টেকনাফ স্থলবন্দরের কার্যক্রম পুনরায় চালুর উদ্যোগ : নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী
মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধের জেরে প্রায় এক বছর বন্ধ থাকা কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালুর লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান।
সোমবার (৬ এপ্রিল) টেকনাফ স্থলবন্দর পরিদর্শনে এসে তিনি এ কথা জানান। প্রতিমন্ত্রী এ সময় ওয়ারহাউসে পড়ে থাকা পণ্যসহ স্থলবন্দর ঘুরে দেখেন।
বেলা সাড়ে ১১টায় তিনি টেকনাফ উপজেলার সদর ইউনিয়নের কেরুনতলী এলাকায় নাফ নদী সংলগ্ন স্থলবন্দরে পৌঁছে সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থলবন্দর পুনরায় সচল করতে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা ব্যবসায়ী, বিজিবি, কোস্টগার্ডসহ সবার সঙ্গে আলোচনা করেছি। এছাড়া সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, কাস্টমস, এনবিআরসহ সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে কথা বলে জনগণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আজ থেকে এই কার্যক্রম পুনরায় সচল করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা বাণিজ্য কার্যক্রম চালিয়ে যেতে চাই। মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সরকারের সমন্বয়ের মাধ্যমেই সীমান্ত বাণিজ্য পরিচালিত হবে। সেই ভিত্তিতেই টেকনাফ স্থলবন্দরের কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয়েছে।

এদিকে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মুহাম্মদ মানজারুল মান্নান জানিয়েছেন, বন্দর আনুষ্ঠানিকভাবে খোলা থাকলেও কিছু নিরাপত্তা ঘাটতি ছিল। তবে বর্তমানে পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে আর বড় কোনো বাধা নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে পুনরায় বন্দর কার্যক্রম সচল করা হচ্ছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী, টেকনাফ ২-বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম, কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রকিব উদ্দিন, কক্সবাজার জেলা বিএনপির অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান ছিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে দেড় বছর ধরে চলমান যুদ্ধে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের প্রায় ২৭০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা বর্তমানে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। এর ফলে নাফ নদীর মিয়ানমার অংশে নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি।
ফলে গত বছরের এপ্রিল মাসের শুরুতে পণ্যবাহী জাহাজ থেকে তাদের কমিশন (চাঁদা) দাবির কারণে মিয়ানমারের জান্তা সরকার সীমান্ত বাণিজ্য কার্যত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন শতাধিক আমদানি-রপ্তানিকারকও। ৬ এপ্রিল পর্যন্ত মিয়ানমার থেকে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
কালের আলো/এম/এএইচ



আপনার মতামত লিখুন
Array