খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রথমার্ধে ফরাসি দাপট, মরক্কোর গোলরক্ষকের বীরত্ব

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ২:৫৭ পূর্বাহ্ণ
প্রথমার্ধে ফরাসি দাপট, মরক্কোর গোলরক্ষকের বীরত্ব

বিশ্বকাপের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছে ফ্রান্স ও মরক্কো। ম্যাচের প্রথমার্ধ জুড়ে দেখা গেছে ফরাসি ফরোয়ার্ডদের একের পর এক আক্রমণ। পুরোটা সময় কিলিয়ান এমবাপেদের মুহুর্মুহু আক্রমণে ঠেকাতে ব্যস্ত ছিল মরক্কোর রক্ষণভাগ। তবে ফ্রান্সের আধিপত্যের সামনে চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। পেনাল্টি সেভ করে এখনও ব্যবধান সমতায় রাখতে তার অবদানই বেশি।

শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণ করলেও গোল পাচ্ছিল না ফ্রান্স। ম্যাচের ২৫তম মিনিটে মরক্কোর ডি-বক্সে ফাউল করে বসেন নুসাইর মাজরাউয়ি। লাইন্সম্যানের সঙ্গে দ্রুত কথা বলে রেফারি ফাকুন্দো তেল্লো ফ্রান্সের অনুকূলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। ভিএআরে শরণাপন্ন হলেও সিদ্ধান্ত বদলাননি রেফারি।

স্পট কিক থেকে গোল করার এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। বল জালে জড়ানোর জন্য এমবাপ্পে পেনাল্টি কিকটি ডান দিকের নিচের কোণা (বরাবর নিয়েছিলেন। কিন্তু মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু যেন আগে থেকেই এমবাপ্পের শটের দিক নিখুঁতভাবে অনুমান করতে পেরেছিলেন। সঠিক সময়ে দুর্দান্ত এক ডাইভ দিয়ে এমবাপ্পের সেই শট রুখে দেন বুনু।

৩২তম মিনিটে ফ্রান্সের তরুণ ফরোয়ার্ড দেজিরে দুয়ে এক অনবদ্য একক দৌড়ে মরক্কোর ডি-বক্সে বল নিয়ে ঢুকে পড়েন। গোল করার সুবর্ণ সুযোগ দেখে পোস্টের বাম দিকে লক্ষ্য করে এক শট নেন। কিন্তু তার সেই নিশ্চিত গোলের মুহূর্তটিকে ম্লান করে দেন মরক্কোর প্রাচীর হয়ে দাঁড়ানো গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ইতালি গ্রিস ও সাইপ্রাস থেকে ফেরত ৩৫ বাংলাদেশি, সতর্ক করল দূতাবাস

কূটনৈতিক প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৬ অপরাহ্ণ
ইতালি গ্রিস ও সাইপ্রাস থেকে ফেরত ৩৫ বাংলাদেশি, সতর্ক করল দূতাবাস

ইউরোপের তিনটি দেশ ইতালি, গ্রিস ও সাইপ্রাস থেকে ৩৫ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) একটি বিশেষ প্রত্যাবাসন ফ্লাইটে তাঁরা ঢাকায় ফেরেন। তাঁদের মধ্যে ইতালি থেকে ১৯ জন, গ্রিস থেকে ১০ জন এবং সাইপ্রাস থেকে ছয়জন রয়েছেন।

ঢাকার ইতালি দূতাবাসের এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সংস্থা ফ্রন্টেক্সের ব্যবস্থাপনায় শুক্রবার বিশেষ প্রত্যাবাসন ফ্লাইটটি পরিচালিত হয়। এর মাধ্যমে তিনটি দেশ থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

অবৈধ অভিবাসনে শূন্য সহনশীলতার নীতি
দূতাবাসের বার্তায় বলা হয়েছে, ইউরোপে অবৈধভাবে প্রবেশ ও অবস্থানের বিষয়ে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করা হয়। একই সঙ্গে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও বৈধ অভিবাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে দূতাবাস। ইউরোপে যাওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ ভিসা ও বৈধ কাগজপত্র নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে দূতাবাস জানিয়েছে, বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে অভিবাসনের চেষ্টা করলে প্রত্যাবাসনসহ বিভিন্ন আইনি জটিলতায় পড়তে হতে পারে।

দালাল ও মানব পাচারকারীদের বিষয়ে সতর্কতা
দূতাবাস আরও সতর্ক করে বলেছে, যথাযথ ভিসা ছাড়া ইতালিতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মানব পাচারকারী, দালাল বা চোরাকারবারিদের অর্থ দেওয়া অবৈধ। এ ধরনের উদ্যোগের পরিণতিতে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে। পাশাপাশি শেনজেনভুক্ত দেশগুলোতে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিও রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদেশে যাওয়ার আগে ভিসার বৈধতা, নিয়োগকর্তা ও অভিবাসনসংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করা জরুরি। দালালের প্রলোভনে পড়ে অবৈধ পথে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করলে অর্থ হারানোর পাশাপাশি দেশে ফেরত পাঠানো এবং ভবিষ্যতে ইউরোপে প্রবেশের সুযোগ হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ এবং প্রতারণামূলক প্রস্তাব থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

বাংলা কবিতার উজ্জ্বল নক্ষত্র শামসুর রাহমানের জন্মবার্ষিকী আজ

সাহিত্য ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪৫ অপরাহ্ণ
বাংলা কবিতার উজ্জ্বল নক্ষত্র শামসুর রাহমানের জন্মবার্ষিকী আজ

বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র কবি শামসুর রাহমানের ৯৮তম জন্মদিন আজ ২৩ অক্টোবর। ১৯২৯ সালের এই দিনে পুরান ঢাকার মাহুতটুলীর নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। প্রেম, দ্রোহ, স্বাধীনতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার কবি হিসেবে বাংলা সাহিত্যে অনন্য অবস্থান তৈরি করেছেন শামসুর রাহমান। তাঁর কবিতা ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বৈরাচারবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে মানুষকে যুগিয়েছে সাহস ও প্রেরণা।

কবির ডাকনাম ছিল ‘বাচ্চু’। তাঁর পৈতৃক বাড়ি নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার পাড়াতলী গ্রামে। দীর্ঘ ছয় দশকের সাহিত্যজীবনে কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও শিশুতোষ রচনাসহ নানা মাধ্যমে তিনি বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন।

স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জ্বল কবিতা
শামসুর রাহমানের কবিতায় বারবার উঠে এসেছে বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা, অধিকার আদায়ের সংগ্রাম এবং মানুষের মুক্তির স্বপ্ন। তাঁর ‘স্বাধীনতা তুমি’, ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’, ‘আসাদের শার্ট’, ‘বর্ণমালা’ ও ‘আমার দুখিনী বর্ণমালা’ কবিতাগুলো বাংলা সাহিত্যে বিশেষভাবে সমাদৃত।

কবিতা ও সাংবাদিকতা—দুই ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। মৌলবাদ, ধর্মান্ধতা ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আজীবন সোচ্চার ছিলেন এই কবি। পাকিস্তান আমলে রবীন্দ্রসংগীতের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি তৎকালীন স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধেও লেখনী চালিয়েছেন তিনি।

সাংবাদিকতায় দীর্ঘ পথচলা
১৯৫৭ সালে দৈনিক মর্নিং নিউজ পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন শামসুর রাহমান। একই বছর রেডিও পাকিস্তানে অনুষ্ঠান প্রযোজক হিসেবে যোগ দেন এবং ১৯৫৯ সাল পর্যন্ত সেখানে দায়িত্ব পালন করেন। পরে মর্নিং নিউজে ফিরে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত সহযোগী সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন।

১৯৬৪ সালের শেষ দিকে দৈনিক পাকিস্তানে সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন তিনি। স্বাধীনতার পর পত্রিকাটি দৈনিক বাংলা নামে প্রকাশিত হয়। ১৯৭৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে শামসুর রাহমান দৈনিক বাংলা ও সাপ্তাহিক বিচিত্রার সম্পাদক নিযুক্ত হন। ১৯৮৭ সালে সামরিক শাসনামলে দৈনিক বাংলা থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে সাহিত্য পত্রিকা অধুনার সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

প্রথম কবিতা ও কাব্যগ্রন্থ
১৯৪৯ সালে সোনার বাংলা পত্রিকায় শামসুর রাহমানের প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে’ প্রকাশিত হয় ১৯৬০ সালে। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি বিভিন্ন পত্রিকায় সম্পাদকীয় ও উপসম্পাদকীয় লিখেছেন তিনি। এসব লেখায় ‘সিন্দাবাদ’, ‘চক্ষুষ্মান’, ‘লিপিকার’, ‘নেপথ্যে’, ‘জনান্তিকে’ ও ‘মৈনাক’ ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন।

স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময়ও তাঁর লেখনী ছিল সক্রিয়। ১৯৮৭ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে ‘শৃঙ্খল মুক্তির কবিতা’, ‘স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে কবিতা’, ‘সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে কবিতা’ ও ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কবিতা’ শিরোনামে কবিতা লিখেছেন তিনি। তাঁর সাহিত্যকর্মে প্রতিবাদ, মানবিকতা ও মুক্তচিন্তার প্রকাশ স্পষ্ট।

পুরস্কার ও সম্মাননা
বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শামসুর রাহমান পেয়েছেন আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, নাসিরউদ্দিন স্বর্ণপদক, জীবনানন্দ পুরস্কার, আবুল মনসুর আহমেদ স্মৃতি পুরস্কার, স্বাধীনতা পদক ও আনন্দ পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননা। সাংবাদিকতার জন্যও পেয়েছেন মিৎসুবিশি পুরস্কার।

এ ছাড়া ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ও রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডিলিট উপাধিতে ভূষিত করে। দুই বাংলার পাঠকের কাছেই তিনি ছিলেন সমান জনপ্রিয়। নাগরিক জীবনের অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিমানুষের অনুভূতি এবং সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতা তাঁর কবিতাকে দিয়েছে স্বতন্ত্র মাত্রা।

মানুষের সংগ্রামে প্রেরণার নাম
শামসুর রাহমান ছিলেন মৃদুভাষী; কিন্তু মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে ছিলেন দৃঢ় ও সক্রিয়। শুধু কবিতার মাধ্যমে নয়, বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামেও তিনি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী চেতনায় তাঁর কবিতা বহু মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও মুক্তচিন্তার সঙ্গে কবি শামসুর রাহমানের নাম গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। তাঁর কবিতার পঙ্‌ক্তি আজও নতুন প্রজন্মকে ভাবায়, সাহস জোগায় এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর প্রেরণা দেয়।

২০০৬ সালের ১৭ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন বাংলা সাহিত্যের এই শক্তিমান কবি। মৃত্যুর দুই দশক পরও তাঁর সাহিত্যকর্ম ও প্রতিবাদী চেতনা বাংলা ভাষাভাষী মানুষের কাছে সমান প্রাসঙ্গিক।

কালের আলো/আরআইকে/জেএন

সৌদির কারাগারে হাজারো বাংলাদেশি, মৃত্যুদণ্ড পাওয়া দুজনের তথ্য খুঁজছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৮ অপরাহ্ণ
সৌদির কারাগারে হাজারো বাংলাদেশি, মৃত্যুদণ্ড পাওয়া দুজনের তথ্য খুঁজছে সরকার

সৌদি আরবের বিভিন্ন কারাগারে প্রায় সাড়ে সাত হাজার বাংলাদেশি বন্দী রয়েছেন। দেশটিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে রায়ের অনুলিপি চেয়ে সৌদি সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ। তবে ওই দুই বাংলাদেশির বিরুদ্ধে কী অভিযোগ ছিল এবং কী কারণে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পায়নি ঢাকা।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় নিহত বাংলাদেশি কর্মী মো. শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ গ্রহণ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড নিয়ে বিস্তারিত জানতে চায় ঢাকা

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে জানতে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে কথা বলেছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি সৌদি সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে রায়ের অনুলিপি চাওয়া হয়েছে। নথি পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ, বিচারপ্রক্রিয়া ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বিস্তারিত জানা সম্ভব হবে। সৌদি সরকার বিভিন্ন সময়ে দণ্ডিত ও কারাগারে থাকা ব্যক্তিদের তালিকা বাংলাদেশকে পাঠায় উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, ওই দুই বাংলাদেশির নাম তালিকায় রয়েছে কি না, তা যাচাই করছে সরকার।

তিনি বলেন, প্রতিটি দেশের নিজস্ব বিচারব্যবস্থা রয়েছে। অন্য দেশের বিচারব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করা বাংলাদেশের উদ্দেশ্য নয়। তবে বিদেশে কোনো বাংলাদেশি দণ্ডিত হলে, বিশেষ করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা জরুরি। এ ধরনের ঘটনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করে। সাজা মওকুফের সুযোগ থাকলে কূটনৈতিক চ্যানেলে সে বিষয়েও আলোচনা করা হয় বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে ছয় মাসে ১১ বাংলাদেশির মৃত্যু
গত ১০ অক্টোবর সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় নিহত হন বাংলাদেশি কর্মী মো. শাহেদ আহম্মেদ। শুক্রবার সকালে তাঁর মরদেহ দেশে পৌঁছায়। পরে মরদেহ ও সরকারের আর্থিক সহায়তা তাঁর স্ত্রী কহিনুর আক্তার কাকলীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

শাহেদের বাড়ি বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে। তাঁর বাবা মো. রফিকুল ইসলাম এবং মা শাহেরা বেগম। তিনি সৌদি আরবের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জেদ্দা প্রকল্পে প্লাম্বার হিসেবে কাজ করতেন। ছুটি শেষে রিয়াদ হয়ে কর্মস্থলে ফেরার পথে বিমানবন্দরে অবস্থানকালে হামলার শিকার হন তিনি।
ওই হামলায় কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামের আরেক বাংলাদেশি কর্মী মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরিও নিহত হন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন বাংলাদেশি আহত হন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আগের তথ্য অনুযায়ী, আহতের সংখ্যা ছিল ২৪।

শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, সৌদি আরবে ৪০ লাখের বেশি বাংলাদেশি কাজ করেন। ফলে দেশটিতে যুদ্ধ বা অন্য কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে বাংলাদেশি কর্মীদের হতাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। গত ছয় মাসে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে নিহত ১১ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। শাহেদ তাঁদের মধ্যে সর্বশেষ।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, গত এক মাসে সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে শাহেদের মরদেহ দেশে এসেছে। অন্যদের মরদেহও দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। ভবিষ্যতে যেন আর কোনো বাংলাদেশিকে এভাবে প্রাণ হারাতে না হয়, সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বাংলাদেশে আটকে পড়া প্রবাসী কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানো ও নবায়নের বিষয়েও সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। সংঘাতের কারণে যেসব কর্মী নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না, তাঁদের ভিসাসংক্রান্ত জটিলতা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মিশনের গাফিলতি পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে
বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশন থেকে প্রবাসীরা যথাযথ সহায়তা পান না—এমন অভিযোগের বিষয়ে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, প্রতিটি মিশনে শ্রমকল্যাণ উইং রয়েছে। প্রবাসীরা সাধারণত এসব উইংয়ে অভিযোগ জানান। সেখানে প্রবাসীকল্যাণ বা শ্রম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কাজ করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রবাসীদের সহায়তা করা দূতাবাস ও সরকারের দায়িত্ব। কোনো মিশনের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ পাওয়া গেলে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সৌদি আরবে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত থাকায় তাঁদের নিরাপত্তা, আইনি সহায়তা এবং সংকটকালে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে দেশটির কারাগারে বন্দী বাংলাদেশিদের অবস্থা এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই নাগরিকের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে সরকার।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি