খুঁজুন
                               
শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২৮ চৈত্র, ১৪৩২
           

কারাগারের নতুন নাম হবে ‘কারেকশন সার্ভিসেস বাংলাদেশ’, জঙ্গিসহ এখনও পলাতক ৭ শতাধিক আসামি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৫, ১:২৩ অপরাহ্ণ
কারাগারের নতুন নাম হবে ‘কারেকশন সার্ভিসেস বাংলাদেশ’, জঙ্গিসহ এখনও পলাতক ৭ শতাধিক আসামি

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনের অবসান হয়। সেই সময় সারাদেশে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি প্রায় সরকার পতনের পরদিন একযোগে অনেকগুলো কারাগারে বন্দিদের ‘বিদ্রোহ’, হামলা ও পালানোর ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার, সাতক্ষীরা, শেরপুর, কুষ্টিয়া ও নরসিংদী কারাগার থেকে দুই হাজারের বেশি বন্দি পালিয়ে যান। কারাগারে শৃঙ্খলা ফেরাতে শীর্ষ নেতৃত্বে আসে নতুন মুখ। কারা মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন চৌকস সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন। এরপর কারাগারের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও অভূতপূর্ব পরিবর্তন এসেছে।

কারা মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর কারাগারের নানা দিক নিয়ে নিয়মিতই সংবাদ সম্মেলন করছেন তিনি। যেখানে কারা সদর দপ্তরের নানামুখী পদক্ষেপের পাশাপাশি গণমাধ্যমের অনেক প্রশ্নেরও খোলামেলা জবাব দিচ্ছেন। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে রাজধানীর বকশিবাজারে কারা সদরদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানালেন, বাংলাদেশ জেলের নাম পরিবর্তন করে ‘কারেকশন সার্ভিসেস বাংলাদেশ’ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

‎কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন কারা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতি এবং নিয়ম বহির্ভুত বিষয়েও তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। তিনি জানান, গত এক বছরে বিভিন্ন অনিয়মের সাথে জড়িতদের বাধ্যতামূলক অবসর, ৩৪ জনকে চাকুরিচ্যুত, ৪৪০ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাসহ ১৭২ জনকে প্রশাসনিক কারণে বিভাগের বাইরে বদলি করা হয়েছে। কারাগারে লোকবল সংকট কাটাতে সরকার ১ হাজার ৮৯৯ নতুন জনবলের অনুমোদন দিয়েছে। আরও ১ হাজার ৫০০ জনবলের চাহিদা পাঠানো হয়েছে।

  • কারাগারকে সংশোধনের জায়গায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব
  • কারাগারগুলোকে নগদ টাকা মুক্ত করার উদ্যোগ
  • কারাগারে আসা বন্দির পেট থেকে ১২০০ ইয়াবা উদ্ধার
  • কারাগার থেকে বন্দিরা ফোন করেন আইজি প্রিজনকে

৫ আগস্টের পর কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের মধ্যে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন দণ্ড পাওয়া আসামি ছাড়াও বিভিন্ন নিষিদ্ধ ‘জঙ্গি’ সংগঠনের আসামিরাও ছিলেন। তাদের মধ্যে গ্রেপ্তার ও নিজ ইচ্ছায় অনেকে ফিরে এলেও বড় একটা অংশ এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। সংবাদ সম্মেলনে এই বিষয়ে কারা মহাপরিদর্শক জানান, জঙ্গিসহ ৭ শতাধিক আসামি এখনো পলাতক। উদ্ধার হয়নি ২৯ অস্ত্র। এ সময় অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মোহাম্মদ মোস্তফা কামালও বক্তব্য রাখেন। উপস্থিত ছিলেন কারা অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারাও।

কারাগারকে সংশোধনের জায়গায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব
কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘কারাগারকে সংশোধনের জায়গার বিষয়টিকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে উপর ‘কারেকশন সার্ভিসেস বাংলাদেশ’ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইন যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে কারেকশন সার্ভিস অ্যাক্ট ২০২৫ এর খসড়া চূড়ান্ত করে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে।’

ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত বন্দি বিভিন্ন কারাগারে রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বন্দিদের স্থান সংকুলানের জন্য নতুন করে ২টি কেন্দ্রীয় কারাগার এবং ৪টি জেলা কারাগার চালু করা হয়েছে। এছাড়াও অধিকতর সমন্বয়ের জন্য ঢাকা বিভাগকে ভেঙে ২টি বিভাগ করা হয়েছে। মাদকের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান কারা মহাপরিদর্শক। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গত এক বছরে মাদকসেবী ২৯ জন সদস্যকে মাদক বহন, গ্রহণ ও সরবরাহে জড়িত থাকার অপরাধে ফৌজদারী মামলায় কারাগারে পাঠানোসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’

পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের মধ্যে এখনও সাত শতাধিক পলাতক
জুলাই আন্দোলন এবং সরকার পতনের পর দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের মধ্যে এখনও সাত শতাধিক পলাতক রয়েছে বলে জানান কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোহাম্মদ মোতাহার হোসেন। তিনি বলেছেন, পলাতকদের মধ্যে জঙ্গি আছে অর্ধশতাধিক।

কারা অধিদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে মোতাহার হোসেন বলেন, ‘প্রায় ২২শ পালিয়ে গিয়েছিল, এখনো ৬৫ জঙ্গি সহ সাতশতের অধিক পলাতক আছে। এসবের মধ্যে যাবজ্জীবন এখন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছেন।’ কারাগার থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যে এখনো ২৯টি এখনো উদ্ধার হয়নি বলেও জানিয়েছেন মহাপরিদর্শক। তিনি বলেন, ‘কারাগারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অস্ত্র কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার এবং পলাতকদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।’ কারাগারে প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনায় নিমানুযায়ী ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কারাগারে বন্দীকে হত্যার অভিযোগ থাকতে পারে তবে গত এক বছরে কারাগারে কোনো হত্যার ঘটনা ঘটেনি।’

কারাগারগুলোকে নগদ টাকা মুক্ত করার উদ্যোগ
কারাগারগুলোকে নগদ টাকা মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়ে আইজি প্রিজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন বলেন, গত এক বছরে ঢাকা কেরানীগঞ্জ কারাগার থেকে ৮০ লাখ টাকা উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে। এখনো অল্প অল্প ধরা পড়ছে। পূর্বের অবস্থা থেকে উন্নতি হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও জবাব দেন কারা মহাপরিদর্শক।

আইজি প্রিজন বলেন, আপনারা জানেন কারাগারে বিভিন্ন ধরনের অপরাধী থাকে। আমরা কঠোর হয়েছি, ফলে আমরা অনেকটা উদ্ধার করেছি। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্তত এক হাজারের বেশি অভিযান চালানো হয়েছে। কারাগার ও কাশিমপুরের রান্না করা খাবার বাসা থেকে দেওয়া বন্ধ করা হয়েছে জানান তিনি।

কারাগারে খাবারের মান নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আইজি প্রিজন বলেন, আমরা এটা নিয়ে কাজ করেছি। কঠোর নির্দেশনা দিয়েছি, বন্দিদের প্রাপ্যতা অনুসারে খাবারে যেন ছাড় দেওয়া না হয়। এখন খাবারের পরিমাণ নিয়ে খুব বেশি অভিযোগ পাবেন না। হ্যাঁ, রান্না নিয়ে অভিযোগ থাকতে পারে। কারণ আমাদের রাঁধুনিরা প্রফেশনাল কুক নন, বন্দিরাই রান্না করেন। যে কারণে স্বাদ নিয়ে কিছু কিছু অভিযোগ থাকতে পারে। কিন্তু পরিমাণ ও প্রাপ্যতা নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই।

আইজি প্রিজন বলেন, তাদের (কারাবন্দি) একটি অভিযোগ আছে প্রোটিন নিয়ে। বন্দিদের মাথাপিছু ৩৬ গ্রাম প্রোটিন দেওয়া হয়। মাছ, মাংসের টুকরো হিসেবে এটি ছোট একটি পিস। এটা সরকারি বরাদ্দ। এখানে আমার কিছু করার নেই। কিন্তু সরকার এটি বাড়িয়ে ৫৪-৫৫ গ্রামে নিয়ে গেছে। এতে প্রোটিনের পরিমাণ বাড়বে।

কারাগারগুলোতে চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মোতাহের হোসেন বলেন, আমাদের কারা অধিদপ্তরে লিস্টেড ডাক্তার আছে ১৪১ জন। এর মধ্যে কর্মরত আছেন ২ জন। এ ছাড়া সিভিল সার্জন থেকে ১০৩ জন নিয়োগপ্রাপ্ত আছেন, যারা প্রয়োজনে আসেন। তবে এটা আমাদের জন্য পর্যাপ্ত নয়। আমরা এটা নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। এটি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছি। আমাদের অ্যাম্বুলেন্সেরও স্বল্পতা আছে।

কারাগারে আসা বন্দির পেট থেকে ১২০০ ইয়াবা উদ্ধার
কারাগারে মাদক ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়ে কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন বলেছেন, অনেকে মাদক নিয়ে কারাগারে প্রবেশের চেষ্টা করে। এমনও বন্দি এসেছে যার পেটে ১২০০ ইয়াবা পেয়েছি।

সংবাদ সম্মেলনে কারাগারে মাদক বিস্তার রোধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে আইজি প্রিজন বলেন, ‘আমরা মাদকের বিষয়ে অনেক কঠোর। এমনকি পেটের মধ্যে করে ইয়াবা নিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করা হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামে বেশি ধরা পড়ছে। আর মাদক মামলায় যারা গ্রেপ্তার তাদের কারাগারে আনার পর বিশেষ সেলে রাখা হয়, যাতে করে তারা মাদক ছড়িয়ে দিতে না পারে।’ তিনি বলেন, ‘এমনও বন্দি এসেছে যার পেটে ১২০০ ইয়াবা পেয়েছি। আমরা এখনো শতভাগ সফল নই, তবে আমরা উন্নতি করেছি। এমনকি মাদকের সঙ্গে জড়িত কারারক্ষীদের চাকরিচ্যুত করার পাশাপাশি ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

আইজি প্রিজন বলেন, আপনারা জানেন কারাগারে বিভিন্ন ধরনের অপরাধী থাকে। আমরা কঠোর হয়েছি, ফলে আমরা অনেকটা উদ্ধার করেছি। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্তত এক হাজারের বেশি অভিযান চালানো হয়েছে। তল্লাশিতে বিপুলসংখ্যক ছোট সাইজের মোবাইল উদ্ধার করেছি। এখন অনেকটা কমেছে, তবে বন্ধ হয়েছে বলা যাবে না। তিনি বলেন, মোবাইলের বিষয়ে আমরা অনেক কঠোর। এমনকি মোবাইলের আলামত পাওয়ায় ডিভিশন পাওয়া বন্দিদের ডিভিশন বাতিল করা হয়েছে।

কারাগার থেকে বন্দিরা ফোন করেন আইজি প্রিজনকে
কারাগারের মধ্যে বন্দিদের মোবাইল ফোন ব্যবহার করার বিষয়টি স্বীকার করেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন। মোবাইল ফোন ব্যবহারের ঘটনা নতুন নয়, এমনকি বন্দিরা তাকেও ফোন দেয় বলে জানিয়েছেন আইজি প্রিজন। তবে এসব মোবাইল উদ্ধারে বিভিন্ন সময়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

কারাগারে বন্দিদের মোবাইল ব্যবহারের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আইজি প্রিজন বলেন, অবৈধ মোবাইলের মাধ্যমে বন্দিরা আমাকে অনেক সময় ফোন দেয়। মূলত আরেকজনকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য তারা ফোন দেয়, যারা তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী। এ বিষয়ে অনেক সময় অভিযান চালানো হয়েছে, ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু এটাই বাস্তবতা। আমি অস্বীকার করতে পারব না কারাগারে ফোন যায় না। কিন্তু আমরা অবস্থার উন্নতির চেষ্টা করছি। আমাদের চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই।

কারাগারে মাদক বিস্তার রোধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনারা জানেন কারাগারে বিভিন্ন ধরনের অপরাধী থাকে। আমরা কঠোর হয়েছি, ফলে আমরা অনেকটা উদ্ধার করেছি। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অন্তত এক হাজারের বেশি অভিযান চালানো হয়েছে। তল্লাশিতে বিপুলসংখ্যক ছোট সাইজের মোবাইল উদ্ধার করেছি। এখন অনেকটা কমেছে, তবে বন্ধ হয়েছে বলা যাবে না। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোতাহের বলেন, মোবাইলের বিষয়ে আমরা অনেক কঠোর। এমনকি মোবাইলের আলামত পাওয়ায় ডিভিশন পাওয়া বন্দিদের ডিভিশন বাতিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, মাদক মামলায় যারা গ্রেফতার তাদের কারাগারে আনার পর বিশেষ সেলে রাখা হয়, যাতে করে তারা মাদক ছড়িয়ে দিতে না পারে।

কালের আলো/এসআইপি/এমকে

শোক কাটিয়ে শুটিংয়ে রাহুল পত্মী প্রিয়াঙ্কা

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:০৪ অপরাহ্ণ
শোক কাটিয়ে শুটিংয়ে রাহুল পত্মী প্রিয়াঙ্কা

ওপার বাংলার অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জির আকস্মিক মৃত্যুর শোক কাটিয়ে কাজে ফিরেছেন তার স্ত্রী, অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) তিনি পরিচালক শমীক রায়চৌধুরীর নতুন ওয়েব সিরিজ ‘তারকাটা’-র শুটিংয়ে যোগ দিয়েছেন। বেহালার কাছাকাছি একটি লোকেশনে সিরিজটির দৃশ্যধারণ চলছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর, প্রিয়াঙ্কা এই সিরিজের একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন এবং তার বিপরীতে রয়েছেন অভিনেতা বিক্রম চ্যাটার্জি। সিরিজটির মাত্র কয়েক দিনের শুটিং বাকি রয়েছে।

শুক্রবারের শুটিংয়ে প্রিয়াঙ্কা অংশ নিলেও আগামী দিনগুলোর শিডিউলে থাকবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিচালক শমীক রায়চৌধুরী শুটিং শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করলেও বর্তমানে কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় বিস্তারিত কিছু জানাননি। প্রিয়াঙ্কার পাশাপাশি এদিন দেবেশ রায়চৌধুরী ও আয়ুশ দাসও শুটিংয়ে অংশ নেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি উড়িষ্যার তালসারিতে একটি ধারাবাহিকের আউটডোর শুটিং চলাকালে অভিনেতা রাহুলের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় প্রিয়াঙ্কা কলকাতা ও তালসারি উভয় জায়গাতেই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

গত কয়েক দিন নিজেকে সামলে নেওয়ার জন্য সময় নিলেও বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যমে একটি বার্তা শেয়ার করেন তিনি। সেখানে তিনি রাহুলের অকাল প্রয়াণকে শুধু শোকের স্মৃতি হিসেবে না রেখে একে বড় কোনো পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে দেখার আহ্বান জানান।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

দুই বিভাগে বৃষ্টির আভাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:০০ অপরাহ্ণ
দুই বিভাগে বৃষ্টির আভাস

দেশের দুই বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। একইসঙ্গে দেশের অন্যত্র রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানান আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, সন্ধ্যা ৬টা থেকে রংপুর ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

আরও বলা হয়, সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা ১-২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

দ্বিতীয় দিন, শনিবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রংপুর ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এদিন সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা ১-২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে রংপুরের ডিমলায় ৩১ মিলিমিটার। একই সময়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা খুলনার যশোরে ৩৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা সিলেটে ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থায় জানানো হয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ডা. শফিকুরকে সালাহউদ্দিন

আপত্তি থাকলে আগেই বলুন, বিল পাসের পর বলছেন আমি কিছু বুঝিলাম না

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০৬ অপরাহ্ণ
আপত্তি থাকলে আগেই বলুন, বিল পাসের পর বলছেন আমি কিছু বুঝিলাম না

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে উদ্দেশ্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিল পাস হয়ে যাওয়ার পর যদি বলেন আমি কিছু বুঝিলাম না। যদি আপত্তি দিতে হতো তা উত্থাপনের পর, তারপরে সেকেন্ড রিডিংয়ে বিবেচনার সময়।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ধন্যবাদ জানাই বিরোধীদলীয় নেতাকে, সব বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যকে; আপনারা যথেষ্ট সহযোগিতা করেছেন। ‘হ্যাঁ’ও বুঝে দিয়েছেন, ‘না’ও বুঝে দিয়েছেন। এই অপরিসীম সহযোগিতার জন্য সরকারি দলের পক্ষ থেকে আপনাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, কার্য উপদেষ্টা কমিটি এসব কর্ম নির্ধারণ করছে। বিশেষ কমিটি যেটা আপনি (স্পিকার) করে দিয়েছেন এই আইনগুলো পর্যালোচনা করার জন্য সংসদে বিশেষ এই কমিটিতে আমাদের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদিন সভাপতি ছিলেন। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকজন সদস্য ছিলেন। আইনমন্ত্রীসহ সবাই এটা আলোচনা পর্যালোচনা করে যেসব অধ্যাদেশ সর্বসম্মতিক্রমে পাস করার জন্য সিদ্ধান্ত হয় তার মধ্যে এই বিলটাও ছিল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, অর্থবিলসহ আরও কিছু বিলে নোট অব ডিসেন্ট ছিল, আলোচনার দাবি রেখেছিলেন বিরোধীদলীয় সদস্য- সেটি এরই মধ্যে আপনি দুই মিনিটের জায়গায় ১০ মিনিট ১৫ মিনিট, যেভাবে আপনি উপযুক্ত মনে করেছেন আলোচনার জন্য দিয়েছেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন