খুঁজুন
                               
, ,
           

রাজশাহীতে পরীক্ষার ফল ঘোষণার দিন স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৩:১৮ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে পরীক্ষার ফল ঘোষণার দিন স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

রাজশাহীতে পরীক্ষার ফল ঘোষণার দিন অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে। শ্রেণিকক্ষে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ফল ঘোষণার পর  ওই স্কুলছাত্রী বিদ্যালয়ের ছয়তলা ভবন থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করে।।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল  ১১টার দিকে রাজশাহী নগরের বুলনপুর এলাকায় মিশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শিক্ষার্থীর নাম ফারিনা আজিবা ঝিলিক (১৩)। সে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত। নগরের সুফিয়ানের মোড়ে সে তার পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকত। তার বাবা একজন পুলিশ সদস্য। তিনি রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) বিশেষ শাখায় (সিটিএসবি) কর্মরত আছেন। মেয়ের মৃত্যুর ব্যাপারে কারও বিরুদ্ধে পরিবারের কোনো অভিযোগ নেই।

নগরের রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, সকালে শ্রেণিকক্ষে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ফল ঘোষণা করা হচ্ছিল। ফল শোনার পর ওই শিক্ষার্থী শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে তিনতলার ওই শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হয়। এরপর সে পাশের আরেকটি ছয়তলা ভবনে যায়।

তারপর ছয়তলা ভবনের বারান্দা থেকে সে লাফ দেয়। পরে দ্রুতই তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরায় ঘটনাটি রেকর্ড আছে। এ নিয়ে পরিবারের কোনো অভিযোগ নেই। তাই থানায় শুধু একটি অপমৃত্যুর মামলা করে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মিশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মইনুল ইসলাম বলেন, ‘মেয়েটা দীর্ঘদিন ধরে টিউবার কুলার মেনিন জাইটিস রোগে ভুগছিল এবং মাঝে মধ্যেই অজ্ঞান হয়ে পড়ত। তখন তার মা এসে স্কুল থেকে নিয়ে যেত। সে কেন এমন ঘটনা ঘটাল তা বুঝতে পারছি না।’

তিনি বলেন, ‘ঘটনার আগে শ্রেণিকক্ষে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ফল ঘোষণা করা হয়। সে তুলনামুলক ভাল ফলও করে। তার রোল নম্বর ৬১ হলেও ফলাফলে সে ৩০তম স্থান অর্জন করে।’

ঘটনার পর সামাজিকমাধ্যমে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়ানো হয়েছে। এ ব্যাপারে রাতে রাজপাড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে  জানান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মইনুল ইসলাম।

আরএমপি’র পক্ষ থেকেও এ ব্যাপারে একটি প্রতিবাদলিপি দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভিডিও এবং তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা।

প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল ১০টা ৫৭ মিনিটে স্কুল চলাকালীন সময়ে অষ্টম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী নিজেই সিঁড়ি বেয়ে ভবনের ষষ্ঠ তলায় উঠে সেখান থেকে লাফ দেয়। শিক্ষার্থীর ভবনে ওঠা এবং নিচে পড়ে যাওয়ার সম্পূর্ণ ঘটনা সিসিটিভি ফুটেজে ধারণ রয়েছে।

এছাড়া প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে যে, ওই শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে টিউবার কুলার মেনিন জাইটিস রোগে ভুগছিল এবং মাঝে মধ্যেই অজ্ঞান হয়ে পড়ত। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও সুরতহাল প্রতিবেদনে এ পর্যন্ত কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা সন্দেহজনক ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এ অবস্থায় তথ্য-প্রমাণ ছাড়া গুজব, অপপ্রচার বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়ে আরএমপি বলেছে, যারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে বা করার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

‘আমার চোখে সবাই সেরা, আরেকজন আমি’-অপু বিশ্বাস

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩৬ অপরাহ্ণ
‘আমার চোখে সবাই সেরা, আরেকজন আমি’-অপু বিশ্বাস

ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস বর্তমানে অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সম্প্রতি ‘শিকার’ সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন তিনি। কামরুজ্জামান রোমান পরিচালিত সিনেমাটির বড় একটি অংশের শুটিং হয়েছে নেপালে। তবে সিনেমাটির বাকি কাজ নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কারণ, সিনেমাটির নায়ক মর্তুজা পলাশ বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

‘শিকার’ সিনেমায় অপু বিশ্বাস ও মর্তুজা পলাশের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন মাহমুদুল ইসলাম মিঠু, সুমন আনোয়ার, পশ্চিমবঙ্গের কৌতুক অভিনেতা খরাজ মুখার্জি, শক্তিমান অভিনেতা রজতাভ দত্ত ও শ্যাম ভট্টাচার্যসহ আরও অনেকে।

এদিকে অভিনয়ের পাশাপাশি সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে নিজের পছন্দের নায়ক-নায়িকাদের তালিকা নিয়ে কথা বলেছেন অপু বিশ্বাস। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে দেশের অনেক জনপ্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রীর সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। তাই তার চোখে ঢালিউডের সেরা নায়ক ও নায়িকা কারা—এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় তাকে।

জবাবে অপু বিশ্বাস প্রথমেই বলেন, ‘আমার চোখে সবাই সেরা।’ এরপর নায়িকাদের প্রসঙ্গ উঠলে কয়েকজন জনপ্রিয় অভিনেত্রীর নাম উল্লেখ করেন তিনি। তার তালিকায় রয়েছেন মৌসুমী, পূর্ণিমা, শাবনূর ও পপি।

তবে এখানেই শেষ নয়। উপস্থাপিকা যখন উল্লেখ করেন যে চারজনের নাম হয়ে গেছে, তখন হাসতে হাসতে নিজের নামটিও সেই তালিকায় যোগ করেন অপু বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘আরেকজন আমি।’ নিজের নাম বলেই হেসে ওঠেন অভিনেত্রী। সাক্ষাৎকারের এই মুহূর্তটি বেশ হাস্যরসের জন্ম দেয়।

নায়কদের তালিকায় পাঁচজন

নায়িকাদের পর অপু বিশ্বাসের কাছে জানতে চাওয়া হয় তার পছন্দের নায়কদের নাম। এবার তিনি পাঁচজনের নাম উল্লেখ করেন। তার তালিকায় রয়েছেন রিয়াজ, ফেরদৌস, আমিন খান, শাকিব খান ও শাকিল খান।

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে এসব অভিনেতার অনেকের সঙ্গেই পর্দা ভাগ করেছেন অপু বিশ্বাস। ফলে তার পছন্দের তালিকায় ঢালিউডের একাধিক পরিচিত ও জনপ্রিয় তারকার নাম থাকাটা নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে।

তবে অপু বিশ্বাসের এই তালিকাকে কোনো আনুষ্ঠানিক ‘সেরা’ নির্বাচন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের ব্যক্তিগত পছন্দের জায়গা থেকেই নায়ক-নায়িকাদের নাম উল্লেখ করেছেন। আর নিজের নাম তালিকায় যোগ করে হাস্যরসের যে মুহূর্ত তৈরি করেছেন, সেটিই সাক্ষাৎকারের অন্যতম আলোচিত অংশ হয়ে উঠেছে।

কালের আলো/এসএ

দ্বিতীয় সিনেমার পর ফের বড় পর্দায় মেহজাবীন, প্রস্তুতি নিচ্ছেন তৃতীয় ছবির

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০০ অপরাহ্ণ
দ্বিতীয় সিনেমার পর ফের বড় পর্দায় মেহজাবীন, প্রস্তুতি নিচ্ছেন তৃতীয় ছবির

নাটকের পরিচিত গণ্ডি পেরিয়ে কয়েক বছর আগেই বড় পর্দায় পা রেখেছেন মেহজাবীন চৌধুরী। ছোট পর্দায় দীর্ঘদিনের জনপ্রিয়তার পর এখন সিনেমাতেই নিজের অভিনয়ের পরিসর আরও বড় করার চেষ্টা করছেন তিনি। বেছে বেছে কাজ করার নীতিতে আগের তুলনায় পর্দায় তার উপস্থিতিও কমেছে। তবে এবার নতুন একটি সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

তবে নতুন সিনেমাটির নাম, গল্প কিংবা সহশিল্পীদের বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। মূলত দ্বিতীয় সিনেমা ‘সাবা’-এর পর বড় পর্দায় আর দেখা যায়নি মেহজাবীনকে। এবার তৃতীয় সিনেমার জন্যই নিজেকে প্রস্তুত করছেন বলে শোনা যাচ্ছে।

২০০৯ সালে লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে শোবিজে যাত্রা শুরু করেন মেহজাবীন। এরপর নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে অল্প সময়েই দর্শকদের পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন তিনি। ধীরে ধীরে নিজের অভিনয় দক্ষতা ও বৈচিত্র্যময় চরিত্র নির্বাচনের মাধ্যমে তৈরি করেন আলাদা অবস্থান।

‘বড় ছেলে’, ‘পুনর্জন্ম’সহ বেশ কিছু আলোচিত নাটকে অভিনয় করে দর্শকদের প্রশংসা পেয়েছেন মেহজাবীন। টেলিভিশনের পাশাপাশি ওয়েব ফিল্ম ও ওয়েব সিরিজেও কাজ করেছেন তিনি। ‘রেডরাম’, ‘সাবরিনা’ ও ‘নীল জলের কাব্য’-এর মতো বিভিন্ন ওয়েবভিত্তিক প্রকল্পে দেখা গেছে এই অভিনেত্রীকে।

সিনেমায় ভিন্ন গল্পের খোঁজ

সিনেমাতেও নিজের অভিনয়ের পরিসর বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন মেহজাবীন। শঙ্খ দাশগুপ্ত পরিচালিত ‘প্রিয় মালতী’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার। এরপর ‘সাবা’ সিনেমায় নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন তিনি।

বিশেষ করে নারীপ্রধান চরিত্র এবং প্রচলিত ধারার বাইরে ভিন্নধর্মী গল্পের প্রতি তার আগ্রহের কথা বিভিন্ন সময়ে উঠে এসেছে। কাজ নির্বাচনের ক্ষেত্রেও গল্প ও চরিত্রকে গুরুত্ব দেন অভিনেত্রী। ফলে নিয়মিত কাজের পরিবর্তে পছন্দের গল্প ও চরিত্র পেলেই পর্দায় হাজির হচ্ছেন তিনি।

সিনেমায় মনোযোগ বাড়ানোর কারণে নাটকে তার উপস্থিতিও আগের তুলনায় কমেছে। তবে নাটক থেকে পুরোপুরি সরে যাওয়ার কথা কখনোই বলেননি মেহজাবীন। ভালো গল্প ও পছন্দের চরিত্র পেলে আবারও নাটকে অভিনয় করার আগ্রহ রয়েছে তার।

ব্যক্তিজীবনের নতুন অধ্যায়

অন্যদিকে ব্যক্তিজীবনেও নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন মেহজাবীন চৌধুরী। বিয়ের পর সংসার সামলানোর পাশাপাশি অভিনয় নিয়েও নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন তিনি।

সব মিলিয়ে নতুন সিনেমায় মেহজাবীনের প্রত্যাবর্তনের খবর তার ভক্তদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে। নতুন ছবির গল্প, চরিত্র, পরিচালক ও সহশিল্পীদের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলে তার সিনেমা ক্যারিয়ারের পরবর্তী অধ্যায় আরও স্পষ্ট হবে।

কালের আলো/এসএ

দুর্নীতির অভিযোগের পরও সেই সচিব নুরীর পুনর্বাসন, ঠিকানা ইউনাইটেড

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৫৮ অপরাহ্ণ
দুর্নীতির অভিযোগের পরও সেই সচিব নুরীর পুনর্বাসন, ঠিকানা ইউনাইটেড

সরকারি ক্ষমতার শীর্ষ করিডরে যার ছিল অবাধ যাতায়াত, ফ্যাসিবাদী সরকার বদলের পর এক সময়কার ক্ষমতাধর আমলা এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরীর ঠিকানা এখন দেশের অন্যতম বড় শিল্পগোষ্ঠী ইউনাইটেড। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই তার এই নতুন কর্মস্থল নিয়ে প্রশ্ন উঠে।

কারণ, নুরীর নাম শুধু গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদায়নের সঙ্গে নয়—রাজউকের প্লট, বিধিমালা, ডিএসসিসির বিপুল অর্থ স্থানান্তরসহ নানা অভিযোগের সঙ্গেও আলোচিত। প্রশ্নটি তাই শুধু নতুন চাকরি নয়। সরকারি ক্ষমতার বলয়ে দীর্ঘদিন থাকা এবং বিতর্কিত অভিযোগে ঘেরা একজন কর্মকর্তাকে সরকার পরিবর্তনের পর এত দ্রুত একটি প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীতে জায়গা করে দেওয়ার নেপথ্যে কী ছিল?

  • কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্ষমতার কেন্দ্রে দাপট
  • রাজউক-ডিএসসিসিতে নানা অভিযোগ
  • সচিবের পদ হারানোর পরই বড় শিল্পগোষ্ঠীতে নির্বাহী পরিচালক—পুরোনো সম্পর্কের নতুন হিসাব

সচিবের চেয়ার থেকে ইউনাইটেডের বোর্ডরুম
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ৫ জুন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবের দায়িত্ব নেন নুরী। ২০২৪ সালের ২৬ জুন তার চুক্তির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানো হয়। সরকারি নথিতে তার দায়িত্বের অবসান দেখানো হয়েছে ১৪ আগস্ট ২০২৪। এরপরই ইউনাইটেড গ্রুপে নির্বাহী পরিচালক হিসেবে তার যোগদানের বিষয়টি সামনে আসে। এই সময়ের ব্যবধানই তৈরি করেছে ‘পুনর্বাসন’-এর প্রশ্ন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ আমলা হিসেবে পরিচিত একজন কর্মকর্তা সরকার পরিবর্তনের পর প্রশাসনে জায়গা না পেলেও বেসরকারি খাতের একটি শক্তিশালী শিল্পগোষ্ঠীতে কীভাবে নির্বাহী পর্যায়ের পদ পেলেন—এটির উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।

একের পর এক ক্ষমতাবান পদ
নুরীর প্রশাসনিক ক্যারিয়ার ছিল গুরুত্বপূর্ণ পদে ধারাবাহিক উত্থানের। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, শিল্প ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পদ, ধর্মবিষয়ক ও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেরিয়ে তিনি ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হন। পরে ২০২১ সালে দায়িত্ব পান রাজউকের চেয়ারম্যান হিসেবে। ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হওয়ার সময় মেয়র ছিলেন শেখ ফজলে নূর তাপস। সে সময় নুরীর নিয়োগসহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক পরিবর্তন নিয়ে সংবাদমাধ্যমে আলোচনা হয়েছিল। তাপসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণেই নুরী পরবর্তী সময়ে রাজউকের চেয়ারম্যানের পদ পেয়েছিলেন—এমন অভিযোগ রয়েছে।

রাজউকে প্লটের খেলা, বিধিমালা নিয়েও প্রশ্ন
রাজউকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ছিল নুরীর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে প্রভাবশালী অধ্যায়গুলোর একটি। রাজধানীর জমি, ভবন ও নগর উন্নয়নসংক্রান্ত অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা তখন তার প্রতিষ্ঠানের হাতে। এই সময় প্লট বরাদ্দ নিয়ে নুরীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠে। প্রভাবশালী ব্যক্তি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠদের প্লট পাওয়ার প্রক্রিয়ায় তিনি ভূমিকা রেখেছিলেন—এমন অভিযোগও রয়েছে। প্লট বরাদ্দের বিধিমালা পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল।

রাজউকের চেয়ারেই ইউনাইটেডের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ
নুরীর বর্তমান কর্মস্থল ইউনাইটেড গ্রুপ হওয়ায় তার রাজউক-পর্বের একটি ঘটনা নতুন করে তাৎপর্য পাচ্ছে।।২০২১ সালে রাজউকের চেয়ারম্যান থাকাকালে নুরী ইউনাইটেড ডেলকটের সঙ্গে পূর্বাচল পানি সরবরাহ প্রকল্পের একটি চুক্তিতে রাজউকের পক্ষে স্বাক্ষর করেন। প্রকল্পটি ছিল সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আওতায়। একই অনুষ্ঠানে ইউনাইটেড ডেলকটের ব্যবস্থাপনা পরিচালকও চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। পরে সেই ইউনাইটেড গ্রুপেই নুরীর নির্বাহী পদে যোগদান করায় পুরোনো সরকারি দায়িত্বকালের যোগাযোগ এখন অনুসন্ধানের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। রাজউকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় যে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ ছিল, পরবর্তী সময়ে সেই শিল্পগোষ্ঠীরই নির্বাহী পদে তার যোগদান—এই দুই ঘটনার মধ্যে কোনো স্বার্থগত সম্পর্ক ছিল কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

ডিএসসিসির ৯৬৬ কোটি টাকার অভিযোগ
নুরীর বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা থাকার সময়ের। অভিযোগকারীদের দাবি, সিটি করপোরেশনের ৫৪৩ কোটি টাকা এবং বিভিন্ন প্রকল্পের আরও ৪২৩ কোটি টাকা—মোট ৯৬৬ কোটি টাকা—মধুমতি ব্যাংকে স্থানান্তরের ঘটনায় নুরীর ভূমিকা ছিল। অভিযোগের সঙ্গে তৎকালীন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের নামও এসেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে তৎকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নুরী সহযোগিতা করেছিলেন। তবু অভিযোগের অঙ্কটি এত বড় যে, তার নতুন করপোরেট নিয়োগের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

কালের আলো/এসআর/এএএন