খুঁজুন
                               
, ,
           

আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠলে নিষিদ্ধ হতে পারেন মেসি

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ২:৩২ পূর্বাহ্ণ
আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠলে নিষিদ্ধ হতে পারেন মেসি

আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন এখনও টিকে আছে। এবার তাদের সামনে প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড, রোববার সকালে তাদের মুখোমুখি হবেন লিওনেল মেসিরা। সে ম্যাচ জিতলে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার পথে আরও এগিয়ে যাবে আর্জেন্টিনা।

তবে সম্ভাব্য সে ফাইনাল ঘিরে লিওনেল মেসির সামনে একটা শঙ্কাও এসে দাঁড়িয়েছে। সে ফাইনালে উঠলে নিষিদ্ধ হতে পারেন তিনি। তবে সে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে মেজর লিগ সকার থেকে। এমএলএসের সঙ্গে সময়সূচি নিয়ে সমস্যায় পড়তে পারেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। কারণ, অল-স্টার গেমের কাছাকাছি সময়েই পড়তে পারে বিশ্বকাপ ফাইনাল।

মূল ঘটনাটি এমন, এবারও এমএলএস অল-স্টার গেমের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন মেসি। আগামী ২৯ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে এই ইভেন্ট, যা আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য বিশ্বকাপ ফাইনালের মাত্র ১০ দিন পরের ঘটনা।

বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো ম্যাচ খেলার মানসিক ও শারীরিক চাপ অনেক বেশি। তাই আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠলে কিছুটা বিশ্রামের জন্য অল-স্টার গেমে না খেলার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন মেসি। তবে এতে আবারও নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন তিনি।

গত মৌসুমে মেসি ও জর্দি আলবা দুজনেই এই ইভেন্টে খেলেননি। এতে দুজনকেই একটি করে ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।

এবার আর্জেন্টিনার অধিনায়ক মেসি এবং তার সতীর্থ রদ্রিগো দে পল নির্বাচিত হয়েছেন এই ইভেন্টের জন্য। তবে ২০২৫ সালের চেয়ে এবার মেসির কাছে অনুপস্থিত থাকার আরও ভালো কারণ থাকবে, তাই হয়তো গতবারের মতো শাস্তি নাও পেতে পারেন তিনি।

২০২৬ এমএলএস অল-স্টার গেম অনুষ্ঠিত হবে ২৯ জুলাই, নর্থ ক্যারোলিনার শার্লটে ব্যাংক অব আমেরিকা স্টেডিয়ামে। টানা তৃতীয় মৌসুম এবং গত ছয় মৌসুমের মধ্যে পঞ্চমবারের মতো লিগা এমএক্সের সেরা একাদশের বিপক্ষে মুখোমুখি হবে এমএলএস অল-স্টার দল।

এবারের আসরে তারকার অভাব হবে না। থমাস মুলার (ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপস), সন হিউং-মিন (এলএএফসি) এবং সম্ভবত মেসির (ইন্টার মিয়ামি) মতো তারকারা অংশ নেবেন এই আয়োজনে, যা গ্রীষ্মের অন্যতম আলোচিত ইভেন্ট হয়ে উঠতে যাচ্ছে।

এদিকে আসন্ন বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা। রোববার কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে হবে এই ম্যাচ।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

 

ব্যাকআপ উইকেটকিপারে জাকের এগিয়ে অমিত ভবিষ্যতের ভাবনায়

ক্রীড়া প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩২ অপরাহ্ণ
ব্যাকআপ উইকেটকিপারে জাকের এগিয়ে অমিত ভবিষ্যতের ভাবনায়

জাতীয় ক্রিকেট দলে ব্যাকআপ উইকেটকিপার হিসেবে আপাতত জাকের আলী অনিকের ওপরই আস্থা রাখছেন নির্বাচকেরা। ঘরোয়া ক্রিকেটের সব ফরম্যাটে রান করে অফ-ফর্ম কাটিয়ে তাঁর ফিরে আসাকে ইতিবাচকভাবে দেখছে টিম ম্যানেজমেন্ট। অন্যদিকে, প্রতিভাবান ব্যাটার অমিত হাসানকে তাড়াহুড়ো করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কঠিন চ্যালেঞ্জে নামাতে চায় না নির্বাচক প্যানেল। তাঁকে ধীরে ধীরে প্রস্তুত করে ভবিষ্যতের জন্য গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এর ফলে আফগানিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে জাকেরের সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়লেও অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে অমিতের। সামনে দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলার কথা বিবেচনায় রেখে অভিজ্ঞতাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন নির্বাচকেরা।

ব্যাকআপ উইকেটকিপারে অভিজ্ঞতায় এগিয়ে জাকের
জাতীয় দলের নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন জানিয়েছেন, উইকেটকিপার বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা হিসেবে কাজ করছে। জাতীয় দলের মূল উইকেটকিপার হিসেবে লিটন দাসই তাঁদের প্রথম পছন্দ। তবে তাঁর বিকল্প হিসেবে কাকে রাখা হবে, সেই বিবেচনায় জাকের আলী এগিয়ে রয়েছেন। মাঝে অফ-ফর্মে থাকলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে রান করে জাকের নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। নির্বাচকদের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে চাপের মুহূর্ত সামলানোর অভিজ্ঞতা তাঁকে অন্যদের তুলনায় বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে। হাবিবুল বাশার বলেন, ‘মূল উইকেটকিপার হিসেবে আমাদের প্রথম পছন্দ লিটন দাস। বিষয় হলো ব্যাকআপ উইকেটকিপার কে হবেন। জাকের আলী মাঝে অফ-ফর্মে থাকার পর ঘরোয়া ক্রিকেটের সব ফরম্যাটে রান করে দুর্দান্তভাবে ফিরে এসেছে।’

অমিতকে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
অমিত হাসানের প্রতিভা নিয়ে আশাবাদী নির্বাচকেরা। তবে মাত্র একটি টেস্ট খেলা এই তরুণ ব্যাটারকে এখনই কঠিন আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি করতে চান না তাঁরা। সামনে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সিরিজ থাকায় অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের ওপর নির্ভর করার পাশাপাশি অমিতকে ধাপে ধাপে প্রস্তুত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

হাবিবুল বাশারের মতে, অমিতের সামনে জাতীয় দলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেই পথ তৈরি করতে তাঁকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সামনে দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবা ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলা রয়েছে, যেখানে চাপের মুহূর্তে অভিজ্ঞতার প্রয়োজন রয়েছে। অন্যদিকে অমিত সবেমাত্র উঠে আসছে, তাকে হুট করে কঠিন চাপের মুখে না ফেলে ধীরে ধীরে সুযোগ দিতে চাই। সে অবশ্যই আমাদের দীর্ঘমেয়াদি ভাবনায় আছে।’

অমিতের ব্যাটিং পজিশন নিয়ে আলোচনা
জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) অমিত হাসানকে ওপেনিংয়ে খেলানোর পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়েছিল। তবে প্রথম দুই রাউন্ডের পর তৃতীয় রাউন্ডে তাঁকে তিন নম্বরে ব্যাটিং করতে দেখা যায়। রংপুরের বিপক্ষে ওই ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে ৯৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন তিনি।

জাতীয় দলের টপ অর্ডারে একজন ডানহাতি ব্যাটারের প্রয়োজন থেকেই অমিতকে ওপরে খেলানোর ভাবনা আসে। তবে এটি তাঁর ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না বলে জানিয়েছেন হাবিবুল বাশার। বরং ব্যাটিং পজিশন নিয়ে অমিতের সঙ্গে আলোচনা করেই সম্ভাব্য পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছিল। নির্বাচক বলেন, ‘এটি জোরপূর্বক কোনো ইনস্ট্রাকশন ছিল না, অমিতের সঙ্গে একটি আলোচনা ছিল। সে মূলত চার বা পাঁচ নম্বরে ব্যাটিং করে অভ্যস্ত। কিন্তু জাতীয় দলে মিডল অর্ডারে সুযোগ পাওয়াটা কঠিন। আমাদের একজন ডানহাতি টপ অর্ডার ব্যাটারের অভাব রয়েছে। তাই নতুন বল সামলানোর মতো টেকনিক থাকায় তাকে টপ অর্ডারে খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।’

ব্যাটিং পজিশনে স্বাচ্ছন্দ্যকে গুরুত্ব
একজন ব্যাটারের ব্যাটিং পজিশন পরিবর্তন করতে হলে তাঁর স্বাচ্ছন্দ্য ও প্রস্তুতিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন নির্বাচকেরা। অমিত সাধারণত চার বা পাঁচ নম্বরে ব্যাটিং করলেও টপ অর্ডারে খেলার সম্ভাবনা তাঁর সামনে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।

তবে নতুন পজিশনে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি ক্রিকেটারের স্বাচ্ছন্দ্যের ওপর নির্ভর করবে। এ বিষয়ে হাবিবুল বাশারের বক্তব্য, ‘পজিশন পরিবর্তন সবসময় খেলোয়াড়ের কমফোর্টের ওপর নির্ভর করে, চাপিয়ে দেওয়া যায় না।’ অর্থাৎ, জাতীয় দলের প্রয়োজন বিবেচনায় অমিতকে টপ অর্ডারে খেলানোর সম্ভাবনা থাকলেও তাঁর ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে চান না নির্বাচকেরা। বরং নিজের সামর্থ্য ও স্বাচ্ছন্দ্য অনুযায়ী সেরা অবস্থান খুঁজে নেওয়ার সুযোগ দিতে চান তাঁরা।

জাকেরের বর্তমান, অমিতের ভবিষ্যৎ
জাতীয় দলে ব্যাকআপ উইকেটকিপার হিসেবে জাকের আলীকে এগিয়ে রাখার পেছনে রয়েছে তাঁর অভিজ্ঞতা ও ঘরোয়া ক্রিকেটে সাম্প্রতিক প্রত্যাবর্তন। অন্যদিকে, অমিত হাসানকে নিয়ে নির্বাচকদের পরিকল্পনা দীর্ঘমেয়াদি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপের সঙ্গে ধীরে ধীরে পরিচিত করে তাঁকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে চান তাঁরা। সামনে কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সিরিজ থাকায় অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের ওপর নির্ভরতা বাড়তে পারে। তবে অমিতের মতো তরুণদের জন্যও জাতীয় দলের দরজা বন্ধ নয়। বরং ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, ব্যাটিং পজিশনে মানিয়ে নেওয়া এবং চাপ সামলানোর সক্ষমতা দেখাতে পারলে ভবিষ্যতে তাঁর সুযোগের পথ আরও উন্মুক্ত হতে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

তারেক রহমানকে নিয়ে ‘স্নাইপার’ মন্তব্য, বিরোধীদের দায়ী করলেন রাশেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৪ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানকে নিয়ে ‘স্নাইপার’ মন্তব্য, বিরোধীদের দায়ী করলেন রাশেদ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফর ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক যুবকের ‘স্নাইপার’ মন্তব্যের পেছনে বিরোধী দলের নেতাদের বক্তব্য ও আচরণকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী দলের নেতাদের আগ্রাসী বক্তব্য পতিত অপশক্তিকে এমন মন্তব্য করার সাহস জুগিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন রাশেদ খাঁন।

স্নাইপার’ মন্তব্য নিয়ে বিরোধীদের দায়ী করলেন রাশেদ
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে এক যুবক লিখেছেন, ‘একটি মাত্র স্নাইপার দরকার ছিল।’ তাঁর দাবি, বিরোধী দলের নেতাদের উচ্ছৃঙ্খল বক্তব্য, আগ্রাসী আচরণ এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার সুযোগ নিচ্ছে পতিত অপশক্তি। তবে ওই যুবকের পরিচয়, মন্তব্যের প্রেক্ষাপট কিংবা এ বিষয়ে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়নি।

আওয়ামী লীগের বিচার নিয়ে বিরোধীদের ভূমিকার সমালোচনা
রাশেদ খাঁন অভিযোগ করেন, বিরোধী দলের নেতাদের বক্তব্য, জনসভা ও টকশোতে আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুম-খুন এবং দলটির বিচার নিয়ে আলোচনা যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না।

তিনি আরও দাবি করেন, গণঅভ্যুত্থানের এক মাসের মাথায় জামায়াতে ইসলামীর আমির আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিলেন। এ ছাড়া জামায়াত ও এনসিপি এমন বয়ান তৈরি করছে, যেন বিএনপির আট মাসের সরকার আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের শাসনামলকেও ছাড়িয়ে গেছে। রাশেদ খাঁনের ভাষ্য, এসব বক্তব্য ও সমালোচনার লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর পরিবারকে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গুমের শিকার, মামলায় জর্জরিত কিংবা নির্বাসিত জীবনে থাকা নেতারাও এ পরিস্থিতির বাইরে নন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জুলাই অভ্যুত্থানে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
পোস্টে রাশেদ খাঁন আরও লেখেন, ৫ আগস্টের পরও দায়িত্বে থাকা কিংবা তার আগে রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় না থাকা কিছু ব্যক্তির বক্তব্যে এমন ধারণা তৈরি হচ্ছে, যেন গত ১৬ বছর শুধু তাঁরাই আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। তিনি দাবি করেন, আন্দোলনে বিএনপির নেতাকর্মীদের অবদানের তুলনায় বিরোধী দলের অনেক নেতার ভূমিকা ছিল নগণ্য। অথচ এখন বিএনপিকে তাঁদের কাছ থেকেই আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস শুনতে হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অধ্যাপক জাফর ইকবালের কাছ থেকে জানার সঙ্গে তুলনা টেনে রাশেদ খাঁন বলেন, একইভাবে বিরোধী দলের অনেক নতুন সংসদ সদস্যের কাছ থেকে বিএনপিকে জুলাই অভ্যুত্থানের ইতিহাস জানতে হচ্ছে। রাশেদ খাঁনের এসব বক্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে করা রাজনৈতিক অভিযোগ। পোস্টে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিরোধী দলের নেতাদের বক্তব্য দেওয়া তথ্যের মধ্যে পাওয়া যায়নি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

চালকদের ৭৬ শতাংশের দৃষ্টিশক্তিতে ত্রুটি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৪ অপরাহ্ণ
চালকদের ৭৬ শতাংশের দৃষ্টিশক্তিতে ত্রুটি

চোখে সমস্যা, অথচ জানেনই না! এমন দৃষ্টিত্রুটি নিয়েই সড়কে গাড়ি চালাচ্ছেন হাজারো পেশাদার চালক। ঢাকাসহ দেশের ১৯ জেলায় ৩১ হাজার ৫৩৫ জন চালকের চোখ পরীক্ষা করে ২৪ হাজার ১০ জনের চশমার প্রয়োজন শনাক্ত হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৪ হাজার ৬৪৬ জন জীবনে প্রথমবারের মতো চশমা ব্যবহার করছেন। অর্থাৎ চশমা প্রয়োজন হওয়া চালকদের প্রায় ৬০ শতাংশই প্রথমবার চশমা নিচ্ছেন। সব মিলিয়ে চোখ পরীক্ষা করা চালকদের প্রায় ৭৬ শতাংশের দৃষ্টিশক্তি সংশোধনে চশমা প্রয়োজন হয়েছে।

বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান কিংবা সিএনজিচালিত অটোরিকশা—পেশাদার চালকদের একটি বড় অংশের চোখে সমস্যা থাকার এই চিত্র সড়ক নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক সামনে এনেছে। কারণ গাড়ি চালানোর সময় দূরের যানবাহন, পথচারী, সড়কের সংকেত ও আশপাশের পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে দেখতে পারা অত্যন্ত জরুরি। দৃষ্টিশক্তির ত্রুটি শনাক্ত না হলে এবং প্রয়োজনীয় চশমা বা চিকিৎসা না পেলে চালনার সময় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে পরীক্ষার এই তথ্য থেকে দৃষ্টিত্রুটির কারণে সংঘটিত দুর্ঘটনার সংখ্যা নির্ধারণ করা যায় না।

  • ১৯ জেলায় ৩১ হাজার ৫৩৫ জনের চোখ পরীক্ষা
  • ২৪ হাজার ১০ জনকে চশমা দেওয়া হয়েছে
  • প্রথমবার চশমা নিচ্ছেন ১৪ হাজার ৬৪৬ জন

আন্তর্জাতিক দৃষ্টি সেবা সংস্থা ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের বিশেষ স্বাস্থ্য শিবিরে চালকদের চোখ পরীক্ষার মাধ্যমে উঠে এসেছে এসব তথ্য। গত বছরের অক্টোবরে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পরীক্ষায় চালকদের ৪৯ শতাংশের নিকটদৃষ্টি এবং ৫১ শতাংশের দূরদৃষ্টির সমস্যা পাওয়া গেছে। প্রয়োজন অনুযায়ী চশমা বিতরণের পাশাপাশি চোখের অন্যান্য সমস্যার চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

চোখের সমস্যাই জানেন না
চোখের সমস্যা থাকলেও তা সব সময় নিজে থেকে বুঝতে পারেন না অনেকে। বিশেষ করে দৃষ্টিশক্তির ত্রুটি ধীরে ধীরে তৈরি হলে বা দৈনন্দিন কাজে তার প্রভাব স্পষ্ট না হলে সমস্যা শনাক্ত হতে দেরি হতে পারে। পেশাদার চালকদের ক্ষেত্রে নিয়মিত চোখ পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা এখানেই। কারণ তাঁদের প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ধরে সড়কের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হয়।

ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের ভিশন অ্যাকসেস প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক উম্মে সাউদা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে চালকের দক্ষতা, প্রশিক্ষণ ও সচেতনতার পাশাপাশি দৃষ্টিশক্তিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চালকের স্পষ্ট দৃষ্টিশক্তি তাঁর নিজের, যাত্রীদের এবং সড়কে চলাচলকারী অন্যদের নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

তাঁর মতে, সড়ক নিরাপত্তাকে শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন কিংবা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। চালকের শারীরিক সক্ষমতা, সচেতনতা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগও সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

উম্মে সাউদা বলেন, পরিবহন খাতের কর্মীদের নিয়মিত চোখ পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় দৃষ্টিসেবা সহজলভ্য করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। পাশাপাশি চালকদের নিয়মিত চোখ পরীক্ষা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চশমা ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

১৯ জেলায় পরীক্ষা, লক্ষ্য ৫০ হাজার চালক
ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, বগুড়া, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, দিনাজপুর, ঢাকা, গাইবান্ধা, গাজীপুর, খুলনা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নরসিংদী, নীলফামারী, নোয়াখালী, পাবনা, রাজবাড়ী, রংপুর, সিলেট ও রাজশাহীতে চোখ পরীক্ষার কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। এ ছাড়া সৈয়দপুরেও চালকদের চোখ পরীক্ষা করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সহযোগিতায় দেশজুড়ে মোট ৫০ হাজার চালকের চোখ পরীক্ষা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এ কার্যক্রম শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। যাঁদের চশমা প্রয়োজন হবে, তাঁদের বিনা মূল্যে চশমা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ছানিতে আক্রান্ত চালকদের চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হবে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম বলেন, চালকদের চোখের ত্রুটি দূর করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দৃষ্টিশক্তির সমস্যা নিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ছাড়া গাড়ি চালানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পরিবহন শ্রমিকদের সার্বিক সুরক্ষায় শুধু চোখের সমস্যায় সীমাবদ্ধ না থেকে পর্যায়ক্রমে আরও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চোখের সমস্যা দ্রুত শনাক্ত করা, প্রয়োজনীয় চশমা দেওয়া এবং ছানি বা অন্য রোগে আক্রান্ত চালকদের নিয়মিত পরীক্ষা ও সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে দৃষ্টিশক্তিজনিত ঝুঁকি কমানো সম্ভব। এ বিষয়ে মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

একবার চোখ পরীক্ষা যথেষ্ট নয়
চালকদের চোখ পরীক্ষায় বিপুলসংখ্যক মানুষের দৃষ্টিত্রুটি শনাক্ত হওয়া পরিবহন খাতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। তবে একবার চোখ পরীক্ষা করে চশমা দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। চালকেরা নিয়মিত চশমা ব্যবহার করছেন কি না, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা যথাযথভাবে সংশোধন হয়েছে কি না এবং চোখের অন্য রোগের চিকিৎসা পাচ্ছেন কি না, তা নিশ্চিত করাও জরুরি।

প্রথমবার চশমা ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেশি হওয়া থেকে বোঝা যায়, এই উদ্যোগের মাধ্যমে অনেক চালকের দৃষ্টিশক্তির সমস্যা প্রথমবার শনাক্ত হয়েছে। তবে সমস্যাগুলো আগে ধরা না পড়ার পেছনে সচেতনতার অভাব, চিকিৎসাসেবায় প্রবেশের সীমাবদ্ধতা কিংবা ব্যয়ের মতো কোন কারণ কতটা দায়ী, তা নির্ধারণের জন্য আরও তথ্য প্রয়োজন।

সড়ক নিরাপত্তায় চালকের দক্ষতা, প্রশিক্ষণ, যানবাহনের উপযুক্ত অবস্থা, সড়ক ব্যবস্থাপনা ও ট্রাফিক আইন মানার পাশাপাশি শারীরিক সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই পেশাদার চালকদের নিয়মিত চোখ পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় চশমা ব্যবহার এবং চোখের রোগের চিকিৎসাকে পরিবহন খাতের স্থায়ী স্বাস্থ্য সুরক্ষাব্যবস্থার অংশ করা প্রয়োজন।

৩১ হাজারের বেশি চালকের চোখ পরীক্ষা যে বাস্তবতা সামনে এনেছে, তা হলো—চালকের দৃষ্টিশক্তির সমস্যা শনাক্ত করার সুযোগ বাড়ানো জরুরি। এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো, বিশেষ স্বাস্থ্য শিবিরের এই উদ্যোগকে নিয়মিত ও টেকসই ব্যবস্থায় রূপান্তর করা। এতে অজানা দৃষ্টিত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, যা চালক, যাত্রী ও অন্য সড়ক ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে।

কালের আলো/টিইকে/এমকে