দুই বছরের পড়ার চাপে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা
আইনি জটিলতায় আটকে যাওয়া গতবছরের প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা নেওয়া চলতি শিক্ষাবর্ষের এপ্রিল মাসে নেওয়ার প্রক্রিয়া অনেকটা গুছিয়ে এনেছে সরকার। তাতে করে এ বছর ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে দুই বছরের পড়ার চাপে পড়েছে। ফলে গতবছর পঞ্চম শেষে পূর্বনির্ধারিত সময়ে যে শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিল, তাদের অনেকে এখন পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আগ্রহ হারিয়েছে।
শিক্ষাবর্ষের এ সময়ে এসে আগের বছরের বৃত্তি পরীক্ষা আয়োজন নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শিক্ষাবিদরাও এভাবে পরীক্ষা আয়োজনে সরকারকে নিরুৎসাহিত করছেন। তাদের কেউ কেউ গতবছরের পরীক্ষা চলতি বছর নেওয়াকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলছেন। কেউ আবার এ পরীক্ষা নেওয়ায় প্রয়োজনীয়তাই দেখছেন না।
আগামী ১৫ এপ্রিল দেশের ৬১ জেলায় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। আর তিন পার্বত্য জেলা–বান্দরবান, খাগরাছড়ি ও রাঙামাটিতে এ পরীক্ষা শুরু হবে ১৭ এপ্রিল। ইতোমধ্যে পরীক্ষার সূচি প্রকাশ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। প্রথম দিন ১৫ এপ্রিল বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ৬১ জেলায় বাংলা বিষয়ের পরীক্ষা হবে। এরপর ১৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ইংরেজি, ১৭ এপ্রিল শুক্রবার প্রাথমিক গণিত এবং ১৮ এপ্রিল শনিবার বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং প্রাথমিক বিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা দিতে হবে। প্রতিটি পরীক্ষা সকাল ১০টায় শুরু হয়ে আড়াই ঘণ্টা চলবে। অন্যদিকে, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলায় ১৭ এপ্রিল শুক্রবার প্রাথমিক গণিত পরীক্ষার মাধ্যমে বৃত্তি পরীক্ষা শুরু হবে। ১৮ এপ্রিল শনিবার হবে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং প্রাথমিক বিজ্ঞান পরীক্ষা। এরপর ১৯ এপ্রিল রোববার বাংলা এবং ২০ এপ্রিল সোমবার ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষার মাধ্যমে তিন পার্বত্য জেলায় পরীক্ষা শেষ হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত ৩০ মিনিট বরাদ্দ থাকবে।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর গত বছর থেকে পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ফিরিয়ে আনার ‘নীতিগত সিদ্ধান্ত’ নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। ওই বছরের শেষে এ পরীক্ষা নেওয়ার কথা ছিল। তবে শুধু সরকারি প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। এ অবস্থায় প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা কিন্ডারগার্টেনসহ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি ওঠে। এ দাবি নিয়ে অভিভাবকরা আদালতের দারস্থ হলে গত বছরের বৃত্তি পরীক্ষা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত দেয় আদালত। ফলে গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে এ পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হলেও তখন আর পরীক্ষা হয়নি।
এরপর ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় আসে বিএনপি। ২৫ ফেব্রুয়ারি জুনিয়র, দাখিল ও এবতেদায়ী বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন গত বছরের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা এপ্রিলে নেওয়ার ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, এই বৃত্তি পরীক্ষায় কিন্ডারগার্টেনগুলোর শিক্ষার্থীরাও অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ পাবে এবং কিন্ডারগার্টেনসহ বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরা পাবে ২০ শতাংশ।
প্রাথমিকের বৃত্তির জন্য মোট ৮২ হাজার ৫০০ জন শিক্ষার্থীকে নির্বাচিত করার কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, মেধাবৃত্তি বা ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাবে ৩৩ হাজার শিক্ষার্থী। এর মধ্যে বেসরকারি প্রাথমিকের জন্য বরাদ্দ সাড়ে ৫ হাজার। আর সাধারণ বৃত্তি পাবে মোট সাড়ে ৪৯ হাজার শিক্ষার্থী। সরকারি ৮০ শতাংশ, অর্থাৎ ৪১ হাজার ২৫০টি বৃত্তি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড ভিত্তিক দেওয়া হবে। বেসরকারি ২০ শতাংশ, অর্থাৎ ৮ হাজার ২৫০টি বৃত্তি উপজেলা ভিত্তিক দেওয়া হবে। প্রতি ইউনিয়নে ৫টি করে সাধারণ বৃত্তি দেওয়া হবে, যা পাবে দুইজন বালক ও তিনজন বালিকা। আর প্রতি ইউনিয়নে মেধাবৃত্তি পাবে একজন।
কালের আলো/এম/এএইচ



আপনার মতামত লিখুন
Array