খুঁজুন
                               
, ,
           

আজ ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে যত আয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১০:২৭ পূর্বাহ্ণ
আজ ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে যত আয়োজন

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই। ছাত্রদের কোটাবিরোধী আন্দোলন চলাকালীন রংপুরে পুলিশের গুলিতে মারা যান বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। দিনটিকে স্মরণে রেখে সাবেক অন্তর্র্বতী সরকার ১৬ জুলাইকে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ ঘোষণা করে।

ঘোষণা মতো গত বছরে দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা হয়। বছরে ঘুরে আবার এসেছে ‘জুলাই শহীদ দিবস’। এ উপলক্ষে আজও (বৃহস্পতিবার) সারাদেশে দিবসটি উপলক্ষে রয়েছে নানা আয়োজন।

তথ্য মতে, আজ দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। এছাড়া জুলাই শহীদদের রুহের মাগফিরাতের জন্য সব মসজিদে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে তাদের আত্মার শান্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।

দিবসের কর্মসূচির মধ্যে আজ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।

অন্যদিকে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন কক্সবাজারের পেকুয়ায় শহীদ ওয়াসিমের বাড়িতে গিয়ে সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং চট্টগ্রামের মুরাদপুরে শহীদ ওয়াসিমের শাহাদাতস্থলে একটি স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

সব মাদরাসাতেও ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালনের নির্দেশ

এ বছরের জুলাই শহীদ দিবসে দেশের সব মাদরাসাতেও স্মরণসভা ও বিশেষ মোনাজাত আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড। এ বিষয়ে জারি করা নির্দেশনাকে ‘অতীব জরুরি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত সোমবার (১৩ জুলাই) মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস ২০২৬’ পালন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার কার্যবিবরণীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বোর্ডের আওতাধীন সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ কর্মসূচি পালন করতে হবে।

নির্দেশনায় বলা হয়, প্রতিটি মাদরাসা নিজ নিজ সুবিধাজনক সময়ে জুলাই শহীদদের স্মরণে স্মরণসভা আয়োজন করবে। একই সঙ্গে শহিদদের রুহের মাগফিরাত এবং দেশের শান্তি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করতে হবে।

মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এ নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছে।

২০২৪ সালে শিক্ষার্থীদের সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন যখন চলছিল, ঠিক তখনই তৎকালীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার আন্দোলন দমাতে ছাত্রদের ওপর নির্বিচার গুলি চালায়। সেই গুলির সামনে আবু সাঈদ যেভাবে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, তা দেখে স্তম্ভিত হয়ে যায় পুরো বিশ্ব।

মূলত আবু সাঈদের মৃত্যুতেই পাল্টে গিয়েছিল আন্দোলনের গতিপথ। পুলিশের ছোড়া বুলেট ঝাজরা করে দিয়েছিল তার বুক। আবু সাঈদ ছাড়াও ১৬ জুলাই আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও তাদের সমর্থকদের হামলায় ছাত্রদলের ওয়াসিমসহ সারাদেশে শহীদ হন ছয়জন।

সেদিন শহীদ হওয়া অন্য চারজনের মধ্যে দুজন ঢাকার এবং বাকিরা চট্টগ্রামের। ঢাকায় শহীদ হন নিউমার্কেট এলাকার হকার মো. শাহজাহান এবং নীলফামারীর যুবক সবুজ আলী। চট্টগ্রামে এমইএস কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমদ শান্ত এবং স্থানীয় ফার্নিচার দোকানের কর্মচারী মোহাম্মদ ফারুক। আহত হয় অসংখ্য ছাত্র-জনতা।

সেদিন জেলায় জেলায় সংঘর্ষ, বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে সারাদেশ। দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক-মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। একদিকে সমগ্র দেশের ছাত্র-জনতা, অন্যদিকে আওয়ামী সরকার, তাদের সমর্থক গোষ্ঠী ও প্রশাসন।

আবু সাঈদের মৃত্যুর দৃশ্য দেখে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও এদিন আন্দোলনে যোগ দেয়। অবস্থা বেগতিক দেখে এবং আন্দোলন দমাতে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে তৎকালীন হাসিনা সরকার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সারাদেশে মোতায়েন করে সব ধরনের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

কিন্তু সরকারের এ দমনপীড়ন ঠেকাতে পারেনি আন্দোলনকারীদের। শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলন রূপ নেয় ছাত্র-জনতার সম্মিলিত এক দফা আন্দোলনে। সেই এক দফা হলো স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট সরকারের পদত্যাগ। এই এক দফা বাস্তবায়নে জীবন দেয় দেড় হাজারের বেশি ছাত্র-জনতা। গুরুতর আহন হন হাজার হাজার।

অবশেষে ছাত্র-জনতার প্রতিরোধের মুখে টিকতে না পেরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রিত্ব ছেড়ে সামরিক হেলিকপ্টারে করে ভারতে পালিয়ে যান ফ্যাসিস্ট হাসিনা। সেই থেকে তিনি দিল্লিতে দেশটির সরকারের রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

বাংলাদেশে গণতন্ত্রের লড়াই নিয়ে যা বললেন স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১১ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে গণতন্ত্রের লড়াই নিয়ে যা বললেন স্পিকার

সংসদীয় গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও সুইডেনের মধ্যে বেশ কিছু সাদৃশ্য রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। দুই দেশের সংসদীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠনের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় সংসদে স্পিকারের কার্যালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে দুই দেশের সংসদীয় ব্যবস্থা, গণতন্ত্রের বিকাশ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ক্রীড়া ও সংস্কৃতিতে সহযোগিতার বিষয় উঠে আসে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সুইডেন বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। সুইডেনের সংসদ এককক্ষবিশিষ্ট এবং দেশটি সংসদীয় প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা অনুসরণ করে। সংসদীয় গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও সুইডেনের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে মিল রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। স্পিকারের মতে, দুই দেশের মধ্যে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন করা গেলে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা সম্প্রসারণে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশের মানুষ সব সময় গণতন্ত্রপ্রিয় উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য এ দেশের মানুষ জীবন দিতেও পিছপা হননি। তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষ সেই শাসনের অবসান ঘটিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস দেশটির সংসদীয় কাঠামো সম্পর্কে স্পিকারকে অবহিত করেন। তিনি জানান, সুইডেনের পার্লামেন্টে মোট ৩৪৯টি আসন রয়েছে। সংসদ সদস্যরা জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে চার বছরের জন্য নির্বাচিত হন। রাষ্ট্রদূত বলেন, সুইডেন আনুষ্ঠানিকভাবে একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র হলেও দেশটির রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা সংসদ ও সরকারের হাতে ন্যস্ত থাকে। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও সুইডেনের মধ্যে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ এবং ককাস গঠনের বিষয়ে উভয় পক্ষ গুরুত্বারোপ করে। সংসদীয় পর্যায়ে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

কুবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, স্বামী হেফাজতে

শিক্ষা প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৪ অপরাহ্ণ
কুবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, স্বামী হেফাজতে

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ফার্মেসি বিভাগের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ফারজানা ইসলাম নামের ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর স্বামী নাজমুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার আগে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করে কিছু বলতে রাজি হয়নি।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সাইনবোর্ড এলাকার স্বামীর বাসা থেকে ফারজানার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর স্বামী নাজমুল ইসলাম একই বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

বিয়ের পর নির্যাতনের অভিযোগ পরিবারের
ফারজানার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন তাঁর স্বামী। প্রায় তিন বছর আগে একই বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী নাজমুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। এরপর থেকে দাম্পত্য জীবনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

ফারজানার ভাই আরিফুল ইসলাম জানান, তাঁর বোনের পরিবারের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, নাজমুল প্রথমদিকে বেকার থাকলেও চাকরি পাওয়ার পর অর্থের চাহিদা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে অর্থের জন্য চাপ দেওয়ার পাশাপাশি ফারজানার ওপর নির্যাতনও চলতে থাকে।

নারী নির্যাতনের মামলা করেছিলেন ফারজানা
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বরে মারধরের শিকার হয়ে ফারজানা স্বামীর বাসা ছেড়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে এ ঘটনায় তিনি নারী নির্যাতনের মামলা করেন।

পরিবারের দাবি, মামলার পর নাজমুলের পরিবারের সদস্যরা ভবিষ্যতে আর নির্যাতন করা হবে না বলে আশ্বাস দিয়ে মামলা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। পরে দুই পরিবারের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে মামলাটি প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

ফারজানার ভাই আরিফুলের অভিযোগ, ঘটনার আগের দিন বিকেলে নাজমুলের দুলাভাই তাঁকে ফোন করে মামলা প্রত্যাহার হয়েছে কি না, তা জানতে চান। জবাবে তিনি জানান, মামলা প্রত্যাহার হয়ে গেছে এবং এ-সংক্রান্ত কাগজপত্রও পাওয়া গেছে বলে তিনি জানেন।

পরিবারের দাবি, মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ফারজানাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তবে এটি পরিবারের অভিযোগ; পুলিশি তদন্ত ও ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেও কথা হয়েছিল ভাইয়ের সঙ্গে
আরিফুল ইসলাম জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাঁর সঙ্গে ফারজানার কথা হয়েছিল। তখন বোনের কথাবার্তায় অস্বাভাবিক কিছু বুঝতে পারেননি তিনি। রাতে খাওয়ার জন্য ফারজানা চিপস ও কোমল পানীয়ও কিনেছিলেন বলে জানান আরিফুল।

তবে রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে তাঁকে ফোন করে ফারজানার মৃত্যুর খবর জানানো হয়। হঠাৎ এমন খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুর ঘটনাটি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।

স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গাজী সুমন মাহতাব জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফারজানাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পায়। এ ঘটনায় তাঁর স্বামী নাজমুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ঘটনাটি আত্মহত্যা হতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

ফারজানার মৃত্যুকে ঘিরে পরিবারের পক্ষ থেকে নির্যাতন ও পরিকল্পিত হত্যার যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

কালের আলো/এসএ/এমএএইচ

 

বিসিবির সাবেক পরিচালক মাহমুদ জামাল আর নেই

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫৪ অপরাহ্ণ
বিসিবির সাবেক পরিচালক মাহমুদ জামাল আর নেই

হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক পরিচালক ও বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক মাহমুদ জামাল। শনিবার (২৪ অক্টোবর) ৭৪ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মাহমুদ জামালের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে বিসিবি। রাজশাহীর ক্রীড়াঙ্গনের পরিচিত এই সংগঠক চার দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের খেলাধুলার উন্নয়ন ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

চার দশকের বেশি সময় ক্রীড়াঙ্গনে অবদান
মাহমুদ জামাল দীর্ঘদিন ধরে দেশের ক্রীড়া সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিশেষ করে রাজশাহী অঞ্চলে খেলাধুলার বিকাশে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি দীর্ঘ সময় রাজশাহী বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এ ছাড়া বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) নির্বাহী সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বিভিন্ন পর্যায়ে ক্রীড়া প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত থেকে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন ও সাংগঠনিক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে কাজ করেছেন মাহমুদ জামাল।

দুই দফায় বিসিবির পরিচালক নির্বাচিত
বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রশাসনিক কার্যক্রমেও দীর্ঘদিন সম্পৃক্ত ছিলেন মাহমুদ জামাল। ২০০৫ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক নির্বাচিত হন তিনি। পরে ২০০৮ সালে দ্বিতীয়বারের মতো বোর্ডের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পান।

বিসিবিতে দায়িত্ব পালনকালে দেশের ক্রিকেটের সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন তিনি। ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলাধুলার প্রসারে তাঁর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ক্রীড়া সংগঠক মহলে পরিচিত ছিল।

মাহমুদ জামালের মৃত্যুতে বিসিবির শোক
সাবেক এই পরিচালকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছে দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। দীর্ঘদিনের ক্রীড়া সংগঠক মাহমুদ জামালের মৃত্যুতে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে তাঁর সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে শোকের অনুভূতি তৈরি হয়েছে। সূত্র: বিসিবি

কালের আলো/এসএ/এমএসআইপি