খুঁজুন
                               
, ,
           

আবারও কমল স্বর্ণের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ
আবারও কমল স্বর্ণের দাম

দেশের বাজারে সোনার দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমানো হয়েছে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বাজুস। নতুন এ দাম একই দিন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হবে।

বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৬৬৪ টাকা।

এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ লাখ ১৯ হাজার ৩৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৮ হাজার ৩৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

পৃথিবীর গভীরে কী ঘটছে, নতুন গবেষণায় মিলল চমকপ্রদ ইঙ্গিত

ফিচার ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৭ অপরাহ্ণ
পৃথিবীর গভীরে কী ঘটছে, নতুন গবেষণায় মিলল চমকপ্রদ ইঙ্গিত

পৃথিবীর বয়স প্রায় ৪৫০ কোটি বছর। এই দীর্ঘ সময়ে গ্রহটির উপরিভাগে বদলেছে মহাদেশ, সৃষ্টি হয়েছে পর্বত ও মহাসাগর, ঘটেছে অসংখ্য ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তন। কিন্তু পৃথিবীর গভীরে কি এখনো রয়ে গেছে তার জন্মলগ্নের উপাদান? নতুন এক গবেষণা বলছে, পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে কিছু রাসায়নিক উপাদান ধীরে ধীরে উপরের স্তরের দিকে চলে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সত্য হলে, এই প্রক্রিয়া পৃথিবীর আদিম ইতিহাস এবং অভ্যন্তরীণ বিবর্তন সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের ধারণায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

চীনের ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির গবেষকদের পরিচালিত এ গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী সায়েন্স অ্যাডভান্সেস-এ। গবেষণায় পৃথিবীর কেন্দ্র ও তার ওপরের ম্যান্টল স্তরের মধ্যে হাইড্রোজেন, হিলিয়াম ও টাংস্টেনের মতো উপাদানের সম্ভাব্য আদান-প্রদানের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। গবেষকদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পৃথিবীর জন্মের সময়কার কিছু রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য এখনো তার গভীর অভ্যন্তরের সঙ্গে সম্পর্কিত থাকতে পারে।

পৃথিবীর কেন্দ্র কি পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন?
পৃথিবীর জন্মের শুরুর দিকে তাপমাত্রা ছিল অত্যন্ত বেশি। গ্রহটির বড় অংশ গলিত অবস্থায় থাকায় ভারী পদার্থগুলো ধীরে ধীরে কেন্দ্রে জমা হয়। অন্যদিকে, অপেক্ষাকৃত হালকা পদার্থ থেকে গড়ে ওঠে ম্যান্টল ও ভূত্বক। এভাবেই তৈরি হয় পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ স্তরবিন্যাস।

দীর্ঘদিন ধরে পৃথিবীর কেন্দ্রকে ভারী উপাদানে সমৃদ্ধ একটি পৃথক অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করে আসছেন বিজ্ঞানীরা। তবে কেন্দ্র ও ম্যান্টলের মধ্যে পদার্থের আদান-প্রদান একেবারেই অসম্ভব—এমন ধারণা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

গবেষণাটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, পৃথিবীর কেন্দ্র ও ম্যান্টলের মধ্যে দীর্ঘ ভূতাত্ত্বিক সময় ধরে কিছু উপাদানের বিনিময় ঘটে থাকতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রের কিছু উপাদান উপরের স্তরে পৌঁছালে তা পৃথিবীর গভীর থেকে উঠে আসা আগ্নেয় শিলার রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যে প্রতিফলিত হতে পারে।

হাইড্রোজেনের আইসোটোপে মিলছে সূত্র
পৃথিবীর কেন্দ্রের মতো গভীর অঞ্চলে সরাসরি গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। তাই বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান ও তাদের আইসোটোপ বিশ্লেষণ করে অভ্যন্তরের অবস্থা বোঝার চেষ্টা করেন।

নতুন গবেষণায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে হাইড্রোজেনের দুটি আইসোটোপ—সাধারণ হাইড্রোজেন ও ডিউটেরিয়াম। ডিউটেরিয়াম হাইড্রোজেনের তুলনামূলক ভারী একটি রূপ। এই দুই আইসোটোপের অনুপাত বিশ্লেষণ করে পদার্থের উৎস এবং দীর্ঘ সময় ধরে ঘটে যাওয়া পরিবর্তন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

গবেষকেরা কম্পিউটার সিমুলেশন ও মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে পৃথিবীর অভ্যন্তরের উচ্চচাপ ও উচ্চতাপমাত্রার পরিবেশে হাইড্রোজেনের আচরণ বিশ্লেষণ করেছেন। তাঁদের মডেল অনুযায়ী, পৃথিবীর প্রাথমিক পর্যায়ে গলিত ম্যাগমা মহাসাগর শীতল হয়ে স্ফটিকায়িত হওয়ার সময় আদিম ম্যান্টলে হাইড্রোজেনের আইসোটোপের অনুপাত তুলনামূলকভাবে সমজাতীয় হয়ে উঠতে পারে।

তবে পৃথিবীর গভীর থেকে উঠে আসা কিছু শিলায় পাওয়া আইসোটোপিক বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করতে শুধু পৃথিবীর জন্মের সময়কার উপাদান বিবেচনা করাই যথেষ্ট নাও হতে পারে। কেন্দ্র ও ম্যান্টলের মধ্যে সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি পদার্থ বিনিময়ও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে বলে গবেষণাটি ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আগ্নেয় শিলায় ধরা পড়ছে গভীরের সংকেত
পৃথিবীর গভীর অভ্যন্তর সম্পর্কে জানার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো আগ্নেয় শিলা বিশ্লেষণ। বিশেষ করে সমুদ্রের দ্বীপে পাওয়া ওশান আইল্যান্ড ব্যাসল্ট নামের আগ্নেয় শিলার প্রতি বিজ্ঞানীদের আগ্রহ বেশি। ম্যান্টলের গভীর অঞ্চল থেকে উঠে আসা উত্তপ্ত পদার্থের মাধ্যমে এসব শিলা তৈরি হতে পারে।

আইসল্যান্ড ও কানাডার বাফিন দ্বীপের মতো অঞ্চলে পাওয়া কিছু আগ্নেয় শিলার রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য পৃথিবীর গভীরের ইতিহাস অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দেয়। এসব শিলায় সাধারণ হাইড্রোজেন ও ডিউটেরিয়ামের অনুপাত অস্বাভাবিকভাবে কম পাওয়া গেছে।

গবেষকদের প্রস্তাবিত ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে হাইড্রোজেন ম্যান্টলে পৌঁছানোর সম্ভাবনা এসব বৈশিষ্ট্য বুঝতে সহায়তা করতে পারে। তবে শিলার আইসোটোপিক বৈশিষ্ট্যের পেছনে একাধিক প্রক্রিয়া কাজ করতে পারে। ফলে এই ব্যাখ্যাকে এখনই চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

হিলিয়াম-৩ ও হিলিয়াম-৪ কী জানায়?
পৃথিবীর গভীরে প্রাচীন পদার্থের উপস্থিতি অনুসন্ধানে হিলিয়ামের দুটি আইসোটোপ—হিলিয়াম-৩ ও হিলিয়াম-৪—বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

হিলিয়াম-৩ সৌরজগৎ গঠনের সময়কার আদিম পদার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত। অন্যদিকে, পৃথিবীতে তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ের মাধ্যমে ক্রমাগত হিলিয়াম-৪ তৈরি হয়। আগ্নেয় শিলায় এই দুই আইসোটোপের অনুপাত বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর অভ্যন্তরের বিভিন্ন অঞ্চলের রাসায়নিক ইতিহাস সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার চেষ্টা করেন।

কিছু আগ্নেয় শিলায় হিলিয়ামের আইসোটোপিক অনুপাত থেকে গভীর ম্যান্টলে সংরক্ষিত আদিম পদার্থের উপস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া যায়। গবেষকেরা মনে করছেন, কেন্দ্র থেকে ম্যান্টলে হিলিয়াম যাওয়ার সম্ভাবনাও এ ধরনের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে। তবে এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

টাংস্টেনের আইসোটোপেও থাকতে পারে ইঙ্গিত
হাইড্রোজেন ও হিলিয়ামের পাশাপাশি টাংস্টেনও পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ বিবর্তন বোঝার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। পৃথিবীর প্রাথমিক গঠনের সময় টাংস্টেনের একটি অংশ কেন্দ্রের দিকে চলে গিয়েছিল। এ কারণে আগ্নেয় শিলায় থাকা টাংস্টেনের আইসোটোপিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে কেন্দ্র ও ম্যান্টলের মধ্যে সম্ভাব্য পদার্থ বিনিময় সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

হাইড্রোজেন, হিলিয়াম ও টাংস্টেনের রাসায়নিক সংকেত একত্রে বিশ্লেষণ করলে পৃথিবীর গভীর অভ্যন্তরের পরিবর্তন সম্পর্কে আরও বিস্তৃত চিত্র পাওয়া সম্ভব। তবে এসব সংকেতের ব্যাখ্যা নির্ভর করে বিভিন্ন ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া ও গবেষণার মডেলের ওপর। তাই শুধু একটি উপাদানের বৈশিষ্ট্য থেকে কেন্দ্রের পদার্থ সরাসরি উপরে উঠে আসছে বলে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

কম্পিউটার মডেল খুলছে নতুন সম্ভাবনা
পৃথিবীর কেন্দ্রের তাপমাত্রা ও চাপ এত বেশি যে সেখানে পদার্থের আচরণ সরাসরি পরীক্ষা করা অত্যন্ত কঠিন। এ কারণে গবেষকেরা কম্পিউটারভিত্তিক সিমুলেশন ব্যবহার করে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে রাসায়নিক উপাদান কীভাবে আচরণ করতে পারে, তা পরীক্ষা করেন।

মেশিন লার্নিংয়ের সহায়তায় বিপুলসংখ্যক সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে উপাদানগুলোর আচরণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। এতে পৃথিবীর অভ্যন্তরে সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা অসম্ভব এমন প্রক্রিয়াগুলো নিয়ে পরীক্ষাযোগ্য অনুমান তৈরি করা সহজ হয়।

তবে কম্পিউটার মডেলের ফলাফল বাস্তব পৃথিবীতে কী ঘটছে, তার সরাসরি প্রমাণ নয়। মডেলের অনুমান, পরীক্ষার সীমাবদ্ধতা এবং বিকল্প ব্যাখ্যা বিবেচনায় রেখেই গবেষণার ফলাফল মূল্যায়ন করতে হয়।

পৃথিবীর আদিম ইতিহাস কি এখনো পরিবর্তিত হচ্ছে?
নতুন গবেষণার তাৎপর্য হলো, পৃথিবীর গভীর অভ্যন্তরকে সম্পূর্ণ স্থির ও বিচ্ছিন্ন ব্যবস্থা হিসেবে না দেখে কেন্দ্র ও ম্যান্টলের মধ্যে সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি পদার্থ বিনিময়ের বিষয়টি সামনে আনা। এ ধরনের বিনিময় ঘটলে তা ম্যান্টলের রাসায়নিক গঠন এবং গভীর উৎস থেকে তৈরি আগ্নেয় শিলার বৈশিষ্ট্য বুঝতে সাহায্য করতে পারে।

তবে ঠিক কতটা উপাদান কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসে, কী গতিতে তা ম্যান্টলে পৌঁছায় এবং পৃথিবীর বিবর্তনে এর প্রভাব কতটা—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো নিশ্চিত নয়। গবেষণার ফলাফলকে আরও পর্যবেক্ষণ, নমুনা বিশ্লেষণ ও স্বাধীন গবেষণার মাধ্যমে যাচাই করতে হবে।

পৃথিবীর গভীরের রহস্য উন্মোচনে বিজ্ঞানীদের হাতে সরাসরি নমুনা নেই বললেই চলে। তাই উপরিভাগে উঠে আসা আগ্নেয় শিলা, আইসোটোপের অনুপাত এবং কম্পিউটার মডেলই হয়ে উঠেছে অনুসন্ধানের প্রধান হাতিয়ার। এসব ক্ষুদ্র সংকেতের মধ্য দিয়েই হয়তো ধীরে ধীরে উন্মোচিত হবে পৃথিবীর ৪৫০ কোটি বছরের ইতিহাসের আরও কিছু অজানা অধ্যায়।

কালের আলো/এসএ/জেএন

শিক্ষা খাতে বরাদ্দের দাবিতে বেলজিয়ামে সংঘর্ষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৫ অপরাহ্ণ
শিক্ষা খাতে বরাদ্দের দাবিতে বেলজিয়ামে সংঘর্ষ

বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো ও শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নের দাবিতে বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। শনিবার, ২৪ অক্টোবর, কয়েকশ বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমে সরকারের শিক্ষা নীতির প্রতিবাদ জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও পিপার স্প্রে ব্যবহার করে। এ সময় বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া করা এবং পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগও উঠেছে।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অধিকাংশ মানুষই ছিলেন তরুণ। তাঁরা শিক্ষা খাতে আরও অর্থ বরাদ্দ, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বিক্ষোভকারীদের প্রতি পুলিশের আচরণে পরিবর্তনের দাবি জানান। কয়েক মাস ধরে চলা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় শনিবারের এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবিতে রাজপথে তরুণেরা
বেলজিয়ামে শিক্ষা খাতের উন্নয়ন এবং এ খাতে সরকারি অর্থায়ন বাড়ানোর দাবিতে কয়েক মাস ধরেই বিক্ষোভ চলছে। আন্দোলনকারীদের মতে, শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন পূরণে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। এ জন্য শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দের পাশাপাশি সরকারের নীতিগত পদক্ষেপও প্রয়োজন বলে মনে করছেন তাঁরা।

শনিবারের (২৪ অক্টোবর) বিক্ষোভেও এসব দাবি সামনে আসে। ব্রাসেলসের রাস্তায় জড়ো হওয়া কয়েকশ মানুষ শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। তাঁদের অভিযোগ, শিক্ষা খাতের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সরকারের আরও মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের আচরণ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের অভিযোগ, আন্দোলন দমনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করছে। ফলে শিক্ষা খাতের দাবি জানানোর পাশাপাশি পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রতিবাদ জোরালো হয়ে ওঠে।

পুলিশের ধাওয়া ও লাঠিপেটার অভিযোগ
রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শী এবং বেলজিয়ামের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভের একপর্যায়ে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ধাওয়া করে। এ সময় অনেককে দৌড়ে পালাতে দেখা যায়। পালানোর সময় কয়েকজন মাটিতে পড়ে যান। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে পুলিশের একজন সদস্যকে এক বিক্ষোভকারীকে লাঠি দিয়ে আঘাত ও লাথি মারতে দেখা যায়। এ ঘটনা বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের বলপ্রয়োগ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

অন্যদিকে, বিক্ষোভকারীদের একাংশ রাস্তার সাইনবোর্ডসহ বিভিন্ন বস্তু ভাড়া করা স্কুটার ও সাইকেলের স্তূপের ওপর ফেলে তাতে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভের সময় পুলিশের কাঁদানে গ্যাস ও পিপার স্প্রে ব্যবহারের ঘটনাও সামনে এসেছে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করা হয়। তবে সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

কাঁদানে গ্যাস ও পিপার স্প্রে ব্যবহার পুলিশের
বেলজিয়ামের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় পিপার স্প্রে ব্যবহারের বিষয়টিও উঠে এসেছে। কাঁদানে গ্যাস ও পিপার স্প্রে ব্যবহারের ফলে বিক্ষোভস্থলে উত্তেজনা বাড়ে। আন্দোলনকারীদের একাংশ পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তোলেন।

অন্যদিকে, বিক্ষোভ চলাকালে বিভিন্ন বস্তু সরিয়ে নেওয়া এবং আগুন দেওয়ার চেষ্টার ঘটনাও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পদক্ষেপের বিষয়টিকে সামনে নিয়ে আসে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং বিক্ষোভকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বলপ্রয়োগের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দেয়। ব্রাসেলসের এই ঘটনা শিক্ষা খাতের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন কীভাবে সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে, তার একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

পাঁচজন সাময়িক আটক আরও চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ
বিক্ষোভের পর ব্রাসেলস পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, শনিবারের (২৪ অক্টোবর) কর্মসূচিতে বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। পুলিশের বিবৃতি অনুযায়ী, জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অভিযোগে পাঁচজনকে সাময়িকভাবে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া নিষিদ্ধ অস্ত্র রাখার অভিযোগ এবং দাঙ্গায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে আরও চারজনকে আটক করা হয়।

তবে পুলিশের বিবৃতি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় ঘটনাটির ভিন্ন ভিন্ন দিক উঠে এসেছে। একদিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার কথা বলেছে, অন্যদিকে প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া, লাঠিপেটা এবং কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের ঘটনা উঠে এসেছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হবে, সে সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

বেলজিয়ামে আন্দোলন ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ
ব্রাসেলসের এই বিক্ষোভে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবির পাশাপাশি পুলিশের ভূমিকা এবং প্রতিবাদ কর্মসূচি পরিচালনার অধিকারও আলোচনায় এসেছে। কয়েক মাস ধরে চলা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় নতুন করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং শিক্ষা খাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বিক্ষোভ মোকাবিলায় পুলিশের বলপ্রয়োগের অভিযোগও গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করার দাবি উঠেছে।

অন্যদিকে, পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফলে বিক্ষোভের মূল দাবি বাস্তবায়নের প্রশ্নের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পদ্ধতিও এখন আলোচনার বিষয়। ব্রাসেলসের এই ঘটনা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে চলমান বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। শিক্ষা খাতের উন্নয়ন ও সরকারি বরাদ্দ বাড়ানোর দাবিতে শুরু হওয়া কর্মসূচি যাতে আরও সংঘর্ষে রূপ না নেয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সূত্র: রয়টার্স

কালের আলো/এসএ/এমএস

ইন্টারনেটের বাইরে এআই প্রশিক্ষণ দেবে ওপেনএআই, কেন এই সিদ্ধান্ত?

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৮ অপরাহ্ণ
ইন্টারনেটের বাইরে এআই প্রশিক্ষণ দেবে ওপেনএআই, কেন এই সিদ্ধান্ত?

শক্তিশালী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেলকে সরাসরি ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত না রেখেই প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ওপেনএআই। এ ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের সংরক্ষিত ও সূচিবদ্ধ কনটেন্টের পাশাপাশি কৃত্রিমভাবে তৈরি ইন্টারনেট পরিবেশ ব্যবহার করবে প্রতিষ্ঠানটি। এর মূল লক্ষ্য, এআই মডেলের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি অননুমোদিত প্রবেশ ও সম্ভাব্য সাইবার নিরাপত্তাঝুঁকি কমানো।

প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট টেকক্রাঞ্চের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার নতুন এ নিরাপত্তানীতির কথা জানিয়েছে ওপেনএআই। এর আগে একই ধরনের পদক্ষেপ নেয় আরেক এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক। প্রতিষ্ঠানটি তাদের নতুন ও অধিক সক্ষম কয়েকটি মডেলের সরাসরি ইন্টারনেট ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে।

কেন ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন থাকবে এআই
এআই মডেলের সক্ষমতা যত বাড়ছে, ততই সেগুলোর নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। কোনো শক্তিশালী মডেলকে সরাসরি ইন্টারনেটে প্রবেশের সুযোগ দিলে সেটি অনিচ্ছাকৃতভাবে বা নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বাইরের সিস্টেমে প্রবেশ করতে পারে। এতে তথ্যের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া কিংবা অননুমোদিত কার্যক্রমের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

ওপেনএআইয়ের মতে, বর্তমান এআই নিরাপত্তা গবেষণা, পর্যবেক্ষণব্যবস্থা এবং ইন্টারনেট অবকাঠামোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় শক্তিশালী মডেলের প্রশিক্ষণপরিবেশকে ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা দায়িত্বশীল পদক্ষেপ।

কনফিগারেশনের ত্রুটি থেকে নিরাপত্তা উদ্বেগ
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর ওপেনএআইয়ের একটি শক্তিশালী এআই মডেল সিস্টেমের কনফিগারেশনে থাকা ত্রুটির সুযোগ নিয়ে ইন্টারনেটে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়। ঘটনার পর নিরাপত্তাব্যবস্থা উন্নত করা ও পরীক্ষা চালানোর জন্য ওই মাসের বাকি সময়ের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম স্থগিত রাখে প্রতিষ্ঠানটি।

এ ঘটনা এআই প্রশিক্ষণের অবকাঠামো নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করে। কারণ, শুধু মডেলকে একটি বিচ্ছিন্ন পরিবেশে রাখলেই সব ধরনের ঝুঁকি দূর হয় না। প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ, সেবা ও সফটওয়্যারের মধ্যেও নিরাপত্তার দুর্বলতা থাকতে পারে।

ওপেনএআইয়ের এক নিরাপত্তা প্রকৌশলী এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছিলেন, এআই প্রশিক্ষণের পরিবেশে বিভিন্ন ধরনের উপকরণ ও সেবার প্রয়োজন হয়। হাজারো গবেষক এসব পরিবেশ তৈরি, পরিবর্তন ও পরীক্ষা করেন। ফলে পুরো ব্যবস্থাকে নিরাপদ রাখা একটি জটিল কাজ।

সংরক্ষিত ওয়েব কনটেন্টেই চলবে প্রশিক্ষণ
নতুন ব্যবস্থায় এআই মডেলগুলোকে সরাসরি ইন্টারনেটে প্রবেশের সুযোগ না দিয়েও প্রশিক্ষণের জন্য বিপুল পরিমাণ সূচিবদ্ধ ও সংরক্ষিত ওয়েব কনটেন্ট ব্যবহার করবে ওপেনএআই। এসব কনটেন্টের সঙ্গে কাজ করে মডেলগুলো প্রয়োজনীয় তথ্য ও বিভিন্ন ধরনের উদাহরণ থেকে শেখার সুযোগ পাবে।

পাশাপাশি কৃত্রিমভাবে তৈরি ইন্টারনেট পরিবেশ ব্যবহার করে মডেলগুলোর আচরণ ও সক্ষমতা যাচাই করা হবে। এতে বাস্তব ইন্টারনেটের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ ছাড়াই বিভিন্ন পরিস্থিতি অনুকরণ করে পরীক্ষা চালানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বাইরের সিস্টেমে সরাসরি প্রভাব ফেলার সুযোগ সীমিত রাখা যাবে।

নির্ধারিত নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়িয়ে মডেলগুলো বিচ্ছিন্ন পরিবেশ থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করে কি না, তা যাচাই করতেও পরীক্ষা চালিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সক্ষমতা ধরে রাখা নিয়েই প্রশ্ন
ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন পরিবেশে এআই প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে বড় প্রশ্ন হলো, সংরক্ষিত কনটেন্ট ব্যবহার করে মডেলগুলো সরাসরি ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত পরিবেশের মতো একই মাত্রার সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে কি না। এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।

তবে ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের সাম্প্রতিক উদ্যোগে স্পষ্ট হচ্ছে, অধিক সক্ষম এআই মডেল তৈরির পাশাপাশি সেগুলোর প্রশিক্ষণপরিবেশের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দিচ্ছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। ভবিষ্যতে এআইয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে নিরাপত্তার ভারসাম্য রক্ষায় এ ধরনের ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কালের আলো/এসএ/জেএন