খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রবাসী আয়ে বড় লাফ, ১৮ দিনে এলো ১৯৬ কোটি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৯:০২ অপরাহ্ণ
প্রবাসী আয়ে বড় লাফ, ১৮ দিনে এলো ১৯৬ কোটি

২০২৬-২৭ অর্থবছরের আগস্ট মাসের প্রথম ১৮ দিনেই দেশে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে ১৯৬ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার।

গত বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ১৫০ কোটি ২০ লাখ ডলার। সে হিসাবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি ৩১ শতাংশ বেশি।

বুধবার (১৯ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে এমনটাই জানানো হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ আগস্ট একদিনেই দেশে ৮ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

এদিকে, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স দাঁড়িয়েছে ৪৮২ কোটি ৬০ লাখ ডলার। যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ের ৩৯৮ কোটি ডলারের তুলনায় ২১.৩ শতাংশ বেশি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীবিরোধী অভিযান, আটক ৫৭ হাজার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৯ অপরাহ্ণ
মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীবিরোধী অভিযান, আটক ৫৭ হাজার

মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২৬০ দিনে দেশজুড়ে প্রায় ৯ হাজার ৭০০টি অভিযান চালিয়ে ৫৭ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে।

একই সময়ে ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিকের কাগজপত্র যাচাই ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) কুয়ালালামপুরের একটি আবাসিক এলাকায় সমন্বিত অভিযান শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের উপমহাপরিচালক (অপারেশন) দাতুক লোকমান এফেন্দি রামলি।

তিনি জানান, ২৬০ দিনে প্রতিদিন গড়ে ৩৭টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসীকে অভিবাসন বিভাগের নিজস্ব অভিযানে আটক করা হয়। আরও ২২ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে দেশের বিভিন্ন প্রবেশপথে অথবা অন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সহায়তায় আটক করা হয়েছে।

অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, অভিযানে প্রধানত বৈধ ভ্রমণ নথি ছাড়া মালয়েশিয়ায় অবস্থান, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান এবং অনুমোদিত কাজের বাইরে অন্য খাতে কাজ করার মতো অনিয়ম ধরা পড়েছে।

অবৈধ অভিবাসীদের পাশাপাশি তাদের জেনেশুনে কাজে নিয়োগ দেওয়া ব্যক্তি, আশ্রয়দাতা বাড়ির মালিক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১ হাজার ৭২০ জন নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

লোকমান এফেন্দি সাধারণ নাগরিকদের উদ্দেশে বলেন, কোনো বিদেশি নাগরিক অবৈধভাবে অবস্থান করছেন বা অভিবাসন আইন লঙ্ঘন করছেন—এমন তথ্য পেলে কেউ যেন নিজের হাতে আইন তুলে না নেন। বরং ছবি ও সুনির্দিষ্ট তথ্যসহ বিষয়টি অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে এ অভিযান সারা বছর অব্যাহত থাকবে।

তথ্যসূত্র: দ্য স্টার, নিউ স্ট্রেইটস টাইমস ও বারনামা।

কালের আলো/এমএসআইপি 

দফায় দফায় মেয়াদ বাড়লেও শেষ হয়নি খাল সৌন্দর্যবর্ধন

মানিকগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১০ অপরাহ্ণ
দফায় দফায় মেয়াদ বাড়লেও শেষ হয়নি খাল সৌন্দর্যবর্ধন

মানিকগঞ্জ শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত খালের সৌন্দর্যবর্ধন ও সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে প্রায় চার বছর আগে। কয়েক দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হলেও এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি কাজ। এর মধ্যে স্থানীয়দের অভিযোগ, পুনরায় শুরু হওয়া কাজে জোড়াতালি দেওয়া হচ্ছে এবং নিম্নমানের ব্লক ব্যবহার করা হচ্ছে।

সর্বশেষ প্রকল্পের কাজ শেষ করার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল গত বছরের ১০ জুন। তবে ওই সময়ের মধ্যেও কাজ শেষ হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রকল্পের ঠিকাদার কাজ ফেলে চলে যান। পরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হলে আবার কাজ শুরু হয়।

মানিকগঞ্জ পৌরসভার গঙ্গাধরপট্টি এলাকার বাসিন্দা তারিকুল হাসান বলেন, খালের দুই পাশের বাসাবাড়ি ও হোটেল-রেস্টুরেন্টের ময়লা-আবর্জনা খালে ফেলা হচ্ছে। এতে নোংরা পানি জমে মশার উৎপত্তি হচ্ছে। নানা ধরনের রোগজীবাণু ছড়ানোর পাশাপাশি নগরবাসীর স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।

তিনি বলেন, কয়েকবার সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তেমন সুফল পাওয়া যায়নি। প্রায় চার বছর আগে নতুন করে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শুরু হলেও এখনো তা পুরোপুরি শেষ হয়নি।

খালপাড়ের ব্যবসায়ী মো. রাব্বি হোসেন বলেন, জেলা শহরের এই খালে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারকাজ চলছে। কিন্তু এখনো খালের কোনো সৌন্দর্য ফিরে আসেনি। বছরের পর বছর সরকারের অর্থ ব্যয় হলেও প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) মানিকগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস বলেন, মানিকগঞ্জ শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত খালটি শহরের ঐতিহ্যের অংশ। একসময় সারা বছর খালে পানি থাকত, নৌকা চলত। এখন দখল, দূষণ ও ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, কয়েক দফায় কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার পরও পৌর কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে প্রকল্পের কাজ সঠিকভাবে হয়নি। বর্তমান সৌন্দর্যবর্ধন কাজ নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সরকারের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার করা হলে খালের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

তবে মানিকগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, খালের শোভাবর্ধন প্রকল্পের দুটি স্থানে দেওয়া বাঁধ দ্রুত অপসারণ করা হবে। এতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে আসবে।

তিনি জানান, প্রকল্পের মেয়াদ কয়েক দফা বাড়ানো হয়েছে। সর্বশেষ বাড়ানো মেয়াদও শেষ হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পের প্রায় ৯৬ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার শৈল্পিক কারিগর বাবুই পাখি

সখিপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০০ অপরাহ্ণ
হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার শৈল্পিক কারিগর বাবুই পাখি

কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার, খাদ্য ও কীট-পতঙ্গের সংকট এবং অনিয়মিত আবহাওয়ার কারণে দিন দিন কমে যাচ্ছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বাবুই পাখি। একই সঙ্গে তালগাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় পাখিগুলোর নিরাপদ আবাসস্থলও সংকুচিত হচ্ছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে বাবুই পাখির স্বাভাবিক প্রজনন প্রক্রিয়া।

একসময় গ্রামের তালগাছে সারি সারি বাবুই পাখির বাসা দেখা গেলেও বর্তমানে সেই দৃশ্য অনেকটাই হারিয়ে গেছে। পাখির কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত গ্রামীণ পরিবেশও এখন অনেকটাই নীরব।

স্থানীয় বাসিন্দা নিরাঞ্জন বিশ্বাস বলেন, ‘ছোটবেলায় আমাদের গ্রামের তালগাছে শত শত বাবুই পাখির বাসা ঝুলতে দেখেছি। পাখির কিচিরমিচির শব্দ শুনে দৌড়ে তালগাছের নিচে চলে যেতাম। সেই সময়ের শান্তিময় পরিবেশ মন-প্রাণ জুড়িয়ে দিত। এখন দিন দিন তালগাছ কমে যাওয়ায় বাবুই পাখিও খুব কম দেখা যায়। ছোটবেলার সেই স্মৃতিগুলো এখনো ভুলতে পারিনি।’

তিনি বলেন, চোখ বন্ধ করলেই হৃদয়ের আয়নায় তালগাছে ঝুলে থাকা বাবুই পাখির বাসা ও পাখিগুলোর দৃশ্য ভেসে ওঠে।

সখীপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এসএম শওকত আলী বলেন, বাবুই পাখি শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই বাড়ায় না, ফসলের ক্ষতিকারক পোকামাকড় খেয়ে কৃষকের পরম বন্ধুর ভূমিকা পালন করে। শৈল্পিক কৌশলে বাসা তৈরি করে বাবুই পাখি প্রকৃতির এক অনন্য শিল্পকর্মও তুলে ধরে।

তিনি আরও বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য ও সৌন্দর্য রক্ষায় বেশি বেশি তালগাছ রোপণ করা প্রয়োজন। নতুন করে তালগাছ লাগানো হলে বাবুই পাখির আবাসস্থল তৈরির সুযোগ বাড়বে। প্রকৃতির এই শৈল্পিক কারিগরকে রক্ষা করা গেলে আগামী প্রজন্মও বাবুই পাখি ও তাদের দৃষ্টিনন্দন বাসা সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবে।

কালের আলো/এমএসআইপি