খুঁজুন
                               
শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৫ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন আরও ১৭৫ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৫৩ অপরাহ্ণ
লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন আরও ১৭৫ জন

লিবিয়া থেকে ফেরত এসেছেন আরও ১৭৫ বাংলাদেশি। তারা স্বইচ্ছায় দেশে ফেরত আসার ইচ্ছা প্রকাশ করার পর দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) তাদের একত্রিত করে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করে।

বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে লিবিয়ার বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটযোগে ঢাকায় অবতরণ করেন এসব বাংলাদেশি।

বিমানবন্দর, পররাষ্ট্র ও প্রবাসী মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

দেশে ফেরত আসা ব্যক্তিরা দেশটির বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে ছিলেন। এর আগে তারা দেশটিতে অবৈধভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রবেশ করেন। অধিকাংশই ইউরোপের স্বপ্নে দালালের খপ্পরে পড়ে দেশটিতে গিয়েছিলেন। এখনো অনেকে ফেরার অপেক্ষা গুনছেন। পর্যায়ক্রমে তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য কাজ করছে দূতাবাস ও আইওএম।

এদিকে লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে গতকাল রাতেই জানানো হয়েছে, দূতাবাস এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় ১৭৫ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে প্রত্যাবাসন করা হচ্ছে।

প্রত্যাবাসিতদের মধ্যে ১১৩ জন ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার এবং ৬২ জন বেনগাজীর গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ছিলেন। এছাড়া, তাদের মধ্যে ১৪ জন অভিবাসী শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।

তাদের ফ্লাইটে তুলে দেওয়ার আগে রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ, ত্রিপলীর মেতিগা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম তদারকি করেন এবং তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার থেকে প্রত্যাবাসিতদের বিদায় জানান।

বাংলাদেশ দূতাবাস, লিবিয়া স্বেচ্ছায় দেশে প্রত্যাবর্তনে আগ্রহী এবং বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশি অভিবাসীদের প্রত্যাবাসনে কাজ করছে দূতাবাস। এ লক্ষ্যে দূতাবাস লিবিয়া সরকার, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে তারা কাজ করছেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন

এমন কোনো লোভ ছিল না, যা শেখ হাসিনা আমাকে দেখাননি: স্পিকার

ভোলা প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৪৬ অপরাহ্ণ
এমন কোনো লোভ ছিল না, যা শেখ হাসিনা আমাকে দেখাননি: স্পিকার

‘এমন কোনো লোভ ছিল না, যা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ভারতে পলাতক) আমাকে দেখাননি। আমি যদি তার কথা শুনতাম, তাহলে তার পরেই আমার অবস্থান হতো’ বলে মন্তব্য করেছেন-জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে ভোলার সার্কিট হাউসে জেলার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় একথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমি বলেছি, আমার বয়স ৮০ বছর হয়ে গেছে এখন আর এগুলো করার সময় নেই।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘জেনারেল জিয়াউর রহমানের অধীনে আমি যুদ্ধ করেছি এবং বেগম জিয়া আমাকে অনেক স্নেহ করতেন। আমি জেনারেল জিয়া ও বেগম জিয়ার প্রতি সব সময় অনুগত ছিলাম। আমি এই দলের (বিএনপি) অনেক সিনিয়র ছিলাম। কিন্তু সবাই আমাকে ক্রস করে ওপরে চলে গেছে এবং আমার আগে স্থায়ী কমিটির সদস্য হয়েছে।’

স্পিকার বলেন, ‘একমাত্র ড. মোশাররফ হোসেন ছাড়া সবার সিনিয়র ছিলাম আমি। তা-ও স্থায়ী কমিটিতে স্থান হয়নি। আমি এগুলো নিয়ে কখনো মাথা ঘামাইনি। আমার নজর ছিল এলাকা থেকে জনগণ যাতে ভোট দেয়, আমি যেন জাতীয় সংসদে যেতে পারি। এবারও ভোট দেওয়ার পর লোকজন আশা করেছিল আমি যেন একটা প্ল্যাগ নিয়ে আসতে পারি। আল্লাহর রহমতে দুই দুইটা প্ল্যাগ নিয়ে এসেছি।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘আমি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের কাছে। তার সঙ্গে আমি জীবনে কথা বলেছি দুই দিন। এ ছাড়া কোনো দিন টেলিফোন হয়নি, দেখাও হয়নি, কথাও হয়নি। কিন্তু তিনি আমাকে দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ পদে অভিহিত করেছেন। এ জন্য আমি তার কাছে ও আমার দল বিএনপির কাছে খুবই কৃতজ্ঞ।’

মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমানের সভাপতিত্বে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর, পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ কাওছার, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. রাইসুল আলমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জেলা বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসআর/ এএএন

 

রোহিঙ্গা সংকট একটি সমাধানযোগ্য সমস্যা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৩৬ অপরাহ্ণ
রোহিঙ্গা সংকট একটি সমাধানযোগ্য সমস্যা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও কার্যকর সমাধান রাখাইন রাজ্যেই নিহিত এবং এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে শুধু মানবিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, সম্মানজনক ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে আরও সক্রিয় ও ফলপ্রসূ ভূমিকা নিতে হবে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে তুরস্কে চলমান আন্তালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরামে প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য প্রদানকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক দাতা সহায়তা কমে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি এই প্রেক্ষাপটে অর্থায়ন বৃদ্ধি, রাখাইনে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
তিনি জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মিয়ানমার সরকার এবং আরাকান আর্মি—উভয় পক্ষই তাঁকে স্বাগত জানিয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট একটি সমাধানযোগ্য সমস্যা—তবে এর জন্য প্রয়োজন সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ ও ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক সহযোগিতা।
কালের আলো/এসআর/ এএএন 

ফের হরমুজ বন্ধ করল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৩১ অপরাহ্ণ
ফের হরমুজ বন্ধ করল ইরান

পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি ফের বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকায় আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে এই ঘোষণা দিয়েছে দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

আইআরজিসির যৌথ সামরিক কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে যাওয়ায় হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ‘আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেছে’।

আইআরজিসির বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ‘অবরোধের নামে জলদস্যুতা ও সামুদ্রিক চুরি চালিয়ে যাচ্ছে’।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘এই কারণে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ আবার আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে এবং এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ এখন সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর তত্ত্বাবধানে রয়েছে।’

এতে বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্র যতদিন না ইরান থেকে জাহাজগুলো স্বাভাবিকভাবে তাদের গন্তব্যে যাতায়াতের পূর্ণ স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিচ্ছে, ততদিন হরমুজ প্রণালির অবস্থা কঠোর নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং আগের মতোই থাকবে।’

এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখলে হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ করে দেওয়া হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, ‘অবরোধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি খোলা থাকবে না। এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল ইরানের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে।’

বিশ্বব্যাপী নৌপরিবহণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি পরিবহন করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসনের প্রেক্ষিতে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বন্ধ করে দিয়েছিল ইরান।

এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দেয়। যার প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে। কিন্তু শত চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। তেহরান নৌপথটি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পুরো অঞ্চলজুড়ে অত্যাবশ্যকীয় অবকাঠামোতে আঘাত হানার সক্ষমতা ও ইচ্ছা উভয়ই প্রদর্শন করেছে, যা উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাসভিত্তিক অর্থনীতিকে বিপন্ন করেছে।

লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে দীর্ঘ প্রায় ছয় সপ্তাহ পর শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়েছিল ইরান। ওই দিন বিকেলে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক ঘোষণায় জানান, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকাকালে প্রণালি দিয়ে সব বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল উন্মুক্ত থাকবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকায় মাত্র এক দিনের মাথায় ফের বন্ধ করে দিলো তেহরান।

কালের আলো/এসআর/ এএএন