খুঁজুন
                               
, ,
           

এনবিআর সংস্কার: অর্থনীতি পুনর্গঠন ও উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ

আহসান হাবিব বরুন:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৯:০৯ অপরাহ্ণ
এনবিআর সংস্কার: অর্থনীতি পুনর্গঠন ও উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ

দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা, দীর্ঘস্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা এবং নীতিগত স্থবিরতার বৃত্ত ভেঙে বাংলাদেশ আজ এক নতুন ভোরের মুখোমুখি। ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের দীর্ঘ দেড় দশকের অভিশাপ কাটিয়ে একটি মুক্ত ও স্বনির্ভর সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যেকোনো দেশের স্বনির্ভরতা ও টেকসই অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বের মূল চাবিকাঠি হলো একটি দক্ষ, আধুনিক ও জনবান্ধব রাজস্ব ব্যবস্থা। সেই নিরিখে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ‘রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬’-এ রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারকদের কৌশলগত দিকনির্দেশনা এবং গৃহীত যুগান্তকারী সিদ্ধান্তসমূহ কেবল রাজস্ব আদায় বাড়ানোর প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি জাতীয় অর্থনীতি পুনর্গঠনের এক গুরুত্বপূর্ণ কার্যকার উদ্যোগ। ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত নতুন অর্থবছর চক্র নির্ধারণ এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) দুটি স্বতন্ত্র ও স্বচ্ছ সংস্থায় বিভক্ত করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত অর্থনৈতিক সংস্কারের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে মনে হচ্ছে।

একটি দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির টেকসই যাত্রা কখনোই বৈদেশিক ঋণ বা কৃত্রিম আর্থিক পরিসংখ্যানের ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। বিগত বছরগুলোতে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর যে চরম আঘাত এসেছে, তা থেকে মুক্ত হয়ে আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে ওঠার মূল শর্তই হলো অভ্যন্তরীণ সম্পদের সর্বোচ্চ ও দক্ষ ব্যবহার। জাতীয় রাজস্ব সম্মেলনের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে সুস্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ: ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এবার আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা, বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা।’

সরকার পরিচালনার দ্বায়িত্ব নেওয়ার পর বর্তমান বাস্তবতায় ভঙ্গুর অর্থনৈতিক কাঠামোকে স্থিতিশীল করা এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আনা পুরোপুরি নির্ভর করছে রাজস্ব আহরণের সক্ষমতার ওপর। কিন্তু অতীতের নীতিহীন পৃষ্ঠপোষকতা, রাজনৈতিক স্বার্থে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং রাজস্ব আহরণে স্বেচ্ছাচারিতা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে এনেছিল। করদাতাদের কাছে এনবিআর একসময় আতঙ্কের নাম ছিল, যা কোনো স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কাম্য হতে পারে না। আজ করদাতারা এনবিআরকে নিজেদের আস্থার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেখতে চায়। করদাতাদের এই প্রত্যাশা পূরণ করা এবং একটি জনবান্ধব রাজস্ব কাঠামো তৈরি করা বর্তমান সময় ও দেশগঠনের প্রধান দাবি।

বাংলাদেশের রাজস্ব খাতের দীর্ঘদিনের স্থবিরতা এবং পেশাদারিত্বের অভাব দূর করতে আন্তর্জাতিক মানের প্রশাসনিক সংস্কার অত্যন্ত জরুরি ছিল। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ঘোষণা অনুযায়ী এনবিআর ভেঙে দুটি সম্পূর্ণ পৃথক ও বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান গঠনের সিদ্ধান্ত দেশের প্রাতিষ্ঠানিক ইতিহাসে সবচেয়ে সময়োপযোগী পদক্ষেপ।

১.এই বিভাগটি কাজ করবে সরকারের উচ্চমানের ‘থিংক ট্যাংক’ বা চিন্তাশীল সংস্কারক সংস্থা হিসেবে। অর্থনীতিবিদ, গবেষক, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি ও শিল্প-বাণিজ্য সংগঠনের বিশেষজ্ঞদের মতামত ও গবেষণার ভিত্তিতে এটি একটি ভারসাম্যপূর্ণ, প্রতিযোগিতামূলক এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নবান্ধব কর নীতি ও আইন কাঠামো প্রণয়ন করবে।
২.এটি কাজ করবে একটি দক্ষ ‘অ্যাকশন টিম’ হিসেবে। যাদের মূল দায়িত্ব হবে কেবল রাজস্ব নীতি বাস্তবায়ন, কর সংগ্রহ এবং আইনের পরিপালন নিশ্চিত করা।

অতীতের কাঠামোয় একই কর্মকর্তার হাতে নীতি প্রণয়ন এবং কর সংগ্রহের দায়িত্ব থাকায় সেখানে স্বার্থের সংঘাত (Conflict of Interest), স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত এবং দুর্নীতি লালনের সুযোগ থেকে যেত। রাজস্ব প্রশাসন থেকে নীতি নির্ধারণী অংশকে বিচ্ছিন্ন করার এই নতুন মডেল কর ব্যবস্থার সামগ্রিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও পেশাদারিত্ব শতভাগ নিশ্চিত করবে।

অর্থনীতির আকার ও বিস্তৃতি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেলেও বাংলাদেশে ট্যাক্স-টু-জিডিপি (Tax-to-GDP Ratio) অনুপাত বিশ্ব ও আঞ্চলিক সূচকে অত্যন্ত হতাশাজনক। ২০২৩ সালে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে গড় কর-জিডিপি অনুপাত ছিল ১৯.৫ শতাংশ, যেখানে বাংলাদেশের এই হার ৭.২ শতাংশে অবস্থান করছিল। দুখজনকভাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এটি আরও কমে ৬.৭ শতাংশে নেমে আসে, যা বিশ্বপর্যায়ে সর্বনিম্নগুলোর অন্যতম।

এর মূল কারণ অর্থনীতির সম্প্রসারণের সাথে সাথে রাষ্ট্র তার রাজস্ব আহরণের সক্ষমতা বাড়াতে পারেনি। বিদ্যমান নিয়মিত করদাতাদের ওপর বারবার করের বোঝা বাড়ানোর নীতি কোনো অবস্থাতেই টেকসই নয়। এ ব্যবধান কমাতে আমাদের কর কাঠামোতে প্রধানত চারটি কৌশল অবলম্বন করা প্রয়োজন:

১.যারা কর দেয়ার সক্ষমতা রাখেন অথচ কর ব্যবস্থার বাইরে রয়েছেন, তাদের সঠিকভাবে শনাক্ত করে করের আওতায় আনতে হবে।
২.অযৌক্তিক, অপ্রয়োজনীয় এবং রাজনৈতিক সুবিধাভিত্তিক কর ছাড় বা ট্যাক্স হলিডে সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে।
৩.আন্তর্জাতিক সীমানা পেরিয়ে ট্রান্সফার প্রাইসিং বা মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে সম্পদ পাচার কঠোরভাবে রদ করতে হবে।
৪.ভয়ভীতি প্রদর্শনের পরিবর্তে করদাতাদের সম্মানিত করা এবং ট্যাক্স প্রসেস সহজ করতে হবে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে নির্ধারিত ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা আপাতদৃষ্টিতে উচ্চাভিলাষী হলেও, একটি ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে নিজস্ব সামর্থ্যভিত্তিক উন্নয়ন বাজেটে উত্তরণের জন্য এই অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের কোনো বিকল্প নেই।

বৈশ্বিক অর্থনীতি এখন ট্রেডিশনাল ম্যানুয়াল ফরম্যাট থেকে দ্রুত গতিতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের দিকে মোড় নিয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ই-কমার্স, ট্রান্সফার প্রাইসিং, বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত ইন্টারন্যাশনাল ট্যাক্সেশন এবং ডিজিটাল ক্রাইমের জটিল সমীকরণে আমাদের রাজস্ব কর্মকর্তাদের মানসিকভাবে ও সামর্থ্যের দিক দিয়ে বহুমাত্রিক দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

সরকার রাজস্ব খাতের আমূল পরিবর্তনে ‘কন্টাক্ট-ফ্রি’ এবং ‘ফেসলেস’ রাজস্ব প্রশাসন গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া করদাতাকে কর কর্মকর্তার মুখোমুখি না হওয়ার সংস্কৃতি চালু করা গেলে দুর্নীতির বড় একটি পথ বন্ধ হয়ে যাবে। ইতোমধ্যে চালু হওয়া ই-ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট, আসিকুডা ওয়ার্ল্ড (ASYCUDA World), ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো (NSW) এবং পোর্টগুলোতে আধুনিক স্ক্যানিং ব্যবস্থার মতো তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক কার্যক্রমকে ‘এন্ড-টু-এন্ড অটোমেশন’ (End-to-End Automation)-এর অধীনে আনতে হবে। আধুনিক ডাটাভিত্তিক কর প্রশাসনই কেবল পারে অহেতুক হয়রানি বন্ধ করে প্রকৃত কর ফাঁকিদাতা ও সৎ করদাতাকে নির্ভুলভাবে চিহ্নিত করতে।

বাংলাদেশের অর্থপ্রশাসনের ইতিহাসে সবচেয়ে যুগান্তকারী ও বৈপ্লবিক সিদ্ধান্তটি এসেছে দেশের অর্থবছর পরিবর্তনের মাধ্যমে। দীর্ঘকালের ‘১ জুলাই – ৩০ জুন’ অর্থবছর চক্রকে বদলে ‘১ এপ্রিল – ৩১ মার্চ’ নতুন অর্থবছর নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক বাস্তবতার আলোকেই গৃহীত হয়েছে।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও জলবায়ুগত বাস্তবতায় জুন-জুলাই-আগস্ট—এই তিন মাস থাকে প্রচণ্ড বর্ষাকাল। কিন্তু আমাদের প্রচলিত অর্থবছর জুন মাসে শেষ হওয়ায় অর্থছাড়, দরপত্র আহ্বান এবং উন্নয়ন বাজেটের সিংহভাগ বরাদ্দ খরচের মহোৎসব শুরু হতো মে ও জুন মাসেই। ফলে বর্ষার তীব্র বৃষ্টিপাতের মধ্যেই তড়িঘড়ি করে রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্টসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করতে হতো। এর ফলে প্রতিবছর: কোটি কোটি টাকার জনগণের আমানত নর্দমায় যেত এবং কাজের মান চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতো। বর্ষার কারণে কাজ দীর্ঘায়িত হয়ে জনদুর্ভোগ চরম মাত্রায় পৌঁছাত। অর্থছাড়ের নির্ধারিত সময়সীমা বা জুন ডেডলাইনের কারণে ঠিকাদার ও দুর্নীতিবাজদের পকেট ভারী হতো কিন্তু টেকসই অবকাঠামো তৈরি হতো না।

অর্থবছরের মতো বিশাল জটিল একটি সরকারি অর্থনৈতিক পরিকাঠামো রাতারাতি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তাই সরকার অত্যন্ত দূরদর্শীভাবে প্রশাসনিক ও আর্থিক ট্রানজিশনের সময়রেখা নির্ধারণ করেছে:
২০২৬ – ২০২৭ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দ্বিখণ্ডীকরণ, ডিজিটাইজেশন প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন এবং নতুন অর্থবছর সংক্রান্ত অর্থ আইন ও প্রশাসনিক বিধিমালা প্রস্তুত করা।

২০২৭ – ২০২৮ অর্থবছরটিকে বিশেষ ৯ মাসের (১ জুলাই ২০২৭ থেকে ৩১ মার্চ ২০২৮) রূপান্তরকালীন অর্থবছর হিসেবে পরিচালনা করা হবে এবং পরীক্ষামূলকভাবে বাজেট সমন্বয় করা হবে। ১ এপ্রিল ২০২৮ থেকে ৩১ মার্চ ২০২৯ তারিখ পর্যন্ত নতুন সময়সূচী অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ‘এপ্রিল-মার্চ’ অর্থবছর চক্র চালুকরণ।

একটি দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক মুক্তি ও সার্বভৌমত্ব নির্ভর করে তার নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত উন্নয়ন কাঠামোর ওপর। জাতীয় রাজস্ব সম্মেলন ২০২৬ কেবল একটি বার্ষিক আলোচনা সভা ছিল না, বরং এটি ছিল অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের জন্য একটি জাতীয় ঐকমত্যের প্ল্যাটফর্ম। কর আদায় কেবল আইন বা জোরজবরদস্তির বিষয় নয়; এটি আস্থা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও দেশপ্রেমের সংমিশ্রণ।

পরিশেষে বলা যায়,রাজস্ব কর্মকর্তাদের মানসিকতায় আমূল পরিবর্তন এনে সেবাধর্মী মনোভাব গড়ে তুলতে হবে। দেশপ্রেম ও সততার সাথে প্রতিষ্ঠানকে ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দিতে হবে। যে রাষ্ট্র তার নাগরিকদের সম্মান দিতে জানে এবং সেবার প্রক্রিয়াকে হয়রানিমুক্ত রাখে, নাগরিকরাও সেই রাষ্ট্রের উন্নয়নে অংশীদার হতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসে।

অর্থবছরের যুগান্তকারী পরিবর্তন, এনবিআরের সংস্কার, ডিজিটাইজেশন এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সমন্বয়ে যে ব্যাপক সংস্কারমূলক কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে—তা যদি সততা, সাহসিকতা ও নিরপেক্ষতার সাথে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে বাংলাদেশ অতি দ্রুত একটি শক্তিশালী, দক্ষ ও বিশ্বস্ত রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সক্ষম হবে। সুতরাং এই অর্থনৈতিক সংস্কারই হবে ফ্যাসিবাদমুক্ত, স্বনির্ভর এবং অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ ‘নতুন বাংলাদেশ’ গঠনের মূল হাতিয়ার ইনশাল্লাহ।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক
ই-মেইল: ahabibhme@gmail.com

চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে এক মঞ্চে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা, এফডিসির গণ্ডি পেরিয়ে আধুনিকায়নের বার্তা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ণ
চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে এক মঞ্চে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা, এফডিসির গণ্ডি পেরিয়ে আধুনিকায়নের বার্তা

একসময় বাংলাদেশের সিনেমা শুধু বিনোদন দেয়নি। কথা বলেছে সমাজের কথা। জায়গা করে নিয়েছে মানুষের হৃদয়ে। সেই ঐতিহ্যের স্মৃতিচারণ চলতি বছরের ‘ফিল্ম ডিরেক্টরস ডে’-এর মঞ্চে। চলচ্চিত্র শিল্পের বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য কীভাবে ভবিষ্যতের পথ তৈরি করা যায়, সে বিষয়েও মিলেছে স্পষ্ট বার্তা। একই মঞ্চে বক্তব্য রেখেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান এমপি, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

  • আধুনিক অবকাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় সরকারের 
  • মানসম্মত নির্মাণ থেকে পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন পরিকল্পনা—তিন নীতিনির্ধারকের বক্তব্যে অভিন্ন প্রত্যয়

তিন নীতিনির্ধারকের বক্তব্যে চলচ্চিত্র উন্নয়নের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে। মানসম্মত ও অর্থবহ চলচ্চিত্র নির্মাণ, এফডিসির গণ্ডি পেরিয়ে পুরো শিল্পের উন্নয়ন এবং আধুনিক অবকাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা—তাঁদের বক্তব্যের মূল সুর ছিল এসব বিষয়কে কেন্দ্র করেই। প্রয়োজনীয় সহযোগিতার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিএফডিসি অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি আয়োজিত ‘ফিল্ম ডিরেক্টরস ডে ২০২৬’ অনুষ্ঠানে মূলত দেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে নতুনভাবে বিকশিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সরকার।

একটি সময় সিনেমার বার্তা হৃদয়ে গেঁথে যেত
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান বলেন, ‘একটি সময় সিনেমা যে বার্তা দিতো, তা আমরা হয়তো চোখ দিয়ে দেখতাম কিন্তু তা আমাদের হৃদয়ে গেঁথে যেত। প্রতিটি সিনেমায় নিজস্ব চরিত্র ও স্পষ্ট বার্তা থাকা উচিত। প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনসহ গুণী নির্মাতাদের প্রতিটি সিনেমায় সামাজিক ও মানবিক বার্তা ছিল।’ আগামী দিনে মানসম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাণের আহ্বান জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই সবাই মিলে আগামীতে এমন কাজ করতে, যাতে আমাদের চলচ্চিত্রগুলো আবার কথা বলে।

সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে সমাজের বাস্তবতা বদলেছে। বর্তমানে বহু তরুণ মাদকের ভয়াবহতায় জড়িয়ে পড়ছে, যা সমাজের জন্য বিশাল ক্ষতি। এর পাশাপাশি সমাজে নানাবিধ বৈষম্য রয়েছে। এই সংকট থেকে সমাজকে পথ দেখাতে শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে আমাদের চলচ্চিত্র নির্মাতারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন।’ চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে বর্তমান সরকারের আন্তরিকতার কথা উল্লেখ করে আন্দালিভ রহমান বলেন, ‘আমরা সবাই একসাথে কাজ করলে বাংলাদেশের সিনেমাকে আবারো তার পুরোনো ও গৌরবোজ্জ্বল জায়গায় নিয়ে যেতে পারবো, ইনশাআল্লাহ।’

চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
দেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে নতুনভাবে বিকশিত করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করছে সরকার বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশনা দিয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে করণীয়, বাস্তবায়ন কৌশল এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতাসহ একটি সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করে উপস্থাপন করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার শুধু এফডিসির উন্নয়ন নয়, বরং সামগ্রিক চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। অতীতে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে যেসব গুণী পরিচালক, প্রযোজক, অভিনেতা ও অভিনেত্রী অসাধারণ কাজ করেছেন, সেই ঐতিহ্যকে সামনে রেখে চলচ্চিত্রের মান ও শিল্পের সক্ষমতা আরও বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি, যার মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণ করে চলচ্চিত্র শিল্পের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও দপ্তরকে আরও কার্যকর করা যাবে। এফডিসিও এ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’

চলচ্চিত্রের গুণীজনদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে নেতৃত্ব দেবেন এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ ও গুণী ব্যক্তিরাই। সরকার তাদের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।’ চলচ্চিত্র অঙ্গনের মানুষদের সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ থেকেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিনি অতীতেও এফডিসিতে এসেছেন এবং ভবিষ্যতেও চলচ্চিত্র শিল্পের মানুষদের সঙ্গে নিয়ে ও তাদের পাশে থেকে কাজ করবেন।

আধুনিক অবকাঠামো ও পূর্ণাঙ্গ রূপরেখার প্রত্যয়
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রী দেশের চলচ্চিত্রের স্বকীয়তা ও গৌরব ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী। চলচ্চিত্র খাতের বর্তমান সংকট কাটিয়ে আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তুলতে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা তৈরি করা হবে। তিনি জানান, চলচ্চিত্র ও এফডিসির উন্নয়নে কী কী করা প্রয়োজন, সে বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে এবং শিগগিরই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ বাস্তবায়নের দিকে এগোনো হবে। নিজের চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহের কথাও জানিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, একসময় তিনিও ফিল্মমেকার হতে চেয়েছিলেন।

সম্মাননায় গুণীজন, গানে সাবিনা
‘ফিল্ম ডিরেক্টরস ডে ২০২৬’ উপলক্ষে চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি অঙ্গনে অবদানের জন্য বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন ও বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ফরিদুর রেজা সাগরকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। এছাড়া চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুদ পারভেজ (সোহেল রানা), প্রখ্যাত পরিচালক এ জে মিন্টু, প্রযোজক ও অভিনেতা কাজী হায়াৎ, চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব ও বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, পরিচালক ড. মতিন রহমান এবং মশিউদ্দীন শাকেরসহ চলচ্চিত্র অঙ্গনের গুণীজনদের সম্মাননা জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে অনুভূতি প্রকাশ করে সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘ছোটবেলায় তিনি প্রতিদিন এফডিসিতে রেকর্ডিং করতেন। এই প্রাঙ্গণ থেকে হাজার হাজার কালজয়ী গান সৃষ্টি হয়েছে। চলচ্চিত্র পরিচালকদের কারণেই তিনি আজ সাবিনা ইয়াসমিন হতে পেরেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পরে অতিথি ও দর্শকদের অনুরোধে গান পরিবেশন করেন বরেণ্য এই শিল্পী।

এর আগে শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি শাহীন সুমন। অনুষ্ঠানে সমিতির মহাসচিব শাহীন কবির টুটুল, বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা তানিসহ চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, অভিনয়শিল্পী, কলাকুশলী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

টিসিবির জন্য ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৬ অপরাহ্ণ
টিসিবির জন্য ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার

সরকারি ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির জন্য ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় হবে প্রায় ৭৭ কোটি টাকা বা ৭৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র (জাতীয়) পদ্ধতিতে এ মসুর ডাল কেনা হবে। বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে রয়েছে টিসিবি।

টিসিবি ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার জন্য স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করলে তিনটি দরপত্র জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে তিনটি দরপ্রস্তাবই কারিগরিভাবে রেসপনসিভ বিবেচিত হয়।

দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির (টিইসি) সুপারিশ অনুযায়ী রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান জয়তুন অটো রাইস অ্যান্ড ডাল মিলস লিমিটেড, খুলনা থেকে মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে টিসিবির গুদাম পর্যন্ত পরিবহন খরচসহ প্রতি কেজি ৭৬ টাকা ৭৯ পয়সা দরে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনা হবে। এতে মোট ব্যয় হবে ৭৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এ অর্থের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাউন্টার গ্যারান্টি থাকবে।

প্রস্তাবে বলা হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে টিসিবির মসুর ডাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১৭ হাজার ৫২৮ মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনা হয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

সৌদি আরব থেকে ১৯৪ কোটি টাকার ইউরিয়া আমদানির অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৩ অপরাহ্ণ
সৌদি আরব থেকে ১৯৪ কোটি টাকার ইউরিয়া আমদানির অনুমোদন

সৌদি আরবের সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন (+১০ শতাংশ) বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় হবে ১৯৩ কোটি ৫৫ লাখ ৮৩ হাজার ৭২০ টাকা।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) মাধ্যমে এ সার আমদানি করা হবে। আমদানির ব্যয় কৃষি ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ বাজেট থেকে পরিশোধ করা হবে।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, সরকার ২০০৭ সাল থেকে জিটুজি (সরকার থেকে সরকার) চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের সাবিক থেকে ইউরিয়া সার আমদানি করে আসছে। ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানির সঙ্গে মোট ৮ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানির চুক্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন চুক্তির আওতায় এবং জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় অতিরিক্ত ৫ লাখ মেট্রিক টন আমদানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

চুক্তিতে নির্ধারিত প্রাইসিং ফর্মুলা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারদর বিবেচনায় পঞ্চম লটে ৪০ হাজার মেট্রিক টন (+১০ শতাংশ) বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাব করা হয়। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৫৬ লাখ ৬৬ হাজার ৪০০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৯৩ কোটি ৫৫ লাখ ৮৩ হাজার ৭২০ টাকা। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের দাম পড়বে ৩৯১ দশমিক ৬৬ মার্কিন ডলার।

সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের ফলে এখন নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সৌদি আরবের সাবিক থেকে এ লটের ইউরিয়া সার আমদানি করা হবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