খুঁজুন
                               
, ,
           

জেনারেল আজিজকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ চাইল ট্রাইব্যুনাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৫৬ অপরাহ্ণ
জেনারেল আজিজকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ চাইল ট্রাইব্যুনাল

ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার আসামি সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদকে গ্রেপ্তারে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে ‘রেড নোটিশ’ জারির বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে চিঠি দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়।

বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোকে (এনসিবি) এই চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আজিজ আহমেদ যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। এই তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর গতকাল সোমবার এনসিবিকে ‘রেড নোটিশ’ জারির জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে।

২০১৩ সালের মে মাসে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে ৫৭ জনের হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

এ মামলায় আসামিরা হলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, তথ্যমন্ত্রী জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ।

তৎকালীন মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, তৎকালীন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, তৎকালীন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ, গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকারও মামলার আসামি।

আসামি তালিকায় সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু এবং সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।

পুলিশ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন, সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, সাবেক আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, তৎকালীন র‍্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, সাবেক সেনাপ্রধান ও তৎকালীন বিজিবিপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, তৎকালীন র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মণ্ডল, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মাহবুব হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) মনিরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) মো. আনোয়ার হোসেন, তৎকালীন ডিএমপির ডিসি (ট্রাফিক-দক্ষিণ) আশরাফুজ্জামান, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল জোন) এসএম মেহেদী হাসান, সাবেক ডিআইজি হারুন-অর-রশীদ, সাবেক ডিআইজি বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, তৎকালীন ডিএমপির এডিসি (মতিঝিল বিভাগ) মো. আসাদুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম শিবলী নোমান এবং তৎকালীন মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিএম ফরমান আলী।

প্রসিকিউশনের তথ্য মতে, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের সমাবেশ ঘিরে ঢাকাসহ চারটি স্থানে ৫৮ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকায় ৩২, নারায়ণগঞ্জে ২০, চট্টগ্রামে ৫ ও কুমিল্লায় একজন নিহতের পরিচয় শনাক্ত করেছে তদন্ত সংস্থা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

বারোমাসি শজনে চাষে আক্তারের আয়ের নতুন সম্ভাবনা

যশোর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ
বারোমাসি শজনে চাষে আক্তারের আয়ের নতুন সম্ভাবনা

ধান, পাট ও গম চাষ করে আশানুরূপ লাভ না পাওয়ায় বিকল্প ফসলের সন্ধানে নেমেছিলেন যশোরের চৌগাছা উপজেলার পাতিবিলা গ্রামের কৃষক আক্তার হোসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বারোমাসি শজনে চাষের সম্ভাবনা দেখে এক বিঘা জমিতে শুরু করেন ওডিসি-৩ জাতের শজনে চাষ। এখন সেই জমির গাছ থেকে শজনে বিক্রি করে আয় করছেন তিনি। ফলন ও বাজারদর অনুকূলে থাকলে বছরে তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছেন এই কৃষক। আক্তার হোসেনের দাবি, শজনে বিক্রি করে ইতিমধ্যে প্রায় ৪০ হাজার টাকা আয় করেছেন। প্রাথমিক বিনিয়োগের অর্থও উঠে এসেছে। গাছে নতুন করে ফল আসতে শুরু করায় আগামী মৌসুমে আরও বেশি আয়ের প্রত্যাশা করছেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেখে শজনে চাষে আগ্রহ
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে যশোর জেলা হর্টিকালচার সেন্টারের মাধ্যমে ভারতের তামিলনাড়ু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত ওডিসি-৩ জাতের ৩০০টি চারা সংগ্রহ করেন আক্তার হোসেন। জমি তৈরি, চারা কেনা, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি বাবদ তাঁর প্রাথমিক খরচ হয় প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। চারা রোপণের কয়েক মাসের মধ্যেই গাছে ফল আসতে শুরু করে। এরপর থেকে শজনে বিক্রি করে আয় করছেন তিনি। আক্তার জানান, গত ৯ থেকে ১০ মাসে প্রায় ৪০ হাজার টাকার শজনে বিক্রি করেছেন। চলতি মৌসুমে তিন থেকে চার লাখ টাকা আয়ের সম্ভাবনা দেখছেন তিনি। ফলন ভালো হলে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে গাছের ক্ষতি না হলে আয় পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

একই গাছে বছরের বিভিন্ন সময়ে ফলন
আক্তারের জমিতে গিয়ে দেখা যায়, গাছের ডালে ডালে থোকায় থোকায় ঝুলছে লম্বা সবুজ শজনে। কৃষকের ভাষ্য, দেশি শজনে সাধারণত নির্দিষ্ট মৌসুমে ফল দিলেও ওডিসি-৩ জাতের গাছে বছরের বিভিন্ন সময়ে ফুল ও ফল আসে।

তিনি জানান, রোপণের পাঁচ থেকে সাত মাসের মধ্যে এ জাতের গাছে ফলন শুরু হতে পারে। একটি গাছ থেকে পাঁচ থেকে ছয় বছর পর্যন্ত শজনে পাওয়া সম্ভব। বর্তমানে তাঁর জমির সুস্থ গাছগুলোতে ৮ থেকে ১০ কেজি পর্যন্ত শজনে ধরছে বলে দাবি করেন তিনি। আক্তারের হিসাব অনুযায়ী, বছরে তিন থেকে চার দফা ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে প্রচলিত মৌসুমি ফসলের পাশাপাশি বারোমাসি শজনে চাষ কৃষকদের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

কেজিপ্রতি শজনে বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকায়
বর্তমানে আক্তারের উৎপাদিত শজনে প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চৌগাছা বাজারের সবজি বিক্রেতা জামাল হোসেন জানান, পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি শজনের দাম ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। খুচরা বাজারে তা ১৮০ টাকা পর্যন্ত উঠছে। লম্বা আকার ও সতেজতার কারণে ক্রেতাদের কাছে এ শজনের চাহিদা রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে বাজারদর ও চাহিদা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই প্রত্যাশিত আয় নির্ভর করবে উৎপাদন, বিক্রির পরিমাণ এবং বাজার পরিস্থিতির ওপর।

আক্তারের সাফল্যে অন্য কৃষকদের আগ্রহ
এক বিঘা জমিতে বারোমাসি শজনে চাষ করে আক্তারের আয় করার অভিজ্ঞতা দেখে এলাকার অন্য কৃষকেরাও এ জাতের চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। তাঁদের একজন হোসেন মাহমুদ। তিনি জানান, আক্তারের জমিতে শজনে চাষ দেখে উৎসাহিত হয়েছেন। আগামী মৌসুমে হর্টিকালচার সেন্টার থেকে চারা সংগ্রহ করে তিনিও চাষ শুরু করতে চান। তাঁর মতে, প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি বিকল্প ফসল হিসেবে শজনে চাষের সম্ভাবনা যাচাই করা যেতে পারে। তবে চাষ শুরুর আগে উৎপাদন খরচ, জমির উপযোগিতা ও বাজারের চাহিদা সম্পর্কে ধারণা নেওয়া প্রয়োজন।

ওডিসি-৩ জাতের চাষে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা
চৌগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হোসাইন বলেন, ওডিসি-৩ একটি সম্ভাবনাময় উচ্চফলনশীল জাত। রোগ প্রতিরোধ এবং খরা সহ্য করার সক্ষমতার কারণে যশোরের আবহাওয়ায় এটি চাষের সুযোগ রয়েছে। কৃষকদের এ জাতের শজনে চাষে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

যশোর হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক কৃষিবিদ দীপংকর দাস জানান, টিস্যু কালচার প্রযুক্তির মাধ্যমে ওডিসি-৩ জাতের মানসম্মত চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। রোপণের পাঁচ থেকে ছয় মাসের মধ্যে ফলন শুরু হতে পারে। বাণিজ্যিক চাষের পাশাপাশি বসতবাড়িতেও এ জাতের শজনে চাষ করা সম্ভব। তিনি জানান, গত বছর হর্টিকালচার সেন্টারে প্রায় সাত হাজার চারা উৎপাদন করা হয়েছিল। এর মধ্যে ছয় হাজার চারা কৃষকেরা সংগ্রহ করেন। চলতি বছর ১০ হাজার চারা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

শজনে পাতা থেকেও আয়ের সুযোগ
শজনে শুধু সবজি হিসেবেই নয়, পুষ্টিগুণের জন্যও পরিচিত। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. তানভীর ইসলাম জানান, শজনে ও শজনে পাতায় ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। তিনি বলেন, শজনে পাতাকে কেন্দ্র করেও বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাতা শুকিয়ে গুঁড়া করে বাজারজাত করা যায়। আবার অন্যান্য শাকের মতো আঁটি করেও বিক্রি করা সম্ভব। তবে এ ক্ষেত্রে পণ্যের মান বজায় রাখা, সঠিক প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বাজারের চাহিদা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

কৃষকের আয় বাড়াতে নতুন সম্ভাবনা
যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক প্রতাপ মন্ডল জানান, ওডিসি-৩ জাতের শজনে সারা বছর ফুল ও ফল দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। সরকারি সহায়তা, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং রপ্তানির উপযোগী বাজার গড়ে তোলা গেলে এ ফসল দেশের পুষ্টিচাহিদা পূরণের পাশাপাশি কৃষকদের আয়ের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। আক্তার হোসেনের এক বিঘা জমিতে শজনে চাষের অভিজ্ঞতা স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে নতুন আগ্রহ তৈরি করেছে। তবে প্রত্যাশিত লাভ নিশ্চিত করতে নিয়মিত পরিচর্যা, ফলন ধরে রাখা, উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং বাজারজাতকরণের কার্যকর ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের এগিয়ে নিতে বার্ডোর পাশে থাকবে সরকার: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

মোঃ শামসুল আলম খান, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৫ অপরাহ্ণ
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের এগিয়ে নিতে বার্ডোর পাশে থাকবে সরকার: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষা, পুনর্বাসন ও উন্নয়নে ব্লাইন্ড এডুকেশন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (বার্ডো)-এর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, এমপি। তিনি বলেছেন, বার্ডোর উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে তিনি তাঁর পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) “দৃষ্টি যেখানে সীমিত, সম্ভাবনা সেখানে সীমাহীন” এই প্রতিপাদ্যে বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে বার্ডোর উদ্যোগে আয়োজিত কর্মশালা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, “বার্ডোর উন্নয়নে যা যা করণীয়, আমি আমার পক্ষ থেকে তা করব। আমি যেখানে থাকি না কেন, আমি বার্ডোর সঙ্গে আছি।”

বার্ডোর অত্যাধুনিক ডিজিটাল ব্রেইল প্রেস স্থাপনের উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এটি স্থাপন করা হলে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা শিক্ষা ও জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস উপলক্ষ্যে একটি র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র‍্যালিতে নেতৃত্ব দেন বার্ডোর নির্বাহী পরিচালক ও স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত মো. সাইদুল হক। এতে বার্ডোর কার্যনির্বাহী ও সাধারণ পরিষদের সদস্য, কর্মকর্তা এবং বার্ডো বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত কর্মশালা ও আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব (গ্রেড-২) মো. কামরুজ্জামান (দুলাল), সমাজসেবা অধিদপ্তরের কার্যক্রম অধিশাখার পরিচালক মোস্তফা মোস্তাকুর রহিম খান এবং সাইটসেভার্স বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর অমৃতা রেজিনা রোজারিও।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাসুদুল আলম, শাহিনা আউয়াল, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও লেখিকা নাঈমা সুলতানা, বার্ডোর সহসভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, মো. এরশাদ আলী, আবদুল মান্নান, আজমেরী খানম নিশাত, শাহরিয়া শাহাব পিংকীসহ বার্ডোর সাধারণ পরিষদের সদস্য ও কর্মকর্তারা।

আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বার্ডোর সাধারণ পরিষদের সদস্য মো. এরশাদ আলী এবং বার্ডোর উপব্যবস্থাপক ফিরোজা খাতুন। তাঁরা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষা, পুনর্বাসন, নিরাপদ চলাচল এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরেন।

বার্ডোর নির্বাহী পরিচালক মো. সাইদুল হক তাঁর বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষা, পুনর্বাসন ও স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বার্ডোর কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বার্ডোর সহসভাপতি জাহাঙ্গীর আলম। সভাপতির বক্তব্যে বার্ডোর সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট মো. মোশাররফ হোসেন মজুমদার বলেন, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চলাচলে সাদাছড়ির পাশাপাশি সহায়ক হিসেবে মানবসম্পদকেও কাজে লাগানো হয়।

তিনি আরও বলেন, নতুন করে দৃষ্টিশক্তি হারানো ব্যক্তিদের মনোবল বৃদ্ধি, সাদাছড়ি ব্যবহারের প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান আয়োজন করা জরুরি। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে সাদাছড়ির ব্যবহার ও গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো সম্ভব।

উল্লেখ্য, বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবসের মূল লক্ষ্য দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপদ চলাচল, স্বাধীনতা, আত্মনির্ভরশীলতা এবং অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। দিবসটি উপলক্ষ্যে বার্ডোর এ আয়োজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষা ও পুনর্বাসনে সহযোগিতা জোরদারের গুরুত্ব তুলে ধরে।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমকে 

পে-স্কেলে জট

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৬ অপরাহ্ণ
পে-স্কেলে জট

নতুন বেতনকাঠামো ঘিরে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রত্যাশা ছিল বেতন বাড়বে, বৈষম্য কমবে, আর্থিক নিরাপত্তা আরও জোরালো হবে। কিন্তু বাস্তবায়নের শুরুতেই দেখা দিয়েছে উল্টো চিত্র। কোথাও গ্রেডের ক্রমে অসংগতি, কোথাও পদোন্নতির পর বাড়িভাড়া ভাতার হিসাব নিয়ে জটিলতা, আবার কোথাও উচ্চতর গ্রেড নির্ধারণে তৈরি হয়েছে নতুন বৈষম্যের আশঙ্কা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সরকারি বেতন ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি আইবাস-এর জটিলতা। ফলে নতুন কাঠামোয় বেতন পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর অনিশ্চয়তা কাটছে না।

  • বেতন নির্ধারণ শেষ হয়নি সবার; বাড়ছে ভোগান্তি
  • অনেকে আপাতত পুরোনো কাঠামোয়ই বেতন পাবেন
  • গ্রেড, পদোন্নতি ও উচ্চতর বেতনের হিসাবে অসংগতি; সমাধান চান চাকরিজীবীরা

আগামী রোববার বকেয়াসহ বর্ধিত বেতন পাওয়ার কথা থাকলেও সবার জন্য সেই সুবিধা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। যাঁদের নতুন বেতন নির্ধারণ নির্ধারিত সময়ে শেষ হবে না, তাঁদের আপাতত পুরোনো কাঠামোয় বেতন দেওয়া হবে। অর্থাৎ, নতুন বেতনকাঠামো কার্যকরের সময়েই একদল চাকরিজীবী বাড়তি অর্থ পাওয়ার অপেক্ষায় থাকবেন, অন্যদের অপেক্ষা করতে হবে হিসাবের জট খুলতে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী, আট লাখ পেনশনভোগী এবং ছয় লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন ও সংশ্লিষ্ট হিসাবের কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। এত বিপুলসংখ্যক সুবিধাভোগীর হিসাব নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এর মধ্যেই গ্রেড, পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড ও ভাতার নিয়ম নিয়ে অসংগতি দূর করার দাবি জোরালো হচ্ছে।

গ্রেডে পিছিয়ে, বেতনে এগিয়ে জুনিয়র
নতুন বেতন নির্ধারণে গ্রেডের ক্রম অনুযায়ী অসংগতি নিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে। কর্মচারীদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ১১তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২৫ হাজার টাকা, আর ১২তম গ্রেডের ২৪ হাজার ৩০০ টাকা। অথচ নতুন কাঠামোয় বেতন নির্ধারণের পর কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১১তম গ্রেডের কর্মচারীর মূল বেতন দাঁড়াচ্ছে ৩৭ হাজার টাকা, আর ১২তম গ্রেডের কর্মচারীর ৩৭ হাজার ৭০০ টাকা। এমন হিসাব কীভাবে তৈরি হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। গ্রেডের অবস্থান অনুযায়ী বেতনের সামঞ্জস্য নিশ্চিত না হলে একই ধরনের চাকরিতে কর্মরত ব্যক্তিদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে পারে। তবে এই অসংগতি কতটা বিস্তৃত এবং কোন নিয়মের প্রয়োগে তা তৈরি হচ্ছে, তা যাচাই করে সংশোধন করা জরুরি।

পদোন্নতি পেলেই কি কমবে আয়?
নতুন কাঠামোর আরেকটি উদ্বেগ বাড়িভাড়া ভাতা। কর্মচারীদের হিসাব অনুযায়ী, দশম গ্রেড থেকে নবম গ্রেডে পদোন্নতির পর কারও মূল বেতন ৪৯ হাজার ৭০০ টাকা থেকে বেড়ে ৫১ হাজার টাকা হতে পারে। কিন্তু বাড়িভাড়া ভাতার হার ৫০ শতাংশ থেকে ৪৫ শতাংশে নেমে এলে এ খাতে অর্থ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাঁদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, বাড়িভাড়া ভাতা কমতে পারে ১ হাজার ৯০০ টাকা। ফলে মূল বেতন ১ হাজার ৩০০ টাকা বাড়লেও মূল বেতন ও বাড়িভাড়া ভাতা মিলিয়ে মাসিক আয় ৬০০ টাকা কমে যেতে পারে।

উচ্চতর গ্রেডেও বৈষম্যের শঙ্কা
উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার যোগ্যতা ও সময়সীমা নিয়েও আপত্তি রয়েছে। কর্মচারীদের আশঙ্কা, চাকরির মেয়াদ ও জ্যেষ্ঠতার পার্থক্য যথাযথভাবে বিবেচনা না করা হলে জ্যেষ্ঠ ও জুনিয়র কর্মচারীর বেতন একই পর্যায়ে চলে আসতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে জুনিয়র কর্মচারীর বেতন জ্যেষ্ঠ কর্মচারীর বেতনকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাঁদের দাবি, উচ্চতর গ্রেডের শর্ত, চাকরির মেয়াদ গণনা এবং পদোন্নতির প্রভাব সম্পর্কে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিতে হবে। অন্যথায় পুরোনো অসংগতি দূর করতে গিয়ে নতুন বেতনবৈষম্য তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।

আইবাস-এ আটকে বেতন নির্ধারণ
গত ১৭ সেপ্টেম্বর নতুন বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারির পর ৫ অক্টোবর থেকে আইবাস ব্যবস্থায় বেতন নির্ধারণ শুরু হয়। কিন্তু নতুন নিয়ম প্রয়োগে জটিলতা ও অভিজ্ঞ জনবলের ঘাটতির কারণে অনেকের হিসাব এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব সমস্যা সমাধানে অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের কাছে আবেদন করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার পর্যন্ত এসব আবেদনের নিষ্পত্তি হয়নি। কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জটিলতা ১ নভেম্বরের আগে সমাধান করা কঠিন হতে পারে বলেও জানা গেছে।

অর্থ বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ চলছে এবং অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। তবে সমাধানের উদ্যোগ চললেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সবার বেতন হিসাব শেষ হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

প্রথম ধাপে মিলবে আংশিক সুবিধা
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রথম পর্যায়ে দশম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ এবং প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তারা ৪০ শতাংশ পাওয়ার কথা রয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে এই সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

কিন্তু বেতন নির্ধারণের জটিলতা দূর না হলে ঘোষিত সুবিধা বাস্তবে পৌঁছাতে দেরি হতে পারে। পুরোনো কাঠামোয় সাময়িকভাবে বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও নতুন কাঠামোর পাওনা কীভাবে ও কখন সমন্বয় করা হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা চাকরিজীবীদের উদ্বেগ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/আরআই/এমকে