জাতিসংঘ শান্তি মিশনের ফোর্স কমান্ডার হলেন লে. জে. মিনহাজুল আলম
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল আসাদুল্লাহ মিনহাজুল আলম জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন ইউএনএফআইসিওয়াইপি (UNFICYP)-এর ফোর্স কমান্ডার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। বুধবার (৮ এপ্রিল) নিউ ইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। তিনি মঙ্গোলিয়ার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এরদেনেবাত বাতসুরির স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। বিবৃতিতে বিদায়ী ফোর্স কমান্ডারের নিষ্ঠা ও দায়িত্ব পালনের জন্য জাতিসংঘ মহাসচিব গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে নেতৃত্ব ও কমান্ড পর্যায়ে ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করার বর্ণাঢ্য অভিজ্ঞতা রয়েছে লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিনহাজুল আলমের। সর্বশেষ তিনি আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের (আর্টডক) জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও কক্সবাজার এরিয়া কমান্ডার (২০২৪-২০২৬) এবং ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের (ডিএসসিএসসি) কমান্ড্যান্ট (২০২৪) হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।
কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি পদাতিক ফর্মেশনে কাউন্টার টেররিজম, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং গোয়েন্দা-ভিত্তিক অভিযানসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড ও স্টাফ পদে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও তার রয়েছে সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা। তিনি সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে জাতিসংঘ মিশনে (মিনুস্কা) সেক্টর কমান্ডার (২০২০-২০২১) এবং পূর্ব তিমুরে (আনটায়েট) সামরিক পর্যবেক্ষক (১৯৯৯-২০০০) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
অসামান্য পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিনহাজুল আলম একজন উচ্চশিক্ষিত সেনা কর্মকর্তা। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটি থেকে জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে স্নাতকোত্তর (এমএসসি), বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিফেন্স স্টাডিজে স্নাতকোত্তর এবং রয়্যাল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতকোত্তর (এমবিএ) ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। মাতৃভাষা বাংলার পাশাপাশি তিনি ইংরেজিতেও অত্যন্ত সাবলীল।
উল্লেখ্য, ইউএনএফআইসিওয়াইপি হচ্ছে সাইপ্রাসে নিয়োজিত জাতিসংঘের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শান্তিরক্ষা মিশন, যেখানে দ্বীপটির স্থিতিশীলতা ও শান্তি বজায় রাখতে বিভিন্ন দেশের শান্তিরক্ষীরা দায়িত্ব পালন করে থাকেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই শীর্ষ অবদানকারী দেশগুলোর একটি। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে হাজারো বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের পেশাদারিত্ব, মানবিকতা ও দক্ষতার কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে।
কালের আলো/এম/এএইচ


আপনার মতামত লিখুন
Array