খুঁজুন
                               
, ,
           

বিশ্বজুড়ে ছড়াতে পারে হরমুজে আটকা জাহাজে জন্ম নেওয়া আগ্রাসী সামুদ্রিক প্রজাতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৮:৫১ পূর্বাহ্ণ
বিশ্বজুড়ে ছড়াতে পারে হরমুজে আটকা জাহাজে জন্ম নেওয়া আগ্রাসী সামুদ্রিক প্রজাতি

২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রকাশ্য যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রায় পাঁচ মাস ধরে চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। আর এতে আটকে পড়া হাজারো জাহাজে জন্ম নিয়েছে এক আগ্রাসী সামুদ্রিক প্রজাতি।

এটি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে, ডেকে আনতে পারে মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়।

সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জন্য উন্মুক্ত সমুদ্রে যাওয়ার একমাত্র পথ হলো এই হরমুজ প্রণালী।

বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন করিডর হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিবছর প্রায় ৬০০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের জ্বালানি বাণিজ্য সম্পন্ন হয়। বিভিন্ন অনুমান অনুযায়ী বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি জাহাজ পারস্য উপসাগরে আটকে রয়েছে এবং আরও কয়েকশ জাহাজ পার্শ্ববর্তী ওমান উপসাগরে অবস্থান করছে।

টাইম অব ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নতুন এক গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে, এসব জাহাজের গায়ে জন্ম নেওয়া সামুদ্রিক জীব বাণিজ্য পুনরায় শুরু হলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

জৈব আগ্রাসনের ‘সুপার-স্প্রেডার’ হওয়ার আশঙ্কা
বায়েলাজিক্যাল ইনভেশনস (Biological Invasions) সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণাটি পরিচালনা করেছে ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স (UMCES)-এর নেতৃত্বে ২৪ জন আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বিজ্ঞানীর একটি দল, যেখানে যুক্ত ছিল উডস হোল ওশানোগ্রাফিক ইনস্টিটিউশন (WHOI)।

‘Closure of the Strait of Hormuz May Trigger a Bioinvasion Super-Spreader Event’ শিরোনামের গবেষণায় বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় পারস্য/আরব উপসাগরে মাসের পর মাস আটকে থাকা হাজারো বাণিজ্যিক জাহাজ অনিচ্ছাকৃতভাবে বিশ্বব্যাপী সামুদ্রিক আগ্রাসী প্রজাতি ছড়িয়ে পড়ার বড় ধরনের ঘটনার সূচনা করতে পারে।

গবেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় নোঙর করে থাকার ফলে জাহাজের গায়ে শৈবাল, বার্নাকল, ঝিনুক, বিভিন্ন অমেরুদণ্ডী প্রাণীসহ অসংখ্য সামুদ্রিক জীবের ঘন স্তর তৈরি হয়। পরে জাহাজগুলো আবার চলাচল শুরু করলে এসব জীব বিশ্বের বিভিন্ন বন্দরে পৌঁছে যেতে পারে।

কী এই ‘বায়োফাউলিং’?
সামুদ্রিক পরিবহন শিল্পে এ ঘটনাকে বলা হয় বায়োফাউলিং (Biofouling)। এটি হলো জাহাজের তলদেশ, প্রপেলারসহ পানির নিচে থাকা অংশে সামুদ্রিক জীবের জমে ওঠা। প্রথমে অণুজীব ও পিচ্ছিল স্তর তৈরি হয়। এরপর সেখানে শৈবাল, বার্নাকল, ছোট সামুদ্রিক ক্রাস্টেশিয়ান এবং খোলসযুক্ত প্রাণীর বসতি গড়ে ওঠে।

গবেষকরা জানান, ১,৫০০টিরও বেশি জাহাজের এই নজিরবিহীন দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান বিশ্বব্যাপী সামুদ্রিক আগ্রাসী প্রজাতি ছড়িয়ে পড়ার জন্য এক ধরনের ‘সুপার-স্প্রেডার’ পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

WHOI-এর জীববিজ্ঞানী ক্যারোলিন টেপোল্ট, যিনি সামুদ্রিক আগ্রাসী প্রজাতির বিস্তার ও বিবর্তন নিয়ে গবেষণা করেন, বলেন- “সামুদ্রিক আগ্রাসী প্রজাতি বিশ্বের উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র ও অর্থনীতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। একবার কোনো অঞ্চলে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত হলে এগুলো নির্মূল করা অত্যন্ত কঠিন, অনেক ক্ষেত্রে অসম্ভব।

বৈশ্বিক নৌপরিবহনে এই বিঘ্নের নানা প্রভাব রয়েছে, তবে নীরবে এটি উষ্ণ পানির প্রজাতিগুলোকে নতুন নতুন বন্দরে ছড়িয়ে দেওয়ার আদর্শ পরিবেশও তৈরি করেছে।”

বড় ধরনের পরিবেশগত হুমকি
আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (IMO)-এর পরামর্শ অনুযায়ী, কোনো জাহাজ ৩০ দিনের বেশি সময় অলস অবস্থায় থাকলে পুনরায় যাত্রার আগে বায়োফাউলিং নিয়ন্ত্রণে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কিন্তু এসব জাহাজ চার মাসেরও বেশি সময় ধরে আটকে রয়েছে, যা সামুদ্রিক জীবের দ্রুত বৃদ্ধি ও প্রজননের মৌসুম।

IMO-উদ্ধৃত গবেষণায় বলা হয়েছে, জাহাজের গায়ে সামান্য পিচ্ছিল স্তর জমলেও গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। আর হালকা মাত্রার বার্নাকল জমলে জ্বালানি ব্যবহার ও নির্গমন ৫০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেতে পারে।

IMO-এর হিসাব অনুযায়ী, বিশ্ব নৌপরিবহন শিল্পে ব্যবহৃত মোট জ্বালানির প্রায় ১০ শতাংশ ব্যয় হয় শুধু বায়োফাউলিংজনিত অতিরিক্ত পানির প্রতিরোধ অতিক্রম করতে।

গবেষকরা আরও বলেন, আধুনিক নৌপরিবহন দীর্ঘদিন ধরেই সামুদ্রিক আগ্রাসী প্রজাতি ছড়িয়ে পড়ার প্রধান মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এত বিপুল সংখ্যক জাহাজের এত দীর্ঘ সময় একসঙ্গে আটকে থাকার ঘটনা আগে কখনও দেখা যায়নি। ফলে এটি বিশ্বব্যাপী জৈব নিরাপত্তার জন্য এক নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

সাম্প্রতিক কয়েক দশকে উপসাগরীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ছড়িয়ে পড়া আগ্রাসী সামুদ্রিক প্রজাতি আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরে স্থানীয় প্রজাতিকে প্রতিস্থাপন করেছে এবং বিভিন্ন বন্দরের অবকাঠামোরও ক্ষতি করেছে।

এশিয়ান গ্রিন মাশেলের উদাহরণ
আগ্রাসী প্রজাতির অন্যতম উদাহরণ হলো এশিয়ান গ্রিন মাশেল। ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলের এ ঝিনুক উপসাগরীয় এলাকাতেও ব্যাপকভাবে দেখা যায়। ইতোমধ্যে এটি ক্যারিবীয় অঞ্চল ও দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় ঝিনুক প্রজাতিকে হুমকির মুখে ফেলেছে এবং পরিবেশগত ক্ষতির কারণ হয়েছে।

এছাড়া বায়োফাউলিংয়ের কারণে জাহাজের গতিশীলতা কমে যায়। পানির প্রতিরোধ বেড়ে যাওয়ায় জাহাজ চালাতে বেশি শক্তি লাগে এবং অতিরিক্ত দূষণকারী জ্বালানি ব্যবহার করতে হয়।

সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান
গবেষকরা জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান, বন্দর কর্তৃপক্ষ, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং পরিবেশ ব্যবস্থাপকদের বায়োফাউলিং ব্যবস্থাপনা জোরদার, উচ্চ ঝুঁকির বন্দরে নজরদারি বাড়ানো, জাহাজের চলাচল পূর্বাভাস উন্নত করা এবং আন্তর্জাতিক সমন্বিত দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

তাদের মতে, যাত্রা শুরুর আগে পানির মধ্যেই জাহাজের গায়ে জমে থাকা জীব পরিষ্কার বা ‘ইন-ওয়াটার ক্লিনিং’ পদ্ধতি প্রয়োগ করলে আগ্রাসী প্রজাতি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু
সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন বন্দরে ডুবুরি নামিয়ে জাহাজের তলদেশ ও প্রপেলার পরিষ্কার করা হচ্ছে, যাতে বাণিজ্যিক চলাচল পুনরায় শুরু করা যায়।

একটি জাহাজ পরিষ্কার করার খরচ প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে ৮,০০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে জানা গেছে, কারণ দ্রুত উপসাগর ত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছে জাহাজ পরিচালনাকারীরা।

অ্যালিয়ানজের মেরিন আন্ডাররাইটিং বিভাগের প্রধান জাস্টাস হাইনরিখ বলেন, “এই ঘটনা সমুদ্রপথের সংকীর্ণ করিডরগুলোর ঝুঁকি সম্পর্কে ব্যবসায়ী মহলের দৃষ্টিভঙ্গি পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। আগে এগুলো ছিল সম্ভাব্য দুর্যোগের তাত্ত্বিক চিত্র। কিন্তু এখন আমরা বাস্তব দুর্যোগ দেখেছি। ফলে তাত্ত্বিক ঝুঁকি এখন বাস্তব ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে।”

গবেষকদের মতে, বিশ্ব যখন মূলত যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে ব্যস্ত, তখন এই সংঘাতের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী উত্তরাধিকার হতে পারে এক অদৃশ্য পরিবেশগত সংকট, যা জাহাজের গায়ে লেগে থাকা সামুদ্রিক জীবের মাধ্যমে মহাসাগর পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

আহত পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে গেলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১১ অপরাহ্ণ
আহত পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে গেলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

খুলনায় ছিনতাইকারীদের হামলায় গুরুতর আহত পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে দেখতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এসময় তিনি আহত পুলিশ কর্মকর্তার সর্বোচ্চ উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এভারকেয়ার হাসপাতালে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

হাসপাতালে গিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী। এ সময় আহত পুলিশ কর্মকর্তার শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নেন তিনি।

শাহ আলমের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন তিনি।

এছাড়া এ ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে আহত পুলিশ কর্মকর্তা ও তার পরিবারকে আশ্বস্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এসময় পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এবং বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দিনগত রাত আড়াইটার দিকে খুলনা জেলার এ-সার্কেলে কর্মরত পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শাহ আলম বিশেষ অভিযান শেষে রিকশায় করে পুলিশ ক্লাবে ফিরছিলেন। পথে খুলনা কলেজিয়েট স্কুলের সামনে তিনজন দুর্বৃত্ত তার পথরোধ করে। এ সময় তারা টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং ধারালো চাপাতি দিয়ে তার দুই হাতের কবজির ওপর গুরুতর জখম করে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ ঘটনায় খুলনা থানায় মামলা হয়েছে। এরই মধ্যে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

খেলাধুলার উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: রাজশাহী জেলা প্রশাসক

রাজশাহী সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৭ অপরাহ্ণ
খেলাধুলার উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: রাজশাহী জেলা প্রশাসক

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সঙ্গে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন নবগঠিত রাজশাহী জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নবগঠিত কমিটির সদস্যদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, কমিটি গঠন করে বসে থাকলে চলবে না। সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে খেলাধুলার উন্নয়নে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন ইভেন্টে ছেলে-মেয়েদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও খেলাধুলার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগ ও ধারাবাহিক কার্যক্রমের মাধ্যমেই কমিটির সাফল্য অর্জন সম্ভব।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার নবগঠিত কমিটির সহসভাপতি মোছাঃ রোকসানা বেগম, সাধারণ সম্পাদক আলফাতুন নেছা পুতুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা শাপলা হোসেন, কোষাধ্যক্ষ মোছাঃ নার্গিস খাতুন এবং সদস্য মোছাঃ আশা মনি, মোছাঃ সুরাইয়া খাতুন ও আফরোজা আক্তার হাসি।

শুভেচ্ছা বিনিময়কালে নবগঠিত কমিটির সদস্যরা জেলার খেলাধুলার উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

বন্দরে পড়ে থাকা পণ্য নিলাম-ধ্বংসে এনবিআরের বড় উদ্যোগ

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২২ অপরাহ্ণ
বন্দরে পড়ে থাকা পণ্য নিলাম-ধ্বংসে এনবিআরের বড় উদ্যোগ

চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা নিলামযোগ্য ও খালাস না হওয়া পণ্যের জট নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বন্দরের অভ্যন্তরে অবিন্যস্ত অবস্থায় পড়ে থাকা এসব পণ্যের বিস্তারিত তালিকা তৈরি, নিলাম এবং প্রয়োজনে ধ্বংসের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ২০ জন কাস্টমস কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সংস্থাটির প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে এসব কর্মকর্তা চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে দায়িত্ব পালন করবেন। পণ্যগুলোর ইনভেন্টরি বা মজুত তালিকা তৈরির কার্যক্রম চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের এ দায়িত্বে রাখা হবে।

বন্দরে পড়ে থাকা পণ্যের তালিকা তৈরিতে বিশেষ উদ্যোগ

চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা এবং আমদানির পর খালাস না হওয়া পণ্য বন্দরের জায়গা দখল করে রাখে। এসব পণ্যের মধ্যে নিলামযোগ্য পণ্যও রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে পণ্য জমে থাকায় সেগুলোর সঠিক হিসাব, সংরক্ষণ, নিলাম এবং ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এ পরিস্থিতিতে নিলামযোগ্য ও খালাস না হওয়া পণ্যের বিস্তারিত তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর। এ জন্য দেশের বিভিন্ন কাস্টমস হাউস, ভ্যাট কমিশনারেট ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে ২০ জন কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

তাঁদের মূল দায়িত্ব হবে বন্দরে পড়ে থাকা পণ্যের ইনভেন্টরি কার্যক্রম সম্পন্ন করা। এর মাধ্যমে কোন পণ্য নিলামযোগ্য, কোনগুলো খালাস হয়নি এবং কোন পণ্যের বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তা নির্ধারণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

১৫ অক্টোবর থেকে দায়িত্ব পালন করবেন কর্মকর্তারা

এনবিআরের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ১৫ অক্টোবর থেকে ইনভেন্টরি কার্যক্রম চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে দায়িত্ব পালন করবেন। দেশের বিভিন্ন দপ্তর থেকে তাঁদের সাময়িকভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে।

নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ ভ্যাট কমিশনারেটের মো. শাহজাহান সরকার ও মুহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন; গাজীপুরের মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন ও মো. বিল্লাল হোসেন; ঢাকা দক্ষিণের মো. বেলাল উদ্দিন ও ফজলুল হক; ঢাকা উত্তরের উত্তম কুমার দাস ও মাহমুদুল হাসান।

এ ছাড়া ঢাকা পূর্বের মো. হেদায়েতুল ইসলাম চৌধুরী; ঢাকা পশ্চিমের মো. রোমেল তালুকদার ও সুমনা দেবনাথ; চট্টগ্রাম ভ্যাট কমিশনারেটের ইফতেখার আহমেদ ও মো. আসিফ ইকবাল রাজু; এবং কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কাজী নাইম উদ্দীনকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তালিকায় আরও রয়েছেন কুমিল্লার মোছা. উম্মে সালমা ও অম্বিকা রানী, কমলাপুর আইসিডি কাস্টম হাউসের মো. তৌহিদুর রহমান, বেনাপোল কাস্টম হাউসের শংকেরালীঘ দেব এবং ঢাকা বন্ড কমিশনারেটের দক্ষিণ ও উত্তর অংশের সত্যজিৎ সরকার ও মো. শাহিনুর আলম।

নিলাম ও ধ্বংসের মাধ্যমে পণ্যের জট নিরসনের লক্ষ্য

এনবিআরের উদ্যোগের পরবর্তী ধাপে তালিকাভুক্ত পণ্যের ধরন ও অবস্থা অনুযায়ী নিলাম অথবা ধ্বংসের কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। যেসব পণ্য নিলামযোগ্য, সেগুলো নিলামের আওতায় আনার মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, নিলামের অনুপযোগী বা বিধি অনুযায়ী ধ্বংস করা প্রয়োজন—এমন পণ্যের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দীর্ঘদিন ধরে বন্দরে পড়ে থাকা পণ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে বন্দরের অভ্যন্তরে জায়গার ব্যবহার আরও কার্যকর হতে পারে। পাশাপাশি নতুন আমদানি পণ্যের কনটেইনার ব্যবস্থাপনা ও খালাস কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজস্ব আদায় বাড়ানো ও কনটেইনার জট কমানোর প্রত্যাশা

দ্রুত ইনভেন্টরি সম্পন্ন করে নিলাম ও ধ্বংসের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া গেলে চট্টগ্রাম বন্দরে জমে থাকা কনটেইনারের জট কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিলামযোগ্য পণ্য বিক্রির মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।

তবে এ উদ্যোগের বাস্তব সুফল নির্ভর করবে পণ্যের তালিকা তৈরির কাজ কত দ্রুত শেষ হয়, নিলামপ্রক্রিয়া কতটা কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা যায় এবং দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা পণ্য অপসারণে কী পরিমাণ অগ্রগতি অর্জিত হয়, তার ওপর।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি