৫০ শতাংশেরও বেশি লেভেল ক্রসিং অবৈধ
দেশে প্রায় তিন হাজার লেভেল ক্রসিংয়ের মধ্যে ৫০ শতাংশেরও বেশি অবৈধ। স্থানীয়রা নিজেদের প্রয়োজনে এসব ক্রসিং তৈরি করেছে; তবে রেল বিভাগের কাছে এই তথ্য নেই। কোথাও আবার সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দায় শেষ মনে করা হচ্ছে।
সাধারণ মানুষ বলছেন, বেশিরভাগ জায়গায় কোনো সিগন্যাল নেই। লাইনে হঠাৎ গাড়ি ঢুকে পড়লে ঝুঁকিতে পড়ে যায়। আটকে গেলে ট্রেন এসে গেলে আর বের হওয়ার কোনো উপায় থাকে না। দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে।
অবৈধ এসব উন্মুক্ত লেভেল ক্রসিং প্রতিটিই মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে। ট্রেন চলাচলের সময় স্থানীয়রা হাতের ইশারায় সড়কপথের যাত্রীদের সতর্ক করেন। তারা বলছেন, যারা আশেপাশের দোকানে বসে থাকে, তারাই গাড়ি আসছে বলে চিৎকার করে যাত্রীদের থামাতে বলে। সতর্ক না করলে দুর্ঘটনা ঘটে যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবৈধভাবে গড়ে তোলা অধিকাংশ ক্রসিংই অপ্রয়োজনীয়। এসব ক্রসিংয়ের কারণে ট্রেনের গতি কমছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। তাই এগুলো দ্রুত বন্ধ করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
রেল বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান বলেন, যেখানে যানবাহনের ফ্রিকোয়েন্সি খুব কম, সেসব ক্রসিং জরিপ করে অপ্রয়োজনীয় মনে হলে বন্ধ করা উচিত। কারণ ঝুঁকি নিয়ে চলাচলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ জানিয়েছেন, ‘রেল ক্রসিংগুলোকে সক্ষমতা অনুযায়ী উন্নত করতে হবে অথবা অপ্রয়োজনীয় ক্রসিং বন্ধ করতে হবে। আমরা এরমধ্যেই রেলের কর্তৃপক্ষকে এ কাজ করার নির্দেশ দিয়েছি। শিগগিরই কাজ শুরুর উদ্যোগ নেয়া হবে।’
সারাদেশে বৈধ লেভেল ক্রসিংগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশই ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৪০ শতাংশেই নেই প্রয়োজনীয় গেটম্যান। কোথাও গেটম্যান থাকলেও গাড়ি আটকানোর কোনো ব্যারিকেড নেই; অনেক ক্রসিংয়ে সামান্য দড়ি দিয়েই যাত্রী পারাপার করা হয়। যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যদি সারাদেশের লেভেল ক্রসিংগুলো আধুনিকায়ন না করা হয় বা অবৈধ ক্রসিং বন্ধ না করা যায়, তাহলে দুর্ঘটনা ও মৃত্যু প্রতিনিয়ত বাড়বে।
কালের আলো/এম/এএইচ


আপনার মতামত লিখুন
Array