খুঁজুন
                               
, ,
           

রাজশাহী জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল শুরু ২২ আগস্ট

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৩৮ অপরাহ্ণ
রাজশাহী জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল শুরু ২২ আগস্ট

জেলা প্রশাসন ও রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সংস্থার যৌথ আয়োজনে রাজশাহী  মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে আগামী ২২ আগষ্ট শনিবার থেকে ৯টি উপজেলা ও ১টি সিটি কর্পোরেশন ফুটবল দল নিয়ে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু হবে।

টুর্নামেন্টে  অংশগ্রহণকারী উপজেলা  দলগুলো হলো মোহনপুর, গোদাগাড়ী, বাগমারা, পবা, দুর্গাপুর,তানোর,বাঘা, পুঠিয়া ও চারঘাট।এছাড়া টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করবে রাজশাহী  সিটি কর্পোরেশন ফুটবল দল।

শনিবার বিকেল ৩টায় রাজশাহী মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন ভূমিমন্ত্রী মোঃ মিজানুর রহমান মিনু এমপি। উদ্বোধন শেষে  উদ্বোধনী ম্যাচে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন ফুটবল দল বাগমারা উপজেলা ফুটবল দলের মোকাবেলা করবে।

রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মোঃ মোজাম্মেল হক জানান, মাঠ প্রস্তুতির কাজ চলছে। তবে বৃষ্টির কারণে কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে। প্রচার প্রচারণার কাজও চলছে। তবে বৃহস্পতিবার থেকে নগরীতে পুরোদমে প্রচার-প্রচারণা শুরু হবে। উপজেলাগুলোতে তারা তাদের মতো করে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে।

রাজশাহী জেলা ক্রীড়া অফিসার মোঃজাহাঙ্গীর হোসেন জানান,মাঠ প্রস্তুতির কাজ চলছে। প্রচার-প্রচারণার জন্য মাইকিং করা হবে এবং বিলবোর্ড লাগানো হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

অস্বাস্থ্যকর খাবার চিনতে প্যাকেটে সতর্কবার্তার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৬ অপরাহ্ণ
অস্বাস্থ্যকর খাবার চিনতে প্যাকেটে সতর্কবার্তার দাবি

প্যাকেটজাত খাবারে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও সম্পৃক্ত চর্বির উপস্থিতি সহজে শনাক্ত করতে মোড়কের সামনের অংশে সতর্কবার্তা চালুর দাবিতে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু হয়েছে। ভোক্তাদের স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নিতে সহায়তা এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসজনিত রোগের ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো দুই মাসব্যাপী এ গণমাধ্যম প্রচারণা শুরু করা হয়েছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। আয়োজকদের মতে, প্যাকেটের সামনে সতর্কতামূলক লেবেল বা ফ্রন্ট-অব-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল) থাকলে ভোক্তারা কোনো খাবারে ক্ষতিকর উপাদান অতিরিক্ত পরিমাণে রয়েছে কি না, তা সহজেই বুঝতে পারবেন। বর্তমানে প্যাকেটজাত খাবারের পুষ্টিগুণ ও উপাদান সম্পর্কে জানতে ভোক্তাদের সাধারণত মোড়কের গায়ে থাকা তথ্য পড়তে হয়। আয়োজকদের বক্তব্য, প্যাকেটের সামনের অংশে স্পষ্ট সতর্কবার্তা থাকলে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও সম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত খাবার সহজে শনাক্ত করা যাবে।

এ ধরনের লেবেলিং ব্যবস্থা চালু হলে খাবার কেনার সময় ভোক্তারা দ্রুত পুষ্টিসংক্রান্ত তথ্য বুঝতে পারবেন এবং তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর পণ্য বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে অতিরিক্ত ক্ষতিকর উপাদানযুক্ত খাবার কেনার প্রবণতা কমাতেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন উদ্যোগটির আয়োজকেরা।

জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রচারণার উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব মো. শফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও সম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত অস্বাস্থ্যকর মোড়কজাত খাবার ও পানীয় সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে মোড়কের সামনে সতর্কবার্তা দেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রবিধানমালা প্রণয়নে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ।

আয়োজকেরা মনে করছেন, জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি সতর্কতামূলক লেবেল চালুর জন্য কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন জরুরি। এ ব্যবস্থা কার্যকর হলে ভোক্তারা পণ্যের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাবেন এবং খাবার নির্বাচনের ক্ষেত্রে সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

