খুঁজুন
                               
শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২৮ চৈত্র, ১৪৩২
           

অকৃত্রিম ভালোবাসার মধুরতম অনুভূতিতে ডা.জাহিদকেও বুকে টেনে নিলেন তারেক রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ মে, ২০২৫, ১১:৩৯ অপরাহ্ণ
অকৃত্রিম ভালোবাসার মধুরতম অনুভূতিতে ডা.জাহিদকেও বুকে টেনে নিলেন তারেক রহমান

মো.শামসুল আলম খান, কালের আলো:

যুক্তরাজ্যের হিথ্রো বিমানবন্দরে মাকে বিদায় জানানোর শেষ মুহুর্ত। রাজনীতির ফিনিক্স পাখি মা বেগম খালেদা জিয়াকে হাসিমুখেই বিদায় জানাচ্ছিলেন জ্যেষ্ঠ সন্তান দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিদায়ের মুহূর্তে মা-ছেলের মধ্যে সংক্ষিপ্ত কথোপকথন হয়। খালেদা জিয়া সন্তানকে জিজ্ঞেস করেন, ‘কতক্ষণ থাকবে এখানে?’ জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘তুমি উঠে গেলে, জাইমা এলে চলে যাবো।’ এরপর মায়ের হুইল চেয়ারের কাছে এসে জড়িয়ে ধরেন তাকে। বিদায়বেলায় ছেলেকে গালে আদর করেন মা।

বিমানবন্দরটিতে তখন আবেগঘন এক পরিবেশ। এ যেন অন্যরকম এক স্পর্শ। মুখে হাসি থাকলেও ভেতরে ছেলে তারেক রহমানকে বিদায় জানানোর কষ্ট-শূন্যতা। মা আর সন্তানের এমন কথোপকথন আনন্দকাব্য হয়েই হৃদয় ছুঁয়েছে গোটা দেশবাসীকে। হুইলচেয়ারে বসে নাতি জাইমাকে বাবার দিকে খেয়াল রাখার বার্তা দিয়ে কাতারের আমিরের দেওয়া একটি বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী।

মা-ছেলের আবেগঘন এই মুহুর্তের মধ্যেই দায়িত্বশীল ও কর্তব্যপরায়ণ রাজনীতিক তারেক রহমান একে একে বিদায় জানান খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেশে ফেরা অন্যান্যদেরও। এ সময় তিনি খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা.এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সঙ্গে হ্যান্ডশেক করে বুকে টেনে নেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে অকৃত্রিম ভালোবাসার মধুরতম অনুভূতির এই শর্ট ভিডিও। এ সময় তারেক রহমান তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘জাহিদ সাহেব, ভালো থাকবেন।’ উত্তরে বিনয়াবনত কণ্ঠে দোয়া চেয়ে তারেক রহমানকে বিদায় জানান তিনিও।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে জীবন্ত কিংবদিন্ত এবং হার না মানা এক রাজনীতিক বেগম খালেদা জিয়া। নীতির প্রশ্নে কখনও আপোস করেননি। রাজনীতির আগুন তাকে কখনও কারাবন্দি বা গৃহবন্দি করলেও তিনি কখনও বিক্রি হননি। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বারবার প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। কিন্তু মাথা নত করেননি। আর তাই তো দেশের মানুষের কাছে তাঁর নাম উচ্চারিত হয় শ্রদ্ধা-আবেগ ও সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে। স্বৈরাচারি ও ফ্যাসিস্ট শাসকরা বারবার তাঁর রাজনীতি শেষ করতে চেয়েছে।

বিশেষ করে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে নির্যাতন-নিপীড়ন ও কারাগারে নিষ্ঠুর বন্দি জীবনে পাননি ন্যূনতম সুচিকিৎসা। এক রকম বিনা চিকিৎসায় তাঁর শরীরে বাসা বাধে হৃদরোগ, লিভার, ফুসফুস, কিডনি, আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিসসহ নানান শারীরিক জটিলতা। পুরো ঘটনাপ্রবাহে নি:শব্দে বিশ্বস্ত  ছায়াসঙ্গী হিসেবে ছিলেন তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা.জাহিদ। বহু বাধার বিন্দাচল, চড়াই-উত্রাই, অনিশ্চয়তা, শোকগাঁথা-বেদনা-বিষাদ-আনন্দের বহু দগদগে দিনলিপির স্বাক্ষী তৃণমূল রাজনীতি থেকে ওঠে আসা এই জাতীয় নেতা এবং চিকিৎসক। নিজের মেধা, মনন, প্রজ্ঞা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা আর একাগ্রতায় সেবা দিয়েই জয় করেছেন মা-ছেলের হৃদয়। যুক্তরাজ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেগম জিয়ার সফরসঙ্গী ছিলেন তিনিও। মায়ের সেবায় বিলিয়ে দেওয়া একজন চিকিৎসক ও রাজনীতিককে ‘শুভ কামনা’ জানানোর মাধ্যমে প্রকারান্তরে নিজের প্রগাঢ় আস্থা-বিশ্বাস ও দায়িত্বশীলতার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন তারেক রহমান।

খালেদা জিয়ার প্রত্যাবর্তনে উদ্বেলিত আবেগ-আনন্দের ঝর্ণাধরা বহমান দেশের প্রতিটি প্রান্তরে। প্রতিটি অনুক্ষন এই দিনটির জন্যই যেন প্রহর গুনেছেন দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে দেশের সাধারণ মানুষ। স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা.এ জেড এম জাহিদ হোসেনও। মঙ্গলবার (৬ মে) বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার লন্ডন থেকে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার পর গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’র সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালেও তাঁর হাস্যোজ্জ্বল মুখ নজর কেড়েছে। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সহসাই দেশে ফিরবেন বলে সুসংবাদ দিয়েছেন।

এক প্রশ্নের উত্তরে ডা. জাহিদ বলেন, জুবাইদা রহমান আজ এসেছেন, আলহামদুলিল্লাহ। ব্যারিস্টার জায়মা রহমান যুক্তরাষ্ট্রে একটা রাজনৈতিক প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেছেন। সেই দিন বেশি দূরে নয়, যেদিন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই মাঠে এসে, যে নেতৃত্ব তিনি যুক্তরাজ্যে বসে দিচ্ছেন, সেই নেতৃত্ব-অর্থাৎ শুধু বিএনপির নয়, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার নেতৃত্ব দেখবেন। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই হয়তো বা সেই পরিবেশ হবে এবং তিনি আসবেন।’

ডা.জাহিদ আরও বলেন, ‘কিছুদিন পর ডা. জুবাইদা রহমান আবারও লন্ডনে যাবেন এবং সহসাই তারেক রহমানসহ দেশে ফিরে আসবেন। লন্ডনে যাওয়ার পর থেকে তারেক রহমান তার মায়ের চিকিৎসার জন্য যা করেছেন, সেজন্য কৃতজ্ঞতা জানাই। পাশাপাশি চেয়ারপারসনের মানসিকভাবে প্রশান্তি আনতে কাজ করেছেন তার তিন নাতনি। আমরা তাদের কাছেও কৃতজ্ঞ। লন্ডনে বিএনপির নেতাকর্মী, অন্যান্য দলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে অনেকেই দোয়া করেছেন-তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। চেয়ারপারসনও সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।’

কাতারের আমিরকে দলীয় চেয়ারপারসনের আন্তরিক ধন্যবাদের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কাতার সরকার শুধু এয়ার অ্যাম্বুলেন্সই প্রদান করেনি বরং বিমানের খরচ, ওষুধ এবং চিকিৎসা সেবার সবকিছু নিশ্চিত করেছে। এই সহায়তার জন্য খালেদা জিয়া কাতার সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন।’ ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, কাতার সরকার খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য সবকিছু নিশ্চিত করেছে এবং এই মানবিক সহায়তা দেশনেত্রীর সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমএএএমকে

সিরাজগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় ১৭ শিশুর দেহে হাম প্রাদুর্ভাব

সিরাজগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২:২৩ অপরাহ্ণ
সিরাজগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় ১৭ শিশুর দেহে হাম প্রাদুর্ভাব

সারাদেশের মতো সিরাজগঞ্জে বেড়েছে সংক্রামক ব্যাধি হামের প্রাদুর্ভাব। গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জে ১৭ শিশুর দেহে হাম শনাক্ত হয়েছে।

হামের টিকা দেওয়ার আগেই এ রোগে অধিকাংশ শিশুরা আক্রান্ত হওয়ায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অভিভাবক ও স্বজনেরা। পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে হাম ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিশুদের সময়মতো টিকা দেওয়ার আহ্বান স্বাস্থ্য বিভাগের।

সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির জানান, চলতি মাসের ২৯ মার্চ থেকে হাম রোগী কাউন্ট শুরু হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০০ জনে। এসব রোগী শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এর মধ্যে ৭০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।

বর্তমানে মনসুর আলী মেডিকেলে ১৫ জন, সদর জেনারেল হাসপাতালে ২ জন, উল্লাপাড়ায় ২ জন ও রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন ভর্তি রয়েছে। এদিকে, সারাদেশে হাম রোগীর সংখ্যা বাড়ার প্রেক্ষাপটে শহীদ এম মনসুর আলী হাসপাতালেও খোলা হয়েছে বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ড।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে হাম সিরাজগঞ্জে আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/ইএম

পরিবর্তন নেই বাংলাদেশের স্কোয়াডে, যে ব্যাখ্যা দিলেন নির্বাচকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২:১৭ অপরাহ্ণ
পরিবর্তন নেই বাংলাদেশের স্কোয়াডে, যে ব্যাখ্যা দিলেন নির্বাচকরা

মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল বাংলাদেশ। একই দল নিয়েই নিউজিল্যান্ড সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডেতে নামতে যাচ্ছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। আজ (শনিবার) বিসিবির নবগঠিত নির্বাচক প্যানেল প্রথম দুই ওয়ানডের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। অপরিবর্তিত স্কোয়াড নিয়ে তাদের ব্যাখ্যা– দলে ডাক পাওয়া ক্রিকেটারদের আরও সুযোগ দিতে চান।

মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন বলেন, ‘আমরা যখন দলটা দেখেছি, মনে হয়েছে সর্বশেষ সিরিজ তো সফল ছিল। বাংলাদেশ ভালো ক্রিকেট খেলেছে এবং সেখানে কিছু খেলোয়াড় হয়তো সুযোগ পায়নি একাদশে। কিছু খেলোয়াড় নতুন এসেছে। আমাদের নীতি হলো, যখন কেউ আসবে, তাকে পর্যাপ্ত সুযোগ দিতে হবে। যারা খেলেছে তারা খারাপ খেলেনি। আমরা সুযোগ দেওয়ায় বিশ্বাস করতে চাই, সে কারণে আমরা এই সিরিজে দল পরিবর্তন করিনি।’

এক বছর পরই ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ। এর আগে বড় পরিবর্তন নয়, ম্যাচ জেতার দিকেই মূল নজর নির্বাচকদের। দুটো বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রধান নির্বাচক জানান, ‘আমরা বিশ্বকাপের আগে কোনও বড় পরিবর্তন করতে চাই না। যদি কাউকে দেখতে হয়, তবে আগামী ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে দেখে নেব। বাংলাদেশ দলের প্রথম প্রাধান্য হলো ম্যাচ জেতা। জেতার জন্য আমরা সেরা দলটাই বানাব। এর মধ্যে আমরা বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে পরিকল্পনা সাজাচ্ছি। তবে জেতার মানসিকতা ত্যাগ করে নয়।’

এ ছাড়া পেসার ও বিভিন্ন পজিশনের ব্যাটারদের রোটেশন নীতি নিয়ে বাশার বলেন, ‘পেস বোলিং ডিপার্টমেন্টে আমাদের অনেক অপশন আছে। এখানে রোটেশন করলে আমরা খুব একটা কিছু মিস করছি না। ইনজুরি ম্যানেজমেন্টের জন্য আমরা পেসারদের রোটেট করে খেলাব। কিন্তু টপ অর্ডার এবং মিডল অর্ডারে আমাদের সেটেল হওয়া দরকার। সেখানে আমাদের কাজ করার আছে।’

প্রসঙ্গত, আগামী ১৭ এপ্রিল সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড। ২০ এপ্রিল দ্বিতীয় ম্যাচ, প্রথম দুই ওয়ানডে হবে মিরপুর শের-ই বাংলায়। এরপর তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে (২৩ এপ্রিল) খেলতে দুই দল চট্টগ্রামে উড়াল দেবে। ৫০ ওভারের ম্যাচগুলো শুরু হবে বেলা ১১টায়।

কালের আলো/এসএকে

১০০ টাকার নিচে নেই সবজি, পাতে কমছে স্বাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২:০৭ অপরাহ্ণ
১০০ টাকার নিচে নেই সবজি, পাতে কমছে স্বাদ

এক হাতে বাজারের ব্যাগ, আরেক হাতে হিসাব। প্রতিদিনের এই ছোট্ট লড়াইয়ে যেন হার মানছেন সাধারণ মানুষ। সবজির বাজারে ঢুকলেই চোখে পড়ে অস্বস্তির এক চিত্র। ৮০ থেকে ১০০ টাকার নিচে নেই কোনো সবজি। প্রয়োজন থাকলেও সাধ্যের সীমা টেনে ধরছে হাত। অনেকেই এখন কেজির বদলে কিনছেন আড়াইশ গ্রাম। এভাবেই সামলাচ্ছেন সংসার।

জ্বালানি সংকটে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ঘাটতির কারণে সবজির দাম বেড়েছে বলে দাবি করছেন বিক্রেতারা। অন্যদিকে দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের টিকে থাকা দায় হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।

শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজধানীর মহাখালী, রামপুরাসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ সবজিই ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। ৮০ টাকার নিচে রয়েছে মাত্র দু-একটি সবজি। গোল ও লম্বা দুই ধরনের বেগুনই কেজিপ্রতি ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা একদিন আগেও ছিল ১০০ টাকা। পটলের কেজি ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়।

করলা ১০০-১২০, বরবটি ৮০-৯০, ঢেঁড়শ ৭০-৮০, চিচিঙ্গা ৮০-৯০, ধুন্দল ৬০-৮০, শিম ৮০-৯০, টমেটো ৫০, পেঁপে ৪০-৫০ ও লাউ ৮০-১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এসব সবজির দাম দু’তিন দিন আগেও কেজিপ্রতি ২০-৩০ টাকা কমে কেনা যেত। তবে সবচেয়ে দামি সবজি এখন কাঁকরোল। প্রতি কেজি কাঁকরোল কিনতে ক্রেতাদের ১৬০-১৮০ টাকা গুনতে হচ্ছে। তবে কেজিপ্রতি আলুর দাম এখনও ২৫-৩০ টাকা।

মহাখালী সবজির বাজারে কথা হয় বখতিয়ার শিকদারের সঙ্গে। তিনি একটি বেসরকারি অফিসে পিয়ন হিসেবে কাজ করেন। বিভিন্ন সবজি কেনার ইচ্ছা থাকলেও দাম বাড়ায় আধা কেজি বেগুন ও আলু কিনেই বাসায় ফিরতে হচ্ছে তাকে। তার দাবি, সরকার যদি কিছু নিয়ন্ত্রণ করত, তাহলে নিম্নআয়ের মানুষের উপকার হতো।

তিনি বলেন, মাছ-মাংসের পরিবর্তে আগে সবজি খেয়ে চাহিদা মেটাতাম। এখন সেটাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। ৮০-১০০ টাকার নিচে কোনো সবজিই পাওয়া যায় না। স্বাদ জাগলেও আয়ের সঙ্গে কুলাতে না পেরে কোনোভাবে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সংসার চালাতে হয়। আজ শুধু বেগুন আর আলু কিনেছি। ঘরে থাকা ডিম দিয়ে এসব রান্না হবে।

বখতিয়ার আরও বলেন, ঈদের পরও বেগুনের কেজি ৪০-৬০ টাকা ছিল। এখন দ্বিগুণেরও বেশি। আগে এক কেজি কিনলেও এখন আধা কেজি বা আড়াইশ গ্রাম করে কিনতে হয়। পটল, করলার দামও বেশি। খেতে হয় বলেই সবজি কিনছি, না হলে অনেক সময় না খেয়ে থাকতে হতো।

অনেকটাই বখতিয়ারের সুরে কথা বলেন বেসরকারি চাকরিজীবী আরিফ হোসেন। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাজার করেন তিনি। দাম বেশি হওয়ায় করলা আধা কেজি, ঢেঁড়শ আড়াইশ গ্রাম, শিম আধা কেজি ও পটল আড়াইশ গ্রাম কিনেছেন। এসব সবজির দাম কম থাকলে এক কেজি করেই কিনতেন বলে জানান তিনি। তার মতে, আগে একজন মানুষ ২০০ গ্রাম খেলে এখন ১০০ গ্রামেই সীমাবদ্ধ থাকতে হচ্ছে।

জোয়ার সাহারা কাঁচাবাজারের বিক্রেতা মাহফুজার রহমান সিয়াম বলেন, দাম বাড়ার কারণ আমরাও স্পষ্ট করে বলতে পারি না। পাইকারি বাজারে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলে খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে। যে টাকা নিয়ে আমরা মালামাল কিনতে যাই, তার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে। গত সপ্তাহের তুলনায় এই সপ্তাহে প্রায় সবকিছুর দাম বেড়েছে। সরবরাহ কম বা সংকটের কারণেই এমনটি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

বিক্রেতারা জানান, চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন খরচ বেড়েছে পাশাপাশি নতুন সবজির সরবরাহেও ঘাটতি রয়েছে। এসব কারণে পাইকাররা বেশি দামে সবজি বিক্রি করছেন। ফলে খুচরা পর্যায়েও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

কালের আলো/এসএকে