দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্ধুদ্ধ সেনাবাহিনীর গুরুত্ব অপরিসীম : সেনাপ্রধান
মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন রাখার জন্য একটি দক্ষ আধুনিক ও দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্ধুদ্ধ সেনাবাহিনীর গুরুত্ব অপরিসীম বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেন, এই সেনাবাহিনীর নেতৃত্বের দায়িত্ব মূলত অফিসারদের ওপরেই বর্তায়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে নিবেদিত প্রাণ, দক্ষ, চৌকস ও মেধাবী এবং একবিংশ শতাব্দীর নেতৃত্বের জন্য উপযুক্ত সেনা অফিসার তৈরীর লক্ষ্যে ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ মিলিটারী একাডেমি। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই একাডেমি হতে কমিশনপ্রাপ্ত অফিসারদের নেতৃত্বে শৃঙ্খলা আনুগত্য ন্যায়পরায়ণতা ও কর্তব্যবোধে উজ্জীবিত হয়ে আমাদের সেনাবাহিনী আজ দেশের সীমানা পেরিয়ে বহির্বিশ্বেও উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে।
মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) চট্টগ্রামের ভাটিয়ারিস্থ বিএমএ প্যারেড গ্রাউন্ডে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (বিএমএ) এর ৮৯তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্স এবং ৬০তম বিএমএ স্পেশাল কোর্সের অফিসার ক্যাডেটদের কমিশনপ্রাপ্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেনাবাহিনী প্রধান মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও প্যারেডের অভিবাদন গ্রহণ করেন। পাশাপাশি তিনি কৃতি ক্যাডেটদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
- যেকোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ গ্রহণের জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে
- শৃঙ্খলা সেনাবাহিনী পেশাদারিত্ব ও উৎকর্ষতা অর্জনের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি
- যেকোন বিষয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে নিজের বিবেকে দ্বারস্থ হবে
আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি বিএমএ প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে পৌঁছালে জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) আর্মি ট্রেনিং এন্ড ডকট্রিন কমান্ড; জিওসি ২৪ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার চট্টগ্রাম এরিয়া এবং বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির কমান্ড্যান্ট তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে এই মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজের মাধ্যমে ৮৯তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের সর্বমোট ১৮৪ জন অফিসার ক্যাডেট ও ৬০তম বিএমএ স্পেশাল কোর্সের ২০ জন অফিসার ক্যাডেট কমিশন লাভ করেন। কমিশনপ্রাপ্ত নবীন সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে ১৮৩ জন পুরুষ ও ২১ জন মহিলা সেনা কর্মকর্তা রয়েছেন। কোম্পানি সিনিয়র আন্ডার অফিসার আজমাইন ইশরাক ৮৯তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের সেরা চৌকস ক্যাডেট হিসেবে অসামান্য গৌরবমন্ডিত ‘সোর্ড অব অনার’ এবং সামরিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য ‘সেনাবাহিনী প্রধান স্বর্ণপদক’ অর্জন করেন। পরে প্রশিক্ষণ সমাপনকারী ক্যাডেটরা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণ করেন। এরপর অনুষ্ঠানে আগত অতিথি এবং প্রশিক্ষণ সমাপনকারী ক্যাডেটদের পিতা-মাতা ও অভিভাবকরা নবীন অফিসারদের র্যাঙ্ক-ব্যাজ পরিয়ে দেন।
যেকোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ গ্রহণের জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে
চির উন্নত মম শির মূলমন্ত্রে দীক্ষিত বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি দূরদর্শী পরিকল্পনা ও সাবলীল প্রশিক্ষণ পরিচালনার মাধ্যমে অত্যন্ত সূচারূভাবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তথা বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করে চলেছে মন্তব্য করে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির এই অবদানের জন্য গর্বিত এবং তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। অফিসার ক্যাডেটদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আজকে এই দিনটি আমাদের সকলের জন্য আনন্দের দিন। কারণ বিএমএতে দীর্ঘ ৩ বছরে কঠোর পরিশ্রম শেষে আজ তোমরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করতে যাচ্ছ। এজন্য তোমাদেরকে জানাই আমার আন্তরিক অভিনন্দন। তোমাদের কাছে আমার প্রত্যাশা এই যে নেতৃত্বের সর্বোচ্চ গুণাবলী যেমন সততা, সত্যবাদিতা, কর্তব্যনিষ্ঠা এবং কঠোর পরিশ্রম দ্বারা সেনাবাহিনীর ওপর অর্পিত সকল দায়িত্ব তোমরা অত্যন্ত আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সাথে পালন করবে। তোমাদেরকে যেকোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ গ্রহণের জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে। সামরিক চেতনা ও মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখতে এবং যেকোন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দেশপ্রেমকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। তোমাদেরকে সাহসিকতার সাথে সকল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। তোমরা প্রতিনিয়ত নিজেদের সক্ষমতাকে বাড়াতে সচেষ্ট থাকবে।’
শৃঙ্খলা সেনাবাহিনী পেশাদারিত্ব ও উৎকর্ষতা অর্জনের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি
অফিসার ক্যাডেটদের উদ্দেশ্যে সেনাপ্রধান বলেন, ‘সেনাবাহিনীর দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, রীতি নীতি, সুনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন পদ্ধতি এবং রেজিমেন্টেড লাইফকে তোমরা মনে প্রাণে গ্রহণ করবে এবং সর্বদা নিজেদেরকে শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখবে। মনে রাখবে তোমাদের উপর অর্পিত হবে সেনাবাহিনীর ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের গুরুদায়িত্ব।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মূলমন্ত্র- ‘সমরে আমরা শান্তিতে আমরা সর্বত্র আমরা দেশের তরে’ উজ্জীবিত হয়ে মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাই হবে তোমাদের জীবনে প্রথম এবং প্রধানতম ব্রত। শৃঙ্খলা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পেশাদারিত্ব ও উৎকর্ষতা অর্জনের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।’

যেকোন বিষয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে নিজের বিবেকে দ্বারস্থ হবে
সেনাবাহিনীতে সকল বিষয় নির্ধারিত নিয়ম প্রথা ও অনুশাসন ধারা পরিচালিত হয় মন্তব্য করে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘যেকোন বিষয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে নিজের বিবেকে দ্বারস্থ হবে। তোমরা ভুলে যাবে না তোমাদেরকে গড়ে তুলতে দেশের খেটে খাওয়া মানুষের অনেক অবদান রয়েছে। মনে রাখবে, সামরিক জীবনের ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা ও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার গুরুত্ব অপরিসীম। যার মাধ্যমে একজন সেনা সদস্য কর্মক্ষেত্রে নিজেকে আদর্শবান, মর্যাদাবান এবং উন্নত চরিত্রের অধিকারী হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। মনে রাখবে তোমরা প্রশিক্ষণ শেষে নতুন জীবনে পদার্পণ করছো যেখানে তোমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য অনেক বেশি। তোমরা অধীনস্থদের প্রতি সহানুভূতিশীল হবে এবং তাদের ভালো মন্দের প্রতি খেয়াল রাখবে। সর্বদা অধীনস্থদের সুপ্রশিক্ষিত করে গড়ে তুলবে এবং তাদের সামনে নিজেকে উদাহরণস্বরূপ উপস্থাপন করবে। তোমরা তোমাদের প্রশিক্ষণের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সর্বদা সচেষ্ট থাকবে এতেই তোমরা কর্মক্ষেত্রের সফলকাম হবে, ইনশাআল্লাহ।’
কালের আলো/এমএএইচ/এইচএন


আপনার মতামত লিখুন
Array