‘অপারেশন ক্লিনহার্টের’ আদলে অপারেশনের তালিকা প্রস্তুত
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু আগেই বলেছিলেন, সরকার দুই-তিন মাসের মধ্যেই ‘অপারেশন ক্লিনহার্টের’ মতো একটি অভিযান চালাবে। গত ৮ মার্চ দুপুরে ফেনী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, প্রকৃতপক্ষে যারা অন্যায় করছে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। সরকার এই ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেবে না।
সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিগগিরই ‘অপারেশন ক্লিনহার্টের’ আদলে অপারেশনের প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তালিকা প্রণয়নের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী এপ্রিলেই মাঠপর্যায়ে অভিযান শুরু হবে। অভিযানে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে যৌথ বাহিনী অভিযান পরিচালনা-পরিকল্পনা করবে।
যদিও অভিযানের নাম এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। সারা দেশের জেলা পুলিশ সুপার ও গোয়েন্দা সংস্থার পৃথক তালিকা চূড়ান্ত হয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা হলে অপরাধের ধরন বিবেচনা করে মন্ত্রণালয় থেকে নাম নির্ধারণ করে অভিযান শুরু করা হবে।
জানা যায়, ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা নতুন সরকারের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, সহিংসতা, দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধ বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে পুলিশ, র্যাব এবং রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে একটি নিরপেক্ষ তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এই তালিকায় স্থান পাচ্ছে বিভিন্ন ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তি ও চক্র। এর মধ্যে রয়েছে-সহিংসতা ও নাশকতা, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মাদক ব্যবসা, অনলাইন প্রতারণা এবং সংগঠিত অপরাধ চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা। পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় এমন ব্যক্তিদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যারা অতীতে সহিংস কর্মসূচি বা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ৫ আগস্টের আগে ও পরে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলা ও থানা পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ প্রায় শেষ হয়েছে এবং যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চলছে। ভবিষ্যতেও এই তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে।
পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) কর্মকর্তারা বলছেন, এই তালিকা কোনোভাবেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হচ্ছে না। বরং যারা বাস্তবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করার সক্ষমতা রাখে, শুধু তাদেরই চিহ্নিত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সরকারবিরোধী আন্দোলন সংগঠিত করার সক্ষমতা রয়েছে-এমন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ওপর বাড়তি নজরদারি রাখা হবে।
কালের আলো/এম/এএইচ


আপনার মতামত লিখুন
Array