খুঁজুন
                               
, ,
           

এনসিপি নেতাদের জীবন রক্ষায় সেনাবাহিনী ছাড়া কেন কেউ এগিয়ে আসেনি?

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই, ২০২৫, ১১:১৬ অপরাহ্ণ
এনসিপি নেতাদের জীবন রক্ষায় সেনাবাহিনী ছাড়া কেন কেউ এগিয়ে আসেনি?

কালের আলো রিপোর্ট:

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচি ছিল শান্তিপূর্ণ এবং পূর্ব ঘোষিত। বুধবার (১৬ জুলাই) সেই সমাবেশেই দলটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের ওপর হামলাসহ নাশকতা ও সহিংসতা চালায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এই নাশকতা ও সহিংসতায় প্রাণ গেছে চারজনের। অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানো হয়েছে কারফিউ এর সময়। সেনাবাহিনীর সাজোয়া যান এপিসিতে করে সেদিন নিরাপদে গোপালগঞ্জ ছাড়েন এনসিপি নেতারা। সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাহারায় সন্ধ্যায় তাঁরা খুলনায় পৌঁছান এবং সেখানে সংবাদ সম্মেলন করেন। এনসিপির শীর্ষ নেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে বিএনপি, জামায়াতসহ গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলগুলো। কিন্তু দলটির নেতাদের জীবন রক্ষায় কেন অন্য কোন রাজনৈতিক দলের নেতারা কেন এগিয়ে আসেনি সেই প্রশ্ন মোটাদাগে সবার সামনে এসেছে। সেনাবাহিনী অসম সাহসিকতার সঙ্গে এগিয়ে না হলে মহাবিপদ ঘটতে পারতো বলেও মনে করছেন অনেকেই।

দেশের প্রতিটি দুর্যোগ বা দু:সময়ে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী জাতির আস্থার প্রতীক হিসেবেই আবির্ভূত হয়েছে বারবার। গোপালগঞ্জে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা এনসিপির নেতাদের নিরাপদে উদ্ধারের মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের ‘আস্থার প্রতীক’ বিশেষণের মর্যাদা রেখেছেন। আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁরা দেশবাসীর কাছেও প্রশংসিত হয়েছেন। চরম বাস্তবতায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে কোন প্রশ্ন না থাকলেও আওয়ামী লীগ সমর্থক গোষ্ঠী সোশ্যাল মিডিয়ায় সেনাবাহিনীকে নিয়ে নানা অপপ্রচার শুরু করেছে। অতীতেও সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান কেন ক্ষমতা নিচ্ছেন না, জরুরি অবস্থা জারি হচ্ছে না এমন সব প্রশ্ন রেখে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাণ্ডব চালিয়েছে দলটির কর্মী-সমর্থকরা। এখন গোপালগঞ্জে সংঘাতে চারজন নিহত হওয়ার পর সেনাবাহিনীকে টার্গেট করেই নানান অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তবে সেদিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় আত্মরক্ষার্থে সেনাবাহিনী বল প্রয়োগ করতে বাধ্য হয় বলে জানিয়েছে আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাঁরা এ ঘটনায় গুজব বা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে ধৈর্য ধারণ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য সবাইকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন।

গোপালগঞ্জে চলমান এই রাজনৈতিক সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলায় জেলাটির জনসাধারণ অত্যন্ত ধৈর্যর সঙ্গে নিজেদের নিবৃত্ত রেখে সেনাবাহিনীকে সহায়তা করেছেন বলেও আইএসপিআর এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর বলপ্রয়োগের কারণও তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘সেনাবাহিনী হামলাকারীদের মাইকে বারংবার ঘোষণা দিয়ে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলে তারা সেনাবাহিনীর ওপর বিপুলসংখ্যক ককটেল ও ইটপাটকেল ছুড়ে হামলা করে। এক পর্যায়ে সেনাবাহিনী আত্মরক্ষার্থে বলপ্রয়োগে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ যৌথভাবে বিশৃঙ্খলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। অতঃপর সেনাবাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আশ্রয় গ্রহণকারী ব্যক্তিদের খুলনায় স্থানান্তর করা হয়। সর্বোপরি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী পেশাদারি ও ধৈর্যের সাথে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।’

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান সফল থেকে শুরু করে দেশের সংকটময় এই সময়ে দেশ রক্ষাসহ প্রতিটি কার্যক্রমে অন্তর্বর্তী সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে চলেছে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী। সংকটে সহায়তার জন্য সেনাবাহিনীর এসব ভূমিকার উদাহরণও কম নয়। গোপালগঞ্জের ঘটনার আগে গত বছর ২৫ আগস্ট সচিবালয়ে হাসনাত আবদুল্লাহসহ ৫০ জন শিক্ষার্থী আন্দোলনরত আনসার সদস্যদের হামলার শিকার হন। সে সময়ও সেনাবাহিনী তাদের উদ্ধারে এগিয়ে যায়। হাসনাত আবদুল্লাহসহ গুরুতর আহত শিক্ষার্থীদের ঢাকার সিএমএইচে ভর্তির ব্যবস্থা করে। কিন্তু দেড় মাস আগেও এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম সেনাবাহিনীর অবস্থান ও কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। রংপুরে জাতীয় পার্টির নেতা জি এম কাদেরের বাড়িতে হামলা প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, ‘পুরোনো বাইক আর সামান্য আগুন নিয়ে যাদের এত চিন্তা তারা বিগত ৯ মাসে আওয়ামী সন্ত্রাসী খুনিদের ধরতে কয়টা অভিযান চালিয়েছে? কতজনকে গ্রেপ্তার করেছে?’

এর আগে একটি নন ইস্যুকে ইস্যু করে এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে ইঙ্গিত করে ফেসবুক পোস্টে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। দলটির আরেক নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হাসনাতের ওই স্ট্যাটাসকে ‘শিষ্টাচারবর্জিত’ উল্লেখ করে বক্তব্য রাখেন। এই বিষয়ে সেনা সদর দপ্তর আনুষ্ঠানিক কোন প্রতিক্রিয়া না জানালেও সুইডেনভিত্তিক অনলাইন নিউজপোর্টাল নেত্র নিউজে সেনাসদরকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলেছিল-‘হাসনাত আবদুল্লাহর পোস্ট ‘সম্পূর্ণ রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি বৈ অন্য কিছু নয়’। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে নানা ঘটনা পরিক্রমায় সেনাবাহিনীকে তথা সশস্ত্র বাহিনীকে জড়িয়ে জুলাই অভ্যুত্থানের কারও কারও একতরফা ও একপক্ষীয় অভিযোগ আর কল্প-কাহিনী ফাঁদার তোড়জোড় বাড়বাড়ন্ত হয়ে ওঠেছে।

অথচ জুলাই-আগস্টের স্বতঃস্ফূর্ত গণঅভ্যুত্থান স্বার্থক উপসংহারে পৌঁছে দিতে লাশের সারিকে আর দীর্ঘ না করে দেশ ও জনগণের স্বার্থে অসীম সাহস ও দূরদৃষ্টিতে কালজয়ী এক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী। ঐতিহাসিক এক বাঁকবদলে নিয়ামকের ভূমিকা পালন করেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁনকে সঙ্গে নিয়ে ‘টিম ওয়ার্ক’ এর মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ফয়সালা করেছেন। বিস্মৃতিপ্রবণ বলেই কীনা অনেকেই হয়তো সেটি বেমালুম ভুলে গেছেন!

গোপালগঞ্জ সংঘাত, কী বলছেন দুই উপদেষ্টা?
আওয়ামী লীগের জন্য বিশেষ ও স্পর্শকাতর এলাকা হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সুলুক সন্ধান শুরু হয়েছে। দল হিসেবে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হলেও তাঁরা বড় রকমের সহিংসতার মাধ্যমেই নিজেদের অবস্থানকে জানান দিয়েছেন। এনসিপির সমাবেশটি পূর্ব ঘোষিত হলেও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগাম যথাযথ কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় এবং ব্যাপক জনসমাগম না ঘটলেও এনসিপি সমাবেশ করার সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় সংঘবদ্ধ হয়েই আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ নেতাকর্মীরা কয়েক দফা তাদের ওপর হামলার দু:সাহস দেখিয়েছে। স্থানীয়ভাবে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের কাছ থেকেও এনসিপি কোন রকম সহযোগিতা পাননি। ফলে সুযোগ বুঝে প্রকাশ্যে সংঘর্ষে নামতে পেরেছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। রুদ্ধশ্বাস এই পরিস্থিতির সময়ে এনসিপির অবরুদ্ধ নেতাদের জীবন রক্ষায় অন্য কোন রাজনৈতিক দলের নেতারাও এগিয়ে আসেননি। ফলে নিষিদ্ধ দলটির তাণ্ডব-সহিংসতার দায় কোন পক্ষই এড়াতে পারে না বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বিবৃতি ছাড়া এনসিপিকে রক্ষায় কোনো দলই এগিয়ে আসেনি, একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে নিউ এজ পত্রিকার সম্পাদক নূরুল কবির এমন বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘গোপালগঞ্জে এনসিপি নেতাদের ওপর যখন ভয়াবহ আক্রমণ হলো, পরে সব রাজনৈতিক দলকে তাদের পক্ষে বিবৃতি দিতে দেখেছি। কিন্তু ঘটনাস্থলে এনসিপিকে রক্ষা করার জন্যে বা তাদের প্রতি সমর্থন হিসেবে অন্য কোনো সংগঠন এগিয়ে আসেনি।’ সঠিক সময়ে সঠিক কথাটিই বলেছেন দেশবরেণ্য এই সাংবাদিক।

গোপালগঞ্জের অনাকাক্সিক্ষত এই পরিস্থিতি এড়াতে কেউ কেউ আগাম বাড়তি সতর্কতার অভাবকেই মোটা দাগে দায়ী করেছেন। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী নিজেও স্বীকার করে বলেছেন, ‘গোপালগঞ্জে বুধবার যে ঘটনা ঘটেছে, সে সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য ছিল। তবে এত পরিমাণ যে হবে, ওই তথ্য হয়তো ছিল না।’ অনেকেই পুরো পরিস্থিতির জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দিকে অভিযোগের তীর ছুঁড়লেও স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া সেটি ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, ‘গোপালগঞ্জে যা ঘটেছে তা দুঃখজনক ও অপ্রত্যাশিত। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভালো ভূমিকা পালন করেছে। তারা সফলভাবে ঘটনাস্থল থেকে প্রত্যেককে নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে পেরেছে। ফলে বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই।’

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন গণমাধ্যমের কল্যাণে আমরাও দেখেছি সবাই যেখানে কথার ফুলঝুরি ফোটোচ্ছেন সেই সময়ে গোপালগঞ্জে এনসিপির নেতাদের উদ্ধার করে নিরাপদে খুলনা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী প্রমাণ করেছে প্রতিটি সংকটে দেশের মানুষের প্রধান ভরসার জায়গায় রয়েছেন তাঁরাই। অতীতেও দেশের প্রতিটি দুর্যোগ-দুর্বিপাকে সশস্ত্র বাহিনী জনগণের পাশে দাঁড়ানোর নানাবিধ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ছাত্র-জনতার রক্তস্রোতে সফল গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই শান্তিতে নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ ড.মুহাম্মদ ইউনূস এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে অচল করতে আনসার বিদ্রোহ, দাবি-দাওয়ার অজুহাতে নানা আন্দোলন, পরিকল্পিতভাবে গার্মেন্টস শিল্পে অস্থিরতার ঘটনা ঘটে। মববাজি ও সড়ক-মহাসড়ক অবরোধও নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। কঠিন মুহুর্তে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাসহ প্রতিটি পরিস্থিতি সাহসের সঙ্গে মোকাবিলায় চরম ধৈর্য্য ও বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছে সশস্ত্র বাহিনী। দেশের স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা, মাদক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারসহ হাজারো স্রহস্র প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে চড়াই-উতরাই ভেঙে অন্তর্বর্তী সরকারের পাশে থেকে সশস্ত্র বাহিনী গত ১১ মাসে প্রমাণ করেছে দেশের স্বার্থেই তাঁরা নিবেদিতপ্রাণ। ‘সবার আগে দেশ’ এই নীতিতেই তাঁরা বিশ্বাসী। ফলে দিনের শেষে সশস্ত্র বাহিনীর গভীর দেশপ্রেম, দায়িত্বশীলতা, সত্য ও ন্যায়ের জয় হয়েছে।

কালের আলো/এমএএইচএন

খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫২ পূর্বাহ্ণ
খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন শুরু

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অধিবেশনের প্রথম প্লেনারি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের সমাপনী পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরে ৮১তম অধিবেশনের নবনির্বাচিত সভাপতি হিসেবে ড. খলিলুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন। আগামী এক বছর তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

শপথ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সংস্থাটির প্রতি আস্থার ঘাটতি রয়েছে। ভবিষ্যতের জন্য জাতিসংঘকে আরও কার্যকর ও উপযোগী করে তুলতে গভীর সংস্কার প্রয়োজন।

মঙ্গলবার প্রথম প্লেনারি সভা শুরু হলেও আগামী ২২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের ভাষণের মধ্য দিয়ে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক শুরু হবে। এতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

জ্বালানি বিলেই নাজেহাল মার্কিনিরা, ইরান যুদ্ধে বাড়তি খরচ ১০০ বিলিয়ন ডলার

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৭ পূর্বাহ্ণ
জ্বালানি বিলেই নাজেহাল মার্কিনিরা, ইরান যুদ্ধে বাড়তি খরচ ১০০ বিলিয়ন ডলার

ইরান যুদ্ধের ছয় মাসেই জ্বালানি কিনতে গিয়ে মার্কিন ভোক্তাদের পকেট থেকে বেরিয়ে গেছে অতিরিক্ত প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বেড়ে সাধারণ পরিবারের বাজেটে তৈরি হয়েছে বড় চাপ। দেশটির প্রায় ১৩ কোটি ১০ লাখ পরিবারের হিসাবে গড়ে প্রতিটি পরিবারের বাড়তি জ্বালানি ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৬৩ ডলার।

ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ওয়াটসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের তথ্যের বরাতে এই হিসাব সামনে এসেছে। এতে স্পষ্ট, ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক অভিঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্য বা আন্তর্জাতিক তেলবাজারে সীমাবদ্ধ নেই; সরাসরি মার্কিন পরিবারের দৈনন্দিন খরচেও এর প্রভাব পড়ছে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা পেট্রোলের দামে
মার্কিনিদের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে পেট্রোলের দামে। ছয় মাসের ব্যবধানে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম ২ দশমিক ৯৮ ডলার থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ১৫ ডলারে উঠেছে। অর্থাৎ দাম বেড়েছে প্রায় ৩৯ শতাংশ। ডিজেলের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও কঠিন। প্রতি গ্যালনের দাম ৩ দশমিক ৬৭ ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৫ দশমিক ৯০ ডলার—বৃদ্ধি ৬০ শতাংশেরও বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের প্রবণতা বেশি হওয়ায় পেট্রোলের এই মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি পরিবারের ব্যয়ে প্রভাব ফেলছে। অন্যদিকে ডিজেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে পরিবহন ও পণ্য সরবরাহের খরচে। ফলে একদিকে গাড়ি চালানোর খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে দোকানে পৌঁছানোর আগেই পণ্যের দাম বাড়ছে।

যুদ্ধ চলছে ছয় মাস
ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাত শুরুর সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধটি চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে শেষ হওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছিলেন। বাস্তবে সেই সময়সীমা অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে। সংঘাত এখন ষষ্ঠ মাসে প্রবেশ করেছে এবং দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও স্পষ্ট নয়। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক তেলবাজারে বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছে।

ট্রাম্পের সঙ্গে মার্কিনিদের দ্বিমত
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এখন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কেরও অংশ। যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন না থাকায় অনেক মার্কিনি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনকে দায়ী করছেন।তবে ট্রাম্প এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি তেলের দাম বাড়ার বিষয়টিকে খুব বেশি গুরুত্ব না দিয়ে বরং তেল কোম্পানিগুলোর ওপর দায় চাপিয়েছেন। ফলে যুদ্ধের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের খরচ শেষ পর্যন্ত কে বহন করছে—সরকার, তেল কোম্পানি নাকি সাধারণ মানুষ—এই প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে।

খাদ্যনিরাপত্তাতেও চাপ
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এর প্রভাব শুধু গাড়ির জ্বালানিতে আটকে থাকে না। কৃষিতে ট্রাক্টর চালানো, খাদ্য পরিবহন, পণ্য সংরক্ষণ, শীতলীকরণ থেকে শুরু করে প্লাস্টিকের প্যাকেজিং—প্রায় প্রতিটি ধাপেই তেল ও গ্যাসের ব্যবহার রয়েছে।ফলে জ্বালানির দাম বাড়লে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়ও বাড়ে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়ে ভোক্তার বাজারে। মার্কিন পরিবার একদিকে গাড়ির ট্যাংক ভরতে বেশি টাকা দিচ্ছে, অন্যদিকে একই জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির কারণে খাবার ও অন্যান্য পণ্য কিনতেও বাড়তি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। বিশ্বের নিম্ন আয়ের দেশগুলোর জন্য ঝুঁকি আরও বড়। তেল ও সার আমদানির ব্যয় বেড়ে গেলে কৃষি উৎপাদনের খরচ বাড়তে পারে। দীর্ঘস্থায়ী হলে খাদ্য সরবরাহ ও খাদ্যনিরাপত্তাতেও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সামনে আরও চাপের শঙ্কা
জ্বালানি বাজারের এই চাপের মধ্যেই ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন ‘নিয়ন্ত্রিত জোন’ তৈরির ঘোষণা দিয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, এ এলাকার জন্য নতুন মানচিত্র দেওয়া হবে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে সেটি অনুসরণ করতে হবে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, মার্কিন অবরোধ ও হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার নিশ্চয়তা দেবে না ইরান। নতুন নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ প্রবেশ করলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে দেশটি। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে মার্কিনিদের জন্য জ্বালানি বিলের চাপ আরও বাড়তে পারে। আর হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়লে তার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববাজারেও পড়বে। ফলে ইরান যুদ্ধ এখন শুধু ভূরাজনৈতিক সংঘাত নয়—সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দেওয়া এক বড় অর্থনৈতিক সংকটেও রূপ নিচ্ছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

জাতিসংঘ সংস্কারে গভীর পরিবর্তনের প্রয়োজন: খলিলুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৬ পূর্বাহ্ণ
জাতিসংঘ সংস্কারে গভীর পরিবর্তনের প্রয়োজন: খলিলুর রহমান

জাতিসংঘের সংস্কারকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় জাতিসংঘকে কার্যকর ও আস্থাশীল রাখতে গভীর ও অর্থবহ সংস্কার প্রয়োজন।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

খলিলুর রহমান বলেন, বর্তমানে জাতিসংঘের প্রতি আস্থার ঘাটতি রয়েছে। শুধু বর্তমান সময়ের জন্য নয়, ভবিষ্যতের উপযোগী করে তুলতে হলে সংস্থাটিতে গভীর সংস্কার করতে হবে। সংস্কার যেন কেবল নামমাত্র না হয়, বরং সাধারণ মানুষের কাছে জাতিসংঘের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখে—সেদিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘এটি ১৯৪৫ সাল নয়। আমরা এখন একবিংশ শতাব্দীতে আছি। বিশ্ব এগিয়ে গেছে, তাই জাতিসংঘকেও এগিয়ে যেতে হবে।’

জাতিসংঘ মহাসচিবের সংস্কার প্রক্রিয়াকে সমর্থন করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, একজন প্রতিনিধি ও কর্মী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি এই সংস্থাকে কাছ থেকে দেখেছেন। তাই সংস্কারগুলো অবশ্যই অর্থবহ হওয়া প্রয়োজন।

রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গ তুলে খলিলুর রহমান বলেন, নিজ বাড়িঘর থেকে বিতাড়িত বিশাল জনগোষ্ঠীর আকুতি তিনি কাছ থেকে দেখেছেন। ভবিষ্যতেও জাতিসংঘের সামনে রোহিঙ্গাদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার কাজ অব্যাহত রাখবেন তিনি।

সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনে কোনো দেশ তাকে ভোট দিয়েছে কি না, সেটি তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। তিনি সব দেশের জন্য একজন সভাপতি হিসেবে কাজ করতে চান।

এ সময় বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতি ও প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে খলিলুর রহমান জানান, তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাই তাকে এই পদমর্যাদা ও দায়িত্বের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রশ্ন করার আহ্বান জানান তিনি।

শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তার দরজা সবসময় খোলা থাকবে এবং সবার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে চান।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি