হিমালয়ের দ্বিতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে পঞ্চগড়ে ছুটে এসেছেন হাজারো পর্যটক। পূজার ছুটিকে কেন্দ্র করে হিমালয়কন্যা হিসেবে পরিচিত এই জেলার হোটেল, হোমস্টে ও তেঁতুলিয়ার ডাকবাংলোয় বেড়েছে পর্যটকদের ভিড়। কিন্তু মেঘ ও কুয়াশার কারণে কাঙ্ক্ষিত কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন অনেকে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোর থেকেই উত্তর আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন পর্যটকেরা। আশা ছিল, সূর্যের প্রথম আলোয় পাহাড়ের চূড়ায় দেখা মিলবে রঙের অপূর্ব খেলার। কেউ এসেছেন জীবনসঙ্গীকে নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে, আবার কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে। কিন্তু মেঘ ও কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ে থাকায় অনেকেরই সেই অপেক্ষা পূরণ হয়নি।
ভোর থেকে অপেক্ষা, তবু দেখা মেলেনি কাঞ্চনজঙ্ঘার
পর্যটকদের প্রত্যাশা ছিল, ভোরের আলোয় পরিষ্কার আকাশের পটভূমিতে কাঞ্চনজঙ্ঘার মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করবেন তাঁরা। এ জন্য ভোর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন অনেকে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখা পাওয়ার আশা করলেও শেষ পর্যন্ত অনেক পর্যটককে হতাশ হতে হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে আসা রাইসুল ইসলাম বলেন, প্রথমবার নিজ দেশের মাটি থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার আশায় এসেছেন তিনি। কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি। কাঙ্ক্ষিত দৃশ্য দেখতে না পেরে বড়ই হতাশ হয়েছেন।
ঢাকা থেকে আসা শহিদুল ইসলাম শামু বলেন, কাঞ্চনজঙ্ঘা প্রতিদিন দেখা যাবে, এমন নয়। আকাশ পরিষ্কার থাকলে হয়তো দেখা পাওয়া যেত। তবে তিনি আশা ছাড়েননি। কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে না পেলেও পরিবার নিয়ে সময় কাটাতে তাঁর ভালো লাগছে। ঢাকা থেকে আসা রুবাইয়া শায়েরা জানান, ভোর থেকে অপেক্ষা করেও কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা পাননি। তবে পঞ্চগড়ের আগাম শীতের আমেজ তিনি বেশ উপভোগ করছেন।
কাঞ্চনজঙ্ঘা অধরা হলেও প্রকৃতির টানে পর্যটকেরা
কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা না গেলেও পঞ্চগড়ের প্রকৃতির সৌন্দর্য পর্যটকদের আনন্দে ভাটা পড়তে দেয়নি পুরোপুরি। হালকা শীতের আমেজ, সবুজ চা-বাগান, গ্রামীণ পরিবেশ, নদীপথ ও বিস্তীর্ণ মাঠঘাট ঘুরে সময় কাটাচ্ছেন অনেকে। পর্যটকেরা ঘুরে দেখছেন জেলার সমতলের চা-বাগান, বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট, মহারাজার দিঘী, ভিতরগড় দুর্গনগরী, মির্জাপুর শাহী মসজিদ ও বোদেশ্বরী পীঠমন্দিরসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানো এবং গ্রামবাংলার সবুজ সৌন্দর্য উপভোগ করাও তাঁদের ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
পর্যটকে সরগরম তেঁতুলিয়া, আবাসনে সংকট
স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল ইসলাম বলেন, গত কয়েক দিনে তেঁতুলিয়ায় হাজার হাজার পর্যটক এসেছেন। পর্যটন এলাকা, হোটেল, হোমস্টে ও খাবারের হোটেলগুলোতে পর্যটকদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। কাঞ্চনজঙ্ঘা দৃশ্যমান হলে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়ত বলে মনে করেন তিনি। তবে তাঁর মতে, এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও পর্যটকদের আকর্ষণ করার মতো। পূজার ছুটিতে পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় পঞ্চগড়ের পর্যটন খাত বেশ সরগরম হয়ে উঠেছে। তবে পর্যটকদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসনের ব্যবস্থা না থাকাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে স্থানীয় প্রশাসন।
পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়া পারভীন বলেন, জেলার পর্যটনশিল্পের অন্যতম সমস্যা আবাসন সংকট। সরকারি ও বেসরকারিভাবে এই সংকট দূর করার জন্য কাজ চলছে। পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা জোরদার করতে ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে।
আবহাওয়া বদলালে দেখা মিলতে পারে কাঞ্চনজঙ্ঘার
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জীতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, কয়েক দিনের মধ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি হয়ে গেলে কাঞ্চনজঙ্ঘা দৃশ্যমান হতে পারে। অক্টোবরের শেষ ভাগ ও নভেম্বরের শুরুর দিকে পর্বতশৃঙ্গটি ভালোভাবে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি। ফলে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে আসা পর্যটকদের আশা এখন আবহাওয়ার দিকে। আকাশ পরিষ্কার হলে আবারও দেখা মিলতে পারে হিমালয়ের বরফঢাকা এই পর্বতশৃঙ্গের। ততক্ষণ পর্যন্ত পঞ্চগড়ের চা-বাগান, শীতের আমেজ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করেই সময় কাটাচ্ছেন ভ্রমণপিপাসুরা।
কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি
আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]