খুঁজুন
                               
, ,
           

বঙ্গোপসাগরের গ্যাসে প্রতিবেশীর শিল্পের গতি, বাংলাদেশে সংকট

ড. মোঃ মিজানুর রহমান:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ১:৪০ পূর্বাহ্ণ
বঙ্গোপসাগরের গ্যাসে প্রতিবেশীর শিল্পের গতি, বাংলাদেশে সংকট

বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশের জন্য শুধু একটি জলরাশি নয়; এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, শিল্পায়ন, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক শক্তির অন্যতম বড় সম্ভাবনার ক্ষেত্র। অথচ বাস্তবতার বৈপরীত্য ক্রমেই প্রকট হচ্ছে। বঙ্গোপসাগরের ভারতীয় ও মিয়ানমার অংশে সমুদ্রভিত্তিক তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন এগিয়েছে; মিয়ানমারের গ্যাস চীনের বাজারেও যাচ্ছে। বিপরীতে বাংলাদেশকে ক্রমবর্ধমান গ্যাস ঘাটতি মোকাবিলায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করতে হচ্ছে, শিল্পকারখানা গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে চাপ তৈরি হচ্ছে এবং সার উৎপাদনও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে একটি স্বাভাবিক প্রশ্ন সামনে আসে—বঙ্গোপসাগরের সম্ভাব্য সম্পদ যখন আমাদের এত কাছে, তখন আমরা নিজের সম্পদকে কাজে লাগাতে পারছি না কেন?

বাংলাদেশের জন্য সমুদ্রসীমা অর্জন ছিল একটি ঐতিহাসিক কূটনৈতিক ও আইনগত বিজয়। মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনবিষয়ক ট্রাইব্যুনাল ২০১২ সালের ১৪ মার্চ রায় দেয়। এরপর ভারতের সঙ্গে বিরোধে ২০১৪ সালের ৭ জুলাই জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক কাঠামোর অধীনে গঠিত সালিশি ট্রাইব্যুনালের রায়ে দুই দেশের সমুদ্রসীমা নির্ধারিত হয়। এসব রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের আঞ্চলিক সমুদ্র, একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং ২০০ নটিক্যাল মাইলের ভেতরে ও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে এর বাইরেও মহীসোপানের অধিকার সুস্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। অর্থাৎ বাংলাদেশের সমুদ্রসম্পদের ওপর অধিকার এখন আর কেবল রাজনৈতিক দাবি নয়; এর শক্তিশালী আন্তর্জাতিক আইনগত ভিত্তি রয়েছে। কিন্তু এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি এসে দাঁড়ায়—সমুদ্র জিতলাম, সমুদ্রের সম্পদ জিতলাম কি?

সমুদ্রসীমা নির্ধারণের পর বাংলাদেশ এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে ভারতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ওএনজিসি ভিডেশ লিমিটেড ও অয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেডকেও বাংলাদেশের অগভীর সমুদ্রের দুটি ব্লকে অনুসন্ধানের দায়িত্ব দিয়েছিল। তাদের পরিচালিত অনুসন্ধান ও কূপ খননের পরও এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনযোগ্য গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের খবর পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় গ্যাসের প্রকৃত উৎস বা সম্ভাবনাময় কাঠামো চিহ্নিত হলেও তা প্রকাশ করা হয়নি; বরং বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় গ্যাসক্ষেত্রের কাছাকাছি ভারতের নিজস্ব সমুদ্রসীমায় অনুসন্ধান ও উত্তোলনের মাধ্যমে সম্ভাব্য আন্তঃসীমান্ত গ্যাসের সুবিধা নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। একই ধরনের দাবিতে মিয়ানমারও এ ধরনের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে বলে ধারণা প্রকাশ করা হয়েছে। বিষয়টির প্রকৃত সত্যতা প্রযুক্তিগত তদন্ত, ভূতাত্ত্বিক তথ্য, কূপের অবস্থান ও অনুসন্ধানসংক্রান্ত নথি বিশ্লেষণের মাধ্যমে অদূর ভবিষ্যতে প্রকাশিত হবে হয়তো।

তবে কেবল সামাজিক মাধ্যম বা বিশ্লেষকদের বক্তব্যের কারণেই নয়, সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন জাগে। বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার ঠিক পাশেই ভারত ও মিয়ানমার তাদের নিজস্ব সামুদ্রিক অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছে। ভারতের কৃষ্ণা-গোদাবরী অববাহিকাসহ পূর্ব উপকূলের বিভিন্ন অফশোর অঞ্চলে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং উৎপাদনও হয়েছে। একইভাবে মিয়ানমারের বঙ্গোপসাগরীয় সমুদ্রাঞ্চলে একাধিক অফশোর প্রকল্প থেকে গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে এবং পাইপলাইনের মাধ্যমে তার একটি বড় অংশ চীনের বাজারে যাচ্ছে।

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—একই বৃহত্তর বঙ্গোপসাগরীয় ভূতাত্ত্বিক অঞ্চলের এত কাছাকাছি প্রতিবেশীরা গ্যাস আবিষ্কার ও উৎপাদন করতে পারছে, অথচ বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় এখনো বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়নি কেন? অবশ্য প্রতিবেশী দেশগুলোর সাফল্য থেকে সরাসরি বলা যাবে না যে বাংলাদেশের সমুদ্রেও বিপুল গ্যাস অবশ্যই রয়েছে; ভূতাত্ত্বিক সম্ভাবনা অঞ্চলভেদে ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু তাদের সমুদ্রাঞ্চলে গ্যাসের উপস্থিতি বাংলাদেশের নিজস্ব offshore সম্ভাবনা দ্রুত ও গভীরভাবে যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তাকে নিঃসন্দেহে আরও জোরালো করে।

এই বৈপরীত্যের মূল শিক্ষা হলো—সম্ভাবনা থাকলেই সম্পদ পাওয়া যায় না, অনুসন্ধান করতে হয়, তথ্য সংগ্রহ করতে হয় এবং ঝুঁকি নিয়ে অনুসন্ধানী কূপ খনন করতে হয়। প্রতিবেশীরা তাদের সামুদ্রিক সম্ভাবনাকে অনুসন্ধান, উৎপাদন ও অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সম্পদে রূপ দিচ্ছে; বাংলাদেশও যদি একই পথে এগোতে না পারে, তাহলে সমুদ্রসীমা অর্জনের আইনগত সাফল্যকে অর্থনৈতিক সাফল্যে রূপান্তর করা কঠিন হবে।

এখানেই বাংলাদেশের দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সমুদ্রসীমা নিষ্পত্তির পর এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। এ সময়ে প্রতিবেশীরা নিজেদের অফশোর সম্পদ অনুসন্ধান, উৎপাদন ও অবকাঠামো উন্নয়নে এগিয়েছে। বাংলাদেশও কিছু উদ্যোগ নিয়েছে, কিন্তু গতি ও ফলাফল এখনো প্রত্যাশার তুলনায় কম। অথচ পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন কমছে, শিল্পকারখানা ও বিদ্যুৎ খাত গ্যাস সংকটে ভুগছে এবং ঘাটতি পূরণে ব্যয়বহুল LNG আমদানি করতে হচ্ছে। ফলে বঙ্গোপসাগরের সম্ভাব্য গ্যাসসম্পদকে জাতীয় অগ্রাধিকার দেওয়া এখন জরুরি।

ভারতের কোম্পানি বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় অনুসন্ধান করে বাণিজ্যিক গ্যাস পায়নি—এর অর্থ যেমন নিশ্চিতভাবে ভারত বাংলাদেশের সমুদ্রসম্পদ নিয়ে গেছে, এমন নয়; আবার প্রমাণ নেই বলে প্রশ্নও থাকবে না—এমনটিও হতে পারে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার কাছাকাছি বিদেশি জাহাজ, ড্রিলিং প্ল্যাটফর্ম বা অনুসন্ধান কার্যক্রম নিয়ে যে প্রশ্ন উঠছে, সরকারকে তার জবাব তথ্য ও প্রযুক্তির মাধ্যমে দিতে হবে।

বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার আইনগত অধিকারকে অর্থনৈতিক অধিকারে রূপান্তর করতে শুধু বিদেশি কোম্পানির অপেক্ষায় থাকলে চলবে না। প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় offshore অনুসন্ধান কর্মসূচি—আধুনিক ভূকম্পন জরিপ, মানসম্মত ভূতাত্ত্বিক তথ্যভাণ্ডার, আন্তর্জাতিক মানের দরপত্র, প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদন-বণ্টন চুক্তি ও দ্রুত অনুসন্ধানী কূপ খনন। একই সঙ্গে বাপেক্সের সমুদ্রভিত্তিক অনুসন্ধান সক্ষমতাও বাড়াতে হবে। কারণ মূল প্রশ্ন একটাই—ভারত তার সমুদ্রসীমায় খুঁজছে, মিয়ানমার তার সমুদ্রসীমায় খুঁজছে; বাংলাদেশ তার নিজের সমুদ্রসীমায় কতটা খুঁজেছে?

দুঃখজনকভাবে এখানেই বাংলাদেশের অগ্রগতি প্রত্যাশার তুলনায় ধীর। সমুদ্রসীমা নিষ্পত্তির এক যুগেরও বেশি সময় পরও বাংলাদেশ বাণিজ্যিকভাবে সমুদ্রভিত্তিক গ্যাস উৎপাদনে পৌঁছাতে পারেনি। ২০২৪ সালে offshore block নিয়ে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হলেও কাঙ্ক্ষিত সাড়া পাওয়া যায়নি। ২০২৬ সালে সরকার আবারও বঙ্গোপসাগরের ২৬টি ব্লক—১১টি অগভীর সমুদ্রের এবং ১৫টি গভীর সমুদ্রের—আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করেছে। নতুন কাঠামোয় বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে আর্থিক ও বাণিজ্যিক শর্তেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

এই নতুন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এত বছর আমরা কী করলাম? সমুদ্রসীমা নিষ্পত্তির পরই যদি ধারাবাহিকভাবে ভূতাত্ত্বিক তথ্য সংগ্রহ, সমুদ্রতল জরিপ ও অনুসন্ধান চালানো হতো, তাহলে আজ বাংলাদেশের offshore সম্ভাবনা সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান অনেক বেশি হওয়ার কথা। এই বাস্তবতার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে ভিডিও, ছবি, অডিও বার্তা ও পোস্ট ছড়িয়ে পড়ছে। কোনো কোনো দাবিতে বলা হচ্ছে, ভারত ও মিয়ানমার বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার কাছাকাছি বা ভেতরে কূপ খনন করে তেল-গ্যাস তুলে নিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও এমন অভিযোগ ও উদ্বেগের প্রতিফলন দেখা গেছে। চীনকে উদ্ধৃত করেও বাংলাদেশের সমুদ্রসম্পদ নিয়ে অন্যরা সুবিধা নিচ্ছে—এমন বক্তব্য ছড়িয়েছে। এখানে সত্য ও দাবির মধ্যে পার্থক্য করা জরুরি।

এখানেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব শুরু। এসব অভিযোগ যদি মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি করে, সরকারকে প্রযুক্তিগতভাবে যাচাই করে জনগণের সামনে সত্য তুলে ধরতে হবে। বিদেশি অনুসন্ধানী জাহাজ বা স্থাপনা কোথায়, কোন ব্লকে কাজ করছে, মালিকানা ও পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান কে এবং কী ধরনের অনুসন্ধান চলছে—এসব তথ্য গোপন থাকার কারণ নেই। উপগ্রহচিত্র, জাহাজের অবস্থান-তথ্য, অনুসন্ধানসংক্রান্ত নথি ও সমুদ্রসীমার স্থানাঙ্ক মিলিয়ে সহজেই যাচাই করা সম্ভব কোনো কার্যক্রম বাংলাদেশের এখতিয়ারের মধ্যে হচ্ছে কি না। সত্য হলে রাষ্ট্রকে ব্যবস্থা নিতে হবে, আর সত্য না হলে প্রমাণসহ জনগণকে জানাতে হবে। নীরবতা কোনো সমাধান নয়।

মিয়ানমার তার বঙ্গোপসাগরীয় সমুদ্রাঞ্চলের গ্যাসসম্পদ উন্নয়ন করেছে এবং শ্বে গ্যাসক্ষেত্রের গ্যাস চীনে সরবরাহের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো গড়ে তুলেছে। ভারতও তার পূর্ব উপকূলীয় সমুদ্রাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন করছে। অর্থাৎ একই বৃহত্তর বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিবেশীরা সমুদ্রসম্পদকে জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সম্পদে পরিণত করছে।

বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, প্রতিবেশী আমাদের গ্যাস নিয়ে যাচ্ছে কি না—তার চেয়েও বড় প্রশ্ন, তারা নিজেদের সমুদ্রসম্পদ কাজে লাগাতে পারছে অথচ আমরা কেন পারছি না। পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন কমছে, নতুন আবিষ্কার পর্যাপ্ত নয়, LNG আমদানি বাড়ছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। গ্যাস সংকটে শিল্পের উৎপাদন ব্যাহত, উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নতুন বিনিয়োগকারীর কাছেও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ।

বিদ্যুৎ খাতেও একই বাস্তবতা। গ্যাসের সরবরাহ কমলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে, বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বাড়ে এবং উৎপাদন ব্যয়ও বাড়তে পারে। LNG আমদানির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মূল্য, পরিবহন, পুনঃগ্যাসীকরণ ও বৈদেশিক মুদ্রার ঝুঁকি যুক্ত হয়। সার উৎপাদনেও গ্যাসের ঘাটতি আমদানিনির্ভরতা বাড়ায়, যার প্রভাব পড়ে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়, কৃষি উৎপাদন ও খাদ্যনিরাপত্তায়। অর্থাৎ গ্যাস সংকট শুধু জ্বালানি খাতের সমস্যা নয়; এটি শিল্প, বিদ্যুৎ, কৃষি, মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

এ কারণেই সমুদ্রভিত্তিক গ্যাস অনুসন্ধানকে সাধারণ বাণিজ্যিক প্রকল্প নয়, জাতীয় অর্থনৈতিক নিরাপত্তার প্রকল্প হিসেবে দেখতে হবে। নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হলে LNG আমদানির চাপ কমানো, শিল্পে নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় সম্ভব। তবে আবিষ্কার থেকে উৎপাদনে যেতে সময় লাগে। তাই বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য এখনই offshore exploration-এ বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। উল্লেখ্য, ভূগর্ভের গঠন অত্যন্ত জটিল। একটি কূপের ফলাফল পরবর্তী অনুসন্ধানের জন্য মূল্যবান তথ্য দিতে পারে। তাই বাংলাদেশের প্রয়োজন এককালীন কোনো প্রকল্প নয়; প্রয়োজন ধারাবাহিক অনুসন্ধান কর্মসূচি। উন্নত ভূকম্পন জরিপ, সমুদ্রতলের মানচিত্র, ভূতাত্ত্বিক তথ্যভাণ্ডার এবং একাধিক সম্ভাবনাময় স্থানে অনুসন্ধানী কূপ—সবকিছুকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় আনতে হবে।

বাংলাদেশকে বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কোম্পানির প্রযুক্তি, মূলধন ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় offshore exploration কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। আধুনিক ভূকম্পন জরিপ, গভীর কূপ খনন, সমুদ্রভিত্তিক ভূতত্ত্ব, জলাধার প্রকৌশল ও উৎপাদন প্রযুক্তিতে সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে চীন, তুরস্ক, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বহুমুখী অংশীদারিত্ব ও কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রেখে প্রতিযোগিতামূলক বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি আহরণ করতে হবে। প্রতিটি চুক্তিতে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ, তথ্যের মালিকানা, স্বচ্ছতা ও জাতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি কঠোর পরিবেশগত মানদণ্ড ও জবাবদিহি বজায় রেখে ২০২৬ সালের ২৬টি ব্লকের কার্যক্রমে নির্দিষ্ট সময়সীমা ও বাস্তবায়নযোগ্য কর্মপরিকল্পনা থাকতে হবে।

আশার কথা, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের জ্বালানি সহযোগিতার চুক্তি রয়েছে এবং ২০২৬ সালের সমুদ্রভিত্তিক তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের আন্তর্জাতিক দরপত্রে চীনা কোম্পানিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের আগ্রহের কথা সরকার জানিয়েছে। একই সঙ্গে স্থলভাগে চীনা কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের গ্যাস অনুসন্ধান ও গভীর কূপ খননে কাজ করছে। ফলে ভবিষ্যতে চীনের প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ বাংলাদেশের সমুদ্রভিত্তিক গ্যাস অনুসন্ধানে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন দ্রুত সিদ্ধান্ত, স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক চুক্তি এবং ধারাবাহিক অনুসন্ধান।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি শুধু অন্য দেশ আমাদের গ্যাস তুলছে কি না—তা নয়; বড় প্রশ্ন হলো, আমরা নিজেদের সমুদ্রসম্পদ কতটা দ্রুত অনুসন্ধান ও কাজে লাগাচ্ছি। বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা, আইনগত অধিকার ও সম্ভাবনা রয়েছে; এখন সেই অধিকারকে অর্থনৈতিক সম্পদে রূপান্তরের দায়িত্ব আমাদের। বঙ্গোপসাগরের নিচে কত গ্যাস আছে, তা অনুসন্ধান ছাড়া জানা সম্ভব নয়। আজকের বিলম্ব আগামী দিনে আমদানিকৃত জ্বালানি, বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয়, শিল্পের অনিশ্চয়তা ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি বাড়াবে। তাই বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য এখনই দ্রুত ও ধারাবাহিক offshore exploration শুরু করতে হবে। বঙ্গোপসাগর শুধু আমাদের সমুদ্রসীমা নয়—এটি বাংলাদেশের সম্ভাব্য কৌশলগত সম্পদ। সেই সম্পদকে আর সম্ভাবনার খাতায় ফেলে রাখার সময় নেই। বঙ্গোপসাগরের গ্যাসে যদি প্রতিবেশীর শিল্পের চাকা ঘোরে, বাংলাদেশের চাকা ঘুরবে কবে?

লেখকঃ অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও কলামিস্ট।

Mizan12bd@yahoo.com

চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে এক মঞ্চে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা, এফডিসির গণ্ডি পেরিয়ে আধুনিকায়নের বার্তা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ণ
চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে এক মঞ্চে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা, এফডিসির গণ্ডি পেরিয়ে আধুনিকায়নের বার্তা

একসময় বাংলাদেশের সিনেমা শুধু বিনোদন দেয়নি। কথা বলেছে সমাজের কথা। জায়গা করে নিয়েছে মানুষের হৃদয়ে। সেই ঐতিহ্যের স্মৃতিচারণ চলতি বছরের ‘ফিল্ম ডিরেক্টরস ডে’-এর মঞ্চে। চলচ্চিত্র শিল্পের বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য কীভাবে ভবিষ্যতের পথ তৈরি করা যায়, সে বিষয়েও মিলেছে স্পষ্ট বার্তা। একই মঞ্চে বক্তব্য রেখেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান এমপি, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

  • আধুনিক অবকাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় সরকারের 
  • মানসম্মত নির্মাণ থেকে পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন পরিকল্পনা—তিন নীতিনির্ধারকের বক্তব্যে অভিন্ন প্রত্যয়

তিন নীতিনির্ধারকের বক্তব্যে চলচ্চিত্র উন্নয়নের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে। মানসম্মত ও অর্থবহ চলচ্চিত্র নির্মাণ, এফডিসির গণ্ডি পেরিয়ে পুরো শিল্পের উন্নয়ন এবং আধুনিক অবকাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা—তাঁদের বক্তব্যের মূল সুর ছিল এসব বিষয়কে কেন্দ্র করেই। প্রয়োজনীয় সহযোগিতার কথাও জানিয়েছেন তাঁরা। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিএফডিসি অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি আয়োজিত ‘ফিল্ম ডিরেক্টরস ডে ২০২৬’ অনুষ্ঠানে মূলত দেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে নতুনভাবে বিকশিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সরকার।

একটি সময় সিনেমার বার্তা হৃদয়ে গেঁথে যেত
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান বলেন, ‘একটি সময় সিনেমা যে বার্তা দিতো, তা আমরা হয়তো চোখ দিয়ে দেখতাম কিন্তু তা আমাদের হৃদয়ে গেঁথে যেত। প্রতিটি সিনেমায় নিজস্ব চরিত্র ও স্পষ্ট বার্তা থাকা উচিত। প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেনসহ গুণী নির্মাতাদের প্রতিটি সিনেমায় সামাজিক ও মানবিক বার্তা ছিল।’ আগামী দিনে মানসম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাণের আহ্বান জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই সবাই মিলে আগামীতে এমন কাজ করতে, যাতে আমাদের চলচ্চিত্রগুলো আবার কথা বলে।

সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে সমাজের বাস্তবতা বদলেছে। বর্তমানে বহু তরুণ মাদকের ভয়াবহতায় জড়িয়ে পড়ছে, যা সমাজের জন্য বিশাল ক্ষতি। এর পাশাপাশি সমাজে নানাবিধ বৈষম্য রয়েছে। এই সংকট থেকে সমাজকে পথ দেখাতে শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে আমাদের চলচ্চিত্র নির্মাতারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন।’ চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে বর্তমান সরকারের আন্তরিকতার কথা উল্লেখ করে আন্দালিভ রহমান বলেন, ‘আমরা সবাই একসাথে কাজ করলে বাংলাদেশের সিনেমাকে আবারো তার পুরোনো ও গৌরবোজ্জ্বল জায়গায় নিয়ে যেতে পারবো, ইনশাআল্লাহ।’

চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
দেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে নতুনভাবে বিকশিত করতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করছে সরকার বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশনা দিয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে করণীয়, বাস্তবায়ন কৌশল এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহযোগিতাসহ একটি সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করে উপস্থাপন করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার শুধু এফডিসির উন্নয়ন নয়, বরং সামগ্রিক চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। অতীতে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে যেসব গুণী পরিচালক, প্রযোজক, অভিনেতা ও অভিনেত্রী অসাধারণ কাজ করেছেন, সেই ঐতিহ্যকে সামনে রেখে চলচ্চিত্রের মান ও শিল্পের সক্ষমতা আরও বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি, যার মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণ করে চলচ্চিত্র শিল্পের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও দপ্তরকে আরও কার্যকর করা যাবে। এফডিসিও এ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’

চলচ্চিত্রের গুণীজনদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে নেতৃত্ব দেবেন এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ ও গুণী ব্যক্তিরাই। সরকার তাদের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে।’ চলচ্চিত্র অঙ্গনের মানুষদের সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ থেকেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিনি অতীতেও এফডিসিতে এসেছেন এবং ভবিষ্যতেও চলচ্চিত্র শিল্পের মানুষদের সঙ্গে নিয়ে ও তাদের পাশে থেকে কাজ করবেন।

আধুনিক অবকাঠামো ও পূর্ণাঙ্গ রূপরেখার প্রত্যয়
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রী দেশের চলচ্চিত্রের স্বকীয়তা ও গৌরব ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী। চলচ্চিত্র খাতের বর্তমান সংকট কাটিয়ে আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তুলতে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা তৈরি করা হবে। তিনি জানান, চলচ্চিত্র ও এফডিসির উন্নয়নে কী কী করা প্রয়োজন, সে বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে এবং শিগগিরই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ বাস্তবায়নের দিকে এগোনো হবে। নিজের চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহের কথাও জানিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, একসময় তিনিও ফিল্মমেকার হতে চেয়েছিলেন।

সম্মাননায় গুণীজন, গানে সাবিনা
‘ফিল্ম ডিরেক্টরস ডে ২০২৬’ উপলক্ষে চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি অঙ্গনে অবদানের জন্য বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন ও বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ফরিদুর রেজা সাগরকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। এছাড়া চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুদ পারভেজ (সোহেল রানা), প্রখ্যাত পরিচালক এ জে মিন্টু, প্রযোজক ও অভিনেতা কাজী হায়াৎ, চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব ও বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, পরিচালক ড. মতিন রহমান এবং মশিউদ্দীন শাকেরসহ চলচ্চিত্র অঙ্গনের গুণীজনদের সম্মাননা জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে অনুভূতি প্রকাশ করে সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘ছোটবেলায় তিনি প্রতিদিন এফডিসিতে রেকর্ডিং করতেন। এই প্রাঙ্গণ থেকে হাজার হাজার কালজয়ী গান সৃষ্টি হয়েছে। চলচ্চিত্র পরিচালকদের কারণেই তিনি আজ সাবিনা ইয়াসমিন হতে পেরেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পরে অতিথি ও দর্শকদের অনুরোধে গান পরিবেশন করেন বরেণ্য এই শিল্পী।

এর আগে শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি শাহীন সুমন। অনুষ্ঠানে সমিতির মহাসচিব শাহীন কবির টুটুল, বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা তানিসহ চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, অভিনয়শিল্পী, কলাকুশলী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

টিসিবির জন্য ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩৬ অপরাহ্ণ
টিসিবির জন্য ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার

সরকারি ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির জন্য ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় হবে প্রায় ৭৭ কোটি টাকা বা ৭৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র (জাতীয়) পদ্ধতিতে এ মসুর ডাল কেনা হবে। বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে রয়েছে টিসিবি।

টিসিবি ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার জন্য স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করলে তিনটি দরপত্র জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে তিনটি দরপ্রস্তাবই কারিগরিভাবে রেসপনসিভ বিবেচিত হয়।

দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির (টিইসি) সুপারিশ অনুযায়ী রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান জয়তুন অটো রাইস অ্যান্ড ডাল মিলস লিমিটেড, খুলনা থেকে মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে টিসিবির গুদাম পর্যন্ত পরিবহন খরচসহ প্রতি কেজি ৭৬ টাকা ৭৯ পয়সা দরে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনা হবে। এতে মোট ব্যয় হবে ৭৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এ অর্থের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাউন্টার গ্যারান্টি থাকবে।

প্রস্তাবে বলা হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে টিসিবির মসুর ডাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১৭ হাজার ৫২৮ মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনা হয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

সৌদি আরব থেকে ১৯৪ কোটি টাকার ইউরিয়া আমদানির অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৩ অপরাহ্ণ
সৌদি আরব থেকে ১৯৪ কোটি টাকার ইউরিয়া আমদানির অনুমোদন

সৌদি আরবের সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন (+১০ শতাংশ) বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় হবে ১৯৩ কোটি ৫৫ লাখ ৮৩ হাজার ৭২০ টাকা।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) মাধ্যমে এ সার আমদানি করা হবে। আমদানির ব্যয় কৃষি ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ বাজেট থেকে পরিশোধ করা হবে।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, সরকার ২০০৭ সাল থেকে জিটুজি (সরকার থেকে সরকার) চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের সাবিক থেকে ইউরিয়া সার আমদানি করে আসছে। ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানির সঙ্গে মোট ৮ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানির চুক্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন চুক্তির আওতায় এবং জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় অতিরিক্ত ৫ লাখ মেট্রিক টন আমদানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

চুক্তিতে নির্ধারিত প্রাইসিং ফর্মুলা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারদর বিবেচনায় পঞ্চম লটে ৪০ হাজার মেট্রিক টন (+১০ শতাংশ) বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাব করা হয়। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৫৬ লাখ ৬৬ হাজার ৪০০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৯৩ কোটি ৫৫ লাখ ৮৩ হাজার ৭২০ টাকা। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের দাম পড়বে ৩৯১ দশমিক ৬৬ মার্কিন ডলার।

সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের ফলে এখন নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সৌদি আরবের সাবিক থেকে এ লটের ইউরিয়া সার আমদানি করা হবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