খুঁজুন
                               
, ,
           

অর্থবছরের সময় বদলের যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত

মোস্তফা কামাল:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৫৯ অপরাহ্ণ
অর্থবছরের সময় বদলের যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত

দেশের প্রথাগত অর্থবছরের সময়কাল বদলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জুলাই টু জুনের বদলে অর্থবছরের নতুন সময়কাল হবে এপ্রিল টু মার্চ । আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে ট্রানজিশনাল অর্থবছর হিসেবে বিবেচনা করে ৯ মাসে অর্থবছর (জুলাই-মার্চ) শেষ করা হবে। এরপর ২০২৮-২৯ নতুন অর্থবছর (এপ্রিল-মার্চ) অনুযায়ী সরকারের সব কার্যক্রম শুরু করা হবে। পাকা সিদ্ধান্ত হয়েছে মন্ত্রি পরিষদে। তা কার্যকরের আগে, অর্থবছর পরিবর্তনের সঙ্গে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় যুক্ত বিভিন্ন সিস্টেমে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনতে হবে। চেঞ্জমেকিং বা নতুন বন্দোবস্তের চিন্তা-মেধা সবার হয় না। সেই উদ্যোগ নেয়ার সাহসও সবার হয় না। অর্থবছর বদলানো কেবল ক্যালেন্ডারের কয়েকটি পাতা উল্টে দেওয়া নয়। জুলাইর জায়গায় এপ্রিল, জুনের জায়গায় মার্চ নিয়ে আসা নয়। রাষ্ট্রের অর্থবছর কোনো সাধারণ ক্যালেন্ডার নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাজেট, উন্নয়ন প্রকল্প, রাজস্ব আদায়, সরকারি ব্যয়, কৃষি, ব্যবসা বাণিজ্য, ব্যাংকিং ব্যবস্থা, করব্যবস্থা, সরকারি হিসাবরক্ষণ এবং শেষ পর্যন্ত নাগরিকের জীবন।

আমাদের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বড় অংশ বাস্তবায়নের তৎপরতা দেখা যায় অর্থবছরের শেষ দিকে। ফলে জুনের শেষ মুহূর্তে প্রকল্প বাস্তবায়নের যে তাড়াহুড়া, তার সঙ্গে যখন বর্ষার পানি যুক্ত হয়, তখন তৈরি হয় এক অদ্ভুত বাস্তবতা। যে রাস্তা শুকনো মৌসুমে করার কথা, সেটি করা হচ্ছে বৃষ্টির মধ্যে। যে বাঁধের কাজ আগে শেষ হওয়ার কথা, সেটি চলছে নদীর পানি বাড়ার সময়। যে অবকাঠামো নির্মাণের জন্য বছরের শুরুতেই অর্থ বরাদ্দ ছিল, সেটির বড় অংশের কাজ শুরু হচ্ছে অর্থবছরের শেষ কয়েক মাসে। তখন প্রশ্ন ঘোরে এ উন্নয়ন কতো দিনের? এ কথাও সত্য বাংলাদেশের সমস্যা শুধু অর্থবছরের সময়সূচিতে নয়। সমস্যা আরো অনেক জায়গায়। প্রকল্প পরিকল্পনা, ক্রয়প্রক্রিয়া, অনুমোদনব্যবস্থা, জমি অধিগ্রহণ, দরপত্র, ঠিকাদারি ব্যবস্থাপনা, প্রকল্প পরিচালনা, তদারকি এবং জবাবদিহিতায় অনেক ঘাটতি।

প্রকৃতিতভাবে জুলাই-আগস্টে অর্থাৎ বর্ষাকালে অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম চলে। এতে একদিকে কাজ দীর্ঘায়িত হয়, কাজের গুণগত মানও নষ্ট হয়। সেইসাথে হয় জনদুর্ভোগ। এপ্রিল–মার্চ সময়কে অর্থবছর হিসেবে ব্যবহার করা হলে বর্ষার আগেই অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম শেষ করা যাবে। অর্থ বছরের এমন সময় বদল একটা বহুল-প্রতিক্ষীত পরিবর্তন। বাংলা ক্যালেন্ডার ধরে পহেলা বৈশাখ থেকে ৩০ চৈত্র অর্থবছর ধরার একটা দাবিও ঘুরছিল অনেক দিন ধরে। যা করা হয়েছে তাও বাংলা ক্যালেন্ডারের কাছাকাছিই। বেসরকারিভাবে গ্রাম-বাংলার দোকান-পাট অর্থাৎ হালখাতা ও জমির খাজনা পরিশোধ করা হচ্ছে বৈশাখ-চৈত্র মাসে অর্থাৎ এপ্রিল- মার্চ মাসে। এ প্রথাটি মোঘল সম্রাট আকবরের চিন্তার জের। মোগল সম্রাট আকবরের আমলে বাংলা নববর্ষ চালু হয়। রাজস্ব আহরণের দৃষ্টিকোণ থেকে তখন অর্থবর্ষ গণনা শুরু হয় এপ্রিল মাসে। পরে উপনিবেশ আমলে ১৮৬০ সালের ৭ এপ্রিল ভারতের প্রথম বাজেট দেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির স্কটিশ অর্থনীতিবিদ জেমস উইলসন। তখন থেকে এপ্রিল মাসে অর্থবছরের শুরু হয়। এই ব্যবস্থা চলে ১৯৪৭ সালের দেশভাগ পর্যন্ত। পরে ভারত এপ্রিল–মার্চ সময়কালকে নিজেদের অর্থবছর হিসেবে বজায় রাখে। অন্যদিকে পঞ্চাশের দশকে পাকিস্তান অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তন করে জুলাই–জুন ধরে অর্থবছর গণনা শুরু করে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে একই ধারা বজায় রেখে জুলাই–জুন সময় ধরেই অর্থবছর গণণা অব্যাহত রাখা হয়।

সময়ের বিবর্তনে খোদ ব্রিটেন তাদের অর্থবছর তিন মাস এগিয়ে এনে এপ্রিলে স্থিত করেছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, শ্রীলংকা এবং নেপাল তাদের অর্থ বছর পাল্টিয়ে ৬ মাস এগিয়ে এনেছে। বিশ্বের বেশির ভাগ দেশেই জানুয়ারি–ডিসেম্বর সময়কাল ধরেই অর্থবছর হিসাব করা হয়। বিশেষ করে উন্নত দেশে এটি বেশি। জানুয়ারি–ডিসেম্বর সময়কাল ধরে অর্থবছর গণনা করা দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, জার্মানি, ফ্রান্স, ব্রাজিল, রাশিয়া, কোরিয়া। পার্শ্ববর্তী শ্রীলঙ্কাও জানুয়ারি–ডিসেম্বর ধরেই অর্থবছরের সব হিসাব–নিকাশ করে। অন্যদিকে জুলাই–জুন ধরে যেসব দেশ অর্থবছর হিসাব করে, সেসব দেশের মধ্যে আছে অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, নেপাল, পাকিস্তান। আর এপ্রিল–মার্চ অর্থবছরের দেশগুলো মধ্যে আছে ভারত, যুক্তরাজ্য। তবে অনেক দেশে কর দেওয়ার সময় এবং অর্থবছরের সময়ের মধ্যে ভিন্নতা আছে।

অর্থবছর হলো সরকারের আর্থিক হিসাবের এক বছর। এই অর্থবছর ধরেই সরকার কত আয় করবে, কত খরচ করবে, তা নিয়ে বাজেট করে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য বরাদ্দও অর্থবছর হিসাবেই দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী বাজেট বাস্তবায়ন করে। অর্থবছরের নতুন সময়কাল বাস্তবায়ন শুরু হলে কেবল সরকারি পরিকল্পনায়ই পরিবর্তন আসবে না। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনায়ও আসবে নতুন সময়সূচি। এ ছাড়া মানুষের জীবনে প্রতিবছরের আয়–ব্যয়ের হিসাব, কর ব্যবস্থাপনাসহ বেশ কিছু পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতেই হবে। প্রভাব পড়বে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হিসাব–নিকাশেও। মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ও প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি), শুল্ক–কর, বিনিয়োগ, দেশি–বিদেশি ঋণ ও দায়দেনা, সরকারি প্রতিষ্ঠানের লাভ–লোকসানের হিসাব অর্থবছর ধরেই করা হয়। এসব বিবেচনায় নিয়েই মন্ত্রিসভার বৈঠকে অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ সংক্রান্ত তেমন আগাম তথ্য ছিল না গণমাধ্যমে। সরকার চায় উন্নয়ন প্রকল্পের কর্মকাণ্ডে গতি বাড়াতে। নতুন সময়কালে, অর্থাৎ এপ্রিল–মার্চ অর্থবছরে বাজেট কার্যকর করা হলে অর্থবছর শুরু হবে গ্রীষ্মের শুরুতে। ফলে এপ্রিল–জুনের শুকনো মৌসুমেই নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

