খুঁজুন
                               
, ,
           

এনবিআর সংস্কার: অর্থনীতি পুনর্গঠন ও উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ

আহসান হাবিব বরুন:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৯:০৯ অপরাহ্ণ
এনবিআর সংস্কার: অর্থনীতি পুনর্গঠন ও উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ

দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা, দীর্ঘস্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা এবং নীতিগত স্থবিরতার বৃত্ত ভেঙে বাংলাদেশ আজ এক নতুন ভোরের মুখোমুখি। ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণের দীর্ঘ দেড় দশকের অভিশাপ কাটিয়ে একটি মুক্ত ও স্বনির্ভর সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যেকোনো দেশের স্বনির্ভরতা ও টেকসই অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বের মূল চাবিকাঠি হলো একটি দক্ষ, আধুনিক ও জনবান্ধব রাজস্ব ব্যবস্থা। সেই নিরিখে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ‘রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬’-এ রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারকদের কৌশলগত দিকনির্দেশনা এবং গৃহীত যুগান্তকারী সিদ্ধান্তসমূহ কেবল রাজস্ব আদায় বাড়ানোর প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি জাতীয় অর্থনীতি পুনর্গঠনের এক গুরুত্বপূর্ণ কার্যকার উদ্যোগ। ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত নতুন অর্থবছর চক্র নির্ধারণ এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) দুটি স্বতন্ত্র ও স্বচ্ছ সংস্থায় বিভক্ত করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত অর্থনৈতিক সংস্কারের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে মনে হচ্ছে।

একটি দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির টেকসই যাত্রা কখনোই বৈদেশিক ঋণ বা কৃত্রিম আর্থিক পরিসংখ্যানের ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। বিগত বছরগুলোতে দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর যে চরম আঘাত এসেছে, তা থেকে মুক্ত হয়ে আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে ওঠার মূল শর্তই হলো অভ্যন্তরীণ সম্পদের সর্বোচ্চ ও দক্ষ ব্যবহার। জাতীয় রাজস্ব সম্মেলনের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে সুস্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ: ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এবার আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা, বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা।’

সরকার পরিচালনার দ্বায়িত্ব নেওয়ার পর বর্তমান বাস্তবতায় ভঙ্গুর অর্থনৈতিক কাঠামোকে স্থিতিশীল করা এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আনা পুরোপুরি নির্ভর করছে রাজস্ব আহরণের সক্ষমতার ওপর। কিন্তু অতীতের নীতিহীন পৃষ্ঠপোষকতা, রাজনৈতিক স্বার্থে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং রাজস্ব আহরণে স্বেচ্ছাচারিতা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে এনেছিল। করদাতাদের কাছে এনবিআর একসময় আতঙ্কের নাম ছিল, যা কোনো স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কাম্য হতে পারে না। আজ করদাতারা এনবিআরকে নিজেদের আস্থার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেখতে চায়। করদাতাদের এই প্রত্যাশা পূরণ করা এবং একটি জনবান্ধব রাজস্ব কাঠামো তৈরি করা বর্তমান সময় ও দেশগঠনের প্রধান দাবি।

বাংলাদেশের রাজস্ব খাতের দীর্ঘদিনের স্থবিরতা এবং পেশাদারিত্বের অভাব দূর করতে আন্তর্জাতিক মানের প্রশাসনিক সংস্কার অত্যন্ত জরুরি ছিল। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ঘোষণা অনুযায়ী এনবিআর ভেঙে দুটি সম্পূর্ণ পৃথক ও বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান গঠনের সিদ্ধান্ত দেশের প্রাতিষ্ঠানিক ইতিহাসে সবচেয়ে সময়োপযোগী পদক্ষেপ।

১.এই বিভাগটি কাজ করবে সরকারের উচ্চমানের ‘থিংক ট্যাংক’ বা চিন্তাশীল সংস্কারক সংস্থা হিসেবে। অর্থনীতিবিদ, গবেষক, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি ও শিল্প-বাণিজ্য সংগঠনের বিশেষজ্ঞদের মতামত ও গবেষণার ভিত্তিতে এটি একটি ভারসাম্যপূর্ণ, প্রতিযোগিতামূলক এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নবান্ধব কর নীতি ও আইন কাঠামো প্রণয়ন করবে।
২.এটি কাজ করবে একটি দক্ষ ‘অ্যাকশন টিম’ হিসেবে। যাদের মূল দায়িত্ব হবে কেবল রাজস্ব নীতি বাস্তবায়ন, কর সংগ্রহ এবং আইনের পরিপালন নিশ্চিত করা।

অতীতের কাঠামোয় একই কর্মকর্তার হাতে নীতি প্রণয়ন এবং কর সংগ্রহের দায়িত্ব থাকায় সেখানে স্বার্থের সংঘাত (Conflict of Interest), স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত এবং দুর্নীতি লালনের সুযোগ থেকে যেত। রাজস্ব প্রশাসন থেকে নীতি নির্ধারণী অংশকে বিচ্ছিন্ন করার এই নতুন মডেল কর ব্যবস্থার সামগ্রিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও পেশাদারিত্ব শতভাগ নিশ্চিত করবে।

অর্থনীতির আকার ও বিস্তৃতি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেলেও বাংলাদেশে ট্যাক্স-টু-জিডিপি (Tax-to-GDP Ratio) অনুপাত বিশ্ব ও আঞ্চলিক সূচকে অত্যন্ত হতাশাজনক। ২০২৩ সালে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে গড় কর-জিডিপি অনুপাত ছিল ১৯.৫ শতাংশ, যেখানে বাংলাদেশের এই হার ৭.২ শতাংশে অবস্থান করছিল। দুখজনকভাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এটি আরও কমে ৬.৭ শতাংশে নেমে আসে, যা বিশ্বপর্যায়ে সর্বনিম্নগুলোর অন্যতম।

এর মূল কারণ অর্থনীতির সম্প্রসারণের সাথে সাথে রাষ্ট্র তার রাজস্ব আহরণের সক্ষমতা বাড়াতে পারেনি। বিদ্যমান নিয়মিত করদাতাদের ওপর বারবার করের বোঝা বাড়ানোর নীতি কোনো অবস্থাতেই টেকসই নয়। এ ব্যবধান কমাতে আমাদের কর কাঠামোতে প্রধানত চারটি কৌশল অবলম্বন করা প্রয়োজন:

১.যারা কর দেয়ার সক্ষমতা রাখেন অথচ কর ব্যবস্থার বাইরে রয়েছেন, তাদের সঠিকভাবে শনাক্ত করে করের আওতায় আনতে হবে।
২.অযৌক্তিক, অপ্রয়োজনীয় এবং রাজনৈতিক সুবিধাভিত্তিক কর ছাড় বা ট্যাক্স হলিডে সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে।
৩.আন্তর্জাতিক সীমানা পেরিয়ে ট্রান্সফার প্রাইসিং বা মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে সম্পদ পাচার কঠোরভাবে রদ করতে হবে।
৪.ভয়ভীতি প্রদর্শনের পরিবর্তে করদাতাদের সম্মানিত করা এবং ট্যাক্স প্রসেস সহজ করতে হবে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে নির্ধারিত ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা আপাতদৃষ্টিতে উচ্চাভিলাষী হলেও, একটি ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে নিজস্ব সামর্থ্যভিত্তিক উন্নয়ন বাজেটে উত্তরণের জন্য এই অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের কোনো বিকল্প নেই।

বৈশ্বিক অর্থনীতি এখন ট্রেডিশনাল ম্যানুয়াল ফরম্যাট থেকে দ্রুত গতিতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের দিকে মোড় নিয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ই-কমার্স, ট্রান্সফার প্রাইসিং, বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত ইন্টারন্যাশনাল ট্যাক্সেশন এবং ডিজিটাল ক্রাইমের জটিল সমীকরণে আমাদের রাজস্ব কর্মকর্তাদের মানসিকভাবে ও সামর্থ্যের দিক দিয়ে বহুমাত্রিক দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

সরকার রাজস্ব খাতের আমূল পরিবর্তনে ‘কন্টাক্ট-ফ্রি’ এবং ‘ফেসলেস’ রাজস্ব প্রশাসন গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া করদাতাকে কর কর্মকর্তার মুখোমুখি না হওয়ার সংস্কৃতি চালু করা গেলে দুর্নীতির বড় একটি পথ বন্ধ হয়ে যাবে। ইতোমধ্যে চালু হওয়া ই-ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট, আসিকুডা ওয়ার্ল্ড (ASYCUDA World), ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো (NSW) এবং পোর্টগুলোতে আধুনিক স্ক্যানিং ব্যবস্থার মতো তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক কার্যক্রমকে ‘এন্ড-টু-এন্ড অটোমেশন’ (End-to-End Automation)-এর অধীনে আনতে হবে। আধুনিক ডাটাভিত্তিক কর প্রশাসনই কেবল পারে অহেতুক হয়রানি বন্ধ করে প্রকৃত কর ফাঁকিদাতা ও সৎ করদাতাকে নির্ভুলভাবে চিহ্নিত করতে।

বাংলাদেশের অর্থপ্রশাসনের ইতিহাসে সবচেয়ে যুগান্তকারী ও বৈপ্লবিক সিদ্ধান্তটি এসেছে দেশের অর্থবছর পরিবর্তনের মাধ্যমে। দীর্ঘকালের ‘১ জুলাই – ৩০ জুন’ অর্থবছর চক্রকে বদলে ‘১ এপ্রিল – ৩১ মার্চ’ নতুন অর্থবছর নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক বাস্তবতার আলোকেই গৃহীত হয়েছে।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও জলবায়ুগত বাস্তবতায় জুন-জুলাই-আগস্ট—এই তিন মাস থাকে প্রচণ্ড বর্ষাকাল। কিন্তু আমাদের প্রচলিত অর্থবছর জুন মাসে শেষ হওয়ায় অর্থছাড়, দরপত্র আহ্বান এবং উন্নয়ন বাজেটের সিংহভাগ বরাদ্দ খরচের মহোৎসব শুরু হতো মে ও জুন মাসেই। ফলে বর্ষার তীব্র বৃষ্টিপাতের মধ্যেই তড়িঘড়ি করে রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্টসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করতে হতো। এর ফলে প্রতিবছর: কোটি কোটি টাকার জনগণের আমানত নর্দমায় যেত এবং কাজের মান চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতো। বর্ষার কারণে কাজ দীর্ঘায়িত হয়ে জনদুর্ভোগ চরম মাত্রায় পৌঁছাত। অর্থছাড়ের নির্ধারিত সময়সীমা বা জুন ডেডলাইনের কারণে ঠিকাদার ও দুর্নীতিবাজদের পকেট ভারী হতো কিন্তু টেকসই অবকাঠামো তৈরি হতো না।

অর্থবছরের মতো বিশাল জটিল একটি সরকারি অর্থনৈতিক পরিকাঠামো রাতারাতি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তাই সরকার অত্যন্ত দূরদর্শীভাবে প্রশাসনিক ও আর্থিক ট্রানজিশনের সময়রেখা নির্ধারণ করেছে:
২০২৬ – ২০২৭ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দ্বিখণ্ডীকরণ, ডিজিটাইজেশন প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন এবং নতুন অর্থবছর সংক্রান্ত অর্থ আইন ও প্রশাসনিক বিধিমালা প্রস্তুত করা।

২০২৭ – ২০২৮ অর্থবছরটিকে বিশেষ ৯ মাসের (১ জুলাই ২০২৭ থেকে ৩১ মার্চ ২০২৮) রূপান্তরকালীন অর্থবছর হিসেবে পরিচালনা করা হবে এবং পরীক্ষামূলকভাবে বাজেট সমন্বয় করা হবে। ১ এপ্রিল ২০২৮ থেকে ৩১ মার্চ ২০২৯ তারিখ পর্যন্ত নতুন সময়সূচী অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ‘এপ্রিল-মার্চ’ অর্থবছর চক্র চালুকরণ।

একটি দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক মুক্তি ও সার্বভৌমত্ব নির্ভর করে তার নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত উন্নয়ন কাঠামোর ওপর। জাতীয় রাজস্ব সম্মেলন ২০২৬ কেবল একটি বার্ষিক আলোচনা সভা ছিল না, বরং এটি ছিল অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের জন্য একটি জাতীয় ঐকমত্যের প্ল্যাটফর্ম। কর আদায় কেবল আইন বা জোরজবরদস্তির বিষয় নয়; এটি আস্থা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও দেশপ্রেমের সংমিশ্রণ।

পরিশেষে বলা যায়,রাজস্ব কর্মকর্তাদের মানসিকতায় আমূল পরিবর্তন এনে সেবাধর্মী মনোভাব গড়ে তুলতে হবে। দেশপ্রেম ও সততার সাথে প্রতিষ্ঠানকে ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দিতে হবে। যে রাষ্ট্র তার নাগরিকদের সম্মান দিতে জানে এবং সেবার প্রক্রিয়াকে হয়রানিমুক্ত রাখে, নাগরিকরাও সেই রাষ্ট্রের উন্নয়নে অংশীদার হতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসে।

অর্থবছরের যুগান্তকারী পরিবর্তন, এনবিআরের সংস্কার, ডিজিটাইজেশন এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সমন্বয়ে যে ব্যাপক সংস্কারমূলক কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে—তা যদি সততা, সাহসিকতা ও নিরপেক্ষতার সাথে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে বাংলাদেশ অতি দ্রুত একটি শক্তিশালী, দক্ষ ও বিশ্বস্ত রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সক্ষম হবে। সুতরাং এই অর্থনৈতিক সংস্কারই হবে ফ্যাসিবাদমুক্ত, স্বনির্ভর এবং অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ ‘নতুন বাংলাদেশ’ গঠনের মূল হাতিয়ার ইনশাল্লাহ।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
ই-মেইল: ahabibhme@gmail.com

চা-বাগান, ঝরনা আর হাওর টানছে পর্যটক, প্রস্তুত মৌলভীবাজার

মৌলভীবাজার সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫৬ পূর্বাহ্ণ
চা-বাগান, ঝরনা আর হাওর টানছে পর্যটক, প্রস্তুত মৌলভীবাজার

শরতের নীল আকাশ, সবুজ চা-বাগান, পাহাড়ি ঝরনা আর হাওরের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটিতে মৌলভীবাজারে পর্যটকদের আগ্রহ বাড়ছে। পর্যটকদের বরণে প্রস্তুতি নিয়েছে জেলার হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজগুলো। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে আগাম বুকিং ৮০ থেকে ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে, আবার কিছু কটেজের সব কক্ষ আগেই বুকিং হয়ে গেছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, হাকালুকি হাওর ও হামহাম ঝরনা পর্যটকদের আকর্ষণ করছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মণিপুরি সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি, নাচ-গান, হস্তশিল্প ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের অভিজ্ঞতা। সব মিলিয়ে পূজার ছুটিকে কেন্দ্র করে জেলার পর্যটন ব্যবসায়ীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি প্রত্যাশা।

হোটেল-রিসোর্টে আগাম বুকিংয়ের চাপ

দুর্গাপূজার দীর্ঘ ছুটিকে সামনে রেখে মৌলভীবাজারের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে থাকার জায়গা বুকিংয়ের ব্যস্ততা বেড়েছে। বিশেষ করে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের হোটেল, রিসোর্ট এবং কটেজগুলোতে আগাম বুকিংয়ের হার উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছেছে। কমলগঞ্জের টিলাগাঁও ইকো ভিলেজের ব্যবস্থাপক সোহেল আহমেদ বলেন, পূজার দীর্ঘ ছুটিকে সামনে রেখে তাঁদের প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে।শ্রীমঙ্গলের বালিসিরা কটেজের মালিক ও রাধানগর পর্যটন কল্যাণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী সামছুল হক জানান, তাঁদের কটেজের সব কক্ষ আগেই বুকিং হয়েছে।

শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সভাপতি মো. সেলিম আহমদ বলেন, উৎসবের সময়ে হোটেল-রিসোর্টে সাধারণত ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ কক্ষ বুকিং থাকে। জেলার পর্যটনশিল্পের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকারি উদ্যোগ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

চা-বাগান, ঝরনা ও হাওরের টানে পর্যটকেরা

মৌলভীবাজারের পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ এর বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক পরিবেশ। বিস্তীর্ণ চা-বাগানের সবুজ, পাহাড়ি পথ, ঝরনার পানি এবং হাওরের বিস্তৃত জলরাশি ভ্রমণপিপাসুদের কাছে আলাদা আবেদন তৈরি করে। জেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, হাকালুকি হাওর ও হামহাম ঝরনা পর্যটকদের কাছে পরিচিত গন্তব্য। শরতের আবহে এসব স্থানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটির সময় ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন অনেকে। পর্যটকদের আকর্ষণ শুধু প্রকৃতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। স্থানীয় সংস্কৃতি ও খাবারের বৈচিত্র্যও মৌলভীবাজার ভ্রমণকে ভিন্ন অভিজ্ঞতা দেয়। ফলে পূজার ছুটিতে জেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের বাড়তি উপস্থিতির প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

মণিপুরি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের আকর্ষণ

কমলগঞ্জের ভানুবিল মাঝের গাঁওয়ে মণিপুরি কমিউনিটিভিত্তিক পর্যটনকেন্দ্র ‘মাঙাল ময়ুম’ স্থানীয় সংস্কৃতিকে পর্যটকদের সামনে তুলে ধরছে। সেখানে মণিপুরি নাচ-গান, হস্তশিল্প ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। কেন্দ্রটির উদ্যোক্তা নিরঞ্জন সিংহ বলেন, পর্যটকেরা এখানে এসে মণিপুরি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারেন। এতে একদিকে স্থানীয় সংস্কৃতির পরিচিতি বাড়ছে, অন্যদিকে এলাকার মানুষের বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনধারা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করার ফলে ভ্রমণকারীরা প্রকৃতি দেখার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সংস্কৃতি জানার সুযোগ পাচ্ছেন। এতে পর্যটন কার্যক্রমের সুফল স্থানীয় পর্যায়েও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন চান পর্যটনসংশ্লিষ্টরা

পর্যটকদের আগ্রহ বাড়লেও পর্যটনশিল্পের বিকাশে সড়ক ও রেল যোগাযোগব্যবস্থার দুরবস্থাকে বড় বাধা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, পর্যটনকেন্দ্রে যাতায়াত সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ না হলে পর্যটন খাতের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো কঠিন। ট্যুর গাইড অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রাসেল আলম সিলেট-ঢাকা রুটে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোসহ যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, যাতায়াতের সুযোগ বাড়লে পর্যটকদের ভ্রমণ পরিকল্পনা সহজ হবে এবং স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

পর্যটকদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা

পূজার ছুটিতে পর্যটকদের আগমন বাড়ার সম্ভাবনা বিবেচনায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে টহল ও হেল্পডেস্ক রাখার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। শ্রীমঙ্গল জোনের ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ পরিদর্শক মো. কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে টহল ও হেল্পডেস্ক থাকবে। মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম জানান, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের আগমন এবং পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে পূজার আগে, চলাকালে ও প্রতিমা বিসর্জনের সময় সতর্ক নজরদারি থাকবে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের সমন্বয়ে মৌলভীবাজারের পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। পূজার ছুটিতে আগাম বুকিংয়ের উচ্চ হার স্থানীয় হোটেল-রিসোর্ট ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা বাড়িয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

 

ত্রিদেশীয় সিরিজে হার দিয়ে শুরু বাংলাদেশের, জিম্বাবুয়ের দাপুটে জয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩৯ পূর্বাহ্ণ
ত্রিদেশীয় সিরিজে হার দিয়ে শুরু বাংলাদেশের, জিম্বাবুয়ের দাপুটে জয়

ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচেই বড় হারের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। ব্যাটিং ব্যর্থতায় জিম্বাবুয়ের দেওয়া ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৭২ রানেই অলআউট হয়েছে তাওহিদ হৃদয়ের দল। আবুধাবিতে শনিবার ৯৯ রানের জয় দিয়ে সিরিজ শুরু করেছে জিম্বাবুয়ে। ম্যাচে শুরুতে বল হাতে জিম্বাবুয়েকে চাপে ফেলেছিল বাংলাদেশ। মাত্র ২৪ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে দলটি। কিন্তু ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেইগ আরভিনের বড় জুটি জিম্বাবুয়েকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করে। পরে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ।

টেলর-আরভিনের ১৫০ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়াল জিম্বাবুয়ে

টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদের বোলিংয়ের সামনে বিপাকে পড়ে জিম্বাবুয়ে। মাত্র ২৪ রানের মধ্যে তিনটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দলটি। তবে এই অবস্থায় দলের হাল ধরেন ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেইগ আরভিন। চতুর্থ উইকেটে দুজন মিলে গড়েন ১৫০ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। টেলর ১০১ বলে ৮১ রান করেন। আরভিনের ব্যাট থেকে আসে ১০৬ বলে ৯৩ রান। তাঁদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে প্রাথমিক বিপর্যয় কাটিয়ে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে যায় জিম্বাবুয়ে। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৭১ রান সংগ্রহ করে দলটি। ফলে বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৭২ রান।

তাসকিনের তিন উইকেটেও থামেনি জিম্বাবুয়ে

বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন তাসকিন আহমেদ। ৪৪ রান দিয়ে তিনি নেন ৩ উইকেট। শুরুতে তাঁর বোলিংয়েই দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে। এ ছাড়া শরীফুল ইসলাম ও সাইফ হাসান দুটি করে উইকেট শিকার করেন। তবে টেলর ও আরভিনের জুটি ভাঙতে দেরি হওয়ায় জিম্বাবুয়ে বড় সংগ্রহ গড়তে সক্ষম হয়।

২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা খুব খারাপ ছিল না। কিন্তু সৌম্য সরকার ৯ রান করে ব্লেসিং মুজারাবানির বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরতেই ছন্দপতন শুরু হয়। তানজিদ হাসান তামিম আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে দলকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে ৪৬ রান করে তাঁর বিদায়ের পর বাংলাদেশের চাপ আরও বাড়ে। নাজমুল হোসেন শান্তও বেশিক্ষণ উইকেটে থাকতে পারেননি। তিনি করেন ১৩ রান। দলীয় ৯৭ রানে চতুর্থ উইকেট হিসেবে আউট হন অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়। ২১ বলে ১৩ রান করে সিকান্দার রাজার বলে এলবিডব্লিউ হন তিনি। অধিনায়কের বিদায়ের পর বাংলাদেশের জয়ের আশা আরও ক্ষীণ হয়ে যায়।

নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ১৭২ রানেই শেষ

হৃদয়ের বিদায়ের পর বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে আর ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হয়নি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে দলটি। মোসাদ্দেক হোসেনও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। শেষ দিকে রিশাদ হোসেন ও তাসকিন আহমেদ ২৬ বলে ৩২ রানের জুটি গড়ে হারের ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করেন। রিশাদ করেন ২৩ রান, আর তাসকিন ১৬ রানে অপরাজিত থাকেন। তবে তাঁদের এই প্রচেষ্টা বাংলাদেশের পরাজয় এড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত ১৭২ রানেই গুটিয়ে যায় দলের ইনিংস। জিম্বাবুয়ের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন ব্র্যাড ইভান্স। তিনি নেন ৪ উইকেট। সিকান্দার রাজা ও মাসাকাদজা দুটি করে উইকেট শিকার করেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

 

 

ঢাকা ক্রিকেটার্সকে ৫১ রানে উড়িয়ে বসুন্ধরার টানা তিন জয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ
ঢাকা ক্রিকেটার্সকে ৫১ রানে উড়িয়ে বসুন্ধরার টানা তিন জয়

ব্যাট হাতে খালেদ মাসুদের ঝোড়ো অর্ধশতক আর বল হাতে তাপস ঘোষের বিধ্বংসী বোলিংয়ে দাপুটে জয় পেয়েছে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স। এবিজি স্পোর্টস সিটির আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ফ্রস্ট ব্লাস্ট টি-টোয়েন্টি করপোরেট ক্রিকেটের তৃতীয় আসরের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ঢাকা ক্রিকেটার্সকে ৫১ রানে হারিয়েছে দলটি। এ জয়ে টুর্নামেন্টে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়ে নিজেদের ধারাবাহিকতার প্রমাণ দিল বসুন্ধরা। শনিবার আগে ব্যাট করতে নেমে ১৯.৩ ওভারে ১৪০ রানে অলআউট হয় বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স। জবাবে ব্যাট করতে নেমে তাপস ঘোষের বোলিং তোপে ১৬.৫ ওভারে মাত্র ৮৯ রানেই গুটিয়ে যায় ঢাকা ক্রিকেটার্সের ইনিংস।

খালেদ মাসুদের ঝোড়ো ফিফটিতে লড়াকু সংগ্রহ 

ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্সের। দলীয় ৯ রানে মাহমুদুল হাসান শেখের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার মাহেন। তাঁর ব্যাট থেকে আসে মাত্র ২ রান। আগের দুই ম্যাচে ভালো ছন্দে থাকা শেহজাদ আকবর সোবহানও এদিন বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। তিনি করেন ৬ রান। প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দিতে দ্বিতীয় উইকেটে ৩৯ রানের জুটি গড়েন খালেদ মাসুদ ও সুমন আহমেদ। তবে ১৭ বলে ১০ রান করে সুমন ফিরে গেলে আবারও চাপে পড়ে দলটি। একপ্রান্ত আগলে রেখে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে যান খালেদ। তাঁর ব্যাটে রান আসতে থাকায় বড় সংগ্রহের আশা জাগে বসুন্ধরা শিবিরে। মাত্র ৩৫ বলে ৬টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৫৯ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। দলীয় ৯৬ রানে ফিরোজ রশিদের বলে খালেদ আউট হলে ফের ছন্দপতন ঘটে বসুন্ধরার ব্যাটিংয়ে। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে দলটি।

শেষ দিকে বাবুর ব্যাটে ১৪০ রান

মাঝের ওভারে অন্তু ১৩ বলে ১৭ এবং রাজি ১১ রান করে দলের সংগ্রহ বাড়াতে ভূমিকা রাখেন। শেষ দিকে বাবুর অপরাজিত ১৭ রানের ইনিংসও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ১৬ বলের ইনিংসটি খেলে বসুন্ধরাকে ১৪০ রানে পৌঁছে দেন তিনি। ঢাকা ক্রিকেটার্সের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন ফিরোজ রশিদ। ২৩ রান দিয়ে তিনি নেন ৩ উইকেট। মাহমুদুল হাসান শেখ এক মেডেনসহ ১৩ রান খরচায় শিকার করেন ২ উইকেট। ১৪১ রানের লক্ষ্য খুব বড় না হলেও বসুন্ধরার বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সের সামনে তা তাড়া করা কঠিন হয়ে পড়ে ঢাকা ক্রিকেটার্সের জন্য।

তাপস ঘোষের তোপে ভেঙে পড়ে ঢাকা ক্রিকেটার্স

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে ঢাকা ক্রিকেটার্স। বসুন্ধরার বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে দলটি। ব্যাটারদের কেউই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। ঢাকা ক্রিকেটার্সের হয়ে সর্বোচ্চ ২৪ রান করেন ফারুক টিটো। ২৯ বলের ইনিংসে দুটি চার ও একটি ছক্কা মারেন তিনি। রাসেল করেন ১১ রান এবং তাসবিহ ইবতিসাম রাফির ব্যাট থেকে আসে ১০ রান। বাকি ব্যাটারদের কেউই দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। অতিরিক্ত থেকে যোগ হয় ১৭ রান।

বসুন্ধরার হয়ে বল হাতে ম্যাচের সবচেয়ে উজ্জ্বল পারফরম্যান্স দেখান তাপস ঘোষ। মাত্র ৩.৫ ওভারে ৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট তুলে নেন তিনি। তাঁর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়েই দ্রুত গুটিয়ে যায় ঢাকা ক্রিকেটার্সের ব্যাটিং লাইনআপ। খালেদ মাসুদও বল হাতে অবদান রাখেন। ২ ওভারে ৮ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। রাজি ৪ ওভারে ২০ রান খরচায় শিকার করেন আরও ২ উইকেট। এ ছাড়া মাহেন ও লাজিম একটি করে উইকেট নেন। খালেদ মাসুদের ৫৯ রানের ইনিংস বসুন্ধরাকে লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দেয়। এরপর তাপস ঘোষের দুর্দান্ত বোলিং এবং অন্য বোলারদের কার্যকর ভূমিকা ঢাকা ক্রিকেটার্সকে ৮৯ রানেই আটকে দেয়।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি