স্থানীয় সরকার নির্বাচনও সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে চায় ইসি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। এরই মধ্যে ঢাকার ২ সিটি ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হলেও দেশের ১১ সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। একইসাথে জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম গতিশীল করতে দেশব্যাপী ৪২ জেলা পরিষদেও দেয়া হয়েছে নতুন প্রশাসক। তবে সবার নজরএবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে।
সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পরিষদগুলোতে প্রশাসক হিসেবে দলীয় নেতাদের দায়িত্ব দেওয়ার পর নির্বাচনের বিষয়ে সরকারের মনোভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সংসদের বিরোধী দলগুলো। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতোমধ্যে এসব পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানের তথ্য হালনাগাদ করা হচ্ছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইসির প্রস্তুতির কথা জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলছেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে এই মুহূর্তে চ্যালেঞ্জ দেখছে না কমিশন। এসব নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে শীঘ্রই সভায় বসবে নির্বাচন কমিশন। তিনি বলেন, ‘সরকারের প্রস্তুতি লাগে, বাজেটের বিষয় থাকে। সকল কিছুর সমন্বয়েই কিন্তু একটা ইন্টিগ্রেটেড সমন্বিত নির্বাচন হয়। সরকারের চিন্তাভাবনা থাকতেই পারে। সরকার সিদ্ধান্ত নেবে, সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করবে।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, সিটি করপোরেশনগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ এবং দলীয় সরকারে প্রভাবিত না হয়ে নির্বাচন আয়োজনই ইসির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সংসদ নির্বাচন আয়োজনে ঘাটতির অভিযোগের বিষয়ে এই নির্বাচন কমিশনার জানান, আসন্ন স্থানীয় সরকার পর্যায়ের নির্বাচনে ভুলত্রুটি শুধরে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। ইসি আনোয়ারুল বলেন, ‘প্রতিটা কাজেই ছোটখাটো ভুল ত্রুটি চোখে আসবেই। ভুল ত্রুটি বলা যাবে না। আরও ভালো হতো এভাবে না করে ওইভাবে করলে। যদি এরকম কোনো বিষয় থেকে থাকে সেটি অবশ্যই নির্বাচন কমিশন এড্রেস করবে। এই নির্বাচনগুলো নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়ে একটার পর একটা করবে।’
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেলে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, আইনি জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা হবে। তবে এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের পরিবর্তে সাধারণ প্রতীক ব্যবহারের কথা জানিয়েছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকরাই দায়িত্ব পালন করবেন। ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের বিষয়ে প্রস্তাব এলে তা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘নির্দলীয় প্লাটফর্মেই নির্বাচনটা হওয়া দরকার। এটা কোনো দলীয় প্রতীকে হওয়া কাম্য না আমার কাছে। এতে করে এট লিস্ট আমাদের ওভারঅল রাজনীতির প্রতি যে সরকার, স্থানীয় সরকার কাঠামোর ওপর মানুষের আস্থার জায়গাটা কিছুটা ঠিক থাকবে বলেও আমি মনে করি।’ দলীয় সরকারের সময়ে নির্বাচন ইসির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এ নিয়ে সংসদ এবং রাজনীতির মাঠে ভিন্নমাত্রা তৈরি হতে পারে বলেও মত তার।
কালের আলো/এম/এএইচ


আপনার মতামত লিখুন
Array