প্রচারণার অংশ হিসেবে ভিডিও ও অডিও বিজ্ঞাপন, স্থিরচিত্র এবং বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক উপকরণ তৈরি ও প্রচার করা হবে। টেলিভিশন, রেডিও, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন ও মুদ্রিত সংবাদপত্র এবং গুগল বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে এসব উপকরণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচারণার বার্তা প্রকাশ করা হবে। সাধারণ মানুষকে প্যাকেটজাত খাবারের পুষ্টিগুণ এবং অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও সম্পৃক্ত চর্বি গ্রহণের সম্ভাব্য ক্ষতি সম্পর্কে সচেতন করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগের ক্রমবর্ধমান বোঝার প্রেক্ষাপটে এ প্রচারণা শুরু হয়েছে। আয়োজকদের দেওয়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশের জন্য দায়ী অসংক্রামক রোগ। হৃদ্‌রোগ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিস এ ধরনের রোগের অন্যতম প্রধান উদাহরণ। আয়োজকদের দেওয়া তথ্যে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে অতিরিক্ত ওজনের হার প্রায় ৩১ দশমিক ৮ শতাংশ এবং স্থূলতার হার ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ। অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা হৃদ্‌রোগ, টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং স্ট্রোকসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও সম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত খাবার নিয়মিত গ্রহণের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো তাই জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্যাকেটের সামনে সতর্কবার্তা থাকলে খাবারের উপাদান সম্পর্কে সহজে ধারণা পাওয়া যায় এবং খাদ্য নির্বাচনে সচেতনতা তৈরি হতে পারে। প্রচারণায় প্যাকেটজাত খাবারের মোড়কের সামনের অংশে অষ্টভুজ আকৃতির সতর্কবার্তা চালুর বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এ ধরনের লেবেলে কোনো পণ্যে অতিরিক্ত চিনি, লবণ বা সম্পৃক্ত চর্বি থাকলে তা সহজে শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে আয়োজকেরা মনে করেন।

পুষ্টিসংক্রান্ত তথ্য সহজ ও স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করলে ভোক্তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়। বিশেষ করে কেনাকাটার সময় দীর্ঘ উপাদান তালিকা বিশ্লেষণ না করেও সতর্কবার্তার মাধ্যমে পণ্যের সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

আয়োজকদের মতে, এ ধরনের লেবেলিং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে সম্পর্কিত রোগের ঝুঁকি কমানোর একটি প্রমাণভিত্তিক নীতিগত উদ্যোগ। তবে এ ব্যবস্থা কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ। আয়োজকেরা জানান, সাধারণভাবে ব্যবহৃত প্যাকেটজাত খাবার ও পানীয়তে থাকা অস্বাস্থ্যকর উপাদান সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো এ প্রচারণার অন্যতম উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে দেশে প্যাকেটজাত খাদ্য ও পানীয়ের মোড়কের সামনে সতর্কতামূলক লেবেল চালুর বিষয়ে প্রবিধানমালা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নে সরকারকে সহায়তা করাও এ উদ্যোগের লক্ষ্য। এ জন্য ভোক্তা, নীতিনির্ধারক এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে সচেতনতা ও আলোচনা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (খাদ্যশিল্প ও উৎপাদন) অধ্যাপক মোহাম্মদ শোয়েব এবং গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের কান্ট্রি লিড মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস। ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিভাগের পরিচালক ইকবাল মাসুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডব্লিউবিবি) ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক সাইফুদ্দিন আহমেদ, প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এ বি এম জুবায়ের এবং সেন্টার ফর ল অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্সের (সিএলপিএ) সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম। প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান), ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন, ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট, কোয়ালিশন ফর হেলদি ফুড এবং সিএলপিএ যৌথভাবে এ প্রচারণার আয়োজন করেছে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

উচ্চশিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে রাষ্ট্রপতির নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৮ অপরাহ্ণ
উচ্চশিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে রাষ্ট্রপতির নির্দেশনা

দেশের উচ্চশিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলকে (বিএসি) আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) বঙ্গভবনে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন খানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। এ সময় রাষ্ট্রপতি কাউন্সিলের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি দেশের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠায় অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের দায়িত্বের কথা তুলে ধরেন। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও সক্রিয় ও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। উচ্চশিক্ষার মান যাচাই, স্বীকৃতি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা তৈরির ক্ষেত্রে অ্যাক্রেডিটেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ কারণে কাউন্সিলের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন বলে আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন খান প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। এ সময় কাউন্সিলের স্থায়ী নিজস্ব ভবন প্রাপ্তির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আরও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।

চেয়ারম্যান জানান, বিদেশে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের স্বীকৃতি এবং গ্রহণযোগ্যতা অর্জনের ক্ষেত্রে অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের সনদ বিশেষভাবে সহায়ক। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিক্ষাগত যোগ্যতার গ্রহণযোগ্যতা এবং দক্ষ জনশক্তির পরিচিতি বাড়ানোর ক্ষেত্রে মান নিশ্চিতকরণ গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে কাউন্সিলের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হলে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার মান ও সনদের গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। সাক্ষাৎকালে কাউন্সিলের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে আরও উদ্যোগী হওয়ার পরামর্শ দেন রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিষয়ে আশ্বাস দেন তিনি। কাউন্সিলের কার্যক্রম সম্প্রসারণ, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উচ্চশিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদলে অন্যদের মধ্যে কাউন্সিলের পূর্ণকালীন সদস্য মো. এমদাদুল হক, অধ্যাপক ড. আহমেদ আবদুল্লাহ জামাল, অধ্যাপক ড. মো. শাহ এমরান এবং অধ্যাপক ড. মো. ওয়াকিলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। এ সময় রাষ্ট্রপতির সচিব, প্রেস সচিব, সহকারী সামরিক সচিব এবং রাষ্ট্রপতির একান্ত সচিবও উপস্থিত ছিলেন। উচ্চশিক্ষার মান নিশ্চিতকরণ, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠা এবং অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো এ সাক্ষাতে গুরুত্ব পায়।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

সিলেটের সীমান্তে প্রকৃতির নীরব সৌন্দর্য লক্ষণছড়া

সিলেট সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
সিলেটের সীমান্তে প্রকৃতির নীরব সৌন্দর্য লক্ষণছড়া

সিলেট মানেই জাফলং কিংবা বিছনাকান্দি নয়। সীমান্তঘেঁষা এ জেলার আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে আছে প্রকৃতির এমন কিছু অপরূপ সৌন্দর্যের ঠিকানা, যেখানে শহরের কোলাহল থেকে দূরে নিরিবিলি সময় কাটানো যায়। শীতের আগমনে পাহাড়ের পাদদেশে হালকা কুয়াশা, শীতল বাতাস আর সবুজের সমারোহে তেমনই এক আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে গোয়াইনঘাট উপজেলার লক্ষণছড়া।

পাহাড়, পিয়াইন নদী, স্বচ্ছ জলধারা আর সীমান্তের সবুজ প্রকৃতির মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা লক্ষণছড়া প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক শান্ত আশ্রয়। জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোর ভিড় এড়িয়ে যারা পাহাড়ি প্রকৃতির স্নিগ্ধতা উপভোগ করতে চান, তাদের জন্য শীতকাল হতে পারে এখানে ঘুরে যাওয়ার দারুণ সময়।

শীতের সকালে লক্ষণছড়ার চারপাশে তৈরি হয় এক মায়াবী পরিবেশ। হালকা কুয়াশার আবরণে দূরের পাহাড় কখনো অস্পষ্ট, আবার সূর্যের আলো বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে ওঠে সবুজ পাহাড়ের সারি। ঠান্ডা বাতাস, গ্রামের নিরিবিলি পরিবেশ আর ছড়ার পানির শব্দ মিলিয়ে জায়গাটিতে তৈরি হয় অন্যরকম প্রশান্তি। সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকায় শীতের আবহাওয়া সাধারণত ভ্রমণের জন্য আরামদায়ক হতে পারে। বর্ষার তুলনায় এ সময়ে পাহাড়ি ছড়ার পানির প্রবাহ কমে আসতে পারে। তবে পাথুরে তলদেশ, স্বচ্ছ জলধারা এবং চারপাশের সবুজ প্রকৃতি লক্ষণছড়ার সৌন্দর্য ধরে রাখে।

যারা প্রকৃতির ছবি তুলতে ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য সকালের আলো ও কুয়াশার মেলবন্ধন হতে পারে বিশেষ আকর্ষণ। তবে দৃশ্যের সৌন্দর্য আবহাওয়া ও পানির প্রবাহের ওপর নির্ভর করতে পারে। সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সীমান্তবর্তী পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নে অবস্থিত লক্ষণছড়া। সিলেট শহর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৪৫ কিলোমিটার। ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশ থেকে নেমে আসা পাহাড়ি জলধারা সীমান্ত পেরিয়ে এ অঞ্চলের প্রকৃতিকে করেছে আরও প্রাণবন্ত।

লক্ষণছড়ার অন্যতম আকর্ষণ এর পাথুরে তলদেশ ও স্বচ্ছ পানি। কোথাও পাথরের ওপর দিয়ে বয়ে চলে জলধারা, কোথাও ছোট ছোট পানির প্রবাহের পাশে দেখা যায় সবুজ প্রকৃতি। চারপাশের পাহাড়, শীতল বাতাস এবং শান্ত পরিবেশ ভ্রমণকারীদের মুগ্ধ করে। সীমান্তের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে দূরের সবুজ পাহাড়ের সারি দেখার অভিজ্ঞতাও আলাদা। প্রকৃতির এই স্বাভাবিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখানে আসা যায় পরিবার, বন্ধু কিংবা প্রিয়জনদের সঙ্গে।

লক্ষণছড়ায় যাওয়ার পথটিও পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। পূর্ব রুস্তমপুর গ্রামের ভেতর দিয়ে পিয়াইন নদীর তীর ধরে এগোতে হয়। গ্রামের মেঠোপথ, সবুজ মাঠ, নদীর প্রবাহ এবং সীমান্তঘেঁষা শান্ত পরিবেশ যাত্রাপথকে করে তোলে উপভোগ্য। শীতের সকালে গ্রামের পথ ধরে এগিয়ে গেলে কুয়াশার আবেশ আর ঠান্ডা বাতাস ভ্রমণে যোগ করে বাড়তি আনন্দ। দিনের আলো বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের পাহাড় ও প্রকৃতির দৃশ্য আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

এখানে শুধু গন্তব্যে পৌঁছানোই নয়, পথের সৌন্দর্য উপভোগ করাও ভ্রমণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শহুরে ব্যস্ততা থেকে কিছুটা দূরে গিয়ে গ্রামের স্বাভাবিক জীবন ও প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটানোর সুযোগ রয়েছে। গোয়াইনঘাট এলাকায় ভ্রমণের পরিকল্পনা করলে লক্ষণছড়ার পাশাপাশি পান্তুমাইও রাখা যেতে পারে তালিকায়। দুটি স্থান কাছাকাছি হওয়ায় যাতায়াতের পরিস্থিতি ও হাতে থাকা সময় বিবেচনা করে একই দিনে ঘুরে দেখার পরিকল্পনা করা সম্ভব।

পান্তুমাইয়ের ঝরনার সৌন্দর্য উপভোগের পর লক্ষণছড়ার পাহাড়ি পরিবেশ ও স্বচ্ছ জলধারা দেখতে যাওয়া যেতে পারে। এতে এক ভ্রমণেই পাহাড়, ঝরনা, নদী ও ছড়ার ভিন্ন ভিন্ন প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগের সুযোগ তৈরি হবে। তবে যাত্রার আগে স্থানীয় রাস্তার অবস্থা, যাতায়াতের ব্যবস্থা এবং দুই স্থানের মধ্যে চলাচলে কতটা সময় লাগতে পারে, সে বিষয়ে খোঁজ নেওয়া ভালো।

সিলেট শহর থেকে গোয়াইনঘাটের দিকে যাত্রা করে পান্তুমাই ও পূর্ব রুস্তমপুর এলাকার পথে যেতে হবে। এরপর স্থানীয় সড়ক ও পথ ধরে লক্ষণছড়ার কাছাকাছি পৌঁছানো যায়। শেষ অংশের যাতায়াতের ব্যবস্থা সম্পর্কে স্থানীয়দের কাছ থেকে আগেই জেনে নেওয়া সুবিধাজনক। শীতকালে সকালে কুয়াশা থাকলে সড়কে দৃশ্যমানতা কমতে পারে। তাই পর্যাপ্ত দিনের আলো থাকতে যাত্রা করা এবং স্থানীয় আবহাওয়া ও রাস্তার অবস্থা বিবেচনায় রাখা উচিত।

লক্ষণছড়া সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় ভ্রমণের সময় নিরাপত্তাবিধি মেনে চলা জরুরি। সীমান্ত পিলার, সীমারেখা কিংবা নিরাপত্তা বাহিনীর নির্ধারিত এলাকার দিকে না গিয়ে বাংলাদেশের অংশ থেকেই প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর নির্দেশনা অনুসরণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। শীতকালে ছড়ার পানির প্রবাহ কম থাকলেও পাথর পিচ্ছিল হতে পারে। তাই পাথরের ওপর হাঁটার সময় সতর্ক থাকতে হবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পানিতে নামা থেকে বিরত থাকতে হবে। শিশুদের সঙ্গে থাকলে তাদের প্রতি বাড়তি নজর রাখা প্রয়োজন।

ভ্রমণের সময় হালকা শীতের পোশাক সঙ্গে রাখা ভালো। পাশাপাশি পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে প্লাস্টিক, খাবারের প্যাকেট ও পানির বোতল যত্রতত্র ফেলে আসা উচিত নয়। লক্ষণছড়া হয়তো সিলেটের সবচেয়ে আলোচিত পর্যটনকেন্দ্রগুলোর একটি নয়। কিন্তু যারা ভিড়ের বাইরে গিয়ে পাহাড়, নদী ও ছড়ার স্বাভাবিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান, তাঁদের জন্য এটি হতে পারে আকর্ষণীয় গন্তব্য। শীতের সকালের কুয়াশা, পাহাড়ের নীরবতা, স্বচ্ছ জলধারা, পিয়াইন নদীর প্রবাহ আর সীমান্তের সবুজ দৃশ্য—সব মিলিয়ে লক্ষণছড়া প্রকৃতির এক শান্ত ছবি তুলে ধরে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি