খুঁজুন
                               
বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়ে যুক্তিবর্জিত চিন্তাধারা, কুৎসিত আক্রমণ ও আত্মঘাতের পথ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ মার্চ, ২০২৫, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ
সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়ে যুক্তিবর্জিত চিন্তাধারা, কুৎসিত আক্রমণ ও আত্মঘাতের পথ

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর :

মুক্তচিন্তা আর বাকস্বাধীনতা পরিপূরক। এর সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে আছে গণতন্ত্রের চেতনা। দার্শনিক সক্রেটিস আর বিতর্কের জনক হিসেবে পরিচিত প্রোটাগোরাসের বুদ্ধিদীপ্ত তর্কযুদ্ধের মাধ্যমে সূচনা হয়েছিল আধুনিক বিতর্কের। যুক্তি উপস্থাপনের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের যুক্তিকে দুর্বল করে নিজের মতকে জোরালোভাবে উপস্থাপনার প্রচলিত ধারাটিও বর্তমান সময়ে বেশ প্রাসঙ্গিক। জুলাই বিপ্লব একটি নতুন স্বপ্ন ও নতুন বাস্তবতার ভিত রচনা করেছে। অপছন্দের বক্তব্যকে প্রকাশ্যে বা নেপথ্যে নিয়ন্ত্রণ ও নিষিদ্ধ করার চিরায়ত ধারার যবনিকাপাত ঘটেছে। তবে অস্বীকার করার উপায় নেই এই সময়টিতে সব বিষয়ে বিতর্ক একটি সংবঘবদ্ধ রূপ নিয়েছে। মননে ও ব্যক্তিত্বে যুক্তিবাদী হওয়ার পরিবর্তে একগুয়েমি, কূপমণ্ডুকতা আর অন্ধ বিশ্বাসের হাতছানিতে বিভোর অনেকেই লিপ্ত ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টায়। কোন কোন ক্ষেত্রে সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর কোন প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে অসহিষ্ণু মানসিকতা নিয়ে অযৌক্তিক যুক্তিবর্জিত চিন্তাধারায় প্রবণতা লক্ষণীয়। নিরঙ্কুশ ও নি:স্বার্থ স্বাধীনতার অপপ্রয়োগের মাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়ে মত প্রকাশের নামে কুৎসিত, হিংস্র, ভয়ঙ্কর, সর্বৈব ও আগ্রাসী মিথ্যার বহি:প্রকাশ সারা জাতিকে হতবাক ও স্তম্ভিত করেছে।

খিস্তিখেউড় হচ্ছে প্রতিনিয়ত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অশালীন ও শিষ্টাচারবহির্ভূত বক্তব্যের মাধ্যমে কেউ কেউ নিজের হীন মানসিকতাকে প্রতিফলিত করছেন। এতো শোরগোল, হিংসা, কুৎসিত আক্রমণ, বিদ্রুপাত্মক শ্লেষ, অযৌক্তিক ও অপরিণামদর্শী শব্দবাণের মাধ্যমে সবাই যেন ভুলতে বসেছে প্রতিটি দেশের মতো বাংলাদেশেরও অস্তিত্ব ও রক্ষাকবচ এই সশস্ত্র বাহিনীই। বিরোধিতা আর শত্রুতা কখনও এক কথা নয়। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও ভৌগলিক অখণ্ডত্বের রক্ষক ও জাতির গর্বিত প্রতিষ্ঠান সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়ে কুকথা, নোংরা কথা, গালাগাল ইত্যাদির বাম্পার ফলনে স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠেছে, যে মত প্রকাশের ফলে দেশের ক্ষতি হবার আশঙ্কা থাকে, তা অবাধে প্রকাশের স্বাধীনতা কী থাকা উচিত? এই প্রশ্নটিকে আজকের বাংলাদেশের বাস্তবতায় বিচ্ছিন্ন করে দেখবার সুযোগ নেই মোটেও। যারা এসব করছেন তারা নিজেদের অনেক বেশি পণ্ডিত, ধীমান ও অধিকতর যোগ্য মনে করেন।

পারিবারিক কূটনীতিবহুল সান্ধ্যকালীন টিভি সিরিয়ালে আসক্ত লোকদের কুটনামির মতোই তাঁরা আনন্দ পাচ্ছেন। যুক্তির অনুশীলনের ন্যূনতম চর্চা না থাকলেও নিজের খেয়াল খুশিমতো মত প্রকাশে মরিয়া হয়ে ওঠছেন। ইউটিউব, ফেসবুকসহ সোশ্যাল হ্যান্ডেলে চোখ মিলে তাকাতেই এসব ঘটনার অহরহ প্রমাণ মিলছে। বরাবরই নিরপেক্ষতা ও সততার ধারক-বাহক বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী সম্পর্কে মর্জিমাফিক গল্প বা বয়ান তৈরি করে দেশপ্রেমিক বাহিনীটির উঁচুমানের পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এক প্রকার বিদ্বেষ ও মস্তিষ্কপ্রসূত কল্পনার শক্তিতে তশরিফ রাখার মতোই একেবারে কাছি মেরে লেগেছেন তাঁরা। এমন মুষ্ঠি পাকিয়ে, গলার শিরা ফুলিয়ে আস্ফালনের হেতু জানা নেই কারও। তাই কান নিয়েছে চিলের মতো সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়ে তাঁরা করে চলেছে কেবলই নিন্দা আর বিবিধ বিষোদ্গার। এক্ষেত্রে অনেকে গোবেচারা দর্শক, গা বাঁচিয়ে দূরে দাঁড়িয়ে ‘অবলোকনকাম চরিতার্থ’ করছেন। কেউ পক্ষ চিল হয়ে ছোঁ মারছে। অন্যপক্ষ বেকায়দায় পড়ে কাক হয়ে কা কা করছে। কাক ও চিলের কাড়াকাড়ির অনেক ওপরে চক্কর দিচ্ছে শকুনের ঘোলাটে চোখ। এসব দেখেও আমরা না দেখার ভান করছি, চুপ করে বসে থাকছি।

ভিন্নমতের প্রতি অবশ্যই শ্রদ্ধা থাকবে। কিন্তু এর নামে গুজব বা বিভ্রান্তি সশস্ত্র বাহিনীর মর্যাদাকে বহুলাংশে ক্ষুণ্ন করতে পারে। দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য ভয়ানক ক্ষতি ডেকে আনে এমন জ্ঞানপাপীরা অনাকাঙ্ক্ষিত, অগ্রহণযোগ্য ও সর্বোতভাবে পরিত্যাজ্য। এই ক্ষতিকর জ্ঞান চেনার একমাত্র উপায় কাণ্ডজ্ঞান। কিন্তু বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ক্ষেত্রে আলাপ-আলোচনার ক্ষেত্রে আমরা নিজেদের কাণ্ডজ্ঞানের কতটুকু প্রয়োগ করছি, এমন প্রশ্নও উঠেছে জনেজনে।

বাংলাদেশের ভূখণ্ড ও মানচিত্র অক্ষুণ্ন রাখতে অপরিহার্য সশস্ত্র বাহিনী। জনজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ সশস্ত্র বাহিনীর গৌরবময় ও আলোকোজ্জ্বল ইতিহাস বহমান নদীর মতো। আমাদের সাহস আর অস্তিত্বের উৎসও সশস্ত্র বাহিনী। দেশের প্রতিটি দুর্যোগে-সঙ্কটে সশস্ত্র বাহিনী কখনও পথ হারায়নি। ‘সবার আগে দেশ’- এই নীতি থেকেই তাঁরা জনগণের জন্য বুক পেতে দাঁড়িয়েছে সামনে। জনগণের বিপক্ষে কখনও অবস্থান গ্রহণ না করায় এই বাহিনীটির প্রতি জাতির নির্ভরশীলতা অপরিসীম। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম থেকে শুরু করে দেশের এক-দশমাংশ অর্থাৎ পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষার মাধ্যমে দেশের অখণ্ড সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছে। রক্ত দিয়েছে, উৎসর্গ করেছে জীবন।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ক’দিন আগে বাংলাদেশ সফরে এসে জাতিসংঘ শান্তি মিশনে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা স্মরণ করেছেন। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দায়িত্বরত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের সম্মান জানিয়ে বলেছেন, ‘কঠিন অপারেশনে বাংলাদেশি বাহিনীর অসামান্য উদারতা আমাদের কাছে কৃতজ্ঞতা পাওয়ার দাবিদার।’

জাতির প্রয়োজনে যে কোনো কঠিন দায়িত্ব পালনে সশস্ত্র বাহিনীর নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা অনন্য এবং অনবদ্য। বাংলাদেশের সমান বয়সী তিপ্পান্ন বছরে নব্বইয়ের মতো চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানেও সরকারের তখতে তাউশ কেঁপে ওঠে যখন সেনাবাহিনী তথা সশস্ত্র বাহিনী জনগণের বুকে গুলি চালাতে অস্বীকৃতি জানায়। টিকে থাকার দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এরশাদ-হাসিনার পতন। নব্বইয়ের পর চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানকে স্বার্থক মোড় দিতে সশস্ত্র বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আজ স্বীকৃত এবং প্রশংসিত। ওই সময়ে তাঁরা অস্ত্র হাতে ছাত্র-জনতাকে দমন করেনি। উল্টো পাশে দাঁড়িয়েছে। ছাত্র-জনতাও তাদের বুকে টেনে নিয়েছে।

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের মতোই সাম্য, মানবিক মর্যাদা, ন্যায্যতা ও বাকস্বাধীনতার অঙ্গীকারের এই গণঅভ্যুত্থান কর্তৃত্ববাদী সরকারের পতন ঘটিয়েছিল। হাজার প্রাণের বিনিময়ে পাওয়া এই অভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় অর্জন হচ্ছে এর মধ্য দিয়ে একটা গণতান্ত্রিক, মানবিক ও বহুত্ববাদী দেশ গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী দেশের সর্বস্তরের জনসাধারণের সঙ্গে ওই সময় যেভাবে একীভূত হয়েছিল, সেই ঐতিহাসিক সুসম্পর্ক ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি উদ্দীপক হিসেবে জাগিয়েছে আলোর দিশা। গড়ে উঠেছে সেনা-ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব দৃঢ় ঐক্য। কিন্তু নতুন উদ্যমে সামনে এগিয়ে যাওয়ার নিরন্তর চেষ্টার মধ্যেই এই ঐক্যকে বিনষ্ট করতে অপতৎপরতা শুরু হয়েছে দেশে ও দেশের বাইরে থেকে। সব সুস্থ বদন নিমিষেই অমলিন হচ্ছে।

মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রশ্নে সামষ্টিক আকাঙ্ক্ষায় চিড় ধরাতে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান থেকে শুরু করে বাহিনীটির উচ্চপদস্থ জেনারেলদের নামে মিথ্যা প্রচার-প্রোপাগান্ডা আর কুটনামি আত্মঘাতের পথ প্রশস্ত করছে। কদর্যতর হুমকি দিয়ে ও অপযুক্তিতে বশ করার প্রবণতা দৃশ্যমান হচ্ছে। আলটপকা এমন হম্বিতম্বি সর্বগ্রাসী সংক্রামক ব্যাধিতুল্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোন কোন ক্ষেত্রে অপতথ্য-অপপ্রচারকে বিশ্বাসযোগ্য করার কোশেশও চলছে। যা ঘটেছে বা ঘটছে তা কেবল অনাকাঙ্ক্ষিতই নয়, উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়। কোনোভাবেই এসব কাম্য নয়। বিষয়টি দেখতে হবে ন্যায্যতার ভিত্তিতে। বিশ্বপরিমণ্ডলে গৌরবের প্রতীক বাহিনীটিকে নিয়ে অপ্রয়োজনীয় এবং ক্ষতিকর সব তর্ক-বিতর্ক কোন মঙ্গল বয়ে আনবে না। সশস্ত্র বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কিছু করাও সমীচীন নয়। এমনটি ঘটতে থাকলে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতাও বিলীন হতে বাধ্য।

রাষ্ট্রের মালিক জনগণ। জনগণের কল্যাণের জন্যই বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী হাকডাঁক না মেরে নীরবে-নিভৃতে কাজ করছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এর নেতৃত্বে সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সুদৃঢ় ঐক্য রয়েছে। দেশের এই সঙ্কটময় মুহুর্তে সশস্ত্র বাহিনীর নিজেদের ওপর অর্পিত সাংবিধানিক দায়িত্ব সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালন করছেন। সশস্ত্র বাহিনী দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোথাও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি। কারও বাকস্বাধীনতার ওপরও হস্তক্ষেপ করেনি। দেশবাসী ও বিশ্ববিবেক সৎ, সাহসী ও দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষে আছে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে- আপনি গুজবের সঙ্গে থাকবেন, নাকি সত্যবাদী ধারার প্রতি থাকবেন, সেটা আপনাকেই ঠিক করতে হবে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও রাজনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে দেশের শাসনব্যবস্থাকে কার্যকর করতে জাতীয় ঐক্য অপরিহার্য। এক্ষেত্রেও সশস্ত্র বাহিনী জাতীয় নিরাপত্তা নির্দেশিকা অনুযায়ী কাজ করার মাধ্যমে আইনের শাসন ও মানবাধিকার নীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেছে। এরপরেও অনেকেই মিথ্যা ও বিদ্বেষমূলক তথ্যে হামলে পড়েছেন, নখদন্ত বিকশিত করে গোটা বাহিনীর ওপর ছড়িয়ে দিয়েছেন রক্তাক্ত অক্ষর। ওদের নীতি-নৈতিকতার এহেন স্খলন, হেলায় আত্মমর্যাদার এমন বিসর্জন ও মানবিক মূল্যবোধের এই অতল অবনমন ভারাক্রান্ত করছে প্রতিটি বিবেকমান মানুষের হৃদয়। খ্যাতনামা বাঙালি মননশীল লেখক নীরদ সি চৌধুরী আক্ষেপ করে বলেছিলেন ‘আত্মঘাতী বাঙালি’।

কিন্তু আমরা যে ‘আত্মঘাত’কে রীতিমতো ‘সংস্কৃতি’তে রূপান্তর করে ফেলেছি। ঠিক তেমনি সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়ে তাদের বক্তব্য ব্যক্তিগত ঈর্ষা কাতরতার প্রতিচ্ছবি। নির্দয় ও অবিবেচকী এসব বক্তব্য আর মিথ্যা ও অর্ধসত্যের জালের মধ্যেও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দেশপ্রেমী কিরণের দ্যুতি কমেনি একটুকুও। সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি সদস্য দেশের প্রতি ভালোবাসায় নিষ্ঠা, সততা ও গর্বের সঙ্গে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের সব অর্জন একদিনে হয়নি। তিল তিল শ্রম, মেধা ও চিন্তার প্রখরতায় ব্যাপ্তি ঘটিয়েছেন। আপন মহিমায় তৈরি করেছেন সৃষ্টিশীলতার ঠিকানা। স্বপ্নকে দিয়েছেন নতুন রূপ। আলোর দিশারি হয়ে পথ চলেছেন নিজের গতিতে। দেশে দেশে ছড়িয়েছেন আলোর শিখা। স্বপ্ন দেখতে, দেখাতে ও জয় করতে জানেন বাঙালি জাতির ‘প্রাণভোমরা’ সশস্ত্র বাহিনীই।

আমাদের সনির্বন্ধ অনুরোধ, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব আর গর্ব-অহংকারের প্রতীক এই সশস্ত্র বাহিনীর গায়ে বিন্দুমাত্র কালিমা লাগে আমরা যেন এমন কিছু না করি। আমাদের মনে যেন বেজে ওঠে- ‘মা, তোর বদনখানি মলিন হলে, ও মা, আমি নয়নজলে ভাসি।’ যারা চোখ মেলে বাস্তব দেখে ‘সত্য’ স্বীকারের সাহস রাখেন না তাদের জন্যই বোধ করি কবি উচ্চারণ করেছিলেন- ‘অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে/তব ঘৃণা যেন তারে তৃণসম দহে।’ একবার ভাবুন তো কবির এই প্রার্থনা মঞ্জুর হলে সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়ে গোয়েবলসীয় কায়দায় প্রোপাগাণ্ডা ছড়ানো এই মুখোশধারীদের কী দশা হতে পারে? মনে রাখতে হবে দেশপ্রেমিক সশস্ত্রবাহিনীর সঙ্গে এদেশের মানুষের সম্পর্ক হৃদয়ের, নিবিড় ও অকৃত্রিম। আসুন, দেশের এই সঙ্কট উত্তরণে আমরা সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করি, তাদের বিরক্ত না করি।

কালের আলো/এমএএএমকে

পরিশ্রম-সততা মানুষকে স্বপ্নের সমান উচ্চতায় নিয়ে যায়: বাসস চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৪০ অপরাহ্ণ
পরিশ্রম-সততা মানুষকে স্বপ্নের সমান উচ্চতায় নিয়ে যায়: বাসস চেয়ারম্যান

পরিশ্রম ও সততা মানুষকে তার স্বপ্নের সমান উচ্চতায় নিয়ে যায় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) চেয়ারম্যান আনোয়ার আলদীন। তিনি বলেন, শুধু স্বপ্ন দেখলেই হবে না, সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য একাগ্রতা, অব‍্যাহত প্রচেষ্টা, শৃঙ্খল ও দৃঢ় মানসিকতা প্রয়োজন।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাসস চেয়ারম্যান এসব বলেন। চলতি বছরের এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী চারটি স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রেনেসাঁ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গজারিয়া পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই অনুষ্ঠান হয়।

রেনেসাঁ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. মো. আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যারিস্টার বেলায়েত হোসাইন, গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আলী এবং নোয়াখালী জেলা যুবদলের সভাপতি মনজুরুল ইসলাম সুমন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বাসস চেয়ারম্যান বলেন, তোমরা দেশের আগামীর স্বপ্ন সারথী। স্বপ্নই মানুষকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা যোগায় এবং বড় হওয়ার সাহস দেয়। যার স্বপ্ন যত বড়, সে তত বড় মানুষ। একজন মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়। শুধু স্বপ্ন দেখলেই হবে না, সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য একাগ্রতা, অব‍্যাহত প্রচেষ্টা, শৃঙ্খল ও দৃঢ় মানসিকতা প্রয়োজন। বড় স্বপ্ন দেখা এবং তা অর্জনের জন্য সততার সঙ্গে পরিশ্রম করাই মানুষকে তার স্বপ্নের সমান উচ্চতায় নিয়ে যায়।

বাসস চেয়ারম্যান বলেন, তোমাদের স্বপ্ন সফল করতে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সততা, শৃঙ্খলা ও পরিশ্রমই তোমাদের সফলতার মূল চাবিকাঠি। শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফলই যথেষ্ট নয়, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ অর্জন করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে হবে। আর মাদকের অতলগ্রাসী ছোবল এবং সোশাল মিডিয়ার কুপ্রভাব থেকে নিজেদের হেফাজত করতে হবে।

ড. মো. আতাউর রহমান শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে বলেন, সঠিক দিকনির্দেশনা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তোমরা দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন গজারিয়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান উল্লাহ, গজারিয়া ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার দিদার আলম, গজারিয়া পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশুতোষ কুমার সাহা, গজারিয়া সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আক্তারুজ্জামান, উপজেলা বিআরডিবি চেয়ারম্যান মাহবুব আলম খান, উপজেলা বিএনপির সদস্য মোক্তার হোসেন ও ফিরোজ আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রেনেসাঁ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের মহাসচিব মুক্তার হোসেন ভূইয়া। অনুষ্ঠানে গজারিয়া পাইলট মডেল হাই স্কুল, গজারিয়া গার্লস হাই স্কুল, ইসমানিচর উচ্চ বিদ্যালয় এবং গজারিয়া বাতেনিয়া আলিম মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং তাদের সফলতা কামনায় দোয়া করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে স্কুল প্রাঙ্গণে বৃক্ষ রোপণ করেন উপস্থিত অতিথিরা।

কালের আলো/এসআর/এএএন

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি চায় ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩৭ অপরাহ্ণ
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি চায় ইসরায়েল

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে বলে প্রত্যাশা করছে ইসরায়েল।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) ইসরায়েলি একটি সূত্র ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ওই তথ্য জানিয়েছে।

তেহরান-ওয়াশিংটনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি ও দ্বিতীয় দফার বৈঠকের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া বার্তা নিয়ে ইরানে পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলের উপস্থিতির মাঝে ইসরায়েল ওই প্রত্যাশার কথা জানিয়েছে। ইসরায়েলি ওই সূত্র বলেছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হবে বলে প্রত্যাশা করছে ইসরায়েল।

ইরানের সঙ্গে সংঘাতের অবসানে চুক্তির বিষয়ে অবগত আঞ্চলিক কর্মকর্তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টায় অগ্রগতি হয়েছে এবং বিবদমান দুই পক্ষই আলোচনার পরবর্তী দফার জন্য শিগগিরই পুনরায় বৈঠকে বসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

তারা বলেছেন, আগামী ২২ এপ্রিল থেকে শেষ হতে যাওয়া এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও অন্তত দুই সপ্তাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারীরা কাজ করছেন; যাতে কূটনীতির মাধ্যমে সংকটের সমাধানের সুযোগ তৈরি হয়। আঞ্চলিক ওই কর্মকর্তারা বলেছেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে উভয় পক্ষই ‘নীতিগতভাবে একমত’ হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার সঙ্গে জড়িত একজন কর্মকর্তা বলেন, মধ্যস্থতাকারীরা তিনটি প্রধান বিতর্কিত বিষয়—পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালি এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য কাজ করছেন।

এদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পুনরায় আলোচনা শুরু করার বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে তেহরানে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির। পাকিস্তানের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বুধবার তিনি তেহরানে পৌঁছেছেন।

ইরানের একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের নেতৃত্বে পাকিস্তানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ইরানে পৌঁছেছেন।

তেহরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং দ্বিতীয় দফার আলোচনার সমন্বয় করার লক্ষ্যে পাকিস্তানের এই প্রতিনিধিদল ইরান সফরে গেছে।

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা আইআরআইবি বলেছে, আগামী কয়েক দিনের মাঝে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

যুদ্ধ থামানোর উদ্যোগে ‘আশার আলো’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩৬ অপরাহ্ণ
যুদ্ধ থামানোর উদ্যোগে ‘আশার আলো’

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান তীব্র উত্তেজনা ও সংঘাত নিরসন এবং অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নতুন করে ‘আশার আলো’ দেখা যাচ্ছে। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে পুনরায় আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা এই আশাবাদ তৈরি করেছে। এ প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান।

গত শনিবার যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইসলামাবাদে সরাসরি আলোচনায় বসেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা। সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এটি দুই দেশের মধ্যে বিরল সরাসরি বৈঠকগুলোর একটি। তবে আলোচনা কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয় এবং উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ দেশে ফিরে যান।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আবারও সংলাপ শুরু হতে পারে। তাঁর দাবি, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা ঘনিয়ে এসেছে।

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমার মনে হয় এটি প্রায় শেষ। হ্যাঁ, আমি এটিকে শেষ হওয়ার খুব কাছাকাছি বলেই মনে করি।”

এর আগে মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু হতে পারে। এ জন্য পাকিস্তানকেই উপযুক্ত স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

পাকিস্তান কেন প্রথম পছন্দ—এমন প্রশ্নের জবাবে নিউইয়র্ক পোস্টকে ট্রাম্প বলেন, “এর সম্ভাবনাই বেশি। কারণ ফিল্ড মার্শাল দারুণ কাজ করছেন। তিনি অসাধারণ—এ কারণে আমাদের সেখানে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। আমরা এমন কোনো দেশে কেন যাব, যার এ বিষয়ে কোনো সম্পর্ক নেই?”

পাকিস্তানের উদ্যোগ
মূলত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এই আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় দেশের সঙ্গেই পাকিস্তানের সুসম্পর্ক থাকায় তারা মধ্যস্থতার এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনার আগে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করতে সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্ক সফরে রওনা হয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।

বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সৌদি আরব ও কাতার সফর দ্বিপাক্ষিক প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হবে। আর তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য আন্তালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরামে অংশ নেবেন তিনি। ফোরামের ফাঁকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানসহ অন্যান্য বিশ্বনেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন শেহবাজ শরিফ। সফরে তাঁর সঙ্গে রয়েছেন দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দার।

অন্যদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু করার বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে ইতিমধ্যে তেহরানে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং দ্বিতীয় দফা আলোচনা সমন্বয়ের লক্ষ্যে তাঁর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের পাকিস্তানি প্রতিনিধিদল এই সফর করছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ইসলামাবাদে প্রথম দফার আলোচনা শেষ হওয়ার পরও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ‘বার্তা আদান-প্রদান’ অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, আগের বৈঠকের ধারাবাহিকতায় তেহরানে পাকিস্তানের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন ইরানি কর্মকর্তারা। সেখানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

বাঘাই আরও জানান, ইরান তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি চালিয়ে যেতে চায়। তবে এ কর্মসূচির ধরন ও মাত্রা নিয়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে।

বিশ্লেষকরা কী বলছেন
সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থায়ী শান্তির জন্য দুই পক্ষকেই কঠিন কিছু শর্তে ছাড় দিতে হবে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের অনড় অবস্থান বড় বাধা হয়ে আছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচক ডেভিড মিলার বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে চলা আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় কৌশলগতভাবে ইরান কিছুটা এগিয়ে রয়েছে।

সিএনএনকে তিনি বলেন, ইরান তাড়াহুড়ো করে কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়; বরং তাদের হাতে থাকা উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে তারা আলোচনায় কৌশলগত শক্তি হিসেবে ব্যবহার করছে।

ইসলামাবাদভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহিদ হুসাইন ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, এই সংলাপ আগামী সপ্তাহগুলোতে উত্তেজনা প্রশমনের পথ তৈরি করতে পারে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্কট্যাঙ্ক ‘কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপন্সিবল স্টেটক্রাফট’-এর নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ইরান বিশেষজ্ঞ ত্রিতা পারসির মতে, আলোচনার প্রেক্ষাপট বদলে গেছে। ট্রাম্পের সামরিক হুমকির মুখেও ইরান নতিস্বীকার করেনি। তাই এখন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রকৃত কূটনৈতিক আপসের পথেই এগোতে হবে।

পাকিস্তানের সাবেক নৌ কমোডর ও কূটনীতিক মুহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ আল জাজিরাকে বলেন, প্রথম দফার আলোচনাতেই বড় কোনো অগ্রগতি আশা করা অবাস্তব ছিল। তবে দুই পক্ষকে মুখোমুখি বসানোই একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য। দ্বিতীয় দফার উদ্যোগ প্রমাণ করে, কূটনীতি এখনো শেষ হয়ে যায়নি।

কালের আলো/এসআর/এএএন