এ ছাড়া প্রতিবছরই দেখা যায়, অর্থবছরের শেষ সময়ে উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা খরচ বেড়ে যায়। বিশেষ করে জুন মাসে তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করেন অনেক ঠিকাদার। এভাবে কাজ করে বিল তুলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে প্রতিবছরই। জুনে বৃষ্টির কারণে অনেক সময় কাজের মানও ঠিক থাকে না। অর্থবছরের শুরুতেই এপ্রিল মাস থেকে অবকাঠামো প্রকল্পের কাজ শুরু করা গেলে অর্থবছরের শেষ চার–পাঁচ মাসে (নভেম্বর–মার্চ) শুষ্ক মৌসুমে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে গতি বাড়ানো সম্ভব হবে। সড়ক, সেতু, ভবনসহ বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পে বর্ষার বাধা কিছুটা কমবে বলেও আশা করা যায়। এ ছাড়া অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের প্রায় পুরোটাই শুষ্ক মৌসুম হওয়ায় শেষ মুহূর্তে তড়িঘড়ি করে নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে দেখিয়ে টাকা তুলে নেওয়ার প্রবণতাও কমতে পারে। প্রশ্ন থাকা স্বাভাবিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কী হবে? অবশ্যই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হিসাব–নিকাশও পরিবর্তন করতে হবে। করব্যবস্থা ও কোম্পানির হিসাবের সঙ্গে নতুন অর্থবছরের সামঞ্জস্য করতে হবে। বড় বড় প্রতিষ্ঠান তাদের হিসাব–নিকাশের সফটওয়্যারে আপডেট আনতে হবে। এতে নতুন করে কিছু খরচ বাড়বে, প্রাপ্তিও ঘটবে। সাধারণ মানুষও পরিবর্তনের তাগিদ পাবে। এতে তাদের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি বড় কোনো পরিবর্তন হবে না। করবর্ষ ও অর্থবছর এক হওয়ায় ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের আয়কর গণনার সময় বদলে যাবে। এখন জুলাই–জুন সময়ের আয়ের ওপর কর দিতে হয়। আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন আসবে। নতুন ব্যবস্থায় এপ্রিল–মার্চ সময়ের ওপর ভিত্তি করে রিটার্ন জমা ও কর দিতে হবে।

সামগ্রিক বিবেচনায় ১ এপ্রিল–৩১ মার্চ করার সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ। বর্ষাকালের সঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সূচির অসামঞ্জস্য কমিয়ে প্রকল্পের গতি ও মান বাড়ানোর ক্ষেত্রে এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। শুধু অর্থবছরের সময়সূচি বদলালেই উন্নয়ন প্রকল্পের ধীরগতি, অর্থছাড়ে বিলম্ব বা দুর্বল বাস্তবায়ন সক্ষমতার মতো দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো দূর হবে না। বরং নতুন কাঠামো কার্যকর করতে বাজেট প্রণয়ন, রাজস্ব আদায়, সরকারি হিসাব ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বড় ধরনের সমন্বয় প্রয়োজন হবে। তাই এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক সংস্কার হিসেবে দেখার পাশাপাশি এর বাস্তবায়ন কতটা পরিকল্পিত ও দক্ষ হচ্ছে, সেদিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি, জবাবদিহি ও তদারকি নিশ্চিত করা গেলে অর্থবছর পরিবর্তন দেশের উন্নয়ন ও আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হয়ে উঠতে পারে। এমন আশাবাদ ও উচ্চ্বাশার সমান্তরালে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে সত্য। একটি দেশে ৫৫ বছর পর অর্থবছরের সময়সীমায় পরিবর্তনের একটি উদ্যোগ খাপ খাওয়াতে একটু সময় লাগবে সত্য। সময় পরিবর্তনের পাশাপাশি রাজস্ব আদায়, সরকারি হিসাব পরিচালনা, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, সরকারি ক্রয় ও অর্থছাড় ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার দিনে দিনে চলে আসবে, তা ভাবা যায় না। প্রত্যাশিত সুফল পেতে সময় লাগবে। অর্থবছর পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বাজেট প্রণয়ন, রাজস্ব আদায়, করব্যবস্থা, সরকারি হিসাবরক্ষণ, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও অর্থছাড়ের পদ্ধতিতে কী ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন হবে, সেই হোম ওয়ার্ক সরকার করেছে। প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় আনার আগে বিভিন্ন পর্যায়ে মতামত নেওয়া হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের অনেকে প্রকল্প অনুমোদন, দরপত্র প্রক্রিয়া, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ, অর্থছাড়, সরকারি ক্রয় এবং বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণের পুরো কাঠামোয় সংস্কারের তাগিদ দিয়েছেন। প্রকল্পের শুরুতেই সঠিক পরিকল্পনা এবং সময়মতো অর্থছাড় নিশ্চিত করতে বলেছেন। বারবার মেয়াদ বাড়ানোর প্রবণতা রুখতে বলেছেন।

রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক নানা দুর্বলতার কারণে প্রকল্পে দীর্ঘসূত্রতা যেন না হয় সে ব্যাপারে সরকারকে কঠোর হতে হবে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতার সামঞ্জস্য আনতে হবে। বলাই বাহুল্য শিল্প, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতো কিছু মন্ত্রণালয় ঐতিহাসিকভাবেই বাজেট বাস্তবায়নে দুর্বল। আবার স্থানীয় সরকার ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মতো কিছু মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন সক্ষমতা তুলনামূলক ভালো। এসব ফের কমাতে হবে। বাজেট বাস্তবায়নের বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আগে ব্যয় কাঠামোয় সংস্কার আনা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। সেইসথে প্রতিটি প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। মনে করার দরকার রয়েছে, ২০১০ সালেও জুলাই-জুনের পরিবর্তে অন্য সময়সীমায় অর্থবছর নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি। এবারের প্রেক্ষিত ভিন্ন। নতুন বাংলাদেশ, রূপান্তরিত বাংলাদেশের কথা মুখে মুখে সবাই বলছেন। এবার বাস্তব দেখার অপেক্ষা।

লেখক: সাংবাদিক-কলামিস্ট; ডেপুটি হেড অব নিউজ, বাংলাভিশন।

দুপুরে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ
দুপুরে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

রাতভর নানা নাটকীয়তা ও আলোচনা-সমালোচনার পর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ইশরাক হোসেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। এর আগে তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লেও সেটিকে গুজব বলে দাবি করেছিলেন ইশরাক। সোমবার সকালে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে ইশরাক হোসেন পদত্যাগের ঘোষণা ও পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনার কথা জানান। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার করা এবং সংগঠনের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে কাজ করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টে ইশরাক হোসেন লেখেন, ‘আজ (সোমবার) দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেব এবং সাংবাদিকদের মুখোমুখি হব, ইনশাআল্লাহ।’ তাঁর এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ নিয়ে চলমান আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। তবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি পদত্যাগের বিষয়ে বিস্তারিত কী ব্যাখ্যা দেন, তা এখনো জানা যায়নি।

নিজের ফেসবুক পোস্টে ইশরাক হোসেন লেখেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু মানুষের উল্লাসসূচক মন্তব্য তাঁর চোখে পড়েছে। ভবিষ্যতে আন্দোলন-সংগ্রামের প্রয়োজন হলে তাঁদের জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশে ফিরে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আশাও প্রকাশ করেন তিনি। পোস্টে তিনি আরও লেখেন, ‘এবার সংসদ সদস্য বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন বিএনপি কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে শতগুণ বেশি উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করব, ইনশাআল্লাহ।’ মাদকবিরোধী কার্যক্রমের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি আরও জোরদার করার কথা জানান ইশরাক। এ ছাড়া দেশব্যাপী প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন জেলা সফরের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে ইশরাক লেখেন, ‘মন্ত্রী নয়, মাদক নির্মূল! মাদক নির্মূল, মাদক নির্মূল!’

এর আগে রোববার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন—এমন খবর বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ইশরাক হোসেন একটি অডিও বার্তায় ওই খবরকে গুজব বলে মন্তব্য করেন। এদিকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশসংক্রান্ত প্রকাশিত খবরের প্রতিবাদ জানানো হয়। মন্ত্রণালয়ের পাঠানো প্রতিবাদলিপিতে ওই সংবাদকে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। পরে রোববার মধ্যরাতে পদত্যাগের নির্দেশসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ফেসবুকে আরেকটি বার্তা দেন ইশরাক হোসেন। এরপর সোমবার সকালে তিনি নিজেই সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার কথা জানান।

 সম্প্রতি রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে ইশরাক হোসেনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ঘটনায় তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজনের হাতেও অস্ত্র দেখা যায় বলে বিভিন্ন আলোচনায় উঠে আসে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এর পরপরই প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগের নির্দেশসংক্রান্ত খবর সামনে আসে। তবে অস্ত্র হাতে অভিযানে অংশ নেওয়ার ঘটনা, পদত্যাগের গুঞ্জন এবং সোমবারের ঘোষণার মধ্যে কোনো সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে ইশরাকের দেওয়া বক্তব্যে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

 

অনাবাদি জমিতে তেজপাতা চাষ, কাউনিয়ার কৃষকের ঘরে বাড়তি আয়

রংপুর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ
অনাবাদি জমিতে তেজপাতা চাষ, কাউনিয়ার কৃষকের ঘরে বাড়তি আয়

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর ইউনিয়নের বাজেমসকুর গ্রামে তেজপাতা চাষ বদলে দিচ্ছে কৃষকের আয়ের চিত্র। বাড়ির আঙিনা, গ্রামীণ সড়কের পাশ, ক্ষেতের আইল কিংবা অনাবাদি পতিত জমি—যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই দেখা মেলে তেজপাতার গাছ। অল্প খরচ, কম পরিচর্যা এবং দীর্ঘদিন ধরে পাতা সংগ্রহের সুযোগ থাকায় স্থানীয় কৃষকদের কাছে তেজপাতা এখন বাড়তি আয়ের অন্যতম উৎস।

তেজপাতা চাষের বিস্তার শুধু বাজেমসকুর গ্রামেই সীমাবদ্ধ নয়। টেপামধুপুরের চৈতারমোড়, রাজীবসহ আশপাশের গ্রামেও বাড়ছে এ মসলাজাতীয় ফসলের আবাদ। উৎপাদিত পাতার ক্রেতা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি বিভিন্ন বড় প্রতিষ্ঠান। এখানকার তেজপাতা দেশের বাজারের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি সৌদি আরব, দুবাই ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশেও রপ্তানি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

৩০ হাজার টাকা খরচে আয় দুই লাখ

বাজেমসকুর গ্রামের তেজপাতাচাষি আবু সুফিয়ান জানান, তিনি ৬৬ শতক জমিতে সাড়ে তিন শ তেজপাতার গাছ লাগিয়েছিলেন। এ জন্য তাঁর খরচ হয়েছিল প্রায় ৩০ হাজার টাকা। এখন পর্যন্ত তিনি অন্তত দুই লাখ টাকা আয় করেছেন। আবু সুফিয়ানের ভাষ্য, একবার গাছ লাগালে দীর্ঘদিন ধরে সেখান থেকে পাতা সংগ্রহ করা যায়। ফলে বারবার নতুন করে জমিতে ফসল লাগানোর প্রয়োজন হয় না। তেজপাতা বিক্রির জন্যও তাঁকে খুব বেশি ঝামেলা পোহাতে হয় না। বিভিন্ন ক্রেতা ও প্রতিষ্ঠান সরাসরি বাগান থেকে পাতা কিনে নিয়ে যায়। কৃষকের এই অভিজ্ঞতা স্থানীয়ভাবে তেজপাতা চাষের সম্ভাবনা তুলে ধরছে। তবে জমির পরিমাণ, গাছের বয়স, উৎপাদন ও বাজারদরের ওপর কৃষকের প্রকৃত লাভ নির্ভর করে।

ধান-ভুট্টা ছেড়ে তেজপাতা চাষে আশরাফুল

একই গ্রামের কৃষক আশরাফুল ইসলাম আগে ধান, ভুট্টা ও বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করতেন। এখন তাঁর পুরো জমিতেই তেজপাতার গাছ রয়েছে। আশরাফুল জানান, তেজপাতা চাষে তুলনামূলকভাবে পরিশ্রম ও খরচ কম, অথচ আয় বেশি হওয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রথম বছরে তিনি তিন মণ পাতা বিক্রি করেছিলেন। বর্তমানে বছরে প্রায় ১৬ মণ তেজপাতা বিক্রি করেন। তাঁর অভিজ্ঞতায়, সময়ের সঙ্গে গাছ বড় হওয়ার পর পাতা সংগ্রহের পরিমাণও বেড়েছে। এ কারণে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে তেজপাতা চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।

প্রতিটি গাছ থেকে বছরে ২৫ থেকে ৪০ কেজি পাতা

স্থানীয়ভাবে প্রচলিত হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি তেজপাতাগাছ থেকে বছরে গড়ে ২৫ থেকে ৪০ কেজি পর্যন্ত পাতা সংগ্রহ করা হয়। উৎপাদিত পাতা বিক্রির জন্য কৃষকদের সব সময় দূরের বাজারে যেতে হয় না। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বাগান থেকেই কাঁচা পাতা কিনে নেন। কেউ কেউ আবার পুরো মৌসুমের জন্য বাগান ইজারা নেন। এতে কৃষকেরা আগেই ক্রেতা নিশ্চিত করতে পারেন, আর ব্যবসায়ীরা নির্দিষ্ট সময় ধরে পাতা সংগ্রহের সুযোগ পান। তবে উৎপাদনের পরিমাণ গাছের বয়স, পরিচর্যা ও অন্যান্য পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। তাই সব বাগানে একই পরিমাণ পাতা পাওয়া যায় না।

সপ্তাহে ৩০০ বস্তা তেজপাতা পাঠানো হয় ঢাকায়

চৈতারমোড় এলাকার তেজপাতা ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি প্রতি সপ্তাহে কাউনিয়া থেকে প্রায় ৩০০ বস্তা তেজপাতা কিনে ঢাকায় পাঠান। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতি কেজি তেজপাতা ১০৮ থেকে ১১২ টাকায় বিক্রি হয়। রফিকুল ইসলাম বলেন, এখানকার তেজপাতার মান ভালো হওয়ায় রপ্তানিকারকেরা তা সৌদি আরব, দুবাই ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে পাঠান। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি স্কয়ার, প্রাণ, পুষ্টি, তীর ও ইস্পাহানিসহ বিভিন্ন পরিচিত কোম্পানিও সরাসরি তেজপাতা কেনে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে উৎপাদিত পাতা বিক্রির জন্য কৃষকদের বাজার খোঁজার চাপ তুলনামূলকভাবে কম।

৬৫ হেক্টর জমিতে তেজপাতার আবাদ

কাউনিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সালাহউদ্দিন জানান, কম খরচে দীর্ঘমেয়াদি আয়ের সম্ভাবনা থাকায় তেজপাতা এ অঞ্চলের কৃষকদের কাছে লাভজনক ফসল হয়ে উঠেছে। বর্তমানে কাউনিয়া এলাকায় ৬৫ হেক্টর জমিতে তেজপাতার আবাদ হচ্ছে। তিনি আরও জানান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত চাষিদের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন। তেজপাতা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ার পেছনে কম পরিচর্যা, দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদন এবং সহজে বাজারজাত করার সুযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সঠিক পরিচর্যা, মানসম্মত উৎপাদন ও বাজারের চাহিদা বজায় থাকলে কাউনিয়ার এই চাষ স্থানীয় কৃষকদের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতেও অবদান রাখতে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

১০ বছরেও সংস্কার নেই, সাত কিলোমিটার সড়ক যেন মৃত্যুফাঁদ

রংপুর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ
১০ বছরেও সংস্কার নেই, সাত কিলোমিটার সড়ক যেন মৃত্যুফাঁদ

রংপুরের তারাগঞ্জে ধোলাইঘাট বাজার থেকে পীরপাড়া মোড় পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল হয়ে পড়েছে। সড়কের পিচ ও কার্পেটিং উঠে তৈরি হয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি জমে থাকায় ঝুঁকি আরও বাড়ছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও যানবাহনের চালকেরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির কারণে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। এলাকাবাসীর দাবি, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সড়কটির উল্লেখযোগ্য সংস্কার হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সংস্কারের দাবি জানিয়ে এলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এই সড়কে চলাচল করতে হচ্ছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে।

পিচ উঠে তৈরি হয়েছে অসংখ্য গর্ত

সরেজমিনে দেখা যায়, ধোলাইঘাট বাজার থেকে পীরপাড়া মোড় পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে পিচ উঠে গেছে। কোথাও মাটি ও খোয়া বেরিয়ে এসেছে, আবার কোথাও তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতে গর্তগুলোতে পানি জমে থাকায় সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সহজে বোঝা যায় না। এ অবস্থায় অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত ভ্যান, ইজিবাইক ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে চালকদের হঠাৎ গতি পরিবর্তন করতে হচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

১০ বছরের বেশি সময় ধরে সংস্কারের অপেক্ষা

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘ ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সড়কটির উল্লেখযোগ্য সংস্কার হয়নি। ফলে দিন দিন এর অবস্থা খারাপ হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি অংশ এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসী জানান, সড়কটি সংস্কারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানানো হচ্ছে। কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় পিচ-কার্পেটিং উঠে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই গর্তগুলো পানিতে ভরে যায়। এতে যানবাহন চলাচলের সময় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। দ্রুত সড়কটির সংস্কার প্রয়োজন।”

শিক্ষার্থী ও চালকদের দুর্ভোগ বেশি

ধোলাইঘাট বাজার থেকে পীরপাড়া মোড় পর্যন্ত সড়কটি স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সয়ার, মাদারগঞ্জ ও আলমপুর এলাকার বাসিন্দাদের সৈয়দপুরে যাতায়াতের অন্যতম পথ এটি। প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করেন।

সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদেরও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। যাতায়াতে অতিরিক্ত সময় লাগছে, আর বৃষ্টির দিনে গর্তে পানি জমে থাকায় চলাচল আরও কঠিন হয়ে উঠছে। বিশেষ করে অটোরিকশা, ইজিবাইক, ভ্যান ও মোটরসাইকেলচালকদের দুর্ভোগ বেশি। গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে কখনো কখনো চালকেরা যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। পাশাপাশি সড়কের কারণে যানবাহনের যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মেরামতের খরচও বাড়ছে।

সরেজমিন পরিদর্শনের কথা জানালেন সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি

সড়কটির দুরবস্থা সম্পর্কে রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি আমিনুল ইসলাম বলেন, “ধোলাইঘাট থেকে পীরপাড়া মোড় পর্যন্ত সড়কটি আমরা সরেজমিন দেখেছি। রাস্তাটির অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। বিষয়টি তারাগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলীকে জানানো হয়েছে।” তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সড়কটির বর্তমান অবস্থা সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগের নজরে আনা হয়েছে। তবে সংস্কারকাজ শুরুর নির্দিষ্ট সময়সীমা সম্পর্কে তিনি কিছু জানাননি।

বরাদ্দ পেলেই সংস্কারকাজ শুরুর আশ্বাস

তারাগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী নাফিউর রহমান বলেন, “আলমপুর ইউনিয়নের ২০০১ ও ২০০৫ নম্বর কোডের সড়ক দুটি আমরা পরিদর্শন করেছি। সড়কটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া মাত্রই সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু হবে।” সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর বক্তব্যে সড়কটির দুরবস্থা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর কথা বলা হলেও বরাদ্দ কবে পাওয়া যাবে, তা স্পষ্ট করা হয়নি।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি