খুঁজুন
                               
, ,
           

সিরাজগঞ্জে ট্রাকচাপায় স্কুলশিক্ষক নিহত

সিরাজগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ
সিরাজগঞ্জে ট্রাকচাপায় স্কুলশিক্ষক নিহত

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ট্রাকের চাপায় মোশাররফ হোসেন (৪০) নামে এক স্কুলশিক্ষক নিহত হয়েছেন।

রোববার (২৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শ্যামলীপাড়া-কয়রা আঞ্চলিক সড়কের উল্লাপাড়া পৌর শহরের পশ্চিমপাড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

মোশাররফ হোসেন উপজেলার লাহিড়ী মোহনপুর ইউনিয়নের কালিয়াকৈর গ্রামের বাসিন্দা এবং সুজা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, সকালে মোটরসাইকেলে করে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন মোশাররফ হোসেন। পথে এক বালুবাহী ট্রাকের সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। এতে তিনি মোটরসাইকেলসহ ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা ঘাতক ট্রাকটি আটক করেন।

এ বিষয়ে উল্লাপাড়া মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জের সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘাতক ট্রাক আটক করা হয়েছে তবে ট্রাকের চালককে গ্রেফতার করা যায়নি। এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন আইনে মামলা হবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

বাস্তবতার নিরিখেই স্থানীয় নির্বাচনের সময় পরিবর্তন: ইসি আনোয়ারুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ
বাস্তবতার নিরিখেই স্থানীয় নির্বাচনের সময় পরিবর্তন: ইসি আনোয়ারুল

বাস্তবতার নিরিখেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তিনি বলেন, ‘আশা করছি আগামী বছরের জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে।’

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন ভবনে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা থাকায় নভেম্বর-ডিসেম্বর বাদ দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করার চিন্তা করছে নির্বাচন কমিশন। বার্ষিক পরীক্ষা থাকায় নভেম্বর-ডিসেম্বরে ভোট হবে না। পরীক্ষা শেষে জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে আশা করি।’

এক প্রশ্নের জবাবে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে সরকারের সঙ্গে চিঠি চালাচালি করতে হয় এমন কোনো নজির নেই। সরকারের সঙ্গে নির্বাচন উপযোগীর তালিকা চাওয়া হয়েছে।

আনোয়ারুল ইসলাম আরো বলেন, পাবলিক পরীক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যুক্ত থাকেন, তাই এই সময়টাতে নির্বাচন করা কঠিন। বাস্তবতার নিরিখে নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

‘কেতকীদি’ থেকে বাংলা সাহিত্যের অনন্য নাম, স্মৃতিতে কেতকী কুশারী ডাইসন

সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪১ অপরাহ্ণ
‘কেতকীদি’ থেকে বাংলা সাহিত্যের অনন্য নাম, স্মৃতিতে কেতকী কুশারী ডাইসন

শরৎকালের দিকে এগিয়ে যাওয়া এক বিষণ্ণ বিকেলে পুরোনো স্মৃতির দরজা খুলে যায়। সেই স্মৃতির কেন্দ্রে এমন একজন মানুষ, যিনি বাংলা সাহিত্য ও গবেষণার জগতে দুই বাংলার পাঠকের কাছেই ছিলেন পরিচিত ও সম্ভ্রমজাগানো নাম—কেতকী কুশারী ডাইসন। তবে অনেকের কাছে তিনি যতটা না ‘কেতকী কুশারী ডাইসন’, তার চেয়েও বেশি আপন ছিলেন ‘কেতকীদি’ নামে।

ছবি<< সংগৃহীত

অক্সফোর্ডের বাড়িতে এক অন্যরকম জগৎ

বইয়ে ঠাসা পড়ার ঘর, লেখালেখির জন্য বিশেষভাবে তৈরি ডেস্কটপ কম্পিউটার ও কিবোর্ড, আর বাড়ির সামনে নিজের মতো বেড়ে ওঠা গাছপালা—সব মিলিয়ে সেই বাড়িতে ছিল না কোনো বাড়তি আড়ম্বর। ছিল শান্ত, নিবিড় এক জীবনযাপন।

কেতকী চিনিয়েছিলেন হর্সচেস্টনাট, হানিসাকল ও উইপিং উইলোর মতো গাছ।  ইংল্যান্ডের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে হলুদ রেপসিডের ক্ষেত। প্রকৃতির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল গভীর। ইংল্যান্ডের মাটি ও প্রকৃতি যেমন তাঁর জীবনের অংশ হয়ে উঠেছিল, তেমনি বাংলাদেশের ও বাংলার স্মৃতিও তাঁর সৃষ্টির ভেতর থেকে কখনো হারিয়ে যায়নি।

ছবি<< সংগৃহীত

 

শিউলি আর হর্সচেস্টনাটের মধ্যে দেশ খোঁজা

কেতকীর কবিতায় প্রবাসজীবনের এই দ্বৈত অনুভূতির এক অনন্য প্রকাশ পাওয়া যায় ‘বৃষ্টির পর’ কবিতায়। বৃষ্টির পর ভেজা বিকেলে একটি লাল গাড়ির গায়ে লেপ্টে থাকা ফুল দেখে তাঁর মনে হয়েছিল, সেগুলো বুঝি শিউলি।

শরতের অগ্রদূত শিউলি ফুল বাঙালির কাছে শুধু একটি ফুল নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ঘরে ফেরার স্মৃতি, উৎসব ও শৈশবের অনুভূতি। কিন্তু পরে মনে হয়, ফুলগুলো হয়তো ইংল্যান্ডের হর্সচেস্টনাটের ফুল। শিউলির সঙ্গে তার মিল খুঁজে দেখার আগ্রহ তৈরি হয়। কিন্তু ফুলের উৎস জানার আগেই গাড়িটি চলে যায়।

এই ছোট্ট ঘটনাটিই যেন প্রবাসী জীবনের এক বড় সত্যকে সামনে আনে—দূরের দেশে থেকেও মানুষ নিজের শিকড়কে খুঁজে ফেরে পরিচিত গন্ধ, ফুল, ঋতু ও স্মৃতির ভেতর।

ছবি<< সংগৃহীত

দোলনচাঁপায় ফুটেছিল প্রবাসের শারদ উপহার

কেতকীর ‘দোলনচাঁপায় ফুল ফুটেছে’ কবিতাতেও রয়েছে একই রকম শিকড়ের টান। বীরভূম থেকে একটি দোলনচাঁপার চারা নিয়ে যাওয়া হয়েছিল অক্সফোর্ডের বাড়িতে। শীত এলে গাছটির মাটির ওপরের অস্তিত্ব হারিয়ে যেত, বসন্তে আবার নতুন করে জীবন ফিরে পেত। কিন্তু বছরের পর বছর ফুল ফুটত না।

অবশেষে বাড়িতে আনার প্রায় ১২ বছর পর দোলনচাঁপায় ফুল ফুটল। দুর্গাপূজার প্রতিটি দিন যেন একটি করে ফুল দিয়ে প্রবাসী জীবনে নিয়ে এল বাংলার শরতের ঘ্রাণ।

দোলনচাঁপা যেন তখন শুধু একটি গাছ ছিল না, হয়ে উঠেছিল লেখিকার নিজের জীবনের প্রতীক। যে মানুষটি বহু দশক আগে দেশ ছেড়ে ব্রিটেনে বসতি গড়েছিলেন, তিনিও যেন দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিদেশের মাটিতে নিজের ভাষা ও সংস্কৃতির শিকড় আরও গভীরে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন।

ছবি<< সংগৃহীত

দেশ ছেড়ে ব্রিটেনে, বাংলা থেকে কখনো দূরে নয়

১৯৬০ সালে মাত্র ২০ বছর বয়সে দেশ ছাড়েন কেতকী কুশারী ডাইসন। অক্সফোর্ডে পড়াশোনা শেষে কলকাতায় ফিরে কিছুদিন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। পরে ১৯৬৪ সালে অক্সফোর্ডের সহপাঠী পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্র রবার্ট ডাইসনকে বিয়ে করে আবার ব্রিটেনে ফিরে যান।

কয়েক বছর কানাডার ভ্যাংকুভারে থাকার সময় বাদ দিলে জীবনের বড় একটি অংশ কেটেছে অক্সফোর্ডশায়ারের কিডলিংটনে। সেখানেই সংসার, সন্তান পালন এবং লেখালেখির পাশাপাশি চালিয়ে গেছেন বিস্তৃত গবেষণা ও সাহিত্যচর্চা।

সাধারণ ব্রিটিশ জীবনের পরিসরের মধ্যেই তিনি একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন। ঘর-সংসারের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কখনো ছিন্ন হয়নি।

ছবি<< সংগৃহীত

গবেষণার বিষয়েও ছিল আন্তর্বিদ্য দৃষ্টিভঙ্গি

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণার পরিসর ছিল বিস্তৃত এবং আন্তর্বিদ্য। তিনটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণাগ্রন্থের মধ্যে দুটি ইংরেজিতে এবং একটি বাংলায় প্রকাশিত হয়।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গবেষণাগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘A Various Universe: A Study of the Journals and Memoirs of British Men and Women in the Indian Subcontinent 1705–1856’, ‘In Your Blossoming Flower Garden: Rabindranath Tagore and Victoria Ocampo’ এবং ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ: রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ও চিত্রকলায় রঙের ব্যবহার’।

প্রথম বইটি ছিল তাঁর ডক্টরেট গবেষণার ফল। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে ভারতবর্ষে আসা ব্রিটিশ নারী-পুরুষের ডায়েরি, ভ্রমণকাহিনি ও স্মৃতিকথা নিয়ে করা এই গবেষণার মধ্যেই তিনি খুঁজে পেয়েছিলেন উপন্যাসের সম্ভাবনা।

সেই গবেষণার অভিজ্ঞতা থেকেই পরে জন্ম নেয় তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘নোটন নোটন পায়রাগুলি’। গবেষণার বিষয়বস্তু ও নিজের প্রবাসজীবনের মধ্যে এক ধরনের সমান্তরালতাও তিনি দেখতে পেয়েছিলেন।

ছবি<< সংগৃহীত

 

রবীন্দ্রনাথ ও ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো নিয়ে অভিনব নিরীক্ষা

তাঁর দ্বিতীয় পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস ‘রবীন্দ্রনাথ ও ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর সন্ধানে’-তে গবেষণা ও কথাসাহিত্যকে একসঙ্গে নিয়ে আসেন কেতকী।

উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র অনামিকা গবেষণার সূত্র ধরে রবীন্দ্রনাথ ও ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর সম্পর্ক এবং তাঁদের ব্যক্তিত্ব ও অন্তর্জগৎ অনুসন্ধান করে। একই সঙ্গে তাকে মোকাবিলা করতে হয় নিজের ব্যক্তিগত জীবনের নানা প্রশ্ন ও সংকটের।

গবেষণা ও ব্যক্তিজীবনের এই দুই স্রোত ধীরে ধীরে একে অপরের পরিপূরক হয়ে ওঠে। কেতকীর সাহিত্যকর্মে গবেষণা ও সৃজনশীলতার এমন মেলবন্ধন তাঁর স্বাতন্ত্র্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

ছবি<< সংগৃহীত

রবীন্দ্রনাথের রঙের জগত নিয়েও গভীর অনুসন্ধান

কেতকীর গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণদৃষ্টি ও তাঁর সাহিত্য-চিত্রকলায় রঙের ব্যবহার। একজন চক্ষুবিশেষজ্ঞের লেখা বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ থেকেই এ বিষয়ে তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়।

রবীন্দ্রনাথের বর্ণদৃষ্টির সীমাবদ্ধতার সঙ্গে তাঁর সাহিত্যিক চিত্রকল্প এবং চিত্রকলার রঙ ব্যবহারের সম্পর্ক খুঁজতে গিয়ে সাহিত্য, শিল্পকলা ও বিজ্ঞানের সমন্বয়ে তৈরি হয় একটি বিস্তৃত গবেষণাকর্ম।

প্রায় আট বছরের শ্রমে সম্পন্ন সেই গবেষণা তাঁকে দ্বিতীয়বারের মতো ‘আনন্দ পুরস্কার’ এনে দেয়। তবে প্রাতিষ্ঠানিক রবীন্দ্রচর্চায় এই কাজ নিয়ে দীর্ঘ নীরবতাও ছিল বলে স্মৃতিচারণে উল্লেখ করা হয়েছে।

ছবি<< সংগৃহীত

উপন্যাসের পাশাপাশি নাটকেও ছিল স্বতন্ত্র কণ্ঠ

কেতকী কুশারী ডাইসন শুধু কবি, গবেষক বা ঔপন্যাসিক ছিলেন না; নাট্যকার হিসেবেও কাজ করেছেন। তাঁর তিনটি নাটক হলো ‘রাতের রোদ’ (১৯৯০), ‘মোৎসার্ট চকোলেট’ (১৯৯৮) এবং ‘সুপর্ণরেখা’ (২০০১)।

এসব নাটকে রাজনীতি, সমাজ, লিঙ্গ, পরিবেশ ও উপনিবেশোত্তর চিন্তার নানা প্রশ্ন উঠে এসেছে। ‘রাতের রোদ’-এর ইংরেজি অনুবাদ Nights Sunlight প্রকাশের পর পাশ্চাত্যের বিদ্বৎসমাজেও এটি আলোচনায় আসে।

‘মোৎসার্ট চকোলেট’-এ প্রবাসী দুই বাঙালি নারীর কথোপকথনের মধ্য দিয়ে উঠে আসে পরিচয়, উপনিবেশোত্তর বাস্তবতা, স্মৃতি এবং প্রবাসী জীবনের নানা স্তর।

ছবি<< সংগৃহীত

শাড়ির ভাঁজে ভাঁজে জমে থাকা দেশ

প্রবাসী বাঙালি নারীর স্মৃতির সঙ্গে শাড়ির সম্পর্কও তাঁর লেখায় বিশেষভাবে উঠে এসেছে। একটি শাড়ি হয়ে ওঠে স্মৃতির অ্যালবাম—কখনো বিশেষ মানুষের উপহার, কখনো কোনো বিশেষ মুহূর্তের স্মারক, আবার কখনো দেশ ছাড়ার আগের জীবনের চিহ্ন।

সেই স্মৃতির ভাঁজে ফিরে আসে মেহেরপুরের শৈশব, স্কুলজীবন, কলেজের দিন, প্রেসিডেন্সি কলেজের সাহিত্যচর্চা এবং বাংলা ভাষায় লেখালেখি চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার।

দেশ ছেড়েছিলেন, কিন্তু বাংলা ছাড়েননি। ব্রিটেনের মাটিতে বসেও মাতৃভাষাকে নিজের সৃষ্টির প্রধান আশ্রয় করে রেখেছিলেন কেতকী কুশারী ডাইসন। তাঁর সাহিত্য তাই একদিকে প্রবাসের জীবন, অন্যদিকে শিকড়ের টান—দুইয়েরই এক দীর্ঘ সংলাপ।

কবিতা, উপন্যাস, নাটক ও গবেষণার নানা শাখা পেরিয়ে কেতকীর লেখায় বারবার ফিরে এসেছে মানুষ, প্রকৃতি, স্মৃতি, পরিচয়, দেশান্তর ও ভাষা। দোলনচাঁপার মতোই তাঁর সৃষ্টিশীলতাও যেন প্রতিকূল মাটিতে দীর্ঘ অপেক্ষার পর বারবার নতুন করে ফুল ফুটিয়েছে।

কালের আলো/এসএ

শ্রীলঙ্কার নীল জলে হারিয়ে পারশা, অবকাশের মুহূর্তে মুগ্ধ ভক্তরা

বিনোদন ডেস্ক:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:২২ অপরাহ্ণ
শ্রীলঙ্কার নীল জলে হারিয়ে পারশা, অবকাশের মুহূর্তে মুগ্ধ ভক্তরা

সমুদ্রের ঢেউ এসে আলতো করে ছুঁয়ে যাচ্ছে পায়ের পাতা। সামনে যতদূর চোখ যায় শুধু নীলের বিস্তৃতি। মাথার ওপর খোলা আকাশ, চারপাশে প্রকৃতির নির্মল সৌন্দর্য আর মুখজুড়ে প্রশান্তির হাসি—ব্যস্ততার শহর থেকে দূরে এমনই এক ছুটির আমেজে নিজেকে ভাসিয়ে দিয়েছেন সংগীতশিল্পী পারশা মাহজাবীন পূর্ণী।

কখনো সমুদ্রের ধারে দাঁড়িয়ে ঢেউয়ের সঙ্গে খুনসুটি, কখনো বালুচরে বসে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ—শ্রীলঙ্কা ভ্রমণের এমনই কিছু মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন এই সংগীতশিল্পী। তার প্রকাশিত ছবিগুলোতে ধরা পড়েছে ভ্রমণের আনন্দ, প্রকৃতির প্রতি মুগ্ধতা আর অবসর সময়কে নিজের মতো করে উপভোগ করার গল্প।

সংগীতের ব্যস্ততা থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে শ্রীলঙ্কায় পাড়ি জমিয়েছেন পারশা। সেখানে গিয়ে শুধু পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে দেখাই নয়, সমুদ্রসৈকতের নির্মল পরিবেশে নিজের মতো করে সময় কাটাতেই যেন বেশি ব্যস্ত তিনি। আর সেই অবকাশযাপনের মুহূর্তগুলোই এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি করেছে আগ্রহ।

নীল সমুদ্রের পাশে প্রশান্তির সময়

শ্রীলঙ্কার সমুদ্রসৈকতে পারশার ভ্রমণের ছবিগুলোতে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে সমুদ্র আর প্রকৃতির মেলবন্ধন। নীল পানির সামনে দাঁড়িয়ে কখনো ক্যামেরার দিকে তাকিয়েছেন, আবার কখনো নিজের মতো করে উপভোগ করেছেন চারপাশের পরিবেশ।

ছবিতে তাকে দেখা গেছে বেশ স্বচ্ছন্দ ও হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিতে। সমুদ্রের বিশালতা আর খোলা আকাশ যেন তার অবকাশের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ব্যস্ত কর্মজীবনের বাইরে এমন একটি সময় যে তার জন্যও বিশেষ, ছবিগুলোতেই যেন তারই ইঙ্গিত মিলেছে।

শুধু ছবি তোলার জন্য নয়, বরং প্রকৃতির কাছাকাছি গিয়ে সময় কাটানোর মধ্যেও যে আলাদা এক আনন্দ রয়েছে, পারশার ভ্রমণের মুহূর্তগুলোতে সেটিই ফুটে উঠেছে।

ছবি>সংগৃহীত

সাদা পোশাকে নজর কাড়লেন পারশা

শ্রীলঙ্কার সমুদ্রসৈকতে পারশার সাজেও ছিল ছুটির দিনের স্বাভাবিক ছোঁয়া। সাদা পোশাকে, মাথায় নান্দনিক হ্যাট আর খোলা চুলে তাকে দেখা গেছে বেশ প্রাণবন্ত রূপে।

অতিরিক্ত সাজসজ্জার বদলে সহজ-স্বাভাবিক লুকেই ক্যামেরার সামনে ধরা দিয়েছেন তিনি। সমুদ্রের নীল আর তার সাদা পোশাকের বৈপরীত্য ছবিগুলোকে দিয়েছে আলাদা সৌন্দর্য।

একটি ছবিতে সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় তাকে। অন্য ছবিতে বালুচরে বসে কিংবা ঢেউয়ের কাছাকাছি গিয়ে সময় কাটানোর দৃশ্যও রয়েছে। সব মিলিয়ে তার পুরো লুকেই ছিল ভ্রমণের স্বাভাবিক আনন্দ।

ঢেউয়ের সঙ্গে খুনসুটি

সমুদ্রের কাছে গেলে ঢেউয়ের সঙ্গে মেতে ওঠার লোভ সামলানো কঠিন। পারশার ক্ষেত্রেও যেন তার ব্যতিক্রম হয়নি। সমুদ্রের পানিতে পা ভিজিয়ে ঢেউয়ের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন তিনি।

তার ভ্রমণের ছবিগুলো দেখে মনে হচ্ছে, শ্রীলঙ্কার প্রকৃতিকে কেবল দূর থেকে দেখেননি পারশা; বরং সেটিকে উপভোগ করেছেন খুব কাছ থেকে। সমুদ্রের ঢেউ, বালুচর আর বাতাস—সবকিছু মিলিয়ে তৈরি হয়েছে তার ছুটির দিনের এক অন্যরকম গল্প।

ছবি>সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এসব ছবিতে তার হাসিমাখা মুহূর্তগুলোও আলাদা করে নজর কেড়েছে। ভক্তদের অনেকেই তার ভ্রমণের ছবি দেখে শুভকামনা জানিয়েছেন এবং শ্রীলঙ্কার সৌন্দর্যের পাশাপাশি পারশার স্বচ্ছন্দ উপস্থিতিরও প্রশংসা করেছেন।

বালুচরে ভালোবাসার চিহ্ন

ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণীয় মুহূর্ত ছিল বালুচরে নিজের মতো করে সময় কাটানো। সমুদ্রের ধারে বালুর ওপর ভালোবাসার চিহ্ন এঁকে সেই মুহূর্তকেও ক্যামেরাবন্দি করেছেন পারশা।

ছবি>সংগৃহীত

ছোট্ট এই মুহূর্তটি তার ভ্রমণের ছবিতে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা। বিশাল সমুদ্রের সামনে বালুচরে আঁকা সেই চিহ্ন যেন হয়ে উঠেছে ছুটির দিনের একটি ব্যক্তিগত স্মৃতি।

ছবি>সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি প্রকাশের পর স্বাভাবিকভাবেই ভক্তদের নজর কাড়ে। কেউ মুগ্ধ হয়েছেন প্রকৃতির সৌন্দর্যে, কেউ আবার পারশার ভ্রমণের মুহূর্তগুলোকে দেখেছেন তার জীবনের আনন্দঘন সময় হিসেবে।

ব্যস্ততা থেকে দূরে কিছুটা অবকাশ

সংগীতশিল্পীদের জীবন সাধারণত স্টুডিও, গান, অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন কাজের ব্যস্ততায় ঘেরা থাকে। সেই ব্যস্ততার মাঝেই নিজের জন্য কিছুটা সময় বের করে নেওয়ার সুযোগ অনেক সময় হয়ে ওঠে কঠিন।

ছবি>সংগৃহীত

পারশার শ্রীলঙ্কা সফরটিও তাই নিছক একটি বিদেশভ্রমণ নয়; বরং ব্যস্ততার বাইরে নিজের জন্য কিছুটা সময় বের করে নেওয়ার একটি উপলক্ষ হিসেবেও দেখা যেতে পারে। প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা, সমুদ্রের ঢেউ উপভোগ করা কিংবা নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটানোর মধ্য দিয়ে তিনি যেন কিছুটা স্বস্তির মুহূর্ত খুঁজে নিয়েছেন।

তার প্রকাশিত ছবিগুলোতে কাজের চাপ বা শহুরে ব্যস্ততার কোনো ছাপ নেই। বরং সেখানে রয়েছে হাসি, স্বস্তি আর ভ্রমণের নির্মল আনন্দ।

ছবি>সংগৃহীত

ভক্তদের নজরে পারশার নতুন মুহূর্ত

তারকারা যখন নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনের ভ্রমণ কিংবা অবকাশের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন, তখন সেগুলো সহজেই ভক্তদের আগ্রহের কেন্দ্রে চলে আসে। পারশার ক্ষেত্রেও ঘটেছে তেমনটাই।

শ্রীলঙ্কার নীল সমুদ্র, সাদা পোশাকে তার উপস্থিতি, ঢেউয়ের সঙ্গে সময় কাটানো এবং বালুচরের নানা মুহূর্ত—সব মিলিয়ে ছবিগুলোতে ভিন্ন এক পারশাকে দেখছেন তার অনুসারীরা।

ছবি>সংগৃহীত

মঞ্চের আলো কিংবা ক্যামেরার সামনে পারফরম্যান্সের বাইরে প্রকৃতির মাঝে তার এই স্বচ্ছন্দ উপস্থিতি ভক্তদের কাছে তাই আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছে।

ভ্রমণের স্মৃতিতে জমছে নতুন গল্প

ভ্রমণ শেষ হয়ে গেলেও কিছু মুহূর্ত থেকে যায় স্মৃতি হয়ে। শ্রীলঙ্কার সমুদ্রসৈকতে পারশার কাটানো সময়গুলোও তেমনই কিছু স্মৃতি হয়ে তার সঙ্গে থেকে যাবে।

নীল সমুদ্রের ঢেউ, বালুচরে হাঁটা, খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা কিংবা ক্যামেরার সামনে হাসিমুখে ধরা দেওয়া—প্রতিটি মুহূর্তেই ছিল ছুটির দিনের আলাদা আবহ।

ছবি>সংগৃহীত

আর সেই মুহূর্তগুলোর কিছু অংশ যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন পারশা, তখন তার ব্যক্তিগত অবকাশের গল্পটিও পৌঁছে গেছে অনুসারীদের কাছে।

সংগীতের ব্যস্ততা, কাজের চাপ আর প্রতিদিনের ছুটে চলা জীবনের বাইরে শ্রীলঙ্কার নীল জলে কিছুটা সময়ের জন্য হারিয়ে যাওয়া পারশা মাহজাবীন পূর্ণীর এই ভ্রমণ তাই হয়ে উঠেছে প্রকৃতি, প্রশান্তি আর আনন্দের এক সুন্দর গল্প।

কালের আলো/জেএন