নেপাল থেকে জামাল ভূঁইয়াদের স্বস্তির প্রত্যাবর্তনে আস্থায় বিমান বাহিনী
বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রীতি ম্যাচ খেলতে নেপালে গিয়ে সরকারবিরোধী আন্দোলন আর সহিংসতার মধ্যে কাঠমান্ডুতে আটকা পড়া বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। গত সোম (০৮ সেপ্টেম্বর) থেকে বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর)-এই তিন দিন নেপালে একপ্রকার হোটেলবন্দী ছিল বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর খুলে দেওয়া হয় দেশটির বিমানবন্দর। বাংলাদেশ দল চেয়েছিল ওই রাতেই দেশে ফিরতে। ঢাকা থেকে বিশেষ ফ্লাইটের চেষ্টা চালানো হয়। শেষ পর্যন্ত আর হয়নি।
অবশেষে বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি পরিবহন বিমানের মাধ্যমে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বেলা ২টা ৫৫ মিনিটে যাত্রা শুরু করেন হাভিয়ের কাবরেরা ও জামাল ভূঁইয়ারা। বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটের দিকে ঢাকার কুমির্টোলা এলাকায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি বীর উত্তম একে খন্দকারে অবতরণ করে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বিশেষ ফ্লাইট। যাতে জামাল ভূঁইয়া ও তার সতীর্থদের সঙ্গে দেশে ফেরেন নেপালে অবস্থান করা সাংবাদিকরাও। মোট ৫৫ সদস্যের এই বিশাল বহর ঢাকায় ফেরার পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন সবাই। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী বিশেষ করে বিমান বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তাঁরা। এই ঘটনার মধ্যে দিয়ে দেশ ও জনগণের প্রয়োজনে বিমান বাহিনীর ঐতিহাসিক ভূমিকা আবারও দেদীপ্যমান হয়েছে সবার মাঝে। সঙ্কটে আবারও আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী।

জানা যায়, বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল গত ৩ সেপ্টেম্বর নেপালে গিয়েছিল দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে। ৬ সেপ্টেম্বর প্রথম ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হয়। দ্বিতীয় ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল ৯ সেপ্টেম্বর। কিন্তু সোশাল মিডিয়ার ওপর জারি করা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি আর দুর্নীতির প্রতিবাদে জেন-জি আন্দোলনে সহিংসত শুরু হলে দ্বিতীয় ম্যাচ বাতিল হয়ে যায়। গত মঙ্গলবার পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে ২২ জনের মৃত্যুর পর নেপালের প্রধানমন্ত্রীসহ কয়েকজন মন্ত্রী পদত্যাগ করেন। দেশটির পার্লামেন্ট ভবন ও মন্ত্রীদের বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হয়। নেপালের বিভিন্ন অংশে সহিংস বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে কারফিউ জারি করা হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় বিমানবন্দর। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ফুটবল দল কাঠমান্ডুর হোটেলে আটকা পড়ে। ছাত্র-জনতার তুমুল আন্দোলনের দিনে হামলার চেষ্টা হয়েছিল বাংলাদেশের টিম হোটেলেও। তবে হোটেল কর্তৃপক্ষ আন্দোলনকারীদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছিল যে, সেখানে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি নেই। তাদের ফিরিয়ে আনতে বিমানের একটি ফ্লাইট গত মঙ্গলবার কাঠমান্ডু গেলেও ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অনুকূল পরিস্থিতি না থাকায় নামার অনুমতি পায়নি। পরে সেটি ঢাকায় ফিরে আসে। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর খুলে দেওয়া হয় ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।
আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, কঠিন এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সদস্য ও ক্রীড়া সাংবাদিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরিভাবে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের জন্য বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে অনুরোধ করেন। সূত্র জানায়, দলের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দলের দ্রুত ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সক্রিয়ভাবে কাজ করেন।

আইএসপিআর জানায়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অনুরোধের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি পরিবহন বিমানের মাধ্যমে নেপালে আটকে পড়া সদস্যদের দেশে প্রত্যাবর্তনের জরুরি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। পরিকল্পনা মোতাবেক বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা ৫৩ মিনিটে বিমান বাহিনীর পরিবহন বিমান ঢাকা থেকে নেপালের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। এরপর সফল প্রচেষ্টার মাধ্যমে এদিন বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটের দিকে তাঁরা নিরাপদে ঢাকার কুর্মিটোলা এলাকায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি বীর উত্তম একে খন্দকারে পা রাখেন সবাই। নেপাল থেকে প্রত্যাবর্তনকারী মোট ৫৫ জন সদস্যদের মধ্যে ৩৮ জন খেলোয়াড়, কোচ, টিম অফিসিয়াল ও ডেলিগেট, ১৬ জন ক্রীড়া সাংবাদিক এবং একজন ছাত্র সমন্বয়ক ছিলেন। এর মাধ্যমে অবসান ঘটে সকল রকমের অনিশ্চয়তা ও উৎকণ্ঠার।
আইএসপিআর জানায়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের অপারেশন্স ও পরিকল্পনা পরিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আলীমুল আমীন বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বিমানটি বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি বীর উত্তম একে খন্দকারে পৌঁছার পর প্রেস ব্রিফিং করেন। সেখানে বক্তব্য রাখেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালও। এ সময়ের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আগামী দিনগুলোতে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশ ও জনগণের যে কোন প্রয়োজনে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী আত্মত্মনিয়োগের জন্য সদা অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানানো হয় আইএসপিআর’র সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

কালের আলো/এমএএএমকে


আপনার মতামত লিখুন
Array