খুঁজুন
                               
, ,
           

‘লুটপাটের নতুন লাইসেন্স’ জ্বালানি খাতের বেসরকারিকরণ: জামায়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৫৬ অপরাহ্ণ
‘লুটপাটের নতুন লাইসেন্স’ জ্বালানি খাতের বেসরকারিকরণ: জামায়াত

পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার সরকারি উদ্যোগকে ‘লুটপাটের নতুন লাইসেন্স’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির অভিযোগ, রাষ্ট্রীয় একচেটিয়া ভেঙে প্রতিযোগিতা তৈরির নামে শেষ পর্যন্ত কয়েকটি প্রভাবশালী বেসরকারি গোষ্ঠীর হাতে জ্বালানি তেলের বাজার তুলে দেওয়া হতে পারে। এতে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি ব্যয়ের চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শনিবার (৮ আগস্ট)  বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘সরকারের নতুন জ্বালানি নীতিমালা প্রণয়নের পদক্ষেপ’ নিয়ে দলটির বক্তব্য ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি বলেন, জ্বালানি খাত সংস্কারের পরিবর্তে এর নিয়ন্ত্রণ বেসরকারি গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর খরচ শেষ পর্যন্ত বহন করতে হবে সাধারণ মানুষকে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন বেসরকারি খাতে দেওয়ার জন্য জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ খসড়া নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন বিপিসি চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার চার দিনের মধ্যে এ খসড়া তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘এটি সংস্কার নয়, এটি হস্তান্তর। এটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি দুর্নীতি ও লুটপাটের লাইসেন্স।’

বেসরকারি খাতকে জ্বালানি তেল আমদানির সুযোগ দিলে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং দাম কমবে—সরকারের এমন যুক্তিও প্রত্যাখ্যান করেছে জামায়াত। গোলাম পরওয়ার বলেন, জ্বালানি তেলের ব্যবসায় গভীর সমুদ্রবন্দর, সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং, বড় ট্যাংক টার্মিনাল, পাইপলাইন এবং বিপুল ব্যাংকিং সক্ষমতা প্রয়োজন। ফলে বাস্তবে হাতেগোনা কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর পক্ষেই এ বাজারে প্রবেশ করা সম্ভব। এতে রাষ্ট্রীয় একচেটিয়া ভেঙে বেসরকারি একচেটিয়া তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিপিসিকে অদক্ষ ও লোকসানি দেখিয়ে বেসরকারিকরণের যুক্তিও প্রত্যাখ্যান করেছে জামায়াত। গোলাম পরওয়ারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিপিসি ৩ হাজার ৯৪৩ কোটি টাকা এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২ হাজার ৫০ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। এর আগে ২০২১-২২ ও ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি যথাক্রমে ১ হাজার ৯৮৩ কোটি ও ৭ হাজার ৮৭ কোটি টাকা লোকসান করেছিল।

জামায়াতের দাবি, বর্তমান জ্বালানি সংকট বিপিসির ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতার কারণে নয়; বরং এটি বিশ্ববাজারের অস্থিরতা ও ভূরাজনৈতিক সংকটের ফল। গোলাম পরওয়ার বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও দেশের ভোক্তাদের ওপর চাপ কমাতে দাম না বাড়ানোর কারণে বিপিসি প্রতিদিন প্রায় ৭৮ কোটি টাকা লোকসান দিচ্ছে বলে জ্বালানিমন্ত্রী সংসদে জানিয়েছেন।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক সরবরাহ সংকটকে কাজে লাগিয়ে সরকার তড়িঘড়ি করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, গত ২৮ জুলাই অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর ২০২৬ মেয়াদের পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের সময়সীমা ৪২ দিন থেকে কমিয়ে ১০ দিন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এতে বড় আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীদের অংশগ্রহণ কমে গিয়ে দরদাতা সংকট, বেশি দামে জ্বালানি তেল কেনা এবং সিন্ডিকেটের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘দ্রুততা আর স্বচ্ছতা পরস্পরবিরোধী নয়। কিন্তু এখানে দ্রুততার নামে স্বচ্ছতাই বিসর্জন দেওয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, বছরে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার জ্বালানি তেলের বাজার কয়েকটি গোষ্ঠীর হাতে চলে গেলে প্রতি লিটারে সামান্য বাড়তি মুনাফাও বছরে হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত আয়ে পরিণত হতে পারে।

জ্বালানি তেলকে সাধারণ পণ্য নয়, বরং কৃষি, বিদ্যুৎ, পরিবহন, বিমান চলাচল ও জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। বাংলাদেশে একটি মাত্র শোধনাগার—ইস্টার্ন রিফাইনারি—এবং সীমিত মজুত সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যুদ্ধ বা দুর্যোগের সময় বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে রাষ্ট্র কীভাবে জ্বালানি সরবরাহের বিষয়ে নির্দেশ দেবে।

অলাভজনক ও দুর্গম এলাকায় জ্বালানি সরবরাহের দায়িত্ব বেসরকারি কোম্পানিগুলো নেবে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

জ্বালানি খাতের শ্রমিক সংগঠনের আইনি সুরক্ষা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন গোলাম পরওয়ার। তিনি দাবি করেন, শ্রম আইনের ১৮৭ ধারা জ্বালানি খাতের শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের ক্ষেত্রে রহিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

এটি শুধু বিরোধী দলের রাজনৈতিক বক্তব্য নয় দাবি করে গোলাম পরওয়ার সংবাদ সম্মেলনে সিপিডি, ক্যাব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিভিন্ন মতামত তুলে ধরেন। সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, জ্বালানি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য হওয়ায় এটিকে মুনাফার খাত না করে সরকারের নিয়ন্ত্রণে সীমিত মুনাফায় পরিচালনা করাই জনস্বার্থসম্মত।

ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম জ্বালানিকে মুনাফার পরিবর্তে সেবাখাত হিসেবে বিবেচনার পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোশাহিদা সুলতানার আশঙ্কার কথা তুলে ধরে গোলাম পরওয়ার বলেন, জ্বালানি খাত বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গেলে এলপিজি খাতের মতো সিন্ডিকেট তৈরি হতে পারে।

জামায়াতের দাবি, গত ২ আগস্ট বাঙ্কারিং নীতিমালায় পরিবর্তন এনে মেরিন ফুয়েল আমদানিতে বেসরকারি খাতকে সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।

পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত ও বিপণন বেসরকারি খাতে দেওয়ার উদ্যোগ অবিলম্বে স্থগিতের দাবি জানিয়েছে জামায়াত। একই সঙ্গে খসড়া নীতিমালাসহ সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশ করে অন্তত ৬০ দিনের জনমত গ্রহণ এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটির অধীনে উন্মুক্ত শুনানির দাবি জানিয়েছে দলটি। বেসরকারিকরণের পরিবর্তে বিপিসির সংস্কারেরও দাবি করা হয়েছে।

দলটির দাবির মধ্যে আরও রয়েছে বিপিসির স্বাধীন নিরীক্ষা, পরিচালনা পর্ষদে পেশাদার ব্যক্তিদের নিয়োগ, জ্বালানি তেল ক্রয়ে ই-জিপি বাধ্যতামূলক করা এবং প্রতি ত্রৈমাসিকে আমদানি মূল্য ও পরিমাণ প্রকাশ করা। পাশাপাশি ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণ এবং কৌশলগত জ্বালানি মজুত সক্ষমতা বাড়ানোর প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে। জ্বালানি খাতের শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষা খর্বের সব সুপারিশ প্রত্যাহারেরও দাবি জানিয়েছে জামায়াত।

গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াত বাজার অর্থনীতি বা বেসরকারি বিনিয়োগের বিরোধী নয়। তাদের বিরোধিতা জবাবদিহিহীন হস্তান্তরের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, ‘প্রতিযোগিতা মানে একচেটিয়া হাতবদল নয়। সংস্কার মানে প্রতিষ্ঠান মেরামত, প্রতিষ্ঠান বিক্রি নয়। জ্বালানি নিরাপত্তা মানে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ, গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ নয়।’

সংবাদ সম্মেলনে পাবনা-১ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেন, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদসহ দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

প্রবাসী আয়ে ঊর্ধ্বমুখী ধারা, ১০ দিনে এলো প্রায় ৯৯ কোটি ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ
প্রবাসী আয়ে ঊর্ধ্বমুখী ধারা, ১০ দিনে এলো প্রায় ৯৯ কোটি ডলার

দেশের প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ১০ দিনে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে ৯৮ কোটি ৯৫ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১২ হাজার ১৮১ কোটি টাকা।

রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ১০ পয়সা হিসাবে রেমিট্যান্সের এ পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের অক্টোবরের প্রথম ১০ দিনে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরের প্রথম ১০ দিনে দেশে ৯৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। সে হিসাবে চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৫ দশমিক ৩ শতাংশ।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে মোট ৯৫৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৮৫৩ কোটি ডলার। সেই হিসাবে চলতি অর্থবছরের ১০ অক্টোবর পর্যন্ত আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে প্রায় ১২ দশমিক ৩ শতাংশ।

রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকারদের মতে, ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের প্রতিযোগিতামূলক বিনিময় হার এবং বৈধ পথে প্রবাসী আয় পাঠাতে উৎসাহিত করার উদ্যোগ এ প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।

প্রবাসী আয়ের এ প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার জোগান ও সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকায় প্রবাসী আয় নিয়ে ইতিবাচক পরিস্থিতি বজায় রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

দিল্লির বিক্ষোভ নিয়ে কঙ্গনার বিস্ফোরক মন্তব্য, তুললেন ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
দিল্লির বিক্ষোভ নিয়ে কঙ্গনার বিস্ফোরক মন্তব্য, তুললেন ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

ভারতে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে চলমান বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কে জড়িয়েছেন অভিনেত্রী ও বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউত। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লিতে চলমান আন্দোলনের একাংশকে ‘দেশবিরোধী শক্তি’ আখ্যা দিয়ে তিনি অভিযোগ করেছেন, দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার ষড়যন্ত্রের অংশ এই বিক্ষোভ।

তবে আন্দোলনকারীদের মূল দাবি, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত এবং এ বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কঙ্গনা বলেন, দেশের সাধারণ মানুষও এখন তথাকথিত দেশবিরোধী শক্তিগুলোকে চিনতে শুরু করেছেন। তার ভাষ্য, মানুষ বুঝতে পারছেন কারা দেশকে বিপদের দিকে ঠেলে দিতে চাইছে।

কঙ্গনা বলেন, ‘দেখুন, কীভাবে মানুষ এখন এই দেশবিরোধী শক্তিগুলিকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসছেন। পুলিশকে বাদ দিলেও সাধারণ মানুষ এবার তাদের ধরে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাবেন। কারণ, কারা দেশকে বিপদের দিকে ঠেলে দিতে চাইছে, তা মানুষ বুঝতে পারছেন।’

বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের অভিযান, আটক নিয়ে বিতর্ক

দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের অভিযানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কঙ্গনার এই মন্তব্য সামনে আসে। আন্দোলনকারীদের আটক করার ঘটনায় বিরোধী শিবিরের কয়েকজন নেতাও পুলিশের পদক্ষেপের মুখে পড়েন।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ঘটনায় আটক ব্যক্তির সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়ে যায়। তবে আটক ব্যক্তির সংখ্যা ও পুলিশের অভিযানের বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

বিক্ষোভকে দেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করলেও নাগরিকদের দুর্ভোগ কমানোর ওপর জোর দিয়েছেন কঙ্গনা। দিল্লিগামী ট্রেন বাতিল, মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা এবং যন্তর মন্তরের আশপাশে যান চলাচলে বাধার মতো পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

আগেও আন্দোলনকারীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য

সিজেপির আন্দোলন ঘিরে এবারই প্রথম বিতর্কিত মন্তব্য করলেন না কঙ্গনা। এর আগে জুলাই মাসে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ নিয়ে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের সময় আন্দোলনকারীদের ‘নর্দমার প্রজন্ম’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন তিনি।

সে সময় আন্দোলনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও, ভাষা, পোশাক ও আচরণ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী। নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতেও এ নিয়ে সমালোচনা করেন তিনি।

সৌরভ দাসের সঙ্গে প্রকাশ্য বাকযুদ্ধ

সিজেপি নেতা সৌরভ দাসের সঙ্গেও প্রকাশ্য বাকযুদ্ধে জড়িয়েছেন কঙ্গনা। সৌরভের দাবি ছিল, বিজেপিসহ কোনো রাজনৈতিক দলই কঙ্গনাকে গুরুত্ব দেয় না। তার মতে, গণতন্ত্রকে নতুন করে জাগিয়ে তুলতে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা কঙ্গনার সংসদ সদস্য হিসেবে কাজের চেয়ে বেশি।

এর জবাবে সৌরভকে ‘অকর্মণ্য’ বলে আক্রমণ করেন কঙ্গনা। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী হিসেবে তাকে কী করতে হবে, সে বিষয়ে সৌরভের উপদেশ দেওয়ার অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে কঙ্গনার মন্তব্য রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। একদিকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলছেন বিজেপি সাংসদ, অন্যদিকে বিক্ষোভকারীরা এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত ও জবাবদিহি দাবি করছেন। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ছে।

কালের আলো/জেএন

পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়কে জেতানোর সুযোগ, চালু ‘ফ্যান কাপ ভোটিং’

ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ
পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়কে জেতানোর সুযোগ, চালু ‘ফ্যান কাপ ভোটিং’

মাঠে খেলা শুরুর আগেই শুরু হয়েছে সমর্থকদের লড়াই। পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে রাখতে ভোট দেওয়ার সুযোগ নিয়ে চালু হয়েছে ‘ফ্যান কাপ ভোটিং’। প্রথমবারের মতো আয়োজিত হতে যাওয়া ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬’ ঘিরে দর্শক ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে এই উদ্যোগ নিয়েছে আয়োজকেরা।

রোববার (১১ অক্টোবর) থেকে আলোচনায় আসা এই ভোটিং কার্যক্রমে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে নিজের পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়কে ভোট দিতে পারবেন সমর্থকেরা। ভোটগ্রহণ চলবে আগামী ১৩ নভেম্বর বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

ভোট দিতে ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজের ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার করে পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করতে হবে। একটি ই-মেইল ঠিকানা থেকে দেওয়া যাবে মাত্র একটি ভোট। এ ক্ষেত্রে ই-মেইল যাচাই কিংবা পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।

ভোটের সর্বশেষ অবস্থান জানতে ওয়েবসাইটের ‘ফ্যান কাপ লিডারবোর্ড’ দেখার সুযোগও থাকছে। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক মোট ভোট, শতকরা হার এবং প্রতিদিনের ভোটের হিসাব দেখা যাবে।

২৫ অক্টোবর শুরু মাঠের লড়াই

আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপের (এবিজি) চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরের উদ্যোগে আয়োজিত হচ্ছে ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬’। আগামী ২৫ অক্টোবর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এবিজি বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে শুরু হবে ক্রিকেট ও ফুটবলের এই প্রতিযোগিতা। ফ্লাডলাইটের আলোয় রাতে অনুষ্ঠিত হবে দুই খেলার ম্যাচগুলো।

টুর্নামেন্টে অংশ নেবে দেশের ১০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। এগুলো হলো—আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি), নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি), ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব), সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ), ফেয়ারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্স এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

চ্যাম্পিয়নদের জন্য ১০ লাখ টাকা

ক্রিকেট ও ফুটবলে পৃথক প্রতিযোগিতায় শিরোপার জন্য লড়বে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দল। প্রতিটি খেলায় চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য ১০ লাখ টাকা এবং রানার্সআপ দলের জন্য ৫ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছেন আয়োজকেরা।

পুরস্কারের পাশাপাশি পেশাদার পরিবেশে নিজেদের প্রতিভা ও দক্ষতা তুলে ধরার সুযোগ পাবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আয়োজকদের লক্ষ্য, তরুণ প্রজন্মকে মাঠমুখী করা এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে প্রতিযোগিতামূলক ক্রীড়া সংস্কৃতি গড়ে তোলা।

অধিনায়কদের নিয়ে ‘ক্যাপ্টেনস মিট অ্যান্ড গ্রিট’

টুর্নামেন্ট সামনে রেখে শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এবিজি চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরের বাসভবনে অনুষ্ঠিত হয় ‘ক্যাপ্টেনস মিট অ্যান্ড গ্রিট’।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবিজি স্পোর্টস সিটির পরিচালক ইমরুল হাসান, উপদেষ্টা বিদ্যুৎ কুমার ভৌমিক, টি স্পোর্টসের নির্বাহী পরিচালক তাসভির উল ইসলাম, অপারেশন্স ম্যানেজার সালমান হাসান এবং ইকরাম হোসেন রাফি। এ ছাড়া ক্রিকেট ও ফুটবলে অংশ নিতে যাওয়া ২০টি দলের অধিনায়ক ও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

অংশগ্রহণকারী অধিনায়কেরা জানান, পেশাদার পরিবেশে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণের এমন সুযোগ তাঁদের জন্য গর্বের। তাঁদের মতে, এ ধরনের আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে খেলাধুলার চর্চা বাড়ানোর পাশাপাশি তরুণ খেলোয়াড়দের প্রতিভা বিকাশেও ভূমিকা রাখবে।

দেশের ক্রীড়া অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং তরুণদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ক্রীড়া পরিবেশ তৈরির ধারাবাহিকতায় এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। আয়োজকদের প্রত্যাশা, মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি ‘ফ্যান কাপ ভোটিং’ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থী ও সমর্থকদের মধ্যেও তৈরি করবে বাড়তি উন্মাদনা।

কালের আলো/জেএন