খুঁজুন
                               
, ,
           

বাঁশখালীতে বন্যায় ঘর হারানো ১০০ পরিবারকে ঘর দেবেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫০ অপরাহ্ণ
বাঁশখালীতে বন্যায় ঘর হারানো ১০০ পরিবারকে ঘর দেবেন প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সাম্প্রতিক বন্যায় ঘর হারানো ১০০টি পরিবারকে নতুন ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছে সরকার। আগামী রোববার বাঁশখালী সফরে গিয়ে এসব পরিবারের হাতে ঘরের চাবি তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে উপজেলার বাহারছড়া সমুদ্রসৈকত সংলগ্ন এলাকায় প্রস্তুতি চলছে। সেখানে দুটি হেলিপ্যাড নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি মঞ্চ ও প্যান্ডেল নির্মাণসহ অনুষ্ঠানস্থলের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা অনুষ্ঠানস্থল, হেলিপ্যাড, নিরাপত্তা-ব্যবস্থা ও নির্মাণাধীন ঘরগুলো পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার মধ্যে বাঁশখালী বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে জেলে সম্প্রদায়সহ মাটির ঘরে বসবাসকারী অনেক পরিবারের ঘর সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে। এসব পরিবারকে পুনর্বাসনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নতুন ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, বাঁশখালী পৌরসভা ও উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন থেকে ১০০টি পরিবারকে ঘর দেওয়ার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। যেসব পরিবারের ঘর বন্যায় বিধ্বস্ত হয়েছে এবং নতুন করে ঘর নির্মাণের সামর্থ্য নেই, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

প্রতিটি ঘরের দৈর্ঘ্য ১৮ ফুট ও প্রস্থ ১২ ফুট। এতে দুটি কক্ষ থাকবে। এর সঙ্গে পাঁচ ফুট দৈর্ঘ্য ও পাঁচ ফুট প্রস্থের একটি সংযুক্ত শৌচাগার নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ঘর নির্মাণে আরসিসি পিলার, কাঠ ও টিন ব্যবহার করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, ঘরের নকশা, প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও নির্মাণ ব্যয়ের হিসাব তৈরি করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। বরাদ্দ পাওয়ার পর দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু হয়। কাজের মান নিশ্চিত করতে ঘরগুলো তদারকির জন্য আলাদা দল গঠন করা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় এবং জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয়ের কর্মকর্তারা নির্মাণকাজ পর্যবেক্ষণ করছেন। জেলা প্রশাসকও কয়েক দিন ধরে নির্মাণাধীন ঘর ও প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন করছেন।

জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, শুধু ঘর নির্মাণ করে দেওয়াই লক্ষ্য নয়, উপকারভোগীরা যেন এসব ঘরে দীর্ঘদিন নিরাপদে বসবাস করতে পারেন, সেটিও নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ জন্য প্রতিটি ঘরের নির্মাণকাজ আলাদাভাবে তদারকি করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে স্বামীহারা এক নারীর হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেবেন। সন্তান নিয়ে বসবাস করা ওই নারীর হাতে চাবি তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রতীকীভাবে ১০০টি পরিবারের কাছে ঘর হস্তান্তর কার্যক্রম শুরু হবে।

এছাড়া সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ১৫ জন প্রতিবন্ধী শিশু ও ব্যক্তিকে আর্থিক সহায়তার চেক দেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত আরও ২০০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার অবতরণের জন্য বাঁশখালীর একাধিক স্থান পরিদর্শন করা হয়েছিল বলে জানান জেলা প্রশাসক। বিমানবাহিনীর প্রতিনিধিরাও সম্ভাব্য স্থানগুলো পর্যবেক্ষণ করেন। তবে বন্যায় বিভিন্ন সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং প্রয়োজনীয় খোলা জায়গার অভাবে সেসব স্থান উপযুক্ত বিবেচিত হয়নি। পরে বাহারছড়া সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন এলাকাটি নির্বাচন করা হয়।

সেখানে পাশাপাশি দুটি হেলিপ্যাড নির্মাণ করা হয়েছে। হেলিপ্যাড থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ঘর হস্তান্তরের নির্ধারিত স্থানে নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের মধ্য দিয়ে বাহারছড়া সমুদ্রসৈকত নতুনভাবে পরিচিতি পাবে বলে তারা আশা করছেন। সৈকতটি দেশ-বিদেশে পরিচিত হলে জেলে সম্প্রদায়-অধ্যুষিত এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

বাঁশখালীর কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রীর বাবুনগর মাদরাসায় যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে মাদরাসার শিক্ষক ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন তিনি। এরপর হাটহাজারীতে গিয়ে কবর জিয়ারত এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

হাটহাজারীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩০টি পরিবারকে ঘর নির্মাণের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যেও সহায়তা বিতরণ করা হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম নগরে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, মঞ্চ, প্যান্ডেল, হেলিপ্যাড ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ সব প্রস্তুতি শনিবার দুপুরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কাজ করছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

এরদোয়ান-অজয় বাঙ্গার সঙ্গে বৈঠক, রোহিঙ্গা ইস্যুতেও জোর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৭ অপরাহ্ণ
এরদোয়ান-অজয় বাঙ্গার সঙ্গে বৈঠক, রোহিঙ্গা ইস্যুতেও জোর

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনকে ঘিরে নিউইয়র্কে ব্যস্ত কূটনৈতিক কর্মসূচি পার করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অধিবেশনের ফাঁকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে, মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট উজ হুসেইন মোহামেদ লতিফ এবং হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ে ফিস-আইমের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন তিনি। পাশাপাশি জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের তুর্কি হাউসে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন তারেক রহমান। বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার ও বহুমাত্রিক করার বিষয়ে আলোচনা হয়। অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় করেন দুই নেতা। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এর আগে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের অংশীদারত্বের নতুন ক্ষেত্র সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও আলোচনায় আসে।

ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে ও মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট উজ হুসেইন মোহামেদ লতিফের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন তারেক রহমান। এসব আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয় উঠে আসে। হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ে ফিস-আইমের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের পাশাপাশি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা

জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপের সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ও সমন্বিত ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ ও সম্মানজনকভাবে ফেরার উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ট্রাম্পের নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থানরত বিশ্বনেতাদের সম্মানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আয়োজিত নৈশভোজেও অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

এর আগে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আয়োজিত বিশ্বনেতাদের সম্মানে স্বাগত প্রাতরাশে সস্ত্রীক অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। পরে ৮১তম সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কের উদ্বোধনী পর্বেও যোগ দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের প্রথম দিনের কর্মসূচিতে দ্বিপক্ষীয়, বহুপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও উন্নয়ন সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের।

কালের আলো/এমএসআইপি 

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে উত্তেজনা কমাতে ট্রাম্প-ডেনমার্কের নতুন চুক্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪২ অপরাহ্ণ
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে উত্তেজনা কমাতে ট্রাম্প-ডেনমার্কের নতুন চুক্তি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের নেতাদের সঙ্গে একটি নতুন নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের বিষয়ে ট্রাম্পের একাধিক বিতর্কিত বক্তব্যের পর দুই পক্ষের সম্পর্কে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, নতুন এ চুক্তির মাধ্যমে তা কিছুটা প্রশমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। ১০ পৃষ্ঠার চুক্তিতে গ্রিনল্যান্ডের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে দুটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। দক্ষিণের নারসারসুয়াক ও পূর্বাঞ্চলের মেস্টারসভিগে এসব ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের উত্তরে যুক্তরাষ্ট্রের পিটুফিক ঘাঁটিও থাকবে।

চুক্তিতে আবারও ‘ডেনমার্ক রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার’ প্রতি সমর্থন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ডের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারও স্বীকার করা হয়েছে।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর ট্রাম্প বলেন, এটি দীর্ঘমেয়াদি ও চমৎকার একটি সম্পর্কের সূচনা করবে। তাঁর ভাষায়, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র এবং সবার জন্যই এটি গুরুত্বপূর্ণ।

নিরাপত্তায় কৌশলগত গ্রিনল্যান্ড

গ্রিনল্যান্ড ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সম্ভাব্য সংক্ষিপ্ত পথের ওপর অবস্থিত হওয়ায় ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেত্রেও দ্বীপটির কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।

এ ছাড়া গ্রিনল্যান্ডে বিপুল পরিমাণ অনুত্তোলিত বিরল খনিজ রয়েছে। মেরু অঞ্চলের বরফ গলে নতুন নৌপথ উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও অঞ্চলটির অর্থনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব বাড়িয়েছে।

নতুন চুক্তিতে গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত খাতগুলোতে ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশগুলোর প্রবেশাধিকার সীমিত করার কথা বলা হয়েছে। এর ফলে চীন ও রাশিয়ার আর্কটিক অঞ্চলে কৌশলগত অবস্থান তৈরির সুযোগ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

‘আরও শান্তি ফিরবে’

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেছেন, চুক্তির পর তাঁর দেশ আগের দিনের তুলনায় ভালো অবস্থানে রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চুক্তিটি গ্রিনল্যান্ডে আরও শান্তি ফিরিয়ে আনবে।

গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইয়েন্স-ফ্রেদেরিক নিলসেনও চুক্তিটিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি বলেন, পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠনের জন্য দেশে ফিরে আরও কাজ করতে হবে এবং সেটি একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে হবে।

চুক্তির বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান আন্তোনিও কোস্তা এটিকে আটলান্টিক পারের সহযোগিতা ও আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসও চুক্তিটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

চুক্তিতে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্ক থেকে স্বাধীন হলেও এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। প্রয়োজনে গ্রিনল্যান্ডকে ন্যাটোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে বা ন্যাটোতে যোগ দিতে হবে।

১৯৫১ সালের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রিনল্যান্ডে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। ২০০৪ সালে ওই চুক্তি হালনাগাদ করা হয়।

কালের আলো/এসএ

৬ জুনের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষ করতে চায় ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩৭ অপরাহ্ণ
৬ জুনের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষ করতে চায় ইসি

ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের নির্বাচন আগামী বছরের শুরুতে শুরু হয়ে ৬ জুনের মধ্যে শেষ হতে পারে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) এ সময়সীমার মধ্যে নির্বাচন শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন এবং অফিসগুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর ইসি জানিয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলো আগামী ৬ জুনের মধ্যে শেষ করতে চায়। তবে নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

রমজান, এসএসসি পরীক্ষা এবং ডিসেম্বরের বার্ষিক পরীক্ষার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে ইসি নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ করতে পারে। ভোটকেন্দ্র হিসেবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

মীর শাহে আলম বলেন, নির্বাচন কখন শুরু হবে, তা নির্বাচন কমিশনই ঠিক করবে। সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে না।

প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের হিসাব

পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করতে প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রায় ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা এবং উপজেলা নির্বাচনে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।

পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তুলনামূলক কম অর্থের প্রয়োজন হবে। সম্ভাব্য এই ব্যয়ের কাছাকাছি অর্থ দেওয়ার প্রস্তুতি সরকারের রয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে চূড়ান্ত হিসাবের সঙ্গে ব্যয়ের পরিমাণ কিছুটা কমবেশি হতে পারে।

চলতি বছর নির্বাচন নিয়ে সংশয়

চলতি বছর স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইসির নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী তাঁর কাছে মনে হচ্ছে, নির্বাচন আগামী বছর শুরু হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন।

তিনি জানান, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে অথবা অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যায়ে আবার বৈঠক হতে পারে। সেখানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা থাকবেন এবং ইসি নির্বাচনের সময়সূচি চূড়ান্ত করতে পারে।

সরকার চলতি অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো শেষ করতে চায় বলেও জানান তিনি।

জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে মন্তব্য

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পড়বে কি না—জানতে চাইলে মীর শাহে আলম বলেন, নির্বাচনের দিনক্ষণই এখনো নির্ধারিত হয়নি। তাই এ বিষয়ে এখনই মন্তব্য করা কঠিন।

নির্বাচনে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে প্রার্থীদের জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে—প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টার এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই প্রশ্ন করা ভালো।

তিনি আরও বলেন, এখনো নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়নি এবং আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থীও হননি। তাই প্রার্থীদের জন্য ঝুঁকি তৈরি হয়েছে কি না, তা বলার সময় এখনো আসেনি। নির্বাচন হলে তখন মানুষের প্রতিক্রিয়া বোঝা যাবে।

কালের আলো/এমএসআইপি