খুঁজুন
                               
, ,
           

হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪৭ অপরাহ্ণ
হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

হামের উপসর্গে গেত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা) দেশে আরও তিনজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ৭৮৬ জন।

শনিবার (১১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে সারাদেশে ৬৬০ জন এবং নিশ্চিত হামে ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৫৩ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৯৩ হাজার ৪৯১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৮৯ হাজার ৭৬২ জন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

মিল্কিওয়ের ব্ল্যাকহোল ঘিরে ধাতুর বিশাল ভান্ডার, কী বলছে বিজ্ঞান

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৪ অপরাহ্ণ
মিল্কিওয়ের ব্ল্যাকহোল ঘিরে ধাতুর বিশাল ভান্ডার, কী বলছে বিজ্ঞান

মহাকাশের গভীরে লুকিয়ে থাকা রহস্য উন্মোচনে নতুন তথ্য পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। আমাদের সৌরজগতের আবাসস্থল মিল্কিওয়ে ছায়াপথের কেন্দ্রে থাকা সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোলের চারপাশে গ্যাসীয় অবস্থায় ধাতব উপাদানের বিশাল ভান্ডারের সন্ধান মিলেছে। জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে এই চিত্র। বিজ্ঞানীদের ধারণা, নক্ষত্রের বিস্ফোরণ বা সুপারনোভার মাধ্যমে তৈরি ভারী মৌলগুলো সময়ের সঙ্গে ছায়াপথের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।

গবেষণাটি জ্যোতির্বিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সহায়তা করতে পারে—মিল্কিওয়ের কেন্দ্রের ব্ল্যাকহোল তার চারপাশের গ্যাস ও ধূলিকণা তুলনামূলক ধীরগতিতে নিজের দিকে টেনে নিচ্ছে কেন? ব্ল্যাকহোলের চারপাশে থাকা গ্যাসের রাসায়নিক গঠন, তাপমাত্রা ও আচরণ বিশ্লেষণ করে এ বিষয়ে নতুন ধারণা পাওয়া যেতে পারে। গবেষণার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে দ্য অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল জার্নাল-এ।

ব্ল্যাকহোলের চারপাশে কী পাওয়া গেছে?
বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণে ব্ল্যাকহোলের আশপাশের গ্যাসে বিভিন্ন ভারী মৌলের উপস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামের চেয়ে ভারী মৌলগুলোকে সাধারণভাবে ‘ধাতু’ বলা হয়। এই শ্রেণির উপাদানের মধ্যে রয়েছে কার্বন, অক্সিজেন, লোহা ও সোনার মতো মৌল।

এসব উপাদানের অনেকগুলো নক্ষত্রের অভ্যন্তরে নিউক্লীয় বিক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হয়। নক্ষত্রের জীবনচক্রের শেষ পর্যায়ে, বিশেষ করে সুপারনোভা বিস্ফোরণের সময়, এসব মৌল মহাকাশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। পরে সেগুলো গ্যাস ও ধূলিকণার সঙ্গে মিশে নতুন নক্ষত্র, গ্রহ এবং অন্যান্য মহাজাগতিক বস্তুর গঠনে ভূমিকা রাখে।

মিল্কিওয়ের কেন্দ্রের ব্ল্যাকহোলের আশপাশে পাওয়া গ্যাসীয় উপাদানের রাসায়নিক গঠন পার্শ্ববর্তী কয়েকটি নক্ষত্রের উপাদানের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা। এতে কেন্দ্রীয় অঞ্চলে নক্ষত্রের বিবর্তন এবং বিস্ফোরণের মাধ্যমে ভারী মৌল ছড়িয়ে পড়ার ইতিহাস বোঝার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ব্ল্যাকহোলের ক্ষুধা নিয়ে কেন এত কৌতূহল?
মিল্কিওয়ের কেন্দ্রে রয়েছে একটি সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল, যার নাম স্যাজিটেরিয়াস এ-স্টার। এর মহাকর্ষীয় আকর্ষণ আশপাশের গ্যাস, ধূলিকণা ও অন্যান্য পদার্থের গতিবিধিকে প্রভাবিত করে। তবে ব্ল্যাকহোলের কাছে থাকা সব পদার্থই সরাসরি এর ভেতরে চলে যায় না। পদার্থের তাপমাত্রা, ঘনত্ব, গতি এবং আশপাশের পরিবেশের ওপর নির্ভর করে কতটা পদার্থ ব্ল্যাকহোলে প্রবেশ করবে।

কানাডার মন্ট্রিলের ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী নিকোল ফোর্ডের মতে, মিল্কিওয়ের কেন্দ্রের ব্ল্যাকহোল আশপাশের উপাদান নিজের দিকে টেনে নিলেও অন্যান্য সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোলের তুলনায় এটি অনেক ধীরগতিতে পদার্থ গ্রহণ করছে। কেন এমন হচ্ছে, তা বুঝতে ব্ল্যাকহোলকে ঘিরে থাকা গ্যাস, ধূলিকণা এবং নক্ষত্রগুলোর বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করা জরুরি।

বিজ্ঞানীদের কাছে তাই ব্ল্যাকহোলের চারপাশের গ্যাসের রাসায়নিক গঠন গুরুত্বপূর্ণ। এসব উপাদান কীভাবে উত্তপ্ত বা শীতল হচ্ছে, কীভাবে চলাচল করছে এবং কোন পরিস্থিতিতে ব্ল্যাকহোলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে—এসব তথ্য এর কার্যকলাপ সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে।

গ্যাসের শীতল হওয়ার সঙ্গে ধাতুর সম্পর্ক
ব্ল্যাকহোলের চারপাশের গ্যাসের আচরণ নির্ধারণে ভারী মৌল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গ্যাসের মধ্যে থাকা বিভিন্ন মৌল শক্তি বিকিরণের মাধ্যমে গ্যাসকে শীতল হতে সাহায্য করে। তবে এই প্রক্রিয়া নির্ভর করে গ্যাসের তাপমাত্রা, ঘনত্ব, রাসায়নিক গঠন এবং অন্যান্য ভৌত পরিস্থিতির ওপর।

গ্যাস কত দ্রুত শীতল হচ্ছে, তা তার গতিবিধি ও ঘনত্বে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে গ্যাস ব্ল্যাকহোলের দিকে কীভাবে প্রবাহিত হবে, সেটিও পরিবর্তিত হতে পারে। তাই শুধু ব্ল্যাকহোলের কাছাকাছি গ্যাসের পরিমাণ দেখেই তার কার্যকলাপ পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়; গ্যাসের রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যও বিশ্লেষণ করতে হয়।

নতুন পর্যবেক্ষণে পাওয়া তথ্য এ ধরনের জটিল প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের ধারণা আরও স্পষ্ট করতে পারে। বিশেষ করে ছায়াপথের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে ভারী মৌল কীভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং সেগুলো গ্যাসের আচরণকে কীভাবে প্রভাবিত করে, তা গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

জেমস ওয়েবের পর্যবেক্ষণে নতুন সম্ভাবনা
মহাবিশ্বের দূরবর্তী অঞ্চল থেকে আসা আলো বিশ্লেষণের মাধ্যমে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ গ্যাস ও ধূলিকণার রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। এর পর্যবেক্ষণ বিজ্ঞানীদের নক্ষত্রের জন্ম-মৃত্যু, ছায়াপথের বিবর্তন এবং ব্ল্যাকহোলের আশপাশের পরিবেশ বুঝতে সহায়তা করছে।

মিল্কিওয়ের কেন্দ্রের এই পর্যবেক্ষণ ভবিষ্যতে অন্য ছায়াপথের সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোলের চারপাশে ভারী মৌলের বণ্টন বিশ্লেষণেও কাজে আসতে পারে। বিভিন্ন ছায়াপথের তথ্য তুলনা করে বিজ্ঞানীরা জানতে পারবেন, কেন্দ্রীয় ব্ল্যাকহোলের কার্যকলাপের সঙ্গে গ্যাসের রাসায়নিক গঠনের সম্পর্ক কতটা গভীর।

পৃথিবীতে থাকা ভারী মৌলের উৎপত্তি ও বিস্তারের ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রেও এ ধরনের গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ। নক্ষত্রের ভেতরে তৈরি হওয়া মৌল কীভাবে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরবর্তী সময়ে নতুন মহাজাগতিক বস্তুর অংশ হয়, সেই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার নানা দিক উন্মোচনে সহায়তা করতে পারে নতুন তথ্য।

তবে ব্ল্যাকহোলের চারপাশে ধাতুর উপস্থিতি শনাক্ত হওয়া মানেই সেখানে কোনো কঠিন ধাতব ভান্ডার পাওয়া গেছে, এমন নয়। এখানে ‘ধাতুর ভান্ডার’ বলতে গ্যাসীয় পরিবেশে থাকা ভারী মৌলের উপস্থিতি ও বণ্টনকে বোঝানো হচ্ছে। এই আবিষ্কারের গুরুত্ব মূলত মহাকাশে পদার্থের বিবর্তন এবং ব্ল্যাকহোলের কার্যকলাপ সম্পর্কে নতুন সূত্র পাওয়ার মধ্যে। সূত্র: লাইভ সায়েন্স ও দ্য অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল জার্নাল

কালের আলো/ইএকে/জেএন

মাদ্রাসার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঠেকাতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে: ধর্মমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৮ অপরাহ্ণ
মাদ্রাসার অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঠেকাতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে: ধর্মমন্ত্রী

মাদ্রাসা ও ইসলামিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বিতর্কিত ঘটনাগুলোকে দুঃখজনক ও লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।একই সঙ্গে জুমার খুতবায় শরিয়তের আলোকে হালাল-হারামের বিষয়গুলো তুলে ধরে মানুষকে সচেতন করতে ইমামদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির ত্রিবার্ষিক কাউন্সিল উপলক্ষে আয়োজিত জাতীয় ইমাম সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

খুতবায় সচেতনতা তৈরির আহ্বান
মাদ্রাসা ও ইসলামিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিতর্কিত ঘটনা নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে ধর্মমন্ত্রী বলেন, তিনি ইমামদের জুমার খুতবায় এসব বিষয় তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, ইমামরা যদি খুতবায় শরিয়তের নির্দেশনা অনুযায়ী কোনটি হালাল এবং কোনটি হারাম, তা ব্যাখ্যা করেন, তাহলে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে। ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতার বিষয়ে এ ধরনের আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীও বিষয়টি নিয়ে সচেতন
ধর্মমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সরকার চেষ্টা করছে। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন এবং তিনি প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন, যাতে এ ধরনের ঘটনা থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও সুরক্ষিত থাকতে পারেন।

ঘটনাগুলোকে দুঃখজনক ও লজ্জাজনক বললেন মন্ত্রী
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সম্পর্কে তিনি অবগত কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন বলেন, চিকিৎসার জন্য কিছুদিন দেশের বাইরে ছিলেন। সেখানে থাকাকালে কিছু ঘটনা সম্পর্কে জানতে পেরেছেন এবং দেশে ফিরে আরও বিস্তারিত জেনেছেন। তিনি বলেন, এসব ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে যা যা করা প্রয়োজন, সরকার তা করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

পিএইচপির কোডে এক দশকের ফাঁক, বিশ্বজুড়ে সাইবার হামলার শঙ্কা

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৭ অপরাহ্ণ
পিএইচপির কোডে এক দশকের ফাঁক, বিশ্বজুড়ে সাইবার হামলার শঙ্কা

ইন্টারনেটের বিশাল এক অংশের নিরাপত্তা এখন প্রশ্নের মুখে। ওয়েবসাইট তৈরিতে বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপির কোডে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে লুকিয়ে থাকা দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি নতুন করে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় ত্রুটিগুলো শনাক্ত হওয়ার পর সেগুলোর সুযোগ কাজে লাগিয়ে হামলার চেষ্টাও সামনে এসেছে। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশের সরকারি ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সতর্কতা জারি করেছে। কোনো কোনো সংস্থা সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে নিজেদের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধও রেখেছে।

পিএইচপি মূলত সার্ভার-সাইড প্রোগ্রামিং ভাষা। বিশ্বজুড়ে অসংখ্য ওয়েবসাইট, ব্লগ, ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম এবং সরকারি পোর্টাল পরিচালনায় এই ভাষা ব্যবহৃত হয়। ফলে এর ভেতরে থাকা গুরুতর দুর্বলতা শুধু নির্দিষ্ট কোনো ওয়েবসাইটের জন্য নয়, বরং বিস্তৃত ডিজিটাল অবকাঠামোর জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

নিরাপত্তা গবেষকদের শনাক্ত করা ত্রুটিগুলো পিএইচপির মেমোরি ব্যবস্থাপনা এবং গুরুতর ত্রুটি সামলানোর প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। এগুলোর সুযোগ নিয়ে আক্রমণকারীরা কোনো কোনো পরিস্থিতিতে সার্ভারে ক্ষতিকর কোড চালানো, সংরক্ষিত তথ্য হাতিয়ে নেওয়া কিংবা ওয়েবসাইটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। পিএইচপি কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে সংশোধিত সংস্করণ প্রকাশ করেছে। তবে যেসব সার্ভারে এখনো নিরাপত্তা হালনাগাদ করা হয়নি, সেগুলো নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।

কোডের গভীরে লুকিয়ে থাকা বিপদ
প্রযুক্তির জগতে সফটওয়্যারের নিরাপত্তা ত্রুটি নতুন কিছু নয়। তবে কোনো বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষার গভীরে দীর্ঘদিন ধরে দুর্বলতা থেকে গেলে তার প্রভাব অনেক বেশি বিস্তৃত হতে পারে। পিএইচপির সাম্প্রতিক ঘটনাটি সেই বাস্তবতাই সামনে এনেছে।

সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যালিফ ও উইজের গবেষকেরা এআই প্রযুক্তির সহায়তায় পিএইচপিতে দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত করেন। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, দুর্বলতাগুলো পিএইচপির মেমোরি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এসব ত্রুটি কাজে লাগিয়ে সার্ভারের অভ্যন্তরীণ মেমোরিতে থাকা সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করা কিংবা ক্ষতিকর কোড চালানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশের সফটওয়্যার প্রকৌশলী ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা সুমিত সাহার ভাষ্য অনুযায়ী, মেমোরি ব্যবস্থাপনা এবং মেমোরি শেষ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি সামলানোর প্রক্রিয়ায় দুর্বলতা তৈরি হলে সার্ভারের অভ্যন্তরীণ তথ্য প্রকাশ বা ক্ষতিকর কোড চালানোর ঝুঁকি দেখা দিতে পারে।

মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের এআই ও সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক লেকচারার অ্যান্ড্রিউ কুলেনও বিষয়টির ব্যাপকতা তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, বিশ্বের বিপুলসংখ্যক যন্ত্র ও অনলাইন সেবা কিছু মৌলিক সফটওয়্যারের ওপর নির্ভরশীল। এসব সফটওয়্যারের একটিতে গুরুতর দুর্বলতা দেখা দিলে তার প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে পারে বহু প্রতিষ্ঠান ও ব্যবহারকারীর মধ্যে।

পাসওয়ার্ড ছাড়াই কি নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে হ্যাকাররা?
এই ঘটনার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, আক্রান্ত সার্ভারের পরিবেশ ও ব্যবহৃত সংস্করণের ওপর নির্ভর করে কিছু ক্ষেত্রে বৈধ অ্যাকাউন্ট বা পাসওয়ার্ড ছাড়াই দূর থেকে আক্রমণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর অর্থ, কোনো ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা দুর্বল হলে আক্রমণকারীকে সব সময় ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে হবে—এমন নয়।

সফল আক্রমণের ক্ষেত্রে সার্ভারের মেমোরিতে থাকা সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ, ওয়েবসাইটের কনটেন্ট পরিবর্তন, তথ্যভান্ডারে অননুমোদিত প্রবেশ কিংবা সার্ভারে ক্ষতিকর নির্দেশনা চালানোর মতো ঘটনা ঘটতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী এতে ব্যক্তিগত তথ্য, লগইন-সংক্রান্ত তথ্য ও প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ নথি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

তবে পিএইচপির সব ওয়েবসাইট ইতিমধ্যে আক্রান্ত হয়েছে, এমন কোনো তথ্য নেই। ঝুঁকির মাত্রা নির্ভর করে ব্যবহৃত পিএইচপি সংস্করণ, সার্ভারের কনফিগারেশন, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট ত্রুটির বিরুদ্ধে সুরক্ষা নেওয়া হয়েছে কি না—এসব বিষয়ের ওপর।

প্রকাশের আগেই হামলার চেষ্টা
নিরাপত্তা ত্রুটিগুলোর তথ্য প্রকাশ্যে আসার আগেই সেগুলো কাজে লাগিয়ে হামলার চেষ্টা শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। আমাজনের নিরাপত্তাপ্রধান সিজে মোসেসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ অক্টোবর ত্রুটিগুলোর খবর প্রকাশের চার দিন আগেই আমাজনের নিরাপত্তা দল এ ধরনের একটি হামলার চেষ্টা শনাক্ত করেছিল।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে—গবেষকেরা যখন ত্রুটির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না করে সংশোধনের সুযোগ তৈরি করছিলেন, তখন আক্রমণকারীরা কীভাবে দুর্বলতার বিষয়ে জানতে পারলেন? এ প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।

সাধারণত সফটওয়্যারের গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হলে গবেষকেরা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে জানান। এরপর প্রতিষ্ঠানটি সমাধান তৈরি ও প্রকাশের সুযোগ পায়। নির্ধারিত সময়ের আগে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না করার উদ্দেশ্য হলো, যাতে সাইবার অপরাধীরা সমাধান আসার আগেই দুর্বলতার সুযোগ নিতে না পারে। কিন্তু কোনো ত্রুটির তথ্য আগেভাগে ফাঁস হলে কিংবা আক্রমণকারীরা নিজেরাই তা শনাক্ত করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ত্রুটিগুলো পিএইচপি২শেল নামে পরিচিত এবং এর ঝুঁকির মাত্রা ১০-এর মধ্যে ৯ দশমিক ২ নির্ধারণ করা হয়েছে। এই উচ্চ ঝুঁকির মূল্যায়নই দেখায়, আক্রান্ত ব্যবস্থায় দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া কতটা জরুরি।

কেন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে ঝুঁকি
পিএইচপি বহু বছর ধরে ওয়েবসাইট নির্মাণ ও পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ওয়ার্ডপ্রেস, ড্রুপাল ও জুমলার মতো বহুল ব্যবহৃত কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থার অনেক ওয়েবসাইটও পিএইচপির ওপর নির্ভরশীল। ব্যক্তিগত ব্লগ থেকে শুরু করে সংবাদমাধ্যম, অনলাইন ব্যবসা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই এই ভাষার ব্যবহার রয়েছে।

এ কারণেই পিএইচপির কোনো গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটির প্রভাব একটি প্রতিষ্ঠান বা একটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার আশঙ্কা কম। একই ধরনের দুর্বল সংস্করণ ব্যবহার করা বিভিন্ন দেশের সার্ভার একযোগে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে হালনাগাদ না করা সার্ভারগুলো আক্রমণকারীদের কাছে তুলনামূলক সহজ লক্ষ্য হয়ে উঠতে পারে।

প্রযুক্তি অবকাঠামো প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ক্লাউডফ্লেয়ারসহ সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, পিএইচপির একাধিক সংস্করণে এই দুর্বলতার প্রভাব রয়েছে। তবে পিএইচপি ব্যবহারকারী সব ওয়েবসাইট একই মাত্রায় ঝুঁকিতে রয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে প্রতিটি সার্ভারের সংস্করণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাই করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের ওয়েবসাইটগুলো কতটা প্রস্তুত?
বাংলাদেশেও পিএইচপিনির্ভর ওয়েবসাইটের ব্যবহার ব্যাপক। সংবাদমাধ্যম, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনলাইন সেবা পরিচালনায় এই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়। ফলে নিরাপত্তা ত্রুটির বিষয়টি দেশের ওয়েব অবকাঠামোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা।

সুমিত সাহার মতে, পিএইচপি নিজেই অনিরাপদ—এমন ধারণা সঠিক নয়। বরং পুরোনো সংস্করণ ব্যবহার, সময়মতো নিরাপত্তা প্যাচ প্রয়োগ না করা এবং সার্ভারের ভুল কনফিগারেশনের মতো বিষয় ওয়েবসাইটকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে।

কোনো ওয়েবসাইটে নিরাপত্তা আপডেট দীর্ঘদিন স্থগিত থাকলে পরিচিত দুর্বলতাগুলোও আক্রমণের সুযোগ তৈরি করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ওয়েবসাইট সচল থাকলেও তার পেছনের সফটওয়্যার, প্লাগইন কিংবা সার্ভার পরিবেশ হালনাগাদ করা হয় না। এতে বাইরে থেকে স্বাভাবিক মনে হওয়া একটি ওয়েবসাইটও ভেতরে ভেতরে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে থাকতে পারে।

বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য, গ্রাহকের যোগাযোগের বিবরণ, লেনদেন-সংক্রান্ত তথ্য কিংবা গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক নথি সংরক্ষিত থাকে, তাদের জন্য নিরাপত্তা যাচাই আরও জরুরি।

এখনই কী করা প্রয়োজন?
পিএইচপি কর্তৃপক্ষ ২১ অক্টোবর সংশোধিত সংস্করণ প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা সংস্করণগুলো হলো পিএইচপি ৮.২.৩৫, ৮.৩.৩৬, ৮.৪.২৭ এবং ৮.৫.১২। সংশ্লিষ্ট ত্রুটি থেকে সুরক্ষা পেতে ওয়েবসাইট পরিচালকদের নিজেদের ব্যবহৃত সংস্করণ যাচাই করে উপযুক্ত নিরাপত্তা আপডেট ইনস্টল করতে হবে।

তবে শুধু সফটওয়্যার হালনাগাদ করলেই সব ধরনের সাইবার ঝুঁকি দূর হয়ে যায় না। সার্ভারের কনফিগারেশন পরীক্ষা, অপ্রয়োজনীয় অ্যাকসেস বন্ধ রাখা, প্রশাসনিক অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা জোরদার করা, নিয়মিত ব্যাকআপ রাখা এবং অস্বাভাবিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।

কোনো ওয়েবসাইটে অননুমোদিত প্রবেশের লক্ষণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের উচিত দ্রুত নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া, লগ ও অন্যান্য প্রমাণ সংরক্ষণ করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আক্রান্ত ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করা। একই সঙ্গে ব্যবহার করা সফটওয়্যার ও প্লাগইনের নিরাপত্তা অবস্থাও যাচাই করতে হবে।

এআইয়ের নতুন বাস্তবতা: প্রতিরক্ষা ও আক্রমণ—দুই দিকেই ব্যবহার
পিএইচপির এই ঘটনা সাইবার নিরাপত্তায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্বিমুখী ভূমিকার বিষয়টিও সামনে এনেছে। এআইয়ের সাহায্যে গবেষকেরা কোডের গভীরে থাকা ত্রুটি দ্রুত শনাক্ত করতে পারছেন। একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আক্রমণকারীরাও দুর্বলতা খোঁজা, আক্রমণের কৌশল তৈরি কিংবা সম্ভাব্য লক্ষ্য চিহ্নিত করার চেষ্টা করতে পারেন।

তবে এআই ব্যবহারের কারণে প্রতিটি নিরাপত্তা ত্রুটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভয়াবহ হয়ে ওঠে, এমন নয়। ঝুঁকি কতটা বাড়বে, তা নির্ভর করে ত্রুটির প্রকৃতি, আক্রমণকারীর সক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিরোধব্যবস্থার ওপর।

এই পরিস্থিতি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও ওয়েবসাইট পরিচালকদের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—সাইবার নিরাপত্তা এককালীন কোনো কাজ নয়; এটি নিয়মিত হালনাগাদ, পর্যবেক্ষণ ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। সফটওয়্যারের একটি পুরোনো দুর্বলতা যখন বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল সেবাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে, তখন অবহেলার সুযোগও থাকে কম।

বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো নিজেদের পিএইচপি সংস্করণ ও সার্ভার নিরাপত্তা দ্রুত যাচাই করা। কারণ, সাইবার হামলা ঠেকাতে শুধু সতর্কবার্তা জারি করাই যথেষ্ট নয়—সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই হতে পারে বড় বিপর্যয় এড়ানোর প্রধান উপায়। সূত্র: আল-জাজিরা

কালের আলো/এমএসআইপি/জেএন