খুঁজুন
                               
, ,
           

ছয় মাসেই ঝাঁকুনি, মন্ত্রীদের সামনে আরও বড় পরীক্ষা

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ
ছয় মাসেই ঝাঁকুনি, মন্ত্রীদের সামনে আরও বড় পরীক্ষা

৬ মাস হয়েছে সরকারের বয়স। কিন্তু মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের কাছে এই ছয় মাস যেন অন্য অনেক সরকারের কয়েক বছরের সমান। দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে বার্তা দিয়েছিলেন, তার কেন্দ্রে ছিল একটি বিষয়—সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের থাকতে হবে নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা, আর নির্ধারিত সময় শেষে দিতে হবে তার বাস্তবায়নের হিসাব।

ছয় মাসের সেই প্রথম সময়সীমা শেষ হওয়ার পর মন্ত্রিসভায় যে পরিবর্তন এসেছে, সেটিকে তাই নিছক সম্প্রসারণ বা প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস হিসেবে দেখছেন না রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। বরং এর মধ্য দিয়ে সরকারের ভেতরে একটি স্পষ্ট বার্তা গেছে—পদ পাওয়া শেষ কথা নয়, কাজের ফলাফলই শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

২১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় চারজন নতুন মন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রী যুক্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আগে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা রশিদুজ্জামান মিল্লাত পূর্ণ মন্ত্রী হয়েছেন। অন্যদিকে নতুন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে এসেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরসহ দুজন। একই সঙ্গে দপ্তর পুনর্বিন্যাস হয়েছে এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা জহির উদ্দিন স্বপনকে মন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হয়েছে।

এই পরিবর্তনের তাৎপর্য এখানেই যে, এটি সরকার গঠনের ছয় মাসের মাথায় প্রথম বড় রদবদল। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি কেবল প্রথম ধাপ, নাকি সামনে আরও বিস্তৃত মূল্যায়ন ও পুনর্বিন্যাসের পথ খুলে গেল?

১৮০ দিনই ছিল প্রথম পরীক্ষা
মন্ত্রিসভার এই পরিবর্তনের তাৎপর্য বুঝতে হলে ফিরে যেতে হবে সরকারের প্রথম কয়েক সপ্তাহের দিকে। ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পর প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, বিদ্যুৎ-জ্বালানি পরিস্থিতি এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের মতো বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। সরকারের পক্ষ থেকে তখনই ১৮০ দিনের কর্মসূচির কথা বলা হয়।

পরবর্তী সময়ে সংসদেও প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়গুলো প্রথম ১৮০ দিন, ২০২৬-২৭ অর্থবছর এবং পুরো পাঁচ বছরের জন্য আলাদা কর্মপরিকল্পনা করছে। অর্থাৎ ছয় মাসের মূল্যায়নের ধারণাটি হঠাৎ করে তৈরি হয়নি; সরকার গঠনের শুরুতেই এর কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল। এ কারণেই মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের কাছে ১৮০ দিন কার্যত একটি ‘পারফরম্যান্স ডেডলাইন’ হয়ে উঠেছিল।

রাজনীতিতে মন্ত্রী হওয়ার পর সাধারণত একটি অলিখিত নিরাপত্তাবলয় তৈরি হয়। নতুন সরকার হলে সেই নিরাপত্তা আরও বেশি থাকে। প্রথম দিকে কাজের চেয়ে রাজনৈতিক ভারসাম্য, অভিজ্ঞতা ও দলীয় সমীকরণ অনেক সময় বড় হয়ে ওঠে। কিন্তু তারেক রহমানের সরকারের ক্ষেত্রে অন্তত এখন পর্যন্ত যে চিত্রটি দেখা যাচ্ছে, সেখানে সেই প্রচলিত ধারণায় কিছুটা পরিবর্তনের ইঙ্গিত আছে। মন্ত্রণালয়ের কাজ কতটা এগোল, অগ্রাধিকার কর্মসূচির কতটা বাস্তবায়িত হলো এবং কোথায় গতি কম—এসব প্রশ্ন ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

রদবদল কি সতর্কবার্তা?
ছয় মাসের মাথায় মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনকে দুইভাবে দেখা যায়। প্রথমত, এটি সরকারের স্বাভাবিক সম্প্রসারণ ও প্রশাসনিক প্রয়োজনের অংশ। নতুন মন্ত্রীদের অনেকেই শূন্য হওয়া বা পুনর্বিন্যাস হওয়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হওয়ায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে পরিবর্তন এসেছে; দীর্ঘদিন খালি থাকা পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়েও নতুন মন্ত্রী দেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, এর মধ্যে রাজনৈতিক বার্তাও আছে। বিশেষ করে একজন পূর্ণ মন্ত্রীকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে উপদেষ্টা করা এবং একাধিক মন্ত্রণালয়ে নতুন নেতৃত্ব আনার বিষয়টি দেখিয়ে দেয়—প্রধানমন্ত্রীর হাতে পদ ও দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের জায়গাটি সক্রিয় রয়েছে। এখানেই মন্ত্রীদের মধ্যে তৈরি হতে পারে এক ধরনের নতুন চাপ। কারণ ছয় মাস পার হওয়ার পর এখন আর শুধু ‘কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে’ সেটি যথেষ্ট নয়; বরং প্রশ্ন হতে পারে—কী ফল পাওয়া গেছে? এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। উদ্যোগ নেওয়া প্রশাসনের কাজ। কিন্তু উদ্যোগের ফল তৈরি করা রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্ব।

সামনে আরও পরিবর্তনের সম্ভাবনা?
এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে এমন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই যে ১৮০ দিনের মূল্যায়নের ভিত্তিতে আরও মন্ত্রী বাদ পড়বেন বা দপ্তর বদল হবে। তাই ভবিষ্যৎ রদবদলকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে সরকারের ঘোষিত কর্মপরিকল্পনা এবং ইতোমধ্যে হওয়া রদবদল মিলিয়ে একটি বিষয় স্পষ্ট—মন্ত্রীদের কাজের মূল্যায়নের প্রশ্নটি সরকার পরিচালনার কাঠামোর ভেতরেই জায়গা করে নিয়েছে।

ফলে আগামী কয়েক মাসে কয়েকটি মন্ত্রণালয় বিশেষ নজরে থাকতে পারে। যেসব ক্ষেত্রে জনগণের দৈনন্দিন জীবনে দ্রুত ফলাফল দেখানোর প্রত্যাশা তৈরি করা হয়েছিল—বিশেষ করে দ্রব্যমূল্য, আইনশৃঙ্খলা, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির দৃশ্যমান বাস্তবায়ন—সেসব ক্ষেত্রে অগ্রগতির হিসাব রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এটি শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিসভায় আরও রদবদল ঘটাবে কি না, তা সময়ই বলবে। তবে বর্তমান প্রবণতা বলছে, মন্ত্রীরা এখন শুধু পাঁচ বছরের মেয়াদ মাথায় রেখে কাজ করছেন না; তাঁদের সামনে ছোট ছোট সময়সীমাও তৈরি হচ্ছে। অর্থাৎ পাঁচ বছরের সরকার, কিন্তু হিসাব হতে পারে ছয় মাস পরপর।

মন্ত্রিসভার বাইরে একই বার্তা
তারেক রহমানের নেতৃত্বের ধরন বোঝার ক্ষেত্রে আরও একটি সাম্প্রতিক ঘটনাও গুরুত্বপূর্ণ—ক্ষমতাসীন দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় পরিবর্তন। গত ২০ আগস্ট রুহুল কবির রিজভীকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা হয়েছে। এর আগে তিনি দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হন। রিজভীর এই উত্থানকে দলের নেতারা তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক ভূমিকা, আনুগত্য, সাংগঠনিক দক্ষতা ও ধারাবাহিক দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন। কিন্তু এর রাজনৈতিক তাৎপর্য আরও বিস্তৃত।

কারণ দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ বণ্টনেও প্রচলিত প্রত্যাশা বা অভ্যন্তরীণ সমীকরণের বাইরে নেতৃত্বের নিজস্ব মূল্যায়ন যে গুরুত্বপূর্ণ, রিজভীর নিয়োগে তার একটি দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে। এখানে সরকার ও দলের মধ্যে একটি মিল দেখা যায়। মন্ত্রিসভায়—কাজের ফলাফল। দলে—দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ভূমিকা, আনুগত্য ও সাংগঠনিক সক্ষমতা। দুই ক্ষেত্রেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষমতা নেতৃত্বের হাতে কেন্দ্রীভূত।

‘পদ’ নয়, ‘পারফরম্যান্স’ কি নতুন মাপকাঠি?
এই জায়গাটিই সম্ভবত বর্তমান পরিবর্তনগুলোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পাঠ। একজন মন্ত্রী একবার দায়িত্ব পেলেই পাঁচ বছর সেই দায়িত্বে থাকবেন—এমন ধারণা দুর্বল হচ্ছে। একইভাবে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদও একবার পাওয়া মানেই দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা নয়। বরং নেতৃত্বের সিদ্ধান্তে এখন চারটি বিষয় একসঙ্গে কাজ করছে বলে মনে হচ্ছে—পারফরম্যান্স, আনুগত্য, রাজনৈতিক প্রয়োজন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। এটি কার্যকর হলে বাংলাদেশের প্রচলিত মন্ত্রিসভা রাজনীতিতে একটি পরিবর্তন আসতে পারে। কারণ তখন মন্ত্রী হওয়ার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হবে না—‘কতদিন পদে থাকবেন?’ বরং প্রশ্ন হবে—‘কত দ্রুত ফল দেখাতে পারবেন?’

এই দৃষ্টিভঙ্গির ইতিবাচক দিকও আছে। মন্ত্রণালয়ের কাজের গতি বাড়তে পারে, আমলাতন্ত্রের ওপর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের চাপ বাড়তে পারে এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সময়ের হিসাব আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে এর ঝুঁকিও আছে। অতিরিক্ত স্বল্পমেয়াদি ফলাফলের চাপ তৈরি হলে দীর্ঘমেয়াদি নীতি, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও জটিল প্রশাসনিক কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সময় কমে যেতে পারে। আবার মন্ত্রীদের মধ্যে সব সময় পদ হারানোর আশঙ্কা থাকলে তাঁরা ঝুঁকিপূর্ণ কিন্তু প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার বদলে দ্রুত দৃশ্যমান ফল দেখানোর দিকে বেশি ঝুঁকতে পারেন। সুতরাং ‘পারফরম্যান্স কালচার’ সফল হবে কি না, তা শুধু রদবদলের সংখ্যায় নয়; মূল্যায়নের মাপকাঠি কতটা স্বচ্ছ, বাস্তবসম্মত এবং ফলাফলভিত্তিক—তার ওপরও নির্ভর করবে।

ছয় মাসে বার্তা, সামনে বড় পরীক্ষা
মন্ত্রিসভার প্রথম রদবদল তাই শুধু কয়েকজন নতুন মুখের আগমন নয়। এর ভেতরে সরকারের পরিচালন পদ্ধতি সম্পর্কে একটি সম্ভাব্য ইঙ্গিতও রয়েছে। প্রথম ১৮০ দিন ছিল সরকারের জন্য পরীক্ষার প্রথম পর্ব। সামনে ২০২৬-২৭ অর্থবছর এবং তারপর পাঁচ বছরের বৃহত্তর কর্মপরিকল্পনা। অর্থাৎ এখন মন্ত্রীদের সামনে আরও বড় পরীক্ষা।

প্রধানমন্ত্রীর বার্তাটি যদি সত্যিই হয়—‘কাজ করুন, ফল দেখান’—তাহলে আগামী কয়েক মাসে মন্ত্রণালয়গুলোর পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করতে পারে কার দায়িত্ব আরও শক্ত হবে, কার দপ্তর বদলাবে আর কার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নতুনভাবে নির্ধারিত হবে। একই সঙ্গে দলের ভেতরেও যদি দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে নেতৃত্বের মূল্যায়নই প্রধান হয়ে ওঠে, তাহলে তারেক রহমানের নেতৃত্বের একটি বৈশিষ্ট্য ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে পারে—পদকে স্থায়ী অধিকার নয়, বরং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অর্পিত দায়িত্ব হিসেবে দেখা।

সেক্ষেত্রে মন্ত্রীরা শুধু গতির চাপে তটস্থ নন; তাঁরা এমন এক রাজনৈতিক ব্যবস্থার মুখোমুখি হচ্ছেন, যেখানে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের কাজের হিসাবও দিতে হবে। আর ছয় মাসের প্রথম রদবদল যদি সেই ব্যবস্থার সূচনা হয়ে থাকে, তাহলে সামনে আরও বড় ‘পারফরম্যান্স রিভিউ’ যে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে আসবে—সেটি উড়িয়ে দেওয়া কঠিন।

কালের আলো/এম/এএইচ

চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক

কূটনৈতিক প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৮ পূর্বাহ্ণ
চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের সরকারি জাপান সফরে সফরসঙ্গী হচ্ছেন আমজনতার সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাতে জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত তিনি জাপানে অবস্থান করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান সফরে যাওয়ার বিষয়টি নিজেই জানিয়েছেন আমজনতার সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আজ জাপান যাচ্ছি, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। ভালোবাসা সবাইকে।’

পোস্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তোলা একটি ছবিও শেয়ার করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

জাপানের পথে প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৪ পূর্বাহ্ণ
জাপানের পথে প্রধানমন্ত্রী

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে টোকিওর উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সফরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে জাপানের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী উড়োজাহাজটি সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিনের এ সফরে জাপানের সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি।

সফরসূচি অনুযায়ী, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠক, জাপানি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা এবং বিভিন্ন শিল্পকারখানা ও জ্বালানি অবকাঠামো পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে তারেক রহমানের। এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়গুলো সফরে গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাপানের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে দুই দেশের সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করা এবং বিদ্যমান সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। বিশেষ করে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি, দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প খাত সম্প্রসারণে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রত্যাশা রয়েছে।

চার দিনের সফর শেষে ২৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

বিনিয়োগ টানতে টোকিও মিশন, প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের ব্যস্ত সূচি

কূটনৈতিক প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২০ অপরাহ্ণ
বিনিয়োগ টানতে টোকিও মিশন, প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের ব্যস্ত সূচি

জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করা, নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি এবং শিল্প ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে চার দিনের সরকারি সফরে টোকিওর উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে রোববার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাতে তিনি ঢাকা ছাড়েন। ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত এ সফরে দুই দেশের সরকারপ্রধানের বৈঠকের পাশাপাশি জাপানের শীর্ষ ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

সফরসংশ্লিষ্ট কর্মসূচিতে বিনিয়োগ, বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং বিদ্যমান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে।

  • জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক থেকে ইউনিক্লো ও টয়োটার সঙ্গে যোগাযোগ
  • বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্ব

আজ টোকিও পৌঁছানোর কথা
রোববার (২৫ অক্টোবর) রাত ১২টা ১০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীরা জাপানের উদ্দেশে যাত্রা করেন। সোমবার সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে তাঁদের বহনকারী উড়োজাহাজটি টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বিমানবন্দরে জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবেন বলে নির্ধারিত রয়েছে। সফরকালে টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে অবস্থান করবেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রথম দিনে রাজনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠক
সফরের প্রথম দিন সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাপান-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা করবেন তারেক রহমান। বিকেলে জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগের সভাপতি তারো আসোর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের কথা রয়েছে। এ সময় লিগের জ্যেষ্ঠ সদস্য এবং জাপানের ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী তাতসুনোরি ইবায়াশি উপস্থিত থাকবেন।

এ ছাড়া জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। দিনের কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের সম্মানসূচক চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়ার আয়োজিত নৈশভোজে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

তাকাইচির সঙ্গে বৈঠকে গুরুত্ব পাবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক
সফরের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠক করবেন তারেক রহমান। আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা ও গার্ড অব অনার প্রদানের পর দুই দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলন এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, শিল্প খাতে সহযোগিতা এবং উন্নয়ন অংশীদারত্বের নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করার সুযোগ তৈরি করতে পারে এ বৈঠক। বিশেষ করে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাংলাদেশের বাজার ও উৎপাদন খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরা সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।

একই দিন চিবা প্রিফেকচারের ফুতসু শহরে জেরা (জেইআরএ)-এর এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে ইচিকাওয়া শহরে নিটসু লজিস্টিকস হাব ঘুরে দেখার কর্মসূচি রয়েছে তাঁর। জ্বালানি অবকাঠামো ও আধুনিক সরবরাহব্যবস্থা সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি এসব খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা অন্বেষণের সুযোগ তৈরি হবে এ পরিদর্শনে।

বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনায় থাকবে শিল্পায়নের সম্ভাবনা
সফরের তৃতীয় দিন বুধবার (২৮ অক্টোবর) অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাবেন প্রধানমন্ত্রী। দিনের শুরুতে জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর কাজুহিকো আমাকাওয়ার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে। এরপর জাপানের পোশাক ব্র্যান্ড ইউনিক্লোর সদর দপ্তরে প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।

একই দিন জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকার সঙ্গে বৈঠক ও মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি মিৎসুই অ্যান্ড কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন এবং জেরার প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক আলোচনা করবেন তিনি।

এ ছাড়া জাপানের আরও ১৪টি কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে দুটি দলীয় বৈঠকের আয়োজন রয়েছে। এসব আলোচনায় বাংলাদেশে নতুন কারখানা স্থাপন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিল্প উৎপাদন সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তুলে ধরা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জাপানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এই ধারাবাহিক যোগাযোগ বাংলাদেশের জন্য নতুন ব্যবসায়িক অংশীদার খুঁজে পাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে আলোচনার প্রকৃত সুফল নির্ভর করবে সম্ভাব্য বিনিয়োগ প্রস্তাব কতটা বাস্তব প্রকল্পে রূপ নেয়, তার ওপর।

বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী
আগামী বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে টোকিওতে জেট্রোর কার্যালয়ে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। এ ফোরামে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো, বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার এবং বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরার ক্ষেত্রেও ফোরামটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

একই দিন সন্ধ্যায় বাংলাদেশ দূতাবাসে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকারীদের সঙ্গে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে টোকিওর হোটেল নিউ ওতানিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে একটি কমিউনিটি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি।

শেষ দিনে টয়োটার উৎপাদনব্যবস্থা দেখবেন প্রধানমন্ত্রী
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সফরের শেষ দিনে শিনকানসেন বা বুলেট ট্রেনে টোকিও থেকে নাগোয়া যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে টয়োটা মোটর করপোরেশনের মটোমাচি কারখানা পরিদর্শন করবেন তিনি। পরে টয়োটা সুসো করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তোশিমিতসু ইমাইয়ের দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। নাগোয়ায় টয়োটা কমেমোরেটিভ মিউজিয়াম অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড টেকনোলজিও পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

জাপানের অন্যতম পরিচিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদনব্যবস্থা ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি সরেজমিনে দেখার মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্প খাতের জন্য অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে আধুনিক উৎপাদনপ্রক্রিয়া, দক্ষতা উন্নয়ন, মান নিয়ন্ত্রণ এবং সরবরাহব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়ানোর মতো বিষয়গুলো এ ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক। নাগোয়া থেকে বুলেট ট্রেনে টোকিও ফিরে নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টায় তাঁর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমকে