তীব্র হতে পারে লোডশেডিং
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লোডশেডিংয়ের প্রবণতা দেখা দিয়েছে। জ্বালানি সংকটের কারণে গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশে বিদ্যুৎ ঘাটতির শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) জানিয়েছে, এবারের গরমের মৌসুমে লোডশেডিং বাড়বে। এমন দুঃসংবাদের পাশাপাশি বকেয়া বিল না পাওয়ায় ফার্নেস অয়েলের মজুত কমে এসেছে।
ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র (আইপিপি) এবার বিদ্যুৎ উৎপাদনে রেশনিং শুরু করেছে। বিদ্যুৎ খাতের কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, চাহিদার সর্বোচ্চ সময় অর্থাৎ পিক আওয়ারে প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হতে পারে। এর ফলে সারা দেশে মানুষকে প্রতিদিন দুই থেকে তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকতে হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রীষ্মকালীন সেচ মৌসুম শুরু হওয়ায় কৃষি খাতে বিদ্যুতের চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। একই সঙ্গে তীব্র গরমে শহরাঞ্চলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ায় আবাসিক খাতেও চাহিদা বাড়বে। ফলে উৎপাদন ও সরবরাহের মধ্যে ব্যবধান আরও বাড়তে পারে, যা লোডশেডিং বাড়ার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তারা আরও সতর্ক করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতা দেখা দিতে পারে। জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, বকেয়া পরিশোধে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ এবং ডলার সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন মূলত আমদানিনির্ভর গ্যাস, কয়লা ও ফার্নেস অয়েলের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বৈশ্বিক যেকোনো অস্থিরতায় দেশের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে প্রতিদিন প্রায় ৯২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে, যা দিয়ে দিনে প্রায় ৫ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।
তবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) এক অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গ্যাস সরবরাহ যদি ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুটের নিচে নেমে আসে, তবে উৎপাদন সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াটের নিচে নেমে যেতে পারে। পিডিবির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জ্বালানির সরবরাহ স্থিতিশীল থাকলেও এপ্রিলে-মে মাসে দেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা দাঁড়াতে পারে ১৮ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। আর এর বিপরীতে মোট উৎপাদন হতে পারে মাত্র ১৬ হাজার ২০০ মেগাওয়াট।
পিডিবি জানায়, এখনই বিদ্যুতের অবস্থা বেশ খারাপ। লোডশেডিং কমানো নিয়ামক একমাত্র বৃষ্টি। কারণ, এখন চাহিদা পিক আওয়ারে ১৫ হাজার মেগাওয়াটের বেশি থাকলেও উৎপাদন করা যাচ্ছে ১৪ হাজারের মতো। রোববার বিকাল ৫টায় দেশে লোডশেডিং হয়েছে ৭৬৫ মেগাওয়াট। ওই সময়ে (পিক আওয়ার নয়) বিদ্যুতের চাহিদা ১৩ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ করা গেছে ১২ হাজার ৫৪৯ মেগাওয়াট। এর আগে শনিবার রাত ১২টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ১০০ মোগওয়াট। আর সরবরাহ করা হয়েছে ১৩ হাজার ৯৬৯ মেগাওয়াট। রাত ১২টায় লোডশেডিং হয়েছে ১ হাজার ৮০ মেগাওয়াট। রোববার সারা দেশে তাপমাত্রা কিছুটা কম ছিল। কিন্তু এরপরও লোডশেডিং কমছে না। আবহাওয়া অফিস জানায়, সারা দেশে বৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টি হলে হয়তো লোডশেডিং কমবে।
পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। কয়লার বড় অংশই আমদানি করা হয়, গ্যাসেরও একটা অংশ আমদানি করতে হয়। তাই সরবরাহের স্থিতিশীলতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি আরও বলেন, ‘এপ্রিল-মে মাসে যে ৯০০ থেকে ৯৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার কথা ছিল, আমরা হয়তো তার পুরোটাই পাব না। তবে খোলাবাজার (স্পট মার্কেট) থেকে কেনা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ঠিক সময়ে দেশে এসে পৌঁছালে ঘাটতির কিছুটা হয়তো পূরণ করা সম্ভব।’
কালের আলো/এম/এএইচ


আপনার মতামত লিখুন
Array