খুঁজুন
                               
সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

বাসিয়া নদীর পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ৩:৩৬ অপরাহ্ণ
বাসিয়া নদীর পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত সিলেটের বাসিয়া নদী পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (২ মে) বেলা ১টা ২০ মিনিটে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে কোদাল হাতে নিয়ে মাটি কেটে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

সিলেট শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে কাশিপুর ইউনিয়নের এই বাসিয়া নদী সুরমা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত।

খাল পুনঃখনন শেষে উপস্থিত এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এই বাসিয়া যে নদীটি বা খালটি আছে, এটি ১৯৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খনন করেছিলেন। এরপর সময়ের বিবর্তনে এই খালটি ভরাট হয়ে বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা এই খালটি আবারও খনন করতে চাই।

বাসিয়া নদীর এই খাল পুনরায় খননের কারণ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই খালটি খনন করলে প্রথমত প্রায় ৮০ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। এর বাইরে পরোক্ষভাবে উপকৃত হবেন আরও দেড় লাখ কৃষক। এই খালের দুই পাশে যাদের জমি আছে, সেখানে বার্ষিক প্রায় ৭ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন হবে।

তিনি বলেন, শুধু এই খাল নয়, সারাদেশে এরকম অনেক খাল আমরা খনন করব। কারণ খালগুলো সংস্কার করা গেলে কৃষক ভাইদের অনেক সুবিধা হবে।

বিএনপি সরকার কৃষকবান্ধব সরকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের সময় আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে আমরা কৃষক ভাইদের কৃষি কার্ড প্রদান করব। এই কাজ টাঙ্গাইল থেকে শুরু হয়েছে। গত মাসের ১৪ তারিখে আমি কৃষি কার্ডের উদ্বোধন করেছি। এখন ধীরে ধীরে বাংলাদেশের সকল কৃষকের কাছে আমরা এই কার্ড পৌঁছে দেব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষি কার্ডের মাধ্যমে আমরা কৃষকদের অনেক সুবিধা দেব। এর মাধ্যমে ঋণের সুবিধা এবং সরাসরি সরকার থেকে সার, বীজ ও কীটনাশকের সুবিধা প্রদান করা হবে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, তারা বছরে আড়াই হাজার টাকা করে পাবেন, যা দিয়ে তারা সরাসরি কীটনাশক বা বীজ কিনতে পারবেন। সরকার থেকে সরাসরি তাদের এই অর্থ সাহায্য করা হবে।

কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ (সুদসহ) মওকুফ করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই এদেশের কৃষক ও গ্রামের মানুষ ভালো থাকুক। যেহেতু বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করে, তাই এই বিশাল জনগোষ্ঠী যাতে ভালো থাকে, সেটিই আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

দেশের ৬০টি স্থানে ইতিমধ্যে খাল খনন শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এই এলাকায় আমরা বাসিয়া নদী পুনঃখননের মাধ্যমে কাজ শুরু করলাম। ইতিমধ্যে দেশের প্রায় ৬০টি জেলায় খাল খনন শুরু হয়েছে। এটি শুধু এবারই শেষ হবে না। এখানে প্রায় ৪০ কিলোমিটারের মধ্যে ২৩ কিলোমিটার খাল আমরা পুনঃখনন করব।

তিনি বলেন, এই ২৩ কিলোমিটার খাল খনন সম্পন্ন করতে আমাদের দুটি শুষ্ক মৌসুম লাগবে। এখন তো বর্ষা শুরু হয়ে গেছে, তাই এ বছর কাজ শেষ হবে না। তবে আগামী নভেম্বর থেকে আমরা পুনরায় খনন কাজ শুরু করব এবং ইনশাআল্লাহ আগামী বছরের মধ্যে এই ২৩ কিলোমিটার খালের কাজ সম্পূর্ণভাবে শেষ করার চেষ্টা করব। এর ফলে এলাকার মানুষ ও কৃষকরা পানির সুবিধা পাবেন।

খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ করা হবে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, শুধু খনন নয়, এই খালের দুই পাড়ের ২৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে আমরা প্রায় ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণ করব। এতে খালের পাড় যেমন মজবুত থাকবে, তেমনি মানুষের বসার জায়গাও হবে। পাশাপাশি আমরা বিভিন্ন ফলদ গাছ লাগানোর চেষ্টা করব যাতে এলাকার মানুষ ফল খেতে পারে।

উপস্থিত জনসাধারণের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কী ভাই, আপনারা কি এই কাজে সাথে আছেন? এই কাজগুলো করলে কি আপনাদের উপকার হবে? এলাকার মানুষের উপকার হবে তো? ঠিক আছে তাহলে।’

এ সময় উপস্থিত জনতা দুহাত তুলে সমর্থন জানিয়ে বলেন, ‘ঠিক আছে, ঠিক আছে।’

দেশের বাইরেও বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য সরকার কাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা সাথে থাকলে আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং উন্নত দেশগুলোর পাশে দাঁড় করাতে সক্ষম হব। তাই সব সময় একটা কথাই বলি, কাজ, কাজ আর কাজ। করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা।

সিলেটের বাসিয়া নদীর এই খাল ১৯৭৭ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান খনন করেছিলেন। সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর সংযোগকারী এই নদীটি দীর্ঘদিন ধরে নাব্য হারিয়ে মৃতপ্রায় অবস্থায় ছিল। স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এই পুনঃখনন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।

কালের আলো/এসএকে

ঢাকার দুই সিটিতে মেয়রপ্রার্থীর নাম ঘোষণা করল ইসলামী আন্দোলন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
ঢাকার দুই সিটিতে মেয়রপ্রার্থীর নাম ঘোষণা করল ইসলামী আন্দোলন

দলটির আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে দলীয় প্রার্থীদের নামও ঘোষণা করেন। ছবি: ঢাকা মেইল
সিটি করপোরেশনসহ সব স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অংশ নেবে বলে জানিয়েছেন দলটির আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।

সোমবার (১৮ মে) সাংবাদিকদের সঙ্গে নির্বাচন পরবর্তী মতবিনিময়সভায় তিনি একথা জানান। এসময় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে দলের প্রার্থীদের নামও ঘোষণা করে সাংবাদিকদের সঙ্গে পরিচয় করে দেন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির চরমোনাই পীর জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন তাদের মেয়র প্রার্থী ইসলামী যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদ। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রপ্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ।

এসময় তিনি সরকারের কাছে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন দেওয়ার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু হয় সে ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেন।

পুরানা পল্টনস্থ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।

সভার শুরুতে দলের মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান উদ্বোধনী বক্তব্য দেন।

পরে দলের প্রধান ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন, জুলাই সনদ, বর্তমান সরকারের কার্যক্রম, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও দলের কার্যক্রম নিয়ে কথা বলেন।

কালের আলো/এসআর/এএএন

বাংলাদেশে ঈদুল আজহার তারিখ ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ৭:০২ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে ঈদুল আজহার তারিখ ঘোষণা

Oplus_131072

দেশের আকাশে সোমবার (১৮ মে) পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আগামী বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সারা দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্‌যাপিত হবে।

জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি জানায়, সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যায় দেশের আকাশে চাঁদ দেখা যায়।

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমস্থ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির এক সভা শেষে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ বলেন, দেশের আকাশে ইতোমধ্যেই দেখা গেছে পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ।

কালের আলো/এসএকে

পবিত্র ঈদুল আজহা ২৮ মে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ৭:০২ অপরাহ্ণ
পবিত্র ঈদুল আজহা ২৮ মে

দেশের আকাশে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে আগামী ২৮ মে (বৃহস্পতিবার) দেশব্যাপী পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।

সোমবার (১৮ মে) সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররমস্থ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক শেষে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে কমিটি।

এছাড়া সভা শেষে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, কক্সবাজারের আকাশে পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে।

এর আগে রোববার (১৭ মে) সৌদি আরবের আকাশে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যায় বলে জানায় দেশটির চাঁদ দেখা কমিটি। ফলে সৌদিতে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে আগামী ২৭ মে (বুধবার)। এছাড়া আরাফাত দিবস হবে আগামী ৯ জিলহজ বা ২৬ মে।

প্রসঙ্গত, চাঁদ দেখা যাক না যাক, বহু বছর ধরে সৌদি আরবের একদিন পরই বাংলাদেশে ঈদ পালনের রীতি চলে আসছে। সেটি ঈদুল ফিতর হোক কিংবা ঈদুল আজহা।

ফলে বাংলাদেশে যে ঈদুল আজহা ২৮ মে উদযাপিত হবে, তা এক প্রকার নিশ্চিতই ছিল। বাকি ছিল শুধু জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির ঘোষণার। অবশেষে সেই ঘোষণাও এলো।

এদিকে এবার ঈদুল আজহায় সাত দিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২৫ মে থেকে শুরু হবে সেই ছুটি, শেষ হবে ৩১ মে।

এই ছুটির ফলে ঘরমুখো মানুষের ভিড় যেমন নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে, তেমনি কর্মজীবীরাও পরিবারের সঙ্গে পর্যাপ্ত সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন, যা ঈদ উদযাপনে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

কালের আলো/এসআর/এএএন