আশাজাগানিয়া প্রবাসী আয় রেমিট্যান্সের কারণে সুষ্ঠু হচ্ছে মুদ্রার জোগান
কালের আলো রিপোর্ট:
আশাজাগানিয়া রূপ নিয়েছে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ২৪ দিনেই ২ দশমিক ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেশে এসেছে। পুরো মাস শেষে রেমিট্যান্স তিন বিলিয়ন ডলার আসতে পারে বলে ধারণা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ন্যুব্জ অর্থনীতির বুকে প্রবাসী আয়কে আশার পুনর্জাগরণ হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা।
রেমিট্যান্সের ঊর্ধ্বমুখী প্রবাহ চলতি সেপ্টেম্বরেও অব্যাহত থাকার কথা জানিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, গত ১ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ২২৩ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার বা ২ দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলার। টাকার অঙ্কে (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে) এর পরিমাণ প্রায় ২৭ হাজার ২৫৫ কোটি। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১৯০ কোটি ৯০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স। সে হিসাবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩২ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকার সরকারের হুন্ডিবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে। মানি লন্ডারিং রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কড়া নজরদারিতে অবৈধ চ্যানেল সংকুচিত হয়েছে। এতে বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে আইনি পথে অর্থ পাঠানোর মনোভাব গড়ে উঠেছে। বিশ্ববাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, রোমানিয়াসহ নতুন নতুন শ্রমবাজারে বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানো হচ্ছে। সরকার দক্ষ কর্মী প্রশিক্ষণ, ভাষাশিক্ষা এবং চুক্তিনির্ভর প্রেরণ নিশ্চিত করায় প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ও মান দুই-ই বেড়েছে।
- সেপ্টেম্বরের ২৪ দিনেই দেশে এসেছে ২.২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
- সেপ্টেম্বরের ২৪ দিনেই দেশে এসেছে ২.২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
- বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের আইনি পথে অর্থ পাঠানোর মনোভাব গড়ে উঠেছে
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম আড়াই মাসে (জুলাই থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) রেমিট্যান্স এসেছে ৭১৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ৬০৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার। অর্থাৎ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১৭ শতাংশে। এর আগে চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশে এসেছিল ২৪৭ কোটি ৭৯ লাখ ১০ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩০ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা। আগস্টে প্রবাসীরা পাঠান ২৪২ কোটি ২০ লাখ ডলার বা ২৯ হাজার ৫৪৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
গত অর্থবছর ২০২৪-২৫ এ মার্চ মাসে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স আসে, যা ছিল বছরের রেকর্ড। পুরো অর্থবছরে প্রবাসী আয় দাঁড়ায় ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার—আগের অর্থবছরের তুলনায় ২৬ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৩ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের মাসভিত্তিক রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল যথাক্রমে: জুলাই ১৯১.৩৭ কোটি ডলার, আগস্ট ২২২.১৩ কোটি, সেপ্টেম্বর ২৪০.৪১ কোটি, অক্টোবর ২৩৯.৫০ কোটি, নভেম্বর ২২০ কোটি, ডিসেম্বর ২৬৪ কোটি, জানুয়ারি ২১৯ কোটি, ফেব্রুয়ারি ২৫৩ কোটি, মার্চ ৩২৯ কোটি, এপ্রিল ২৭৫ কোটি, মে ২৯৭ কোটি এবং জুনে ২৮২ কোটি ডলার।
- রেমিট্যান্সের ঊর্ধ্বমুখী প্রবাহ সেপ্টেম্বরেও অব্যাহত
আরিফ হোসেন খান
নির্বাহী পরিচালক
কেন্দ্রীয় ব্যাংক
রেমিট্যান্স শুধু অর্থ পাঠানো নয়, এটি দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির এক বড় চালিকা শক্তি বলে মত দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলেন, ব্যবসায়ীদের মধ্যে এখন নতুন একটা আস্থা তৈরি হচ্ছে, কারণ, রেমিট্যান্সের কারণে মুদ্রার জোগান সুষ্ঠু হচ্ছে। বাজারে ডলারের দাম কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার ফলে আমদানি পণ্যের দামও নিয়ন্ত্রণে আসছে। খাদ্যপণ্যের মূল্য কমে আসায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরে আসছে। এই মূল্যস্ফীতির চাপ কমে যাওয়ায় দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
কালের আলো/এমএএইচ/এইচএন


আপনার মতামত লিখুন
Array