ত করেন। জেনারেল ওয়াকার অন্যদের মতো ক্ষমতার মোহে আচ্ছন্ন হননি। তিনি জরুরি অবস্থা জারি করে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার খর্ব না করে দেশবাসীর প্রত্যাশিত ড.ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে সফল করতে সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সেনাপ্রধান ও তাঁর বাহিনীর সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও দেশপ্রেম আজ সব মহলেই প্রশংসিত।’

ক্ষমতার বিষয়ে কোন আকাঙ্ক্ষা নেই বলে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবসের’ অনুষ্ঠানে নিজের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। দেশ ও জাতিকে সুন্দর জায়গায় রেখে সেনানিবাসে ফেরত যাওয়ার কথা বলেছেন। তাঁর পুরো বক্তব্যে আশান্বিত হয়েছেন দেশের মানুষ। তাঁরা তাঁর ওপর আস্থা রাখছেন। তাদের ভাষ্যে-সেনাপ্রধানের ম্যাসেজ ছিল অনেকটাই লাউড অ্যান্ড ক্লিয়ার। এটি দেশের রাজনীতিকদের জন্য যেমন বার্তা, তেমনি অন্যদের জন্যও বিশেষ এক সতর্কতা। তাঁর এমন স্পষ্ট ও নির্ভীক উচ্চারণ দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় ক্ষেত্রে দিকনির্দেশনা হিসেবে সবাইকে বিবেচনা করতে হবে। এতে দেশের মঙ্গল ও শান্তি নিশ্চিত হবে।’

বিশ্লেষকরা আরও মনে করেন, দেশের রাজনৈতিক দলগুলো যখন পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ও সংঘাতে লিপ্ত, তখন এই বিভেদ ও অস্থিরতা বিদেশী শক্তির হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি করতে পারে। সুতরাং তাঁর এই বক্তব্য কেবল দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবেই নয় বরং দেশের একজন সচেতন নাগরিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে জাতিকে একীভূত হওয়ার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে। তাঁর এই বক্তব্য মারফত সংঘাত এড়িয়ে চলার পরিকল্পনা গ্রহণ করলে দেশের চলমান সঙ্কট বা অনিশ্চয়তার কালো মেঘ দূর করা সম্ভব। তাঁর সতর্কবার্তা গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করলে দেশকে হানাহানি, রক্তারক্তি ও সংঘাতের পথ থেকে উত্তরণ সম্ভব।’

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর গত ১৬ বছরে অভিযুক্ত বিডিআর সদস্যদের বিচার হয়েছে। অনেকের সাজা হয়েছে। অনেকে খালাস পেয়েছেন। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর ওই হত্যাযজ্ঞ নতুন করে তদন্তের দাবি ওঠে। সেই মোতাবেক অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে। এই বিষয়েও ঢালাও অভিযোগের চর্চা থেকে বেরিয়ে তদন্তের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান ছিল সেনাপ্রধানের কণ্ঠে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘বটমলাইন হচ্ছে যে এই সমস্ত, আমাদের এই চৌকস সেনাসদস্য, যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন তদানীন্তন বিডিআর সদস্যদের গুলিতে। আমরা নিজেরা এসব জিনিস নিয়ে অনেক ভিন্নমত পোষণ করছি কেউ কেউ। এই জিনিসটাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছি। সেটা আমাদের জন্য মঙ্গলজনক হবে না।’

সেনাপ্রধান নিজের দীর্ঘ বক্তব্যে সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, ডিজিএফআই ও এনএসআই-এর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এই সংস্থাগুলো দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছে। খারাপ কাজের পাশাপাশি অসংখ্য ভালো কাজও করেছে। আজ যে দেশের স্থিতিশীলতা, দেশটাকে যে এত বছর ধরে স্থিতিশীল রাখা হয়েছে, এর পেছনে এই সশস্ত্রবাহিনীর বহু সদস্য, সিভিলিয়ান সবাই মিলে এই সংস্থাগুলোকে কার্যকর রেখেছে।’ তিনি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর বহুমাত্রিক কর্মযজ্ঞের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন। শৃঙ্খলার জন্যই এখনও এই তিনটি বাহিনী স্বগৌরবে টিকে আছে। তিনি উদাহরণ টেনেছেন এই বিষয়ে। বলেছেন, ‘আজকে এই দেশের ক্রান্তিলগ্নে সমস্ত বাহিনী, সমস্ত অর্গানাইজেশন (প্রতিষ্ঠান) বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। খালি সেনাবাহিনী টিকে আছে। বিমানবাহিনী টিকে আছে। নৌবাহিনী টিকে আছে। কেন? বিকজ অব ডিসিপ্লিন (শৃঙ্খলার জন্য)।’ তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ ভাষ্য সব বাহিনী ও সংস্থাগুলোতে মনোবল ও শৃঙ্খলার রসদ জোগাবে বলেও মনে করেন বিশ্লেষকরা।

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান নিজের বক্তব্যে দৃশ্যত জাতীয় নির্বাচনের একটি পথরেখা উপস্থাপন করেছেন। জানিয়েছেন, ডিসেম্বর বা তাঁর কাছাকাছি সময়ের মধ্যে অবাধ, স্বচ্ছ ও ইনক্লুসিভ নির্বাচনের ব্যাপারে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্পূর্ণ একমত। সেনাপ্রধানের বক্তব্যে নির্বাচনের বিষয়ে একটি স্পষ্ট সময়সীমা মিলেছে। ড.ইউনূস দেশকে ঐক্যবদ্ধ রাখার আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এমন কথাও দৃঢ়তার সঙ্গে উপস্থাপন করেছেন। এর মাধ্যমে নির্বাচনের বিষয়ে অঙ্ক কষা অনেকটাই সহজ হয়ে গেছে। তিনি এই প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘আমরা দেশে একটা ফ্রি ফেয়ার অ্যান্ড ইনক্লুসিভ ইলেকশনের জন্য দিকে ধাবিত হচ্ছি। তার আগে যে সমস্ত সংস্কার করা প্রয়োজন অবশ্যই সরকার সেদিকে হেল্প করবেন।

আমি যতবারই ড. ইউনূসের সঙ্গে কথা বলেছি, হি কমপ্লিটলি অ্যাগ্রিড উইথ মি। দেয়ার শুড বি ফ্রি ফেয়ার অ্যান্ড ইনক্লুসিভ ইলেকশন অ্যান্ড দ্যাট ইলেকশন শুড বি উইথইন ডিসেম্বর, অর ক্লোজ টু দ্যাট। যেটা আমি প্রথমেই বলেছিলাম যে ১৮ মাসের মধ্যে একটা ইলেকশন। আমার মনে হয় যে সরকার সেদিকেই ধাবিত হচ্ছে। ড. ইউনূস যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন, এ দেশটাকে ইউনাইটেড রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন উনি। ওনাকে আমাদের সাহায্য করতে হবে। উনি যেন সফল হতে পারেন। সেদিকে আমরা সবাই চেষ্টা করবো। আমরা একসঙ্গে ইনশাআল্লাহ কাজ করে যাবো।’

সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এর সাহসী, নির্ভীক ও দৃঢ়চেতা এমন সব উচ্চারণ দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে একটি ‘সহায়ক কোর্স’ হিসেবে কাজ করতে পারে বলে অভিমত বিশ্লেষকদের। তাঁরা মনে করেন, সেনাপ্রধান বুঝিয়ে দিয়েছেন সবার আগে দেশ। দেশের স্বার্থ ও নাগরিকদের অধিকারকেই তিনি প্রাধান্য দিয়েছেন। সব সংকীর্ণতার উর্ধ্বে ওঠে দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার বিষয়টি সর্বাগ্রে গুরুত্ব দিয়েছেন। বাংলাদেশের ইতিহাস অবশ্যই তাকে স্মরণ করবে শ্রদ্ধায়-ভালোবাসায়।

কালের আলো/এমএএএমকে

পরিশ্রম-সততা মানুষকে স্বপ্নের সমান উচ্চতায় নিয়ে যায়: বাসস চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৪০ অপরাহ্ণ
পরিশ্রম-সততা মানুষকে স্বপ্নের সমান উচ্চতায় নিয়ে যায়: বাসস চেয়ারম্যান

পরিশ্রম ও সততা মানুষকে তার স্বপ্নের সমান উচ্চতায় নিয়ে যায় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) চেয়ারম্যান আনোয়ার আলদীন। তিনি বলেন, শুধু স্বপ্ন দেখলেই হবে না, সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য একাগ্রতা, অব‍্যাহত প্রচেষ্টা, শৃঙ্খল ও দৃঢ় মানসিকতা প্রয়োজন।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাসস চেয়ারম্যান এসব বলেন। চলতি বছরের এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী চারটি স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রেনেসাঁ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গজারিয়া পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই অনুষ্ঠান হয়।

রেনেসাঁ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. মো. আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যারিস্টার বেলায়েত হোসাইন, গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আলী এবং নোয়াখালী জেলা যুবদলের সভাপতি মনজুরুল ইসলাম সুমন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বাসস চেয়ারম্যান বলেন, তোমরা দেশের আগামীর স্বপ্ন সারথী। স্বপ্নই মানুষকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা যোগায় এবং বড় হওয়ার সাহস দেয়। যার স্বপ্ন যত বড়, সে তত বড় মানুষ। একজন মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়। শুধু স্বপ্ন দেখলেই হবে না, সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য একাগ্রতা, অব‍্যাহত প্রচেষ্টা, শৃঙ্খল ও দৃঢ় মানসিকতা প্রয়োজন। বড় স্বপ্ন দেখা এবং তা অর্জনের জন্য সততার সঙ্গে পরিশ্রম করাই মানুষকে তার স্বপ্নের সমান উচ্চতায় নিয়ে যায়।

বাসস চেয়ারম্যান বলেন, তোমাদের স্বপ্ন সফল করতে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সততা, শৃঙ্খলা ও পরিশ্রমই তোমাদের সফলতার মূল চাবিকাঠি। শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফলই যথেষ্ট নয়, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ অর্জন করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে হবে। আর মাদকের অতলগ্রাসী ছোবল এবং সোশাল মিডিয়ার কুপ্রভাব থেকে নিজেদের হেফাজত করতে হবে।

ড. মো. আতাউর রহমান শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে বলেন, সঠিক দিকনির্দেশনা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তোমরা দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন গজারিয়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান উল্লাহ, গজারিয়া ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার দিদার আলম, গজারিয়া পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশুতোষ কুমার সাহা, গজারিয়া সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আক্তারুজ্জামান, উপজেলা বিআরডিবি চেয়ারম্যান মাহবুব আলম খান, উপজেলা বিএনপির সদস্য মোক্তার হোসেন ও ফিরোজ আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রেনেসাঁ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের মহাসচিব মুক্তার হোসেন ভূইয়া। অনুষ্ঠানে গজারিয়া পাইলট মডেল হাই স্কুল, গজারিয়া গার্লস হাই স্কুল, ইসমানিচর উচ্চ বিদ্যালয় এবং গজারিয়া বাতেনিয়া আলিম মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং তাদের সফলতা কামনায় দোয়া করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে স্কুল প্রাঙ্গণে বৃক্ষ রোপণ করেন উপস্থিত অতিথিরা।

কালের আলো/এসআর/এএএন

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি চায় ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩৭ অপরাহ্ণ
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি চায় ইসরায়েল

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে বলে প্রত্যাশা করছে ইসরায়েল।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) ইসরায়েলি একটি সূত্র ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ওই তথ্য জানিয়েছে।

তেহরান-ওয়াশিংটনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি ও দ্বিতীয় দফার বৈঠকের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া বার্তা নিয়ে ইরানে পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলের উপস্থিতির মাঝে ইসরায়েল ওই প্রত্যাশার কথা জানিয়েছে। ইসরায়েলি ওই সূত্র বলেছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হবে বলে প্রত্যাশা করছে ইসরায়েল।

ইরানের সঙ্গে সংঘাতের অবসানে চুক্তির বিষয়ে অবগত আঞ্চলিক কর্মকর্তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টায় অগ্রগতি হয়েছে এবং বিবদমান দুই পক্ষই আলোচনার পরবর্তী দফার জন্য শিগগিরই পুনরায় বৈঠকে বসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

তারা বলেছেন, আগামী ২২ এপ্রিল থেকে শেষ হতে যাওয়া এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও অন্তত দুই সপ্তাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারীরা কাজ করছেন; যাতে কূটনীতির মাধ্যমে সংকটের সমাধানের সুযোগ তৈরি হয়। আঞ্চলিক ওই কর্মকর্তারা বলেছেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে উভয় পক্ষই ‘নীতিগতভাবে একমত’ হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার সঙ্গে জড়িত একজন কর্মকর্তা বলেন, মধ্যস্থতাকারীরা তিনটি প্রধান বিতর্কিত বিষয়—পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালি এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য কাজ করছেন।

এদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পুনরায় আলোচনা শুরু করার বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে তেহরানে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির। পাকিস্তানের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বুধবার তিনি তেহরানে পৌঁছেছেন।

ইরানের একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের নেতৃত্বে পাকিস্তানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ইরানে পৌঁছেছেন।

তেহরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং দ্বিতীয় দফার আলোচনার সমন্বয় করার লক্ষ্যে পাকিস্তানের এই প্রতিনিধিদল ইরান সফরে গেছে।

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা আইআরআইবি বলেছে, আগামী কয়েক দিনের মাঝে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

যুদ্ধ থামানোর উদ্যোগে ‘আশার আলো’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩৬ অপরাহ্ণ
যুদ্ধ থামানোর উদ্যোগে ‘আশার আলো’

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান তীব্র উত্তেজনা ও সংঘাত নিরসন এবং অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নতুন করে ‘আশার আলো’ দেখা যাচ্ছে। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে পুনরায় আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা এই আশাবাদ তৈরি করেছে। এ প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান।

গত শনিবার যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইসলামাবাদে সরাসরি আলোচনায় বসেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা। সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এটি দুই দেশের মধ্যে বিরল সরাসরি বৈঠকগুলোর একটি। তবে আলোচনা কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয় এবং উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ দেশে ফিরে যান।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আবারও সংলাপ শুরু হতে পারে। তাঁর দাবি, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা ঘনিয়ে এসেছে।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমার মনে হয় এটি প্রায় শেষ। হ্যাঁ, আমি এটিকে শেষ হওয়ার খুব কাছাকাছি বলেই মনে করি।”

এর আগে মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু হতে পারে। এ জন্য পাকিস্তানকেই উপযুক্ত স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

পাকিস্তান কেন প্রথম পছন্দ—এমন প্রশ্নের জবাবে নিউইয়র্ক পোস্টকে ট্রাম্প বলেন, “এর সম্ভাবনাই বেশি। কারণ ফিল্ড মার্শাল দারুণ কাজ করছেন। তিনি অসাধারণ—এ কারণে আমাদের সেখানে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। আমরা এমন কোনো দেশে কেন যাব, যার এ বিষয়ে কোনো সম্পর্ক নেই?”

পাকিস্তানের উদ্যোগ
মূলত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এই আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় দেশের সঙ্গেই পাকিস্তানের সুসম্পর্ক থাকায় তারা মধ্যস্থতার এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনার আগে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করতে সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্ক সফরে রওনা হয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।

বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সৌদি আরব ও কাতার সফর দ্বিপাক্ষিক প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হবে। আর তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য আন্তালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরামে অংশ নেবেন তিনি। ফোরামের ফাঁকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানসহ অন্যান্য বিশ্বনেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন শেহবাজ শরিফ। সফরে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দার।

অন্যদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু করার বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে ইতিমধ্যে তেহরানে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং দ্বিতীয় দফা আলোচনা সমন্বয়ের লক্ষ্যে তাঁর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের পাকিস্তানি প্রতিনিধিদল এই সফর করছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ইসলামাবাদে প্রথম দফার আলোচনা শেষ হওয়ার পরও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ‘বার্তা আদান-প্রদান’ অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, আগের বৈঠকের ধারাবাহিকতায় তেহরানে পাকিস্তানের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন ইরানি কর্মকর্তারা। সেখানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

বাঘাই আরও জানান, ইরান তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি চালিয়ে যেতে চায়। তবে এ কর্মসূচির ধরন ও মাত্রা নিয়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে।

বিশ্লেষকরা কী বলছেন
সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থায়ী শান্তির জন্য দুই পক্ষকেই কঠিন কিছু শর্তে ছাড় দিতে হবে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের অনড় অবস্থান বড় বাধা হয়ে আছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচক ডেভিড মিলার বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে চলা আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় কৌশলগতভাবে ইরান কিছুটা এগিয়ে রয়েছে।

সিএনএনকে তিনি বলেন, ইরান তাড়াহুড়ো করে কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়; বরং তাদের হাতে থাকা উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে তারা আলোচনায় কৌশলগত শক্তি হিসেবে ব্যবহার করছে।

ইসলামাবাদভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহিদ হুসাইন ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, এই সংলাপ আগামী সপ্তাহগুলোতে উত্তেজনা প্রশমনের পথ তৈরি করতে পারে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক ‘কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপন্সিবল স্টেটক্রাফট’-এর নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ইরান বিশেষজ্ঞ ত্রিতা পারসির মতে, আলোচনার প্রেক্ষাপট বদলে গেছে। ট্রাম্পের সামরিক হুমকির মুখেও ইরান নতিস্বীকার করেনি। তাই এখন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রকৃত কূটনৈতিক আপসের পথেই এগোতে হবে।

পাকিস্তানের সাবেক নৌ কমোডর ও কূটনীতিক মুহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ আল জাজিরাকে বলেন, প্রথম দফার আলোচনাতেই বড় কোনো অগ্রগতি আশা করা অবাস্তব ছিল। তবে দুই পক্ষকে মুখোমুখি বসানোই একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য। দ্বিতীয় দফার উদ্যোগ প্রমাণ করে, কূটনীতি এখনো শেষ হয়ে যায়নি।

কালের আলো/এসআর/এএএন