খুঁজুন
                               
বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

সদরের এমপি ওয়াহাব আকন্দের জবানীতে রাজনৈতিক প্রেস নোটের সেকাল-একাল!

বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬, ১০:২৮ অপরাহ্ণ
সদরের এমপি ওয়াহাব আকন্দের জবানীতে রাজনৈতিক প্রেস নোটের সেকাল-একাল!

৪৪ বছর আগের বলপেনে ছাত্রদলের কর্মসূচির প্রেস নোট লিখতেন আবু ওয়াহাব আকন্দ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির এই সহ-সম্পাদক। নিজের ছাত্র রাজনীতির উষালগ্নে ওই সময় কম দামি প্যাডে প্রেস নোট লিখে নিজে বাইসাইকেল চালিয়ে গণমাধ্যমের অফিসে ছুটে যেতেন তিনি। সেই সময় তিনি ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রদলের কর্মী। এরপর ১৯৮২ সালে ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নেতৃত্বে আসেন। আধুনিক সাংবাদিকতার সময়ে এখন কম্পিউটারে মেইলে মাত্র ৩০ সেকেন্ডেই পৌঁছে যায় প্রেস নোট। নতুন প্রজন্মের অনেকেই জানেন না কত পরিশ্রম-সংগ্রামের পর আশির দশকে ময়মনসিংহের স্থানীয় দৈনিকসমূহে ছাপা হতো রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রেস নোট।

বুধবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ নগরীর গোহাইলকান্দি খানবাড়ি এলাকায় ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক সন্ধানী বার্তা, কালের আলো.কম ও ময়মনসিংহ থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের ময়মনসিংহের উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিল, দোয়া, আলোচনা সভা ও ঈদ উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সদরের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ময়মনসিংহের এক সময়ের দাপুটে সংবাদপত্র দৈনিক জাহানের নির্বাহী সম্পাদক আব্দুল হাসিমের বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে ৪৪ বছর আগের স্মৃতিকাতরতায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। তাঁর স্মৃতির মানসপটে তাজা আজও সেই উজ্জ্বল স্মৃতি। স্মৃতি হাতড়ে আবু ওয়াহাব আকন্দ বলেন, ‘তখনকার সময়ে কম দামি কাগজের প্যাড করতাম আমরা। সেখান বলপেন দিয়ে লিখতে হতো।

নয়তো কাগজ ছিঁড়ে যেতে। হাতে লিখে সাইন করে বাইসাইকেলে দৈনিক জাহান পত্রিকা অফিসে নিয়ে যেতাম। হাসিম ভাই সত্য কথা বলতেন। ফাস্ট পেইজে না হলেও লাস্ট পেইজে নিউজটি অবশ্যই যাবে। আজ হাসিম ভাই আমার সেই কথা স্মরণ করলেন।’ ময়মনসিংহের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানের সভাপতি মো.শামসুল আলম খানের দীর্ঘ বর্ণাঢ্য সাংবাদিকতা জীবনের স্মৃতিচারণ করে আবু ওয়াহাব আকন্দ বলেন, ‘আজকের যিনি সভাপতি তিনি তখন ময়মনসিংহের হট সাংবাদিক শামসুল আলম খান। তাঁর খুঁচা দিয়ে লেখনী, সত্য বের করে আনার লেখনীর মাধ্যমে ইনকিলাবে প্রকৃত তথ্য উপস্থাপন করা তাঁর কাজ ছিল। ওই সময় নিউজে কোন ফাঁকে আমাদের নাম বাদ গেলে শামসু ভাইকে বলতাম প্রোগ্রামে ছিলাম নাম নেই কেন? জিলা স্কুল মোড়ে আমাদের আড্ডা ছিল। ওই সময় সোশ্যাল মিডিয়া ছিল না। আজকের মতো সাংবাদিকতা এতো সহজ ছিল না। তখনকার সময়ে যখন একটি সংবাদ ছাপা হতো সত্য-মিথ্যা যাই হোক আমরা প্রতিবাদ করতাম। সাংবাদিক ও সম্পাদক ভাইরা আমাদের বলতেন আপনারা লিখিত প্রতিবাদ দেন, সেটি ছাপা হবে। ওই সময় সাংবাদিকতা ছিল সুষ্ঠু, সুন্দর ও নীতিগতভাব কঠোর। তখনকার সময়ে যারা এখনও সাংবাদিকতা করেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই আর নবীন সাংবাদিক ভাইদের অভিনন্দন জানাই।’

দৈনিক সন্ধানী বার্তার প্রধান সম্পাদক এবং দৈনিক আজকের ময়মনসিংহের সম্পাদক ও প্রকাশক মো.শামসুল আলম খানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ ক্লিনিক ডায়াগনোস্টিক এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মনসুর আলম চন্দন, ময়মনসিংহের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আব্দুল হাসিম, শেখ মহিউদ্দিন আহমেদ, মতিউল আলম, আবু সালেহ মো.মূসা, আমান উল্লাহ আকন্দ জাহাঙ্গীর। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন দৈনিক সন্ধানী বার্তার সম্পাদক ও প্রকাশক এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান।

প্রধানমন্ত্রী দেশকে নবীর করিম (সা.) এর ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে পরিচালিত করতে দৃঢ় অঙ্গীকার করেছেন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই দেশকে নবীর করিম (সা.) এর ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে পরিচালিত করতে দৃঢ় অঙ্গীকার করেছেন বলে মন্তব্য করেন ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। তিনি বলেছেন, ‘আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আমি এর চেয়ে বড় সাহসিকতার উচ্চারণ শুনিনি। আমাদের সকলের দায়িত্ব ও কর্তব্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দেশের উন্নয়নের প্রশ্নে সহযোগিতা করা। এই দেশ আমার আপনার। এই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এই এলাকার উন্নয়নে আপনারা আমাকে সহযোগিতা করবেন।’

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন
ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন আমি এখন তাঁর খুব কাছাকাছি থাকার সুযোগ পেয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ। আমি আপনাদের কল্যাণে এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এলাকার উন্নয়নে অবদান রাখতে চাই। এক্ষেত্রে আমার পথচলা সহজ করতে গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।’ তিনি ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের তৃণমূলের উন্নয়নে সংসদে কথা বলার দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

চোর-বদমাইশ, গুন্ডামি ও অন্যায় কাজে এমপির সহযোগিতা পাওয়া যাবে না
ঈদকে ঘিরে ময়মনসিংহের যানজট নিরসনে নিজেই রাস্তায় অবস্থান নিয়েছেন ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির এই সহ-সম্পাদক সেই উদাহরণ টেনে বক্তব্যে বলেন, ‘গতকাল (১৭ মার্চ) আমি রাস্তায় গিয়েছিলাম। আমি আমার দলীয় নেতাকর্মীদের সুস্পষ্টভাবে বলেছি-চোর-বদমাইশ, গুন্ডামি ও অন্যায় কাজে এমপির সহযোগিতা পাওয়া যাবে না। আমি বিএনপিকে সঠিক জায়গায় নিয়ে আসতে চাই। যারা এই নীতিতে অটল থাকবে তাঁরা আমার সঙ্গে থাকতে পারবে।’

আমি মাত্র ৩০ হাজার ভোট গতবারের চেয়ে বেশি কামাই করলাম?
২০১৮ সালের নির্বাচনে শত বাধা বিপত্তির পরেও মাত্র তিন ঘণ্টার ভোটে ১ লক্ষ ৫৭ হাজার ভোট পেয়ে সারা দেশে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোটের রেকর্ড গড়েছিলাম উল্লেখ করে ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের এই সংসদ সদস্য এবারের নির্বাচনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিট সেইভাবে না থাকার বিষয়ে দু:খ প্রকাশ করেন। তিনি প্রশ্ন রাখেন, এবার ৮ ঘণ্টার ভোটে আমি ১ লক্ষ ৭৯ হাজার ভোট পেয়েছি। এতো বছরের রাজনৈতিক জীবনে আমি মাত্র ৩০ হাজার ভোট গতবারের চেয়ে বেশি কামাই করলাম? আমার মনে হয়েছে আপনাদের (গণমাধ্যমকর্মীদের) এই বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত।’

আমি নীতিতে পথভ্রষ্ট হতে চাই না
আমি নীতিতে পথভ্রষ্ট হতে চাই না মন্তব্য করে ওয়াহাব আকন্দ বলেন, ‘এই ৬৪ বছর বয়সে আর কী চাওয়ার আছে আমার? একটি বাইসাইকেল দিয়ে রাজনৈতিক পথচলা শুরু করেছিলাম। এরপর একটি মোটর সাইকেল ছিল আমার। আর নির্বাচনের আগে যখন চলতে পারি না আমি মাত্র ৫ লক্ষ টাকা দিয়ে একটি পুরাতন গাড়ি কিনেছি। আমার গাড়ি কেনার সক্ষমতা ৮০ সালেই ছিল। ব্যবসা-বাণিজ্য করতাম। নব্বইয়ের পরে ব্যবসা-বাণিজ্যে আরও ভালো করেছিলাম। বিলাসিতা আমার কাছে পছন্দ নয়। প্রয়োজনের তাগিদে আমি এখনও এই অবস্থায় আছি। তবে বাহ্যিকভাবে আমাকে দেখলে মনে হয় আমার চেয়ে বোধকরি আর রিচম্যান হয় না। আমি বলবো, আমি খুবই সস্তায় চয়েজেবল কাপড় পড়ি। আমার কোন শখ নাই। আমার আরেকটি শখ আপনাদের (গণমাধ্যম) সঙ্গে চলতে চাই।’

কালের আলো/এমএসআইপি/এমএইচ

বাজারে চলছে অস্থিরতা

বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:০০ পূর্বাহ্ণ
বাজারে চলছে অস্থিরতা

বাজারে নিতপণ্যের দাম এখন ঊর্ধ্বমুখী। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলে সরকার রেশনিং আরোপ করেছে। এছাড়া সিন্ডিকেটের কারণে চাহিদা অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে গ্রামে বাড়তি দামে তেল বিক্রি হচ্ছে। এতে ট্রাক ভাড়া আগের তুলনায় ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি অন্যান্য পরিবহণ খাতেও খরচ বেড়েছে।

রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকা। যা এক মাস আগেও ১৮০ টাকা ছিল। প্রতি কেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৪৩০-৪৪০ টাকা। যা এক মাস আগে ৩২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা কেজি। আগে ছিল ৭৫০ টাকা। এদিকে ভোজ্যতেলের বাজারেও চলছে অস্থিরতা। আরেক দফা মূল্য বাড়াতে বাজার থেকে উধাও হয়েছে বোতলজাত সয়াবিন তেল। পাশাপাশি সংকট দেখিয়ে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ২১০-২২০ টাকা। যা এক মাস আগে ১৮৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বেড়েছে চিনির দামও। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০৫ টাকা। যা ঈদের আগে ১০০ টাকা ছিল।

বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, যুদ্ধের কারণে ভোজ্যতেল আমদানিতে সমস্যা হচ্ছে। পাশাপাশি বিশ্ববাজারে দাম বেড়েছে। এতে আমদানিকারকদের ব্যয় বেড়েছে। তাই দেশের বাজারেও দাম বাড়াতে হবে।

খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৬-৫৮ টাকায়। বিআর-২৮ জাতের মাঝারি দানার চাল ৬৮ টাকা, সরু চালের মধ্যে মিনিকেট চাল ৮৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। নতুন করে দাম না বাড়লেও প্রতি কেজি সরু মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা, মাঝারি দানার মসুর ডাল ১২০-১৩০ টাকা, মোটা দানার মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়।

নয়াবাজারের ব্যবসায়ী মো. আকবর বলেন, পরিবহণ ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় সবজি থেকে শুরু করে সব পণ্যের দাম বেড়েছে। পাশাপাশি কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কিছু পণ্যের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। জ্বালানি পরিস্থিতির জন্য পণ্যের দাম যেটুকু বাড়ার কথা তার তুলনায় বেশি দাম নেওয়ায় সাধারণ মানুষ বিড়ম্বনায় পড়েছেন।

কেজিপ্রতি ৮০ টাকার নিচে মিলছে না কোনো সবজি। মাসের ব্যবধানে কেজিতে ২০-৩০ টাকা বেড়েছে। গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি। এক মাস আগে ছিল ৮০-৯০ টাকা। পটোল বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি। যা আগে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। করলা বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা, বরবটি ৮০-৯০, ঢ্যাঁড়শ ৮০, চিচিঙ্গা ৮০-৯০, ধুন্দল ৬০-৮০, শিম ৮০-৯০, লাউ ৮০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব সবজির দাম ৩ দিন আগেও কেজিপ্রতি ২০-৩০ টাকা কম ছিল। মূলত ট্রাক ভাড়া বাড়ার কারণে সবজির দাম বেড়েছে।

ঢাকার কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. মাসুম বলেন, আমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করে মাসে ৪০ হাজার টাকা বেতন পাই। মা-বাবা, স্ত্রী ও এক ছেলে নিয়ে আমার সংসার। সেখান আমিসহ তাদের খাবার জোগাড় করতে মাসে ৫০ কেজির এক বস্তা চাল ৪ হাজার, ৫ লিটার তেল ৮৫০, বাসা ভাড়া ১২ হাজার, সবজি, মাছ, ব্রয়লার মুরগিসহ তরকারি রান্নার উপকরণ কিনতে ৮ হাজার, গ্যাস সিলিন্ডার ২০০০, সাবান-ডিটারজেন্ট ও শ্যাম্পু ৫০০, মুদি বাজার আরও ২ হাজার, বিদ্যুৎ বিল ১০০০ ও মোবাইল টকটাইমে খরচ হয় ৫০০ টাকা।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহণ ব্যয় বাড়ার প্রভাব সরাসরি পণ্যের দামে পড়ছে। পাশাপাশি বাজার সিন্ডিকেটের কারণে ভোজ্যতেলসহ একাধিক পণ্যের দাম বেড়েছে। তাই বাজারে কঠোরভাবে তদারকি দরকার।

কালের আলো/এম/এএইচ

বার্সাকে বিদায় করে ৯ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিতে আতলেতিকো

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৫২ পূর্বাহ্ণ
বার্সাকে বিদায় করে ৯ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিতে আতলেতিকো

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালের ফিরতি লেগে ২-১ গোলে জিতেও শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হয়েছে বার্সেলোনাকে। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে সেমি-ফাইনালে উঠেছে আতলেতিকো মাদ্রিদ।

মঙ্গলবার রাতে মেত্রোপলিতানো স্টেডিয়ামে শুরুতেই আধিপত্য দেখায় বার্সেলোনা। চতুর্থ মিনিটে লামিনে ইয়ামাল এবং ২৪তম মিনিটে ফেররান তোরেসের গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় তারা, ফলে দুই লেগ মিলিয়ে সমতা ফেরে। তবে ৩১তম মিনিটে আদেমোলা লুকমান গোল করে আতলেতিকোকে আবারও ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে নেন, যা শেষ পর্যন্ত নির্ণায়ক হয়ে ওঠে।

পুরো ম্যাচে প্রায় ৭১ শতাংশ বল দখলে রেখে বার্সেলোনা আক্রমণ চালালেও দুই দলই নেয় ১৫টি করে শট; লক্ষ্যে ছিল বার্সেলোনার ৮টি ও আতলেতিকোর ৫টি। বারবার সুযোগ তৈরি করেও গোল বাড়াতে পারেনি কাতালানরা, বিপরীতে গোলরক্ষক হুয়ান মুসোর দৃঢ়তায় টিকে থাকে স্বাগতিকরা।

ম্যাচের শেষ দিকে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে বার্সেলোনার জন্য। ৭৭তম মিনিটে এরিক গার্সি‌য়া লাল কার্ড দেখলে যোগ করা সময়সহ শেষ ১৯ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় তাদের। প্রথম লেগেও তারা খেলেছিল ১০ জনে।

শেষদিকে রবার্ট লেভানদোভস্কি ও রোনাল্ড আরাওহো সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেননি। ফলে ২-১ ব্যবধানে জিতেও হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা।

অন্যদিকে প্রায় ৯ বছর পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমি-ফাইনালে উঠেই উল্লাসে মাতে আতলেতিকো মাদ্রিদ।

কালের আলো/এসএকে

৫ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বৈধতা দিচ্ছে স্পেন, বাংলাদেশিদের উচ্ছ্বাস

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ
৫ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বৈধতা দিচ্ছে স্পেন, বাংলাদেশিদের উচ্ছ্বাস

বার্সেলোনায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের উচ্ছ্বাস

ইউরোপে যখন অভিবাসননীতি নিয়ে কড়াকড়ি চলছে তখন ব্যতিক্রমী এক সিদ্ধান্ত নিলো স্পেন। প্রায় ৫ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বৈধতা দিতে যাচ্ছে দেশটি। অর্থনীতি, জনসংখ্যা আর বাস্তবতার যুক্তি তুলে ধরে এই উদ্যোগকে ন্যায়ের পদক্ষেপ বলছে স্পেন সরকার।

এদিকে স্পেনের এমন সিদ্ধান্তের পর বার্সেলোনায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে উদযাপনের দৃশ্য দেখা গেছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, এ ঘোষণার পর উল্লাসে ফেটে পড়েছেন তারা। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে স্পেন সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

এই সুবিধা পেতে আবেদনকারীদের অন্তত পাঁচ মাস স্পেনে বসবাসের প্রমাণ এবং পরিচ্ছন্ন অপরাধমুক্ত রেকর্ড দেখাতে হবে। আগামী ১৬ এপ্রিল থেকে জুন মাসের শেষ পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে। অনুমোদন পেলে তারা কাজের সুযোগ, সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আসবেন।

সরকার বলছে, এই অভিবাসীরাই স্পেনের অর্থনীতি ও জনসেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছেন। জনসংখ্যার বার্ধক্য মোকাবিলা এবং শ্রমঘাটতি পূরণে তাদের বৈধতা দেওয়া জরুরি। অতীতে স্পেনের নাগরিকদের বিদেশে কাজের জন্য পাড়ি জমানোর ইতিহাসও এই সিদ্ধান্তের নৈতিক ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।

তবে দেশটির বিরোধী দল পিপলস পার্টি এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করে বলছে, সরকারের এমন উদ্যোগ অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করবে এবং নতুন করে আরও মানুষের আগমন বাড়াতে পারে।

যদিও ক্যাথলিক চার্চসহ কিছু মহল এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে। ইউরোপজুড়ে কড়াকড়ির প্রবণতার বিপরীতে স্পেনের এই পদক্ষেপ নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

কালের আলো/এসাআর/এএএন