খুঁজুন
                               
শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৫ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

স্থানীয় সরকার নির্বাচনও সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে চায় ইসি

বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬, ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ
স্থানীয় সরকার নির্বাচনও সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে চায় ইসি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। এরই মধ্যে ঢাকার ২ সিটি ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হলেও দেশের ১১ সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। একইসাথে জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম গতিশীল করতে দেশব্যাপী ৪২ জেলা পরিষদেও দেয়া হয়েছে নতুন প্রশাসক। তবে সবার নজরএবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে।

সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পরিষদগুলোতে প্রশাসক হিসেবে দলীয় নেতাদের দায়িত্ব দেওয়ার পর নির্বাচনের বিষয়ে সরকারের মনোভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সংসদের বিরোধী দলগুলো। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতোমধ্যে এসব পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানের তথ্য হালনাগাদ করা হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইসির প্রস্তুতির কথা জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলছেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে এই মুহূর্তে চ্যালেঞ্জ দেখছে না কমিশন। এসব নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে শীঘ্রই সভায় বসবে নির্বাচন কমিশন। তিনি বলেন, ‘সরকারের প্রস্তুতি লাগে, বাজেটের বিষয় থাকে। সকল কিছুর সমন্বয়েই কিন্তু একটা ইন্টিগ্রেটেড সমন্বিত নির্বাচন হয়। সরকারের চিন্তাভাবনা থাকতেই পারে। সরকার সিদ্ধান্ত নেবে, সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করবে।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, সিটি করপোরেশনগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ এবং দলীয় সরকারে প্রভাবিত না হয়ে নির্বাচন আয়োজনই ইসির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সংসদ নির্বাচন আয়োজনে ঘাটতির অভিযোগের বিষয়ে এই নির্বাচন কমিশনার জানান, আসন্ন স্থানীয় সরকার পর্যায়ের নির্বাচনে ভুলত্রুটি শুধরে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। ইসি আনোয়ারুল বলেন, ‘প্রতিটা কাজেই ছোটখাটো ভুল ত্রুটি চোখে আসবেই। ভুল ত্রুটি বলা যাবে না। আরও ভালো হতো এভাবে না করে ওইভাবে করলে। যদি এরকম কোনো বিষয় থেকে থাকে সেটি অবশ্যই নির্বাচন কমিশন এড্রেস করবে। এই নির্বাচনগুলো নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়ে একটার পর একটা করবে।’

বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, আইনি জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা হবে। তবে এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের পরিবর্তে সাধারণ প্রতীক ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকরাই দায়িত্ব পালন করবেন। ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের বিষয়ে প্রস্তাব এলে তা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘নির্দলীয় প্লাটফর্মেই নির্বাচনটা হওয়া দরকার। এটা কোনো দলীয় প্রতীকে হওয়া কাম্য না আমার কাছে। এতে করে এট লিস্ট আমাদের ওভারঅল রাজনীতির প্রতি যে সরকার, স্থানীয় সরকার কাঠামোর ওপর মানুষের আস্থার জায়গাটা কিছুটা ঠিক থাকবে বলেও আমি মনে করি।’ দলীয় সরকারের সময়ে নির্বাচন ইসির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এ নিয়ে সংসদ এবং রাজনীতির মাঠে ভিন্নমাত্রা তৈরি হতে পারে বলেও মত তার।

কালের আলো/এম/এএইচ

রোহিঙ্গা সংকট একটি সমাধানযোগ্য সমস্যা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৩৬ অপরাহ্ণ
রোহিঙ্গা সংকট একটি সমাধানযোগ্য সমস্যা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও কার্যকর সমাধান রাখাইন রাজ্যেই নিহিত এবং এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে শুধু মানবিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, সম্মানজনক ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আরও সক্রিয় ও ফলপ্রসূ ভূমিকা নিতে হবে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে তুরস্কে চলমান আন্তালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরামে প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য প্রদানকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক দাতা সহায়তা কমে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি এই প্রেক্ষাপটে অর্থায়ন বৃদ্ধি, রাখাইনে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
তিনি জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মিয়ানমার সরকার এবং আরাকান আর্মি—উভয় পক্ষই তাঁকে স্বাগত জানিয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট একটি সমাধানযোগ্য সমস্যা—তবে এর জন্য প্রয়োজন সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ ও ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা।
কালের আলো/এসআর/ এএএন 

ফের হরমুজ বন্ধ করল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৩১ অপরাহ্ণ
ফের হরমুজ বন্ধ করল ইরান

পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি ফের বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকায় আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে এই ঘোষণা দিয়েছে দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

আইআরজিসির যৌথ সামরিক কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে যাওয়ায় হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ‘আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেছে’।

আইআরজিসির বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ‘অবরোধের নামে জলদস্যুতা ও সামুদ্রিক চুরি চালিয়ে যাচ্ছে’।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এই কারণে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ আবার আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে এবং এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ এখন সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর তত্ত্বাবধানে রয়েছে।’

এতে বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্র যতদিন না ইরান থেকে জাহাজগুলো স্বাভাবিকভাবে তাদের গন্তব্যে যাতায়াতের পূর্ণ স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিচ্ছে, ততদিন হরমুজ প্রণালির অবস্থা কঠোর নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং আগের মতোই থাকবে।’

এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখলে হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ করে দেওয়া হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, ‘অবরোধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি খোলা থাকবে না। এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল ইরানের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে।’

বিশ্বব্যাপী নৌপরিবহণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি পরিবহন করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসনের প্রেক্ষিতে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বন্ধ করে দিয়েছিল ইরান।

এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দেয়। যার প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে। কিন্তু শত চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। তেহরান নৌপথটি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পুরো অঞ্চলজুড়ে অত্যাবশ্যকীয় অবকাঠামোতে আঘাত হানার সক্ষমতা ও ইচ্ছা উভয়ই প্রদর্শন করেছে, যা উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাসভিত্তিক অর্থনীতিকে বিপন্ন করেছে।

লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে দীর্ঘ প্রায় ছয় সপ্তাহ পর শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়েছিল ইরান। ওই দিন বিকেলে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক ঘোষণায় জানান, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকাকালে প্রণালি দিয়ে সব বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল উন্মুক্ত থাকবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকায় মাত্র এক দিনের মাথায় ফের বন্ধ করে দিলো তেহরান।

কালের আলো/এসআর/ এএএন

 

গভীর রাতে হজক্যাম্পে ধর্মমন্ত্রী, খোঁজ নিলেন সেবার মান ও ব্যবস্থাপনার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:২৩ অপরাহ্ণ
গভীর রাতে হজক্যাম্পে ধর্মমন্ত্রী, খোঁজ নিলেন সেবার মান ও ব্যবস্থাপনার

রাজধানীর আশকোনা হজক্যাম্পে হজযাত্রীদের সেবা ও কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করতে গভীর রাতে পরিদর্শনে গিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টায় ধর্মমন্ত্রী হজক্যাম্পে প্রবেশ করেন। তিনি হজযাত্রীদের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলোর ডেস্কে যান এবং তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজ নেন। মন্ত্রী ইমিগ্রেশন এরিয়ায় গিয়ে হজযাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং হজক্যাম্পের সেবা কার্যক্রম সম্পর্কে তাদের কাছ থেকে জানতে চান।

হজযাত্রীদের শারীরিক অবস্থার বিষয়েও খোঁজখবর নেন তিনি। শেষে মন্ত্রী ডরমিটরিতে যান এবং সেখানে অবস্থানকারী হজযাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। ডরমিটরির সামগ্রিক অবস্থা সম্পর্কেও জানতে চান মন্ত্রী।

হজক্যাম্পের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তারা ধর্মমন্ত্রীর এরূপ নিবিড় মনিটরিং কার্যক্রমে বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং তার জন্য দোয়া করেন।

সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে ধর্মমন্ত্রী বলেন, হজযাত্রীরা আল্লাহর মেহমান। এটি মাথায় রাখতে হবে এবং তাদের সঙ্গে সেভাবে আচরণ করতে হবে। হজযাত্রীরা যেন কোনো কষ্ট না পান সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী রাত সোয়া একটার দিকে হজক্যাম্প ত্যাগ করেন।

কালের আলো/এসএকে