খুঁজুন
                               
, ,
           

সরকারের ছয় মাস: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি

আহসান হাবিব বরুন:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৫১ অপরাহ্ণ
সরকারের ছয় মাস: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি

প্রথম ছয় মাস যেকোনো সরকারের চরিত্র, অগ্রাধিকার, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ পথচলার একটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্বাভাস। ছয় মাসে সব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন সম্ভব নয়, আবার কয়েকটি দৃশ্যমান সাফল্য দিয়েও একটি সরকারের দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতার পূর্ণাঙ্গ বিচার করা যায় না। তবু ১৬ আগস্ট ২০২৬-এ বিএনপি সরকারের ছয় মাস পূর্তির মুহূর্তে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের মানুষ স্বাভাবিকভাবেই জানতে চাইছে—কী পেলাম, কী পেলাম না এবং সামনে কী অপেক্ষা করছে?

আমার পর্যবেক্ষণে, এই ছয় মাসের হিসাব একেবারে একপাক্ষিক নয়। সরকারের কিছু ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি, আবার কয়েকটি ক্ষেত্রে ভবিষ্যতের বড় সম্ভাবনার দরজাও খুলেছে। সামগ্রিক বিচারে এখন পর্যন্ত সাফল্যের পাল্লা কিছুটা ভারী; তবে সেই সাফল্যকে টেকসই করার পরীক্ষাই হবে আগামী ছয় মাস।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের একটি আলোচিত দিক হলো তাঁর তুলনামূলক বিনয়ী ও কর্মমুখী উপস্থিতি। নিয়মিত দাপ্তরিক কাজ, সাধারণ পোশাক-পরিচ্ছদ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে সরাসরি সম্পৃক্ততা ক্ষমতাসীন রাজনীতিতে একটি ভিন্ন বার্তা তৈরি করেছে। অবশ্যই কোনো প্রধানমন্ত্রীর পোশাক বা ব্যক্তিগত আচরণ দিয়ে রাষ্ট্রের সাফল্য পরিমাপ করা যায় না; কিন্তু নেতৃত্বের আচরণ রাষ্ট্রের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি প্রতীকী প্রভাব ফেলে।

ক্ষমতা যদি নাগরিকের কাছাকাছি আসে, রাষ্ট্রের সঙ্গে মানুষের দূরত্ব কমে। আর রাষ্ট্র যদি জাঁকজমকের পরিবর্তে কাজকে অগ্রাধিকার দেয়, প্রশাসনের নিচের স্তরেও তার প্রভাব পড়তে পারে।

এই কারণেই প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সংযমকে শুধু ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য হিসেবে না দেখে একটি সম্ভাব্য প্রশাসনিক সংস্কৃতির সূচনা হিসেবে দেখা যেতে পারে।

সরকারের ইতিবাচক দিকগুলোর মধ্যে সরকারি ব্যয় সাশ্রয়ের প্রবণতা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। উন্নয়ন প্রকল্পে অপচয়, অপ্রয়োজনীয় ব্যয়, দুর্বল নজরদারি এবং মধ্যস্বত্বভোগী নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ রাষ্ট্রের অর্থ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।

কারণ সরকারি অর্থ কোনো সরকারের ব্যক্তিগত সম্পদ নয়; এটি জনগণের করের টাকা। প্রতিটি টাকা কোথায় ব্যয় হচ্ছে এবং তার বিনিময়ে জনগণ কী পাচ্ছে—এই প্রশ্নের জবাবদিহি নিশ্চিত করাই আধুনিক রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক শর্ত।

জন লকের রাষ্ট্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য—“Government has no other end, but the preservation of property.”অর্থাৎ, সরকারের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য মানুষের সম্পদ ও অধিকার সংরক্ষণ করা।

বাংলাদেশের বাস্তবতায় এর অর্থ শুধু ব্যক্তিগত সম্পত্তি রক্ষা নয়; রাষ্ট্রের সম্পদও জনগণের সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা। তাই সরকারি ব্যয়ের অপচয় রোধ নিজেই একটি জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ।

তবে ব্যয় কমানো মানেই উন্নয়ন কমানো নয়। বরং সরকারের লক্ষ্য হওয়া উচিত—অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ বাড়ানো। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, কৃষি, কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তিতে ব্যয় বাড়াতে হলে অপচয় বন্ধ করতেই হবে।

ছয় মাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক উদ্যোগ ফ্যামিলি কার্ড। মার্চে এর পাইলট কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে ১৪টি ইউনিটে ৬ হাজার ৫০০ পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করে কর্মসূচির যাত্রা শুরু হয়; দীর্ঘমেয়াদে দুই কোটি পরিবারকে এর আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৪১ লাখ নারীকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার জন্য ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। কার্ডধারী নারীপ্রধান পরিবার মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা সহায়তা পাওয়ার কথা।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ দর্শন রয়েছে—“ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক।”সামাজিক নিরাপত্তাকে বিচ্ছিন্ন ভাতা থেকে একটি সমন্বিত পরিবারভিত্তিক ব্যবস্থায় রূপান্তরের এই চেষ্টা সফল হলে এটি বাংলাদেশের কল্যাণরাষ্ট্রের কাঠামোতে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনতে পারে।

তবে ফ্যামিলি কার্ডের সাফল্য কাগজে নয়, বাস্তবায়নে। প্রকৃত দরিদ্র মানুষকে তালিকাভুক্ত করা, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত নির্বাচন, ডিজিটাল যাচাই এবং দুর্নীতিমুক্ত অর্থ বিতরণ নিশ্চিত করতে না পারলে একটি ভালো উদ্যোগও পুরোনো ভাতা-নির্ভর ব্যবস্থার মতো দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জন রলসের ন্যায়বিচারের দর্শনের সারকথা এখানে প্রাসঙ্গিক—সমাজের প্রতিষ্ঠানগুলো এমনভাবে পরিচালিত হওয়া উচিত, যাতে সবচেয়ে কম সুবিধাপ্রাপ্ত মানুষও ন্যায্যভাবে উপকৃত হয়।

সুতরাং সামাজিক সুরক্ষার চূড়ান্ত লক্ষ্য তাই শুধু ভাতা নয়; দারিদ্র্য থেকে মানুষকে সক্ষমতার দিকে নিয়ে যাওয়া।

সরকারের প্রথম ছয় মাসে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ। তবে সাধারণ মানুষের কাছে অর্থনীতির সাফল্যের সবচেয়ে সহজ মাপকাঠি হলো—চাকরি আছে কি না, আয় বাড়ছে কি না এবং সংসারের খরচ সামলানো যাচ্ছে কি না।

সরকার নিজস্ব ছয় মাসের মূল্যায়নে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক কর্মসূচিতে অগ্রগতির কথা তুলে ধরেছে; একই সঙ্গে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, জনগণের প্রত্যাশার তুলনায় বাস্তব কর্মদক্ষতার আরও উন্নতি দরকার।

এখানে সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিনিয়োগ বাড়ানো, বেসরকারি খাতকে আস্থা দেওয়া, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং ব্যাংকিং খাতকে সুস্থ করা। এক্ষেত্রে গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

একটি সরকার যতই ভালো সামাজিক কর্মসূচি গ্রহণ করুক, যদি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হয়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক সুরক্ষার ওপর চাপ বাড়তেই থাকবে।

অতএব সরকারের পরবর্তী লক্ষ্য হওয়া উচিত—ভাতা থেকে কর্মসংস্থান, নির্ভরতা থেকে সক্ষমতা এবং ভোগ থেকে উৎপাদনের দিকে অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়া।

তারেক রহমান সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনার জায়গা পররাষ্ট্রনীতি। বাংলাদেশের মতো ভূরাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রের জন্য কোনো একক শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কখনোই নিরাপদ নয়। ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, জাপান, মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থে জরুরি।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক যোগাযোগ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ১০ আগস্ট ভারতের নতুন হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে একটি “অনুকূল পরিবেশ” তৈরির ওপর জোর দিয়েছেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রত্যাশিত কিছু সংবেদনশীল বিষয়ও আলোচনার অংশ হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে; ২০–২৫ আগস্টের একটি সম্ভাব্য সময়সীমা নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, যদিও চূড়ান্ত তারিখ তখনও নিশ্চিত হয়নি।

এখানে তারেক রহমানের সামনে একটি ঐতিহাসিক সুযোগ রয়েছে। তাঁর পিতা জিয়াউর রহমানের বহুমাত্রিক ও জাতীয় স্বার্থকেন্দ্রিক কূটনীতির অভিজ্ঞতা এবং তাঁর মা খালেদা জিয়ার সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থকেন্দ্রিক রাজনৈতিক অবস্থানের ঐতিহ্য থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশ যদি বন্ধুত্ব সবার সঙ্গে, নির্ভরতা কারও ওপর নয়—এই নীতিকে বাস্তব কূটনীতিতে রূপ দিতে পারে, তাহলে তা দেশের জন্য ইতিবাচক হবে।

তবে কূটনীতির সাফল্য শুধু সফর, বৈঠক বা ছবি দিয়ে বিচার করা যাবে না। বাণিজ্য, পানি, সীমান্ত, নিরাপত্তা, জ্বালানি, আঞ্চলিক যোগাযোগ এবং শ্রমবাজারে বাংলাদেশ কতটা বাস্তব সুবিধা অর্জন করতে পারছে—সেটিই হবে চূড়ান্ত মাপকাঠি।

সরকারের ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের কিছু অপ্রাপ্তি স্পষ্ট। চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক, অপরাধী চক্র এবং স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রভাব—এসব নিয়ে নাগরিক উদ্বেগ এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি।

বিশেষ করে চাঁদাবাজি বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য একটি গভীর সমস্যা। একজন ব্যবসায়ী যখন বৈধভাবে ব্যবসা করার পরও একাধিক পক্ষকে চাঁদা দিতে বাধ্য হন, তখন সেই অর্থ শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। অর্থাৎ চাঁদাবাজির মূল্য পরিশোধ করে শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাই।

সরকার এ ক্ষেত্রে কঠোর হওয়ার কিছু দৃশ্যমান বার্তা দিয়েছে। কিন্তু গ্রেপ্তারই শেষ সমাধান নয়। চাঁদাবাজির পেছনের অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক, পৃষ্ঠপোষকতা, অর্থের উৎস এবং প্রশাসনিক দুর্বলতাও চিহ্নিত করতে হবে।

চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অভিযান হতে হবে দল-মত নির্বিশেষে। অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় যদি তদন্তের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে রাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হবে।

আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নের সঙ্গে পুলিশের অভ্যন্তরীণ সংস্কার সরাসরি যুক্ত। রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে পদায়ন, বদলি কিংবা নেতৃত্ব নির্বাচন কোনো আধুনিক রাষ্ট্রের জন্য টেকসই ব্যবস্থা হতে পারে না।

পুলিশের নেতৃত্বে থাকতে হবে সততা, পেশাদারিত্ব, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা এবং মাঠপর্যায়ের কর্মদক্ষতা। যোগ্য কর্মকর্তাকে যোগ্য জায়গায় বসানো শুধু পুলিশের স্বার্থ নয়—এটি নাগরিকের নিরাপত্তার প্রশ্ন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, অর্থের বিনিময়ে পদায়নের সংস্কৃতি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে। কোনো কর্মকর্তা যদি একটি পদ পাওয়াকে বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করেন, তাহলে সেই বিনিয়োগের অর্থ ফেরত পাওয়ার প্রবণতা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এতে পুলিশি সেবা দুর্নীতির চক্রে আটকে যেতে পারে।

ম্যাক্স ভেবারের আধুনিক আমলাতন্ত্রের ধারণার মূল শিক্ষা ছিল—রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যক্তিগত সম্পর্ক নয়, নিয়ম, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বকে প্রাধান্য দিতে হবে।

দ্রব্যমূল্য নিয়ে মানুষের অপ্রাপ্তি এখনো সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারি নীতি, বাজেট বা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যানের চেয়েও সাধারণ মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো বাজারের ব্যাগে কতগুলো পণ্য কেনা যাচ্ছে। মূল্য নিয়ন্ত্রণে শুধু অভিযান যথেষ্ট নয়। উৎপাদন, আমদানি, পরিবহন, মজুত, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে সমন্বিত নজরদারি দরকার।

সরকারকে প্রযুক্তিনির্ভর বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। কোন পণ্য কোথায় কত দামে উৎপাদিত হচ্ছে, কত দামে পরিবাহিত হচ্ছে এবং কত দামে বিক্রি হচ্ছে—এই তথ্য বিশ্লেষণ করা গেলে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও কৃত্রিম সংকট দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব।

কারণ অর্থনীতির শেষ বিচারক কোনো মন্ত্রণালয় নয় বরং সাধারণ মানুষের বাজারের ব্যাগ।

একটি সরকারের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নির্ভর করে প্রতিষ্ঠান কতটা শক্তিশালী হচ্ছে তার ওপর। একজন ভালো প্রধানমন্ত্রী বা দক্ষ মন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু রাষ্ট্রকে টেকসইভাবে ভালো রাখতে হলে ভালো প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য।

আগামী দিনে সরকারের উচিত প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য পরিমাপযোগ্য কর্মসূচি নির্ধারণ করা। ছয় মাস, এক বছর বা দুই বছরের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন করা যেতে পারে।

সরকারের সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা পুনর্বিন্যাস নিয়েও আলোচনা চলছে এবং ছয় মাসের মূল্যায়নের ভিত্তিতে কিছু পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথা সংবাদমাধ্যমে এসেছে।

এটি যদি হয়, তবে পরিবর্তনের একমাত্র উদ্দেশ্য হওয়া উচিত দক্ষতা বৃদ্ধি ও ফলাফল নিশ্চিত করা রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা নয়।

সরকারের সামনে এখন অন্তত আটটি বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি—

প্রথমত, আইনশৃঙ্খলা ও নাগরিক নিরাপত্তা।

দ্বিতীয়ত, পুলিশ ও প্রশাসনে মেধা, সততা ও পেশাদারিত্বভিত্তিক পদায়ন।

তৃতীয়ত, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত অপরাধের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা।

চতুর্থত, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার সংস্কার।

পঞ্চমত, ফ্যামিলি কার্ডসহ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে প্রকৃত সুবিধাভোগী নিশ্চিত করা।

ষষ্ঠত, সরকারি ব্যয়ের প্রতিটি টাকার সর্বোচ্চ ফল নিশ্চিত করা।

সপ্তমত, কর্মসংস্থান ও বেসরকারি বিনিয়োগকে অর্থনৈতিক নীতির কেন্দ্রে আনা।

অষ্টমত, জাতীয় স্বার্থভিত্তিক ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতিকে আরও শক্তিশালী করা।

দার্শনিক অ্যারিস্টটলের বিখ্যাত বক্তব্য—“The rule of law is better than that of any individual.” বাংলা অর্থ—“কোনো ব্যক্তির শাসনের চেয়ে আইনের শাসন উত্তম।” অতএব আগামী বাংলাদেশের জন্য এই নীতিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

পরিশেষে বলা যায়,বিএনপি সরকারের ছয় মাসকে শুধু রাজনৈতিক আনুগত্যের চোখে দেখা যাবে না; দেখতে হবে রাষ্ট্র পরিচালনার বাস্তব ফলাফলের আলোকে। এই ছয় মাসে সরকার কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করেছে—সামাজিক সুরক্ষায় ফ্যামিলি কার্ড, সরকারি ব্যয়ে সংযমের চেষ্টা, প্রশাসনিক কর্মপরিকল্পনা এবং কূটনীতিতে ভারসাম্যের প্রচেষ্টা তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য। একই সঙ্গে অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, দ্রব্যমূল্য, আইনশৃঙ্খলা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে এখনো বড় কাজ বাকি।

সুতরাং সরকারের ছয় মাসের রায় হতে পারে—সাফল্য আছে, ব্যর্থতাও আছে; কিন্তু সম্ভাবনা সবচেয়ে বড়।

এই সম্ভাবনাকে বাস্তব সাফল্যে রূপ দিতে হলে সরকারকে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে—জনগণ  প্রতিশ্রুতি শুনতে চায় না, তারা ফলাফল দেখতে চায়।

প্রথম ছয় মাস ছিল পথচলার শুরু। আগামী ছয় মাস হবে প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবে রূপ নেয় তার পরীক্ষা। যদি সরকার যোগ্য মানুষকে যোগ্য জায়গায় বসাতে পারে, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন থাকতে পারে, বাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে পারে, কর্মসংস্থান বাড়াতে পারে এবং পররাষ্ট্রনীতিতে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ স্থানে রাখতে পারে—তাহলে এই ছয় মাসের ইতিবাচক ভিত্তি একটি দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্র-সংস্কারের সূচনায় পরিণত হতে পারে।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক। 

ই-মেইল: ahabibhme@gmail.com

চা-বাগান, ঝরনা আর হাওর টানছে পর্যটক, প্রস্তুত মৌলভীবাজার

মৌলভীবাজার সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৬ পূর্বাহ্ণ
চা-বাগান, ঝরনা আর হাওর টানছে পর্যটক, প্রস্তুত মৌলভীবাজার

শরতের নীল আকাশ, সবুজ চা-বাগান, পাহাড়ি ঝরনা আর হাওরের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটিতে মৌলভীবাজারে পর্যটকদের আগ্রহ বাড়ছে। পর্যটকদের বরণে প্রস্তুতি নিয়েছে জেলার হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজগুলো। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে আগাম বুকিং ৮০ থেকে ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে, আবার কিছু কটেজের সব কক্ষ আগেই বুকিং হয়ে গেছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, হাকালুকি হাওর ও হামহাম ঝরনা পর্যটকদের আকর্ষণ করছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মণিপুরি সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি, নাচ-গান, হস্তশিল্প ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের অভিজ্ঞতা। সব মিলিয়ে পূজার ছুটিকে কেন্দ্র করে জেলার পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি প্রত্যাশা।

হোটেল-রিসোর্টে আগাম বুকিংয়ের চাপ

দুর্গাপূজার দীর্ঘ ছুটিকে সামনে রেখে মৌলভীবাজারের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে থাকার জায়গা বুকিংয়ের ব্যস্ততা বেড়েছে। বিশেষ করে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের হোটেল, রিসোর্ট এবং কটেজগুলোতে আগাম বুকিংয়ের হার উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছেছে। কমলগঞ্জের টিলাগাঁও ইকো ভিলেজের ব্যবস্থাপক সোহেল আহমেদ বলেন, পূজার দীর্ঘ ছুটিকে সামনে রেখে তাঁদের প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে।শ্রীমঙ্গলের বালিসিরা কটেজের মালিক ও রাধানগর পর্যটন কল্যাণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী সামছুল হক জানান, তাঁদের কটেজের সব কক্ষ আগেই বুকিং হয়েছে।

শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সভাপতি মো. সেলিম আহমদ বলেন, উৎসবের সময়ে হোটেল-রিসোর্টে সাধারণত ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ কক্ষ বুকিং থাকে। জেলার পর্যটনশিল্পের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকারি উদ্যোগ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

চা-বাগান, ঝরনা ও হাওরের টানে পর্যটকেরা

মৌলভীবাজারের পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ এর বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক পরিবেশ। বিস্তীর্ণ চা-বাগানের সবুজ, পাহাড়ি পথ, ঝরনার পানি এবং হাওরের বিস্তৃত জলরাশি ভ্রমণপিপাসুদের কাছে আলাদা আবেদন তৈরি করে। জেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, হাকালুকি হাওর ও হামহাম ঝরনা পর্যটকদের কাছে পরিচিত গন্তব্য। শরতের আবহে এসব স্থানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটির সময় ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন অনেকে। পর্যটকদের আকর্ষণ শুধু প্রকৃতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। স্থানীয় সংস্কৃতি ও খাবারের বৈচিত্র্যও মৌলভীবাজার ভ্রমণকে ভিন্ন অভিজ্ঞতা দেয়। ফলে পূজার ছুটিতে জেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের বাড়তি উপস্থিতির প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

মণিপুরি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের আকর্ষণ

কমলগঞ্জের ভানুবিল মাঝের গাঁওয়ে মণিপুরি কমিউনিটিভিত্তিক পর্যটনকেন্দ্র ‘মাঙাল ময়ুম’ স্থানীয় সংস্কৃতিকে পর্যটকদের সামনে তুলে ধরছে। সেখানে মণিপুরি নাচ-গান, হস্তশিল্প ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। কেন্দ্রটির উদ্যোক্তা নিরঞ্জন সিংহ বলেন, পর্যটকেরা এখানে এসে মণিপুরি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারেন। এতে একদিকে স্থানীয় সংস্কৃতির পরিচিতি বাড়ছে, অন্যদিকে এলাকার মানুষের বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনধারা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করার ফলে ভ্রমণকারীরা প্রকৃতি দেখার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সংস্কৃতি জানার সুযোগ পাচ্ছেন। এতে পর্যটন কার্যক্রমের সুফল স্থানীয় পর্যায়েও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন চান পর্যটনসংশ্লিষ্টরা

পর্যটকদের আগ্রহ বাড়লেও পর্যটনশিল্পের বিকাশে সড়ক ও রেল যোগাযোগব্যবস্থার দুরবস্থাকে বড় বাধা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, পর্যটনকেন্দ্রে যাতায়াত সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ না হলে পর্যটন খাতের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো কঠিন। ট্যুর গাইড অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রাসেল আলম সিলেট-ঢাকা রুটে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোসহ যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, যাতায়াতের সুযোগ বাড়লে পর্যটকদের ভ্রমণ পরিকল্পনা সহজ হবে এবং স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

পর্যটকদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা

পূজার ছুটিতে পর্যটকদের আগমন বাড়ার সম্ভাবনা বিবেচনায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে টহল ও হেল্পডেস্ক রাখার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। শ্রীমঙ্গল জোনের ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ পরিদর্শক মো. কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে টহল ও হেল্পডেস্ক থাকবে। মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম জানান, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের আগমন এবং পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে পূজার আগে, চলাকালে ও প্রতিমা বিসর্জনের সময় সতর্ক নজরদারি থাকবে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের সমন্বয়ে মৌলভীবাজারের পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। পূজার ছুটিতে আগাম বুকিংয়ের উচ্চ হার স্থানীয় হোটেল-রিসোর্ট ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা বাড়িয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

 

ত্রিদেশীয় সিরিজে হার দিয়ে শুরু বাংলাদেশের, জিম্বাবুয়ের দাপুটে জয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ পূর্বাহ্ণ
ত্রিদেশীয় সিরিজে হার দিয়ে শুরু বাংলাদেশের, জিম্বাবুয়ের দাপুটে জয়

ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই বড় হারের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। ব্যাটিং ব্যর্থতায় জিম্বাবুয়ের দেওয়া ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৭২ রানেই অলআউট হয়েছে তাওহিদ হৃদয়ের দল। আবুধাবিতে শনিবার ৯৯ রানের জয় দিয়ে সিরিজ শুরু করেছে জিম্বাবুয়ে। ম্যাচে শুরুতে বল হাতে জিম্বাবুয়েকে চাপে ফেলেছিল বাংলাদেশ। মাত্র ২৪ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে দলটি। কিন্তু ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেইগ আরভিনের বড় জুটি জিম্বাবুয়েকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করে। পরে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ।

টেলর-আরভিনের ১৫০ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়াল জিম্বাবুয়ে

টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদের বোলিংয়ের সামনে বিপাকে পড়ে জিম্বাবুয়ে। মাত্র ২৪ রানের মধ্যে তিনটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দলটি। তবে এই অবস্থায় দলের হাল ধরেন ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেইগ আরভিন। চতুর্থ উইকেটে দুজন মিলে গড়েন ১৫০ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। টেলর ১০১ বলে ৮১ রান করেন। আরভিনের ব্যাট থেকে আসে ১০৬ বলে ৯৩ রান। তাঁদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে প্রাথমিক বিপর্যয় কাটিয়ে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে যায় জিম্বাবুয়ে। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৭১ রান সংগ্রহ করে দলটি। ফলে বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৭২ রান।

তাসকিনের তিন উইকেটেও থামেনি জিম্বাবুয়ে

বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন তাসকিন আহমেদ। ৪৪ রান দিয়ে তিনি নেন ৩ উইকেট। শুরুতে তাঁর বোলিংয়েই দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে। এ ছাড়া শরীফুল ইসলাম ও সাইফ হাসান দুটি করে উইকেট শিকার করেন। তবে টেলর ও আরভিনের জুটি ভাঙতে দেরি হওয়ায় জিম্বাবুয়ে বড় সংগ্রহ গড়তে সক্ষম হয়।

২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা খুব খারাপ ছিল না। কিন্তু সৌম্য সরকার ৯ রান করে ব্লেসিং মুজারাবানির বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরতেই ছন্দপতন শুরু হয়। তানজিদ হাসান তামিম আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে দলকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে ৪৬ রান করে তাঁর বিদায়ের পর বাংলাদেশের চাপ আরও বাড়ে। নাজমুল হোসেন শান্তও বেশিক্ষণ উইকেটে থাকতে পারেননি। তিনি করেন ১৩ রান। দলীয় ৯৭ রানে চতুর্থ উইকেট হিসেবে আউট হন অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়। ২১ বলে ১৩ রান করে সিকান্দার রাজার বলে এলবিডব্লিউ হন তিনি। অধিনায়কের বিদায়ের পর বাংলাদেশের জয়ের আশা আরও ক্ষীণ হয়ে যায়।

নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ১৭২ রানেই শেষ

হৃদয়ের বিদায়ের পর বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে আর ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হয়নি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে দলটি। মোসাদ্দেক হোসেনও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। শেষ দিকে রিশাদ হোসেন ও তাসকিন আহমেদ ২৬ বলে ৩২ রানের জুটি গড়ে হারের ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করেন। রিশাদ করেন ২৩ রান, আর তাসকিন ১৬ রানে অপরাজিত থাকেন। তবে তাঁদের এই প্রচেষ্টা বাংলাদেশের পরাজয় এড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত ১৭২ রানেই গুটিয়ে যায় দলের ইনিংস। জিম্বাবুয়ের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন ব্র্যাড ইভান্স। তিনি নেন ৪ উইকেট। সিকান্দার রাজা ও মাসাকাদজা দুটি করে উইকেট শিকার করেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

 

 

ঢাকা ক্রিকেটার্সকে ৫১ রানে উড়িয়ে বসুন্ধরার টানা তিন জয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ
ঢাকা ক্রিকেটার্সকে ৫১ রানে উড়িয়ে বসুন্ধরার টানা তিন জয়

ব্যাট হাতে খালেদ মাসুদের ঝোড়ো অর্ধশতক আর বল হাতে তাপস ঘোষের বিধ্বংসী বোলিংয়ে দাপুটে জয় পেয়েছে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স। এবিজি স্পোর্টস সিটির আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ফ্রস্ট ব্লাস্ট টি-টোয়েন্টি করপোরেট ক্রিকেটের তৃতীয় আসরের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ঢাকা ক্রিকেটার্সকে ৫১ রানে হারিয়েছে দলটি। এ জয়ে টুর্নামেন্টে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়ে নিজেদের ধারাবাহিকতার প্রমাণ দিল বসুন্ধরা। শনিবার আগে ব্যাট করতে নেমে ১৯.৩ ওভারে ১৪০ রানে অলআউট হয় বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স। জবাবে ব্যাট করতে নেমে তাপস ঘোষের বোলিং তোপে ১৬.৫ ওভারে মাত্র ৮৯ রানেই গুটিয়ে যায় ঢাকা ক্রিকেটার্সের ইনিংস।

খালেদ মাসুদের ঝোড়ো ফিফটিতে লড়াকু সংগ্রহ 

ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্সের। দলীয় ৯ রানে মাহমুদুল হাসান শেখের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার মাহেন। তাঁর ব্যাট থেকে আসে মাত্র ২ রান। আগের দুই ম্যাচে ভালো ছন্দে থাকা শেহজাদ আকবর সোবহানও এদিন বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। তিনি করেন ৬ রান। প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দিতে দ্বিতীয় উইকেটে ৩৯ রানের জুটি গড়েন খালেদ মাসুদ ও সুমন আহমেদ। তবে ১৭ বলে ১০ রান করে সুমন ফিরে গেলে আবারও চাপে পড়ে দলটি। একপ্রান্ত আগলে রেখে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে যান খালেদ। তাঁর ব্যাটে রান আসতে থাকায় বড় সংগ্রহের আশা জাগে বসুন্ধরা শিবিরে। মাত্র ৩৫ বলে ৬টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৫৯ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। দলীয় ৯৬ রানে ফিরোজ রশিদের বলে খালেদ আউট হলে ফের ছন্দপতন ঘটে বসুন্ধরার ব্যাটিংয়ে। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে দলটি।

শেষ দিকে বাবুর ব্যাটে ১৪০ রান

মাঝের ওভারে অন্তু ১৩ বলে ১৭ এবং রাজি ১১ রান করে দলের সংগ্রহ বাড়াতে ভূমিকা রাখেন। শেষ দিকে বাবুর অপরাজিত ১৭ রানের ইনিংসও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ১৬ বলের ইনিংসটি খেলে বসুন্ধরাকে ১৪০ রানে পৌঁছে দেন তিনি। ঢাকা ক্রিকেটার্সের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন ফিরোজ রশিদ। ২৩ রান দিয়ে তিনি নেন ৩ উইকেট। মাহমুদুল হাসান শেখ এক মেডেনসহ ১৩ রান খরচায় শিকার করেন ২ উইকেট। ১৪১ রানের লক্ষ্য খুব বড় না হলেও বসুন্ধরার বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সের সামনে তা তাড়া করা কঠিন হয়ে পড়ে ঢাকা ক্রিকেটার্সের জন্য।

তাপস ঘোষের তোপে ভেঙে পড়ে ঢাকা ক্রিকেটার্স

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে ঢাকা ক্রিকেটার্স। বসুন্ধরার বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে দলটি। ব্যাটারদের কেউই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। ঢাকা ক্রিকেটার্সের হয়ে সর্বোচ্চ ২৪ রান করেন ফারুক টিটো। ২৯ বলের ইনিংসে দুটি চার ও একটি ছক্কা মারেন তিনি। রাসেল করেন ১১ রান এবং তাসবিহ ইবতিসাম রাফির ব্যাট থেকে আসে ১০ রান। বাকি ব্যাটারদের কেউই দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। অতিরিক্ত থেকে যোগ হয় ১৭ রান।

বসুন্ধরার হয়ে বল হাতে ম্যাচের সবচেয়ে উজ্জ্বল পারফরম্যান্স দেখান তাপস ঘোষ। মাত্র ৩.৫ ওভারে ৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট তুলে নেন তিনি। তাঁর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়েই দ্রুত গুটিয়ে যায় ঢাকা ক্রিকেটার্সের ব্যাটিং লাইনআপ। খালেদ মাসুদও বল হাতে অবদান রাখেন। ২ ওভারে ৮ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। রাজি ৪ ওভারে ২০ রান খরচায় শিকার করেন আরও ২ উইকেট। এ ছাড়া মাহেন ও লাজিম একটি করে উইকেট নেন। খালেদ মাসুদের ৫৯ রানের ইনিংস বসুন্ধরাকে লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দেয়। এরপর তাপস ঘোষের দুর্দান্ত বোলিং এবং অন্য বোলারদের কার্যকর ভূমিকা ঢাকা ক্রিকেটার্সকে ৮৯ রানেই আটকে দেয়।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি