খুঁজুন
                               
, ,
           

বৃষ্টির দাপটে বাড়তি সবজির দাম, কাঁচা মরিচে ডাবল সেঞ্চুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ৪:৪৬ অপরাহ্ণ
বৃষ্টির দাপটে বাড়তি সবজির দাম, কাঁচা মরিচে ডাবল সেঞ্চুরি

Oplus_131072

গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি এবং সরবরাহের ঘাটতিতে রাজধানীর কাঁচাবাজারে বেড়েছে সবজির দাম। প্রায় সব ধরনের সবজির দাম প্রতি কেজি এখন ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। সেই সঙ্গে ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছে কাঁচা মরিচ।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও নিউমার্কেট কাঁচাবাজার ঘুরে এ তথ্য জানা গেছে।

দেখা গেছে, বেশির ভাগ সবজির দামই কেজিতে ২০-৪০ টাকা বেড়েছে। কোনো কোনো সবজির দাম কেজিতে ৬০ টাকা পর্যন্তও বেড়েছে। যেমন কয়েক দিন আগের ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজির হাইব্রিড শসা এখন বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৬০ টাকায়। আর দেশি শসা কিনতে গুনতে হচ্ছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা।

একই চিত্র দেখা গেছে বেগুন ও করলার ক্ষেত্রেও। ৮০ টাকা কেজির বেগুন ও করলা এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। এ ছাড়া ফুলকপি ও বরবটি বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা কেজি দরে। ঢ্যাঁড়স, ঝিঙে ও চিচিঙ্গার মতো সবজি, যা গত সপ্তাহে ৬০-৮০ টাকায় পাওয়া যেত, তা এখন বিক্রি হচ্ছে ৮০–১০০ টাকায়। লাউয়ের পিস বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকায়, যা আগে ছিল ৬০ টাকা।

বাজারে কাঁচা মরিচের দামও বেড়েছে। কয়েক দিন আগে এক কেজি কাঁচা মরিচ ১২০ টাকায় কেনা যেত। বর্তমানে প্রতি কেজি সাধারণ মানের কাঁচা মরিচ ১৬০-১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর ভালো মানের কাঁচা মরিচের কেজি ২০০ টাকা।

ব্যবসায়ীরা জানান, বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সবজির খেত প্লাবিত হয়েছে। এতে সবজি পচে যাওয়া এবং পরিবহনসংকটের কারণে বাজারে এখন সবজির সরবরাহ কম। এই প্রাকৃতিক সংকটের সুযোগে অনেক অসাধু ব্যবসায়ী আবার অতিরিক্ত দাম হাঁকছেন।

তবে বাজারে উল্টো চিত্র দেখা গেছে পেঁপে ও টমেটোর দামে। ৩০ টাকা কেজির পেঁপে এখন বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়। আর আমদানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ২৪০ টাকা কেজির টমেটোর দাম কমে দাঁড়িয়েছে ১৫০ টাকায়। এ ছাড়া পেঁয়াজ ৪০ ও আলু ২৫ টাকা কেজি দরে অপরিবর্তিত রয়েছে।

হঠাৎ দাম বাড়ার বিষয়ে মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের সবজি বিক্রেতা আল নাহিয়ান খান বলেন, বৃষ্টির কারণে বাজারে সবজির সরবরাহ অনেকাংশে কমে গেছে। আগে যেখানে প্রতিদিন ১০০ কেজি সবজি আসত, এখন আসছে ৬০ কেজি। অথচ বাজারে চাহিদা আগের মতোই আছে। ফলে পাইকারিতেই আমাদের চড়া দামে কিনতে হচ্ছে।

আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে এই দাম কমার কোনো সম্ভাবনা নেই উল্লেখ করে আল নাহিয়ান খান জানান, নতুন করে সবজি চাষ করার পর তা বাজারে না আসা পর্যন্ত এই চড়া ভাব বজায় থাকতে পারে।

এদিকে সবজির দাম বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা হুমায়রা হোসেন বলেন, টানা বৃষ্টি হলে সরবরাহ একটু কমবে, তা স্বাভাবিক। কিন্তু সে তুলনায় দাম বেশ অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। কাঁচা মরিচের দাম তো ‘ডাবল সেঞ্চুরি’ হয়ে গেছে।

কালের আলো/এসএকে

রাশিয়ায় বাংলাদেশি পণ্যের বাণিজ্য বাধা দূর করার তাগিদ

কূটনৈতিক প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৭ অপরাহ্ণ
রাশিয়ায় বাংলাদেশি পণ্যের বাণিজ্য বাধা দূর করার তাগিদ

রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশ সহজ করা এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের তাগিদ দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এ লক্ষ্যে পণ্যের সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া সহজ করা, বাজারে প্রবেশের বাধা চিহ্নিত করা এবং বিভিন্ন খাতে যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) মস্কোয় রাশিয়ান ফেডারেশনের চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির কাউন্সিলের সাংগঠনিক বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে। বৈঠকে রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের কার্যক্রম, দুই দেশের বাণিজ্যিক সহযোগিতা এবং ব্যবসায়ীদের সমস্যা সমাধানের বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়।

ব্যবসায়ীদের চাহিদা অনুযায়ী কাজ করবে কাউন্সিল
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন রাশিয়ান ফেডারেশনের চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পাদালকো। তিনি বলেন, উদ্যোক্তাদের বাস্তব চাহিদার ভিত্তিতেই রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের কার্যক্রম পরিচালিত হওয়া উচিত।

তার মতে, রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের জন্য বাংলাদেশের বাজারসংক্রান্ত বিশ্লেষণ তৈরি, সম্ভাবনাময় ব্যবসায়িক খাত চিহ্নিত করা এবং বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধাগুলো খুঁজে বের করা কাউন্সিলের প্রধান কাজ হবে। বাংলাদেশে ব্যবসা করতে আগ্রহী রুশ কোম্পানিগুলোকে ব্যক্তিগত পর্যায়েও সহায়তা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। পাদালকো আরও বলেন, কাউন্সিল রাশিয়া-বাংলাদেশ আন্তঃসরকার কমিশনের সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন প্রস্তাব একত্র করে বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও যৌথ প্রকল্প বাস্তবায়নে যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো সরকারি পর্যায়ে তুলে ধরবে।

ঐতিহাসিক বন্ধুত্বকে বাণিজ্যে কাজে লাগানোর প্রত্যাশা
রাশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বৈঠকে দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের সমর্থনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, নতুন এই প্ল্যাটফর্ম দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতা বাড়াতে সহায়ক হবে। কাউন্সিলের কার্যক্রমে বাংলাদেশ দূতাবাস সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি। ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়ানো এবং সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে যৌথ উদ্যোগ গড়ে তোলার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও কার্যকর অর্থনৈতিক সহযোগিতায় রূপ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের বাণিজ্যিক গুরুত্ব
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় এশিয়া বিভাগের প্রধান ভ্যাচেস্লাভ এরমোলায়েভ বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পর বাংলাদেশ রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। দুই দেশের সহযোগিতার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে তিনি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন। তবে বাণিজ্য বাড়ানোর ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের জটিলতা এবং পণ্য তালিকা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। ব্যবসায়িক লেনদেন সহজ করা এবং আরও বেশি ধরনের পণ্য দুই দেশের বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করা গেলে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়।

জ্বালানি থেকে তথ্যপ্রযুক্তি, সম্ভাবনাময় একাধিক খাত
রুশ অর্থনৈতিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের প্রধান আনাস্তাসিয়া রোমানোভা বলেন, বিজনেস কাউন্সিল গঠনের ফলে ব্যবসায়ীদের নির্দিষ্ট চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে আন্তঃসরকার কমিশনের কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করা সম্ভব হবে।

সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে তিনি জ্বালানি, রসায়ন, কৃষি-শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তির কথা উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান মিয়া সাত্তার জ্বালানি, কৃষি, ডিজিটাল প্রযুক্তি, পরিবহন অবকাঠামো এবং হালকা শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ তুলে ধরেন। সম্ভাব্য উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র ও শস্য গুদাম নির্মাণ এবং ঢাকায় রাশিয়ার সাবেক ট্রেড রিপ্রেজেন্টেশনের জায়গায় একটি শিল্পপার্ক গড়ে তোলা। এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ ও শিল্প সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। তবে প্রস্তাবগুলো এখনো সম্ভাব্য উদ্যোগ হিসেবেই আলোচনায় রয়েছে।

পোশাক ও খাদ্যপণ্য রপ্তানিতে নতুন সুযোগ
মিয়া সাত্তার জানান, রুশ কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যে বাংলাদেশের পোশাক কারখানার সঙ্গে কাজ করছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক ও খাদ্যসামগ্রী আমদানি করছে রাশিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলো।

রাশিয়া ও ইউরেশীয় অর্থনৈতিক ইউনিয়নের বাজারে প্রবেশের জন্য বাংলাদেশি মাছ ও সামুদ্রিক খাদ্য সরবরাহকারীদের অ্যাক্রেডিটেশন বা অনুমোদন পাওয়ার কাজও চলছে বলে জানান তিনি। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলোর রপ্তানি সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে বাংলাদেশি পণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণে বড় বাধা হিসেবে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করেন মিয়া সাত্তার। তার মতে, পণ্যের মান যাচাই ও সনদ পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা না গেলে রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

সার্টিফিকেশন জটিলতা কমানোর প্রস্তাব
বাণিজ্য সম্প্রসারণের বাধা দূর করতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে মান নিয়ন্ত্রণের সমন্বয় এবং সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতির বিষয়ে কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছেন মিয়া সাত্তার। তার মতে, পণ্যের মান যাচাই ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া সহজ হলে রপ্তানিকারকদের সময় ও ব্যয় কমতে পারে। এতে রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ থাকবে। তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের কাছে বাংলাদেশকে প্রায়ই শুধু বস্ত্রশিল্প ও রূপপুর প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হয়। এই ধারণা বদলাতে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতের পণ্য ও ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তুলে ধরা জরুরি। এ লক্ষ্যে একটি সমন্বিত তথ্য পোর্টাল চালু, খাতভিত্তিক ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল বিনিময় এবং রুশ চেম্বার ও রাশিয়ান এক্সপোর্ট সেন্টারের সহায়তায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন তিনি।

নিয়মিত ব্যবসায়িক যোগাযোগে গুরুত্ব
মিয়া সাত্তার বলেন, শুধু একটি ফোরাম গঠন করাই যথেষ্ট নয়; বরং দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিয়মিত ব্যবসা-টু-ব্যবসা বা বিটুবি যোগাযোগ প্রয়োজন। এ জন্য কাউন্সিলের অধীনে স্থায়ী খাতভিত্তিক ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি। এসব গ্রুপের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং বাস্তব সমস্যার সমাধানে কাজ করা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন। বৈঠকে ‘প্রডইনটর্গ’-এর জেনারেল ডিরেক্টর আলেকজান্ডার সিরতসেভ বাংলাদেশে রুশ সার ও শস্য সরবরাহের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কৃষি-শিল্পবিষয়ক একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের প্রস্তাব দেন।

নভেম্বরে ঢাকায় ব্যবসায়ীদের বৈঠকের প্রস্তুতি
বৈঠকে রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টরেট এবং ২০২৬-২৭ সালের প্রস্তাবিত কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়। স্তানিস্লাভ সিমাকোভকে কাউন্সিলের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের প্রস্তাব পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

আগামী নভেম্বরে আন্তঃসরকার কমিশনের বৈঠকের ফাঁকে ঢাকায় দুই দেশের ব্যবসায়ীদের নিয়ে একটি বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে রাশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশনের মহাসচিব ভ্লাদিমির পোলজকভ, এসএমই করপোরেশনের ইভজেনিয়া ইগোরোভা, রাশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট তাতিয়ানা বেলকেভিচ এবং নোভাটেকের সালতানাত সাকামবায়োভাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

 

ইন্টারনেটের অদৃশ্য নেটওয়ার্কে হামলার হুমকি ইরানের, কতটা ঝুঁকিতে বিশ্ব?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৪ অপরাহ্ণ
ইন্টারনেটের অদৃশ্য নেটওয়ার্কে হামলার হুমকি ইরানের, কতটা ঝুঁকিতে বিশ্ব?

মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনা এবার নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট যোগাযোগের নিরাপত্তা নিয়ে। হরমুজ প্রণালির তলদেশ দিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ সাবমেরিন ইন্টারনেট কেবলকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু করার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত নতুন করে বাড়লে এসব কেবলসহ গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল অবকাঠামোয় হামলা হতে পারে—ইরানি কর্মকর্তাদের এমন বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক যোগাযোগব্যবস্থার ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

২০ অক্টোবর তেহরানের স্যাক্রেড ডিফেন্স মিউজিয়ামে এক অনুষ্ঠানে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি হরমুজ প্রণালির নিচ দিয়ে যাওয়া সাতটি গুরুত্বপূর্ণ ডেটা যোগাযোগ কেবলের কথা উল্লেখ করেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির বরাতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায়, তিনি নতুন লক্ষ্যবস্তু ও অস্ত্র উন্মোচনের হুঁশিয়ারি দেন। তবে ওই বক্তব্যে কেবলগুলোতে হামলার নির্দিষ্ট সময় বা পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়নি।

নতুন করে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি আইআরজিসির
মোহেব্বির বক্তব্যের এক দিন পর, ২১ অক্টোবর আইআরজিসির রাজনৈতিক উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াদোল্লাহ জাভানি আরও স্পষ্টভাবে বলেন, ইরানের নিজস্ব অবকাঠামোয় হামলা হলে হরমুজ প্রণালির তলদেশের ইন্টারনেট কেবলও নিরাপদ থাকবে না। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভির বরাতে এ তথ্য প্রকাশিত হয়। তাঁর বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের ওই অঞ্চলে থাকা বিনিয়োগ ও অবকাঠামোকে পাল্টা পদক্ষেপের সম্ভাব্য ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরা হয়।

এর আগে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়িও সতর্ক করেছিলেন, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডেটা সেন্টার, সমুদ্রতলের যোগাযোগ কেবল এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। ফলে সামরিক স্থাপনার বাইরেও বাণিজ্যিক ও ডিজিটাল অবকাঠামো সংঘাতের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সমুদ্রের নিচে কীভাবে চলে বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট?
অনেকে মনে করেন, ইন্টারনেটের তথ্য আদান-প্রদান মূলত স্যাটেলাইটের মাধ্যমে হয়। বাস্তবে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট যোগাযোগের বড় অংশই সমুদ্রের তলদেশে স্থাপন করা ফাইবার-অপটিক কেবলের ওপর নির্ভরশীল। এসব কেবলের মধ্য দিয়ে বিপুল পরিমাণ তথ্য দ্রুত এক দেশ থেকে অন্য দেশে যায়।

আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট ব্যবহার, ভিডিও স্ট্রিমিং, ক্লাউডভিত্তিক সেবা, ব্যবসায়িক যোগাযোগ এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য পরিবহনে এসব কেবল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একাধিক কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে ইন্টারনেটের গতি কমে যেতে পারে, যোগাযোগে বিলম্ব তৈরি হতে পারে কিংবা কিছু সেবা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে।

তবে একটি বা কয়েকটি কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হলেই পুরো বিশ্বের ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে যাবে—এমন নয়। আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কে বিকল্প পথ ও একাধিক কেবল ব্যবহারের ব্যবস্থা রয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নির্ভর করবে কোন কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, বিকল্প পথে কতটা তথ্য পাঠানো সম্ভব এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের নেটওয়ার্ক কতটা নির্ভরশীল তার ওপর।

হরমুজের ঝুঁকি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের আশপাশে সমুদ্রতলের যোগাযোগ অবকাঠামোও রয়েছে। ফলে সেখানে সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে জ্বালানি পরিবহনের পাশাপাশি ডিজিটাল যোগাযোগের নিরাপত্তাও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

ইরানের হুমকির তাৎপর্য এখানেই—সমুদ্রপথের কৌশলগত অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে শুধু জাহাজ চলাচল নয়, আন্তর্জাতিক তথ্যপ্রবাহের ওপরও চাপ তৈরির আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। তবে হরমুজের তলদেশ দিয়ে যাওয়া সাতটি কেবলের বিষয়ে আইআরজিসির বক্তব্য থাকলেও, সেগুলোর সবকটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে ঠিক কতটা বৈশ্বিক ট্রাফিক ব্যাহত হবে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা জরুরি।

লোহিত সাগরেও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ
হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিও আন্তর্জাতিক ডেটা যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী একাধিক সাবমেরিন কেবল এ অঞ্চলের মধ্য দিয়ে গেছে। তাই মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বিস্তৃত হলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ একই সময়ে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

আল জাজিরার ১৩ অক্টোবরের বিশ্লেষণে লোহিত সাগর অঞ্চলের কেবল ও ডেটা সেন্টারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তুলে ধরা হয়। সেখানে বাব আল-মান্দেব প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব এবং আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে সমুদ্রতলের অবকাঠামোর ঝুঁকির বিষয়টি আলোচিত হয়েছে।

তবে হরমুজ ও লোহিত সাগরের কেবল একই পথে অবস্থিত নয়। কোনো একটি অঞ্চলে হামলা হলে অন্য অঞ্চলের সব কেবলও স্বয়ংক্রিয়ভাবে অচল হয়ে যাবে, এমন ধারণা সঠিক নয়। ঝুঁকি নির্ভর করবে ক্ষতিগ্রস্ত কেবলের অবস্থান, নেটওয়ার্কের বিকল্প ব্যবস্থা এবং আঞ্চলিক যোগাযোগের ওপর।

ডেটা সেন্টার ও এআই অবকাঠামোও উদ্বেগের কেন্দ্রে
মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলো ক্লাউড কম্পিউটিং, ডেটা সেন্টার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবা সম্প্রসারণে বিনিয়োগ করছে। এসব স্থাপনা ইন্টারনেট কেবল ও বিদ্যুৎ সরবরাহের মতো অবকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত। ফলে সামরিক সংঘাতে কেবল, ডেটা সেন্টার বা বিদ্যুৎব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসা ও অনলাইন সেবায় প্রভাব পড়তে পারে।

চলতি বছরের মার্চে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের (এডব্লিউএস) অবকাঠামোতে ড্রোন হামলার পর কিছু স্থাপনায় শারীরিক ক্ষতি ও সেবা বিঘ্নের খবর পাওয়া যায়। ওই ঘটনা দেখিয়েছে, আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব ডিজিটাল সেবাতেও পৌঁছাতে পারে। তবে ডেটা সেন্টারে হামলা এবং সমুদ্রতলের কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা আলাদা; দুটির প্রভাবও পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।

কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে মেরামত কতটা কঠিন?
সমুদ্রের গভীরে স্থাপিত ফাইবার-অপটিক কেবল মেরামত করা সময়সাপেক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর কাজ। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ শনাক্ত করার পর বিশেষায়িত জাহাজের মাধ্যমে কেবল তুলে এনে মেরামত করতে হয়। সমুদ্রের গভীরতা, আবহাওয়া, ক্ষতির ধরন এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর কাজের সময় নির্ভর করে।

সংঘাতপূর্ণ জলসীমায় জাহাজ চলাচলে বাধা থাকলে মেরামতের কাজ আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। এতে বিকল্প কেবলের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে এবং কিছু অঞ্চলে ইন্টারনেটের গতি, ক্লাউড সেবা কিংবা আন্তর্জাতিক যোগাযোগে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এখনই কি বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট বিপর্যয়ের আশঙ্কা?
ইরানি কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক বক্তব্য ডিজিটাল অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কিন্তু হুমকি দেওয়া আর বাস্তবে কেবল কেটে দেওয়া এক বিষয় নয়। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত বক্তব্যের ভিত্তিতে হরমুজের সব কেবলে হামলা হয়েছে বা বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট বিপর্যয় আসন্ন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

তবে সংঘাত বাড়লে সমুদ্রতলের কেবল, ডেটা সেন্টার এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সামরিক চাপের অংশ হয়ে উঠতে পারে। এতে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, আন্তর্জাতিক ব্যবসা, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ ব্যবহারকারীর যোগাযোগব্যবস্থাও পরোক্ষভাবে প্রভাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

বিশ্বের ডিজিটাল অর্থনীতি যে অদৃশ্য নেটওয়ার্কের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, হরমুজকে ঘিরে এই হুমকি আবারও তা সামনে এনেছে। সমুদ্রের গভীরে থাকা কয়েকটি কেবল এখন তাই শুধু প্রযুক্তিগত অবকাঠামো নয়, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও ভূরাজনীতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

কালের আলো/এমএসআইপি/জেএন

প্রতিদিন ১ হাজার ৫০০ কোটি ঘণ্টা! সোশ্যাল মিডিয়ায় ডুবে আছে বিশ্ব

ফিচার ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১০ অপরাহ্ণ
প্রতিদিন ১ হাজার ৫০০ কোটি ঘণ্টা! সোশ্যাল মিডিয়ায় ডুবে আছে বিশ্ব

সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর ফোনের পর্দায় একবার চোখ বুলানো, কাজের ফাঁকে বন্ধুদের পোস্ট দেখা, অবসরে রিলস কিংবা ভিডিওতে ডুবে থাকা—আধুনিক জীবনের পরিচিত চিত্র এটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন শুধু মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম নয়; বিনোদন, খবর, নতুন পণ্য বা কনটেন্টের সন্ধান এবং ব্যবসারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশ্বজুড়ে এর বিস্তার কতটা গভীর, তা বোঝা যায় একটি পরিসংখ্যানে—পৃথিবীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৫৭৯ কোটি।

বিশ্বের মোট জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি মানুষ এখন কোনো না কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করছেন। একজন নিয়মিত ব্যবহারকারী মাসে গড়ে ছয়টির বেশি প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় থাকেন। অর্থাৎ, মানুষ শুধু একটি মাধ্যমে সীমাবদ্ধ নেই; প্রয়োজন ও পছন্দ অনুযায়ী ঘুরে বেড়াচ্ছেন এক প্ল্যাটফর্ম থেকে অন্য প্ল্যাটফর্মে। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব এখন ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে বিজ্ঞাপন, বিনোদন ও বৈশ্বিক ব্যবসা—সব ক্ষেত্রেই।

প্রতিদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় কতটা সময় যাচ্ছে?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি বাড়ছে সেখানে ব্যয় করা সময়ও। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে একজন ব্যক্তি গড়ে সপ্তাহে ১৮ ঘণ্টা ৩৬ মিনিট কাটাচ্ছেন। দৈনিক হিসাবে যা প্রায় ২ ঘণ্টা ৩৯ মিনিট।

এই সময়কে বিশ্বের সব ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে হিসাব করলে প্রতিদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যয় হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ কোটি ঘণ্টারও বেশি। সংখ্যাটি শুধু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের জনপ্রিয়তা বোঝায় না; মানুষের মনোযোগ এখন কত বড় অর্থনৈতিক সম্পদে পরিণত হয়েছে, সেটিও তুলে ধরে।

এই বিপুল সময়ের একটি অংশ কাটে বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগে, কেউ খোঁজেন খবর, কেউ দেখেন বিনোদনমূলক ভিডিও, আবার অনেকে ব্যবহার করেন পড়াশোনা কিংবা পেশাগত কাজের জন্য। তবে প্রয়োজনীয় ব্যবহার আর অভ্যাসের বশে দীর্ঘ সময় স্ক্রল করার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। প্রতিদিন কতক্ষণ অনলাইনে থাকছেন, তার পাশাপাশি সেই সময় কীভাবে কাজে লাগছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

বিজ্ঞাপনের বাজারে মেটার দাপট
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিশাল ব্যবহারকারীভিত্তিকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে মেটা। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপের মতো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বিপুলসংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি করেছে বিজ্ঞাপনদাতাদের জন্য।

২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে মেটার এসব সেবার দৈনিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সম্মিলিত সংখ্যা ছিল ৩৫৬ কোটি। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা বেড়েছে ৪ শতাংশ। অর্থাৎ, বাজারে নতুন প্ল্যাটফর্মের আবির্ভাব হলেও মেটার সেবাগুলোর ব্যবহার এখনো বাড়ছে। শুধু ব্যবহারকারী নয়, বিজ্ঞাপনের বাজারেও প্রতিষ্ঠানটির আয় বেড়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, মেটার বিজ্ঞাপননির্ভর আয় আগের বছরের তুলনায় ৩৩ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৬৩১ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে বিজ্ঞাপনপ্রতি গড় খরচ বেড়েছে ১২ শতাংশ।

ভিডিও কনটেন্টের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন লক্ষণীয়। ফেসবুকে ভিডিও দেখার সময় আগের বছরের তুলনায় ৮ শতাংশের বেশি বেড়েছে। অন্যদিকে ইনস্টাগ্রাম রিলসে ব্যবহারকারীদের কাটানো সময় বেড়েছে ১০ শতাংশ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিজ্ঞাপন ব্যবস্থার ব্যবহারও বাড়ছে; মেটার ৮০ লাখের বেশি বিজ্ঞাপনদাতা অন্তত একটি এআই বিজ্ঞাপন টুল ব্যবহার করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই প্রবণতা দেখায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুধু মানুষের উপস্থিতি বাড়ানোই নয়, তাঁদের মনোযোগ ধরে রাখাও প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় লক্ষ্য। ভিডিও সুপারিশ, কনটেন্টের ক্রম নির্ধারণ এবং ব্যক্তিভেদে বিজ্ঞাপন দেখানোর মতো প্রযুক্তি সেই প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করছে।

স্ন্যাপচ্যাট ও রেডিটের বাড়তি গতি
বাজারে মেটার প্রভাব থাকলেও অন্য প্ল্যাটফর্মগুলোও নিজেদের ব্যবহারকারী ও আয়ের পরিধি বাড়াচ্ছে। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে স্ন্যাপচ্যাটের দৈনিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৮ কোটি ৩০ লাখে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ শতাংশ বেশি। মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা পৌঁছেছে ৯৫ কোটি ৬০ লাখে। একই সময়ে প্ল্যাটফর্মটির আয় বেড়ে হয়েছে ১৫৩ কোটি ডলার, যা প্রায় ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

অন্যদিকে অনলাইন ফোরামভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম রেডিটের প্রবৃদ্ধিও নজর কেড়েছে। এর দৈনিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৬৮ লাখে। একই সময়ে রাজস্ব বেড়েছে ৬৯ শতাংশ, যার পরিমাণ ৬৬ কোটি ৩০ লাখ ডলার। এর মধ্যে বিজ্ঞাপন থেকে আয় হয়েছে ৬২ কোটি ৫০ লাখ ডলার—আগের বছরের তুলনায় ৭৪ শতাংশ বেশি।

স্ন্যাপচ্যাট ও রেডিটের এই পরিসংখ্যানের তাৎপর্য হলো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বাজারে সাফল্য কেবল মোট ব্যবহারকারীর সংখ্যার ওপর নির্ভর করছে না। নির্দিষ্ট ধরনের কনটেন্ট, ব্যবহারকারীর আগ্রহ এবং বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে সেই ব্যবহারকারীদের গুরুত্বও আয় বাড়ানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে।

নতুন সিনেমা, গান কিংবা পণ্যের খোঁজ—সবখানেই সোশ্যাল মিডিয়া
একসময় নতুন সিনেমা, টেলিভিশন অনুষ্ঠান কিংবা গানের খবর পেতে মানুষ নির্ভর করতেন টেলিভিশন, সংবাদপত্র বা পরিচিতজনের পরামর্শের ওপর। এখন সেই জায়গার বড় অংশ দখল করেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। কোনো শিল্পীর নতুন গান, আলোচিত সিনেমার দৃশ্য কিংবা নতুন পণ্যের প্রচারণা মুহূর্তেই পৌঁছে যাচ্ছে বিপুলসংখ্যক মানুষের কাছে।

প্রতিবেদনে উদ্ধৃত ডেলয়েটের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন অনুষ্ঠান, শিল্পী বা কনটেন্টের নিয়মিত ভক্তদের ৫২ শতাংশ জানিয়েছেন, নতুন টিভি শো, সিনেমা, গান, গেম কিংবা ইভেন্ট সম্পর্কে জানার প্রধান মাধ্যম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। জেন-জি বা তরুণ প্রজন্মের ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৭৩ শতাংশ।

অর্থাৎ, নতুন কিছু আবিষ্কারের ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। ব্যবহারকারীরা বন্ধুদের শেয়ার করা পোস্ট, নির্মাতাদের ভিডিও, ট্রেন্ডিং বিষয় কিংবা অ্যালগরিদমের সুপারিশ থেকে নতুন কনটেন্টের সন্ধান পাচ্ছেন। একইভাবে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছে পৌঁছাতে এই মাধ্যমকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

পছন্দ সোশ্যাল মিডিয়ায়, কেনাকাটা অন্য জায়গায়
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো পণ্য বা কনটেন্টের সন্ধান পাওয়া মানেই যে ব্যবহারকারী সেখানেই তাঁর কাজ শেষ করছেন, তা নয়। অনেকেই আগ্রহী হওয়ার পর বিস্তারিত জানতে, ভিডিও দেখতে কিংবা কেনাকাটা করতে অন্য ওয়েবসাইট বা অ্যাপে চলে যান।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা সমীক্ষা অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন কোনো কনটেন্ট বা পণ্যের সন্ধান পাওয়ার পর প্রায় ৪৪ শতাংশ মানুষ সেটি দেখতে বা কিনতে অন্য প্ল্যাটফর্মে যান। জেন-জির ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৬০ শতাংশ।

এখানেই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য তৈরি হচ্ছে নতুন চ্যালেঞ্জ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা গেলেও সেই আগ্রহকে সরাসরি কেনাকাটায় রূপ দেওয়া সব সময় সহজ হয় না। ব্যবহারকারীকে শেষ পর্যন্ত পণ্য কেনা, ভিডিও দেখা কিংবা সেবা গ্রহণের জন্য অন্য প্ল্যাটফর্মে যেতে হতে পারে। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে এখন শুধু কতজন বিজ্ঞাপন দেখলেন বা পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানালেন, সেটিই বড় বিষয় নয়; সেই আগ্রহ বাস্তব সিদ্ধান্তে কতটা রূপ নিচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

সামনে আরও বড় হচ্ছে ডিজিটাল প্রতিযোগিতা
বিশ্বজুড়ে ৫৭৯ কোটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর পরিসংখ্যান ডিজিটাল জীবনের ব্যাপকতা তুলে ধরে। তবে এই সংখ্যার পাশাপাশি ব্যবহারকারীর সময়, মনোযোগ এবং পছন্দের পরিবর্তনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে প্ল্যাটফর্মগুলো নতুন কনটেন্ট ও প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ধরে রাখতে চাইছে, অন্যদিকে বিজ্ঞাপনদাতারা তাঁদের কাছে পৌঁছানোর আরও কার্যকর উপায় খুঁজছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তাই এখন আর নিছক অবসর কাটানোর জায়গা নয়। এটি তথ্য পাওয়ার মাধ্যম, বিনোদনের জগৎ, ব্যবসার বাজার এবং মানুষের মনোযোগ ঘিরে গড়ে ওঠা বিশাল অর্থনৈতিক ক্ষেত্র। আগামী দিনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক কনটেন্টের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হতে পারে।

তবে ব্যবহারকারীর জন্য সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো, ডিজিটাল সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি নিজের সময় ও মনোযোগের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা। কারণ, পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ একই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থাকলেও প্রত্যেকের কাছে নিজের সময়ের মূল্য আলাদা।

কালের আলো/এএএন/জেএন