সদরের এমপি ওয়াহাব আকন্দের জবানীতে রাজনৈতিক প্রেস নোটের সেকাল-একাল!
৪৪ বছর আগের বলপেনে ছাত্রদলের কর্মসূচির প্রেস নোট লিখতেন আবু ওয়াহাব আকন্দ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির এই সহ-সম্পাদক। নিজের ছাত্র রাজনীতির উষালগ্নে ওই সময় কম দামি প্যাডে প্রেস নোট লিখে নিজে বাইসাইকেল চালিয়ে গণমাধ্যমের অফিসে ছুটে যেতেন তিনি। সেই সময় তিনি ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রদলের কর্মী। এরপর ১৯৮২ সালে ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নেতৃত্বে আসেন। আধুনিক সাংবাদিকতার সময়ে এখন কম্পিউটারে মেইলে মাত্র ৩০ সেকেন্ডেই পৌঁছে যায় প্রেস নোট। নতুন প্রজন্মের অনেকেই জানেন না কত পরিশ্রম-সংগ্রামের পর আশির দশকে ময়মনসিংহের স্থানীয় দৈনিকসমূহে ছাপা হতো রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রেস নোট।
বুধবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ নগরীর গোহাইলকান্দি খানবাড়ি এলাকায় ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক সন্ধানী বার্তা, কালের আলো.কম ও ময়মনসিংহ থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের ময়মনসিংহের উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিল, দোয়া, আলোচনা সভা ও ঈদ উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সদরের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ময়মনসিংহের এক সময়ের দাপুটে সংবাদপত্র দৈনিক জাহানের নির্বাহী সম্পাদক আব্দুল হাসিমের বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে ৪৪ বছর আগের স্মৃতিকাতরতায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। তাঁর স্মৃতির মানসপটে তাজা আজও সেই উজ্জ্বল স্মৃতি। স্মৃতি হাতড়ে আবু ওয়াহাব আকন্দ বলেন, ‘তখনকার সময়ে কম দামি কাগজের প্যাড করতাম আমরা। সেখান বলপেন দিয়ে লিখতে হতো।

নয়তো কাগজ ছিঁড়ে যেতে। হাতে লিখে সাইন করে বাইসাইকেলে দৈনিক জাহান পত্রিকা অফিসে নিয়ে যেতাম। হাসিম ভাই সত্য কথা বলতেন। ফাস্ট পেইজে না হলেও লাস্ট পেইজে নিউজটি অবশ্যই যাবে। আজ হাসিম ভাই আমার সেই কথা স্মরণ করলেন।’ ময়মনসিংহের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানের সভাপতি মো.শামসুল আলম খানের দীর্ঘ বর্ণাঢ্য সাংবাদিকতা জীবনের স্মৃতিচারণ করে আবু ওয়াহাব আকন্দ বলেন, ‘আজকের যিনি সভাপতি তিনি তখন ময়মনসিংহের হট সাংবাদিক শামসুল আলম খান। তাঁর খুঁচা দিয়ে লেখনী, সত্য বের করে আনার লেখনীর মাধ্যমে ইনকিলাবে প্রকৃত তথ্য উপস্থাপন করা তাঁর কাজ ছিল। ওই সময় নিউজে কোন ফাঁকে আমাদের নাম বাদ গেলে শামসু ভাইকে বলতাম প্রোগ্রামে ছিলাম নাম নেই কেন? জিলা স্কুল মোড়ে আমাদের আড্ডা ছিল। ওই সময় সোশ্যাল মিডিয়া ছিল না। আজকের মতো সাংবাদিকতা এতো সহজ ছিল না। তখনকার সময়ে যখন একটি সংবাদ ছাপা হতো সত্য-মিথ্যা যাই হোক আমরা প্রতিবাদ করতাম। সাংবাদিক ও সম্পাদক ভাইরা আমাদের বলতেন আপনারা লিখিত প্রতিবাদ দেন, সেটি ছাপা হবে। ওই সময় সাংবাদিকতা ছিল সুষ্ঠু, সুন্দর ও নীতিগতভাব কঠোর। তখনকার সময়ে যারা এখনও সাংবাদিকতা করেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই আর নবীন সাংবাদিক ভাইদের অভিনন্দন জানাই।’
দৈনিক সন্ধানী বার্তার প্রধান সম্পাদক এবং দৈনিক আজকের ময়মনসিংহের সম্পাদক ও প্রকাশক মো.শামসুল আলম খানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ ক্লিনিক ডায়াগনোস্টিক এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মনসুর আলম চন্দন, ময়মনসিংহের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আব্দুল হাসিম, শেখ মহিউদ্দিন আহমেদ, মতিউল আলম, আবু সালেহ মো.মূসা, আমান উল্লাহ আকন্দ জাহাঙ্গীর। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন দৈনিক সন্ধানী বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান।

প্রধানমন্ত্রী দেশকে নবীর করিম (সা.) এর ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে পরিচালিত করতে দৃঢ় অঙ্গীকার করেছেন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই দেশকে নবীর করিম (সা.) এর ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে পরিচালিত করতে দৃঢ় অঙ্গীকার করেছেন বলে মন্তব্য করেন ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। তিনি বলেছেন, ‘আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আমি এর চেয়ে বড় সাহসিকতার উচ্চারণ শুনিনি। আমাদের সকলের দায়িত্ব ও কর্তব্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দেশের উন্নয়নের প্রশ্নে সহযোগিতা করা। এই দেশ আমার আপনার। এই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এই এলাকার উন্নয়নে আপনারা আমাকে সহযোগিতা করবেন।’
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন
ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন আমি এখন তাঁর খুব কাছাকাছি থাকার সুযোগ পেয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ। আমি আপনাদের কল্যাণে এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এলাকার উন্নয়নে অবদান রাখতে চাই। এক্ষেত্রে আমার পথচলা সহজ করতে গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।’ তিনি ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের তৃণমূলের উন্নয়নে সংসদে কথা বলার দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
চোর-বদমাইশ, গুন্ডামি ও অন্যায় কাজে এমপির সহযোগিতা পাওয়া যাবে না
ঈদকে ঘিরে ময়মনসিংহের যানজট নিরসনে নিজেই রাস্তায় অবস্থান নিয়েছেন ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির এই সহ-সম্পাদক সেই উদাহরণ টেনে বক্তব্যে বলেন, ‘গতকাল (১৭ মার্চ) আমি রাস্তায় গিয়েছিলাম। আমি আমার দলীয় নেতাকর্মীদের সুস্পষ্টভাবে বলেছি-চোর-বদমাইশ, গুন্ডামি ও অন্যায় কাজে এমপির সহযোগিতা পাওয়া যাবে না। আমি বিএনপিকে সঠিক জায়গায় নিয়ে আসতে চাই। যারা এই নীতিতে অটল থাকবে তাঁরা আমার সঙ্গে থাকতে পারবে।’

আমি মাত্র ৩০ হাজার ভোট গতবারের চেয়ে বেশি কামাই করলাম?
২০১৮ সালের নির্বাচনে শত বাধা বিপত্তির পরেও মাত্র তিন ঘণ্টার ভোটে ১ লক্ষ ৫৭ হাজার ভোট পেয়ে সারা দেশে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোটের রেকর্ড গড়েছিলাম উল্লেখ করে ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের এই সংসদ সদস্য এবারের নির্বাচনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিট সেইভাবে না থাকার বিষয়ে দু:খ প্রকাশ করেন। তিনি প্রশ্ন রাখেন, এবার ৮ ঘণ্টার ভোটে আমি ১ লক্ষ ৭৯ হাজার ভোট পেয়েছি। এতো বছরের রাজনৈতিক জীবনে আমি মাত্র ৩০ হাজার ভোট গতবারের চেয়ে বেশি কামাই করলাম? আমার মনে হয়েছে আপনাদের (গণমাধ্যমকর্মীদের) এই বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত।’

আমি নীতিতে পথভ্রষ্ট হতে চাই না
আমি নীতিতে পথভ্রষ্ট হতে চাই না মন্তব্য করে ওয়াহাব আকন্দ বলেন, ‘এই ৬৪ বছর বয়সে আর কী চাওয়ার আছে আমার? একটি বাইসাইকেল দিয়ে রাজনৈতিক পথচলা শুরু করেছিলাম। এরপর একটি মোটর সাইকেল ছিল আমার। আর নির্বাচনের আগে যখন চলতে পারি না আমি মাত্র ৫ লক্ষ টাকা দিয়ে একটি পুরাতন গাড়ি কিনেছি। আমার গাড়ি কেনার সক্ষমতা ৮০ সালেই ছিল। ব্যবসা-বাণিজ্য করতাম। নব্বইয়ের পরে ব্যবসা-বাণিজ্যে আরও ভালো করেছিলাম। বিলাসিতা আমার কাছে পছন্দ নয়। প্রয়োজনের তাগিদে আমি এখনও এই অবস্থায় আছি। তবে বাহ্যিকভাবে আমাকে দেখলে মনে হয় আমার চেয়ে বোধকরি আর রিচম্যান হয় না। আমি বলবো, আমি খুবই সস্তায় চয়েজেবল কাপড় পড়ি। আমার কোন শখ নাই। আমার আরেকটি শখ আপনাদের (গণমাধ্যম) সঙ্গে চলতে চাই।’
কালের আলো/এমএসআইপি/এমএইচ


আপনার মতামত লিখুন
Array